Connect with us

প্রবন্ধ

পয়লা বৈশাখ এমন এক আনন্দ-উৎসব যার কোনো সংজ্ঞা নেই

এক প্রাণের উৎসব এই পয়লা বৈশাখ যেখানে চৈত্র সেল আছে, মায়ের ঘর ঝাড়ার স্মৃতি আছে, সোনার দোকানের সামনে হালখাতার লম্বা লাইন আছে, নন্দনে রবীন্দ্রসংগীত আছে আবার সেই দূর আদিবাসী গ্রামে কিছু মানুষের উৎসব আছে।

Published

on

বৃহস্পতিবার নববর্ষের সকালে কলকাতার রাজপথে মঙ্গল শোভাযাত্রা। নিজস্ব চিত্র।

শক্তি চৌধুরী

এক জন লেখক যখন কোনো একটি বিশেষ দিন বা উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু লিখবে স্থির করে তখন তার প্রথম লক্ষ্য থাকে ওই বিশেষ দিন বা উৎসবের আঙ্গিকটা আগে বর্ণনা করা। আর ঠিক এই জায়গায় আমি মহা ফ্যাসাদে পড়েছি। ইন্টারনেট ও বেশ কিছু বই নিয়ে ইতিহাস খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়ে দেখি, কী সর্বনাশ! ওই পৈতেধারী হিন্দু ব্রাহ্মণদের দোকানে দোকানে দাপাদাপির মূলে তো এক মুসলিম সম্রাট।

Loading videos...

আমি জানি আপনি মনে মনে কী বলছেন — “আঃ, এর মধ্যে আবার ধর্ম নিয়ে টানাটানি কেন, মশাই?” ঠিক তা-ই, আমিও এটাই বলতে চাইছি। ইতিহাস বলছে, এই দিনটির সঙ্গে ধর্মের কোনো রকম যোগাযোগ নেই। ধর্ম নাক গলিয়েছে তার নিজের স্বার্থে। যাক হেঁয়ালি রেখে বরং ইতিহাসটাই একটু ছোটো করে বলে নিই। ব্যাপারটা একটু পরিষ্কার হোক আগে।

মূল হিন্দু সংস্কৃতির যে দিনপঞ্জি নির্ধারিত হত সূর্যের অবস্থানের উপর নির্ভর করে, সে হিসাবে বহু শতক আগেই ১২ মাস আলাদা আলাদা করে নিয়ে বছর ভাগ করা হত। হিন্দু সৌরবছরের প্রথম দিন অসম, বঙ্গ, কেরল, মণিপুর, নেপাল, ওড়িশা, পঞ্জাব, তামিলনাডু এবং ত্রিপুরার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অনেক আগে থেকেই পালিত হত। পহেলা বৈশাখ আর্তব উৎসব তথা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে পালিত হত। তখন এর মূল তাৎপর্য ছিল কৃষিকাজ। আর ঠিক এইখানেই তৈরি হল সমস্যা। সমস্যা অর্থাৎ প্রশাসনিক সমস্যা।

ভারতে তখন মোগল শাসনব্যবস্থা চালু। আর মুসলিম দিনপঞ্জি ঠিক হত হিজরি পদ্ধতি মেনে। এই পদ্ধতি মূলত চাঁদের অবস্থানভিত্তিক, যার সঙ্গে আমাদের গ্রেগরি বা হিন্দু পদ্ধতির অনেকটাই ফারাক। দেখা গেল কৃষকদের খাজনা দেওয়ার সময় তাদের ঘরে ফসল নেই। তখন প্রত্যেককে চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সব খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে হত। তাই সম্রাট আকবর সিদ্ধান্ত নেন, একটা সম্পূর্ণ নতুন দিনপঞ্জি তৈরি করার যা প্রজাদের এই নিত্য সমস্যা থেকে কিছুটা রেহাই দেবে। সম্রাটের আদেশমতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতুল্লাহ শিরাজি সৌর-সন এবং আরবি-হিজরি সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করেন। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ মার্চ বা ১১ মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়।

অতএব আধুনিক ১ বৈশাখ পুরোপুরি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যা সত্যি সত্যি জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যেই গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু এই দিনটি পালনের ইতিহাসের দিকে নজর দিলে দেখা যায় খাজনা জমা করার পরের দিন ভূস্বামীরা স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করতেন। ক্রমে ক্রমে এটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। পরে ব্যবসায়ীরাও এই বিশেষ দিনটিতে তাদের ধারের খাতা বন্ধ করে নতুন করে খাতা শুরু করেন এবং সব পুরোনো দেনা-পাওনা মিটিয়ে নেন। তাই এটি প্রায় বাংলা আর্থিক বছরের সমাপ্তি সূচিত করে। তবে এখন অবধি যা যা নিয়ে আলোচনা করলাম সবই মূলত সমাজে আর্থিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত মানুষদের কথা।

