book fair

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলা সাহিত্যের শরীরে ফরাসি সুবাস লেগেছিল অনেকদিনই! অনুবাদ সাহিত্যের কথা ছেড়ে দিলেও কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় ১৯৯৭ সাল থেকেই বিশেষ স্থান অধিকার করে নিয়েছিল ফ্রান্স। সে বছরেই প্রথম বইমেলার ফোকাল থিম কান্ট্রি হিসেবে মাথা তোলে ফ্রান্সের সুরম্য প্যাভিলিয়ন। আক্ষরিক অর্থেই আন্তর্জাতিক তকমা পায় বইমেলাও। সেটাই যে ফোকাল থিম কান্ট্রি হিসেবে প্রথম কোনো ইউরোপীয় দেশের বইমেলায় ভাগ নেওয়া!

তার পরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে ২০০৫ সালে। ফের বইমেলার মাঠে ফোকাল থিম কান্ট্রি হিসেবে জায়গা করে নেয় ফরাসি দেশ। আর এবার, আসন্ন ২০১৮ সালের বইমেলাতেও ফোকাল থিম কান্ট্রি হিসেবে ফিরে আসছে ফ্রান্সই। ৪২তম বইমেলা নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানালেন পাবলিশার্স এবং বুকসেলার্স গিল্ডের তরফে ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফরাসি কনসুলেট জেনারেল দ্যামিয়েন সইদও। ছিলেন গিল্ডের সভাপতি সুধাংশ শেখর দে।

ফিরে ফিরে আসার এই কারণ শুধুই সৌহার্দ্য। সারা বিশ্বব্যাপী অশান্তি আর বিচ্ছিন্নতাবাদের আবহে এতটুকুও টাল খায়নি ভারত আর ফ্রান্সের মৈত্রী। হেসে-খেলে এই দুই দেশ পার করে ফেলেছে বন্ধুত্বের ৭০ বছর। সেই সুবাদেই ফরাসি দূতাবাসের সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশের বিশেষ কিছু শহরে শুরু হয়ে গিয়েছে বুঁজুর ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল। যার সমাপ্তি অনুষ্ঠান সাড়ম্বরে পালিত হবে মেলার মাঠে।

যদিও মেলার মাঠ নিয়ে সামান্য হলেও চড়ছে বিতর্কের সুর। এই নিয়ে পাক্কা তিন বার ঠাঁইনাড়া হল বইমেলা। ময়দানের মাঠ থেকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন, সেখান থেকে মিলন মেলা প্রাঙ্গন, আর এবার সেন্ট্রাল পার্ক। এবার সেখানেই বসবে মেলার আসর। যদিও স্থান সঙ্কোচনের প্রশ্নে কোনো বিতর্ককে প্রশ্র্য় দিতে রাজি নন গিল্ডের সাম্মানিক সাধারণ সচিব ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়। “বর্তমানে কষ্ট স্বীকার করলে তবেই ভবিষ্যৎ স্বর্ণপ্রসূ হয়। সেদিকে তাকিয়েই আমরা এই কষ্ট স্বীকার করতে রাজি হয়েছি। তাছাড়া এই মেলা প্রাঙ্গনে যাতায়াত করা অনেক বেশি সহজসাধ্য হবে বলেই আমার বিশ্বাস”, জানালেন তিনি।

অন্য দিকে সুধাংশু শেখর দে স্পষ্ট করে দিলেন মেলার আয়তন সংক্রান্ত বিতর্কের বিষয়টি। “আমরা ইতিমধ্যেই মেলার মাঠের সরেজমিন তদন্ত সেরে ফেলছি। মানছি এবার মেলা একটু ছোটো হবে। জায়গা কম বলে আমরা প্রকাশকদের স্টলের জায়গার পরিমাণও একটু কমাতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু এটা তেমন কোনো সমস্যা নয়। বইমেলা বরাবরের মতোই জমজমাট হবে”, দাবি তাঁর।

মঙ্গলবারের এই সাংবাদিক বৈঠকে সবার নজর ছিল ফ্রান্সের কনসুলেট জেনারেল দ্যামিয়েন সইদের দিকেই। সকলকে চমকে দিয়ে বাংলায় বক্তৃতা শুরু করেন সইদ। জানান, ভারত-ফ্রান্সের এই মৈত্রী আর বাঙালির সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহই তাঁকে বাংলা ভাষা শিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে। “নতুন করে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় ফোকাল থিম কান্ট্রি হিসেবে স্থান পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। পাশাপাশি গর্বিতও! এ বছরেই শুরু হয়েছে বুঁজুর ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল, যার প্রাণকেন্দ্র হতে চলেছে কলকাতা। এ কথা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই”, জানিয়েছেন সইদ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই বুঁজুর ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল জোর দিচ্ছে সাংস্কৃতিক আবহের উপর। নতুন নতুন আবিষ্কার, সৃজনশীলতা আর অবশ্যই সৌহার্দ্য- এই তিনের সমন্বয়েই সমৃদ্ধ হবে এই উৎসব। “স্বাভাবিক ভাবেই কলকাতার মানুষের কাছে সেই উৎসবকে পৌঁছে দিতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। এমন সুযোগ সত্যিই দুর্লভ”, বলছেন সইদ।

সইদের বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে এবারের বইমেলায় ফ্রান্সের স্টল ঘিরে উপচে পড়বে আগ্রহীদের ভিড়। শুধু বই নয়, পাশাপাশি ফরাসি ছবি, ছায়াছবি, সঙ্গীত- সব কিছুরই মেলবন্ধনে আরও দৃঢ় হবে ভারত-ফ্রান্স মৈত্রী। তবে মেলার আকর্ষণ হিসেবে কলকাতা সাহিত্য উৎসবেও থাকছে চমক। প্রায় ১৫-২০টি বিভাগ মিলিয়ে ৬০-৭০ জন লেখকের আনাগোনায়, বক্তব্যে সমৃদ্ধ হবে উৎসব। যা বড় কম পাওনা নয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here