খবর অনলাইন:  পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের পঞ্চম দিনে চতুর্থ দফাতেও ব্যাপক অশান্তি হল। আজ সোমবারের নির্বাচনপর্বে ৪৯টি আসনে ভোট নেওয়া হল। উত্তর ২৪ পরগণার ৩৩টি এবং হাওড়ার ১৬টি কেন্দ্রে ভোটপর্ব চলে। ভোট শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন বুথে ভোটারদের লম্বা লাইন নজর কাড়ে। এই পর্বের ভোট নির্বিঘ্ন করতে নির্বাচন কমিশন নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। তাদের কড়া নজরদারির মধ্যেই অবশ্য বেশ কিছু গণ্ডগোলের খবর পাওয়া গিয়েছে। বেশিরভাগ অভিযোগই শাসকদলের বিরুদ্ধে — বিরোধীদের এজেন্টদের বাধা দেওয়া, তাঁদের বুথে বসতে না দেওয়া, বুথ থেকে বার করে দেওয়ার অভিযোগ। উত্তর দমদমে সিপিএম প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্যের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে। সব চেয়ে বড়ো অভিযোগ ওঠে রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বিদায়ী মন্ত্রিসভার কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বুথের ভেতর দাঁড়িয়ে থেকে ছাপ্পা ভোট পরিচালনা করছিলেন। নির্বাচন কমিশন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে। পূর্ণেন্দুবাবুকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। পাশাপাশি ওই কেন্দ্রে ভোট বাতিলের দাবিও জানিয়েছে তারা।

বীজপুর, হালিশহর, মধ্যমগ্রাম প্রভৃতি জায়গা থেকেও অশান্তির খবর এসেছে।  চোরাগোপ্তা হামলা, হুমকি উপেক্ষা করে মানুষের ভোট দেওয়ার উৎসাহ চোখে পড়ার মতো।  বিকেল ৩টে উত্তর ২৪ পরগনায় ৬৭.২৭, হাওড়ায় ৬৭.৩১ শতাংশ ভোট পড়ে।

এই পর্বে ভাগ্যপরীক্ষা হল অনেক রথী-মহারথীর। রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বহু হেভিওয়েট মন্ত্রী। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অমিত মিত্র, ব্রাত্য বসু, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, পূর্ণেন্দু বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, উপেন বিশ্বাস, অরূপ রায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। রয়েছেন নির্মল মাজি, সুজিত বসু, সব্যসাচী দত্ত, অর্জুন সিংহও। জেল থেকেই ভোটে লড়ছেন মদন মিত্র। তৃণমূলের তারকা প্রার্থীদের মধ্যে আরও রয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতনশুক্ল, প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়ার কন্যা বৈশালী ডালমিয়া এবং অভিনেতা চিরঞ্জিত। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য ও অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলি, কংগ্রেসের অরুণাভ ঘোষ ও সন্তোষ পাঠক এবং সিপিএমের অসীম দাশগুপ্ত প্রমুখেরও ভাগ্য নির্ধারিত হল আজ।



একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here