খবর অনলাইন: ভবী ভোলবার নয়। ঐতিহ্যের কাছে, সংস্কারের কাছে মানুষের প্রাণ তুচ্ছ। না হয় গেছে কিছু নিরীহ মানুষের প্রাণ, হোক না সংখ্যাটা ১০৯, তা বলে এত বছর ধরে আতসবাজির যে প্রদর্শনী চলে আসছে তা বন্ধ করে দিতে হবে ? কভি নহি। মন্দিরের উৎসবে আতসবাজি পোড়ানো বন্ধ করা হবে না, পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে দ্য ট্রাভাঙ্কোর দেবস্বম বোর্ড। এই বোর্ডই কেরলের ১২৫৫টি মন্দির নিয়ন্ত্রণ করে। সামনেই আসছে ত্রিসুর পুরম। আগামী ১৭ এপ্রিল ত্রিসুরের বড়াক্কুনাথন মন্দিরের পুরম উৎসবে ৫ লক্ষেরও বেশি পুণ্যার্থীর আসার কথা। দেবস্বম বোর্ড বলেছে, সেই উৎসবে আতসবাজির প্রদর্শন এতটুকু কমানো হবে না। এবং জেলা প্রশাসনও তালে তাল দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, ৪ হাজার কেজি বাজি পোড়ানোর অনুমতি ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। যেখানে কোনও মন্দিরে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশের বিরুদ্ধে মন্দির কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি প্রশাসনও সওয়াল করে, সেখানে আর কী-ই বা আশা করা যায়।

দেবস্বম বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন কেরল হাইকোর্টের বিচারপতি ভি চিতাম্বরেশ। মন্দির-উৎসবে উচ্চ আওয়াজযুক্ত বাজি নিষিদ্ধ করার জন্য কেরলে জুড়ে যে দাবি ক্রমশ জোরদার হচ্ছে তাতে যোগ দিয়ে নিজেই হাইকোর্টে পিটিশন জমা করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তিনি প্রধান বিচারপতিকে লিখেছেন, “পুতিঙ্গাল মন্দিরের উৎসবে প্রদর্শিত আতসবাজিতে পটাসিয়াম ক্লোরেট- এর মতো নিষিদ্ধ কেমিক্যাল প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা হয়েছে। পুতিঙ্গাল মন্দিরের ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রাজ্য জুড়ে এ ধরনের ঘটনায় ৫০০-এরও বেশি লোক আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছেন। সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ যে কোনও ধর্ম ব্যক্ত করা, পালন করা এবং প্রচার করা মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকার করে বটে, কিন্তু তা বিপজ্জনক বাজি পোড়ানোর স্বাধীনতা দেয় না।” বিচারপতি ভি চিতাম্বরেশের চিঠিটিকে জনস্বার্থের মামলা হিসাবে বিবেচনা করে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি থোট্টাথিল বি রাধাকৃষ্ণন এবং বিচারপতি অনু শিবরামনকে নিয়ে গঠিত ডিভিশনে শুনানি হওয়ার কথা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here