খবর অনলাইন: দিনের পর দিন মামলা জমছে। মামলার পাহাড়ের উচ্চতা বেড়েই চলেছে। তাঁর কিছু করার নেই। কান্না ছাড়া নিজের অপারগতা, অসহায়তা প্রকাশ করার আর বোধহয় কোনও উপায় ছিল না। তাই সর্বসমক্ষে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিনি কেঁদেই ফেললেন। কেঁদে কেঁদেই তিনি তাঁর অসহায় অবস্থার কথা জানালেন। তিনি, দেশের প্রধান বিচারপতি। আর প্রধানমন্ত্রীই বা কী করেন। তিনি এসেছিলেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করতে। সেই কাজ সেরে তিনি সামনের সারিতে বসেছিলেন। ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল না তাঁর। তবু তাঁকে উঠতে হল, ভাষণ দিতে হল, আবার আশ্বাস দিতে হল।

উপলক্ষ, সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের যৌথ সম্মেলন। স্থান, দিল্লির বিজ্ঞান ভবন। সময়, রবিবার সকাল।

দেশে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে প্রশাসনের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি টি এস ঠাকুর আক্ষেপ করে বলেন, দিন দিন বেড়ে চলেছে মামলা। এ যেন ‘হিমানী-সম্প্রপাত’। এর মোকাবিলা করার সাধ্য বিচারবিভাগের নেই। শুধু মামলাকারীদের স্বার্থে নয়, যাঁরা জেলে পচছেন তাঁদের স্বার্থে নয়, দেশের উন্নয়ন, প্রগতির স্বার্থে আমি আপনাদের কাছে মিনতি করছি, আপনারা সমস্যার মোকাবিলা করুন, শুধু সমালোচনা করাই যথেষ্ট নয়। দায়িত্বের পুরো বোঝাটা বিচারবিভাগের ঘাড়ে চাপাতে পারেন না” – বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রধান বিচারপতি।

তিনি বলেন, ১৯৮৭ সালেই ল’ কমিশন বলেছিল দেশে বিচারকের সংখ্যা প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যায় ১০ জন থেকে অন্তত ৫০ জন করা উচিত। কিছুই করা হয়নি। সরকার নিষ্ক্রিয় থেকেছে। বিচারকের সংখ্যা বাড়েনি।

বিচারপতি ঠাকুর বলেন, “মামলার পাহাড় ক্রমশই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমরা পেরে উঠছি না। সত্যি-সত্যিই আর পেরে উঠছি না। অসম্ভব চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। একশো জনের কাজ এক জনকে করতে হচ্ছে। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ঘটাতে গিয়ে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে। ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। এক লাফে সংখ্যাটা (বিচারপতির) কম করে দশ গুণ বাড়ানো উচিত। কোনও সরকারই এ ব্যাপারে কিছু করছে না।’’

বিচারপতি ঠাকুর মনে করিয়ে দেন, দেশের বিচারবিভাগের কর্মক্ষমতার সঙ্গেই কিন্তু জড়িয়ে আছে মোদী সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির সাফল্য।

বিচারবিভাগের সঙ্গে বসে সমস্যা সমাধানে সরকার সক্রিয় হবেন বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশ্বাস দেন।

ছবি ANI

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here