খবর অনলাইন : পোস্তার উড়ালপুল ভেঙে পড়ার পর ২৫ ঘণ্টা কেটে গেল। সরকারি হিসাবে এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬। শুক্রবার সকালে আরও ২টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে এক জন মহিলা, নাম শাবানা বানু, কলুটোলার বাসিন্দা। স্থানীয় বাসিন্দারা অবশ্য মৃতের এই সংখ্যা বিশ্বাস করতে চাইছেন না। এলাকার অনেকেই দুর্ঘটনার পর থেকেই সারা দিন অকুস্থলে ছিলেন। এমনকী গভীর রাত পর্যন্ত। আবার ভোর হতেই ছুটে গেছেন দুর্ঘটনাস্থলে। নানা ভাবে উদ্ধারের কাজে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন। এই সকালেও দেখতে পাচ্ছেন বিশাল একটা লরি কী রকম চিঁড়েচ্যাপটা হয়ে পড়ে আছে। ওই গাড়ির ড্রাইভার, খালাসিদের কী অবস্থা ? এখনও ট্রামলাইনের উপর পড়ে আছে উড়ালপুলের বিশাল একটা অংশ। ওর নীচে আরও কত অসহায় মানুষের দেহ চাপা পড়ে আছে কে জানে ? ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও পর্যন্ত ৯০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এঁদের মধ্যে অনেকেই ট্রমায় আক্রান্ত।

এখনও উদ্ধারকাজ চলছে অবিরাম, জোরকদমে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে পুলিশ, দমকল, এনডিআরএফ আর সেনাবাহিনী। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরাই বলছেন, এই কাজ শেষ করতে এখনও বেশ কিছুটা সময় লাগবে। তাঁরা চেষ্টা করছেন ধ্বংসস্তূপ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিষ্কার করে রাস্তা খুলে দেওয়া যাতে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। এনডিআরএফ-এর ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল এস এস গুলারিয়া বলেছেন, “ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আর কোনও মৃতদেহ নেই, এই ব্যাপারে আমরা সুনিশ্চিত হতে চাই।”

নির্মাণকারী সংস্থা হায়দরাবাদের আইভিআরসিএল-এর বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, যারা সেতু তৈরির জন্য কাঁচামাল সরবরাহ করেছিল তাদের বিরুদ্ধেও একই ধারায় মামলা করা হয়েছে। সেতু যাঁদের দেখাশোনা করার কথা, তাঁরা তা ঠিকমতো করেছে কিনা তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত রাতেই নির্মাণকারী সংস্থার ৭ জন শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালবাজারে নিয়ে আসা হয়। রাতভর তাঁদের দফায় দফায় জেরা করা হয়। আইভিআরসিএল কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের চার জনের একটি দোল হায়দরাবাদ পৌঁছেছেন। দরকার হলে ওই কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে।

ছবি: স্মিতা দাস


মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here