jayanta mondal
জয়ন্ত মণ্ডল

কৃষকের সম্মানে কেন্দ্রীয় সরকারি অন্তর্বর্তী বাজেটে যোগ হয়েছে নতুন প্রকল্প। কিন্তু তাতে কি মন গলবে দেশের বৃহত্তর অংশের কৃষি-নির্ভর মানুষের?

সাম্প্রতিক কয়েকটি লোকসভার উপনির্বাচন এবং মাস দুয়েক আগে পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়েছে, গ্রামীণ এলাকায় কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির ভোটে ধস নেমেছে। যা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত বিজেপির উচ্চ নেতৃত্ব। তার সঙ্গেই রয়েছে বিগত এক বছর সময় ধরে রাজধানী দিল্লির রাস্তায় বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে কৃষক সংগঠনগুলির জোরালো আন্দোলন। সবে মিলে এই চিন্তা এখন রূপ নিয়েছে দুশ্চিন্তায়।

২০১৯ লোকসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে ১ ফেব্রুয়ারির বাজেটও রচিত হয়েছে, সেই দু‌ঃশ্চিন্তা মোচনের তাগিদেই। যেখানে মধ্যবিত্তের কথা মাথায় রেখে আয়করে বড়োসড়ো ছাড় দেওয়া হলেও সর্বাগ্রে প্রাধান্য পেয়েছে মোদী-বিমুখ কৃষক সম্প্রদায়কে তুষ্ঠ করার আকর্ষণীয় প্রস্তাব। কিন্তু দিশাহারা পরিস্থিতির ঘোর কাটাতে না পেরে সেখানেও রয়ে গিয়েছে বেশ কিছু ফাঁকফোকর। তেমনটাই মনে করছে দেশের কৃষি বিশেষজ্ঞ থেকে অর্থনীতিবিদরা।

যা হতে পারত

লোকসভা ভোটের আগের বাজেটে চাষের প্রস্তুতি খরচ জোগান দেওয়ার জন্য সহজ ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি হতে পারত। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক কেনার জন্য সরকার পৃথক  ভরতুকির ব্যবস্থা করতে পারত। শস্যবিমা প্রকল্প চালু থাকলেও তার রূপায়ণ সে অর্থে হচ্ছে না। সে দিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য নতুন নতুন সেন্টার খোলার ব্যবস্থা করত পারত সরকার।

যা করা হয়েছে

এ বারের বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পের৷ ওই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের কৃষক প্রতি বার্ষিক বরাদ্দ করা হয়েছে ৬ হাজার টাকা৷ ৩টি কিস্তিতে পাওয়া যাবে ওই অনুদান৷ শর্তও আছে। ওই প্রকল্পের আওতায় আসবেন সেই সব কৃষক, যাঁদের ২ হেক্টরের কম জমি রয়েছে ৷

যা হতে পারত

বীজ নিয়ে স্থানীয় আধিকারিকদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার খবর প্রায়শই আসে। তা রদ করতে নজরদারি দল গঠিত হতে পারত। এবং সব থেকে বিতর্কিত বিষয়, ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়ার অভিযোগের সুরাহা করতে সরকারি সমবায়ের মাধ্যমে ফসল কেনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারত। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি রাজ্য সরকার কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কিনে নেওয়ায় ফড়ে-রাজে লাগাম পরানো কিছুটা হলেও সম্ভব হয়েছে। এ বার কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে সে ধরনের কোনো কার্যকর প্রকল্প হাতে নিতে পারতেন মোদী।

যা করা হয়েছে

দৈনিক ১৭ টাকা করে বছরে ৬ হাজার টাকার অনুদান দিয়েই হাত ধুয়ে ফেলেছেন মোদী-জেটলি-গয়াল। ১৭ টাকা নেহাত কম বলে বিরোধীদের তরফে অভিযোগ উঠতেই সুদূর আমেরিকা থেকে জেটলি বলেছেন, ‘‘এই বছরই প্রথম কৃষকদের টাকা দেওয়া শুরু হল। সরকারের আয় বাড়লে ভবিষ্যতে টাকার পরিমাণও বাড়ানো হবে।’’

যা হতে পারত

এ বারের বাজেটে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনায় আকাশছোঁয়া বরাদ্দ বৃদ্ধির আরও একটি চমকপ্রদ প্রস্তাব আসতে পারে বলে আশা করা হয়েছিল। শুধু যাতায়াত নয়, কৃষিজ পণ্য পরিবহণের দিকটিতে অধিক গুরুত্ব দিতে মোদী সরকার যে পরিমাণ অর্থ এই খাতে বরাদ্দ করতে পারত তা রীতিমতো রেকর্ড সৃষ্টি করার মতোই হত।

যা করা হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণের কাজ তিনগুণ বেড়েছে বলে ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট বক্তব্যে তুলে ধরেছেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। তিনি বলেছেন, চলতি বছর প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় ১৫,৫০০ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু চলতি আর্থিক বছরে ওই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার কোটি। অর্থাৎ বরাদ্দের পরিমাণ সাড়ে ৩ হাজার কোটি কমিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

সংযোজন: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখনও অবশ্য বলে চলেছেন, আগামী ২০২২ সালের মধ্যেই প্রতি কৃষকের আয় দ্বিগুণ হবে। এবং চাষের খরচ বাদে কৃযকের আয়ে ৫০ শতাংশ লাভ থাকবে উৎপাদিত পণ্যের উপর।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here