Connect with us

প্রবন্ধ

নোটবন্দির চতুর্থ বর্ষপূর্তি: মনে পড়ে কি ‘মোদী’ময় সেই ডাক?

গোটা দেশ দাঁড়িয়ে পড়েছিল এটিএম, ব্যাঙ্কের লাইনে। দেখতে দেখতে চার বছর হয়ে গেল!

Published

on

Demonetization
Jayanta Mondal
জয়ন্ত মণ্ডল

বাজারে একটা কথা খুব চালু হয়েছিল- মোদীনোমিক্স। খোলসা করার আগেই স্পষ্ট হয়ে যায়, এটা আসলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আবিষ্কৃত এ দেশের নতুন ইকনোমিক্স। দুইয়ে মিলে মোদীনোমিক্স। দেশবাসীকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে এই চটকদারি আর্থিক নীতির প্রয়োগ?

সেভিংস অ্যাকাউন্টে গত ৫৫ বছরের সর্বনিম্ন অর্থ সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছে এ দেশের ব্যাঙ্কগুলি। ২০১৭-‘১৮ আর্থিক বছরের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে এমনটাই জানিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। অথচ ২০১৬-‘১৭ অর্থবর্ষে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছিল সেভিংস অ্যাকাউন্টে। কেন এত অদলবদল?

Loading videos...

কারণ জানতে পিছোতে হবে বেশ কিছুটা সময়। ২০১৬-র ৮ নভেম্বর রাত ৮টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তথাকথিত নোটবন্দির পর গোটা দেশ দাঁড়িয়ে পড়েছিল এটিএম, ব্যাঙ্কের লাইনে। কিন্তু বছর ঘুরতেই টাকা তোলার হিড়িকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যাঙ্কের এই খাতে অর্থ সংগ্রহ। সাধারণ মানুষ কিছুটা আতঙ্কে, আবার কিছুটা বিরক্ত ও হতাশ হয়ে নিজের সঞ্চিত অর্থ ব্যাঙ্কের সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে নেন। ঠিকানা লাগান পোস্ট অফিসের মেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্প, মিউচুয়াল ফান্ড অথবা অনিশ্চয়তার শেয়ার বাজারে। মোদী বলেছিলেন, আর্থিক সংস্কার হবে। আয়করহীন টাকার টুটি চেপে ধরা হবে। আর্থিক দুর্নীতি লেজ গুটিয়ে পালাবে। সন্ত্রাসবাদে ব্যবহৃত তহবিল সাফ করে দেওয়া যাবে। ইত্যাদি। তাই তিনি শুধুমাত্র দেশবাসীকে ব্যাঙ্কে যেতে বলেছিলেন।

আরবিআইয়ের একটি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ২০১৭-‘১৮ আর্থিক বছরে ব্যাঙ্কের সেভিংস অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগের পরিমাণে নিছক থোক টাকা জমার হার বেড়েছে মাত্র ৬.৭ শতাংশ। যা ১৯৬৩ সালের পর থেকে এখনও পর্যন্ত সব থেকে কম। অথচ, ডিজিটাল লেনদেনের মতো সময়োপযোগী শর্তকে সামনে রেখে মোদী দেশবাসীকে বলেছিলেন, বালিশের তলায় টাকা না লুকিয়ে রেখে ব্যাঙ্কে যান।

শিশু কৃষ্ণ অবশ্য সহচরদের উদ্দেশে উলটোটাই বলেছিলেন। খতরনক অগাসুর ঘাপটি মেরে পড়ে রয়েছে পাহাড়ের রূপ ধরে। সহচররা দেখে বলল- বাহ, কী সুন্দর গুহা। চল্‌ ওখানে খেলতে যাই। কিছুটা পিছন থেকে কৃষ্ণ সহচরদের উদ্দেশে চিত্‍কার করল- “মিত্রোঁ, গুফাও মে মত যাও.”।

তারা শোনেনি। গুহা যে আদতে মরণগুহা, তা টের পাওয়ার পর সেখান থেকে বের হওয়ার কোনো পথ ছিল না তাদের কাছে। তবে কৃষ্ণের ক্যারিশমায় সে দিন অগাসুর বধ হয়েছিল। প্রাণে বেঁচেছিল সহচরেরা। কিন্তু ভারতবাসীর কী হবে?

এ ক্ষেত্রে সরাসরি বলতে হয় অদূরদর্শিতার অভাব। শুধু এই একটি কারণেই নিছক চমকের জন্য যে নোটবন্দি-খেলা আয়োজিত হয়েছিল, তা আর কারও বুঝতে বাকি নেই। আরবিআই একটি রিপোর্টে জানিয়েছে, নোটবন্দির আগে বৈধ হিসাবে বাজারে থাকা ৫০০ ও ১,০০০ টাকার পুরোনো নোটের ৯৯.৩ শতাংশ ফের ঢুকে পড়েছে ব্যাঙ্কিং সিস্টেমে। এ কথা ঠিক, মোদী দেশবাসীকে ব্যাঙ্কে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু ব্যাঙ্কগুলি তখন কি চলে যায়নি অগাসুরদের দখলে?

এমন প্রশ্ন ওঠা যতটা না স্বাভাবিক ততটাই প্রাসঙ্গিক। তা না হলে এত কালো/আয়করহীন নোট কে গিলে খেল?

  • ২০১৬-র নোটবন্দির পর ব্যাঙ্কের সেভিংস অ্যাকাউন্টে সঞ্চয়ের পরিমাণের হার বেড়ে গিয়েছিল ১৫.৮ শতাংশ। কিন্তু পরের বছর মাত্র ৬.৭ শতাংশ। ১৯৬৩ সালের পর থেকে এতটা খাটো হার আর দেখেনি ব্যাঙ্কগুলি। তা হলে টাকা যাচ্ছে কোথায়?
  • নোটবন্দির পর রাষ্ট্রায়ত্ত লাইফ ইনসুরেন্স কোম্পানি (এলআইসি‌)-র প্রিমিয়াম সংগ্রহের পরিমাণ বেড়েছে ১৪২ শতাংশ। হ্যাঁ, এ কথা ঠিক নোটবন্দির মাসে সংগহীত রেকর্ড প্রিমিয়ামের পরিমাণ পরে কমতে থাকে, কিন্তু এলআইসির ভাঁড়ারে গচ্ছিত সেই অর্থ তো মেয়াদ পূরণের আগে গ্রাহকের হাতে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু সংস্থা সেই টাকা বাজারে খাটিয়ে মোটা মোটা লাভের অঙ্ক ঘরে তুলতেই পারে।
  • মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বেড়েছে ২২ শতাংশ। ২০১৭ সালে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১৭ লক্ষ কোটি টাকা। শুনে মাথা ঘুরতে পারে কারণ, এটা ছিল আগের বছরের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয়েছে ২১.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা (আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ)। আধুনি মোদীনোমিক্সের বড়োসড়ো একটা জায়গা দখল করে রেখেছে এই মিউচুয়াল ফান্ড।
  • শেয়ার বাজারও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। নগদ টাকা তো বটেই, সোনা অথবা রিয়াল এস্টেটে টাকা রাখা এখন ততটা নিরাপদ নয়। ফলে আইনি পথে অনিশ্চয়তায় ঠাসা শেয়ার বাজারে ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষও। শেয়ার বাজারের সূচক সেনসেক্স বা নিফটি ফিফটির রেকর্ড বৃদ্ধির নেপথ্যেও রয়েছে অদৃশ্য হাতছানি।
  • শেয়ার বাজারের সূচকগুলি যখন সর্বকালীন সেরা উচ্চতায় তখন বৃহত্‍ বিদেশি বিনিয়োগকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি বাজার থেকে তুলে নিয়েছে কয়েক হাজার কোটি ডলার, সেখানে এ দেশের বিনিয়োগকারীরা অবিশ্বাস্য ভাবে বাজারে ঢেলেছেন অন্য সময়ের থেকে তুলনামূলক ভাবে আরও বেশি পরিমাণ টাকা।
  • প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনায় যে জিরো ব্যালান্সের অ্যাকাউন্ট খোলানো হয়েছিল তার একটা বড়ো অংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষকে আরও বেশি করে ব্যাঙ্কমুখো করে তোলার জন্য মোদীর এই আহ্বানের নেপথ্যে ছিল ডিজিটাল লেনদেনকে বিকল্পহীন করে তোলার প্রয়াস।

পুনশ্চ: মোদী কিন্তু দেশবাসীকে ব্যাঙ্কে যেতে বলেছিলেন! মাত্র দু’বছরে ২৭ থেকে কমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ঠেকছে ১২-য়!

(নিবন্ধটি পুন‌ঃপ্রকাশিত‌)

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

প্রবন্ধ

ভরা ব্রিগেডের জনসভা কি প্রত্যাশা পূরণের কোনো ইঙ্গিত দিতে পারল?

ব্রিগেড ভরানো চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু দিশা মিলল কি?

Published

on

সভ্যতার সংকট, মেহনতি মানুষের বাঁচার লড়াই নিয়ে কথা হয়নি, কোনো দিশাও মেলেনি। শুধুই ‘শ্রমজীবী ক্যান্টিন’ নিয়ে নিজেদের পিঠ চাপড়ানো। এ সব কথা না বলে শুধু জোট করে ভোটে দাঁড়িয়েছেন বলেই ভোট চাইলে ভোটারদের সহজলভ্য বলে ধরে নেওয়া হয় না কি? লিখছেন নীলাঞ্জন দত্ত

ব্রিগেড ভরানো সোজা কথা নয়। তাও আবার বামফ্রন্টের সভায়, যারা নাকি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ইদানিং ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হয়ে পড়েছিল। তারাই ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ব্রিগেডে প্রথম সভা করল — আর মাঠ ভরিয়ে দিল!

Loading videos...

