(এশিয়া টাইমস-এ প্রকাশিত পেপে এসকোবারের মূল নিবন্ধটির অনুবাদ করেছেন ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিপ্লব রঞ্জন সাহা।)  

করোনাভাইরাসের (coronavirus) দুনিয়া তছনছ করা অগণ্য ভূরাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে একটা বিষয় ইতোমধ্যেই সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত। চিন নিজের অবস্থানকে পুনঃস্থাপিত করেছে। ১৯৭৮ সালে দেং শিয়াও পিং-এর সংস্কার কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এই প্রথম বেইজিং খোলাখুলি ভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে একটা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াই চলাকালীন মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং পি এমনটাই বলেছেন।

করোনাভাইরাসের আক্রমণের গোড়া থেকেই চিনা নেতৃবৃন্দ জানতেন, যে এটা একটা সংকর যুদ্ধাক্রমণ (hybrid war attack) – বেজিং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এবং জোরালো ভাবে তাদের এই বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করছে। এ ব্যাপারে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তারই মধ্যে রয়েছে একটা বড়ো সূত্র। তিনি প্রকাশ্যেই বলেছেন, এটা ছিল একটা যুদ্ধ। আর একে ঠেকাতে শুরু করতে হয়েছিল ‘জনযুদ্ধ’।

উপরন্তু শি এই ভাইরাসটিকে একটা পিশাচ বা শয়তান বলে বর্ণনা করেন। শি একজন কনফুসিয়াসবাদী। অন্য অনেক চিনা চিন্তাবিদের থেকে ভিন্ন পথে চলা কনফুসিয়াস অতিপ্রাকৃত শক্তি এবং মৃত্যু-পরবর্তী বিচার নিয়ে আলোচনা করতে অনাগ্রহী ছিলেন। যা-ই হোক, চিনা সাংস্কৃতিক প্রকরণে শয়তান মানে ‘সাদা শয়তান’ বা ‘ভিনদেশি শয়তান’, ম্যান্ডারিনে যাকে বলে গুয়াইলো, ক্যান্টোনিজে গোয়েইলো। এ ভাবেই সংকেতের মাধ্যমের একটি শক্তিশালী বিবৃতিই দিয়েছেন শি।

চিনা বিদেশ মন্ত্রকের এক মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান তাঁর এক টুইটে একটা সম্ভাবনার কথা স্পষ্ট বললেন – “এটা হতে পারে মার্কিন সামরিকবাহিনীই উহানে মহামারি এনেছে”। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার তরফে যখন প্রথম এই বিস্ফোরণ ঘটল, বোঝা গেল বেজিং তার গ্লাভস খুলে পরীক্ষামূলক বেলুন উড়াতে শুরু করল। ঝাও লিজিয়ান ২০১৯ সালের অক্টোবরে উহানে অনুষ্ঠিত সামরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সঙ্গে করোনার একটা প্রত্যক্ষ যোগসুত্র স্থাপন করলেন। ওই ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় মার্কিন সামরিকবাহিনীর ৩০০ সদস্য যোগদান করেছিলেন।

আরও পড়ুন: করোনা-পরিস্থিতিতে একটি প্রাথমিক প্রস্তাবনা

মার্কিন সিডিসি (সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, CDC) ডিরেক্টর রবার্ট রেডফিল্ডের কথা সরাসরি উদ্ধৃত করেছেন ঝাও লিজিয়ান। রেডফিল্ডের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিছু মৃত্যুর কারণ যে করোনাভাইরাস তা মৃত্যুর পরে বোঝা গিয়েছিল কিনা। জবাবে তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ ভাবে মৃত্যুর কযেকটি ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে।”

ফ্লু’য়ের সঙ্গে কোভিড ১৯-এর পার্থক্য নির্ণয়, পরীক্ষানিরীক্ষা ও শনাক্তকরণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অক্ষমতা পুরোপুরি প্রমাণিত হওয়ার সূত্রেই ঝাওয়ের বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত – কোভিড-১৯ উহানে শনাক্ত হওয়ার আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল।

ইরান এবং ইতালির করোনাভাইরাস জিনোম-ভিন্নতার আনুপূর্বিকতা বিচার করে এই তথ্য প্রকাশ্যে এল যে, উহানে প্রকোপ ছড়ানো ভাইরাসের ধরনের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। এই সমস্ত তথ্য একত্র করে চিনা গণমাধ্যম আজ খোলাখুলি প্রশ্ন তুলছে এবং গত বছরের আগস্টে ফোর্ট ডেট্রিক-এ (Fort Detrick) সামরিক বাহিনীর জৈব-অস্ত্র ল্যাবরেটরিটা (bioweapon laboratory) বন্ধ করে দেওয়া, উহানে অনুষ্ঠিত সামরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং উহান মহামারির মধ্যে যোগসূত্র রচনা করছে। এ সব প্রশ্নের কোনো কোনোটা খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও উঠেছিল, কিন্তু কোনো জবাব মেলেনি।

২০১৯-এর ১৮ অক্টোবর নিউইয়র্কে যে ইভেন্ট ২০১ (event 201) হয়েছিল তার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ইভেন্টটা ছিল এক মারণ-ভাইরাসের কারণে বিশ্বজোড়া মহামারির মহড়া। ঘটনাক্রমে সেটাই ঘটল, এল করোনাভাইরাস। এই বিশাল কাকতালীয় ঘটনাটা ঘটেছিল উহানে ভাইরাস সংক্রমণের ঠিক এক মাস আগে।

আরও পড়ুন: হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইভেন্ট ২০১-এর স্পনসর ছিল বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন (Bill & Melinda Gates Foundation), ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF), সিআইএ (CIA), ব্লুমবার্গ (Bloomberg), জন হপকিন্স ফাউন্ডেশন (John Hopkins Institute) এবং রাষ্ট্রপুঞ্জ (The United Nations)। ঠিক একই দিনে উহানে বিশ্ব সামরিক ক্রীড়া উৎসব শুরু হয়েছিল।

করোনাভাইরাসের সূত্রপাত কী ভাবে তা এখনও চূড়ান্ত ভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। এই সব বিচারবিবেচনা দূরে রেখেই ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ‘চাইনিজ ভাইরাস’ অভিহিত করে টুইট করলেন। যা-ই হোক, জৈব-রাজনীতি (ফোকাল্ট আপনি কোথায়, আপনাকেই তো আমাদের প্রয়োজন এখন) এবং জৈব-সন্ত্রাস সম্পর্কে সাংঘাতিক গুরুতর সব প্রশ্ন সামনে আনছে কোভিড-১৯।

করোনাভাইরাস খুবই শক্তিশালী জৈব-অস্ত্র বটে, তবে বিশ্বব্যাপী ধ্বংস সাধন করার মতো মারণাস্ত্র নয়। তবে এই ভাইরাস যে বিশ্ব জুড়ে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি নিখুঁত মাধ্যম তা এর কাজকারবার থেকেই অনুমিত হয়।

জৈবপ্রযুক্তির শক্তি হিসেবে কিউবার উত্থান

ঠিক যে ভাবে পুরোপুরি মাস্ক ঢাকা অবস্থায় শি-র উহান ফ্রন্টলাইন পরিদর্শন গোটা পৃথিবীকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল যে চিন কী গভীর ত্যাগের মাধ্যমে কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে ‘জনযুদ্ধে’ জয়লাভ করছে, তেমনই রিয়াধের ব্যাপারে চিনা দার্শনিক সান জু-র মতো রাশিয়ার চালে তেলের ব্যারেলের দাম অনেকটাই কমে যাওয়াটা চিনা অর্থনীতির পুনরুদ্ধার-পর্ব শুরু করতে কার্যত সাহায্য করল। এ ভাবেই একটা স্ট্রাটেজিক পার্টনারশিপ কাজ করে।

দাবার চাল বদলে যাচ্ছে মারাত্মক গতিতে। করোনাভাইরাসকে জৈব-অস্ত্র আক্রমণ হিসেবে চিন শনাক্ত করতেই রাষ্ট্রের সর্বশক্তি দিয়ে শুরু হয়ে গেল ‘জনযুদ্ধ’। একেবারে নিয়মমাফিক, ‘যা করা দরকার’ তার ভিত্তিতে। এখন আমরা একটা নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছি, যেটা সামগ্রিক ভাবে পশ্চিমের সঙ্গে এবং ভিন্ন ভিন্ন কাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রটি সুদৃঢ় ভাবে পুনর্নিণয়ে বেজিং ব্যবহার করবে।

শক্তি যদি কোমল ভাবে প্রদর্শিত হয়, তা হলে তা হয় সর্বশ্রেষ্ঠ। এয়ার চায়নার উড়ানে ২,৩০০টা বড়ো বাক্সভরতি মাস্ক ইতালিতে পাঠিয়ে বেজিং লিখে দিয়েছিল “আমরা একই সমুদ্রের ঢেউ, একই গাছের পাতা, একই বাগানের ফুল”। চিন ইরানেও পাঠিয়েছিল মানবিক সাহায্যের একটা বিশাল ‍প্যাকেজ মাহান এয়ারের আটটি উড়ানে। লক্ষনীয় হল, এই বিমান সংস্থাটি ট্রাম্প প্রশাসনের অবৈধ, একতরফা নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: মোদীর কাছে লকডাউনে বিরাট চ্যালেঞ্জ মন্দামুক্ত ভারতের নেতা হওয়ার!

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিক-এর চেয়ে বেশি স্পষ্ট করে হয়তো আর কেউ বলবেন না – “একটা মাত্র দেশ আমাদের সাহায্য করতে পারে আর সেটা হল চিন। এরই মধ্যে আপনারা বুঝতে পেরেছেন যে, ইউরোপীয় সংহতি বলে কিছু নেই। সেটা ছিল কাগজে-কলমে একটা রূপকথা।”

শুরু থেকেই কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও আসুরিক শক্তির চাপে থেকেও কিউবা নানা সাফল্য অর্জন করে, এমনকি জীবপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও। করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় তারা অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে ব্যবহার করে চলেছে অ্যান্টিভাইরাল হেবেরন বা ইন্টারফেরন আলফা ২বি। এটা কোনো টিকা নয়, রোগ নিরাময়ের ওষুধ। চিনে  যৌথ উদ্যোগে এই ওষুধটির একটি অন্য সংস্করণ উৎপাদিত হচ্ছে যা ইনহেলার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অন্তত ১৫টি দেশ ইতোমধ্যে এই ওষুধটি আমদানি করার আগ্রহ দেখিয়েছে।

এখন উপরে বর্ণিত সব কিছুর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাবটি তুলনা করুন। কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে ‘শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য’ পরীক্ষামূলক টিকা পেতে জার্মানির থুরিঙ্গিয়ায় বায়োটেক ফার্ম ‘কিওরভ্যাক’-এ কর্মরত জার্মান বিজ্ঞানীদের জন্য ওই অর্থ দিতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।   

সামাজিক প্রকৌশল মনস্তাত্ত্বিক অভিযান?

‌কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমরা ঠিক কোন অবস্থায় আছি তা ইতোমধ্যে উপলব্ধি করার চেষ্টা করছেন ব্রেট নেইলসনের ‘দ্য পলিটিক্স অব অপারেশনস: এক্সকাভেটিং কনটেমপোরারি’-এর সহযোগী লেখক সান্ড্রো মেজাদ্রা।

আমাদের সামনে এখন দু’টি পক্ষ, এর মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে। এক দিকে হল সামাজিক ডারউইনবাদ দ্বারা অনুপ্রাণিত ‘জনসন-ট্রাম্প-বলসোনারো অক্ষ চালিত’ মালথুসীয় মতবাদীরা। আর দ্বিতীয়টি হল সেই পক্ষ যারা মৌলিক অস্ত্র হিসাবে জনস্বাস্থ্যের গুণগত পুনর্মূল্যায়নের দিকে নির্দেশ করছে, যে দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছে  চিন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইতালি। গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে।

মেজাদ্রা দেখিয়েছেন বিকল্প দু’টি – একটি হল ‘প্রাকৃতিক ভাবে জনসংখ্যা নির্বাচন’ যেখানে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে আর দ্বিতীয়টি হল ‘আত্মরক্ষামূলক সমাজ’ যেখানে ‘বিভিন্ন মাত্রার কর্তৃত্ববাদ এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণ’ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ যেন এডগার অ্যালান পো’র ‘দ্য মাস্ক অব দ্য রেড ডেথ’- এর একুশ শতকীয় রিমিক্স। এই সামাজিক রি-ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে কারা লাভবান হবে তা  সহজেই অনুমান করা যায়।

এত শত ধ্বংস ও বিষাদের মাঝেও বিবেচনায় নিতে হবে ইতালিকে, যারা চিত্রশিল্পী টিপোলোর স্টাইলের আলোছায়া দেখিয়েছে আমাদের। ইতালি তার অর্থনীতির চরম ভঙ্গুর দশার মধ্যেও আরও মারাত্মক পরিণতির মুখোমুখি হয়ে গ্রহণ করেছিল উহানের বিকল্পটাকেই। গৃহবন্দি অবস্থাতে থেকেও ইতালিবাসী ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে গান গেয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে, নিগুঢ় তত্ত্বজ্ঞানসমৃদ্ধ বিদ্রোহের এক খাঁটি নজির।

