Mamata and Modi

ওয়েবডেস্ক: সাত দফার লোকসভা ভোটের শেষ দফায় ভোটগ্রহণ কলকাতা এবং শহরতলির কেন্দ্রগুলিতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গ হিসাবে পরিচিত দক্ষিণ কলকাতা বা সংলগ্ন কেন্দ্রগুলিতে আঘাত হানার শেষ সুযোগ বিজেপির কাছে। এখন দেখার, এই সুযোগ কাজে লাগাতে কতটা সফল হয় ৪২-এ ২৩ আসন জয়ের লক্ষ্যে স্থির গেরুয়া শিবির!

তৃণমূলের শুরুর দিকটা ছিল মূলত কলকাতা-কেন্দ্রিক। কলকাতা এবং কলকাতা শহরতলির এলাকগুলিতে সংগঠনের বিস্তার এবং শক্তিশালী ভিত তৈরির পরই গ্রামীণ এলাকায় প্রভাব বাড়াতে শুরু করে তৃণমূল। আগামী ১৯ মে এমন কিছু কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ, যেখান থেকেই তৃণমূলের রাজ্যের ক্ষমতা দখলের সূত্রপাত। এই কেন্দ্রগুলির মধ্যে রয়েছে কলকাতা দক্ষিণ, কলকাতা উত্তর, যাদবপুর, ডায়মন্ড হারবার, জয়নগর, মথুরাপুর, দমদম, বারাসত এবং বসিরহাট।

ষষ্ঠ দফার ভোটগ্রহণও বিজেপির কাছে ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই দফার আটটি আসনই ছিল তৃণমূলের দখলে। কিন্তু আটটি আসনের প্রার্থী মনোনয়নে তৃণমূলের বিশেষ কৌশল গত পঞ্চায়েত ভোট থেকে রাজ্যে বিজেপির ভোট শতাংশ বাড়ার ইঙ্গিত মাথায় রেখেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই আটটি আসনের মধ্যে কাঁথি, তমলুক, ঘাটাল এবং পুরুলিয়ায় বিদায়ী সাংসদদের অপরিবর্তিত রেখেছে তৃণমূল। অন্য দিকে ঝাড়গ্রাম, বিষ্ণুপুর, মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়ায় প্রার্থী বদল করেছে তৃণমূল। তা ছাড়া এই আটটি আসনের মধ্যে অধিকারী পরিবারের সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচিত কাঁথি এবং তমলুক বাদ দিলে বাকি ছ’টিতে প্রচারপর্ব থেকে ভোটের দিনেও সমানে টক্কর দিতে দেখা গিয়েছে বিজেপি-কে।

অন্য দিকে সপ্তম দফার আটটি কেন্দ্র প্রকারান্তরে মমতার কাছেও ‘প্রেস্টিজ ফাইট’-এর সমান। শহুরে গরিব ভোটারদের ঢালাও সরকারি ‘পরিষেবা’ দেওয়ার প্রতিদান কতটা মিলবে, সেটাও একটা বড়ো প্রশ্ন। শহুরে গরিব ভোটাররা সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলিতে হাত উজাড় করে যে ভাবে তৃণমূলকে ‘আশীর্বাদ’ করে এসেছে, এ বারের লোকসভা ভোটে তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে কি না, সেটাই দেখার।

শহুরে উচ্চবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত ভোটাররা বরাবরই সিপিএমের দিকে। কিন্তু এ বারের ভোট ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তোলা বিজেপির দিকে তাদের একাংশের ঢলে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা গিয়েছে কোথাও কোথাও। অন্য দিকে ভোট-বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, রাহুল গান্ধীর আচমকা রাজনৈতিক পরিপক্কতার দিকে তাকিয়ে কংগ্রেসের দিকেও ঝুঁকছেন ওই শ্রেণির শহুরে ভোটাররা। কিন্তু শহুরে গরিব মানুষের বড়ো অংশ এখনও মমতার পাশে। এ বারের ভোটে বিজেপি সেই ভোটে কতটা থাবা বসাতে পারে, সেটাই দেখার।

তবে সপ্তম দফার ন’টি কেন্দ্রের মধ্যে যাদবপুর এবং দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্র দু’টি ভিন্ন তাৎপর্য বহন করছে। এই কেন্দ্র থেকেই এক সময় লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন মমতা। কংগ্রেসের হয়ে লড়াই করলেও ১৯৮৪ সালে সিপিএমের প্রয়াত নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারানো তো মমতার রাজনৈতিক কেরিয়ারে রীতিমতো একটা মাইলস্টোন। পরে তিনি দক্ষিণ কলকাতা থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার পর টানা ছ’বার ওই কেন্দ্র থেকেই তিনি জয়ী হন। চরম সুদিনেও তাঁর ওই কেন্দ্রে দাঁত ফোটাতে পারেনি সিপিএম।

এই কেন্দ্রটির বিশেষত্ব রয়েছে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোটের হারেও। ১৯৯৮ সালের পর থেকে ২০১৪-র আগে যে ক’টা লোকসভা ভোট হয়েছে, প্রত্যেকটাতে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৫০ শতাংশের উপর। কিন্তু ছন্দপতন হয়ে যায় ২০১৪ সালে। সে বার তৎকালীন বিজেপি নেতা তথা বর্তমানে মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়ের কাছে শক্ত লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের ভোট কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩৬.৯৫ শতাংশ।

আর এ বার?

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here