কালীর অন্ধকার, দীপাবলির আলো: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

0

আরও পড়ুন : প্রসঙ্গ মা কালী কথা  কালীপূজার এই বির্বতনের পথেই যুক্ত হয়েছে দীপাবলি উৎসব। কালী, দুর্গার মতো উর্বরতা কাল্টের ঐতিহ্যকে বহন করেনি, সে উপস্থিত হয়েছে অন্য ব্যঞ্জনায়। শুরুতে কুশিক (অনার্য মানবগোষ্ঠী) বা শবরদের টোটেম হিসেবে থাকলেও আর্যকরণের মধ্য দিয়ে অন্য অর্থ লাভ করে। কালীকে মৃত্যুর দেবীরূপে কল্পনা করার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে দীপাবলি উৎসব। ‘পরলোকগত’ স্বজন ও বন্ধুরা ‘ভয়ংকর’ এবং ‘অন্ধকার’ পরলোকের পথে নির্বিঘ্নে যেতে পারেন, তাই অমাবস্যা ও তার আগের দিন নদীর জলে বা পুকুরের জলে জ্বলন্ত প্রদীপ ভাসানো হয় বা আকাশ-প্রদীপ জ্বালানো হয়। আসলে অমাবস্যার ভয়ংকর অন্ধকারকে মানুষ ভয় পেত, তাই ঘন ঘোর অন্ধকারে আলো জ্বালিয়ে মানুষ তার ভয় দূর করত। এর সঙ্গে থাকত নানা ধরনের আওয়াজ করা – যার মধ্যে দিয়ে ‘ভূত-প্রেত’ তাড়ানোর মানসিকতা প্রকাশিত হত। আদিমকাল থেকেই কাঠকুটো জ্বালিয়ে আলো আর আগুন তৈরি করা হয়। পাথর-টাথর ফেলে দল বেঁধে চেঁচামেচি করে বিকট শব্দ করা – এই ছিল আত্মরক্ষার আদিম পদ্ধতি। কয়েক হাজার বছর অতিক্রম করে তা পরিণত হয়েছে কালীপূজার আতসবাজি পোড়ানোতে। ঘটনা হল ভূত-প্রেতে বিশ্বাস কেবল আদিম মানুষের নয়, বাঙলার প্রায় ঘরে ঘরে এই বিশ্বাস এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। ফলে আদিম মানুষের ভয়ের গল্পের সঙ্গে বর্তমানের মানুষের অন্ধত্ব ও কুসংস্কারের কথা ভুললে চলবে না। তাই আগুন জ্বালানো ও শব্দবাজির সঙ্গে ভূত তাড়ানোর গল্পটি কম প্রাসঙ্গিক নয়।

গ্রন্থপঞ্জি

চক্রবর্তী, চিন্তাহরণ, ১৩৭৭ বাংলা। হিন্দুর আচার অনুষ্ঠান, কলিকাতা: লেখক সমবায় সমিতি চক্রবর্তী, চিন্তাহরণ, ২০১০। তন্ত্র। কলকাতা : গাঙচিল দাশগুপ্ত, কল্যাণকুমার। ২০০০। প্রতিমা শিল্প হিন্দু দেবদেবী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি বন্দ্যোপাধ্যায়, অমলকুমার। ১৯৮৫। পৌরাণিকা। কলিকাতা : ফার্মা কেএলএম প্রাইভেট লিমিটেড বাস্কে, ধীরেন্দ্রনাথ, ২০০৬। বঙ্গ সংস্কৃতিতে প্রাক-বৈদিক প্রভাব, কলকাতা: সুশীল বাস্কে (পরিবেশক-সুবর্ণরেখা) ভট্টাচার্য, হংসনারায়ণ, ১৯৯৭। হিন্দুদের দেবদেবী-উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ। তৃতীয় পর্ব। কলিকাতা: ফার্মা কেএলএম প্রাইভেট লিমিটেড সেনগুপ্ত, পল্লব, ২০০১, পূজা-পার্বনের উৎসকথা, কলকাতা : পুস্তক বিপণি Doniger, Wendy, 2011 The Hindus- An Alternative History, New Delhi, Penguin Books]]>