prasenjit

প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

“সব কো কিসি না কিসি কো মারনা হোতা হ্যায়। কোই দাঙ্গে কি আদ মে আপনি ভাড়াস নিকলতা হ্যায় তো কোই ওয়ার্দি কি আদ মে তো কোই সিরিয়া যা কে। ম্যায় লোগো কো মারতা হুঁ কিঁউকি মুঝে মারনা হ্যায়। মুঝে ইসি মে মজা আতা হ্যায়। সব চেয়ে কম কথায় এই হচ্ছেন সিন্ধি দলওয়াই ওরফে রামন অর্থাৎ নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি (এখনও পর্যন্ত তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনয়)। উল্টো দিকে আছেন ড্রাগ অ্যাডিক্ট, নারীবিদ্বেষী পুলিস অফিসার রাঘবন অর্থাৎ ভিকি কৌশল (চমৎকার অভিনয়)। আর অবশ্যই রয়েছেন অনুরাগ কাশ্যপ, তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফিল্মটি নিয়ে।

না, এটা কোনও সিরিয়াল কিলারের বায়োপিক নয়। কিন্তু ছবির প্রোটাগনিস্ট সাইকোপ্যাথ প্রোলেতারিয়েত সিরিয়াল কিলারটি গত শতকের ষাটের দশকে মুম্বইয়ের রাস্তায় একের একের পরে এক খুন করে গ্রেফতার হওয়া রামন রাঘবনের গল্পটা জানেন। আর চেনেন পুলিস অফিসার ভিকি কৌশলকে। তার কাছে পৌঁছতে না পারলে, রামনের মুক্তি নেই, তাই সে প্রতিটি খুনের পর থানার কাছে এসে বসে থাকে।

না, দুটি চরিত্র-র কোনওটির প্রতিই দর্শকদের সহানুভূতি তৈরির কোনও চেষ্টা করেননি অনুরাগ। তাঁর সে দায়ও নেই। তবে চরিত্রগুলি নির্মাণ করেছেন অসম্ভব স্মার্টনেসের সঙ্গে, যা তাঁর বরাবরের শক্তি। রামনের যন্ত্রণাদায়ক শিশুশ্রম ও যৌন নিপীড়নের প্রতিশোধস্পৃহা যেমন আছে, তেমনই রয়েছে নিজের বোনের সঙ্গে তার বিকৃত যৌন সম্পর্কের ইতিহাস। অন্য দিকে রাঘব টিপিক্যাল উত্তর ভারতীয় সামন্ততান্ত্রিক পুরুষতন্ত্রের সন্তান, পিতার প্রতি আবাল্য ক্ষোভ (ঘৃণা বললেও অত্যুক্তি হয় না)। অর্থাৎ পুরুষতন্ত্রের নানা চেহারা এ ছবির আনাচে কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে।

আর রয়েছে খুন ও হিংসার এক আশ্চর্য প্রায় মহাকাব্য (যদিও সরাসরি হিংসার দৃশ্য ছবিতে একটিও নেই, কিন্তু যা আছে দর্শকের মস্তিষ্কে গভীর ছাপ ফেলার পক্ষে যথেষ্ট)। যেখানে আপন মনে খুন করতে করতে, রামন পরিকল্পনা মাফিক খুনের দিকে চলে যায়। খিদে, ইজ্জতের সংকটের পাশাপাশি সে তখন নিজের পরিপূরক রাঘবনের কাছে পৌঁছনোর পথ খুঁজে চলেছে, চোখে ভগবানের সিসিটিভি। আর রাঘব, নেশার ঘোরে খুনের দিন পেরিয়ে খুনের চিহ্ন লোপাটের উদ্দেশ্যে নতুন এক খুনের ঠিকানায় পৌঁছয়, রামনের পরামর্শ তাকে পথ দেখায়। সিরিয়াল কিলার আর পুলিসের মধ্যে তফাৎ ঘুচে যেতে থাকে। দর্শক বড় অস্বস্তি নিয়ে হল ছাড়েন, তার মনে পড়ে, নওয়াজ তো ছবির শুরুতেই বলেছিলেন, সে-ও খুন করে, পুলিসও, শুধু পুলিসের লাইসেন্স আছে, সরকার মাইনে দেয়, সে পায় না। দু’ পক্ষই পৃথিবীতে ভগবানের ভুলগুলি শুধরনোর কাজ করছে। দর্শকদের আরও মনে পড়তে পারে, এক অকালপ্রয়াত বাঙালি কবির কথা। যিনি লিখেছিলেন, ‘আদিম হিংস্র মানবিকতার যদি আমি কেউ হই……’।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here