খবর অনলাইন: ধর্মান্ধদের তুচ্ছ করার এত ভালো মঞ্চ বোধহয় আর কোথাও পেতেন না গুলাম আলি। গোঁড়া মানুষগুলোর হুমকিতে তিনি ভারতের প্রায় কোনও জায়গাতেই অনুষ্ঠান করতে পারেননি। একমাত্র ব্যতিক্রম কলকাতা। এ বার সেই তালিকায় জুড়ে গেল আরও একটা নাম, বারাণসী। এবং যে-সে জায়গা নয়, বারাণসী বিখ্যাত সংকটমোচন মন্দিরে গান গাইলেন কিংবদন্তি গজল গায়ক।

ছিল নিরাপত্তার বিপুল আয়োজন। পুরো মন্দির ঘিরে ফেলা হয়েছিল পুলিশ দিয়ে। এবং শুধু পুলিশে ভরসা না রেখে মন্দির কর্তৃপক্ষ বাউন্সারেরও ব্যবস্থা রেখেছিল। তারই মধ্যে মঙ্গলবার হাজার হাজার সঙ্গীতপ্রেমী এবং ভক্ত গিয়েছেন তাঁদের প্রিয় গায়কের গান শুনতে। একটু একটু করে চেষ্টা করেছেন মঞ্চের যতটা কাছে যাওয়া যায়। আর মন্দিরচত্বরে গর্ভগৃহের মুখোমুখি বসে গান গেয়ে শ্রোতাদের মোহিত করেছেন গুলাম আলি। সঙ্গীত পরিবেশন শুরু করার আগে শ্রোতাদের উদ্দেশে গুলাম আলি বলেন, “আপনারা ইতিহাসবিখ্যাত সঙ্গীতগুরুদের গান শুনেছেন। সঙ্গীতের খুঁটিনাটি আপনারা বোঝেন। সঙ্গীতসাধকরা যে গান আমাকে শিখিয়ে গিয়েছেন, আমি সে সবই আপনাদের শোনাব।” একটি দাদরা গেয়ে শুরু করেন আলিসাহেব ‘ম্যাঁয় নে লাখোঁ কে বোল সহে’। গুলাম আলি একটা একটা করে দাদরা আর ঠুংরি পরিবেশন করেছেন আর শ্রোতারা ‘হর হর মহাদেব’ বলে আসর মাতিয়েছেন।

প্রতি বছর এই সংকটমোচন মন্দিরে বসে শাস্ত্রীয়সঙ্গীত উৎসব। চলে ছ’ দিন ধরে। মন্দিরের প্রধান বিগ্রহ হনুমানজিকে গান শোনানো হয়। এখানে আগে বহু মুসলিম গায়ক গান গেয়েছেন। বারাণসীর সন্তান বিসমিল্লাহ খান তো এখানে বাজাতেন নিয়মিত। “উনি আমাকে বললেন, সংকটমোচন মন্দিরে গান গাওয়ার ব্যপারটিকে আমি সুরের প্রতি আরাধনারই অঙ্গ হিসেবে মনে করি। এটা ধর্মাচরণ আর মানুষে মানুষে বিভাজন থেকে অনেক দূরে” -– বললেন গুলাম আলির তবলা সঙ্গতকার অনিন্দ্য চ্যাটার্জি।

মন্দিরের মহান্ত বিশ্বম্ভরনাথ মিশ্র বলেন, “নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখে গুলাম আলি এতই স্তম্ভিত যে আমাকে বলেই ফেললেন এই শহরের যে ‘মস্ত মৌলা’ (মুক্তচিন্তা) মানসিকতা আছে তার কী হল? বারাণসী এমন একটা শহর যার হৃদয়টা অনেক বড়ো। সেখানে কেন আমরা আমাদের মানসিকতাকে ছোট করে আনার চেষ্টা করছি?”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here