Connect with us

কথাশিল্প

‘নাচের শেষে কোলে তুলে সারা হলটা ঘুরেছিলেন বচ্চন’, স্মৃতি-আক্রান্ত মিস শেফালি

পাপিয়া মিত্র: (প্রথম পর্বের পর) Loading videos…   তখন স্বপ্নের নারী… হোটেল-মালিক, পরিচালক, মঞ্চ-মালিকের কাছে তাঁর চাহিদা ছিল অন্য রকম। কারণ সেই মুহূর্তে বাঙালি মেয়ে একমাত্র আরতি ওরফে মিস শেফালি। কম বয়সের গ্ল্যামারকে কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার টাকা লাভ করছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। বাঙালিকন্যার শরীরের এমন লাবণ্য কোথায় পাবে? ফিরপোজ থেকে গ্র্যান্ডে। ষাটের দশকের মাঝামঝি, গ্র্যান্ড […]

Published

on

পাপিয়া মিত্র:

(প্রথম পর্বের পর)

Loading videos...

 

তখন স্বপ্নের নারী…

হোটেল-মালিক, পরিচালক, মঞ্চ-মালিকের কাছে তাঁর চাহিদা ছিল অন্য রকম। কারণ সেই মুহূর্তে বাঙালি মেয়ে একমাত্র আরতি ওরফে মিস শেফালি। কম বয়সের গ্ল্যামারকে কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার টাকা লাভ করছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। বাঙালিকন্যার শরীরের এমন লাবণ্য কোথায় পাবে? ফিরপোজ থেকে গ্র্যান্ডে। ষাটের দশকের মাঝামঝি, গ্র্যান্ড হোটেল হয়ে উঠল স্বপ্নপুরী। প্রিন্সেস হল, কলকাতার বড় বড় হোটেলগুলো শিল্পী শেফালিকে পাওয়ার জন্য পাগল। শহরের বহু নামীদামি মানুষের কাছে তিনি ছিলেন স্বপ্নের নারী। রাতের চেহারা বদলে দিয়েছিলেন সেই তারকা। ডিসেম্বরের শুরুতে হুড়োহুড়ি পড়ে যেত। কখনও কখনও ট্রিঙ্কাসে শো করতে যেতে হত মালিক মিস্টার পুরির ডাকে। “ভিভিয়ান হ্যান্ডসান যেমন আমাকে টাচ করেননি, তেমনই আমাকে উন্মুক্ত করতেও পিছপা হননি। এতে ওঁর কমিশন চড়ত। আর আমার মনে হত আমাকে এমন নাচ দেখাতে হবে যাতে আমার আরও চাহিদা বাড়ে” ‑ সত্যিই তো, সংসারটা যে মাথায় নিয়ে পথে নেমেছিলেন। সকালে একটা টোস্ট, এক কাপ ব্ল্যাক কফি বা ফলের রস। সারা দিন প্র্যাক্টিস। দুপুরে স্যুপ আর সামান্য আহার। সাতশো থেকে তিন হাজার হয়ে দশ হাজার। হোটেলগুলোর চাহিদা তখন তুঙ্গে। মাইনে বাড়ে পনেরো হাজার। শরীর আর দেয় না। কলকাতার রাত যেমন প্রচুর টাকা দিয়েছে, তেমনই নিংড়ে নিয়েছে শেফালিকে।  

নৃত্য থেকে নাটক, তার পর চলচ্চিত্রেও…

ধীরে ধীরে নাচ কমিয়ে নাটকের পথ ধরে চলচ্চিত্রে আসা। সুচিত্রা সেন খুব সকালে রাসেল স্ট্রিটের সানফ্লাওয়ার বিউটি পার্লারে যেতেন। সেখানেই দেখা দু’জনের। এই শহর চিনিয়েছে বুড়োদা (তরুণকুমার), উত্তমদা, পাহাড়িদা, বিকাশদা, রবীন মজুমদার, সত্যজিৎ রায়, অমিতাভ বচনকে। বুড়োদাই প্রথম নাটকে এনেছিলেন। প্রথম নাটক ‘চৌরঙ্গী’। একের পর এক অভিনয় চলল ‘অশ্লীল’, ‘রঙ্গিনী্‌’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘সম্রাট ও সুন্দরী’তে। রঙ্গমঞ্চে অভিনয়কালীন সমাজে ‘বিষকন্যা’ নামে পরিচিতি বাড়ল। যে সমাজে ‘অচ্ছ্যুতকন্যা’ হয়ে শেফালি দাপিয়ে বেড়াতে লাগলেন, তাঁরই অভিনয় দেখার জন্য কত গৃহস্থ রাতের নাটকে মঞ্চের শেষের দিকে টিকিট কেটে বসত। শুধুমাত্র ‘মিস শেফালি’কে দেখার জন্য। তাঁকেই দেখার জন্য, তাঁর নাচ দেখার জন্য সুচিত্রা সেন এসেছিলেন ‘সারকারিনা’য়। ‘সম্রাট ও সুন্দরী’ দেখতে। সে দিন বটতলার থানা থেকে পুলিশ এনে ভিড় সামাল দিতে হয়েছিল।

