মার্কসবাদী দর্শনের শিক্ষক দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়কে শতবর্ষে স্মরণ

0

নিমাই দত্তগুপ্ত

অধ্যাপক দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন দর্শনশাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ এবং বিজ্ঞানের ইতিহাসকার। তিনি ছিলেন কৃতি-মেধাবী ছাত্র। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পড়েছিলেন দর্শন নিয়ে। এছাড়াও তার আসল চর্চা ছিল কবিতা লেখা, হতে চেয়েছিলেন নন্দনতত্ত্ববিদ। দেবীপ্রসাদের ইচ্ছে ছিল নন্দনতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করবেন। নির্দেশক হবেন অধ্যাপক সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত। কারণ দেবীপ্রসাদের বিবেচনায় অধ্যাপক দাশগুপ্তই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তিত্ব এবং সমর সেন তখন সবচেয়ে বিখ্যাত আধুনিক কবি এবং একই সঙ্গে নিন্দিত কবি। তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ কবিতা পড়ে মাথামন্ডু কিছুই বোঝা যায় না।

দেবীপ্রসাদ উপস্থিত হলেন সমর সেনের কাছে। সমর সেন দেবীপ্রসাদকে শুধু কবিতা লেখা নয়, পড়তে দিয়েছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির ইস্তেহার। তিনিই দেবীপ্রসাদকে নিয়ে গেলেন মুজাফফর আহমদ, রাধারমণ মিত্র আর বঙ্কিম মুখার্জির কাছে। প্রথম জন ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, দ্বিতীয়জন মার্কসবাদ লেনিনবাদের বিশিষ্ট তাত্ত্বিক এবং তৃতীয়জন ট্রেড ইউনিয়ন ফ্রন্টের প্রায়োগিক ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এর আগে অধুনালুপ্ত বলশেভিক পার্টির যোগ ছিল। এই পার্টির নেতারা বলে বেড়াতেন আমরাই আসলে সাচ্চা কমিউনিস্ট পার্টি। ১৯৩০-এর দশকে ট্রেড ইউনিয়ন ফ্রন্টে তাদের রীতিমতো দাপট ছিল। কলকাতায় এই পার্টির নেতা ছিলেন বিশ্বনাথ দুবে এবং বিলেত ফেরত ব্যারিস্টার নীহারেন্দু দত্ত মজুমদার, তাঁরা কথায় বার্তায় চলনে বলনে ছিলেন চৌকষ ব্যক্তিত্ব। এই বলশেভিক পার্টিতে দেবীপ্রসাদ জুটে গিয়েছিলেন তাঁর গৃহশিক্ষক গুণদা মজুমদারের প্রভাবে। তখন এই বলশেভিক পার্টিতে ছিলেন অনেক তরুণ তত্ত্ব জিজ্ঞাসু। তারা প্রায় সবাই ছিলেন দেবীপ্রসাদের সমবয়সি।

১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তখনকার বিখ্যাত ছাত্রনেতা বিশ্বনাথ মুখার্জির সঙ্গে তাদের আলাপ হয় এবং তারা বলশেভিক পার্টি ছেড়ে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন।

কবিতা লেখার বাইরেও দেবীপ্রসাদ কিশোর সাহিত্য, অসাধারণ মজাদার ব্যাঙ্গরচনা, পুস্তক লিখেছেন। পরে তিনি ভারতীয় দর্শন, লোকায়ত দর্শন, বিজ্ঞানের ইতিহাস, ভারতের বস্তুবাদ প্রসঙ্গে, ভাববাদ খণ্ডন, বিজ্ঞান কী ও কেন?, জানবার কথা ইত্যাদি শিক্ষামূলক গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৫৪ সালে নিখিল ভারত সাহিত্য সম্মেলন-এর তিরিশ বছর উপলক্ষে অধিবেশন বসে লখনউ-এ। তখন দেবীপ্রসাদের বয়স মাত্র ৩৬ বছর। তাঁকেই শিশু-সাহিত্য শাখার সভাপতি করা হয়েছিল। অভিভাষণের শুরুতে দেবীপ্রসাদ যেমন বিনয় প্রকাশ করেছিলেন তেমনি নিজের কাজ সম্পর্কে এক ধরনের মূল্যায়নও নির্দ্বিধায় প্রকাশ করেছিলেন।

১৯৪৯ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাসে একটি বিপর্যয় নেমে এল। পশ্চিমবঙ্গ পার্টিকে বিধানচন্দ্র রায় সরকার বে-আইনি বলে ঘোষণা করেছিলেন। গ্রেফতার করা হয় বহু নেতা-কর্মীকে। সর্বোচ্চ নেতৃত্ব আত্মগোপন করেছিলেন। গুপ্ত আস্তানা থেকেই চালানো হচ্ছিল পার্টিকে। পার্টির শিল্প-সাহিত্য বিষয়ক মুখপাত্র ছিল ‘পরিচয়’ পত্রিকা। তার সম্পাদক ও লেখকদের অনেকেই ছিলেন অতিবাম লাইনের বিরোধী। তাই পার্টি নেতৃত্ব একটি পাল্টা সংকলন বার করলেন, তার নাম মার্কসবাদী। সেই জটিল-কঠিন আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক পরিবেশে এবং ভারতীয় দর্শনের পুনর্মূল্যায়নের নামে পবিবেশন হচ্ছিল চূড়ান্ত অনৈতিহাসিক, আগাগোড়া উদ্ভট কিছু ভুল তথ্য। আর তার সঙ্গে ছিল এলোপাথারি, আলটপকা নানা মন্তব্য। তার প্রতিবাদ করা উচিত। সেটি লেখার ভার দেওয়া হল দেবীপ্রসাদকে। এ হল ১৯৪৯-৫০-এর কথা। দেবীপ্রসাদের বয়স মাত্র তেত্রিশ বছর। প্রবীণ ও সুপরিচিত লেখক থাকতেও দায়িত্ব দেওয়া হল দেবীপ্রসাদকে। তার লেখার বাঁধুনি ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে জ্ঞান সম্পর্কে সকলেরই ছিল অকুণ্ঠ আস্থা। দেবীপ্রসাদ তাদের আশা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

মার্কসবাদ পত্রিকার দায়িত্ব দেবীপ্রসাদের উপর ন্যস্ত হওয়াটা ছিল তার জীবনে একটা চূড়ান্ত নির্ধারক ঘটনা। এর আগে অবধি দর্শনচর্চায় তাঁর কোন নির্দিষ্ট অভিমুখ ছিল না। সাধারণভাবে ভাববাদ খণ্ডন ও বস্তুবাদ প্রতিষ্ঠাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য।

কমিউনিস্ট ইস্তেহারে যা বলা হয়েছে তা ভারত ও ইউরোপ উভয়ের ক্ষেত্রেই সত্য। কিন্তু যেভাবে ইউরোপে ‘স্বাধীন মানুষ দাস, প্যাট্রিশিয়ান এবং প্লিবিয়ান জমিদার ও ভূমিদাস গিল্ড কর্তা, আর কারিগর’ শ্রেণির মধ্যে শ্রেণি সংগ্রাম বিকশিত হয়েছিল, ভারতে তা হয়নি. ভারতীয় সমাজের যে প্রথম বিভাজন ঘটেছিল, তা হয়েছিল চারটি বর্ণের মধ্যে। প্রথম দুটি হল ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয় এবং শেষ দুটি বৈশ্য ও শূদ্র। স্বাভাবিকভাবেই ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয় এই দুই বর্ণই ভারতীয় সমাজে সবথেকে বেশি কর্তৃত্বের অধিকারী। সাধারণভাবে তারাই সমাজের বৌদ্ধিক নান্দনিক বৈজ্ঞানিক ও দর্শন সহ অন্যান্য আত্মিক সম্পদের স্রষ্টা—অন্যদিকে সমাজের বাকি অংশ তৈরি করল বস্তুগত সম্পদ। তার ফলে ভারতে শোষক ও শোষিতের মধ্যে যে বিভাজন, তা সম্পন্ন হয়েছিল বৌদ্ধিক ও কায়িক শ্রমের মধ্যে। এই দুই বিরোধী ক্ষেত্রের মধ্যে দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক হল আমাদের বৌদ্ধিক ও কায়িক পরিশ্রম ভিত্তিক সামাজিক সমাজের ভিত্তি।

ভারতীয় দর্শনের ভাববাদী ও বস্তুবাদী প্রবণতা এর থেকেই বোঝা যায়। দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় লিখলেন, “কোন দর্শনে যখন জীবনকে প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং তার নিন্দা করা হয়, তখন বুঝতে হবে জীবন থেকে পালিয়ে গিয়েই এই দর্শনের চর্চা করা হয়েছিল। প্রাচীন গ্রিসে যেমন দাস সমাজের বিকাশ ঘটেছিল, ঠিক সেইরকম উপনিষদের যুগে ভারতে বস্তুগত জগৎকে ধিক্কার জানানো হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল এইগুলি কোন কিছুই স্থায়ী নয়, এই সবই ছিল ‘বিশুদ্ধ যুক্তি এবং বিশুদ্ধ জ্ঞান’ এর উপর ভিত্তি করে দার্শনিক প্রশ্নগুলি যতদূর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া—এই ধরনের জ্ঞানচর্চা তখনই হয়, যখন সমাজের কোনো একটা অংশ সমাজের বাকি অংশের তৈরি করা উদ্বৃত্ত সম্পদের ওপর নির্ভর করে বেঁচে নিজেদেরকে সরিয়ে নেয় এবং যার ফলে বস্তুগত জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় অথচ একমাত্র শ্রমপ্রক্রিয়াই পারে চেতনা সম্পর্কিত তত্ত্বের উপরে বস্তুগত সংঘাত তৈরি করতে। যে তত্ত্ব প্রয়োগ থেকে বিচ্ছিন্ন তা হয়ে দাঁড়ায় ‘বিশুদ্ধ তত্ত্ব’। এর ফলে চিন্তা প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়ায় নিছকই কতকগুলি ধারণা এবং যিনি বিষয়ী, তিনি জ্ঞাত অথবা বস্তু থেকে নিজেকে মুক্ত করতে চান এবং বস্তু জগৎকে করেন অজ্ঞান অথবা অবিদ্যার সমান।

আদি শঙ্করাচার্য ও তার অদ্বৈত বেদান্তের যে দর্শন, তা হল এই ভারতীয় ভাববাদী দর্শনের সবথেকে সুক্ষ্ম ও সবথেকে পরিশীলিত দর্শন। তিনি তার ব্রহ্মকে এমনভাবে বিকশিত করেছিল, যা থেকে মনে হবে তিনি এমনকি ঈশ্বরকেই অস্বীকার করেছেন। অর্থাৎ ব্রহ্ম ছাড়া আর সবকিছুই অস্বীকার করেছেন। যে কারণে তাকে ছদ্মবেশী বৌদ্ধ বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল ইত্যাদি। তবে তিনি আজও শ্রদ্ধার আসনে রয়েছেন। তাঁর পাণ্ডিত্যের জন্য, যার সাহায্যে তিনি বৌদ্ধ দার্শনিক প্রবণতাকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন”। 

সম্প্রতি শতবর্ষ উত্তীর্ণ বস্তুবাদী দার্শনিক দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় প্রাচীন ভারতের ভাববাদী দর্শনের শিকড় সন্ধান করেছিলেন এবং তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন কীভাবে ভারতীয় দর্শনে বস্তুবাদী দর্শনের উদ্ভব ও বিকাশ হয়েছিল। তাঁর সুপরিচিত প্রাচীন ভারতের জ্ঞান-গবেষণা গ্রন্থে তিনি বিশ্লেষণ করেছিলেন। প্রাচীন ভারতের ঔষধ বিষয়ক ধ্রুপদী গ্রন্থ চরক সংহিতা সুশ্রুত সংহিতাকে। দেবীপ্রসাদ এই গ্রন্থদ্বয়ে সেই যুগে মানুষের দেহের সমস্যা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছিলেন যার উদ্দেশ্য ছিল শরীরের অসুখ নির্ণয় করা ও তার নিরাময় করা। কিন্তু সেখানে মনুষ্য জীবনের এই বস্তুগত দিকটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারা কোথাও কোনোভাবে আত্মার প্রসঙ্গ টেনে আনেননি। তবে তাদের সে যুগে সবথেকে কর্তৃত্বকারী মতাদর্শের কাছে তাদের আনুগত্য প্রকাশ করতে হয়। তারা ঈশ্বরের কাছে তাদের আনুগত্য জানিয়েছিলেন।(অসুস্থ শরীরকে সুস্থ) করার জন্য এটাও ছিল চিকিৎসার অঙ্গ।

অন্যান্য বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও একথা সত্য। যেসব কারিগররা ও অন্যান্য অংশের শ্রমজীবী মানুষেরা কোন না কোনও কাজের ক্ষেত্রে দক্ষ ছিল। তারা যখন হাতে-কলমে কাজ করত তখন কাজের সমস্যা সমাধানে তাদের বস্তুবাদীদের মতই চলতে হত। কিন্তু যখনই তারা সামাজিক জীবনের সাধারণ সমস্যার মুখোমুখি হত। তখনই তখনকার কর্তৃত্বকারী মতাদর্শের অর্থাৎ সেই পুনর্জন্ম, আত্মা, মোক্ষ ইত্যাদি সেবায় লেগে যেতে হত। ঔষুধ তৈরি ইত্যাদি পেশাগত ক্ষেত্র থেকে দর্শনের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট বস্তুবাদী দার্শনিক প্রবণতার উদ্ভব ঘটে। যারা এই দর্শন অনুসরণ করে, তারা তাদের শিল্প বা পেশার সমস্যা ব্যাখ্যা করতে বস্তুবাদী অবস্থানই নিতে হত। কিন্তু তখনকার শাসকশ্রেণির যে শ্রেণি, বর্ণ, জাতপাতের ভাববাদী মতাদর্শ তার কাছেই তাদের আত্মসমর্পণ করতে হত।

একই কথা সত্য ন্যায়-বৈশেষিকদের মতো বস্তুবাদী দার্শনিকদের ক্ষেত্রেও—যাদের সম্পর্কে দেবীপ্রসাদ বলেছিল, ‘বস্তুবাদের অনেকটাই কাছাকাছি’। কিন্তু তারাও তৎকালীন ধর্মগ্রন্থের হয়ে দীর্ঘ যুক্তি বিস্তার করেছিল। তবে দেবীপ্রসাদ এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন যে তাদের কথা গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

আমাদের কাছে সবচেয়ে বড়ো কথা—মার্কসবাদ জানা ও বোঝা ছাড়িয়ে দর্শন ও তার ইতিহাসের ক্ষেত্রে মার্কসবাদের সৃষ্টিশীল প্রয়োগ— দেবীপ্রসাদ এই কাজের সার্থক রূপকার। ভারতের দর্শনের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নির্মোহ পর্যালোচনা তিনি (দেবীপ্রসাদ) প্রথম করেছেন। এইসব কাজই দেবীপ্রসাদকে সদাস্মরণীয় করে রেখেছে। তার কোনো কোনো সিদ্ধান্ত ও ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ হতেই পারে কিন্তু তার কাজের গুরুত্ব তাতে এতটুকু কমে না।। দেবীপ্রসাদ ভারততত্ত্বের বহু খণ্ড বিচ্ছিন্ন সমস্যাকে একসূত্রে গ্রথিত করে একটা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ও সমাধান দিতে পেরেছেন, তিনি এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেয়েছেন নিঃসন্দেহে মার্কসবাদ থেকে। একেই বলে মার্কসবাদকে আয়ত্ত করে তাকে আরও বিকশিত করা। এই কৃতিত্বের দ্বারা দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় স্মরণীয় এবং তার গবেষণা দ্বারা ভারততত্ত্ব সমৃদ্ধ।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.