এই কৃতিত্ব অবশ্য তাদের একার নয়, কংগ্রেস আর নতুন পার্টি ‘ইন্ডিয়ান সেকিউলার ফ্রন্ট’ বা আইএসএফ ছিল সঙ্গে। তবুও, ফেব্রুয়ারির শেষ দুপুরে এই সভা হওয়ার আগের ক’দিন বিশেষ করে সিপিআই(এম) দলের যে প্রবল প্রচার পথেঘাটে দেখা গেছে, তাতে এই জমায়েতের পেছনে তাদেরই গরজ সবচেয়ে বেশি ছিল বলে মনে করাই স্বাভাবিক। এই প্রচারে বিশেষ করে চোথে পড়েছে একঝাঁক তরতাজা নতুন মুথ। এদের দেথে অনেকেই অবাক হয়েছেন, আবার অনেকের মনে একটু আশাও জেগেছিল, এ রাজ্যের মসনদে কোনো পরিবর্তন হবে কি না জানি না, কিন্তু বাংলার জং-ধরা বাম রাজনীতিতে হয়ত এ বার সত্যিই পরিবর্তন আসতে চলেছে। এ বিষয়ে আলোচনা ক্রমশ ফিসফিস থেকে গুনগুনে পরিণত হচ্ছিল, এবং তা কেবল বাম সমর্থকদের মধ্যে নয়। ভরা ব্রিগেডের জনসভা কি সেই প্রত্যাশা পূরণের কোনো ইঙ্গিত দিতে পেরেছে?

এ প্রশ্ন হয়ত এখন অনেকের কাছে অবান্তর ঠেকতে পারে। কারণ, বড়ো বড়ো রাজনীতিবিদ এবং কলমজীবীদের কমেন্টারি এবং বড়ো মিডিয়াগুলির সমস্বর প্রচার ইতিমধ্যেই ডিসকোর্স অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। তারা আমাদের বিশ্বাস করাতে শুরু করেছে, আসল ইসুটা হল ফুরফুরা শরিফের অন্যতম ‘পিরজাদা’ আব্বাস সিদ্দিকি পরিচালিত আইএসএফ-এর বাম-কংগ্রেস জোটের সঙ্গে যোগ দেওয়া এই নির্বাচনে ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠবে কি না, এবং তাদের দাবি মতো আসন ছাড়া নিয়ে কংগ্রেসের টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেবে।

মালদহ-মুর্শিদাবাদের যেসব অঞ্চলে কংগ্রেসের এখনও খানিকটা প্রভাব আছে, সেখানে আইএসএফ-এর দাবি মতো আসন ছাড়া নিয়ে তার রাজ্য নেতাদের অনীহার কারণ বোঝা যায়। কিন্তু দলের জাতীয় নেতাদের মধ্যে যারা আইএসএফ-এর সঙ্গে সমঝোতাকে তার ‘কোর আইডিয়লজি’ বা মূল মতাদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতাকে জলাঞ্জলি দেওয়া বলে মনে করেছেন, তাঁদের এই হঠাৎ মাথাব্যথা অবাক করে।

অসম নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গী অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট আইএসএফ-এর মতোই একটি মুসলমানপ্রধান দল। আর এই দু’টি দলের নামে অন্তত ধর্মীয় পরিচয় প্রকট না হলেও, কেরলে কংগ্রেস তো একেবারে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ান মুসলিম লিগ বা আইইউএমএল-এর সঙ্গেই গাঁটছড়া বেঁধে রয়েছে। আবার উল্টোদিকে, আইইউএমএল ভেঙে ১৯৮০-র দশকের গোড়ায় যখন অল ইন্ডিয়া মুসলিম লিগ তৈরি হয়েছিল, তখন সিপিএম-এরও তাদের সঙ্গে জোট সরকার গড়তে দ্বিধা হয়নি। এরা পরে আবার আইইউএমএল-এই মিশে যায় — সেটা অন্য কথা। সুতরাং, এই ধরনের নির্বাচনী সমঝোতা একেবারেই নতুন কিছু নয়, যা নিয়ে ‘শুদ্ধতাবাদীদের’ মর্মাহত হতে হবে, এবং মিডিয়াকে এত শোরগোল করতে হবে।

যে কথাটা বরং বলা যেত, তা হল, ফুরফুরা শরিফ কোনো খলিফার আসন বা নিদেন পক্ষে জামা মসজিদও নয় এবং আব্বাস সিদ্দিকিও সাবেক কালের শাহী ইমাম নন, যে এরা যে দিকে বলবেন রাজ্যের সব মুসলমান সেদিকেই ভোট দেবে। তাছাড়া, সব মুসলমান রকম রাজনৈতিক চিন্তা করে এবং ভোটের সময় একই আচরণ করে, এ কথা কবে সত্যি ছিল জানি না, তবে বর্তমানে যে সত্যি নয় এইটুকু জানি। যারা এ কথা মানতে চান না, তাঁরা হয় বাস্তবের থেকে চোখ ফিরিয়ে থাকেন অথবা কোনো অভিসন্ধি নিয়ে তর্ক করেন। পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের অধিকাংশ যদি এ বার সত্যিই ‘পরিবর্তন’ চান এবং বিদ্যমান শাসক দলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন — যেমন ২০১১ সালে বামফ্রন্টের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন — তবে তা হবে তাঁদের আশাভঙ্গের সম্মিলিত প্রকাশ, কোনো নতুন নেতা, দল বা জোটের প্রতি আস্থার সূচক ততটা নয়।

সেদিন ব্রিগেডে আব্বাস সিদ্দিকির কনফিডেন্স দেখে অবশ্য মনে হয়েছে যে তিনি এর উল্টোটাই বিশ্বাস করেন — রাজ্যের মুসলমানরা খুবই দুর্দশায় আছে, এই দুর্দশা থেকে উঠে আসার পথ দেখানোর জন্য তাঁর মতো এক পরিত্রাতার অপেক্ষাতেই তারা ছিল, এবং যখন তাঁকে পেয়েই গেছে, তখন ভোটের ময়দানে তাঁর পেছনে জড়ো হওয়া তাদের অবশ্যকর্তব্য। নাই বা থাকুক তাঁর বক্তৃতার মধ্যে সেই উত্থান কী ভাবে হতে পারে তার কোনো দিকনির্দেশ। আগে ভোট তো দিন, তার পর সব দেখা যাবে।

কিন্তু, এই তরুণ নেতার এমন সাবেকি মুরুব্বিদের মতো আচরণ নিয়ে রাজনৈতিক ভাষ্যকারেরা কিছু বলছেন বলে শুনিনি। তিনি অতীতে কবে কোথায় কতখানি ‘সাম্প্রদায়িক’ কথা বলেছেন আর তাঁর সঙ্গে হাত মিলিয়ে বামদের চরিত্র কতটা নষ্ট হয়েছে, এই চর্চা শুনতে শুনতে ক্লান্ত হচ্ছি কেবল। তেমনি এই প্রশ্নটাও উঠতে দেখলাম না, বাম নেতারা এর থেকে আলাদা কিছু বার্তা দিলেন কি?

এই যে একঝাঁক নতুন মুখ এবারের নির্বাচনকে উপলক্ষ করে অনেক দিন পরে বাম শিবিরে জড়ো হল, তাদের দু-এক জনকে কয়েক মুহূর্তের জন্য মঞ্চে তুলে উৎসাহ দেওয়ার একটা চেষ্টা দেখা গেল। এমন কিছু মুখ প্রার্থীদের মধ্যেও দেখা যাবে। পাওয়া গেল না তাদের জন্যে নতুন কোনও পথের সন্ধান। তাদের নিজস্ব একমাত্র যে বিষয়টা নিয়ে নেতাদের দুয়েকবার কথা বলতে শোনা গেল, তা হল বেকারত্ব। কাজ নেই, কাজ দাও। কেন কাজ নেই, পুঁজিবাদী অর্থনীতির পথে চলতে চলতে বিশ্বের বহু দেশের মতোই ভারতও কেমন গাড্ডায় পড়েছে, তা থেকে উঠে আসতে গেলে যে পুঁজিবাদকে উচ্ছেদ করা দরকার, এ সব কথা আজ পৃথিবী জুড়ে এমনকি অ-মাকর্সবাদীদের মুখেও শোনা যাচ্ছে যাক, এখানকার বামপন্থীদের তা বলর কোনো ইচ্ছে নেই। তোমরা আমাদের ভোট দাও, আমরা তোমাদের কাজ দেব।

বোধহয় এই প্রথম বার, ব্রিগেডের ময়দানে লাল ইত্যাদি পতাকার পাশাপাশি সমকামী আর রূপান্তরীদের রামধনুরঙা পতাকা সগর্বে উড়তে দেখা গেল। এক নেতা সোৎসাহে তাঁর বক্তৃতায় তা উল্লেখও করলেন। কিন্তু তাঁদের অধিকার নিয়ে একটি শব্দও শোনা গেল না। তাঁরা এসেছিলেন কি শুধু মাঠ ভরাতে? অবশ্য তাঁদের কাছে এর বেশি কিছু হয়ত আশাও করা যায় না, যারা এই বিশাল জনসভায় বয়স নির্বিশেষে নারীদের অগ্রগণ্য উপস্থিতি সত্ত্বেও কেবল “মা-বোনদের” সম্ভাষণ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন, তাঁদের অধিকার, তাদের সংগ্রাম নিয়ে কোনো কথাই বলেননি।

যেমন এই কঠিন করোনাকালে সভ্যতার সংকট, মেহনতি মানুষের বাঁচার লড়াই নিয়ে কথা হয়নি, কোনো দিশাও মেলেনি। ‘শ্রমজীবী ক্যান্টিন’ চালানোর জন্য নিজেদের পিঠ চাপড়ানো হয়েছে কেবল। এ সব কথা না বলে শুধু জোট করে ভোটে দাঁড়িয়েছেন বলেই ভোট চাইলে ভোটারদের সহজলভ্য বলে ধরে নেওয়া হয় না কি? ইংরেজিতে যাকে ‘টেকন ফর গ্রান্টেড’ বলে?

