খবর অনলাইন: বহু দিনের স্বপ্ন বোধহয় এ বার সত্যি হতে চলল। গঙ্গাসাগর যাওয়ার জন্য আর ফেরিতে নদী পেরোতে হবে না। মুড়িগঙ্গা নদীতে সেতু নির্মাণ করবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই)। তার জন্য বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্টও (ডিপিআর) তৈরি করছে তারা। এমনটাই জানিয়েছেন কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের (কেওপিটি) চেয়ারম্যান কৃষ্ণ বাবু।

কলকাতা থেকে ১৫০ কিমি ভাটিতে সাগরদ্বীপে বন্দর তৈরি করছে কেওপিটি। কারণ জাহাজ ভেড়ানোর জন্য জলের যে ন্যূনতম গভীরতা থাকা দরকার সেই ৯ মিটার গভীরতা এখানে রয়েছে। হলদিয়ার চেয়েও ১০ হাজার টন বেশি ভার বহন করতে পারে এমন জাহাজ এই সাগর-বন্দরে ভেড়ানো যাবে। তা ছাড়া নৌবাহিনীর পক্ষেও এই সাগরদ্বীপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পারাদীপের দক্ষিণে এমন কোনও জায়গা নেই যেখানে নৌবাহিনী তাদের জাহাজ রাখতে করতে পারে। বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে নজরদারি ঠিকঠাক চালানোর জন্য তাদের একটা ঘাঁটি দরকার। আর সাগরদ্বীপ তার উপযুক্ত জায়গা।

কিন্তু দ্বীপে বন্দর গড়ার অন্যতম প্রাথমিক শর্ত হল সেতুর মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন। তাই কাকদ্বীপের কাছে মুড়িগঙ্গা নদীতে তৈরি হবে সেতু। ওই সেতু কচুবেড়িয়া আর হারউড পয়েন্টের মধ্যে যোগাযোগ সাধন করবে। এই সেতু নির্মাণ করতে এনএইচএআই-এর খরচ পড়বে ২৮০০ কোটি টাকা।

কৃষ্ণ বাবু বলেন, “এটা খুব ভালো খবর যে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সাগরদ্বীপকে যুক্ত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এনএইচএআই-কে সবুজ সংকেত দিয়েছে। এই সেতুতে টোল নেওয়া হবে। ডিপিআর তৈরি করা হচ্ছে। শীঘ্রই টেন্ডার ডাকার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।”

এখন কেউ সাগরদ্বীপ যেতে চাইলে তাঁকে কলকাতা থেকে ট্রেনে বা বাসে কাকদ্বীপ যেতে হয়। সেখান থেকে বাসে বা অটো-টোটোয় হারউড পয়েন্ট বা ৮ নম্বর লট। লঞ্চে নদী পেরিয়ে ও-পারে সাগরদ্বীপের কচুবেড়িয়া। ভেসেলে গাড়ি পার করানো যায়, তবে তা নির্ভর করে নদীর জোয়ার-ভাটার ওপরে। এই দ্বীপে ১ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষের বাস। সাগরদ্বীপের অবস্থানগত গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকার এখানে বন্দর গড়ে তুলতে আগ্রহী, সেই বন্দর আর্থিক দিক থেকে লাভজনক না হলেও।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here