খবর অনলাইন : “প্রথম দফার ভোটে তৃণমূল সরকারের দফারফা হওয়ার ইশারা পেয়েছি”— এ কথা বলেছেন সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম। মঙ্গলবার ক্যালকাটা জার্নালিস্টস ক্লাব আয়োজিত ‘ফেস টু ফেস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভোট নিয়ে রাজ্য জুড়ে মানুষের মধ্যে যে একটা উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে তার প্রতিফলন ঘটেছে প্রথম দফার ভোটে। ভয়ভীতির সামনে মানুষ দমেনি। তাই তাদের সেলাম জানিয়েছেন সেলিমসাহেব।

সিপিএম পলিটব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেন, নির্বাচন কমিশন কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তার পরেও ভয়ের বাতাবরণ রয়েছে, ভয় ‘রিইনফোর্স’ করার চেষ্টা হচ্ছে, প্রতি দিন হুমকি-হুঙ্কার চলছে। যেখানেই তৃণমূল মুশকিল দেখছে, সেখানেই তাদের গুন্ডাবাহিনীর হামলা চলছে। আজও গড়বেতা, লাভপুর থেকে হামলার খবর এসেছে। সন্ত্রাস, গণতন্ত্রহরণ, হাঙ্গামা চলছে। যা ঘটছে তা রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের চূড়ান্ত উদাহরণ। এমন অবস্থা যে যাঁরা তৃণমূলের সঙ্গে আছেন তাঁদের অনেকেই বেরিয়ে আসছেন।

সেলিম বলেন, পুষিয়ে দেওয়ার রাজনীতি চালাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তৃণমূলের উপর তলার নেতৃত্ব সওদাবাজি করছে। এখানে যে কাজই হোক না কেন, তা সরকারি বা বেসরকারি যা-ই হোক, ১০ থেকে ৩০ শতাংশ ‘কিকব্যাক’-এর ব্যবস্থা রয়েছে। সহজে টাকা উপায়ের রাস্তা দেখানো হচ্ছে তরুণ প্রজন্মকে। সেলিমের অভিযোগ, বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার রাজনীতি আজ কালিমালিপ্ত, গণতন্ত্র লুণ্ঠিত।  সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখে রাজ্যের ঐক্যকে বাঁচাতে মানুষ আজ এককাট্টা হয়েছে। “দিস গভর্নমেন্ট ইজ গোয়িং টু বি আউস্টেড বাই দ্য পিপল্‌ অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল”—সেলিমের গলায় আত্মবিশ্বাসের সুর।

সিপিএম নেতা মোদীভাই-দিদিভাই যোগাযোগেরও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, উড়ালপুল দুর্ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার হাত ধুয়ে ফেলতে পারে না। কারণ এই উড়ালপুল তৈরি হচ্ছিল জেএনএনইউআরএম প্রকল্পের আওতায়, যেখানে ‘থার্ড পার্টি মনিটরিং, থার্ড পার্টি অ্যাপ্রাইজ্যাল’-এর দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। তাঁরা চুপ করে বসেছিলেন কেন ? স্টিং অপারেশন নিয়ে তদন্ত করার জন্য লোকসভার এথিক্স কমিটি বহু গড়িমসির পর এত দিনে সিডি নিল নারদের কাছ থেকে। মোদীভাই-দিদিভাই যোগাযোগ কেমন এতেই তা বোঝা যায়।

ওই অনুষ্ঠানে জার্নালিস্টস ক্লাবের তরফে সিপিএম নেতাকে স্বাগত জানান সাধারণ সম্পাদক রাহুল গোস্বামী, সহ-সভাপতি প্রান্তিক সেন, কোষাধ্যক্ষ পার্থ গোস্বামী এবং কর্মসমিতির বর্ষীয়ান সদস্য শম্ভু সেন।



মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here