খবর অনলাইন : বলা হয়েছিল ঝিলটা সাফ করতে। যে সব নিকাশিনালার জল ঝিলে এসে পড়ে সেগুলো বন্ধ করতে। নিকাশিনালার জল পড়া তো বন্ধ করা হয়ইনি, উল্টে ঝিল সাফ করার নামে সব কচুরিপানা উপড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই কচুরিপানা অনেক সময়েই পরিযায়ী পাখি-সহ বহু পাখীর বিশ্রামের জায়গা, আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। হাওড়া পুরসভার এই কাজে শুধু পক্ষীপ্রেমীরাই ক্ষুব্ধ নন, জাতীয় পরিবেশ আদালতও রীতিমতো অসন্তুষ্ট।
সাঁতরাগাছি ঝিলে দীর্ঘদিন ধরে পরিযায়ী পাখিরা আসে। আনুষ্ঠানিক ভাবে এটা পাখিরালয় না হলেও পরিবেশবিদ আর পক্ষীপ্রেমীদের কাছে এটা কার্যত তাই। এর জলে বর্জ্য ও নোংরা আবর্জনা এসে পড়ায় দূষণের মাত্রা এত বেড়ে যায় যে গত শীতের মরশুমে অনেক পাখিই মারা যায়। তাই এই ঝিলের দূষণ নিয়ে পরিবেশ আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। সেই মামলার সূত্র ধরেই সাঁতরাগাছি ঝিল থেকে আবর্জনা সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। এখন পক্ষীপ্রেমীরা বলছেন, ঝিল সাফ করার নামে পুরসভা যা করেছে, তাতে পাখিরা আরও বিপদে পড়বে। পুরসভার কাজের এই নমুনায় ক্ষুব্ধ পরিবেশ আদালত আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ঝিল থেকে আসল আবর্জনা দূর করার নির্দেশ দিয়েছে। যে সব নিকাশিনালা সরাসরি ঝিলে এসে পড়েছে সেগুলির মুখ ঘুরিয়ে বড়ো নিকাশিনালায় নিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
অনেকে বলছেন, গরমে পরিযায়ী পাখিরা আসে না। তাই কচুরিপানা না-থাকাটা কোনও সমস্যা হবে না। কিন্তু পক্ষীপ্রেমীদের বক্তব্য, স্থানীয় কিছু পাখী সারা বছরই এখানে এখানে থাকে। তাদের আশ্রয়স্থল তো গেল।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here