আরও পড়তে পারেন: বামফ্রন্ট-কংগ্রেস-আইএসএফ জোটের ব্রিগেড

Continue Reading

প্রবন্ধ

স্বামী নিত্যসত্যানন্দ মহারাজের সঙ্গে সেই কুড়িটা মিনিট কোনো দিনও ভুলব না

খুব বেশি হলে কুড়িটা মিনিট সময় কাটিয়েছিলাম স্বামীজির সঙ্গে। কিন্তু তাতেই কত আপন করে নিয়েছিলেন তিনি। মনে হচ্ছিল কত দিনের পরিচিত।

Published

on

রয় ভিলার সামনে স্বামী নিত্যসত্যানন্দজি মহারাজ।

শ্রয়ণ সেন

“এই ব্যাটা, অত প্রণামটনাম করতে হবে না! এমনিই আশীর্বাদ করলুম।”

Loading videos...

আজও খুব স্পষ্ট ভাবে মনে পড়ছে কী সুন্দর আর মজার ছলে কথাটা আমায় বলেছিলেন স্বামী নিত্যসত্যানন্দ মহারাজ। এখনও পরিষ্কার ভাবে মনে পড়ছে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার সেই দিনটা।

২০২০-এর জানুয়ারি। দার্জিলিংয়ের রায় ভিলায় বেড়াতে গিয়েছি। এই বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন সিস্টার নিবেদিতা। সেটি বর্তমানে রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা নিবেদিতা শিক্ষা-সংস্কৃতি কেন্দ্র। আর তারই দায়িত্বে ছিলেন স্বামী নিত্যসত্যানন্দ মহারাজ।

‘ছিলেন’ কেন বললাম? কারণ, রবিবার সন্ধ্যায় মন খারাপ করা খবরটি পেলাম।

রামকৃষ্ণলোকের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন স্বামী নিত্যসত্যানন্দ মহারাজ। অত্যন্ত আকস্মিক ভাবে সবাইকে কাঁদিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।

সংবাদটা বিশ্বাস করতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। মাত্র এক বছর আগেই যে মানুষটা আমাদের সঙ্গে মজার ছলে কিছুটা সময় কাটালেন, ‘ভূতকোঠি’ থেকে নিবেদিতা-সাধনার কেন্দ্র গড়ে ওঠার গল্প শোনালেন, যে মানুষটার সঙ্গে গত জানুয়ারিতেও প্রায় সাক্ষাৎ হয়েই যাচ্ছিল, তিনি আকস্মিক ভাবে চলে গেলেন কেন? কী-ই বা তাড়া পড়েছিল তাঁর।

২০১৩ সালে যে বাড়িটায় ‘রামকৃষ্ণ মিশন নিবেদিতা এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার’ (Ramakrishna Mission Nibedita Educational and Cultural Centre) গড়ে ওঠে, সেই রায়ভিলা তার আগে পর্যন্ত স্থানীয়দের কাছে ভূতকোঠি নামে পরিচিত ছিল।

–“প্রথম যখন এসেছিলেন, আপনাদের ভয় করেনি?”

–“না। আসলে জানেন তো, যারা দুষ্টুমি করে, আমার মতে তারা ভীতু হয় বেশি। তাই এরা আমাদের কোনো বাধা দেয়নি।”

— “সাত বছর হল আপনারা এসেছেন, স্থানীয়দের মনোভাব কেমন বুঝছেন?”

স্বামীজি তখন বলেছিলেন, প্রথমে স্থানীয়দের সন্দেহ ছিল। ‘ভূতকোঠি’তে আবার কী শুরু হচ্ছে, এই নিয়ে ভয়ডরও ছিল। কিন্তু মিশনের কাজ শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সেই ভয় কেটে যায়।

ওই আড্ডার মধ্যেই পেছন থেকে এসে স্বামীজির গাল টিপে জড়িয়ে ধরল এক কিশোরী।

— “এঁরা বোধহয় নিজেদের বাড়িতে ভালোবাসা খুব একটা পায় না, না?”

— “ভালোবাসার অভাব তো ছিলই। সেটা আমরা পূরণ করার চেষ্টা করছি। মনে হচ্ছে সফলও হচ্ছি।”

এই কেন্দ্রের জন্যই এই আশেপাশের খুদেদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হয়ে গিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রায় ৭০ জনের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন এখানকার মহারাজরা। স্কুল থেকে সোজা এখানে চলে আসে খুদেগুলো। বিভিন্ন বিষয়ে পড়ানোর পাশাপাশি আদর্শ মানুষ কী ভাবে হবে, সেই পাঠও দেওয়া হয়। আর এই সবই হচ্ছিল স্বামী নিত্যসত্যানন্দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।

বাঙালি সমতল আর নেপালি দার্জিলিংয়ের মধ্যে তাঁরা একটা সেতুবন্ধনের কাজ করছে বলেও জানিয়েছিলেন স্বামী নিত্যসত্যানন্দ, আর সেই ব্যাপারে তাঁরা অনেকটাই সফল হয়েছেন।

এ ছাড়া নানা রকম ত্রাণকাজ তো রয়েছেই। দার্জিলিংয়ের সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে। বৃষ্টি-ধস-ভূমিকম্প কত কী লেগে থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে প্রথমেই ত্রাণের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে মিশন। এ ছাড়া চা-বাগানগুলিতে রোজই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।

খুব বেশি হলে কুড়িটা মিনিট সময় কাটিয়েছিলাম স্বামীজির সঙ্গে। কিন্তু তাতেই কত আপন করে নিয়েছিলেন তিনি। মনে হচ্ছিল কত দিনের পরিচিত।

গত মাসে যখন দার্জিলিং গিয়েছিলাম, ইচ্ছে ছিল একবার স্বামীজির সঙ্গে দেখা করে আসি। কিন্তু সেটা হয়নি। কিন্তু তখন একবারও মনে হয়নি যে তাঁর সঙ্গে আর কোনো দিনও দেখা হবে না।

শুনলাম স্বামীজি নাকি ধ্যান করতে করতে দেহত্যাগ করেছেন। তাঁকে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। কে বলতে পারে, হয়তো আগে থেকেই বুঝে গিয়েছিলেন এমন সময় আসতে চলেছে তাঁর। এই কারণেই বোধহয় এঁরা মহাপুরুষ!

স্বামী নিত্যসত্যানন্দ মহারাজ হয়তো শরীরে থাকলেন না। কিন্তু দার্জিলিংয়ের রায় ভিলা জুড়ে তিনিই থাকবেন। তাঁর দেখানো পথেই যে নিবেদিতা-সাধনার কেন্দ্রটি চলবে, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।

Continue Reading

প্রবন্ধ

‘কয়েকটা টাকার বিনিময়ে নেতাজির স্মৃতি ধুলোয় মিশিয়ে দেব?’, বলেছিলেন পদমবাহাদুর

মুখে বড়ো বড়ো কথা বললেও, নেতাজির আদর্শে চলার ব্যাপারে আমরা লবডঙ্কা। কবে আমরা ওঁর আদর্শে চলব, ঠিক পদমবাহাদুরের মতো?

Published

on

কার্শিয়াঙের নেতাজি মিউজিয়ামে নেতাজির আবক্ষ মূর্তি।

শ্রয়ণ সেন

আবার সেই পথে। এই তো ঠিক এক বছর আগে ২০২০-এর জানুয়ারিতে ঘুরে গিয়েছিলাম এখান থেকে। এই জানুয়ারিতে দার্জিলিঙের পথে গিদ্দা পাহাড়ের পাশ দিয়ে যেতে যেতে স্মৃতিতে ডুব দিলাম। মনের মধ্যে ভেসে উঠল পদমবাহাদুর ছেত্রীর মুখটা আর ওঁর কথাগুলো।

Loading videos...

“তখন ওরা কত করে আমায় বলল বাড়ির ইটগুলো বিক্রি করে দিতে, এতে আমার টাকা হবে। কিন্তু আমি ওদের কথা শুনিনি। আমার তখন একটাই লক্ষ্য, যে করেই হোক, ওদের হাত থেকে বাড়িটা বাঁচাতেই হবে।”

বেশ গর্ব করেই কথাগুলো বলেছিলেন পদমবাহাদুর। নেতাজি ইনস্টিটিউট ফর এশিয়ান স্টাডিজ তথা নেতাজি মিউজিয়ামের দেখভালের পুরো দায়িত্ব তাঁর ওপরে। তিন বছরের দুরন্ত নাতিকে সঙ্গে নিয়ে পুরো বাড়িটা আমাদের ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই বাড়িটার অবদান হয়তো আমরা অনেকেই জানি না। কারণ এই বাড়িতে খুব বেশি কারও পা-ও পড়ে না।

নেতাজি ইনস্টিটিউট ফর এশিয়ান স্টাডিজ

“খুলা হ্যায়, খুলা হ্যায়।”

মূল ফটক দিয়ে বাড়ির দিকে এগোতেই আমাদের উদ্দেশ করে বলেছিল মিষ্টি অথচ দুরন্ত সেই শিশুটি। শীতের দিনের মিঠে রোদে পিঠ দিয়ে দাদুর কোলে বসেছিল নাতি। আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছিল, মিউজিয়াম খোলা আছে, ভেতরে যেতে পারি।

বাইরে জুতো খুলে প্রবেশ করলাম। এটা তো ঠিকই, যে কোনো পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে গেলে জুতো খুলতেই হবে। নেতাজিকে ভালবাসেন, এমন যে কোনো মানুষের কাছে এই বাড়ি একটা সাধনাস্থল।

নেতাজির বহু বিরল ছবি, তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাবপত্র আর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে লেখা চিঠি এখানে সযত্নে রাখা আছে।

১৯২২ সালে রলি ওয়ার্ড নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে কার্শিয়াংয়ের গিদ্দাপাহাড়ে অবস্থিত এই বাড়িটি কিনে নেন নেতাজির দাদা, তথা স্বাধীনতাসংগ্রামী শরৎচন্দ্র বসু।

১৯৩৩ থেকে ১৯৩৫, এই বাড়িতেই ব্রিটিশ সরকারের হাতে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল শরৎ বসুকে। এর পরের বছরেই নেতাজির পালা। এই বাড়িতে তাঁকে সাত মাসের জন্য বন্দি করে রাখা হয়।

দ্বিতীয় বার যখন এই বাড়িতে নেতাজি আসেন, তখন তিনি বন্দি নন। সেটা ১৯৩৭ সালের অক্টোবর। হরিপুরা কংগ্রেসের ভাষণ এই বাড়িতে বসেই লিখেছিলেন নেতাজি। এখান থেকে গান্ধীজি ও জওহরলাল নেহরুকে চিঠিও লিখেছিলেন।

নেতাজি মিউজিয়ামে প্রবেশদ্বার।

এই বাড়িতে থাকাকালীনই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি চিঠি পেয়েছিলেন নেতাজি। তাতে ‘বন্দেমাতরম’ গানের প্রসঙ্গও ছিল।

চিঠির একটি অংশে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, “…যে রাষ্ট্রসভা ভারতবর্ষের সকল ধর্ম-সম্প্রদায়ের মিলনক্ষেত্র, সেখানে এই গান সর্বজনীন ভাবে সঙ্গত হতেই পারে না।”

এই বাড়িতে বহু দুর্লভ ছবির পাশাপাশি নেতাজি-কেন্দ্রিক প্রচুর চিঠিরও সংগ্রহ রয়েছে। সব চিঠি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ার মতো সময় ছিল না। ‘বন্দেমাতরম’ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের চিঠির ব্যাপারটি একটি সংবাদমাধ্যম থেকে জেনেছিলাম। ওই চিঠির উত্তরও রবীন্দ্রনাথকে দিয়েছিলেন নেতাজি। কিন্তু তাঁর সেই জবাবের হাতের লেখা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

কার্শিয়াংয়ের বাসিন্দাদের সঙ্গে নেতাজি কত যে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন, তার প্রমাণও রয়েছে এখানে রক্ষিত বহু চিঠিতে।

নেতাজিকে নিয়ে এমন দুর্লভ ছবির সম্ভার ভারতে আর কোথাও আছে বলে মনে করতে পারি না।

নেতাজি এখানে থাকাকালীন প্রাতর্ভ্রমণে বেরোতেন। পাগলাঝোরায় প্রাতর্ভ্রমণরত নেতাজি, এমনই একটি ছবি রয়েছে। বসু পরিবারের সঙ্গে নেতাজির ছবি যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে জওহরলাল নেহরু, সর্দার বল্লভভাই পটেলের সঙ্গে তোলা ছবিও।

এ ছাড়া নেতাজির ব্যবহার করা খাট, চেয়ার-টেবিল সবই সযত্নে রাখা হয়েছে। কার্শিয়াংয়ের ‘পয়েন্টস’ ভ্রমণের মধ্যেই নেতাজির এই বাড়ি পড়ে। কিন্তু এখানে আসতে হবে আলাদা ভাবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময়ে দিয়ে ভালো করে দেখতে হবে। তবেই মনের শান্তি পাওয়া যাবে।

১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাড়িটি বসু পরিবারের অধীনে ছিল। এর পর বাড়িটি পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার অধিগ্রহণ করে। সংস্কার করে তা কলকাতার ‘নেতাজি ইনস্টিটিউট ফর এশিয়ান স্টাডিজ’-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

নেতাজির দুর্লভ ছবি, চিঠিপত্র আর ব্যবহৃত আসবাবপত্র নিয়ে এই সংগ্রহশালাটি উদ্বোধন হয় ২০০৫ সালে। ২০১৮ সালে সেই সংগ্রহশালার সংস্কারের কাজও হয়েছে।

নেতাজির এই বাড়িটার সঙ্গেই নিজেকে একাত্ম করে দিয়েছেন পদমবাহাদুর। তাঁর কথাবার্তা, আচার আচরণে বোঝা যায়, আশির কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া এই বৃদ্ধ নেতাজিকে কখনও না দেখলেও তাঁকে রোজ অনুভব করেন।

শত চেষ্টা করেও পদমবাহাদুরকে ক্যামেরার সামনে আনা গেল না।

শরৎ বসুর রোপণ করা ক্যামেলিয়া গাছ।

১৯৭৩ থেকে এই বাড়িটার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন পদমবাহাদুর। তখন দিনপ্রতি দু’ টাকা হাজিরায় বসুদের কাছ থেকে এই বাড়িটির দেখভালের দায়িত্ব পান।

-“তব মহিনে মে ষাট (৬০) রুপ্যায় মিলতা থা।” গলায় গর্ব ঝরে পড়েছিল। 

এর পর বাড়িটা কত ঝড়ঝাপটার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তবুও তিনি ছিলেন তাঁর লক্ষ্যে অবিচল।

কথা প্রসঙ্গেই উঠে এসেছিল ১৯৮৬ সালের গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের কথা। সুবাস ঘিসিংয়ের নেতৃত্বে সেই আন্দোলন মারাত্মক ধ্বংসাত্মক চেহারা নেয়। গত ১৫ বছরে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে যে আন্দোলন হয়েছে, সুবাস ঘিসিংয়ের জঙ্গি আন্দোলনের কাছে সে সব নেহাতই শিশু।

তখনই পদমবাহাদুরের কাছে আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব আসে এই বাড়ির এক একটা ইট বিক্রি করে দিয়ে বিনিময় টাকা নেওয়ার। আর প্রকারান্তরে সে টাকার কিছুটা অংশ আন্দোলনকারীদের দিয়ে দেওয়া।

পদম কিন্তু ছিলেন তাঁর লক্ষ্যে অবিচল। আন্দোলনকারীদের কথা কানেই তোলেননি তিনি। সোজা জানিয়ে দেন, নেতাজির স্মৃতিকে এ ভাবে ধুলোয় মিশে যেতে তিনি দেবেন না।

তাঁর কথায়, “মাত্র কয়েকটা টাকার জন্য নেতাজিতে বিকিয়ে দেব! আমি গরিব হতে পারি, লোভী নই।”

আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আপশোশ, কার্শিয়াংয়ের এক নেপালি বৃদ্ধ নেতাজির আদর্শে চলতে পারেন, কিন্তু আমরা পারি না। আজ ১২৫ বছরে পড়লেন নেতাজি। মুখে বড়ো বড়ো কথা বললেও, নেতাজির আদর্শে চলার ব্যাপারে আমরা লবডঙ্কা। কবে আমরা ওঁর আদর্শে চলব, ঠিক পদমবাহাদুরের মতো?

ছবি: লেখক

আরও পড়ুন: সুভাষের খোঁজে সুভাষগ্রাম ও অন্যত্র

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
ফুটবল43 mins ago

শেষ মুহূর্তের গোল নর্থইস্টের, এগিয়ে থেকেও প্রথম সেমিফাইনাল ড্র এটিকে মোহনবাগানের

দেশ2 hours ago

স্বামী থাকতেও প্রেমিক খুঁজছেন ভারতের বিবাহিত মহিলারা! এটা কি খারাপ খবর?

রাজ্য2 hours ago

অস্বস্তি বাড়াচ্ছে রাজ্যের করোনা সংক্রমণ, কলকাতাতেও বাড়ল আক্রান্তের সংখ্যা

রাজ্য4 hours ago

লড়াই মুখোমুখি! নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী

দেশ5 hours ago

ফের বাড়ছে উদ্বেগ! ৮টি রাজ্যেকে বিশেষ করোনা-পরামর্শ কেন্দ্রের

রাজ্য5 hours ago

আজই প্রার্থী তালিকা বিজেপির! নন্দীগ্রামে শুভেন্দু, খড়গপুরে দিলীপ, জোর জল্পনা

ক্রিকেট6 hours ago

ইংল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতল ভারত

দেশ7 hours ago

নিজস্ব শিক্ষা পর্ষদ গঠন করছে দিল্লি, বড়ো ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের

রাজ্য1 day ago

পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল তৃণমূল

গাড়ি ও বাইক2 days ago

আরটিও অফিসে আর যেতে হবে না! চালু হল আধার ভিত্তিক যোগাযোগহীন পরিষেবা

ভ্রমণের খবর3 days ago

ব্যাপক ক্ষতির মুখে পর্যটন, রাঢ়বঙ্গে ভোট পেছোনোর আর্জি নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন

রাজ্য1 day ago

বিধান পরিষদ গঠন করে প্রবীণদের স্থান দেওয়া হবে, প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বললেন মমতা

কলকাতা2 days ago

মোদীর ব্রিগেডের দিন কলকাতাকে ‘মমতাময়’ করতে ওয়ার্ড-প্রশাসকদের বিশেষ নির্দেশ তৃণমূলের

দেশ2 days ago

দেশের পরিস্থিতি একটু ভালো হলেও পঞ্জাবে মারাত্মক ভাবে বাড়ল দৈনিক সংক্রমণ

ক্রিকেট3 days ago

টসে জিতে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং, সিরাজকে ফেরাল ভারত

বেশন কার্ড
দেশ3 days ago

রেশন কার্ড সম্পর্কিত সমস্যায় অভিযোগ জানান এই নম্বরগুলিতে, দেখে নিন সম্পূর্ণ তালিকা

কেনাকাটা

কেনাকাটা4 weeks ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা4 weeks ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা1 month ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা1 month ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা1 month ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা1 month ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা1 month ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা2 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা2 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

কেনাকাটা2 months ago

৯৯ টাকার মধ্যে ব্র্যান্ডেড মেকআপের সামগ্রী

খবর অনলাইন ডেস্ক : ব্র্যান্ডেড সামগ্রী যদি নাগালের মধ্যে এসে যায় তা হলে তো কোনো কথাই নেই। তেমনই বেশ কিছু...

নজরে