তবে হোটেলের ক্রাউড আর থিয়েটারের দর্শক আলাদা। থিয়েটারে এসে সমাজের সংসারে ঢুকে পড়লেন শেফালি। আলোচনা চলল ঘরে ঘরে। এর পরে সেই ‘বিষকন্যা’র ডাক পড়ল সত্যজিৎ রায়ের ছবি ‘প্রতিদ্বন্দী’ ও ‘সীমাবদ্ধ’তে। ‘প্রণয়পাশা’য় শেফালি ও সুচিত্রা সেনের শেষ অভিনয়।

অমিতাভ বচ্চনের ডাকে…

গ্র্যান্ড ছ’মাসের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছিল ‘দো আনজনে’ শ্যুটিং-এর জন্য। শেফালির তৎকালীন বস সতীশকুমার বচ্চনসাহেবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন শেফালিকে ‘কলকাতার কুইন’ বলে। অমিতাভ বচ্চন তাঁর জন্মদিনে নেমন্তন্ন করলেন মিস শেফালিকে। সেখানেই জয়া বচ্চনের সঙ্গে দেখা। ওখান থেকে একটি নাচের ওফার আসে। যেখানে শেফালি নাচবে কিন্তু অমিতাভ চিন্তা করবে রেখা নাচ্ছে। নাচের শেষে শেফালিকে কোলে তুলে সারা হলটা ঘুরেছিলেন বচ্চন ‑ এটাও এই শহর তাঁকে দিয়েছিল। এ সব খবর সেই সমাজ হয়তো মনে রাখে না।

প্রেম এসেছিল…

জীবনে প্রেম এসেছিল নীরবে। উদ্দাম উত্তেজনাময় জীবনে ভালোবাসার ছলনাই বেশি ছিল। তাই সত্যিকারের ভালোবাসা বুঝতে বুঝতে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। ফিরপোজে থাকাকালীন এক বার মুম্বইয়ের এক হোটেলে পাঠানো হয়েছিল শেফালিকে নাচের জন্য। আমেরিকা থেকে এসেছিলেন রবিন রুটল্যান্ড নামের এক গায়ক। হোটেলের মালিকের বিশেষ বন্ধু ছিলেন। খুব ভালো হিন্দি বলতে পারতেন। “প্রথম দিন নাচের সময়, মিউজিক শুরু হয়ে গিয়েছে, এমন সময় দেখি আমার সিকোয়েন্সগুলো জড়িয়ে গিয়েছে। রবিন তাড়াতাড়ি খুলে দেয়। নাচের পরে আমি ওকে থ্যাঙ্কস জানাতে আসি। সেই প্রথম ভালোলাগার একটা নেশা আমার মধ্যে অনুভব করতে শুরু করলাম” — হাঁপিয়ে উঠছিলেন কথাগুলো বলতে বলতে আজকের শেফালি। “প্র্যাক্টিসের পরে সারা দিন কী করে সময় কাটাই, সব জানার পরে এক দিন সিনেমা দেখতে যাওয়ার কথা বলে। সিনেমাহলে গিয়ে দেখি খুব কম লোক, ওপরের এক কোনায় দু’টি সিট। সেই প্রথম আমার কাঁধ স্পর্শ করে ও। রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে কোমর জড়িয়ে হাঁটা, বিদেশি আদবকায়দা সব শেখাতে শুরু করল। আমার তখন খুব কম বয়স। বাড়বাড়ন্ত চেহারা, কিন্তু ভয়ও পিছু ছাড়ে না”। মুম্বই থেকে লখনউ হয়ে কাঠমান্ডুতে যখন রবিন থাকতেন, তখন ঘন ঘন যেতেন কলকাতার কুইন। সেখানে ‘কাছে যাওয়া’ বলতে যা বোঝায়, সেই ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছিল দু’জনের মধ্যে। রবিন আমেরিকায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, চেয়েছিলেন সন্তান নিয়ে সংসার করুক শেফালি। অতীতের ভয়ংকর দিনগুলোর কথা মনে রেখে আর ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যে প্রতিশ্রুতির ছবি চোখে ফুটে ওঠায়, সেখান থেকে পিছুটান দিয়েছিলেন শেফালি। চিঠির আদানপ্রদান ছিল, পরে তা আর স্থায়ী হয়নি। আজ এমন একদিনও যায় না যে রবিনকে তাঁর মনে পড়ে না।