আসল সেন্ট করোনার ক্ষেত্রে আদর্শ বিচার (পোয়েটিক জাস্টিস তথা ধর্ম-অধর্মের জয়-পরাজয়) হয়েছিল কিনা, সে প্রসঙ্গ এখানে নাই-বা তুললাম। সেন্ট করোনা (লাতিন ভাষায় ‘ক্রাউন’ মানে মুকুট) নবম শতাব্দী থেকে আনজু শহরে সমাধিস্থ রয়েছেন। সেন্ট করোনা ছিলেন একজন খ্রিস্টান যাঁকে ১৬৫ খ্রিস্টাব্দে মারকাস অরেলিয়াসের অধীনে হত্যা করা হয় এবং তখন থেকেই শত শত বছর ধরে মহামারির পৃষ্ঠপোষক সেন্ট হিসাবে তিনি পরিগণিত হয়ে আসছেন।

এমনকি স্বর্গের করুণায় আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো কোটি কোটি ডলার ঝরে পড়লেও কোভিড-১৯ থেকে তা নিরাময় করতে পারবে না। জি-৭-এর নেতৃবৃন্দ যে আদৌ থই পাচ্ছেন না, তা বুঝতে তাঁদের ভিডিও কনফারেন্স করতে হচ্ছে।

সংক্রামক রোগ সংক্রান্ত অন্যতম প্রধান চিনা বিশেষজ্ঞ যাঁর গবেষণামূলক বিশ্লেষণের দিকে এখন সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ, সেই সাংহাই-ভিত্তিক ডাক্তার ঝ্যাঙ ওয়েনহং এখন বলছেন, কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে ‘জনযুদ্ধে’ চিন তার সব চেয়ে অন্ধকার দিনগুলো থেকে বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু তিনি মনে করেন না গ্রীষ্মের আগে এই কোভিড-১৯ যাবে। এখন ওঁর এই বক্তব্য পশ্চিমি দুনিয়ার ক্ষেত্রে কী ভাবে প্রযোজ্য তা অনুমান করুন।

আরও পড়ুন: ভয় নয়, জয় করুন করোনাকে: কী বলছেন বিশ্ব থেকে স্মলপক্স দূর করার অগ্রদূত ডা. ল্যারি ব্রিলিয়্যান্ট

আমরা ইতোমধ্যেই জানি, বাণিজ্যের দেবীকে নির্দয় ভাবে তছনছ করার দিকে কী ভাবে নিয়ে যায় একটা ভাইরাস। গোল্ডম্যান স্যাক্স বলেছে, অন্তত পক্ষে ১৫০০ কর্পোরেশনের কোনো ঝুঁকি নেই। এটা ডাহা মিথ্যা।

নিউ ইয়র্কের ব্যাংকিং সূত্র থেকে সত্যটা জানতে পারলাম – ১৯৭৯, ১৯৮৭ অথবা ২০০৮-এর চেয়ে ২০২০ সালে ঝুঁকি অনেক বেশি, কারণ এ বারের  মারাত্মক বাড়তি বিপদ হল ১.৫ কোয়াড্রিলিয়ন (১ কোয়াড্রিলিয়ন মানে ১ হাজার ট্রিলিয়ন, অর্থাৎ ১-এর পরে ১৫টা শূন্য) মার্কিন ডলারের অমৌলিক বাজার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।

নব্যউদারনীতিবাদী দৈত্যাকার পুঁজিবাদের ভবিষ্যতের উপর কোভিড-১৯-এর প্রভাব কী হতে পারে তা আমরা সবেমাত্র বুঝতে শুরু করেছি। যা নিশ্চিত তা হল বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনীতি একটা গোপন অদৃশ্য সার্কিট ব্রেকারের আঘাতে আহত। এটা হয়তো একটা ‘কাকতলীয়’ ব্যাপার অথবা যেমনটা অনেকেই জোরালো ভাবে মনে করেন, এটা সম্ভাব্য বিশাল মনস্তাত্ত্বিক অভিযানের একটা অংশ, যাতে করে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য একটা নিখুঁত ভূ-রাজনৈতিক সামাজিক প্রকৌশলের পরিবেশ তৈরি করা যায়।

বিশ্ব অর্থনীতির এই বিপর্যস্ত দৃশ্যপটের মধ্যে একটা অপেক্ষাকৃত জরুরি প্রশ্ন থেকেই যায়: উপনিবেশবাদী অভিজাতরা এখনও কি পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য চিনের বিরুদ্ধে এই দোআঁশলা যুদ্ধটা চালিয়ে যাবে?

সূত্র:  https://asiatimes.com/2020/03/china-locked-in-hybrid-war-with-us/

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন