Connect with us

প্রবন্ধ

করোনা-পরিস্থিতিতে একটি প্রাথমিক প্রস্তাবনা

গৌতম সেন

এক

বলা হচ্ছে, এই করোনা-পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে যে বিশাল খরচ হচ্ছে এবং হবে, তার সংস্থানের ক্ষমতা ভারতের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নেই। আর তাই কোপ মারা হচ্ছে সরকারি কর্মীদের ও পেনসনভোগীদের ডিএ-তে, কোনো কোনো রাজ্য‌ে সরকারি কর্মীদের বেতনে। এবং তা করা হচ্ছে তাঁদের বিনা সম্মতিতে, বিনা অনুমোদনে। কী জানি, একই কারণ দেখিয়ে অন্য‌ কোনো গোষ্ঠীকে কবে কী ভাবে বধ করা হবে?

আমরা জানি, এ দেশের অসংখ্য‌ মানুষ স্বেচ্ছায় নিজেদের সাধ্য‌মতো বিপন্ন মানুষের সাহায্য‌ে নেমে পড়েছেন। কিন্তু রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিপন্ন মানুষকে সাহায্য‌ করার নামে সাধারণ কর্মচারীকে বাধ্য‌ করা কি মেনে নেওয়া যায়? অথচ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অব্য‌বহৃত, অব্য‌বহারযোগ্য‌ বহু অর্থ-সংস্থানে হাত দেওয়া হচ্ছে না। যেমন ২০২০-২১ সালের আর্থিক বছরে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৪৭১,৩৭৮ কোটি টাকা(১)। ভারতে ছ’টা নিউক্লিয়ার সাবমেরিন নির্মাণ করতে খরচ পড়ে ১.২ লক্ষ কোটি টাকা(২), যে সাবমেরিন ব্য‌বহার করলে মানুষ ও সম্পদের বিশাল ধ্বংসসাধন, আর ব্য‌বহার না করলে মরচে ধরে সম্পদের নিদারুণ অপচয়।

সুইডেনের ইন্টারন্য‌াশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, ২০১৮ সালে পৃথিবীতে কেবলমাত্র যুদ্ধের প্রয়োজনের জন্য‌ খরচ হয়েছে ১.৮২২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ ১ লক্ষ ৮২ হাজার ২০০ কোটি ডলার(৩)। এখন করোনা যেমন সীমান্ত অগ্রাহ্য‌ করে আন্তর্জাতিক হয়ে উঠেছে, দুনিয়ার মানুষ তেমন ভাবে যদি সীমান্তের অস্তিত্ব ও প্রয়োগ ভেঙে ফেলে, তা হলে প্রতিরক্ষা খাতটাই তো উঠে যাবে — এই সম্ভাবনাটা নিছক কষ্টকল্পনা নয়। আর শুধু এই উপমহাদেশে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ওপর যদি মানুষের স্বার্থকে বসানো যায়, তবে এ দেশে ও প্রতিবেশী দেশে এটা অর্জন করা খুব একটা অসম্ভব নয়। সহজ কথায়, এ দেশে যে অপ্রতুল ও দুর্বল স্বাস্থ্য‌ পরিকাঠামো রয়েছে, তার প্রেক্ষিতে বলা যায়, নানা খাতের খরচ এ-দিক ও-দিক করে এই সমস্য‌ার মোকাবিলা করা যায়; তার জন্য‌ সরকারি কর্মীদের ওপর কোপ মারাটা শুধু অন্য‌ায্য‌ নয়, অনৈতিক। তার ওপর ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাইকর্মী এবং পুলিশবাহিনী-সহ নানা স্তরের সরকারি কর্মীরা এই সংকটপর্বে যে ভাবে কর্তব্য‌ পালন করছেন, তাতে তাঁদের কষ্টার্জিত উপার্জনের ওপর কোপ মারাটা সত্য‌িই অন্য‌ায়।

এ দেশে অপ্রয়োজনীয় অর্থব্য‌য়ের আরও দু-একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। কেন্দ্রীয় বাজেটে বুলেট ট্রেনের জন্য‌ খরচ ধরা হয়েছে ১ লক্ষ কোটি টাকা(৪) । দিল্লিকে নতুন ভাবে সাজাতে খরচ ধরা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা(৫)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিরাপত্তা খাতে প্রতি দিন খরচ হয় ১.৬২ কোটি টাকা(৬)। (বিশ্বের অন্য‌ান্য‌ রাষ্ট্রপ্রধানের নিরাপত্তার খরচও কম-বেশি ও রকমই হবে। তাঁদের জীবনের সম্মিলিত দামটা কি বড্ড বেশি হয়ে যাচ্ছে না, যা করোনা-উত্তর পরিস্থিতিকে জনমুখী ভাবে ব্য‌বহার করা যেত!)

আরও পড়ুন: হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

দুই

লকডাউন ঘোষণার পর থেকে একটা কথা খুব চালু হয়েছে — সামাজিক দূরত্ব। (শারীরিক দূরত্বকে কেন যে ‘সামাজিক দূরত্ব’ নামকরণ করা হয়েছে, এর কোনো গভীর উদ্দেশ্য‌ বা তাৎপর্য আছে কি না, পরে জানা যাবে।) যা-ই হোক, এ রাজ্য‌ে, এ দেশে লক্ষ লক্ষ লক্ষ মানুষ যে ভাবে ঝুপড়ি-বস্তিতে বাস করেন, ভিড় করে পানীয় জলের জন্য‌ লাইন দেন, শৌচাগার, স্নানের জায়গা ব্য‌বহার করেন, তাতে তাঁদের পক্ষে এই দূরত্ব পালন করার কথাটা ভাবা বা তোলা একটা জীবন্ত রসিকতা! পাশাপাশি এর জন্য‌ দায়ী কে? এই স্বাভাবিক সহ-প্রশ্নটাও উঠে আসবে। করোনা-উত্তর পরিস্থিতিতে আমরা, সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে, এই সামান্য‌ দাবিটুকু কি করতে পারি না যে, সকলের জন্য‌ মর্যাদা-সহ বেঁচে থাকার মতো বাসস্থান চাই।  

সামাজিক দূরত্ব। ছবি: রাজীব বসু।

প্রসঙ্গত, আজকের কাজ-হারানো, মজুরি না-পাওয়া, খেতে না-পাওয়ার পরিস্থিতিতে কত গরিব অসহায় মানুষ যে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন, এবং নিজেদের শিশুসন্তানদের নানা ভাবে সোজাসুজি মৃত্য‌ুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, তার ইয়ত্তা নেই।