স্মৃতিভারে…

মনে পড়ে যায় মা যে বাড়িতে রান্নার কাজ করতেন সেখান থেকে চেয়ে আনা ছোট্টো ভাইয়ের জন্য দুধের কথা। তাতে অনেক জল মেশাতেন যাতে বারবার খাওয়ানো যায়। সেই ভাইয়ের সংসার আছে। কয়েক বছর হল তিনি প্রয়াত। মনে পড়ে যায় সকলে পেটের জ্বালা নিয়ে ছটফটানির কথা। আহিরীটোলার ঘাটের কাছে দাঁড়িয়ে পাড়ার বাড়িতে ভালো ভালো রান্নার গন্ধের কথা মনে পড়ে যায়। দু’চোখ আজও জলে ভরে যায়। সেই সব আতঙ্কের রাতও মনে পড়ে।

শক্তিময়ী নারী মা-বাবা-ভাইয়ের সংসারকে দেখে কাটিয়ে দিল নিজের জীবন। আজ এক চিলতে ফ্ল্যাটে কেবল সকালের রোদ এসে খবর নেয় শেফালি ভালো আছ তো? (শেষ)

আরও পড়ুন: ‘এক বার পাওয়ার জন্য বহু বিখ্যাত মানুষ তখন পাগল’, অকপট মিস শেফালি

প্রবন্ধ

Bengal Polls 2021: কোচবিহার জেলার ন’টি বিধানসভা কেন্দ্রে লড়াইয়ে কে কোথায়

২০২১-এ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গোটা রাজ্যে মাথাচাড়া দিয়েছে বিজেপি। তার নিরিখে বুঝতে হবে কোচবিহারের ফলাফল।

Published

on

তপন মল্লিক চৌধুরী

উত্তর বাংলার কোচবিহার জেলায় ন’টি বিধানসভা কেন্দ্র। ২০১৬-তে ন’টির মধ্যে ৮টি জিতেছিল তৃণমূল, একটিতে বামেরা। ২০১৯-এর লোকসভায় পাশা উলটে যায়। তৃণমূলকে টেক্কা দিয়ে বিজেপি লিড নিয়েছিল মাথাভাঙা, কোচবিহার উত্তর ও দক্ষিণ, দিনহাটা ও নাটাবাড়িতে। ২০২১-এ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গোটা রাজ্যে মাথাচাড়া দিয়েছে বিজেপি। তার নিরিখে বুঝতে হবে কোচবিহারের ফলাফল।

Loading videos...

এ বার কোচবিহারে দিনহাটা ও নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র দু’টি আলোচনায় সব থেকে এগিয়ে। এখানে আগে যাঁরা ছিলেন তৃণমূলে, একুশে তাঁরাই বিজেপির হয়ে ভোটে লড়ছেন। তাঁদের মধ্যে একজন নিশীথ প্রামাণিক, অন্য জন মিহির গোস্বামী। নিশীথ দিনহাটায় তৃণমূলের উদয়ন গুহের বিরুদ্ধে ভোটে লড়ছেন আর মিহির নাটাবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বিরুদ্ধে। তার মানে এখানে জেলা তৃণমূলের দুই প্রাক্তন সভাপতির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে রবিবাবু ১৬ হাজারের বেশি ভোটে জয় পেলেও গত লোকসভায় সাড়ে ১৮ হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল। তার পর থেকে বিজেপি এখানে সাংগঠনিক শক্তি যথেষ্ট মজবুত করেছে। করোনা পরিস্থিতিতে রবিবাবু দিনরাত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা মিহির গোস্বামীও কম যাচ্ছেন না।

দিনহাটার প্রার্থী উদয়ন বাবা কমল গুহের হাত ধরে রাজনীতি শুরু করে রাজ্যে পালাবদলের পর ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। এই কেন্দ্রের বিধায়কও হন। বাম ও ডান, দু’ দলের বিধায়ক হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর। উদয়নকে কোণঠাসা করতেই যে সাংসদ নিশীথকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা সেটা সকলেই বুঝছেন। দিনহাটায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মারাত্মক। দলের বিধায়ক-প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে পথে নেমে আন্দোলন করেছে কর্মী-সমর্থকরা। অন্য দিকে সাংসদপদ ছেড়ে বিধায়কপদের জন্য প্রার্থী হওয়া নিশীথকেও খুব সহজে মেনে নিতে পারছে না দিনহাটাবাসী। সুতরাং এ ক্ষেত্রে সংযুক্ত মোর্চার আব্দুর রাউফের (ফরওয়ার্ড ব্লক) সম্ভাবনা রয়েছে।