১ বৈশাখ উদযাপনের ইতিহাস কিন্তু শুধুই শহুরে শিক্ষিত বা আর্থিক ভাবে শক্তিশালী মানুষের মধ্যেই সীমিত নয়। ঐতিহাসিক ভাবে এটি সর্বজনীন। বাংলা নববর্ষ ও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে পুব বাংলার (অধুনা বাংলাদেশ) তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙামাটি, বান্দরবন ও খাগড়াছড়ি) উপজাতীয়দের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয়-সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’ আনন্দমুখর পরিবেশে পালিত হয়। বৈসাবি হল পাহাড়িদের সব চেয়ে বড়ো উৎসব। এ উৎসবকে চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই এবং ত্রিপুরারা বৈসুক বলে আখ্যা দিলেও গোটা পার্বত্য এলাকায় তা ‘বৈসাবি’ নামেই পরিচিত। বৈসুক, সাংগ্রাই ও বিজু এই নামগুলির আদ্যক্ষর নিয়ে বৈসাবি শব্দের উৎপত্তি। বছরের শেষ দু’ দিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন, এই তিন দিন মিলেই মূলত বর্ষবরণ উৎসব ‘বিজু’ পালিত হয়। পুরোনো বছরের বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ করা উপলক্ষ্যে পাহাড়িরা তিন দিনব্যাপী এই বর্ষবরণ উৎসব সেই আদিকাল থেকে পালন করে আসছেন। এ উৎসব উপলক্ষ্যে পাহাড়িদের বিভিন্ন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আদিবাসী মেলার আয়োজন করা হয়।

পাঠক এ বার বুঝুন কেন আমি এই লেখার একেবারে প্রথমেই বলেছিলাম এই উৎসবকে কোনো একটা নির্দিষ্ট প্রেক্ষিতে বিবেচনা করতে যাওয়া খুব বিভ্রান্তিকর। বাংলার এক প্রাণের উৎসব এই পয়লা বৈশাখ যেখানে চৈত্র সেল আছে, মায়ের ঘর ঝাড়ার স্মৃতি আছে, সোনার দোকানের সামনে হালখাতার লম্বা লাইন আছে, নন্দনে রবীন্দ্রসংগীত আছে আবার সেই দূর আদিবাসী গ্রামে কিছু মানুষের উৎসব আছে। তাই এ আমাদের এক আনন্দ উৎসব। যার কোনো নির্দিষ্ট বিভাগ নেই, সংজ্ঞাও নেই।

আরও পড়ুন: স্বাগত ১৪২৮, জীর্ণ, পুরাতন সব ভেসে যাক, শুভ হোক নববর্ষ

প্রবন্ধ

নরেন্দ্র মোদী আবার কবে বাংলায় আসবেন?

বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও ‘হিংসা’ থামাতে রাজ্যে আসছেন। মোদী কবে আসবেন?

Published

on

আরাত্রিকা রায়: শেষ এসেছিলেন এপ্রিল মাসের ১৭ তারিখে। তার পর প্রায় তিন সপ্তাহ হতে চললেও তাঁর দেখা নেই। মাঝেমধ্যে টিভির পরদায় রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু বাংলার বুকে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই ‘অস্বস্তিকর’ ডাক, “দিদি, অ দিদিইইইইই” আর শোনা যাচ্ছে না। ফের কবে আসবেন তিনি?

ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই মোদীর ধারাবাহিক বাংলা সফরের সূচনা। লক্ষ্য বাংলা দখল করে নবান্নের চাবি বিজেপির হাতে তুলে দেওয়া। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ১২টি সফরে নির্বাচনী সভা করেছিলেন ১৮টি। এক নজরে দেখে নেওয়া যেতে পারে সেগুলির দিন এবং স্থান।

Loading videos...

৭ ফেব্রুয়ারি: হলদিয়া/২২ ফেব্রুয়ারি: সাহাগঞ্জ/৭ মার্চ: ব্রিগেড/১৮ মার্চ: পুরুলিয়া/২০ মার্চ: খড়্গপুর/২১ মার্চ: বাঁকুড়া/২৪ মার্চ: কাঁথি/১ এপ্রিল: মথুরাপুর এবং উলুবেড়িয়া/৬ এপ্রিল: কোচবিহার এবং ডুমুরজোলা/১০ এপ্রিল: শিলিগুড়ি এবং কৃষ্ণনগর/১২ এপ্রিল: বর্ধমান, কল্যাণী এবং বারাসত/১৭ এপ্রিল: আসানসোল এবং গঙ্গারামপুর।

তবে এর পরেও মোদীর পুরোনো সূচি অনুযায়ী মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও কলকাতায় সফর ছিল। কিন্তু শেষমেশ ভার্চুয়াল মাধ্যমে দিল্লি থেকে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, ২৩ এপ্রিল দেশের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থাকায় বাংলা সফর বাতিল করতে বাধ্য হন তিনি।

প্রায় সব সভাতেই তিনি হরেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন, “বাংলার বিজেপি সরকার ‘আসওল পরিবর্তন’ নিয়ে আসবে”। যে জন্য তিনি নির্দিষ্ট জায়গায় (ঠিক কোথায়, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে) ছাপ মেরে তৃণমূলকে সাফ করার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

সমালোচকরা বলছেন, বাংলা দখলে তিনি যেমন ব্যর্থ, তেমনই করোনা মহামারি মোকাবিলাতেও তাঁর ব্যর্থতার ছবি স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ছে নিত্যদিন আক্রান্তের সংখ্যা অথবা স্বাস্থ্য পরিষেবার বিপর্যয় দেখে। করোনার প্রথম ঢেউয়ে ঘনঘন জাতির উদ্দেশে ভাষণ, প্রদীপ জ্বালানো, থালাবাসন বাজানোর মতো নিত্যনতুন টোটকায় মাতিয়েও রেখেছিলেন। ধীরে ধীরে নীচের দিকে নেমে আসা করোনা-গ্রাফ ফের সমস্ত শিখর ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর তিনি বাংলা জয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে শুধুই উড়ে বেড়িয়েছেন। বিহারের ভোটেও দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন, কোনো রকমে গড় রক্ষা হতেই ফলাফল ঘোষণার পরই বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে ভার্চুয়াল ভাষণও দিয়েছিলেন। তবে বাংলায় সে সবের সুযোগ মিলল না। অন্য দিকে হাতের বাইরে চলে গেল করোনা।

থাকার মধ্যে রয়েছে বাংলায় ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা আসছেন, বিশেষ প্রতিনিধি দলও আসছে। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় উড়ে আসছে কঠিন কিছু প্রশ্ন। “২ তারিখের পর মেরে ঠান্ডা করে দেব”,
“পুলিশকে দিয়ে জুতো চাটাবো”, “২রা মে ঘর থেকে টেনে টেনে বের করে মারব”, “বেগম হারবে, ফুফা হারবে, পাকিস্তান পাঠিয়ে দেব”, “বদল হবে, বদলাও হবে”, “২ মে থেকে যোগী আদিত্যনাথের মতো সোজা করব”, “আরও অনেক শীতলকুচি হবে”, “আমরা মারব, তোরা লাশ গুনবি” এমন সব হুঙ্কার কারা ছেড়েছিল? তবে বাংলার পরিস্থিতি তেমনটা হতে দেননি বাংলার মানুষ। সোনার বাংলা যদি ‘সুনার বঙ্গাল’ হত তা হলে কী হত, তা অবশ্য জানা নেই।

তবে এখন জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রের বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও ‘হিংসা’ থামাতে রাজ্যে আসছেন। করোনার জন্যে ভারত থেকে বিমান চলাচলে স্থগিতাদেশ জারি করেছে বিশ্বের অনেক দেশ। বিদেশ প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে বাংলায়। ওই মন্ত্রীর নাম বাংলার কত জন শুনেছেন, অথবা তিনি নিজে বাংলার মানুষ তো দূরের কথা ক’টা অলিগলি চেনেন, সেটাও একটা বড়োসড়ো প্রশ্ন।

একই প্রশ্ন মোদীর ১২ সফরে ১৮ সভা নিয়েও। বাংলার মানুষ, বাংলার সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে উপর উপর জেনেই তিনিও বাংলা জয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। হলদিয়ার প্রথম সভাতেই (৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেছিলেন, “মমতার আমলে ১০ বছর ধরে নির্মমতা পেয়েছেন বাংলার মানুষ”।

কঠিন হলেও সত্যি, বাংলার মানুষ ফের সেই মমতাকেই চেয়েছেন। নিজে না বুঝে অন্যকে বোঝাতে গেলে হয়তো এমনই হয়। তবে ইস্যুর কিন্তু শেষ নেই। রাজ্য বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের জারির দাবিতে সরব। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই দাবিতে গলা মেলালে মন্দ হবে না। খুব তাড়াতাড়ি রাষ্ট্রপতির কানে পৌঁছে যেতে পারে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফোনে কথা বলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে। মানে বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসুক না আসুক, তিনি পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় এটাই কাম্য। তা হলে ফের কবে আসবেন প্রধানমন্ত্রী? অনুব্রত মণ্ডল কিন্তু আগেই ডাক দিয়ে রেখেছেন, “নরেন ও…ওউ নরেন”।

Continue Reading

প্রবন্ধ

‘নো ভোট টু বিজেপি’ স্লোগানই কার্যকর করেছেন বামপন্থী ভোটার

গোটা দেশ জুড়েই বিজেপির রাজনীতির বিরুদ্ধে জনমত তুঙ্গে উঠেছে। এই অবস্থানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থীরা মনে করেছেন তাঁরা ‘ফ্যাসিস্ত’ শক্তিকে প্রতিহত করার লড়াইয়ে নেমেছেন।

Published

on

শৈবাল বিশ্বাস

বামপন্থীরা এ বারের নির্বাচনে প্রায় ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে, কিন্তু কেন? এই নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে, আগামী দিনেও চলবে। সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য‌ তন্ময় ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই টিভি চ্যানেলে বলে দিয়েছেন গোটাটাই নেতৃত্বর দোষ। কেউ কেউ সংগঠনের দুর্বলতার প্রশ্নও তুলছেন। আংশিক ভাবে হয়তো সবটাই সত্য‌, কিন্তু সেটাই সব নয়।

Loading videos...

এ বারে বামপন্থীদের পরাজয়ের সঠিক পরিপ্রেক্ষিত বোঝার জন্য‌ সর্বভারতীয় রাজনীতির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। সেই প্রেক্ষিতে বিচার না করলে পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থীদের এই ‘ভয়াবহ’ ফলাফলের কারণ বের করা সম্ভব হবে না।

অনেকেই যুক্তি দিচ্ছেন, কেরলে বামপন্থীরা যে রেকর্ড করে দ্বিতীয় বারের জন্য‌ ক্ষমতায় ফিরেছে সেটা তো কংগ্রেসকে পরাজিত করে। সত্যিকারের লড়াইটা যদি বিজেপির সঙ্গে হত, তা হলে হিম্মত বোঝা যেত। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, কংগ্রেস সে রাজ্যে শক্তিশালী বলে, বিজেপি একেবারে চেপে বসে গিয়েছিল তা মোটেই নয়। মেট্রোম্যান শ্রীধরনকে সামনে রেখে তারা কেরলে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে ঝাঁপানোর চেষ্টা করেছিল। সে রাজ্যে আরএসএসের সংগঠন যথেষ্ট মজবুত। সেই সূত্রে বিজেপি সাম্প্রদায়িক লাইনে ভোট করে ফায়দা লোটার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। শবরীমালার মতো কয়েকটি স্থানীয় বিষয়কে সামনে এনে সিপিএমকে ‘নাস্তিক’ প্রমাণ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছি্ল। কিন্তু তারা জনগণের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। হ্যাঁ, প্রত্যাখ্যাত যে হবে সেটা আগাম অনুমান করে প্রচারের রাশ খানিকটা আলগা করেছিল, এই সত্য‌ও অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু বামেদের ফাঁকা মাঠ ছেড়ে দিয়ে তারা চলে এসেছিল, এটাও ভাবার কোনো কারণ ঘটেনি। বরং বিষয়টা এ ভাবে দেখা ভালো, চেষ্টা করেও দক্ষিণের এই রাজ্যে বিজেপি তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে সম্পূর্ণ ব্য‌র্থ হয়েছে।

তামিলনাড়ুতে তারা চেষ্টা করেছিল ক্ষমতাসীন এআইডিএমকের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে দক্ষিণের রাজনীতিতে পা ফেলতে। হয়তো বিজেপির সঙ্গে হাতে হাত মেলানোটাই পালানিস্বামীদের পক্ষে কাল হল। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ব্রাহ্মণ্য‌ সংস্কৃতি বিরোধী যে ধারা রয়েছে, তার সম্পূর্ণ ফায়দা তুলতে সক্ষম হল স্টালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে জোট। ইচ্ছা করেই অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদীরা সে রাজ্যে ঘনঘন গিয়ে ব্রাহ্মণ্য‌বাদে সুড়সুড়ি দেওয়া থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দ্রাবিড় জনতা মোদী-শাহকে বাদ দিয়েও সমগ্র বিজেপি দলটাকেই মনুবাদী সংস্কৃতির সঙ্গে এক করে ধরেছে। তারা মনে করেছে, তামিলনাড়ুতে এই দল আগ্রাসী রাজনীতির প্রকাশ ঘটিয়ে স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে গুলিয়ে দেবে। প্রশ্ন তুলে দেবে দ্রাবিড় সংস্কৃতি নিয়ে।

এই সত্য‌টা বাংলার ক্ষেত্রেও খানিকটা কাজ করেছে। রবীন্দ্রনাথের মতো দাড়ি রাখলেই যে রবীন্দ্রপ্রেমী হওয়া যায় না, বরং ভুল উচ্চারণে রবীন্দ্রনাথের কবিতা বললে বাঙালির রাগ হয়, এটা নরেন্দ্র মোদীর বোঝা উচিত ছিল। সে যা-ই হোক, তামিলনাড়ুতে বিজেপির সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশলী প্রতিপক্ষ হিসাবে ডিএমকে-কেই সেখানকার জনতা বেছে নিয়েছে।

ছবি ফেসবুক থেকে নেওয়া।

একমাত্র অসম ও পুদুচ্চেরিতে এনডিএ-র লাভ হয়েছে। অসমে কংগ্রেস ভালো ভাবেই প্রচারে এগোচ্ছিল। কিন্তু তরুণ গগৈ-এর মতো শক্তপোক্ত নেতার অভাবে প্রচারের ধার অনেকটাই কমে যায়। তার উপর সেখানে বাঙালি ও অহমিয়া ভোটারদের মধ্যে বিভাজন এতটাই তীব্র হয়েছে যে কংগ্রেসের পক্ষে জাতিস্বাতন্ত্র্যের রাজনীতিকে ভেদ করে অসাম্প্রদায়িক-বিভাজন বিরোধী রাজনৈতিক অস্তিত্ব তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। অসমের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলি মনে করে, কংগ্রেস তাদের প্রধানতম দুশমন কারণ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে অনুপ্রবেশের সুবিধা করে দিয়ে তারা জনজাতির অস্তিত্বকেই অতীতে বিপন্ন করে তুলেছিল। এই জায়গা থেকে কংগ্রেস সরে আসতে না পারায় লাভের গুড় বিজেপিতে খেয়ে গিয়েছে।

এই কথাগুলি বলার অর্থ একটাই – সর্বভারতীয় রাজনৈতিক মানচিত্রে বিজেপি এ বারের নির্বাচনে কতটা অপ্রাসঙ্গিক শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে, সেটা তুলে ধরা। পশ্চিমবঙ্গ এই হিসাবের বাইরে নয়। পশ্চিমবঙ্গে এ বারের ভোট হয়েছে মূলত বিজেপিকে আটকানোর জন্য‌। তৃণমূল কংগ্রেসের ৫০ শতাংশর কাছাকাছি ভোট পুরোটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সুশাসনের’ ভোট এমনটা মনে করা বৃথা। এই ভোটের একটা বড়ো অংশই ‘নো বিজেপি’ ভোট। প্রতিষ্ঠান-বিরোধী ভোট এ বার মমতার বিরুদ্ধে পড়েনি, পড়েছে মোদীর বিরুদ্ধে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। এর মধ্যে যেমন দক্ষিণপন্থী ভোটার রয়েছেন, তেমনই বামপন্থী ভোটাররাও রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের সৎ বামপন্থীদের একটা বিরাট অংশই এ বার মনে করেছেন, বিজেপিকে আটকানোই প্রধান কর্তব্য‌। বিজেপি কর্পোরেটের হাত ধরে দেশকে বেচে দিতে চলেছে। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপই কর্পোরেট স্বার্থে।

এ প্রসঙ্গে আরও অনেক ব্যাখ্যা তুলে ধরা যায়। আসল কথাটা প্রকাশ করেছেন, আমার বন্ধু এক বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা। তিনি ভোটের দিন পরিচিত বামপন্থী বন্ধুদের মধ্যে যে মনোভাব লক্ষ করেছেন, তা কতকটা এ রকম – “নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহর বিভাজনের রাজনীতি রুখতে তৃণমূলকে ভোট দিতেই হবে। ভোট বিভাজন করে বিজেপির সুবিধা করে দেওয়াটা বামপন্থীদের উচিত হবে না। বরং প্রকৃত বামপন্থীদের কাজ হবে যে কোনো মূল্যে বিজেপিকে পরাজিত করা।”

গোটা দেশ জুড়ে কৃষক আন্দোলন, অন্যান্য‌ গণআন্দোলনের অভিমুখ এখন বিজেপির বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশের মতো হিন্দিভাষী রাজ্যেও এখন বিজেপি কোণঠাসা। সাংস্কৃতিক আধিপত্য‌বাদ, গুন্ডামি, কৃষকদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কর্পোরেট তোষণ, বিভাজনের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশের জনতাও ক্ষিপ্ত। অর্থাৎ গোটা দেশ জুড়েই বিজেপির রাজনীতির বিরুদ্ধে জনমত তুঙ্গে উঠেছে। এই অবস্থানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থীরা মনে করেছেন তাঁরা ‘ফ্যাসিস্ত’ শক্তিকে প্রতিহত করার লড়াইয়ে নেমেছেন। এই অবস্থান যে বামপন্থী ভোটাররা নিতে চলেছেন তা সিপিআইএমএলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যর বিবৃতিতেই স্পষ্ট হয়েছিল। সিপিএম নেতৃত্ব যে তা বোঝেননি তা নয়, কিন্তু ভোটে তৃণমূল ও বিজেপিকে একাসনে বসিয়ে লড়াই না করলে দলেই হয়তো বিদ্রোহ হয়ে যেত।

আরও পড়ুন: Bengal Polls 2021: ভয়ংকর খেলা! আরও মজবুত কেষ্টর গড়

Continue Reading

প্রবন্ধ

সত্যজিতের চলচ্চিত্র না দেখা আর পৃথিবীতে বাস করে চন্দ্র-সূর্য না দেখা একই কথা, বলেছিলেন আকিরা কুরোসাওয়া

তবে প্রশস্তির পাশে সমালোচনাও কম সহ্য করতে হয়নি সত্যজিৎকে।

Published

on

অরুণাভ গুপ্ত

সত্যজিৎ রায়ের আবার একটা জন্মদিন। তার উপর শতবর্ষ। ফলে বাঙালির গা-হাত-পা ঝেড়ে লেগে পড়ার পালা। তার পর অবশ্য যে কে সেই। এত সময় কোথায়? ঘর-সংসার সামলে বড়ো সংখ্যার মানুষ ব্যস্ত থাকেন গুচ্ছের অন্তহীন টিভি সিরিয়াল, নিউজ আপডেটে। আর এখন তো বাড়তি অভিজ্ঞতা করোনা। আছে, নেই-এর টাগ অব ওয়ার। তবুও এরই মধ্যে হয়তো গুছিয়ে সত্যজিৎ নস্টালজিয়া হতে পারত কিন্তু সেখানেও হল্ট হেঁকেছে বাংলার নির্বাচন। সুতরাং নমো নমো করে সারো!

Loading videos...

করোনার জন্য শারীরিক দূরত্ব। সংগঠনগত ভাবে সত্যাজিৎ-স্মরণের পথে হয়তো মূল অন্তরায়। তবে ভার্চুয়াল যুগে অনেক কিছুই সম্ভব। কিন্তু বাংলার চোখ এ দিনটায় ভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে। স্বাভাবিক ভাবেই সরকারি ভাবে হোক বা অন্য কোনো ভাবে সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রচার ততটা নেই। শুনছি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক না কি কী সব অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কিন্তু সত্যি বলতে কী, সে সবের প্রচার বেশ ঝাপসা।

এক দিকে করোনা অন্য দিকে ভোটের বহুপ্রতীক্ষিত ফলাফল। এই দুইয়ের মাঝেও সত্যজিৎ-স্মরণে যেটুকু হচ্ছে তার মূলে সংবাদ মাধ্যম। ওরা স্মরণে রাখে, স্মরণ করে। প্রায় জোর করে আমজনতার কানে নামটা শুধিয়ে দিচ্ছেন, সেটা সংক্ষিপ্ত ভাবে হলেও। সত্যজিৎ রায়ের কর্মজীবন ১৯৫০-১৯৯২। টুকটাক তথ্য না দিলে ন্যাড়া ন্যাড়া লাগবে। তা ছাড়া ভারী হলে মনে রাখা দায়। এটা শুধু আমাদের স্বভাব নয়, তাবড় রাজনীতির কুশীলবরা বেমালুম সন-তারিখ ভুলে গিয়ে বিশিষ্ট চরিত্রদের যেখানে সেখানে জন্মস্থান বলে ফেলে বিজ্ঞের হাসি হাসছেন।

