‘কালো’ বলে পণ চাওয়ায় বিয়ে ভাঙলেন পাত্রী নিজেই

0

খবর অনলাইন : মেয়ের গায়ের রং কালো তাই বিয়েতে দিতে হবে ঘুর পথে  মোটা টাকার পণ।

কোনও অজ পাড়াগাঁয়ের ঘটনা হলে বিষয়টা অন্য রকম হতো। এক্ষেত্রে পাত্র উচ্চশিক্ষিত, সুপ্রতিষ্ঠিত। পাত্রীও পেশায় ইঞ্জিনিয়ার, মুম্বইয়ে কর্মরত।

তবে কার্যত গালে থাপ্পড় মেরে পাত্রপক্ষকে জোর জবাব দিয়েছেন পাত্রী নিজেই। বিয়ে বাতিল করে ফেসবুকে নিজেই জানিয়ে দিয়ে এই ঘটনার কথা। সেই লেখায় লাইক পড়েছে কুড়ি হাজারের বেশি।

পেশায় ইঞ্জিনিয়ার জ্যোতি চৌধুরীর বাড়ি জামশেদপুরে। তার গায়ের রং কালো তা জেনেই পাত্রপক্ষ বিয়েতে রাজি হয়। বিয়ের দিনক্ষণও পাকা। হঠাৎ পাত্রের বাবা একদিন ফোন করে বরযাত্রীদের খরচের টাকা চেয়ে বসেন।  এ প্রকারন্তরে পণ নেওয়ারই একটা কৌশল। প্রতিবাদ করেন জ্যোতি । হবু বরকে সরাসরি ফোন করেন তিনি। কিন্তু হবু বর আমতা আমতা করে বাবা-মায়ের সিন্ধান্তকেই মেনে নেয়।  তারপর জ্যোতি নিজেই ভেঙে দেন বিয়ে।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষৎকারে জ্যোতি বলেন,”বাবা মা যখনই সম্ভাব্য পাত্র খুঁজে পান আর প্রথমেই জানিয়ে দেন দেন যে মেয়ের গায়ের রঙ শ্যামলা, তখনই পাত্র পক্ষের কাছ থেকে শুনতে হয় যে ছেলের জন্য একটা সুন্দরী মেয়ে চাই, কারণ পাত্র এই পড়েছে, সেই চাকরি  করে! কেউ আবার গায়ের রঙ শ্যামলা শুনে ঘুরিয়ে জিগ্যেস করে মেয়ের বিয়েতে কত খরচ করতে পারবেন তাঁরা, অর্থাৎ কত টাকা পণ দিতে পারবেন বাবা।”

একটি জনপ্রিয় পাত্র-পাত্রী সন্ধান ওয়েব সাইটে তিনি প্রোফাইল তৈরি করার সময় লিখেও দিয়েছিলেন যে গায়ের  রং কালোর জন্য তিনি বাড়তি টাকা দেবেন না।

বিয়ে ভেঙে গিয়েছে বলে আত্মীয়-স্বজনরা একটু  চিন্তায় পড়েছেন। তবে সে সবে আমল দিতে নারাজ জ্যোতি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, রং কালো বলে যে পরিবার পণ চাইবে সেই পরিবারে বিয়ে করার কোনও প্রশ্নই নেই।সাবাশ জ্যোতি।

জ্যোতির ব্লগ পড়তে ক্লিক করুনjoyti

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন