Connect with us

কেন্দ্রীয় বাজেট

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২০: অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলতে চাইছে সরকার

চরম অর্থনৈতিক মন্দার আবহে রীতিমতো ‘অগ্নিপরীক্ষা’য় অবতীর্ণ হয়ে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। বিশ্লেষণে গৌতম রায়

আরএসএস এবং তাদের সমস্ত ধরনের শাখা সংগঠনগুলি ও তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি মুখে স্বদেশিয়ানার কথা বলে। স্বদেশি অর্থনীতির কথা বলে। যদিও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কালে, ভারতবর্ষের মানুষের স্বার্থে অর্থনীতিকে পরিচালিত করার যে দাবি, জাতীয় আন্দোলনের সমস্ত পর্যায়ের নেতারা রেখেছিলেন, রাজনৈতিক হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি, সেই দাবির প্রতি কখনোই বিন্দুমাত্র সহানুভূতি জ্ঞাপন না করলেও, স্বাধীনতার পর থেকে তারা স্বদেশিয়ানাকে, তাদের ক্ষমতা দখলের রাজনীতির একটি অত্যন্ত বড়ো কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

এই কৌশলকে বাস্তবায়িত করতে আরএসএস, তার শাখা সংগঠন ,’স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ’ তৈরি করেছে। দত্ত পন্থ ঠেংড়ির মতো সঙ্ঘের প্রথম সারির প্রচারক, একাধারে রাজনৈতিক হিন্দুদের শ্রমিক নেতা হয়েছেন, আবার এই স্বদেশি জাগরণ মঞ্চেরও নেতা হয়েছেন। এই কৌশলকে বজায় রেখেই, নয়ের দশক থেকে গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে যে বাজার অর্থনীতির প্রকোপ শুরু হয়েছে, সেই গোটা পরিকল্পনার সঙ্গে আরএসএস-বিজেপির চিন্তা-চেতনা এবং প্রয়োগজনিত ক্ষেত্রে কোনো রকম ফারাক থাকেনি।

অতীতে অটলবিহারী বাজপেয়ীর সাড়ে ছয় বছরের প্রধানমন্ত্রিত্ব কালে খুব পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, বাজার অর্থনীতির নাম করে, ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পর থেকে, নেহেরু মডেলের যে অর্থনীতি, অর্থাৎ, রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণাধীন শিল্প এবং পরিকাঠামো ও পরিষেবাজনিত অঙ্গটিকে, সরাসরি বাজার অর্থনীতির হাতে ছেড়ে দিয়ে, বিদেশি পুঁজির অবাধ বিচরণ ভূমি হিসেবে ভারতবর্ষের বাজারটিকে তুলে দেওয়া, আরএসএস এবং তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপির যে একমাত্র লক্ষ্য, তা আজ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের বাজেটের ভেতর দিয়ে একদম পরিষ্কার হয়ে গেল।

বস্তুত নরেন্দ্র মোদী তাঁর প্রথম দফার পাঁচ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বে দেশের অর্থনীতিকে নোট বন্দি, জিএসটি ইত্যাদির জাঁতাকলে যে ধ্বংসের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছেন, সেই জায়গায় একটি ডুবন্ত জাহাজকে রক্ষা করতে গেলে, বিদেশি পুঁজির কাছে দেশের বাজারকে খুলে দেওয়া ছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই, তাই যেন ‘সীতা’ নির্মলা সীতারমন, তাঁর এই বাজেটের ভেতর দিয়ে একদম পরিষ্কার করে দিলেন।

বিমা কোম্পানি থেকে রেল বেসরকারিকরণের যে রাস্তা এই বাজেটে খুলে দেওয়া হল, তার ফলে ধীরে ধীরে দেশের গোটা পরিষেবাজনিত সমস্ত অঙ্গনগুলি যে আগামী দিনে বাজার অর্থনীতির নিরিখে নিরূপিত হবে, এই আশঙ্কা খুব গভীর ভাবে উঠে আসছে। ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িকতা ,জাতিবিদ্বেষ, পারস্পরিক ভেদাভেদকে তীব্র করে, বিভাজনের ঘৃণ্য রাজনীতির ভিতর দিয়ে, ভারতবর্ষের অর্থনীতি, রাজনীতি, সামাজিক পরিকাঠামো, সাংস্কৃতিক পরিকাঠামোকে ধ্বংস করে দিয়ে, এই দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাতের পুতুলে পরিণত করাই যে, মুখে স্বদেশিয়ানার বুলি কপচিয়ে, কার্যত দেশের অর্থনীতির সর্বনাশ করাই বিজেপি সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য, তা আজ নির্মলা সীতারামনের বাজেটের ভেতর দিয়ে একদম পরিষ্কার হয়ে গেল।

নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক দিশা বলতে যে কোনো কিছুই নেই, এটা বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা খুব স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পারছিলাম। আমাদের সেই বোধের উপর যেন একটা সিলমোহর সেঁটে দিল নির্মলা সীতারমনের এই বাজেট শিক্ষা।

স্বাস্থ্য, মহিলাদের ক্ষমতায়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ, বিশেষ করে শিল্পায়নের প্রশ্ন- এ সবে যে ভাবে বিদেশি পুঁজির জোগানকে সামনে নিয়ে আসা হল, তাতে খুব বড়ো ভাবেই এটা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে, ভারতবর্ষের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণটি এখন ভারত সরকার কার্যত আর নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে না। ভারতবর্ষের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক হিসেবে তারা বিদেশি বহুজাতিক, সাম্রাজ্যবাদী অর্থপুষ্ট শক্তিদের সব রকম ভাবে আহ্বান করছে।

এই উদ্দেশ্য নিয়ে যে তাঁরা হিন্দু মুসলমানকে বিভক্ত করে এনআরসি, এনপিআরসি, সিএএ-এর ভেতর দিয়ে গোটা দেশে একটা ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক অস্থিরতা তৈরি করে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলে, তার ভেতর দিয়েই বিদেশি পুঁজির জন্য দেশের বাজারকে খুলে দেওয়া সব রকমের চেষ্টা করছেন- তা নির্মলা সীতারমনের এ বারের বাজেটের মধ্যে দিয়ে আবারও একবার অত্যন্ত ভালো ভাবে পরিষ্কার হয়ে গেল।

* লেখক ইতিহাসবিদ। মতামত লেখকের নিজস্ব

কেন্দ্রীয় বাজেট

কোথায় দিশা, বাজেটে ব্যাগ ভরতি হতাশা!

জয়ন্ত মণ্ডল: প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় ধরে ২০২০-২১ অর্থবর্ষের বাজেট প্রস্তাব পেশ করে রেকর্ড গড়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। সরকারি ভাবে স্বীকার করা হোক না হোক, বাজারের দশা থেকে স্পষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে এ বারের বাজেট চরম প্রত্যাশা জাগিয়েছিল দেশের প্রতিটা ক্ষেত্রকেই। কিন্তু উচ্চতর মানের শিক্ষা, অনলাইন শিক্ষা ইত্যাদির মাধ্যমে চাকরির ক্ষেত্রে জোর দেওয়ার কথা বলা হলেও অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবে বিস্তৃত ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের কোনো উল্লেখই করা হল না।

বাজেট প্রস্তাব পেশের শুরুতেই অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, করকাঠামোর পুনর্বিন্যাসই এ বারের বাজেটে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাজেটের ক’দিন আগে থেকেই কর কাঠামোর পুনর্গঠন নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছিল সাধারণ মানুষের মনে। মনমোহনী করে তুলতে এ দিন বাস্তবিক ভাবেই চমকপ্রদ করকাঠামো ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। পড়ুন নীচের লিঙ্কে ক্লিক করে-

আয়করে বড়োসড়ো ছাড়! এক নজরে দেখে নিন প্রস্তাবিত পর্যায় এবং হার

তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পুরনো হারে কর দিলে মিলবে ছাড়। নতুন হারে দিলে কোনো ছাড় মিলবে না।

কিন্তু শিল্পায়ন এবং প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান নিয়ে তেমন কোনো আশার বাণী উঠে আসেনি বাজেট প্রস্তাবে। উদ্ভাবনী উদ্যোগ হিসাবে স্টার্ট-আপদের টার্নওভারের সীমা ২৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ কোটি করার কথা বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে, কোম্পানিগুলিকে ডিভিডেন্ট ডিস্ট্রিবিউশন ট্যাক্স দিতে হবে না।

এই ব্যাগে ছিল ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের বাজেট। যেখানে বৃদ্ধির প্রস্তাবিত হার ছিল ৭ শতাংশ। এখন যা ঠেকতে চলেছে ৫ শতাংশে। এ বারের বাজেটে জিডিপি বৃদ্ধির প্রস্তাবিত হার ৬-৬.৫ শতাংশ। বাস্তবে কোথায় গিয়ে ঠেকে, সেটাই দেখার!

অর্থনীতির সাদামাটা সমীকরণ- কর্মসংস্থান বাড়লে মানুষের হাতে টাকা আসবে। তৈরি হবে ক্রেতা। বাজারে চাহিদা থাকলেই চড়চড়িয়ে বাড়বে উৎপাদন। হাল ফিরবে ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতির। স্বাভাবিক ভাবে পরিকাঠামোয় বরাদ্দ বৃদ্ধি করলেই কর্মসংস্থান বাড়তে বাধ্য। তখনই তো আসে করছাড় বা কর পুনর্বিন্যাসের প্রসঙ্গ।

সরকারি পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, বিগত ৪৫ বছরে কর্মসংস্থান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। রেকর্ড গড়েছে বেকারত্ব। তবে এ বারের বাজেটে শিল্প এবং বাণিজ্যে উন্নয়নের জন্য ২৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এরই মধ্যে রয়েছে ১০০টি বিমানবন্দর নির্মাণ। বিনিয়োগ নিয়ে স্পষ্ট কোনো দিশা অধরা। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত চার বছরে বিনিয়োগের বৃদ্ধি ঠেকেছে ১ শতাংশে। সেই জায়াগায় দাঁড়িয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি এ বারের বাজেট প্রস্তাবে।

আসা যেতে পারে করকাঠামোয়। এমনিতেই ২০ বছরের মধ্যে সব থেকে বেশি হ্রাস পেতে চলেছে চলতি বছরের প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহ। জানা গিয়েছে, চলতি ২০১৯-২০ আর্থিক বছরের জন্য নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যক্ষ কর আদায়ের লক্ষ্য হিসাবে স্থির করেছিল ১৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় কর আদায়ের লক্ষ্য পরিমাণে ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়। চলতি অর্থবছরের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ মার্চ।

ও দিকে সরকারি ভাঁড়ারেও টান পড়েছে। বড়োসড়ো ঘাটতি ধরা পড়েছে রাজকোষে। রাজস্ব আদায়ের সব থেকে বড়ো মাধ্যম জিএসটি নিয়ে চলমান বিতর্ক সেখানেও হতাশা ছুড়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। সেই জায়গায় প্রত্যক্ষ কর (আয়কর এবং কর্পোরেট কর) থেকে আয় না বাড়িয়ে গত্যন্তর নেই সরকারের।

সরকারি আয় বাড়‌াতে এলআইসির মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় সরকারি অংশীদারিত্ব (বড়ো অংশ) বেচে দিয়ে, সংস্থাটিকে স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্তির ঘোষণা করা হয়েছে। (বিস্তারিত পড়ুন এখানে ক্লিক করে: এলআইসির অংশীদারিত্ব বেচে দেবে সরকার)

এমন পরিস্থিতিতে মানুষকে বাজারমুখী করার তাগিদে যেন সব কিছুই তালগোল পাকিয়ে গিয়েছে। অর্থনীতির গোলকধাঁধায় পড়ে একটা চমকধর্মী বাজেট পেশ করার চেষ্টা, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকারে ফেরা বিজেপিকে মাইলেজ কতটা দেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, বেকারত্ব ঘোঁচানোর সদিচ্ছার অভাবকে স্পষ্ট করে দেয়।

ফলে বাজেটে আর সব কিছু থাকলেও নেই যুবসম্প্রদায়ের জন্য কোনো বার্তা। অর্থমন্ত্রী ২ ঘণ্টা ৩৭ মিনিটের ভাষণে রাজ্যওয়াড়ি স্কিল ডেভেলপমেন্ট তৈরি করে স্টার্টআপ বা শিক্ষাক্ষেত্রের আমুল বদল করে চাকরি জোগানোর মতো প্রতিশ্রুতি থাকলেও দেশের বেকার যুবদের তেমন কোনো আশার বাণী শোনাতে পারেননি তিনি। কমানো হয়েছে কর, কিন্তু হাতে যদিও আয়-ই না থাকে, কী তার প্রাসঙ্গিকতা? নরেন্দ্র মোদী সরকার বিষয়টি বোঝে না তেমনটা নয়, যে কারণে সমস্যাকে পাশ কাটানোর আপ্রাণ প্রয়াস!

Continue Reading

দেশ

আয়করে বড়োসড়ো ছাড়! এক নজরে দেখে নিন প্রস্তাবিত পর্যায় এবং হার

Income Tax

ওয়েবডেস্ক: ২০২০-২১ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে করদাতাদের জন্য সুখবর শোনালেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। শনিবার বাজেট পেশ করার সময় তিনি জানান, পুরনো পর্যায়গুলির আমূল বদল করে নতুন এই হার করদাতাদের প্রভূত সহায়ক হবে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, প্রস্তাবিত আয়করের পর্যায় এবং হার।

আয়ের পরিমাণকরের পরিমাণএখন রয়েছে
৫ লক্ষ টাকা পর্যন্তছাড়১০ শতাংশ
৫ লক্ষ থেকে ৭.৫ লক্ষ১০ শতাংশ২০ শতাংশ
৭.৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ১৫ শতাংশ২০ শতাংশ
১০ লক্ষ থেকে ১২.৫ লক্ষ২০ শতাংশ৩০ শতাংশ
১২.৫ লক্ষ থেকে ১৫ লক্ষ২৫ শতাংশ৩০ শতাংশ
১৫ লক্ষের উপরে৩০ শতাংশ৩০ শতাংশ

এখানে দেখে নিন: বাজেট লাইভ

একই সঙ্গে করদাতাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে একটি চার্টার তৈরির কথা জানান নির্মলা। আইনের একটি অংশ হিসাবেই এই চার্টার তৈরি করা হবে। এটাই করদাতাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করবে সরকার চায় কোনো নাগরিক যাতে কর সংক্রান্ত বিষয়ে হেনস্থার শিকার না হন।

করদাতাদের উপর কোনো রকমের হেনস্থাকে বরদাস্ত করবে না সরকার। এ ব্যাপারে নাগরিকের প্রতি অপরাধমূলক দায়বদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোম্পানি আইনের সংশোধন করা হবে।

Continue Reading

দেশ

এলআইসির অংশীদারিত্ব বেচে দেবে সরকার

ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া বা এলআইসিতে নিজের অংশীদারিত্ব বিক্রির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। শনিবার ২০২০-২১ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের সময় তিনি এই ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সংস্থার জন্য সব থেকে বড়ো খবর হিসাবে তিনি ঘোষণা করেন, স্টক এক্সচেঞ্জগুলিতে তালিকাভুক্ত করা হবে সংস্থাকে।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী এ দিন জানান, এলআইসিতে নিজের অংশীদারিত্ব বিক্রি করবে সরকার। বিমা সংস্থার একটা বড়ো অংশের অংশীদারিত্ব বিক্রি করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের অংশীদারিত্বও বিক্রি করা হবে। উল্লেখ্য, আইডিবিআই ব্যাঙ্কের কর্মীরা এলআইসির কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলেও তাঁদের এখনও বিমা সংস্থার নিজস্ব কর্মীর মর্যাদা মেলেনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এলআইসির প্রাথমিক পাবলিক অফারের মাধ্যমে সরকার তহবিল সংগ্রহ করবে। সরকার নিজের অংশীদারিত্ব বিক্রির মাধ্যমেই ওই তহবিল সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, স্টক এক্সচেঞ্জে নথিভুক্ত করা হবে এলআইসিকে। এর ফলে দেশের বৃহত্তম আইপিএ হতে চলেছে এলআইসি। এ ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হয়ে যাবে সংস্থায়।

এখানে দেখে নিন: বাজেট লাইভ

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের হিসাবে, এলআইসির মোট লাইফ ফান্ড ছিল ২৮৩০০০০ কোটি টাকা। ২১০৮-১৯ সালে বিক্রি হওয়া মোট পলিসির মূল্য ২.১৪ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ সালে ২.৬ কোটি দাবি নিষ্পত্তি করেছে। সংস্থার ২৯ কোটি পলিসি হোল্ডার রয়েছে।

Continue Reading
Advertisement
দেশ2 hours ago

কেরল সোনা পাচারকাণ্ড: সিনিয়র আইএএস অফিসারকে বরখাস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন

দেশ3 hours ago

জেলবন্দি কবি-সমাজকর্মী ভারাভারা রাও করোনা পজিটিভ

রাজ্য3 hours ago

রেকর্ড সংখ্যক নমুনা পরীক্ষার দিন রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যাতেও রেকর্ড, কমল মৃত্যুহার

বিদেশ5 hours ago

আবুধাবিতে শুরু চিনের করোনা ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ

দেশ6 hours ago

নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশে ফের আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা চালু করছে কেন্দ্র

বিনোদন6 hours ago

অবশেষে নতুন এপিসোড নিয়ে সাব টিভির পর্দায় ফিরছে ‘তারক মেহকা উলটা চশমা’ও, জেনে নিন কবে থেকে

দেশ6 hours ago

অসমে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, বিপন্ন কাজিরাঙার বন্যপ্রাণও

রাজ্য7 hours ago

আরও চার হাজার বেড বাড়ছে রাজ্যে, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

কেনাকাটা

laptop laptop
কেনাকাটা1 day ago

ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ২৫ হাজার টাকার মধ্যে এই ৫টি ল্যাপটপ

খবরঅনলাইন ডেস্ক : কোভিভ ১৯ অতিমারির প্রকোপে বিশ্ব জুড়ে চলছে লকডাউন ও ওয়ার্ক ফ্রম হোম। অনেকেই অফিস থেকে ল্যাপটপ পেয়েছেন।...

কেনাকাটা4 days ago

হ্যান্ডওয়াশ কিনবেন? নামী ব্র্যান্ডগুলিতে ৩৮% ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাস বা কোভিড ১৯ এর সঙ্গে লড়াই এখনও জারি আছে। তাই অবশ্যই চাই মাস্ক, স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশ।...

কেনাকাটা1 week ago

ঘরের একঘেয়েমি আর ভালো লাগছে না? ঘরে বসেই ঘরের দেওয়ালকে বানান অন্য রকম

খবরঅনলাইন ডেস্ক : একে লকডাউন তার ওপর ঘরে থাকার একঘেয়েমি। মনটাকে বিষাদে ভরিয়ে দিচ্ছে। ঘরের রদবদল করুন। জিনিসপত্র এ-দিক থেকে...

কেনাকাটা1 week ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিউ নর্মালে মাস্ক পরাটাই দস্তুর। তা সে ছোটো হোক বা বড়ো। বিরক্ত লাগলেও বড়োরা নিজেরাই নিজেদেরকে বোঝায়।...

নজরে