যা হোক সত্যজিতের জন্ম ২ মে, ১৯২১, আর মৃত্যু ২৩ এপ্রিল ১৯৯২। অনস্বীকার্য বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অন্যতম তিনি। কলকাতার বুকে জন্ম হলেও পূর্বপুরুষের ভিটে ছিল কিশোরগঞ্জ (বর্তমানে বাংলাদেশে)। লেখাপড়া কলকাতার প্রেসিডেন্সি ও শান্তিনিকেতনে। সত্যজিৎ রায়ের কর্মজীবন শুরু হয় বিজ্ঞাপন সংস্থায় চিত্রকরের ভূমিকায়। তবে প্রতিভা যেখানে স্ফুরিত হওয়ার সেখানে হবেই। কলকাতায় ফরাসি চলচ্চিত্র নির্মাতা জঁ রেনোয়ার সঙ্গে মুখোমুখি দেখা হওয়া এবং পরে লন্ডনে সফরকালীন ইতালির নব্যবাস্তববাদী চলচ্চিত্র ‘লাদ্রি দি বিচিক্লেত্তে’ (বাইসাইকেল চোর) দেখার পর সত্যজিতের মাথায় চেপে বসে ছবি তৈরির ভূত। সর্বপ্রথম ছবি ‘পথের পাঁচালী’ (১৯৫৫)। এর পর আর রোখে কার সাধ্য! তাঁর ছবি সংখ্যার থেকে ক্রমশ লম্বা হয়ে গিয়েছে প্রাপ্ত পুরস্কারের তালিকা। যে তালিকার চূড়োয় রয়েছে অস্কার।

আকিরা কুরোসাওয়ার সঙ্গে। ছবি পিন্টারেস্ট থেকে।

নতুন করে বলার নয়, সত্যজিৎ ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। চিত্রনাট্য রচনা, চরিত্রায়ন, সঙ্গীত-স্বরলিপি রচনা, চিত্রগ্রহণ, শিল্পনির্দেশনা, সম্পাদনা ও সর্বোপরি কল্পকাহিনির সফল লেখক। গোয়েন্দা প্রফেসর শঙ্কু কিশোরের অবিচ্ছেদ্য বন্ধু। বাংলা চলচ্চিত্র তো বটেই, এমনকি পুরো উপমহাদেশের চলচ্চিত্রকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিলেন। পুরো ভারত তো বটেই, ভারতের বাইরেও তাঁর ছবি জনপ্রিয়তা এবং সম্মান লাভ করেছিল। সব মিলিয়ে, সত্যজিৎ রায়- এই নামটাই যেন যথেষ্ট। বাঙালি শুধু নয়, গোটা বিশ্ববাসীর কাছে তিনি জনপ্রিয়।

হয়তো এটা বললে ভুল হবে না যে শুধুমাত্র সত্যজিৎ রায়ের কারণেই আজ বাংলা ভাষায় তৈরি চলচ্চিত্রকে পৃথিবী জুড়ে সম্মানের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি, তিনি শুধু সিনেমার নন, সাহিত্যেরও। সাহিত্যের প্রতি, বিশেষত ছোটোদের সাহিত্যের প্রতি তাঁর অন্তর উৎসারিত ভালোবাসা লেখক সত্যজিৎকেও অবিস্মরণীয় করে তুলেছে।

সত্যজিতের ছবিতে মানবতা প্রধান উপাদান আপাত কিন্তু আড়ালে জটিলতা জড়িত। তাঁকে নিয়ে আকিরা কুরোসাওয়ার অবিস্মরণীয় উক্তি- “সত্যজিতের চলচ্চিত্র না দেখা আর পৃথিবীতে বাস করে চন্দ্র-সূর্য না দেখা একই কথা”। প্রশস্তির পাশে সমালোচনাও কম সহ্য করতে হয়নি তাঁকে। সমালোচকরাও এমনও বলেছেন, তাঁর ছবিগুলি অত্যন্ত ধীর গতির যেন ‘রাজকীয় শামুকে’র চলার মতো। এখানেও পাল্টা দিয়েছেন কুরোসাওয়া। বলেছেন, সত্যজিতের ছবিগুলো মোটেই ধীর গতির নয়, বরং এগুলোকে বলা হোক শান্ত চরিত্রে বহমান এক বিশাল নদী। মজার বিষয় হল, আরেক বরেণ্য পরিচালক মৃণাল সেনও ‘নায়ক’ ছবিতে উত্তম কেন প্রশ্ন তুলেছিলেন। প্রত্যুত্তরে সত্যজিতের বক্তব্য ছিল, মৃণাল কেবল সহজ লক্ষ্যগুলোতে আঘাত হানতে জানেন। অর্থাৎ মৃণালের বিষয়বস্তু বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণি।

সৃষ্টি থাকবে, সঙ্গে থাকবে সমালোচনাও। তবে আঙ্গিক, মেজাজ, প্রকৃতি-সহ আগাগোড়া খোলনলচে বদলে সত্যজিৎ বাংলা ছবিকে এনে দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ছবির স্বীকৃতি। তাঁর মৃত্যুর ২৯ বছর পরেও তিনি আছেন। থাকবেন-ও বিশ্বচলচ্চিত্রের গম্ভীর চর্চায়। আজকের মতো বাস্তব যতই রুক্ষ ও নিষ্ঠুর হোক না কেন!

আরও পড়ুন: রাজনৈতিক ধারাভাষ্য না হলেও সত্যজিতের বেশির ভাগ ছবির আনাচেকানাচে তো রাজনীতিরই অনুরণন

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
রাজ্য1 min ago

Covid Crisis: রাজ্যকে সাহায্য করুক কেন্দ্র, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিলেন অধীররঞ্জন চৌধুরী

দেশ43 mins ago

Covid Crisis: জলে গুলে খেতে হবে, করোনারোধী ওষুধে ছাড়পত্র দিল ডিজিসিআই

Coronavirus Delhi
দেশ1 hour ago

Coronavirus Second Wave: ১২ দিনে ১২ শতাংশ কমল সংক্রমণের হার, স্বস্তি ফিরছে দিল্লিতে

দেশ1 hour ago

Vaccination Drive: শীঘ্রই চতুর্থ কোভিড-টিকা পেয়ে যেতে পারে ভারত

দঃ ২৪ পরগনা1 hour ago

সুন্দরবনের পিঁপড়েখালি সেতু ভেঙে গুরুতর জখম ১

দেশ2 hours ago

শেষ সাত দিনে ১৮০টি জেলায় নতুন করে কোভিড আক্রান্ত নেই, জানালেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রবন্ধ2 hours ago

নরেন্দ্র মোদী আবার কবে বাংলায় আসবেন?

দেশ2 hours ago

হাসপাতালে ভরতির জন্য রোগীর কোভিড পজিটিভ রিপোর্টের দরকার নেই, নতুন নির্দেশিকা

রাজ্য3 days ago

কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুনর্গণনার দাবিতে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর

sourav ganguly
ক্রিকেট2 days ago

Covid Crisis in IPL: জৈব সুরক্ষা বলয়ে কোনো ফাঁক ছিল বলে মনে করেন না সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

দেশ2 days ago

Corona Update: দু’তিনটে রাজ্যে সংক্রমণবৃদ্ধির জের, ভারতের দৈনিক সংক্রমণ ভেঙে দিল অতীতের রেকর্ড

রাজ্য2 days ago

Post-Poll Violence: ইন্ডিয়া টুডে-র সাংবাদিকের ছবি পোস্ট করে হিংসায় মৃত হিসেবে বর্ণনা বিজেপির

রাজ্য3 days ago

Bengal Corona Update: দৈনিক সংক্রমণ ১৮ হাজারের গণ্ডি পেরোলেও কমল সংক্রমণের হার, পর পর ৪ দিন সুস্থতার হারে বৃদ্ধি

রাজ্য2 days ago

সুখবর! রাজ্য সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন অ্যাড-হক বোনাস

রাজ্য1 day ago

‘যা বলার পরে ডেকে বলব’, জল্পনা বাড়ালেন মুকুল রায়

পরিবেশ3 days ago

২০ বছরে বাংলাদেশের সুন্দরবনে ২৫ বার আগুন, পুড়ে গেছে প্রায় ৮১ একর বনভূমি

ভিডিও

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 months ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা3 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা4 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা4 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা4 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা4 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে