Connect with us

প্রবন্ধ

সোমেন মিত্রের ‘অনুভব’, ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক জীবনের অকপট স্বীকারোক্তির কয়েকটা পাতা

মাঝে কংগ্রেস ছেড়ে নিজের দল গঠন এবং তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেও শেষ দিন পর্যন্ত তিনি কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গর্বিত কংগ্রেসি সোমেন মিত্র। ছবি: রাজীব বসু

অরুণাভ গুপ্ত, প্রবীণ সাংবাদিক

কোনো রাজনীতির নামগন্ধ নেই। কেন না কস্মিনকালেও হাতে-কলমে রাজনীতি করিনি। আমি, না আমার বাড়ির কেউ। সে ক্ষেত্রে ‘চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম’ আমার বেলায় খাটে না। ঘটনাপ্রবাহ বা কাকতালীয় যেটাই হোক না, আদ্যোপান্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সমূহের সংস্পর্শে আসার সুযোগ ঘটে যায়। যেমন সোমেন মিত্র মিত্র মহাশয় – সকলের সোমেনদা, আমারও সোমেনদা।

শুরুর শুরু

একটা কথা পরিস্কার করে রাখি – কখনোই এমন দাবি করার দু:সাহস বা এলেম আমার নেই যে গলা ছেড়ে হাঁকব, সোমেনদার সঙ্গে আমার দারুণ হৃদ্যতা ছিল। বন্ধুদের সৌজন্যে পরিচয় ও আলাপ ঘটেছিল এবং ডাকাবুকো, স্পষ্ট বক্তা মানুষটার প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবসা জন্মেছিল। ১৯৬৩ সালে সেন্ট পলস কলেজে ঢোকা, অসংখ্য বন্ধু, অসংখ্য আড্ডা এবং পড়াশোনা। বন্ধুদের মধ্যে কিছু আবার প্রিয়বন্ধু থাকে। যেমন এদের মধ্যে অধীপ চট্টোপাধ্যায়, মিহিরকিরণ ভট্টাচার্য আরও অনেকে। কলেজ লাইফে অধীপ ওরফে বুবু আমহার্স্ট স্ট্রিটের ছেলে এবং সেন্ট পলস কলেজ লাগোয়া ওর বাড়ি। ফলে ওর বাড়িতেও যাতায়াত ছিল। অনেককে মাসিমা ডেকেছি, কিন্তু অধীপের মা ছিলেন সেরার সেরা মাসিমা। এ হেন অধীপের সৌজন্যে সোমেনদার সঙ্গে পরিচয় এবং তাঁর সম্পর্কে মোটামুটি ওয়াকিবহাল হওয়া এবং তিন বছর কলেজপড়ুয়া থাকাকালীন উপলব্ধি করা – সোমেন মিত্র শুধুমাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, এলাকার প্রতিটা মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও আপনজন, এমন ভালোবাসা আদায় করার মতো বিশেষ বৈশিষ্ট্য ওঁর ছিল বলেই পরিচিতি সীমানা ছাড়িয়ে ব্যাপকতর হয়েছে। ছাত্রাবস্থায় এটা বুঝতে অসুবিধা হয়নি।

কলেজ ইউনিভার্সিটির পাট চুকিয়ে যে যার মতো বন্ধুরা সেটেলড। বিশাল গ্যাপ- এর পর হঠাৎ একদিন মিহিরকিরণ ভট্টাচার্য এসে হাজির আমার অফিসে। ওর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল-ই। বলল, চল সোমেনদার ওখানে যাব। ‌‌

আকাশ থেকে পড়লাম, কেন?

বইমেলায় ‘পুনশ্চ’ সোমেনদার বই প্রকাশ করবে। তো?-

সোমেনদার ‘অনুভব’

বইমেলা ২০০১-এ প্রথম প্রকাশিত হয় সোমেনদার ‘অনুভব’। কংগ্রেস রাজনীতিতে সোমেন মিত্র (Somen Mitra) একটি বিতর্কিত চরিত্র। কখনও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেস থেকে সরিয়েছেন, আবার কখনও অভিযোগ ওঠে, তিনি প্রতিক্রিয়াশীলদের দালাল আবার গোপনে বামপন্থীদের সঙ্গে যথেষ্ট আঁতাঁত রেখে চলেছেন। পাঠকদের মনে তাঁকে নিয়ে তৈরি হওয়া যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে নিজেই হাতে কলম তুলে নিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক জীবনের অকপট স্বীকারোক্তিতে ভরপুর সেই বইয়ের প্রতিটা পৃষ্ঠা।

‘অনুভব’-এর ভূমিকায় সোমেনদা লিখেছিলেন, “আমার বহুদিনের বন্ধু মিহিরকিরণ ভট্টাচার্য ও তাঁর সহযোগী অরুণাভ গুপ্ত এই বই লেখার ক্ষেত্রে অকৃপণ সহযোগিতা করেছেন”। আসলে সোমেনদা ভালো করেই জানতেন, তাঁকে নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের অন্ত ছিল না। সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর নিজের মুখে দিতেই কলম তুলে নিয়েছিলেন। আমরা যতটা সম্ভব তাঁকে সহযোগিতা করেছিলাম। মিহির আমাদের ছেড়ে গিয়েছে আগেই, এ বার চলে গেলেন সোমেনদা।

আরও পড়ুন: প্রয়াত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র, বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর

খোলা মনেই কলম চালিয়েছিলেন সোমেনদা। কোনো রকম রাখঢাক না করেই নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানান ঘাত-প্রতিঘাতের কথা ব্যক্ত করেছিলেন। আনন্দ-যন্ত্রণার মোড়কে মোড়া। সবই লিখেছেন। বলেছেন, “এমনিতেই হাতে মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা। কৃপণের মতো খরচ করতে হয়। তার উপর জাবর কেটে সময় অপচয় করার মতো মানসিকতা নেই। তবে মাঝেমধ্যে হিসেবি মন বেহিসেবি হতে চায়। কত আর শাসন করব, কিছুক্ষণের জন্য মন উড়ুক”।

রাজনীতির আকর্ষণ

সোমেন মিত্রের জন্ম ১৯৪৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এখনকার বাংলাদেশের যশোরের কলোরা গ্রামে। বাবা ধীরেন্দ্রনাথ মিত্র, মা মায়ারানি। দেশভাগের কবলে পড়ে কলকাতায় আগমন। সেন্ট পলস স্কুলের গণ্ডি ডিঙিয়ে সিটি কলেজে ভরতি হন। সেন্ট পলসে বন্ধুত্ব ভাস্কর সেনের সঙ্গে। তাঁর বাবা বীজেশ সেন ছিলেন কংগ্রেসের একজন নামকরা নেতা। তাঁর কাছেই সোমেনদার রাজনীতির হাতেখড়ি।

গোটা একটা অধ্যায়। ছবি: রাজীব বসু

তাঁর কথায়, “বীজেশ সেনই আমাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে টেনে আনলেন।। তাঁর কাছেই আমার রাজনীতির হাতেখড়ি। অবশ্য কংগ্রেসের মত-আদর্শ এবং নীতিতে আমি বরাবরই অন্ধভক্ত ছিলাম। আমার বাড়ির প্রতিটি সদস্য কংগ্রেসে অনুরক্ত থাকায় আমি সেই ভাবাদর্শেই নিজেকে তৈরি করেছিলাম। আগুন বুকের নিভৃতে ধিকিধিক জ্বলছিল। আর ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই বীজেশ সেন মহাশয়ের উপস্থিতি আগুনে ঘি ঢেলে দিল। আমি দপ করে জ্বলে উঠলাম। শুরু হল আমার সক্রিয় রাজনীতি। তৈরি আগেই ছিলাম, এ বার ঘষামাজা শুরু হল”।

স্মৃতিকোঠায় সযত্নে রাখা একটি দিন

লম্বা রাজনৈতিক জীবনে ঘটনার ঘনঘটার শেষ নেই। প্রতিবাদ, আন্দোলন, মুষড়ে পড়া আবার উঠে দাঁড়ানো অথবা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসা – ঘড়ির কাঁটার মতোই অবিরাম ঘুরে চলে সোমেনদার জীবনে। তবে নিজের জীবনের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসাবে তিনি চিহ্নিত করেছিলেন ১৯৬৯ সালের ১৫ আগস্টকে। ওই দিনটিতে বরাবরের মতোই মহম্মদ আলি পার্কে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধার্থশংকর রায়, বিজয়সিং নাহার প্রমুখ। সেই সভায় বিমাতৃসুলভ আচরণের প্রতিবাদ করায় গন্ডগোল বাঁধে। যা-ই হোক, সন্ধ্যায় সকলে বাড়ি ফিরে গেলেন। এলাকায় ফিরে কর্মীদের সঙ্গে গল্পগুজব করার সময় হঠাৎ দেখেন অদূরে খ্রিস্টান কমপাউন্ডে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। পরপর বোমার আওয়াজ। গতিক ভালো নয় বুঝে যে যাঁর বাড়ি ফিরে গেলেন।

সোমেনদা লিখেছেন, “রাতে যথারীতি খেতে বসেছি সকলের সঙ্গে। এমন সময় এক ভ্যান পুলিশ দোরগড়ায় এসে উপস্থিত। কোলাপসিবল গেট ঝাঁকানি শুনতে পেলাম। শুনলাম পুলিশ পুরো বাড়ি ঘিরে ফেলেছে। আমার খোঁজ করছে।…সামনাসামনি হতেই কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই আমাকে সোজা ভ্যানে চালান করে দেওয়া হল”।

আরও পড়ুন: যৌবনের প্রতীক ছিলেন সোমেন মিত্র, লিখলেন অরুণাভ ঘোষ

সেই প্রথম কলকাতা পুলিশের দুঁদে অফিসার দেবী রায়কে দেখলেন সোমেনদা। তিনি জানালেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আছে। পর দিন আদালতে গিয়ে জানা গেল, ওই ১৫ আগস্ট রাতে স্ট্রিট কর্নার চলাকালীন সিপিআইয়ের বিজয় রায় খুন হয়েছেন। সেই দোষ বা অপরাধই সোমেনদা এবং অন্য অভিযুক্তদের ঘাড়ে এসে পড়েছে। ১৪ দিন জেল খাটতে হল। হেবিয়াস কর্পাস করে সোমেনদাকে ছাড়ালেন অজিত পাঁজা। জেল থেকে বেরিয়ে সামনে দেখলেন তখনকার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রতাপচন্দ্র চন্দ্র, প্রফুল্ল সেন প্রমুখ বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতৃত্বকে। ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দনও জানানো হল।

এক গর্বিত কংগ্রেস কর্মী

১৯৬৯ সালেই শুরু নকশাল আন্দোলনের। সোমেনদার অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুও নকশাল রাজনীতিতে সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলেন। রাজনৈতিক মতাদর্শগত ভাবে আকাশ-পাতাল ফারাক থাকলেও তাঁদের শ্রদ্ধা করতেন সোমেনদা। তবে একটা সামাজিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘাতও শুরু হয়ে যায়। এমন আবহে সিপিআই নেতার খুন হওয়ার ঘটনা নতুন মোড় নিয়ে এল। সোমেনদা বলেছিলেন, “নকশালরা সিপিআই নেতা বিজয় রায়কে খুন করেছে”। যা হোক জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ডা. হারাধন সরকার পিঠ চাপড়ে বলেছিলেন, “সোমেন তুমি ভাগ্যবান”।

আর সোমেনদার কথায়, “সত্যি বলতে কি আমি এই প্রথম নিজেকে গর্বিত কংগ্রেস কর্মী বলে মনে করলাম”।

[সাংবাদিক সম্মেলনে সোমেন। পাশে অজিতকুমার পাঁজা। সংগৃহীত ছবি]

সেই গর্ব বজায় রইল জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। মাঝে কংগ্রেস ছেড়ে নিজের দল গঠন এবং তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেও শেষ দিন পর্যন্ত তিনি কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি। প্রথম জীবনে পাওয়া সেই অকৃত্রিম সম্মানের ধারাবাহিকতাকে সঙ্গী করেই বিদায় নিলেন সোমেনদা। এই অনুভূতিটাই বা কম কীসে?

ঋণস্বীকার: অনুভব/ সোমেন মিত্র/ পুনশ্চ

প্রবন্ধ

শ্রাবণের এই রাখিপূর্ণিমাতেই জন্মেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ-শিষ্য স্বামী নিরঞ্জনানন্দ

শুভদীপ রায় চৌধুরী

সময়টা ১৮৮১-৮২ সালের কোনো এক দিন। দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে দর্শন করতে হাজির কলকাতার এক যুবক। বয়স ১৮-১৯। ঠাকুর সে সময় থাকতেন দক্ষিণেশ্বরে রানি রাসমণির প্রতিষ্ঠিত কালীবাড়িতে। তাঁর অদ্ভুত ঈশ্বরনির্ভর জীবন ও সহজ সরল ব্যবহার তখনকার কলকাতার অনেকেই জানতেন এবং তাতে আকৃষ্ট হয়ে তাঁর কাছে ছুটে আসতেন। লোকমুখে ঠাকুরের কথা শুনে সেই যুবকও তাঁকে দর্শন করবেন বলে দক্ষিণেশ্বরে এসেছেন। দেখলেন ঠাকুর ভক্তপরিবেষ্টিত হয়ে রয়েছেন। সন্ধে হতেই ভক্তরা একে একে চলে গেলে ঠাকুর তাঁর ভবিষ্যতের প্রিয় শিষ্যকে পাশে বসিয়ে অনেক কথা বললেন, যেন কত দিনের চেনা। ভবিষ্যতের সেই প্রিয় শিষ্য হলেন নিত্যনিরঞ্জন ঘোষ তথা স্বামী নিরঞ্জনানন্দ।   

তাঁর তরুণ ভক্তের শক্তি ভুল পথে ব্যয়িত হচ্ছে দেখে শ্রীরামকৃষ্ণ চিন্তিত হলেন। বললেন, “দ্যাখ নিরঞ্জন, ভূত ভূত করলে তুই ভূত হয়ে যাবি, আর ভগবান ভগবান করলে ভগবান হবি। তা কোনটা হওয়া ভালো?” নিরঞ্জন সরল ভাবেই উত্তর দিলেন, তা ভগবান হওয়াই ভালো।

ঠাকুর কেন হঠাৎ সে দিন নিরঞ্জনের ভূত-সঙ্গের কথা পেড়েছিলেন? একটু পেছনে ফিরে যাওয়া যাক।  

উচ্চ আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন নিত্যনিরঞ্জন ১২৬৯ বঙ্গাব্দের (১৮৬২ খ্রিস্টাব্দ) শ্রাবণ পূর্ণিমার দিন রাজারহাট-বিষ্ণুপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে এই অঞ্চলটি কলকাতার মধ্যে অবস্থিত হলেও অতীতে এটি অবিভক্ত চব্বিশ পরগনার একটি গ্রাম ছিল। নিত্যনিরঞ্জনের বাবার নাম ছিল অম্বিকাচরণ ঘোষ। বারাসতের পণ্ডিত কালীকৃষ্ণ মিত্র ছিলেন নিরঞ্জনের মামা। মাতুলের কলকাতাস্থ বাড়িতে থেকে নিরঞ্জন লেখাপড়া করতেন।

স্বামী নিরঞ্জনানন্দ।

শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে আসার আগে নিরঞ্জন আহিরীটোলানিবাসী ডাক্তার প্যারীচাঁদ মিত্রের বাড়িতে একটি প্রেততত্ত্বান্বেষী দলের সঙ্গে পরিচিত হন। তারা নিরঞ্জনকে ভূত নামানোর মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করত। এই ভাবে ভূতুড়েদের দলে যাতায়াত করতে করতে একটি ঘটনায় নিরঞ্জনের মনে বৈরাগ্যের সঞ্চার হয়। দীর্ঘ ১৮ বছর অনিদ্রায় ভোগার পর জনৈক ধনী ব্যক্তি নিরঞ্জনের শরণাপন্ন হন। নিরঞ্জন পরে বলেছিলেন, তাঁকে ওই ভাবে দারুণ কষ্ট পেতে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, তা হলে আর এত ধনসম্পত্তির কী প্রয়োজন।

বৈরাগ্য থেকেই নিরঞ্জনের মনে আধ্যাত্মিক রাজ্যের দ্বার খুলে গিয়েছিল। তত দিনে শুনেছেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কথা। তাঁর অতুলনীয় ভগবৎপ্রেম ও আকর্ষণীয় উপদেশের কথা তখন লোকের মুখে মুখে প্রচার হচ্ছে। নিরঞ্জন ছুটে এলেন দক্ষিণেশ্বরে। সে দিন নিরঞ্জনকে ভুতুড়েসঙ্গ ত্যাগ করতে বলেছিলেন ঠাকুর এবং নিরঞ্জনে সেই সঙ্গ ত্যাগ করেছিলেন।

এর কয়েক দিন পরে নিরঞ্জন আবার এলেন দক্ষিণেশ্বরে। ঠাকুর ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন তাঁকে, বললেন, “ওরে নিরঞ্জন, দিন যে যায়রে – তুই ভগবান লাভ করবি কবে? দিন যে চলে যায়, ভগবানকে লাভ না করলে সবই যে বৃথা যাবে। তুই কবে তাঁকে লাভ করবি বল, কবে তাঁর পাদপদ্মে মন দিবি বল? আমি যে তাই ভেবে আকুল!” নিরঞ্জন অবাক হয়ে ভাবলেন, ইনি কে? আমার ভগবানলাভ হচ্ছে না বলে, দিন চলে যাচ্ছে বলে আমার জন্য এঁর এত আর্তি কেন? পরের জন্য এ কি অহৈতুকী ভালোবাসা! নিরঞ্জন এ রহস্য ভেদ করতে পারলেন না বটে, কিন্তু ঠাকুরের এই আবেগভরা কথায় তাঁর হৃদয় বিগলিত হল। সে দিন আর কলকাতায় ফিরে যেতে পারলেন না তিনি। সেই দিন তো ছার, পর পর তিন দিন নিরঞ্জন থেকে গেলেন দক্ষিণেশ্বরে।

নিরঞ্জনের সরলতা ঠাকুরকে প্রথম থেকেই মুগ্ধ করেছিল। একদিন শ্রীম তথা মাস্টারমশায়কে ঠাকুর বলেছিলেন, “তোমায় নিরঞ্জনের সঙ্গে দেখা করতে বলছি কেন? সে সরল ইহা সত্য কি না, এইটি দেখবে বলে।” ১৮৮৪-এর ১৫ জুন কাঁকুড়গাছিতে সুরেন্দ্রনাথ মিত্রের বাগানবাড়িতে এক মহোৎসবে যোগ দেন ঠাকুর। এক সময় নিরঞ্জন এসে ঠাকুরকে ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করলেন। ঠাকুর তাঁকে দেখেই উঠে দাঁড়ালেন, বললেন, “তুই এসেছিস।” কাছেই ছিলেন মাস্টার (শ্রীম)। নিরঞ্জনকে দেখিয়ে তাঁকে বললেন,  “দেখ, এ ছোকরাটি বড় সরল। সরলতা পূর্বজন্মে অনেক তপস্যা না করলে হয় না। কপটতা পাটোয়ারী এসব থাকতে ঈশ্বরকে পাওয়া যায় না।”

নিরঞ্জনের সরলতা ও বৈরাগ্যের জন্য ঠাকুর তাঁর প্রতি অত্যন্ত স্নেহপরায়ণ ছিলেন। একদিন এই প্রসঙ্গে ঠাকুর বলেছিলেন, “দেখছ না নিরঞ্জনকে? তোর এই নে, আমার এই দে”- ব্যস, আর কোন সম্পর্ক নাই। পেছু টান নাই।”

নিরঞ্জনের স্বভাবে কিছুটা উগ্র ভাব থাকলেও তিনি ছিলেন খুবই সাহসী। আর ভেতরে ভেতরে ছিলেন কোমল প্রকৃতির এক মানুষ, অত্যন্ত সেবাপরায়ণ। ঠাকুরের দেহত্যাগের পর নরেন্দ্রনাথ-সহ গুরুভাইরা যখন আঁটপুরে যান তখন নিরঞ্জনও গিয়েছিলেন। স্নান করতে গিয়ে একদিন সারদাপ্রসন্ন (পরবর্তী কালে স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ) পুকুরে ডুবে যাচ্ছিলেন। তখন প্রাণের মায়া ত্যাগ করে নিরঞ্জন পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। ১৮৮৮ সালে লাটু মহারাজের নিউমোনিয়া হলে নিরঞ্জন মহারাজ তাঁর সেবার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ভক্তপ্রবর বলরামবাবুর শেষ অসুখের সময়ও নিরঞ্জন প্রাণ ঢেলে তাঁর সেবা করেছিলেন।

গুরুভাইদের সঙ্গে স্বামী নিরঞ্জনানন্দ (একেবারে ডান দিকে)।

১৮৮৭ সালের প্রথম দিকে বরানগরে অন্য গুরুভ্রাতাদের সঙ্গে নিরঞ্জনও সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর নাম রাখেন ‘স্বামী নিরঞ্জনানন্দ’। সন্ন্যাস গ্রহণের পরেই তিনি শ্রীক্ষেত্র পুরীধামে গিয়ে ৮ এপ্রিল মঠে ফিরে আসেন। এর পর ১৮৮৯-এর নভেম্বরে আবার বেরিয়ে পড়েন স্বামী নিরঞ্জনানন্দ। প্রথমে দেওঘরে বৈদ্যনাথ দর্শন করেন। তার পর সেখান থেকে কাশীতে যান এবং বংশীদত্তের বাড়িতে কিছু দিন থেকে তপস্যা করেন। এ সময় তিনি মাধুকরী ভিক্ষা করে খেতেন। এরই মধ্যে স্বামী যোগানন্দের অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে তিনি প্রয়াগে যান। সেই সুযোগে স্বামী নিরঞ্জনানন্দের কল্পবাসও হয়। পরে উত্তর ভারতের আরও কিছু তীর্থদর্শনে বেরিয়ে পড়েন তিনি এবং কোনো কোনো জায়গায় তপস্যাও করেন।  

কালীকিঙ্কর বোস তখনও স্বামী বিরজানন্দ হননি। ১৮৯১-৯২ সালে তখন তাঁর বয়স ১৮-১৯, বরানগর মঠে যাতায়াত শুরু করেছেন। সেই সময় নিরঞ্জন মহারাজকে প্রায়ই দেখতেন দক্ষিণেশ্বরের যেতে। সেখানে পঞ্চবটীতলায় ও ঠাকুরের ঘরে ধ্যান করতেন তিনি। মাঝেমধ্যে কালীকিঙ্করও তাঁর সঙ্গী হতেন। ১৮৯৩ সালে স্বামী নিরঞ্জনানন্দ আবার তীর্থদর্শনে এবং তপস্যার জন্য বেরিয়ে পড়লেন। ১৮৯৫ সালের প্রথম দিকে ঠাকুরের জন্মোৎসবের আগে তিনি আলমবাজার মঠে ফিরে আসেন।

স্বামী নিরঞ্জনানন্দ খুবই শৃঙ্খলাপরায়ণ ছিলেন। খবর পেলেন স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্ব জয় করে ১৮৯৬-এর শেষ দিকে পশ্চিমের দেশ থেকে ভারতের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেই খবর পেয়ে নিরঞ্জন মহারাজ বিশ্ববিজয়ী গুরুভাইকে অভ্যর্থনা জানাতে কলম্বো রওনা দেন। পরের বছর ১৫ জানুয়ারি স্বামীজি মহারাজ জাহাজ থেকে নামলে সর্ব প্রথম তাঁকে অভ্যর্থনা জানান নিরঞ্জন মহারাজ।

শুধুমাত্র ঠাকুরই নন, সারদাজননীর প্রতিও স্বামী নিরঞ্জনানন্দের অগাধ শ্রদ্ধাভক্তি ছিল। ঠাকুরের অদর্শনের পর শ্রীমাই ছিলেন তাঁর আশ্রয়স্থল। সবাইকে এই কথা মুক্তকণ্ঠে জানাতে দ্বিধাও করতেন না। অনেককে এই আশ্রয়ে তিনি পৌঁছেও দিয়েছেন। মা যে কেবল গুরুপত্নীই নন, তিনি যে জগজ্জননী আদ্যাশক্তি, এ কথা তিনি সর্ব সমক্ষে প্রচার করতেন।

১৯৫৩ সালের ২৪ আগস্ট স্বামী শিবানন্দ মহারাজের শিষ্য স্বামী সংশুদ্ধানন্দ মহারাজ কয়েক জন সন্ন্যাসী ও গৃহীভক্তকে নিয়ে রাজারহাট-বিষ্ণুপুরের ঘোষবাড়িতে আসেন। চণ্ডীমণ্ডপের ঠিক পূর্ব দিকের ঘরটিতে নিরঞ্জন ভূমিষ্ট হয়েছিলেন বলেই জানা যায়। সেই স্থানটিকে চিহ্নিত করে সেখানে ঠাকুর-মা-স্বামীজি ও স্বামী নিরঞ্জনানন্দের পট স্থাপন করে সকলে প্রণাম নিবেদন করেন। এর পর স্থানীয় ভক্তদের কঠোর পরিশ্রমে ‘শ্রীরামকৃষ্ণ-নিরঞ্জনানন্দ আশ্রম’-এর সূত্রপাত হয় ১৯৫৪ সালে। তখন বাৎসরিক উৎসব হত চণ্ডীমণ্ডপে ও আটচালায়।

ঘোষ পরিবারের মণিভূষণ ঘোষ দু’ শতক জমি আশ্রমকে দান করেন। সন্ন্যাসগ্রহণের পর নিরঞ্জন মহারাজ যখন শেষ বার আটচালায় এসেছিলেন সেই ঘটনার সাক্ষী ছিলেন মণিভূষণ ঘোষ মহাশয়। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন স্নানযাত্রার দিন আশ্রমের নবনির্মিত মন্দিরের দ্বার উদ্ঘাটন করেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের পূজ্যপাদ শ্রীমৎ স্বামী ভূতেশানন্দজি।

নিরঞ্জন সম্পর্কে ঠাকুর বলেছিলেন, “ঈশ্বরকোটি, রামচন্দ্রের অংশে জন্ম।” রাখি পূর্ণিমার পুণ্য লগ্নে সেই পুণ্যপুরুষ স্বামী নিরঞ্জনানন্দের প্রতি রইল আমাদের প্রণাম।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার:

শ্রীরামকৃষ্ণ-ভক্তমালিকা – স্বামী গম্ভীরানন্দ

বিশ্বচেতনায় শ্রীরামকৃষ্ণ – সম্পাদনায় স্বামী প্রমেয়ানন্দ, নলিনীরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় ও স্বামী চৈতন্যানন্দ

শ্রীম কথিত শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত

Continue Reading

প্রবন্ধ

যোগকেন্দ্র-জিম খোলার এটাই কি যথার্থ সময়?

অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র। সব কিছুই যখন একে একে খুলছে, তা হলে যোগকেন্দ্র অথবা জিম সেন্টার কেন নয়? লিখলেন ত্রিশিরা তঙ্কাদার

৫ আগস্ট থেকে যোগকেন্দ্র এবং জিম খোলার শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কোভিড-১৯ মহামারি (Covid-19 pandemic) পরিস্থিতিতে তৃতীয় ধাপের আনলক-এ শরীরচর্চার অন্যতম কেন্দ্রগুলি খোলার অনুমতি দেওয়ার পরেও দোটানায় ভুগছেন সেখানকার কর্তৃপক্ষ এবং সেখানে গিয়ে শরীরচর্চাকারী সদস্যরাও।

লকডাউনের জেরে বদ্ধঘরে থাকতে থাকতে এক দিকে যেমন স্থবিরতা আসছে শরীরে, তেমনই জড়তা জড়িয়ে ধরছে মনকেও। ঘরে বসে যতই শরীরচর্চা করা হোক না কেন, কেন্দ্রের মতো প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধান এবং যথোপযুক্ত পরিবেশ বাড়িতে অমিল। সারা পৃথিবীতে এমন কয়েক লক্ষ মানুষ রয়েছেন, যাঁরা ওষুধের পাশাপাশি শরীরচর্চাকেও রোগ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার উপাদান হিসেবে মেনে চলেন। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের জেরে যোগকেন্দ্র অথবা জিমে না যেতে পারার কারণে তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়াটাই স্বাভাবিক। সঙ্গে মানসিক বিষণ্ণতা তো রয়েইছে। কিন্তু করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন এই কেন্দ্রগুলি খুলে দেওয়া হলে উল্টো ফল যদি হয়!

এ ধরনের কেন্দ্রগুলি মূলত বদ্ধঘরেই হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা আবার বলছেন, বদ্ধঘরে এক জনের থেকে আর এক জনের শরীরে ভাইরাস সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি। ফলে কোনো উপসর্গহীন আক্রান্ত আগাম না বুঝেই যদি কেন্দ্রে আসেন, সে ক্ষেত্রে তাঁর থেকে অন্য কারো সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। এ ক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টিতেও সমান ভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রটির দরজা-জানলা খোলা রেখে আয়তনের তুলনায় কতজন সদস্যকে অনুমতি দেওয়া হবে, সেটাও দেখার বিষয়।

অন্য দিকে মাস্ক পরার বিষয়টিতে এখন সবমহলের তরফে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যোগ অথবা জিমের ক্ষেত্রে মাস্ক পরা অবস্থায় শরীরচর্চা করা কতটা যুক্তযঙ্গত, তা নিয়েও বিশেষজ্ঞ মহল একমত হতে পারছে না। ব্যায়ামের সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের ওঠানামার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধার সৃষ্টি করতে পারে, এমন কোনো মাস্ক পরে ব্যায়াম করলে হিতে বিপরীত হতে পারে কি না, সেটা নিয়েও চলছে জোর আলোচনা।

এ ব্যাপারে চলে আসছে আমেরিকা প্রসঙ্গও। আক্রান্তের সংখ্যা যখন চূড়োর দিকে দৌড়োচ্ছে, তখন জর্জিয়া, ওকলাহোমার বেশ কিছু জিম সদস্যদের জন্য দরজা খুলে দেয়। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই দেখা যায়, সংক্রমণ ছড়ানোর উৎস হয়ে উঠছে সেগুলি। কারণ, এ ধরনের কেন্দ্রগুলিতে যতই স্যানিটাইজেশন করা হোক না কেন, সর্বক্ষণ শারীরিক দূরত্ব, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা মুশকিলের কাজ। সেখানকার সরঞ্জামগুলো একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করেন। অন্য দিকে হংকং কিন্তু করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে জিমের দরজা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করে দেয়।

তবে কেন্দ্রীয় সরকার যখন অনুমোদন দিয়েছে, তখন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা এক প্রকার নিশ্চিত। একটি মহল এমনও বলছে, দোকান-বাজার, গণপরিবহণ যখন সব কিছুই খোলা, তখন যোগ-জিম সেন্টার আর কী দোষ করল!

হু কী বলছে?

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সাম্প্রতিক একটি পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, বায়ু চলাচল অবরুদ্ধ কোনো ভিড়যুক্ত স্থান কোনো আক্রান্তের থেকে অন্যের শরীরে ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বদ্ধঘরের বিষয়টি ব্যতিরেকেও আরও একটি অন্যতম কারণ, শরীরচর্চার সময় গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা থেকে যায়। এমনিতেই ড্রপলেটের মাধ্যমে ভাইরাসের বেশকিছুটা দূরত্ব অগ্রসর হওয়ার প্রমাণও মিলেছে। ফলে জিমে গিয়ে আধঘণ্টা থেকে একঘণ্টা সময় অতিবাহিত করার বিষয়টিতে আশঙ্কা থেকে যেতে পারে।

আবার একই সঙ্গে সংস্থা দাবি করেছে, কোনো প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে আধঘণ্টার শরীরচর্চা অনাক্রম্যতা বজায় রাখতে সহায়ক।

সংকট বাড়ছে জিম-মালিকদের

কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা জারির পর উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানার মতো রাজ্য সরকারগুলিও আগামী ৫ আগস্ট থেকে জিম খোলার শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে।

জিম-মালিকরা বলছেন, মহামারিতে চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন তাঁরা। এমনিতে মাস চারেক সম্পূর্ণ বন্ধ, তার উপর বকেয়া বিল মেটানোরও কোনো লক্ষণ নেই। বাড়িভাড়া-সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। যোগ অথবা জিমের প্রশিক্ষকরা অনলাইনে প্রশিক্ষণ দিলেও সেখান থেকে আয় নামমাত্র।

এমন পরিস্থিতিতে অন্যান্য ক্ষেত্রের মতোই তাঁরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেন্দ্রগুলি চালু করতে আগ্রহী। কেউ কেউ স্থির করেছেন, কোনো সদস্যকে জিমে ঘুরে বেড়ানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রতিটি সদস্যকে সুতির মাস্ক এবং গ্লাভস দেওয়া হবে এবং প্রশিক্ষকরা পিপিই কিট পরে থাকবেন। এ ক্ষেত্রে জিমের মালিকরা নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত সদস্য সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনলাইনে রেজিস্টার ব্যবস্থাও চালু করছেন। তবে তাঁদের এই উদ্যোগে সদস্যরা কতটা আগ্রহ দেখাবেন, সেটাই মূল প্রশ্ন।

Continue Reading

প্রবন্ধ

প্রয়োজন লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষের কুরবানি

jahir raihan
জাহির রায়হান

অনেক ছোটো তখন, ‘নবি কাহিনী’ নামের একটি পুস্তকে পড়েছিলাম নবিদের জীবন কথা। সেখানেই ছিল নবি হযরত ইব্রাহিমের গল্প। নবি ইব্রাহিম পর পর তিন রাত্রে স্বপ্নে দেখলেন, ইব্রাহিমের সব চেয়ে প্রিয় বস্তু তাঁর প্রতি উৎসর্গ করার নিদান দিচ্ছেন সৃষ্টিকর্তা। ইব্রাহিম পড়লেন বিপদে। সর্বাপেক্ষা প্রিয় বস্তু কী? ধন-দৌলত বিষয় সম্পত্তি? স্ত্রী? আবার স্ত্রী অপেক্ষা প্রিয় তো সন্তান। তা হলে কি সন্তান? ঠিক, সম্ভবত তাঁর পুত্রকেই উৎসর্গে চাইছেন ওপরওয়ালা।

তিন দিনের দিন-রাতে যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন হযরত ইব্রাহিম। সকালবেলায় পুত্র ইসলামকে নিয়ে গেলেন দূরের পাহাড়ে। ইসমাইলকে জানালেন বিগত রাত্রিগুলির স্বপ্নের কথা। সাগ্রহে সম্মতি দিলেন ইসমাইল। পিতা নিজের যন্ত্রণাবিদ্ধ মনকে দৃঢ় করে প্রবৃত্ত হলেন সন্তানকে খোদার প্রতি উৎসর্গ করতে। নিজের চোখ বাঁধলেন নবি, বেঁধে দিলেন পুত্রের চোখজোড়াও। কুরবানি শেষ হল। কী আশ্চর্য, চোখ মেলে দেখলেন ইব্রাহিম, পুত্র ইসমাইল অক্ষত দেহে দাঁড়িয়ে আছে পাশে, স্বর্গীয় হাসি তার চোখে মুখে, আর পরিবর্তে জবাই হয়ে ভূমিতলে শায়িত রয়েছে একটি নধর দুম্বা।

শিক্ষকতা করতে গিয়ে পড়াতে হল লিও টলস্টয় রচিত ‘How Much Land Does a Man Need?’ গল্পখানি। গল্পে ‘পাহম’ নামের এক গ্রাম্য কৃষক তার নিজের বর্তমান অবস্থায় খুশি নয়। জমি-জিরেত যা আছে তার মালিকানায় তাতে সে মনঃকষ্টে ভোগে, আসে না আত্নসন্তষ্টি। সুতরাং আর কিছুটা জমির চাহিদা মনের ভিতর ভিতর কুরে কুরে খায় তাকে, পড়ে দীর্ঘনিশ্বাস। মনের এই অস্থিরতায় ‘লোভ’ দখল নেয় পাহমের। ফলে যেখানে স্বল্প মূল্যে অধিক জমির হদিস মেলে, সেখানেই পাহম পৌঁছে যায় লোভের তাড়নায়। দিনে দিনে বাড়তে থাকে তার জমির পরিমাণ, পাশাপাশি বৃদ্ধি পায় আরও সম্পত্তির লালসা। তার পর একদিন এমন অঞ্চলে গিয়ে পড়ে যেখানে রয়েছে প্রচুর পতিত উর্বর জমি, কিন্তু চাষাবাদ করে না কেউ সেখানে। পাহম স্থানীয় মোড়লকে উপহার দিয়ে করে তুষ্ট। তাঁকে জানায় নিজের মনস্কামনা। মোড়ল অত্যন্ত খুশি মনে পাহমকে জমি বিক্রি করতে সম্মত হন। তাকে জানানো হয়, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কালে যতখানি জমি পায়ে হেঁটে সে অতিক্রম করতে পারবে, যৎসামান্য দামের বিনিময়ে সবটুকু জমির মালিক হয়ে যাবে সে। তবে শর্ত একটাই, সূর্যোদয়ের সময় যে স্থান থেকে তার যাত্রা শুরু হবে, সূর্যাস্তের পূর্বেই ফিরতে হবে সে স্থানে।

পাহম যাত্রা শুরু করে, ধীরে ধীরে পদচালনা বাড়ায়, অনেক অনেক জমি, আরও আরও উর্বর মাটির নেশায় সে ছুটতে থাকে, তার তেষ্টা পায়, পায় ক্ষুধা, তবুও সে ছোটে। ছোটে গনগনে আগুনে-সূর্য মাথায় নিয়ে। এক মনে ছুটে চলে পাহম, ছুটে চলি আমরা, ছুটেই চলি, ক্লান্ত, শ্রান্ত, পরিশ্রান্ত, ক্লান্তিহীন আমরা ছুটছি, আরও আরও টাকা, প্রভাব, প্রতিপত্তি, ফ্ল্যাট, গাড়ি – আমরা ছুটছি। ছুটতে ছুটতে দেরি করে ফেলি বড্ড। এক সময় পাহমের মনে হয় খালি পায়ে আরও শীঘ্র সে পৌঁছে যাবে লক্ষ্যে। তার পর শুরু হয় সময়ের সঙ্গে অসম দৌড়, কে পৌঁছবে আগে লক্ষ্যে, সূর্যাস্ত না পাহম !! উফ….হ্যাঁ। শেষ পর্যন্ত পাহম পৌঁছে যায় লক্ষ্যে, বহমান সময় পরাজিত হয় তার কাছে। শেষ এক লাফে শরীর ছুড়ে দিয়ে সে ছুঁয়ে ফেলে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যকে। ‘লোভ’ হাততালি দিয়ে ওঠে খুশিতে, পাহম এখন অনেক অনেক জমির মালিক। কিন্তু পাহম আর ওঠে না, পড়েই থাকে নীরব নিথর হয়ে। তার চাকর কাছে গিয়ে দেখে, তার মালিক মৃত, প্রাণ ছেড়ে গেছে পাহমের দেহ। কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ে চাকর সমাধিস্থ করে মনিবের মৃতদেহ। পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঠিক ‘সাড়ে তিন হাত’ জমি লেগেছিল পাহমের…।

উপরের গল্প দু’টির একটি লোভের, আর একটি ত্যাগের। ‘কুরবানি’ বাংলায় ব্যবহৃত একটি আরবি শব্দ, যার মমার্থ উৎসর্গ ও নৈকট্য অর্জন। প্রিয়তম সন্তান হযরত ইসমাইলকে উৎসর্গ করতে উদ্যত হয়ে আত্মত্যাগের পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হন নবি ইব্রাহিম। কিন্তু আধুনিক পৃথিবীতে এই ত্যাগ, সহিষ্ণুতা ও সহশীলতার দেখা মেলা ভার। লোভ, লালসা, হিংসা, পরশ্রীকাতরতা ঘিরে ফেলেছে আমাদের মন ও মননকে। পাশবিক প্রবৃত্তির তাড়নায় আমরা নষ্ট করে ফেলছি আমাদের সুস্থির জীবনপ্রবাহকে। আত্মত্যাগের চেয়ে দখলে নেওয়ার স্বপ্নে আমরা বিভোর। যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে, যা নেই তার পিছনে ছুটে মরছে বর্তমান জনসমষ্টি। ফলে নিয়ন্ত্রণহীন এই আকাঙ্ক্ষা। এই চাহিদার কবলে পড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে জনজীবন তার আদিম সত্তা থেকে। কিন্তু এ ভাবে আর কতদিন?

‘ধর্ম’ আদতে কী

‘ধর্ম’ আদতে একটা বিশ্বাসের বিষয়। আর সব ধর্মের ক্ষেত্রে মানবকল্যাণ বোধ দিয়ে শুরু হয় এই বিশ্বাসটা। আপামর সাধারণ মানুষ এই কল্যাণবোধের প্রতি আকৃষ্ট হয়েই ধর্মকে গ্রহণ করতে প্রবৃত্ত হয় সাধারণত। কিন্তু গৃহীত ধর্মবিশ্বাসটি একটা আচার, প্রথা বা সংস্কৃতিতে রূপান্তরিত হয়ে গেলে কল্যাণবোধের জায়গাটা ক্রমশ হয়ে পড়ে অস্পষ্ট, পরে হয়ে যায় সম্পূর্ণ বিলীন। কোনো কিছু যখন অভ্যাস ও প্রথায় পরিণত হয় তখন সেটি যুক্তি ও বুদ্ধির ধার ধারে না অর্থাৎ যে কল্যাণবোধ ছিল ধর্মের মূল লক্ষ্য, সেই লক্ষ্যটাই হয় বিচ্যুত।

কথাটি সব ধর্মের ক্ষেত্রেই সমান প্রযোজ্য। প্রাক ইসলামি যুগ থেকেই চলে আসছে কুরবানি যার মূল বিষয়টাই হচ্ছে – ত্যাগ। অর্থাৎ প্রয়োজনে কতখানি ত্যাগ স্বীকারে আমি প্রস্তুত, তার পরীক্ষার জন্যই এই উৎসর্গীকরণের প্রচলন। কিন্তু হায়, ধর্মের মর্মে না গিয়ে শুধুই বাইরের খোলসটুকুতে মেতে আছি আমরা।

হযরত ইব্রাহিম লোকালয়ের বাইরে এক জনমানবহীন পাহাড়ে নিজের সর্বাপেক্ষা প্রিয় বস্তু আত্মজকে নিয়ে গিয়েছিলেন ত্যাগকে মান্যতা দিতে। অন্য দিকে পাহম লোভ-লালসার কবলে পড়ে হারিয়ে ফেলেছিল তার অমূল্য প্রাণ। আসুন ঈদুজ্জোহা’র পুণ্য প্রভাতে নিজের অন্তরের পশুরূপী লোভ-লালসাকে গোপনে কুরবানি দিই, ইসমাইলরূপী জীবনকে বাঁচিয়ে রাখি পাশবিক প্রবৃত্তির করাল কবল থেকে, সযত্নে।

                                     

Continue Reading
Advertisement
বিনোদন2 hours ago

বিজয় মাল্যর বিরুদ্ধে তদন্তকারী সিবিআই দল-ই সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্তে!

রাজ্য2 hours ago

রাজ্যে প্রথম বার এক দিনে ২৫ হাজার টেস্ট, আক্রান্তের সংখ্যায় রেকর্ড হলেও সুস্থতার হারে স্বস্তি

প্রযুক্তি2 hours ago

হ্যাকার এবং সাইবার অপরাধীরা করোনার সুযোগ নিচ্ছে : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

কেনাকাটা3 hours ago

ঘর ও রান্নাঘরের সরঞ্জাম কিনতে চান? অ্যামাজন প্রাইম ডিলে রয়েছে ৫০% পর্যন্ত ছাড়

দেশ3 hours ago

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দিন দিন আরও দৃঢ় হবে, বললেন ভারতীয় হাইকমিশনার

শিল্প-বাণিজ্য3 hours ago

ব্য়াঙ্ক চেকে জুড়ছে নতুন সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য, ঘোষণা আরবিআইয়ের

দেশ4 hours ago

চেন্নাইয়ে মজুত প্রচুর টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, বেইরুটের ভয়াবহতায় বাড়ছে আতঙ্ক

বিজ্ঞান4 hours ago

করোনা রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে প্লাজমা থেরাপির কোনো ভূমিকা নেই, বলেছে এইমসের অন্তর্বর্তী বিশ্লেষণ

দেশ13 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৫৬২৮২, সুস্থ ৪৬১২১

গাড়ি ও বাইক1 day ago

পেট্রোলচালিত গাড়ি ‘এস-ক্রস’ বাজারে নিয়ে এল মারুতি সুজুকি

ক্রিকেট2 days ago

অঘটন! ৩২৯ তাড়া করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারাল আয়ারল্যান্ড

ক্রিকেট1 day ago

আইপিএলের নিয়মাবলি: গুচ্ছের টেস্টিং, চলা-ফেরায় নিয়ন্ত্রণ, একটি দলের জন্য একটি হোটেল

দেশ1 day ago

রুপোর ইট দিয়ে রামমন্দিরের শিলান্যাস করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

ক্রিকেট2 days ago

বিতর্কের মধ্যেই আইপিএলের সঙ্গত্যাগ করল চিনা সংস্থা ভিভো

প্রযুক্তি1 day ago

শাওমি, বাইডু-সহ আরও বেশ কয়েকটি চিনা সংস্থার অ্যাপ নিষিদ্ধ করল কেন্দ্র

দেশ2 days ago

কোভ্যাক্সিনের ট্রায়ালের শুরুতেই হোঁচট! কুড়ি শতাংশ স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে মিলল করোনার অ্যান্টিবডি

রবিবারের খবর অনলাইন

কেনাকাটা

কেনাকাটা3 hours ago

ঘর ও রান্নাঘরের সরঞ্জাম কিনতে চান? অ্যামাজন প্রাইম ডিলে রয়েছে ৫০% পর্যন্ত ছাড়

খবরঅনলাইন ডেস্ক : অ্যামাজন প্রাইম ডিলে রয়েছে ঘর আর রান্না ঘরের একাধিক সামগ্রিতে প্রচুর ছাড়। এই সেলে পাওয়া যাচ্ছে ওয়াটার...

কেনাকাটা5 hours ago

এই ১০টির মধ্যে আপনার প্রয়োজনীয় প্রোডাক্টটি প্রাইম ডে সেলে কিনতে পারেন

খবরঅনলাইন ডেস্ক : চলছে অ্যামাজনের প্রাইমডে সেল। প্রচুর সামগ্রীর ওপর রয়েছে অনেক ছাড়। ৬ ও ৭  তারিখ চলবে এই সেল।...

কেনাকাটা22 hours ago

শুরু হল অ্যামাজন প্রাইম ডে সেল, জেনে নিন কোন জিনিসে কত ছাড়

খবরঅনলাইন ডেস্: শুরু হল অ্যামাজন প্রাইম ডে সেল। চলবে ২ দিন। চলতি মাসের ৬ ও ৭ তারিখ থাকছে এই অফার।...

things things
কেনাকাটা6 days ago

করোনা আতঙ্ক? ঘরে বাইরে এই ১০টি জিনিস আপনাকে সুবিধে দেবেই দেবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে এবং বাইরে নানাবিধ সাবধানতা অবলম্বন করতেই হচ্ছে। আগামী বেশ কয়েক মাস এই নিয়মই অব্যাহত...

কেনাকাটা1 week ago

মশার জ্বালায় জেরবার? এই ১৪টি যন্ত্র রুখে দিতে পারে মশাকে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: একে করোনা তায় আবার ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। এই সময় প্রতি বারই মশার উৎপাত খুবই বাড়ে। এই বারেও...

rakhi rakhi
কেনাকাটা2 weeks ago

লকডাউন! রাখির দারুণ এই উপহারগুলি কিন্তু বাড়ি বসেই কিনতে পারেন

সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে মনের মতো উপহার কেনা একটা বড়ো ঝক্কি। কিন্তু সেই সমস্যা সমাধান করতে পারে অ্যামাজন। অ্যামাজনের...

কেনাকাটা2 weeks ago

অনলাইনে পড়াশুনা চলছে? ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ৪০ হাজার টাকার নীচে ৬টি ল্যাপটপ

ইনটেল প্রসেসর সহ কোন ল্যাপটপ আপনার অনলাইন পড়াশুনার কাজে লাগবে জেনে নিন।

কেনাকাটা2 weeks ago

করোনা-কালে ঘরে রাখতে পারেন ডিজিটাল অক্সিমিটার, এই ১০টির মধ্যে থেকে একটি বেছে নিতে পারেন

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বুঝতে সাহায্য করে এই অক্সিমিটার।

কেনাকাটা3 weeks ago

লকডাউনে সামনেই রাখি, কোথা থেকে কিনবেন? অ্যামাজন দিচ্ছে দারুণ গিফট কম্বো অফার

খবরঅনলাইন ডেস্ক : সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে দোকানে গিয়ে রাখি, উপহার কেনা খুবই সমস্যার কথা। কিন্তু তা হলে উপায়...

laptop laptop
কেনাকাটা3 weeks ago

ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ২৫ হাজার টাকার মধ্যে এই ৫টি ল্যাপটপ

খবরঅনলাইন ডেস্ক : কোভিভ ১৯ অতিমারির প্রকোপে বিশ্ব জুড়ে চলছে লকডাউন ও ওয়ার্ক ফ্রম হোম। অনেকেই অফিস থেকে ল্যাপটপ পেয়েছেন।...

নজরে

Click To Expand