modi applauding goyal's budget speech
debarun roy
দেবারুণ রায়

গরু-গোয়ালের বাজেট হল কি? একে গয়ালের বাজেট তায় বিজেপির সরকার। হিন্দি বলয়ে গো-তাণ্ডব চলেছে বেশ কিছু দিন ধরে। সদ্য অনুষ্ঠিত তিন রাজ্যের নির্বাচন যার জেরে খারিজ করেছে বিজেপিকে। তাই মনে করা হচ্ছিল গ্রাম, গরিবের প্রচ্ছায়া পড়বে বাজেটে। গত চার বছর ছিল কর্পোরেটের পৌষমাস আর গরিব চাষির, কারখানা শ্রমিকের সর্বনাশ। এ বার শোনা যাচ্ছিল ভোটের খাতিরে মোদী দানসাগর হবেন। খয়রাতি বিলোবেন আম জনতাকে। কিন্তু কীসের কী?

খয়রাতির কিছু গল্প শোনা গেলেও হিসেব কষতে গেলে হাতে থাকছে শুধু পেনসিল। অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য মোদীর মন কেঁদেছে। কিন্তু মোদী বলেননি ঠিকা শ্রমিক বা অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মচারী সেই সব গালভরা ঘোষণার নাগাল কী করে পাবেন। গ্র্যাচুয়িটির সীমানা বাড়ানো হয়েছে ১০ লাখ। কিন্তু এই প্রজন্মের অধিকাংশ কর্মচারীরই তো গ্র্যাচুয়িটি  প্রাপ্য হয় না। তা হলে মুষ্টিমেয় কিছু বিদায়ী কর্মীর জন্য এই ঢাক-ঢোল পেটানো কেন?

আরও পড়ুন সম্মানের নামে কৃষককে অপমান করেছে নরেন্দ্র মোদীর বাজেট, দাবি রাহুল গান্ধীর

দিব্যি বোঝা যাচ্ছে এটা ভোটের ঢাক। কিন্তু শেষ সময়ে এই হেকিমি টোটকায় কাজ হবে না। দেশের অর্থনীতি ও বিজেপির জনপ্রিয়তাকে চাঙ্গা করতে জীবনদায়ী দাওয়াইয়ের দরকার ছিল। গয়াল তা দিতে ব্যর্থ হয়েছন।বাজেট পড়তে গিয়ে ‘ভিশন ২০৩০’-এর বাণী শুনিয়েছেন। ব্যাপারটা ভীষণ সাংকেতিক। মোদী অবশ্য শাহর মতো সাহসী হতে পারেননি। শাহ বলেছিলেন, আমরা আরও ৫০ বছর ক্ষমতায় থাকব। মোদী মাত্র আরও ১০ বছরের কথা বলেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া যে ২০৩০ পর্যন্ত মোদী ক্ষমতায় থাকবেন তা হলে তখন ওঁর বয়স দাঁড়াবে কত? মোদীত্ব অনুযায়ী ওই বয়সে তো আডবাণী, জোশীর মতো ওঁরও মার্গদর্শক হওয়ার কথা।

আসলে এখনই লোকসভায় বিজেপির একক গরিষ্ঠতার অঙ্কে টান পড়েছে। তাই দলের মনের জোর বাড়াতে এই ভিশন-এর ফাটকা। ঘটনা হল বিজেপির লোকসভার ম্যাজিক নাম্বারের নীচে নেমে গিয়েছে। ভোটে সেটা কত দাঁড়াবে? এ বারের বাজেট গয়াল পড়লেও তৈরি করে গিয়েছেন জেটলিই। প্রধানমন্ত্রীর ফরমান অনুযায়ী অর্থনীতির অঙ্ক মেলাতে গিয়ে ‘প্রাক্তন’ হতে হয়েছে জেটলিকে।

আরও পড়ুন কেমন হল সাধারণ বাজেট? আলোচনায় খবর অনলাইন

গয়ালের গোয়ালে আসলে কী আছে তা ক্রমশ প্রকাশ্য। তবে সংঘের অন্তরের নেতা গো-প্রেমী যোগী আদিত্যনাথের মনরক্ষায় কামধেনু যোজনার কথা বললেন গয়াল। তাঁর কথায় যা গো-মাতার কল্যাণ করবে। কিন্তু জনকল্যাণে কৃষিঋণ মুকুব-সহ আরও যে নানা কর্মসূচি ছিল ইউপিএ-র ১০ বছরে, সে সব কিছুই নেই এনডিএ-র এই দফার শেষ বাজেটে। তবু ভাঁড়ার সামলাতে হিমশিম। ঘাটতির অঙ্ক যা রেখেছেন বিনিয়োগের ফর্দ দেখে বোঝা যাচ্ছে তার ভিত্তি নেই। যে ভাবে আয়কর ছাড়ের গল্প শুনিয়ে মধ্যবিত্তের মনমোহনের মরিয়া চেষ্টা করা হয়েছে তাতে পালটা প্রশ্ন জাগে, প্রার্থিত রাজস্ব আসবে কোত্থেকে? এ দিকে সরকারি খরচা তো বাড়াতেই হবে। না হলে পিছু নেবে মন্দা। আবার ভাবতে হবে জিনিসের আগুন দাম, মুদ্রাস্ফীতির কথাও। সে সব সমস্যার কথা অর্থমন্ত্রী আদৌ ভেবেছেন?

তবে গয়ালের বাজেট বক্তৃতা শুনতে শুনতে বোঝা যাচ্ছিল মোদী বেশ উত্তেজিত। গৃহস্বামী আত্মীয়-পরিজনদের আপ্যায়িত করার পর নিজ মুখে কখনও আপ্যায়নের বড়াই করেন না। তারিফ শুনতে চান সবার মুখে। কিন্তু লোকসভায় দেখা গেল মোদী বিপুল ভাবে টেবিল চাপড়াচ্ছেন। যদিও সেই ভাবে তা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে না বিজেপি বেঞ্চ থেকে। ৩০০-র বেশি সদস্যদের টেবিল চাপড়ানোর শব্দ সংসদের হলে বজ্রনির্ঘোষ হত। তেমন শব্দ কেউ শুনেছেন নাকি?

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here