একটি বেলপাতাতেই তুষ্ট হন ভোলেবাবা

এইভাবে মর্ত্যলোকে শিবচতুর্দশী ব্রতের প্রচার ঘটে।

0
Shibparbati
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: পার্বতী এক দিন মহাদেবকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কীসে তুষ্ট হন? উত্তরে মহাদেব বলেন, যাগযজ্ঞ তপস্যার থেকেও বেশি তুষ্ট হন একটি বেলপাতা দিয়ে পুজো করলে। তিনি পার্বতীকে এক ব্যাধের পুণ্য লাভের কাহিনি ব্যাখ্যা করেন। সেই কাহিনি এখন শিবরাত্রির ব্রত নামে পরিচিত।

শিবমহাপুরাণ অনুসারে, অতি প্রাচীনকালে বারাণসী তথা কাশীধামে এক নিষ্ঠুর ব্যাধ বাস করত। সে প্রচুর জীবহত্যা করত। একদিন শিকারে বেরিয়ে তার খুব দেরি হয়ে যায়। সে জঙ্গলে পথ হারিয়ে ফেলে। রাতে হিংস্র জন্তুর ভয়ে একটি গাছের উপর আশ্রয় নেয়। গাছের ওপর তার নড়াচড়ায় গাছ থেকে পাতা খসে খসে পড়তে থাকে। সেই গাছটি ছিল বেলগাছ। আর সেই বেলগাছের নীচে ছিল একটি শিবলিঙ্গ। আর সে দিন ছিল শিবচতুর্দশী। অর্থাৎ মহাশিবরাত্রি। আর ব্যাধও ছিল উপবাসী। খসে পড়া বেলপাতাগুলো শিবলিঙ্গের মাথায় পড়ে। এর ফলে তার শিবচতুর্দশী ব্রতের ফল লাভ হয় ব্যাধের অজান্তেই। পর দিন ব্যাধ বাড়ি ফিরে আসে। সে তার খাবার এক অতিথিকে দিয়ে দেয়। এতে তার ব্রতের পারণ ফল লাভ হয়।

আরও পড়ুন – প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা কাটা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রভাব বেতনে পড়বে কী ভাবে?

এর কিছু দিন পরে সেই ব্যাধ মারা যায়। তখনই যমদূতরা তাকে নিতে আসে। আবার অন্য দিকে শিবদূতরাও তাকে নিতে আসে। কারণ ব্যাধের শিবচতুর্দশী ব্রতের ফল লাভ হয়েছিল। দুই দলের মধ্যে যুদ্ধ হয়। তাতে যমদূতদের হারিয়ে ব্যাধকে নিয়ে যায় শিবলোকে। যমরাজ  পরে শিবলোকের পথে তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে নন্দীর মুখে সবটা শোনেন। তাকে শিবলোকে যেতে ছেড়ে দেন। যমরাজ স্বীকার করেন যে শিবচতুর্দশী ব্রত পালন করলে তার উপর যমের কোনো অধিকার থাকে না। সে মুক্তিলাভ করে। এই ঘটনা কমশ বিভিন্ন রাজারাজড়ার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আর শিবরাত্রির ব্রতপালন ব্যাপক প্রসার লাভ করে। এই ভাবে মর্ত্যলোকে শিবচতুর্দশী ব্রতের প্রচার ঘটে।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here