অরন্ধনে নানা বিধ পদ রান্না করে নিবেদন করা হয় মা মনসাকে

0
various food items
অরন্ধনের নানা পদ।
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: ‘অরন্ধন’-এর আভিধানিক অর্থ হল অ রন্ধন অর্থাৎ যে দিন রান্না করা হয় না বা রান্না নিষেধ। তবে এই ‘অরন্ধন’ যখন উৎসবের আকার নিয়ে হুজুগে বাঙালির রান্নাঘরে ঢুকে পড়ে তখন তা আর ‘বিনা রান্না’ বা ‘রান্না নিষেধ’, কোনো কিছুই আর থাকে না।

ভাদ্র সংক্রান্তি বা বিশ্বকর্মা পুজোর আগের দিন পারিবারিক কল্যাণার্থে গৃহিনীরা শিবের মানসপুত্রী দেবী মনসার উদ্দেশে নানা বিধ পদ রান্না করে নিবেদন করেন। রান্নাপুজোর দিন সাধারণত উনুনের পুজো হয়। সারা বছর আমরা যে উনুনে রান্না করি তার উপাসনা করা হয় এই পুজোয়।অন্য দিকে উনুনের গর্ত হল মা মনসার প্রতীক। তাই দেবী মনসার উদ্দেশে পুজো বোঝাতেই এই উনুনপুজো করা হয়।

preparation for puja
মনসাপুজোর প্রস্তুতি।

দেবী মনসা বাংলার লৌকিক দেবদেবীর মধ্যে অন্যতম। ভরা বর্ষা কাটিয়ে যখন সূর্যের আলো ঝলমলে রোদ ভূমি স্পর্শ করে, শীতকালে শীত-ঘুমে যাওয়ার আগে গ্রামাঞ্চলে সাপের আনাগোনা শুরু হয়। চাষ করতে গিয়ে অনেক মানুষের জীবনহানিও ঘটে। তাই দেবী মনসাকে সন্তুষ্ট রাখতে, সংসারজীবনে দেবীর কৃপা লাভের আশায় আগের দিনের রান্না করা পান্তা ভাত, সজনে শাক, ভাজাভুজি, ওলের বড়া, মাছের বিভিন্ন ধরনের পদ সাজিয়ে দেবীকে নিবেদন করা হয়। ওই দিন বাড়িতে টাটকা রান্নার নিয়ম নেই।

দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে এই উৎসব রান্নাপুজো বলে পালিত হয়। স্বাভাবিক ভাবেই এই পুজোর জন্য দৈনন্দিন ব্যবহারের উনুন গোবর জল দিয়ে পরিষ্কার করে আলপনা দিয়ে মনসা পাতা দিয়ে সাজিয়ে ঘট প্রতিষ্ঠা করে পুজো হয়।

আরও পড়া: জানেন? গণেশের পাশের কলাবউ আসলে দেবী দুর্গার অন্য রূপ

তবে গৃহিণী গৌরীদেবী বলেন, “ঠাকুরের রান্নার পাশাপাশি ভাদ্রমাসে কড়া রোদের কারণে পিত্তক্ষরণ বেশি হয়। শরীর গরম হয়ে যায়। গ্রামের মানুষ তাই এই রোদ থেকে বাঁচতে এই ধরনের খাবার খান।” এক কথায় বলতে গেলে ভোজনরসিক বাঙালি রান্নাপুজোয় মেতে ওঠেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here