তিন

এ বার আসি পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্য‌া প্রসঙ্গে। ভিন দেশে বাস-করা পরিযায়ী শ্রমিকরা যে বিরাট আন্তর্জাতিক সমস্য‌া ও চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছেন, সে প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে আপাতত ভারতের অভ্য‌ন্তরে পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্য‌া নিয়ে আমাদের চর্চা কেন্দ্রীভূত করা যাক। লকডাউন জারি করা এবং দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ করার আগে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের কী অবস্থা হবে, তা নিয়ে আগাম কোনো ভাবনাচিন্তা করা হল না। পাশাপাশি এক দিকে যে যেখানে আটকে গেল, সেখানে তাঁদের মর্যাদাসহ থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হল না, অন্য‌ দিকে যাঁরা নিজ নিজ বাসস্থানে ফিরে আসতে উদগ্রীব, তাঁদের জন্য‌ কোনো আগাম পরিকল্পনা করা হল না। আর তার কী মারাত্মক পরিণতি হল, তা তো চোখের সামনেই দেখতে পেলাম। পাশাপাশি করোনার অভিঘাতে যে সব মানুষ কাজ হারালেন, কাজ হারাবেন, তাঁদের জন্য সরকারি পরিকল্পনার কোনো কথা শোনা যাচ্ছে না। আরও কত ভুখা বিধ্বস্ত মানুষজনের মৃত্য‌ু দেখতে হবে কে জানে!

অনিশ্চয়তার পথে পরিযায়ী শ্রমিকের দল।

চার

শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্য‌ে দুই শিবিরের পুরোনো ফারাকটা এই সময়ে আবার প্রকট ভাবে সামনে চলে এল। এক দল, যাঁদের মজুরি/বেতন আপেক্ষিক ভাবে বেশি, চাকরিটা মোটামুটি নিশ্চিত, জীবনযাত্রা তুলনামূলক ভাবে সচ্ছ্ল; আরেক দল, যাঁদের মজুরি তুলনামূলক ভাবে কম, চাকরি অনিশ্চিত, জীবনযাত্রার মান নীচের দিকে। (চলতি পরিভাষায় প্রথমোক্তদের ‘মধ্য‌বিত্ত’, পরোক্তদের ‘লেবার ক্লাস’ হিসাবে অভিহিত করা হয়।) শ্রমিক/কর্মচারী হিসাবেই কেন এক দল মোটামুটি পাবে, আরেক দল প্রায় কিছুই পাবে না, এই প্রশ্নটা সাধারণ সময়ে খুব একটা ওঠে না; কিন্তু এই ভয়ানক সময়ে সংবেদনশীল মানুষজনের মধ্য‌ে প্রশ্নটা উঠছে, ওঠার জমি তৈরি হচ্ছে। মানুষের দক্ষতার হেরফের থাকাতে এখনই সমতাবাদী মজুরি/বেতনের দাবি তোলা না গেলেও এক দিকে যেমন মজুরি/বেতনের পার্থক্য‌টা কমিয়ে আনার দাবি করা যায়, পাশাপাশি সকল শ্রমপ্রদানকারীর প্রাপ্য‌ আয় এমন স্তরে তুলে আনার দাবি করা যায় যাতে সকলে তাঁদের পরিবার-পরিজন সহ স্বাস্থ্য‌োজ্জ্বল জীবন যাপন করতে পারেন, আজকের মতো আপৎকালীন অবস্থায় যুঝে নেওয়ার সামর্থ্য‌টুকু অর্জন করতে পারেন। তার ওপর সব চেয়ে ভয়ংকর সময়ে, আজকের মতো নিয়ন্ত্রণের অযোগ্য‌ পরিস্থিতিতে, সবার প্রয়োজনে সমাজ তথা রাষ্ট্র যেন সদর্থক ভাবে এগিয়ে আসে — এই দাবিটাও জোরের সঙ্গে তোলা যায়।

পাঁচ

সাম্প্রতিক লকডাউন এবং তার আনুষঙ্গিক পদক্ষেপ (বিশেষত ‘শারীরিক দূরত্ব’) প্রয়োগ করার বিষয়টি যে ভাবে ওপর থেকে আমলাতান্ত্রিক ভাবে করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা ইতিমধ্য‌ে এক বিরাট সামাজিক-রাজনৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছে এবং প্রাত্য‌হিক দ্বন্দ্ব-বিরোধ-সংঘাতের জন্ম দিচ্ছে। আজকের করোনা-দুর্যোগ মোকাবিলায় ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্য‌কর্মীদের পাশাপাশি পুলিশকর্মীরা যে ভাবে পথে নেমেছেন, তাতে তাঁদের প্রতি স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা সহানুভূতি নেমে আসছে। তবে, পুলিশের একাংশের পক্ষ থেকে সহানুভূতি ও সহমর্মিতার গান গাওয়ার মধ্য‌ে যে প্রতীকি সংহতির প্রয়াস প্রকাশ পাচ্ছে, তাকে স্বীকৃতি দিয়েও বলতে হচ্ছে নিয়ম না মানলে লাঠি-চার্জ অথবা কান মুলে ওঠবোস করানো (তা-ও আবার তুলনামূলক ভাবে গরিব ও দৃশ্য‌ত অসম্ভ্রান্ত মানুষজনকে) পুলিশের চিরাচরিত জনবিরোধী চরিত্রকে সামনে নিয়ে আসছে, প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের বিচ্ছিন্নতাকে আবার সুপ্রতিষ্ঠিত করছে। এই কঠিন সময়ে বিষয়টাকে অন্য‌ ভাবে মোকাবিলা করার কি চেষ্টা করা যেত না? এলাকায় এলাকায়, নানা স্তরে গণ উদ্য‌োগ বিকশিত করা, পরিপূরক ভাবে গণকমিটি গড়ে তোলা এবং আজকের কঠিন-কঠোর পরিস্থিতিতে, (বিশেষত, ‘শারীরিক দূরত্ব’ বজায় রাখার বিশেষ অবস্থাকে মান্য‌তা দিয়ে) তাকে কার্যকর করে তোলা — এ সব সহ-কার্যক্রম কি একেবারেই অসম্ভব ছিল বা এখনও আছে? (এই মুহূর্তে মনে পড়ছে ২০১১ সালে মিশরের তাহরির স্কোয়ারে গণ উদ্য‌োগের কথা, ১৯৫৬ সালে হাঙ্গেরির শ্রমিক বিদ্রোহের সময়ে গণ উদ্য‌োগে পালটা প্রশাসন চালানোর কথা — এ রকম আরও কত ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের কথা।)

নির্দেশ ভাঙার শাস্তি। ছবি: রাজীব বসু।

ছয়

সংবাদে প্রকাশ, সরকারি হাসপাতালে নিখরচায় করোনা চিকিৎসা হলেও বেসরকারি হাসপাতালে নগদে কয়েক লক্ষ টাকা গুনাগার দিতে হচ্ছে। করোনা-আক্রান্ত রোগীদের জন্য‌ তাদের ‘হৃদয় উদ্বেলিত’ হলেও তারা তো আর দানছত্র খুলে বসেনি! তাদের সেই চিরাচরিত দর্শন — ‘ফেলো কড়ি মাখো তেল’। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে তর্কে যাওয়ার কোনো প্রবৃত্তি নেই। এ প্রসঙ্গে সরকারের কাছে শুধু একটা অ-গণতান্ত্রিক (!) দাবি করতে পারি: সরকারি বা বেসরকারি সমস্ত হাসপাতালে সকল করোনা-আক্রান্ত রোগীর নিখরচায় চিকিৎসার ব্য‌বস্থার জন্য‌ অবিলম্বে অর্ডিন্য‌ান্স জারি করো। ঢের সয়েছি, আর নয়। 

সাত

এই প্রাথমিক প্রস্তাবনায় বহু ক্ষেত্রেই অধিকতর অর্থ সংস্থান কোথা থেকে আসবে, সেই প্রশ্নটা বারবার উঠছে ও উঠবে, তার জবাবে দু-একটা ইঙ্গিত ইতিমধ্য‌ে রয়েছে। আরও  দু-একটা বিশেষ দিকের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ইন্দিরাযুগের শেষ দিকেও এ দেশে ধনীদের আয়ের ওপর চড়া হারে প্রগতিশীল কর চাপানো ছিল — ২৫% থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ স্তরে তা ৯৩.৫% পর্যন্ত ছিল; এমনকি ১৯৯০-৯১ সালেও তা ৫০% ছিল; এখন সর্বোচ্চ কর ৩০%-এ বেঁধে দেওয়া রয়েছে(৭)।  আমাদের সহজ প্রস্তাব — আবার আয়ের ওপর ক্রমবর্ধমান চড়া হারে কর বসানো হোক। তার ওপর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় অয়েল প্রাইস রিসোর্সে যে তহবিল জমে রয়েছে, তার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেতে পারে। তা ছাড়া বড়ো বড়ো ধনকুবেরের যে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণমকুব করা হয়েছে, ওপর মহলে যে পর্বতপ্রমাণ দুর্নীতি ফাঁস হয়ে গিয়েছে, সে সব উদ্ধার করলে শুধু আজকের বিপদে নয়, জনকল্য‌ণের নানা খাতে কী মসৃণভাবেই না তা ব্যবহার করা যেত।

আরও পড়ুন: মোদীর কাছে লকডাউনে বিরাট চ্যালেঞ্জ মন্দামুক্ত ভারতের নেতা হওয়ার!

আট

দেশে দেশে এবং এ দেশের বিভিন্ন রাজ্য‌ে করোনা-পরিস্থিতি সামাল দিতে সাফল্যের তারতম্য‌ রয়েছে। এই নিয়ে যে সংকীর্ণ রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে, তার সীমানা ছাড়িয়ে বিষয়টাকে এ ভাবে দেখা যায় — কোন সরকার বিষয়টাকে প্রাথমিক স্তরেই কতটা গুরুত্ব দিয়েছে, আর কার স্বাস্থ্য‌পরিকাঠামো কতটা প্রস্তুত ছিল, তার ওপরই এই সাফল্য‌ের মাত্রা নির্ভর করেছে। তবে, সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রস্তুতি, তৎপরতা ও কার্যকারিতার নিরিখে কেউই উত্তীর্ণ হয়নি।

নয়

বাঙুর হাসপাতালে চলছে কোভিড ১৯ সন্দেহে পরীক্ষা, যদিও প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট পরীক্ষা হচ্ছে না। ছবি:রাজীব বসু।

এ দেশে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর ওয়াকিবহাল কোনো কোনো মলিকিউলার বায়োলজিস্টের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে — লকডাউনের থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল পরীক্ষার ওপর। যদি যথেষ্ট টেস্ট না হয়, তা হলে আমরা ভাইরাসের আলাদা আলাদা ভ্য‌ারাইটি আর আলাদা মিউটেশনের বৃত্তান্ত জানতেই পারব না। অর্থের অপ্রতুলতার অজুহাতে তাকেও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

দশ

এই মাত্র এক-দেড় মাসে মানুষের বিশাল কর্মকাণ্ডর যেটুকু হানি অথবা ছেদ ঘটেছে, তাতেই প্রকৃতিকে যে রকম নির্মল দেখাচ্ছে, তাতে সঙ্গত ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই প্রকৃতি-বিরূপ যাবতীয় কর্মকাণ্ড সত্য‌িই কতটা অবশ্য‌-প্রয়োজনীয় ছিল? এর মধ্য‌ে লাভ ও লোভের তাড়না কতটা দায়ী? প্রশ্ন উঠেছে, প্রকৃতিকে জয় করে নেওয়ার নেশার বদলে কতটা সামঞ্জস্য‌পূর্ণ ভাবে ব্য‌বহার করা যায়, যাতে ‘প্রকৃতির প্রতিশোধ’কে মানবিক তলে মোকাবিলা করা যায়! প্রশ্নটা আগেও ছিল, আজ যেন আরও বেশি করে সামনে চলে আসছে। সমস্য‌াটার কোনো চটজলদি সমাধান সম্ভব না হলেও এটা আজ চর্চা-আলোচনার অ্য‌াজেন্ডাতে চলে এসেছে, সেটাই ইতিবাচক।

(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

তথ্যসূত্র:

১. ABB/SS/Nampi/DK/Savvy/MTJ/ADA

২. https://economictimes.indiatimes.com/news/defence/indias-rs-1-2-l-cr-n-submarine-project-closer-to-realisation/articleshow/74234776.cms

৩. https://www.sipri.org/media/press-release/2019/world-military-expenditure-grows-18-trillion-2018

৪. https://www.thehindu.com/opinion/op-ed/does-india-need-a-bullet-train/article19803252.ece

৫. The Print, 17 February, 2020

৬. India Today 12-02-2020

৭. https://www.apnaplan.com/income-tax-slabs-history-in-india/

   Level of tax rates rose in Indira regime

   Prabhakar Sinha & amp; Shankar Raghuraman, May 4, 2008 TOI

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

প্রবন্ধ

গীতিকার প্রণব রায়ের প্রয়াণবার্ষিকীতে সশ্রদ্ধ প্রণাম

আজ থেকে ঠিক ৪৫ বছর আগে এমনই এক ৭ আগস্টে প্রয়াত হয়েছিলেন তিনি।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

“…প্রভাতে কে আর মনে রাখে বলো রজনী শেষের চাঁদে,/ শুধু দুদিনের সাথীরে কে আর মালার বাঁধনে বাঁধে।।…”

আজ ৭ আগস্ট। কবি ও গীতিকার প্রণব রায়ের (Pranab Roy) প্রয়াণবার্ষিকী। আজ থেকে ঠিক ৪৫ বছর আগে এমনই এক ৭ আগস্টে প্রয়াত হয়েছিলেন তিনি।

প্রণব রায়ের জন্ম ১৯১১ সালের ৫ ডিসেম্বর, প্রখ্যাত সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারে। সাবর্ণ পরিবারের সুসন্তান প্রণব রায়ের রচিত প্রায় সাড়ে তিন হাজার গান রয়েছে যা বাংলা আধুনিক গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।

ছাত্রাবস্থায় ‘কমরেড’ শীর্ষক কবিতা লেখায় তাঁকে কারাবাসও করতে হয়, তবুও তাঁর সৃষ্টি থেমে থাকেনি। কাজী নজরুল ইসলামের ভাবশিষ্য প্রণব রায় ব্রাহ্ম বয়েজ স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিটি কলেজে ভর্তি হন। ছেলেবেলা থেকেই সাহিত্যের নেশা ছিল তাঁর। ‘বিশ্বদূত’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর ‘কমরেড’ কবিতাটি। গীতিকার হওয়ার প্রেরণা পেয়েছিলেন কাজী নজরুলের কাছ থেকে। তাঁর বহু রচনায় কাজী নজরুল সুরও করেছিলেন।

ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য ও মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের রেকর্ড করা প্রথম গানের রচয়িতা প্রণব রায়। এ ছাড়া যূথিকা রায়ের কণ্ঠে আধুনিক গানের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ‘সাঁঝের তারকা আমি’ ও ‘আমি ভোরের যূথিকা’ গান দু’টির রচয়িতাও তিনি। ১৯৩৪ সালে গীতিকবি প্রণব রায়ের প্রথম গান রেকর্ড হয় কাজী নজরুলের তত্ত্বাবধানে। ১৯৩৬ সালে ‘পণ্ডিতমশাই’ ছায়াছবিতে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন গীতিকার প্রণব রায়। তাঁর প্রথম গানটি কমল দাশগুপ্তের সুরে এবং ভবানী দাসের কণ্ঠে রেকর্ড করা হয়।

প্রথম গল্পগীতি লেখেন প্রণব রায়। জগন্ময় মিত্রের কণ্ঠে গাওয়া তাঁর লেখা গল্পগীতি ‘চিঠি’, ‘সাতটি বছর আগে পরে’ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। তাঁর গীতিকবিতার প্রতিটি ছন্দে জীবনের সূক্ষ সূক্ষ অনুভূতি ধরা পড়ত, যার অধিকাংশই তিনি রচনা করেছিলেন বাংলা চলচিত্রের জন্য। প্রায় তিনশোটি ছবির গান লিখেছিলেন তিনি। ছবির পরিবেশের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই গান রচনা করতেন। এমনকি তিরিশ থেকে চল্লিশের দশকে গীতিকবিতার রচয়িতা হিসাবে রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুলের সঙ্গে একত্রে উচ্চারিত হত তাঁর নাম।

ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের কণ্ঠে এবং শৈলেন দাশগুপ্তের সুরে প্রণব রায় লিখেছিলেন ‘কেন দিলে এত গান’, রবীন চট্টোপাধ্যায়ের সুরে লিখেছিলেন ‘মনের দুয়ার খুলে কে’, সুবল দাশগুপ্তের সুরে লিখেছিলেন ‘যদি ভুলে যাও মোরে’। এ ছাড়াও লিখেছিলেন ‘সে বুঝি ফিরে গেছে’, ‘কোথায় হারালো দিন’, ‘নিশিরাত বাঁকা চাঁদ আকাশে’, ‘মধুর আমার মায়ের হাসি’, “চম্পা চামেলি গোলাপেরই বাগে’, ‘আমার সোনা চাঁদের কণা’ ইত্যাদি অসংখ্য গান। সুরকার দুর্গা সেনের সুরে লিখেছিলেন ‘যে গান হল না গাওয়া’, ১৯৪২ সালে শৈলেন দাশগুপ্তের সুরে লিখেছিলেন ‘সেদিন মাধবী রাতে’, ১৯৪৫ সালে কমল দাশগুপ্তের সুরে লিখেছিলেন ‘কণ্ঠে আমার নিশিদিন’ ইত্যাদি।

শুধু গীতিকারই নন, বহুমুখী প্রতিভার মানুষ ছিলেন প্রণব রায়। চিত্রনাট্যকার, কাহিনিকার হিসাবেও কাজ করেছেন তিনি। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় ও জহর রায় অভিনীত বিখ্যাত কমেডি ‘ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্টেন্ট’-এর কাহিনি রচনা করেছিলেন প্রণব রায়।

অনেকেরই জানা নেই হয়তো, রহস্য-রোমাঞ্চ বা ভৌতিক গল্প রচনাতেও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। অতীত দিনের রহস্য-সাহিত্যে জনপ্রিয় পত্রিকা ‘রোমাঞ্চ’ এবং অন্যান্য পত্রিকায় তাঁর নিয়মিত লেখা প্রকাশিত হত।

গীতিকার, চিত্রনাট্যকার, কাহিনিকার প্রণব রায়ের আরেকটা পরিচয় ছিল – তিনি ছিলেন সাংবাদিক। বছরখানেক কাজ করেছিলেন ‘বসুমতী’ পত্রিকায় বার্তা সম্পাদক হিসাবে। ব্রিটিশবিরোধী পত্রিকা ‘নাগরিক’-এর সম্পাদক ছিলেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনে প্রণব রায় ছিলেন খুব কম কথার মানুষ। বাংলা সংস্কৃতি জগতের এই প্রতিভাধর মানুষটির প্রতি রইল অনেক শ্রদ্ধা।

Continue Reading

প্রবন্ধ

শ্রাবণের এই রাখিপূর্ণিমাতেই জন্মেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ-শিষ্য স্বামী নিরঞ্জনানন্দ

শুভদীপ রায় চৌধুরী

সময়টা ১৮৮১-৮২ সালের কোনো এক দিন। দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে দর্শন করতে হাজির কলকাতার এক যুবক। বয়স ১৮-১৯। ঠাকুর সে সময় থাকতেন দক্ষিণেশ্বরে রানি রাসমণির প্রতিষ্ঠিত কালীবাড়িতে। তাঁর অদ্ভুত ঈশ্বরনির্ভর জীবন ও সহজ সরল ব্যবহার তখনকার কলকাতার অনেকেই জানতেন এবং তাতে আকৃষ্ট হয়ে তাঁর কাছে ছুটে আসতেন। লোকমুখে ঠাকুরের কথা শুনে সেই যুবকও তাঁকে দর্শন করবেন বলে দক্ষিণেশ্বরে এসেছেন। দেখলেন ঠাকুর ভক্তপরিবেষ্টিত হয়ে রয়েছেন। সন্ধে হতেই ভক্তরা একে একে চলে গেলে ঠাকুর তাঁর ভবিষ্যতের প্রিয় শিষ্যকে পাশে বসিয়ে অনেক কথা বললেন, যেন কত দিনের চেনা। ভবিষ্যতের সেই প্রিয় শিষ্য হলেন নিত্যনিরঞ্জন ঘোষ তথা স্বামী নিরঞ্জনানন্দ।   

তাঁর তরুণ ভক্তের শক্তি ভুল পথে ব্যয়িত হচ্ছে দেখে শ্রীরামকৃষ্ণ চিন্তিত হলেন। বললেন, “দ্যাখ নিরঞ্জন, ভূত ভূত করলে তুই ভূত হয়ে যাবি, আর ভগবান ভগবান করলে ভগবান হবি। তা কোনটা হওয়া ভালো?” নিরঞ্জন সরল ভাবেই উত্তর দিলেন, তা ভগবান হওয়াই ভালো।

ঠাকুর কেন হঠাৎ সে দিন নিরঞ্জনের ভূত-সঙ্গের কথা পেড়েছিলেন? একটু পেছনে ফিরে যাওয়া যাক।  

উচ্চ আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন নিত্যনিরঞ্জন ১২৬৯ বঙ্গাব্দের (১৮৬২ খ্রিস্টাব্দ) শ্রাবণ পূর্ণিমার দিন রাজারহাট-বিষ্ণুপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে এই অঞ্চলটি কলকাতার মধ্যে অবস্থিত হলেও অতীতে এটি অবিভক্ত চব্বিশ পরগনার একটি গ্রাম ছিল। নিত্যনিরঞ্জনের বাবার নাম ছিল অম্বিকাচরণ ঘোষ। বারাসতের পণ্ডিত কালীকৃষ্ণ মিত্র ছিলেন নিরঞ্জনের মামা। মাতুলের কলকাতাস্থ বাড়িতে থেকে নিরঞ্জন লেখাপড়া করতেন।

স্বামী নিরঞ্জনানন্দ।

শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে আসার আগে নিরঞ্জন আহিরীটোলানিবাসী ডাক্তার প্যারীচাঁদ মিত্রের বাড়িতে একটি প্রেততত্ত্বান্বেষী দলের সঙ্গে পরিচিত হন। তারা নিরঞ্জনকে ভূত নামানোর মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করত। এই ভাবে ভূতুড়েদের দলে যাতায়াত করতে করতে একটি ঘটনায় নিরঞ্জনের মনে বৈরাগ্যের সঞ্চার হয়। দীর্ঘ ১৮ বছর অনিদ্রায় ভোগার পর জনৈক ধনী ব্যক্তি নিরঞ্জনের শরণাপন্ন হন। নিরঞ্জন পরে বলেছিলেন, তাঁকে ওই ভাবে দারুণ কষ্ট পেতে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, তা হলে আর এত ধনসম্পত্তির কী প্রয়োজন।

বৈরাগ্য থেকেই নিরঞ্জনের মনে আধ্যাত্মিক রাজ্যের দ্বার খুলে গিয়েছিল। তত দিনে শুনেছেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কথা। তাঁর অতুলনীয় ভগবৎপ্রেম ও আকর্ষণীয় উপদেশের কথা তখন লোকের মুখে মুখে প্রচার হচ্ছে। নিরঞ্জন ছুটে এলেন দক্ষিণেশ্বরে। সে দিন নিরঞ্জনকে ভুতুড়েসঙ্গ ত্যাগ করতে বলেছিলেন ঠাকুর এবং নিরঞ্জনে সেই সঙ্গ ত্যাগ করেছিলেন।

এর কয়েক দিন পরে নিরঞ্জন আবার এলেন দক্ষিণেশ্বরে। ঠাকুর ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন তাঁকে, বললেন, “ওরে নিরঞ্জন, দিন যে যায়রে – তুই ভগবান লাভ করবি কবে? দিন যে চলে যায়, ভগবানকে লাভ না করলে সবই যে বৃথা যাবে। তুই কবে তাঁকে লাভ করবি বল, কবে তাঁর পাদপদ্মে মন দিবি বল? আমি যে তাই ভেবে আকুল!” নিরঞ্জন অবাক হয়ে ভাবলেন, ইনি কে? আমার ভগবানলাভ হচ্ছে না বলে, দিন চলে যাচ্ছে বলে আমার জন্য এঁর এত আর্তি কেন? পরের জন্য এ কি অহৈতুকী ভালোবাসা! নিরঞ্জন এ রহস্য ভেদ করতে পারলেন না বটে, কিন্তু ঠাকুরের এই আবেগভরা কথায় তাঁর হৃদয় বিগলিত হল। সে দিন আর কলকাতায় ফিরে যেতে পারলেন না তিনি। সেই দিন তো ছার, পর পর তিন দিন নিরঞ্জন থেকে গেলেন দক্ষিণেশ্বরে।

নিরঞ্জনের সরলতা ঠাকুরকে প্রথম থেকেই মুগ্ধ করেছিল। একদিন শ্রীম তথা মাস্টারমশায়কে ঠাকুর বলেছিলেন, “তোমায় নিরঞ্জনের সঙ্গে দেখা করতে বলছি কেন? সে সরল ইহা সত্য কি না, এইটি দেখবে বলে।” ১৮৮৪-এর ১৫ জুন কাঁকুড়গাছিতে সুরেন্দ্রনাথ মিত্রের বাগানবাড়িতে এক মহোৎসবে যোগ দেন ঠাকুর। এক সময় নিরঞ্জন এসে ঠাকুরকে ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করলেন। ঠাকুর তাঁকে দেখেই উঠে দাঁড়ালেন, বললেন, “তুই এসেছিস।” কাছেই ছিলেন মাস্টার (শ্রীম)। নিরঞ্জনকে দেখিয়ে তাঁকে বললেন,  “দেখ, এ ছোকরাটি বড় সরল। সরলতা পূর্বজন্মে অনেক তপস্যা না করলে হয় না। কপটতা পাটোয়ারী এসব থাকতে ঈশ্বরকে পাওয়া যায় না।”

নিরঞ্জনের সরলতা ও বৈরাগ্যের জন্য ঠাকুর তাঁর প্রতি অত্যন্ত স্নেহপরায়ণ ছিলেন। একদিন এই প্রসঙ্গে ঠাকুর বলেছিলেন, “দেখছ না নিরঞ্জনকে? তোর এই নে, আমার এই দে”- ব্যস, আর কোন সম্পর্ক নাই। পেছু টান নাই।”

নিরঞ্জনের স্বভাবে কিছুটা উগ্র ভাব থাকলেও তিনি ছিলেন খুবই সাহসী। আর ভেতরে ভেতরে ছিলেন কোমল প্রকৃতির এক মানুষ, অত্যন্ত সেবাপরায়ণ। ঠাকুরের দেহত্যাগের পর নরেন্দ্রনাথ-সহ গুরুভাইরা যখন আঁটপুরে যান তখন নিরঞ্জনও গিয়েছিলেন। স্নান করতে গিয়ে একদিন সারদাপ্রসন্ন (পরবর্তী কালে স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ) পুকুরে ডুবে যাচ্ছিলেন। তখন প্রাণের মায়া ত্যাগ করে নিরঞ্জন পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। ১৮৮৮ সালে লাটু মহারাজের নিউমোনিয়া হলে নিরঞ্জন মহারাজ তাঁর সেবার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ভক্তপ্রবর বলরামবাবুর শেষ অসুখের সময়ও নিরঞ্জন প্রাণ ঢেলে তাঁর সেবা করেছিলেন।

গুরুভাইদের সঙ্গে স্বামী নিরঞ্জনানন্দ (একেবারে ডান দিকে)।

১৮৮৭ সালের প্রথম দিকে বরানগরে অন্য গুরুভ্রাতাদের সঙ্গে নিরঞ্জনও সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর নাম রাখেন ‘স্বামী নিরঞ্জনানন্দ’। সন্ন্যাস গ্রহণের পরেই তিনি শ্রীক্ষেত্র পুরীধামে গিয়ে ৮ এপ্রিল মঠে ফিরে আসেন। এর পর ১৮৮৯-এর নভেম্বরে আবার বেরিয়ে পড়েন স্বামী নিরঞ্জনানন্দ। প্রথমে দেওঘরে বৈদ্যনাথ দর্শন করেন। তার পর সেখান থেকে কাশীতে যান এবং বংশীদত্তের বাড়িতে কিছু দিন থেকে তপস্যা করেন। এ সময় তিনি মাধুকরী ভিক্ষা করে খেতেন। এরই মধ্যে স্বামী যোগানন্দের অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে তিনি প্রয়াগে যান। সেই সুযোগে স্বামী নিরঞ্জনানন্দের কল্পবাসও হয়। পরে উত্তর ভারতের আরও কিছু তীর্থদর্শনে বেরিয়ে পড়েন তিনি এবং কোনো কোনো জায়গায় তপস্যাও করেন।  

কালীকিঙ্কর বোস তখনও স্বামী বিরজানন্দ হননি। ১৮৯১-৯২ সালে তখন তাঁর বয়স ১৮-১৯, বরানগর মঠে যাতায়াত শুরু করেছেন। সেই সময় নিরঞ্জন মহারাজকে প্রায়ই দেখতেন দক্ষিণেশ্বরের যেতে। সেখানে পঞ্চবটীতলায় ও ঠাকুরের ঘরে ধ্যান করতেন তিনি। মাঝেমধ্যে কালীকিঙ্করও তাঁর সঙ্গী হতেন। ১৮৯৩ সালে স্বামী নিরঞ্জনানন্দ আবার তীর্থদর্শনে এবং তপস্যার জন্য বেরিয়ে পড়লেন। ১৮৯৫ সালের প্রথম দিকে ঠাকুরের জন্মোৎসবের আগে তিনি আলমবাজার মঠে ফিরে আসেন।

স্বামী নিরঞ্জনানন্দ খুবই শৃঙ্খলাপরায়ণ ছিলেন। খবর পেলেন স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্ব জয় করে ১৮৯৬-এর শেষ দিকে পশ্চিমের দেশ থেকে ভারতের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেই খবর পেয়ে নিরঞ্জন মহারাজ বিশ্ববিজয়ী গুরুভাইকে অভ্যর্থনা জানাতে কলম্বো রওনা দেন। পরের বছর ১৫ জানুয়ারি স্বামীজি মহারাজ জাহাজ থেকে নামলে সর্ব প্রথম তাঁকে অভ্যর্থনা জানান নিরঞ্জন মহারাজ।

শুধুমাত্র ঠাকুরই নন, সারদাজননীর প্রতিও স্বামী নিরঞ্জনানন্দের অগাধ শ্রদ্ধাভক্তি ছিল। ঠাকুরের অদর্শনের পর শ্রীমাই ছিলেন তাঁর আশ্রয়স্থল। সবাইকে এই কথা মুক্তকণ্ঠে জানাতে দ্বিধাও করতেন না। অনেককে এই আশ্রয়ে তিনি পৌঁছেও দিয়েছেন। মা যে কেবল গুরুপত্নীই নন, তিনি যে জগজ্জননী আদ্যাশক্তি, এ কথা তিনি সর্ব সমক্ষে প্রচার করতেন।

১৯৫৩ সালের ২৪ আগস্ট স্বামী শিবানন্দ মহারাজের শিষ্য স্বামী সংশুদ্ধানন্দ মহারাজ কয়েক জন সন্ন্যাসী ও গৃহীভক্তকে নিয়ে রাজারহাট-বিষ্ণুপুরের ঘোষবাড়িতে আসেন। চণ্ডীমণ্ডপের ঠিক পূর্ব দিকের ঘরটিতে নিরঞ্জন ভূমিষ্ট হয়েছিলেন বলেই জানা যায়। সেই স্থানটিকে চিহ্নিত করে সেখানে ঠাকুর-মা-স্বামীজি ও স্বামী নিরঞ্জনানন্দের পট স্থাপন করে সকলে প্রণাম নিবেদন করেন। এর পর স্থানীয় ভক্তদের কঠোর পরিশ্রমে ‘শ্রীরামকৃষ্ণ-নিরঞ্জনানন্দ আশ্রম’-এর সূত্রপাত হয় ১৯৫৪ সালে। তখন বাৎসরিক উৎসব হত চণ্ডীমণ্ডপে ও আটচালায়।

ঘোষ পরিবারের মণিভূষণ ঘোষ দু’ শতক জমি আশ্রমকে দান করেন। সন্ন্যাসগ্রহণের পর নিরঞ্জন মহারাজ যখন শেষ বার আটচালায় এসেছিলেন সেই ঘটনার সাক্ষী ছিলেন মণিভূষণ ঘোষ মহাশয়। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন স্নানযাত্রার দিন আশ্রমের নবনির্মিত মন্দিরের দ্বার উদ্ঘাটন করেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের পূজ্যপাদ শ্রীমৎ স্বামী ভূতেশানন্দজি।

নিরঞ্জন সম্পর্কে ঠাকুর বলেছিলেন, “ঈশ্বরকোটি, রামচন্দ্রের অংশে জন্ম।” রাখি পূর্ণিমার পুণ্য লগ্নে সেই পুণ্যপুরুষ স্বামী নিরঞ্জনানন্দের প্রতি রইল আমাদের প্রণাম।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার:

শ্রীরামকৃষ্ণ-ভক্তমালিকা – স্বামী গম্ভীরানন্দ

বিশ্বচেতনায় শ্রীরামকৃষ্ণ – সম্পাদনায় স্বামী প্রমেয়ানন্দ, নলিনীরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় ও স্বামী চৈতন্যানন্দ

শ্রীম কথিত শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত

Continue Reading

প্রবন্ধ

যোগকেন্দ্র-জিম খোলার এটাই কি যথার্থ সময়?

অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র। সব কিছুই যখন একে একে খুলছে, তা হলে যোগকেন্দ্র অথবা জিম সেন্টার কেন নয়? লিখলেন ত্রিশিরা তঙ্কাদার

৫ আগস্ট থেকে যোগকেন্দ্র এবং জিম খোলার শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কোভিড-১৯ মহামারি (Covid-19 pandemic) পরিস্থিতিতে তৃতীয় ধাপের আনলক-এ শরীরচর্চার অন্যতম কেন্দ্রগুলি খোলার অনুমতি দেওয়ার পরেও দোটানায় ভুগছেন সেখানকার কর্তৃপক্ষ এবং সেখানে গিয়ে শরীরচর্চাকারী সদস্যরাও।

লকডাউনের জেরে বদ্ধঘরে থাকতে থাকতে এক দিকে যেমন স্থবিরতা আসছে শরীরে, তেমনই জড়তা জড়িয়ে ধরছে মনকেও। ঘরে বসে যতই শরীরচর্চা করা হোক না কেন, কেন্দ্রের মতো প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধান এবং যথোপযুক্ত পরিবেশ বাড়িতে অমিল। সারা পৃথিবীতে এমন কয়েক লক্ষ মানুষ রয়েছেন, যাঁরা ওষুধের পাশাপাশি শরীরচর্চাকেও রোগ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার উপাদান হিসেবে মেনে চলেন। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের জেরে যোগকেন্দ্র অথবা জিমে না যেতে পারার কারণে তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়াটাই স্বাভাবিক। সঙ্গে মানসিক বিষণ্ণতা তো রয়েইছে। কিন্তু করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন এই কেন্দ্রগুলি খুলে দেওয়া হলে উল্টো ফল যদি হয়!

এ ধরনের কেন্দ্রগুলি মূলত বদ্ধঘরেই হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা আবার বলছেন, বদ্ধঘরে এক জনের থেকে আর এক জনের শরীরে ভাইরাস সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি। ফলে কোনো উপসর্গহীন আক্রান্ত আগাম না বুঝেই যদি কেন্দ্রে আসেন, সে ক্ষেত্রে তাঁর থেকে অন্য কারো সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। এ ক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টিতেও সমান ভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রটির দরজা-জানলা খোলা রেখে আয়তনের তুলনায় কতজন সদস্যকে অনুমতি দেওয়া হবে, সেটাও দেখার বিষয়।

অন্য দিকে মাস্ক পরার বিষয়টিতে এখন সবমহলের তরফে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যোগ অথবা জিমের ক্ষেত্রে মাস্ক পরা অবস্থায় শরীরচর্চা করা কতটা যুক্তযঙ্গত, তা নিয়েও বিশেষজ্ঞ মহল একমত হতে পারছে না। ব্যায়ামের সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের ওঠানামার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধার সৃষ্টি করতে পারে, এমন কোনো মাস্ক পরে ব্যায়াম করলে হিতে বিপরীত হতে পারে কি না, সেটা নিয়েও চলছে জোর আলোচনা।

এ ব্যাপারে চলে আসছে আমেরিকা প্রসঙ্গও। আক্রান্তের সংখ্যা যখন চূড়োর দিকে দৌড়োচ্ছে, তখন জর্জিয়া, ওকলাহোমার বেশ কিছু জিম সদস্যদের জন্য দরজা খুলে দেয়। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই দেখা যায়, সংক্রমণ ছড়ানোর উৎস হয়ে উঠছে সেগুলি। কারণ, এ ধরনের কেন্দ্রগুলিতে যতই স্যানিটাইজেশন করা হোক না কেন, সর্বক্ষণ শারীরিক দূরত্ব, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা মুশকিলের কাজ। সেখানকার সরঞ্জামগুলো একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করেন। অন্য দিকে হংকং কিন্তু করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে জিমের দরজা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করে দেয়।

তবে কেন্দ্রীয় সরকার যখন অনুমোদন দিয়েছে, তখন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা এক প্রকার নিশ্চিত। একটি মহল এমনও বলছে, দোকান-বাজার, গণপরিবহণ যখন সব কিছুই খোলা, তখন যোগ-জিম সেন্টার আর কী দোষ করল!

হু কী বলছে?

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সাম্প্রতিক একটি পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, বায়ু চলাচল অবরুদ্ধ কোনো ভিড়যুক্ত স্থান কোনো আক্রান্তের থেকে অন্যের শরীরে ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বদ্ধঘরের বিষয়টি ব্যতিরেকেও আরও একটি অন্যতম কারণ, শরীরচর্চার সময় গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা থেকে যায়। এমনিতেই ড্রপলেটের মাধ্যমে ভাইরাসের বেশকিছুটা দূরত্ব অগ্রসর হওয়ার প্রমাণও মিলেছে। ফলে জিমে গিয়ে আধঘণ্টা থেকে একঘণ্টা সময় অতিবাহিত করার বিষয়টিতে আশঙ্কা থেকে যেতে পারে।

আবার একই সঙ্গে সংস্থা দাবি করেছে, কোনো প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে আধঘণ্টার শরীরচর্চা অনাক্রম্যতা বজায় রাখতে সহায়ক।

সংকট বাড়ছে জিম-মালিকদের

কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা জারির পর উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানার মতো রাজ্য সরকারগুলিও আগামী ৫ আগস্ট থেকে জিম খোলার শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে।

জিম-মালিকরা বলছেন, মহামারিতে চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন তাঁরা। এমনিতে মাস চারেক সম্পূর্ণ বন্ধ, তার উপর বকেয়া বিল মেটানোরও কোনো লক্ষণ নেই। বাড়িভাড়া-সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। যোগ অথবা জিমের প্রশিক্ষকরা অনলাইনে প্রশিক্ষণ দিলেও সেখান থেকে আয় নামমাত্র।

এমন পরিস্থিতিতে অন্যান্য ক্ষেত্রের মতোই তাঁরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেন্দ্রগুলি চালু করতে আগ্রহী। কেউ কেউ স্থির করেছেন, কোনো সদস্যকে জিমে ঘুরে বেড়ানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রতিটি সদস্যকে সুতির মাস্ক এবং গ্লাভস দেওয়া হবে এবং প্রশিক্ষকরা পিপিই কিট পরে থাকবেন। এ ক্ষেত্রে জিমের মালিকরা নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত সদস্য সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনলাইনে রেজিস্টার ব্যবস্থাও চালু করছেন। তবে তাঁদের এই উদ্যোগে সদস্যরা কতটা আগ্রহ দেখাবেন, সেটাই মূল প্রশ্ন।

Continue Reading
Advertisement

বিশেষ প্রতিবেদন

Advertisement
শিল্প-বাণিজ্য7 hours ago

লকডাউনেও ২২ শতাংশ নিট মুনাফা বাড়ল বিপিসিএলের

রাজ্য8 hours ago

আক্রান্তের সংখ্যায় রেকর্ড, তবে দীর্ঘদিন পর রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণের হার নামল দশ শতাংশের নীচে

বিজ্ঞান8 hours ago

অক্সফোর্ড করোনা ভ্যাকসিন আপডেট: নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে হিউম্যান ট্রায়াল

গাড়ি ও বাইক9 hours ago

ব্যাটারি ছাড়াই কেনা যাবে ইলেকট্রিক গাড়ি, নির্দেশ কেন্দ্রের

অনুষ্ঠান9 hours ago

রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির হাত ধরে প্রয়াত অমলা শঙ্করের প্রতি অনলাইন অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধাঞ্জলি অগ্নিবীণা ডান্স অ্যাকাডেমির

দেশ9 hours ago

ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক রক্তের, বললেন নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

রাজ্য9 hours ago

পেশাগত রোগ সিলিকোসিসে ঝরছে শ্রমিকের প্রাণ! দায় নেবে কে?

ক্রিকেট10 hours ago

কোহলি-স্মিথ-উইলিয়ামসনরা অভিষেক করার আগে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন তিনি, ফের সুযোগ পেলেন বৃহস্পতিবার

কেনাকাটা

care care
কেনাকাটা16 hours ago

চুল ও ত্বকের বিশেষ যত্নের জন্য ১০০০ টাকার মধ্যে এই জিনিসগুলি ঘরে রাখা খুবই ভালো

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পার্লার গিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার সময় অনেকেরই নেই। সেই ক্ষেত্রে বাড়িতে ঘরোয়া পদ্ধতি অনেকেই অবলম্বন করেন। বাড়িতে...

কেনাকাটা1 week ago

ঘর ও রান্নাঘরের সরঞ্জাম কিনতে চান? অ্যামাজন প্রাইম ডিলে রয়েছে ৫০% পর্যন্ত ছাড়

খবরঅনলাইন ডেস্ক : অ্যামাজন প্রাইম ডিলে রয়েছে ঘর আর রান্না ঘরের একাধিক সামগ্রিতে প্রচুর ছাড়। এই সেলে পাওয়া যাচ্ছে ওয়াটার...

কেনাকাটা1 week ago

এই ১০টির মধ্যে আপনার প্রয়োজনীয় প্রোডাক্টটি প্রাইম ডে সেলে কিনতে পারেন

খবরঅনলাইন ডেস্ক : চলছে অ্যামাজনের প্রাইমডে সেল। প্রচুর সামগ্রীর ওপর রয়েছে অনেক ছাড়। ৬ ও ৭  তারিখ চলবে এই সেল।...

কেনাকাটা1 week ago

শুরু হল অ্যামাজন প্রাইম ডে সেল, জেনে নিন কোন জিনিসে কত ছাড়

খবরঅনলাইন ডেস্: শুরু হল অ্যামাজন প্রাইম ডে সেল। চলবে ২ দিন। চলতি মাসের ৬ ও ৭ তারিখ থাকছে এই অফার।...

things things
কেনাকাটা2 weeks ago

করোনা আতঙ্ক? ঘরে বাইরে এই ১০টি জিনিস আপনাকে সুবিধে দেবেই দেবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে এবং বাইরে নানাবিধ সাবধানতা অবলম্বন করতেই হচ্ছে। আগামী বেশ কয়েক মাস এই নিয়মই অব্যাহত...

কেনাকাটা2 weeks ago

মশার জ্বালায় জেরবার? এই ১৪টি যন্ত্র রুখে দিতে পারে মশাকে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: একে করোনা তায় আবার ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। এই সময় প্রতি বারই মশার উৎপাত খুবই বাড়ে। এই বারেও...

rakhi rakhi
কেনাকাটা3 weeks ago

লকডাউন! রাখির দারুণ এই উপহারগুলি কিন্তু বাড়ি বসেই কিনতে পারেন

সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে মনের মতো উপহার কেনা একটা বড়ো ঝক্কি। কিন্তু সেই সমস্যা সমাধান করতে পারে অ্যামাজন। অ্যামাজনের...

কেনাকাটা3 weeks ago

অনলাইনে পড়াশুনা চলছে? ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ৪০ হাজার টাকার নীচে ৬টি ল্যাপটপ

ইনটেল প্রসেসর সহ কোন ল্যাপটপ আপনার অনলাইন পড়াশুনার কাজে লাগবে জেনে নিন।

কেনাকাটা4 weeks ago

করোনা-কালে ঘরে রাখতে পারেন ডিজিটাল অক্সিমিটার, এই ১০টির মধ্যে থেকে একটি বেছে নিতে পারেন

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বুঝতে সাহায্য করে এই অক্সিমিটার।

কেনাকাটা4 weeks ago

লকডাউনে সামনেই রাখি, কোথা থেকে কিনবেন? অ্যামাজন দিচ্ছে দারুণ গিফট কম্বো অফার

খবরঅনলাইন ডেস্ক : সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে দোকানে গিয়ে রাখি, উপহার কেনা খুবই সমস্যার কথা। কিন্তু তা হলে উপায়...

নজরে

Click To Expand