কোচবিহার দক্ষিণের লড়াইটা তৃণমূলের নবীন প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক বনাম বিজেপির অভিজ্ঞ প্রার্থী নিখিল রঞ্জন দের। কারণ তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী এ বার দল বদলে নাটাবাড়িতে বিজেপি প্রার্থী। তাঁর জায়গায় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অভিজিত দে ভৌমিককে (হিপ্পি) লড়তে হচ্ছে বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি নিখিলরঞ্জন দের বিরুদ্ধে। অন্য দিকে বামপন্থী প্রার্থী অক্ষর ঠাকুর এক সময় এই এলাকার বিধায়ক ছিলেন। সব মিলিয়ে এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা।

প্রসঙ্গত, উত্তর কোচবিহার কেন্দ্রে ২০১৬-তে তৃণমূলের পরিমল বর্মনকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের নগেন্দ্রনাথ রায়। এ বারও তিনি বামেদের প্রার্থী। ২০১৯-এ এই কেন্দ্র থেকে ২৭ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছিলেন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া নিশীথ প্রামাণিক। এ বার এখানে বিজেপি প্রার্থী দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সুকুমার রায়। উলটো দিকে তৃণমূল মাথাভাঙার বিধায়ক তথা অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মনকে প্রার্থী করেছে। সব মিলিয়ে জোরদার লড়াই।

মাথাভাঙা বিধানসভা কেন্দ্রেটি তফশিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত। ২০১৬ সালে তৃণমূল প্রার্থী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন ৩২ হাজারের বেশি ভোটে জয় পেলেও গত লোকসভা নির্বাচনে এখানে ২১ হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে পড়েছিল তৃণমূল। এ বার বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের পরিবর্তে হাইস্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক গিরীন্দ্রনাথ বর্মন হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী। বিজেপি প্রার্থী করেছে পেশায় কৃষক সুশীল বর্মনকে। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী অশোক বর্মন (সিপিএম)। এখানে ভোটের হাওয়া ততটা গরম নয়।  

লোকসভায় কোচবিহারে ভরাডুবি হলেও সিতাইয়ে তৃণমূল বিজেপির থেকে প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল। কিন্তু জেতার পর এক মাসের বেশি বাড়িছাড়া ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক জগদীশ বর্মাবসুনিয়া। এ বারও জগদীশবাবু দলের প্রার্থী। বিজেপি এখানে প্রার্থী করেছে দীপক রায়কে। তাঁকে ঘিরে বিজেপির মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। সংযুক্ত মোর্চর প্রার্থী কেশব রায় (কংগ্রেস)। এখানে প্রচারে হাওয়া গরম হচ্ছে কান্তেশ্বর সেতু কার আমলে তৈরি তা-ই নিয়ে। তৃণমূল বিধায়ক জগদীশবাবুর দাবি সেতুর শিলান্যাস হয় তাঁর হাত দিয়ে। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী কেশববাবু বলছেন, তৃণমূল মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে।

তুফানগঞ্জে বিজেপি যথেষ্ট শক্তিশালী। এ বার এখানে প্রার্থী জেলা সভাপতি মালতী রাভা। মালতী দেবী ২০০১ ও ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন। তিনি সম্প্রতি কোচবিহারে থাকলেও তাঁর আসল বাড়ি তুফানগঞ্জে। অন্য দিকে তৃণমূল এখানে প্রার্থী করেছে প্রণবকুমার দেকে। কিন্তু তিনি আলিপুরদুয়ারের লোক হওয়ায় দলের অন্দরে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী কংগ্রেসের রবিন রায়কেও মানতে নারাজ কংগ্রেস, নিজেদের মধ্যেই চলছে লাগাতার অসন্তোষ।

মেখলিগঞ্জে এ বার ফরওয়ার্ড ব্লকের দুই প্রাক্তন পরেশ অধিকারী বনাম দধিরাম রায়ের লড়াই। মেয়ের চাকরি নিয়ে বড়োসড়ো বিতর্কে জড়ানো পরেশ অধিকারীকে লোকসভায় প্রার্থী করার খেসারত দিয়েছে তৃণমূল। তার পরেও তিনি বিধানসভায় প্রার্থী। উলটো দিকে বিজেপি প্রার্থী দলের মণ্ডল সভাপতি দধিরাম রায়। ২০১৬-র বিধানসভায় তৃণমূল ৬০০০ ভোটে জিতলেও লোকসভা ভোটে পিছিয়ে ছিল। এখানে প্রচারে সেতু কারা তৈরি করল তা নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে দ্বন্দ্ব বেঁধেছে। দু’ জনেই দাবি করেন এই সেতু তাঁদের তৈরি। যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী গোবিন্দ রায় অন্য জেলার বাসিন্দা হওয়ার দরুন প্রথম থেকে কিছুটা ব্যাকফুটে।

শীতলকুচি কেন্দ্রে মূল লড়াই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের। তৃণমূল প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায় মানুষকে উন্নয়নের বার্তা দিতে চাইছেন। অন্য দিকে সংযুক্ত মোর্চার সিপিএম প্রার্থী সুধাংশু প্রামাণিক তাঁর বাবা প্রয়াত সুধীর প্রামাণিক ৩০ বছর বিধায়ক থেকে এলাকার উন্নয়নে কত কাজ করেছিলেন সেটাই প্রচারে সামনে রাখছেন। বিজেপি প্রার্থী বরেনচন্দ্র বর্মনও হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। এই আসনটিতে বিজেপি খুব একটা এগিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করছে না রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন: Bengal Polls 2021: উত্তরবঙ্গের চা বাগানে অ্যাডভান্টেজ মমতা

Continue Reading

প্রবন্ধ

Bengal Polls 2021: এই ভোটে মুকুল রায় কোথায়?

মুকুল রায়ের এই পরিণতির প্রধান কারণ, শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগ দেওয়া।

Published

on

শৈবাল বিশ্বাস

এই ভোটে কোথাও নেই মুকুল রায়। কৃষ্ণনগর উত্তর আসনে প্রার্থী করে ভোট-ময়দান থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন? কারণ অনেকগুলি রয়েছে বটে, তবে প্রধান কারণ মুখ্য প্রচারকের দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্য জুড়ে সফর করলে তাঁকে স্টার ক্যাম্পেনারের মর্যাদা দিতেই হতো এবং সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে তাঁর নাম প্রথমে উঠে আসত। কিন্তু দিলীপ ঘোষ হয়তো তা চান না। বিজেপি রাজ্য সভাপতি তৃণমূল-ছোঁয়া কোনো লোকের প্রাধান্য মেনে নিতে রাজি নন। আরএসএস-এর কাছে তিনি মুকুল রায়ের কেস হিস্ট্রি এমন ভাবে পেশ করেছেন যে স্বয়ং অমিত শাহর সাধ্য হয়নি মুকুলবাবুকে সমান্তরাল নেতা হিসাবে তুলে ধরতে। কিন্তু তাঁকে ছুড়ে ফেললে সংগঠন দুর্বল হবে তাই ৩০ হাজার ভোটে লোকসভায় লিড নেওয়া কৃষ্ণনগর উত্তর আসনটি দিয়ে তাঁকে কার্যত ছেলে-ভোলানো হল।

Loading videos...

তা বলে বিজেপি সরকার গঠন করলে মুকুলবাবু কি মন্ত্রী হবেন না? না চাইলেও তাঁকে মন্ত্রী হতে বাধ্য করা হবে। শুধু তা-ই নয়, উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দিয়ে তাঁর অভিমান ভাঙানো হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে দলের এই সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির সামনে পথ দু’টি। প্রথমত, হয় সারদা মামলার রাজসাক্ষী হওয়ার আর্জি জানিয়ে রাজনীতি-জীবনে সাময়িক বিরতি নেওয়া, নয়তো মন্ত্রিত্বের শপথ নিয়ে রাজনৈতিক কেরিয়ারটা অজানা লক্ষ্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া।

মুকুল রায়ের এই পরিণতির প্রধান কারণ, শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগ দেওয়া। এক সময় অভিষেক-মমতার তল্পিবাহক মুকুলবাবুর সঙ্গে শুভেন্দুবাবুর সাপে-নেউলে সম্পর্ক ছিল। ‘যুবা’ সংগঠন খুলে যুব তৃণমূলের সমান্তরালে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ না কি মুকুল রায়ের দেওয়া। এই কারণে যুব তৃণমূলের সভাপতি শুভেন্দু দ্রুত পায়ের তলার মাটি হারাচ্ছিলেন। এই ইতিহাস ভুলে মুকুল রায়কে মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব। অনেকেই বলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁর শর্তই ছিল, মুকুল রায়ের গুরুত্ব হ্রাস করতে হবে।

বিধানসভা নির্বাচনের পর্ব শুরু হওয়ার আগে মুকুল রায়ের হাত ধরে বহু ছোটোখাটো তৃণমূল নেতা বিজেপি শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তাঁর অনুগামী পুরোনো নেতারা তো আছেনই। এঁদের সবাইকে টিকিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুকুল। কিন্তু একটা দু’টো আসন বাদ দিয়ে বাকি আসনে মোদী- শাহরা দিলীপ-কৈলাসের কথা মতোই চলেছেন। মুকুলবাবু টিকিট পাইয়েছেন কলকাতার শ্যামপুকুর কেন্দ্রের প্রার্থী সন্দীপন বিশ্বাস, বীজপুরে শুভ্রাংশু – এ রকম হাতে গোনা কয়েক জনকে। শুধু তা-ই নয়, এর আগে যাঁরা মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন যেমন শোভন-বৈশাখী, মনিরুল ইসলাম ইত্যাদি নেতাদের কোনো টিকিট পাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠেনি।

পরিস্থিতি বুঝে তৃণমূল শিবিরের পক্ষে মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের আপ্রাণ চেষ্টা চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী তো বলে দিয়েছেন, “মুকুল তত খারাপ নন।” তৃণমূল শীর্ষ নেতারা চেষ্টা চালাচ্ছেন এই ভোটে তাঁকে নিষ্ক্রিয় রাখতে। বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের যে সব নেতা মুকুল রায়ের কথা শুনে বিজেপির কাছে এসেছিলেন তাঁরা যাতে সক্রিয় মমতা-বিরোধিতার রাস্তায় না যান সেটাই লক্ষ্য। তবে মুকুল-সন্ধি করার প্রশ্নে অভিষেক কতটা রাজি সেটা কেউ জানে না। একটা কথা মনে রাখা দরকার, নারদা-কাণ্ডে মুকুল রায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেই স্ট্রিং অপারেশনের পিছনে হাত ছিল অভিষেকবাবুর খুড়শ্বশুর কেডি সিং-এর। অন্তত তেমনটাই ম্যাথু স্যামুয়েলের দাবি।

আরও পড়ুন: রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট, হুইলচেয়ারেই দুর্গরক্ষক মমতা

Continue Reading

প্রবন্ধ

রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট, হুইলচেয়ারেই দুর্গরক্ষক মমতা

মমতাকে বহিরাগত তকমা দিতে গিয়ে কাঁথির ছেলে নিজেকে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র হিসেবেই সীমিত করে ফেলেছেন। এবং স্বেচ্ছায় সরে গিয়েছেন রাজ্যের নেতা হওয়ার দাবি থেকে।

Published

on

দেবারুণ রায়

বাংলায় আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মাইকেল মধুসূদন অপাঠ্য হবেন কিনা তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের রেশ ছড়ালেও বিভীষণের ভিসন ২১-এ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে “মারি অরি পারি যে কৌশলে।” নন্দীগ্রামকে মমতামুক্ত করার নীল নকশার প্রায় সবটাই জেনে ফেলেছেন গোয়েন্দারা। সুতরাং মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবকে এ বিষয়ে সবটাই জানানো হয়েছে। ব্লুপ্রিন্টে শুধু যদি রাজনৈতিক রণনীতি থাকত তা হলে তা আমলাদের সরকারি ভাবে রিপোর্ট করার দরকার হত  না। শুধু রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবশ্য তা জানাতেই হত।

Loading videos...

কিন্তু কানাঘুষো সাম্প্রদায়িক বিভাজনের প্রচার অবশ্যই প্রশাসনকে জানতে হবে। যাতে আইনের শাসন, জনজীবনের নিরাপত্তায় আঁচ না লাগে। এখন নন্দীগ্রামে মমতা হারছেন, এ কথা প্রচারে তুঙ্গে তুলে রাজ্যের বাকি ছ’ দফা ভোটে তৃণমূলকে ব্যাপক কোণঠাসা করে গরিষ্ঠতার অঙ্ক ছুঁতে চায় বিজেপি। রণাঙ্গনে আর প্রেমের পাঠশালায়  কুনীতিরও ছাড় আছে। সুতরাং গুজবের গোরু গাছে উঠছে সারা দিনই। গেরুয়া শিবিরের সূত্র ধরে বলা হচ্ছে, অনুব্রতর কাছে ‘দিদি’ একটা আসন বাছাই করে রাখতে বলেছেন। এবং এখানেই শেষ নয়। শোনা যাচ্ছে, “দিদি এ বার আরেকটা আসন থেকেও লড়ছেন। কারণ নন্দীগ্রামে জেতার ভরসা নেই।” মুরারই নাকি নতুন ঠিকানা। এবং এটা আদিম যুগের আরক। জল মেশানো সত্যিও নয়।

মারক মিথ্যাচারকে মিথ বানানোর পাচন যে কোন কারখানায় তৈরি হয় তা দেখে এলাম নন্দীগ্রামের বটতলায়।  জেলার রাজনীতি, রাজ্যের রণনীতি আর কেন্দ্রের কূটনীতি তিন রকম হলে ক্ষতি নেই, এই জায়গাটা কোনো দলমতে থাকে না। কিন্তু বিরল বলে যে একটা শব্দ আছে। যা দিয়ে জনমতকে কখনও বা জব্দ করা গেলেও শেষ খেলায় জামানত জব্দ হয়ে  যায়। সেই ঝুঁকির খেলাটা দেখে এলাম নন্দীগ্রামে। খেলা শুরু করেছেন নন্দীগ্রামের নন্দী। তাঁর প্রতীকী শিং ধরে সরাসরি প্রতিরোধে ঝাঁপিয়েছেন তিনি, যিনি তাঁকে নন্দীগ্রামের রাজনীতির পারমিট দিয়েছেন।

ভোটের রাত পর্যন্ত ছিল লড়াই। আগের রাতের আলো-আঁধারির কালো মেঘ নিয়ে  যার শুরু হয়েছিল, পরের রাতের শেষে তা কিছুটা ভাঙা চাঁদে কলঙ্কের ছায়া।  মমতা না শুভেন্দু, কার নন্দীগ্রাম? কাঁথির দাবি দড়, না কালীঘাটের? “সব ছাড়সি, জেলাডাও ছাড়ুম?” কে যেন বলেছিল। বাংলা ও বাঙালির সম্বল এখন ওই জেলায় গিয়ে ঠেকেছে। মমতাকে বহিরাগত তকমা দিতে গিয়ে কাঁথির ছেলে নিজেকে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র হিসেবেই সীমিত করে ফেলেছেন। এবং স্বেচ্ছায় সরে গিয়েছেন রাজ্যের নেতা হওয়ার দাবি থেকে। এর পরও এই ‘বহিরাগত’ বলার জন্য শুভেন্দুকে তুলোধোনা করে ছেড়েছেন মমতা। জনসভায় দাঁড়িয়ে বলছেন, “আমি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এখানে বহিরাগত। আর তুই কেরে হরিদাস? তুই তো কাঁথির ছেলে। তুই বহিরাগত না, আমি বহিরাগত।”

নন্দীগ্রামে ‘ভূমিপুত্র’কে ভোট দেওয়ার আবেদন।

পর দিনই জনসভায় আরও বললেন, “আমাকে পরামর্শ দিয়েছে, আপনি আরেকটা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ান। কিন্তু শুনে রাখুন, আমি নন্দীগ্রামে এসেছি। নন্দীগ্রামেই জিতব। অন্য কোথাও যাব না। ওরা কাউকে কিনে নিতে যাতে না পারে তাই ২০০-র বেশি আসন দিন। ওদের মুখের মতো জবাব দিন।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত বিস্ময়কর বিপন্নতার নেপথ্যে আছে ছেলেধরার রোমাঞ্চকর গল্প।

মমতা ভোটের দিন ফিরে গিয়েছিলেন তাঁর অগ্নিবেশ অতীতে। স্ট্রিট ফাইটার ইউএসপি যে এখনও অমলিন, বরং আগের ভুলচুক শুধরে অনেক বেশি উদ্দেশ্যপ্রবণ, এমনকি পিকে-টিকেও ওভারডোজ নয়। একদম নির্মেদ, মেলোড্রামাহীন ড্রামাটিক রাজনীতি। নাটকের বিরুদ্ধে নাটক চাই। অবশ্যই চোখের বদলে চোখ নয়। মিথ্যার জবাবে মিথ্যা নয়। অবশ্যই মিথ্যার মারক সত্য। সব কিছুই ঠিকঠাক হয়ে ওঠেনি। তবু উনিশে বিজেপি ফিনিশ না হয়ে, কী জিনিস তা টের পাইয়ে দিয়েছে সবাইকে, এমনকি প্রিয় দিদিকেও। বলতে ইচ্ছে করছে, উনিশই দিদির রাজনীতির সব চেয়ে বড়ো টার্নিং পয়েন্ট। যার মৌল হয়তো আগেই ছিল ভেতরে। কিন্তু চাপ ছিল বলেই তার ছাপ ছিল না। তবে এই টার্ন বাংলার পিচে কতটা সুইং আনবে তার ওপরেই ঝুলছে নেত্রীর রাজনীতির ভবিষ্যত। আপাতত, খেলা কাকে বলে দেখেছে নন্দীগ্রাম।

দু’ ঘণ্টা উপদ্রুত বুথে তাঁর অবস্থান নিয়ে গর্ত থেকে বেরোনো সরীসৃপদের দাপাদাপি, নন্দীভৃঙ্গীদের ‘হো গয়া কাম, জয় শ্রীরাম’। শুভেন্দুর উচ্ছ্বসিত ‘আন্টি’ ডাক। তবু মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু কোনো পুনর্নির্বাচন চাননি। এটাই বেশ বলিষ্ঠ বিশ্বাসের আবহ। নন্দীগ্রাম দিচ্ছে ডাক, পুরো লেখা হল না। হবে ২ মে। হীরক রাজার স্রষ্টার জন্মদিনে। কে কাকে দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খানখান বলবে? এ লড়াই নিছক একটা বিধানসভার নয়। এখানে রাজর্ষি সাজে প্রধানমন্ত্রী এক দিকে, আর এক দিকে ভারতের রাজনীতির মৌল উপাদান, সেকুলার, ডেমোক্র্যাটিক যুক্তরাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের দাবি, অর্থনৈতিক প্রগতির অবক্ষয়, রাষ্ট্রের সম্পত্তির রূপান্তর রোধ।

