Connect with us

ব্র্ত-উৎসব

একটি বেলপাতাতেই তুষ্ট হন ভোলেবাবা

Shibparbati

ওয়েবডেস্ক: পার্বতী এক দিন মহাদেবকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কীসে তুষ্ট হন? উত্তরে মহাদেব বলেন, যাগযজ্ঞ তপস্যার থেকেও বেশি তুষ্ট হন একটি বেলপাতা দিয়ে পুজো করলে। তিনি পার্বতীকে এক ব্যাধের পুণ্য লাভের কাহিনি ব্যাখ্যা করেন। সেই কাহিনি এখন শিবরাত্রির ব্রত নামে পরিচিত।

শিবমহাপুরাণ অনুসারে, অতি প্রাচীনকালে বারাণসী তথা কাশীধামে এক নিষ্ঠুর ব্যাধ বাস করত। সে প্রচুর জীবহত্যা করত। একদিন শিকারে বেরিয়ে তার খুব দেরি হয়ে যায়। সে জঙ্গলে পথ হারিয়ে ফেলে। রাতে হিংস্র জন্তুর ভয়ে একটি গাছের উপর আশ্রয় নেয়। গাছের ওপর তার নড়াচড়ায় গাছ থেকে পাতা খসে খসে পড়তে থাকে। সেই গাছটি ছিল বেলগাছ। আর সেই বেলগাছের নীচে ছিল একটি শিবলিঙ্গ। আর সে দিন ছিল শিবচতুর্দশী। অর্থাৎ মহাশিবরাত্রি। আর ব্যাধও ছিল উপবাসী। খসে পড়া বেলপাতাগুলো শিবলিঙ্গের মাথায় পড়ে। এর ফলে তার শিবচতুর্দশী ব্রতের ফল লাভ হয় ব্যাধের অজান্তেই। পর দিন ব্যাধ বাড়ি ফিরে আসে। সে তার খাবার এক অতিথিকে দিয়ে দেয়। এতে তার ব্রতের পারণ ফল লাভ হয়।

আরও পড়ুন – প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা কাটা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রভাব বেতনে পড়বে কী ভাবে?

এর কিছু দিন পরে সেই ব্যাধ মারা যায়। তখনই যমদূতরা তাকে নিতে আসে। আবার অন্য দিকে শিবদূতরাও তাকে নিতে আসে। কারণ ব্যাধের শিবচতুর্দশী ব্রতের ফল লাভ হয়েছিল। দুই দলের মধ্যে যুদ্ধ হয়। তাতে যমদূতদের হারিয়ে ব্যাধকে নিয়ে যায় শিবলোকে। যমরাজ  পরে শিবলোকের পথে তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে নন্দীর মুখে সবটা শোনেন। তাকে শিবলোকে যেতে ছেড়ে দেন। যমরাজ স্বীকার করেন যে শিবচতুর্দশী ব্রত পালন করলে তার উপর যমের কোনো অধিকার থাকে না। সে মুক্তিলাভ করে। এই ঘটনা কমশ বিভিন্ন রাজারাজড়ার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আর শিবরাত্রির ব্রতপালন ব্যাপক প্রসার লাভ করে। এই ভাবে মর্ত্যলোকে শিবচতুর্দশী ব্রতের প্রচার ঘটে।

ব্র্ত-উৎসব

অক্ষয় তৃতীয়াকে ঘিরে কেদার-কুবেরের এই কথাগুলি জানেন?

Akshaya-Tritiya

ওয়েবডেস্ক: অক্ষয় তৃতীয়া, এই দিনটি অত্যন্ত শুভ দিন। কিন্তু এই দিনটিতে ঠিক কী হয়েছিল? অনেকেই হয়তো জানেন না এর আসল মাহাত্ম্যটা কী? মহাভারতের একাধিক ঘটনা ঘটেছিল এই বিশেষ দিনটিতে। সেই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাত্রপাত্রী তাঁদের কৃতকর্মের ফলও পেয়েছে অদূর ভবিষ্যতে। এমনিতেই অক্ষয় কথার অর্থ যার বিনাশ নেই। ফলে তিথি মাহাত্ম্যে এই দিনে করা ভালো বা খারাপ কাজের ফলেরও বিনাশ নেই, তাই কর্ম অনুযায়ী ফল ভোগ অবধারিত।

মহাভারতের একাধিক ঘটনা ছাড়াও এই তিথিতে ঘটেছে একাধিক পৌরাণিক ঘটনা। এমনকি তিথি মাহাত্ম্য ও নিয়ম মেনে এখনও পালন করা হয় বহু রীতি বা আচারও। চলুন একে একে দেখে নেওয়া যাক তারই কয়েকটি।

১) কেদার বদরী গঙ্গোত্রী যমুনোত্রীর যে মন্দির ছয় মাস বন্ধ থাকে এই দিনে অর্থাৎ অক্ষয় তৃতীয়ার দিনই তার দ্বার উদঘাটন হয়। দ্বার খুললেই দেখা যায়, সেই অক্ষয়দীপ, যা ছয় মাস আগে জ্বালিয়ে দ্বার বন্ধ করা হয়েছিল।

২) এ দিনকে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতি বছর নতুন করে পুরীর জগন্নাথ দেবের রথ তৈরি হয় এ কথা সবাই জানে। এই দিন থেকেই পুরীধামে জগন্নাথদেবের সেই রথ নির্মাণ শুরু হয়।

৩) কথিত আছে এই দিনই দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব ঘটেছিল।

৪) কারোর প্রচুর ধনসম্পত্তি থাকলে বলা হয় কুবেরের ধন। কিন্তু পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী কুবেরের ধনের কোনো শেষ নেই। কুবের এত ধনসম্পদের অধিকারী হয়েছিলেন এই তিথি মাহাত্ম্যেই। এ দিনই কুবেরের তপস্যায় তুষ্ট হয়েছিলেন মহাদেব। তিনি বরস্বরূপ কুবেরকে অতুল ঐশ্বর্য প্রদান করেন। এ দিনই কুবেরের মহালক্ষ্মী লাভ হয়েছিল। তাই এই বিশেষ তিথিতে অর্থাৎ অক্ষয় তৃতীয়াতে বৈভব-লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।

Continue Reading

ব্র্ত-উৎসব

অক্ষয় তৃতীয়ায় যুধিষ্ঠির শতানিকের অজানা কাহিনি

Akshaya-Tritiya

ওয়েবডেস্ক : ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির একবার মহামুনি শতানিককে অক্ষয় তৃতীয়া তিথির মাহাত্ম্য কীর্তন করতে বলেছিলেন।

শতানিক বললেন, পুরাকালে খুব ক্রোধসর্বস্ব, নিষ্ঠুর এক ব্রাহ্মণ ছিলেন। ধর্মকর্মে তাঁর বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না। এক দিন এক দরিদ্র ক্ষুধার্ত ব্রাহ্মণ তাঁর নিকট অন্ন এবং জল ভিক্ষা চাইলেন। রণচণ্ডী হয়ে ব্রাহ্মণ কর্কশ স্বরে তাঁর দুয়ার থেকে ভিখারিকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিলেন। বললেন যে, অন্যত্র ভিক্ষার চেষ্টা করতে।

ক্ষুধা-পিপাসায় কাতর সেই ভিখারি চলে যেতে উদ্যত হল।

ব্রাহ্মণ পত্নী সুশীলা অতিথির অবমাননা দেখতে না পেরে দ্রুত স্বামীর কাছে উপস্থিত হলেন। বললেন, ভরদুপুরে অতিথি সৎকার না হলে সংসারের অমঙ্গল হবে। গৃহের ধন সমৃদ্ধি লোপ পাবে।

এর পর তিনি ভিখারিকে ডাক দিলেন এবং ভিখারির অন্যত্র যাওয়ার প্রয়োজন নেই সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন। সুশীলা দ্রুত তার জন্য অন্ন জল আনার ব্যবস্থা করলেন। কিছু পরেই তিনি অতিথি ভিক্ষুকের সামনে ঠান্ডা জল এবং অন্ন-ব্যঞ্জন নিয়ে হাজির হলেন। এতে ভিখারি বামুন খুবই সন্তুষ্ট হল। সে সুশীলাকে আশীর্বাদ করে সেই অন্নজল দানকে অক্ষয় দান বলে অভিহিত করে চলে গেল।

শতানিক বললেন, তার পর কেটে গিয়েছে অনেক বছর। সেই উগ্রচণ্ড ব্রাহ্মণের অন্তিমকাল উপস্থিত হল। যমদূতেরা এসে তাঁর শিয়রে হাজির। এমন সময় ব্রাহ্মণের শরীর ছেড়ে প্রাণবায়ু বের হবে হবে। খিদে ও পিপাসায় তাঁর গলা ও তালু শুকিয়ে গেল। তার ওপর যমদূতদের কঠোর অত্যাচার। ব্রাহ্মণ তাদের কাছে দু’ ফোঁটা জল চাইল এবং তাঁকে সে যাত্রায় উদ্ধার করতে বললেন।

যমদূতেরা তখন একহাত নিল ব্রাহ্মণের ওপর। তারা বলল, “মনে নেই? তুমি তোমার গৃহ থেকে অতিথি ভিখারিকে নির্জলা বিদেয় করেছিলে?”

এ কথা বলতে বলতে তারা ব্রাহ্মণকে টানতে টানতে ধর্মরাজের কাছে নিয়ে হাজির হল।

ধর্মরাজ ব্রাহ্মণের দিকে তাকিয়ে বললেন, “এঁকে কেন আমার কাছে এনেছ? ইনি মহা পুণ্যবান ব্যক্তি। বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে ব্রাহ্মণের পত্নী তৃষ্ণার্ত অতিথিকে অন্নজল দান করেছেন। এই দান অক্ষয়দান। সেই পুণ্যে ব্রাহ্মণও পুণ্যাত্মা। আর সেই পুণ্যফলে ব্রাহ্মণের নরক গমন হবে না। ব্রাহ্মণকে তোমরা জল দাও। তাঁর প্রাণবায়ু নির্গত হতে দাও। শীঘ্রই তিনি স্বর্গে গমন করবেন।”

Continue Reading

ব্র্ত-উৎসব

অক্ষয় তৃতীয়ার দিনই মহাভারতের এই ঘটনাগুলি ঘটেছিল

Akshaya-Tritiya

ওয়েবডেস্ক: অক্ষয় তৃতীয়ার দিন নিয়ে বেদ পুরাণে একাধিক কাহিনি বর্ণিত রয়েছে। তার মধ্যে বহু ঘটনা রয়েছে যেগুলি মহাভারতে বিভিন্ন সময়ে ঘটেছে। সেই ঘটনার সুফল বা কুফল ভোগ করেছে সেই সব ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্ব। দেখে নেওয়া যাক তেমনই কয়েকটি ঘটনা।

তার মধ্যে তাৎর্যপূর্ণ ঘটনাগুলি হল –

১) এ দিনই বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম জন্ম নেন পৃথিবীতে।

২) এ দিনই রাজা ভগীরথ গঙ্গাদেবীকে মর্ত্যে নিয়ে এসেছিলেন।

৩) এই তিথিতেই শিবপার্বতী পুত্র গণেশ বেদব্যাসের মুখনিঃসৃত বাণী শুনে মহাভারত রচনা শুরু করেন।

৪) এ দিনই সত্যযুগ শেষ হয়ে ত্রেতাযুগের সূচনা হয়।

৫) এই তিথিতেই ভক্তরাজ সুদামা শ্রী কৃষ্ণের সঙ্গে দ্বারকায় গিয়ে দেখা করেন। তার পর এ দিনই সুদামার থেকে সামান্য চালভাজা নিয়ে শ্রী কৃষ্ণ তাঁর সকল দুঃখ মোচন করেন।

৬) এ দিনই দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করতে যান এবং সখী কৃষ্ণাকে রক্ষা করেন শ্রীকৃষ্ণ। শরণাগতের পরিত্রাতা রূপে এ দিন শ্রী কৃষ্ণা দ্রৌপদীকে রক্ষা করেন। পরবর্তী সময়ে দুঃশাসন তার এই কুকর্মের ফল ভোগ করে।

Continue Reading
Advertisement

কেনাকাটা

কেনাকাটা3 mins ago

রান্নাঘরের টুকিটাকি প্রয়োজনে এই ১০টি সামগ্রী খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক : লকডাউনের মধ্যে আনলক হলেও খুব দরকার ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভালো। আর বাইরে বেরোলেও নিউ নর্মালের সব...

কেনাকাটা1 day ago

হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

অনলাইনে খুচরো বিক্রেতা অ্যামাজন ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজিয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সম্ভার।

DIY DIY
কেনাকাটা6 days ago

সময় কাটছে না? ঘরে বসে এই সমস্ত সামগ্রী দিয়ে করুন ডিআইওয়াই আইটেম

খবর অনলাইন ডেস্ক :  এক ঘেয়ে সময় কাটছে না? ঘরে বসে করতে পারেন ডিআইওয়াই অর্থাৎ ডু ইট ইওরসেলফ। বাড়িতে পড়ে...

smartphone smartphone
কেনাকাটা1 week ago

লকডাউনের মধ্যে ফোন খারাপ? রইল ৫ হাজারের মধ্যে স্মার্টফোনের হদিশ

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনা সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে ঘরে বসে যতটা কাজ সারা যায় ততটাই ভালো। তাই মোবাইল ফোন খারাপ...

নজরে