খবর অনলাইন: বর্ষা নামতে এখনও দেড় থেকে দু’ মাস দেরি। এরই মধ্যে দেশের জলাধারগুলিতে সঞ্চিত জলের পরিমাণ সাংঘাতিক ভাবে কমে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় জল কমিশনের (সিডবলুসি) নজরদারিতে দেশে যে ৯১টি জলাধার আছে তাতে এখন জল রয়েছে ৩৪০৮ কোটি ২০ লক্ষ কিউবিক মিটার, যেখানে থাকার কথা ১৫৭৭৯ কোটি ৯০ লক্ষ কিউবিক মিটার। অর্থাৎ জলাধারগুলিতে এখন মোট জলধারণ ক্ষমতার ২২ শতাংশ জল রয়েছে। এই হিসেব গত বুধবারের। গত বছর এই সময়ে মোট ক্ষমতার ৬৫ শতাংশ জল ছিল এবং গত দশ বছরের হিসেবে এই সময়ে জলাধারগুলিতে সঞ্চিত জলের গড় হার ৭৬ শতাংশ। এই ৯১টি জলাধারের মধ্যে ৩৭টি থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। সুতরাং এই হিসেব থেকে এটা স্পষ্ট, ২০১৬-তে দেশের জলচিত্র ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
কমিশনের হিসেবে পঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের যে ৬টি জলাধারে কমিশন নজরদারি চালায়, সেগুলিতে এখন সঞ্চিত জলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯৪ কোটি কিউবিক মিটার, মোট ক্ষমতার ২২ শতাংশ। ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার ১৫টি জলাধার সিডবলুসি’র নজরদারির অধীন। ওই জলাধারগুলিতে জল রয়েছে ৫৯৮ কোটি কিউবিক মিটার, মোট ক্ষমতার ৩২ শতাংশ। গুজরাত ও মহারাষ্ট্রের ২৭টি জলাধারে জল রয়েছে মোট ক্ষমতার ১৯ শতাংশ, কিউবিক মিটারের হিসেবে ৫০২ কোটি। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগড়ের কমিশনের নজরদারির অধীন ১২টি জলাধারে জল রয়েছে ১২১৬ কোটি কিউবিক মিটার, শতাংশের হিসেবে মোট ক্ষমতার ২৯ ভাগ। আর সব চেয়ে করুণ অবস্থা দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক ও কেরলের মোট ৩১টি জলাধারে এখন জল রয়েছে ৬৯৮ কোটি কিউবিক মিটার। এই জলাধারগুলিতে জল থাকতে পারে ৫১৫৯ কিউবিক মিটার। অর্থাৎ মোট ক্ষমতার মাত্র ১৪ শতাংশ জল রয়েছে এই জলাধারগুলিতে।
রাজ্যগুলির মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ত্রিপুরাতেই শুধু গত বছরের তুলনায় বেশি জল রয়েছে জলাধারগুলিতে। পশ্চিমবঙ্গের জলাধারগুলিতে গত বছরের সমান জল রয়েছে। বাদবাকি সব রাজ্যের জলাধারগুলিতেই গত বছরের তুলনায় অনেক কম জল রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here