সংযুক্ত মোর্চার  সিদ্দিকীকে ‘বাচাল’ বললেও এই ইস্যুগুলো মমতারও ইস্যু।  যদিও কংগ্রেস ও বামদের সম্মিলিত সংশয় যায় না। তার যথেষ্ট কারণ আছে। তাঁরা ঘর পোড়া গোরু বলেই জানেন, না আঁচালে বিশ্বাস নেই।  কিন্তু সে দিন বসন্তের বিউগলকি বাজল? শুভেন্দুর শরীরী ভাষা তাচ্ছিল্য করেছে মমতাকে। মোদী তো প্রায় ফলাফলই ঘোষণার মোডে ছিলেন। এটাই ওঁদের চিরন্তনী ‘মোডাস অপারেন্ডাই’। হয়তো এটা ভ্রান্ত নয়। তবে কেজরিওয়ালের রাজ্যে লাগাতার এই কৌশল করে করে ক্লান্ত বিজেপি। 

কেজরিওয়ালই যেখানে অটুট সেখানে বাংলার রেনেসাঁর রাজনীতি তো চাইনিজ ওয়াল। এই ওয়াল ভাঙা বিজেপির অসাধ্য, যদি অটুট থাকে তৃণমূলের মাটি ও মানুষগণ। মায়ের মুখের শঙ্কায় বাংলাকে এক আশ্চর্য মেরুর কথা ভাবাচ্ছে। যা ভাবতে মেরুদণ্ড চাই। যেটা কোনো স্বর্ণকারের খাদ মেশানো সোনার বাংলা নয়। সে যে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে যে স্মৃতি দিয়ে ঘেরা। এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো  তুমি…, সে যে আমার জন্মভূমি।

আরও পড়ুন: Bengal Polls 2021: উত্তরবঙ্গের চা বাগানে অ্যাডভান্টেজ মমতা

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
পূর্ব বর্ধমান49 mins ago

Bengal Polls 2021: শীতলকুচির ঘটনা নিয়ে বিতর্কে ঢিল ছুড়লেন মিঠুন চক্রবর্তী

দেশ2 hours ago

Covid-19 Vaccine: অক্টোবরের মধ্যে আরও ৫টি কোভিড ভ্যাকসিন পাচ্ছে ভারত!

রাজ্য2 hours ago

Bengal Polls 2021: ‘শীতলকুচি’ নিয়ে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে এক মত নন অমিত শাহ!

রাজ্য3 hours ago

বাড়াবাড়ি করলে হবে আরও শীতলকুচি, হুমকি দিয়ে বিতর্কে জড়ালেন দিলীপ ঘোষ

রাজ্য3 hours ago

Bengal Polls 2021: শীতলকুচিতে ‘গণহত্যা’ হয়েছে, দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

দেশ4 hours ago

লাফিয়ে বাড়ছে করোনা, নাইট কারফিউ-সহ একাধিক বিধিনিষেধ জারি হল উত্তরপ্রদেশে

রাজ্য7 hours ago

তিন বছর ধরে নানা সেবামূলক কাজ করে চলেছে ‘ইচ্ছাশক্তি ফাউন্ডেশন’

দেশ8 hours ago

Corona Update: এক দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লক্ষ ছাড়াল

রাজ্য1 day ago

Bengal Polls Live: সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়ল ৭৫ শতাংশের বেশি

ক্রিকেট2 days ago

IPL 2021: বলে ভেলকি হর্শল পটেলের, ব্যাটে জ্বলে উঠলেন ডেভিলিয়ার্স, বেঙ্গালুরুর কষ্টার্জিত জয়

বাংলাদেশ3 days ago

Bangladesh Corona Update: কোভিড ১৯-এ মৃত্যুতে রেকর্ড, তবে দৈনিক আক্রান্ত কিছু কম

রাজ্য3 days ago

Bengal Corona Update: সংক্রমণের হারে সামান্য বৃদ্ধি, কিছু জেলার পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক

দেশ3 days ago

অবশেষে মুক্তি পেলেন ছত্তীসগঢ়ে মাওবাদীদের হাতে বন্দি কোবরা কমান্ডো রাকেশ্বর সিংহ মানহাস

দেশ2 days ago

Coronavirus Second Wave: সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ ভাঙতে তিন দাওয়াই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

রাজ্য1 day ago

Bengal Polls 2021: বাহিনীর গুলিতে হত ৪, শীতলকুচি যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

দেশ1 day ago

Corona Update: রেকর্ড তৈরি করে দেড় লক্ষের দিকে এগিয়ে গেল দৈনিক সংক্রমণ, তবুও কম মৃত্যুহারে কিছুটা স্বস্তি

ভোটকাহন

কেনাকাটা

কেনাকাটা3 weeks ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা2 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা2 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা3 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা3 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা3 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা3 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা3 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা3 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা3 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে