Connect with us

প্রবন্ধ

পুলওয়ামা হামলা কী দিল মোদীকে?

শহিদ স্মরণের কর্মসূচি ফিকে হতে শুরু করেছে সপ্তাহের শুরু থেকেই। লোকসভা ভোটই এখন এক মাত্র লক্ষ্য। স্বাভাবিক ভাবে প্রচারে-আলোচনায় ঘুরেফিরে এলেও পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় রং লেগেছে রাজনীতির। ৪০ জওয়ানের আত্মবলিদানও বাদ পড়ছে না দেশের ছোটো-বড়ো-মাঝারি রাজনৈতিক দলের তর্ক-তরজা থেকে। তবে যে যা-ই করুক, পুলওয়ামা-আবেগ সব থেকে যে বেশি কদর বাড়াচ্ছে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর, […]

Published

on

jayanta mondal

জয়ন্ত মণ্ডল

শহিদ স্মরণের কর্মসূচি ফিকে হতে শুরু করেছে সপ্তাহের শুরু থেকেই। লোকসভা ভোটই এখন এক মাত্র লক্ষ্য। স্বাভাবিক ভাবে প্রচারে-আলোচনায় ঘুরেফিরে এলেও পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় রং লেগেছে রাজনীতির। ৪০ জওয়ানের আত্মবলিদানও বাদ পড়ছে না দেশের ছোটো-বড়ো-মাঝারি রাজনৈতিক দলের তর্ক-তরজা থেকে। তবে যে যা-ই করুক, পুলওয়ামা-আবেগ সব থেকে যে বেশি কদর বাড়াচ্ছে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর, সে কথা এক বাক্যে স্বীকার করছে বিরোধী দল থেকে শুরু করে বহুজাতিক সংস্থার বিশ্লেষণও!

Loading videos...

সীমান্ত সমস্যা, পাকিস্তান আর যুদ্ধ-যুদ্ধ আবহ – বহু দশকের পুরোনো রাজনৈতিক টোটকা। ভোটের সময় এ সবের কার্যকারিতা অনেক গুণ বেশি। পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা এবং ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানের শহিদ হওয়ার ঘটনা ঠিক যতটা মর্মন্তুদ, ক্রমশ যেন ততটাই বেদনাদায়ক হয়ে উঠছে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলের কচকচানি। ঘটনার পর পরই সারা দেশ যখন শোকস্তব্ধ তখন একটা ‘আপাত-সত্যি’ কথা বলে ফেলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, কোনো রকম তদন্ত না করেই কেন এই ঘটনার দোষী সাব্যস্ত করে ফেলা হল?

মমতার সেই বক্তব্য নিয়ে সারা দেশেই তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। তাঁর মন্তব্যে কোনো রকমের যুক্তি নেই প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লাগে বিজেপিও। পাশে পাওয়া যায় শোকাহত দেশবাসীকে। পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে বসা জইশ-ই-মহম্মদ যখন হামলার দায় স্বীকার করে নিল, তখন মমতার কথা তো যুক্তিহীনই ঠেকে! তার উপর যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিবৃতিতেও পুনরুচ্চারিত হয় মমতার বক্তব্য। তিনি দাবি করেন, “পুলওয়ামা হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এলেই চলবে না, প্রমাণ দিতে হবে”। স্বাভাবিক ভাবেই আসন্ন ভোটে বিজেপিকে টক্কর দিতে প্রস্তুত তৃণমূলনেত্রীকেও কিছুটা হলেও হেয় করা গেল দেশভক্তদের চোখে।

রাজনীতিতে সবই সম্ভব। এখানে একে আর একে সব সময় যে দুই হবে, তার কোনো গ্যারান্টি নেই। এই যেমন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ কটাক্ষের সুরে বলেছেন, “পুলওয়ামা হামলা কখন হবে, সেটা কংগ্রেস জানত”। আন্তর্জাতিক সীমানা সুরক্ষা নিয়ে কে কতটা ভাবিত, তা প্রমাণ করতে পারলেই দেশভক্তদের সমর্থন মিলবে, সেই প্রতিযোগিতায় বিজেপি নিজে থেকেই নেমে পড়েছে, সেটা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। সেখানে ঘুরেফিরে এসে যেতে পারে ৪০ শহিদের আত্মবলিদান। কারণ, সেটাও তো ভোটের প্রচারে মাইলেজ দেবে নির্লজ্জ রাজনীতিকে। তা কী ভাবে?

পুলওয়ামা হামলার পর মোদী-শাহের মতো বিজেপির প্রথম সারির নেতারা যে কোনো সভাতেই অভয়বাণী প্রচার করছেন। পাকিস্তানের মতো নগণ্য শক্তির কাছে ভারতের যে মাথা নোয়ানোর কোনো প্রশ্নই নেই, সে কথাটাই ঢুকিয়ে দিচ্ছেন দেশবাসীর মগজে। এত বড়ো একটা হামলায় সমস্ত রকমের ব্যর্থতাকে ফুঁয়ে উড়িয়ে দিতে ওই অভয়বাণীই অব্যর্থ। মোদীই বরাভয়, তেমন গ্যারান্টি সঙ্গে নিয়ে আগামী ভোটে এমন একটা মজবুত সরকারকে স্থায়িত্ব দেওয়ার তাগিদে ইভিএমে পদ্ম-ছুঁতে উৎসাহিত করা। সেনা করে সেনার কাজ, কিন্তু ভোটের মুখে সেনাকে সামনে রেখেই সন্ত্রাসদমনে পাকিস্তানকে জব্দ করার চিরকালীন খিদে মেটানোর আশ্বাস মোটেই চাট্টিখানি কথা নয়।

অন্য দিকে বিজেপি-বিরোধী দলগুলি নিজেদের অজান্তেই পুলওয়ামাকে সামনে রেখে মোদী-বিরোধী প্রচারে নেমেছে। তাদের তরফে বলা হচ্ছে, পুলওয়ামা হামলাকে বিজেপি নিজেদের ভোট প্রচারে ব্যবহার করছে। অন্য দিকে ঢেকে ফেলা হচ্ছে গোয়েন্দা ব্যর্থতা। আরও নির্দিষ্ট করে খোদ জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর ও তাঁর দলের লোকেরা পুলওয়ামার মর্মান্তিক ঘটনাকে ব্যবহার করছেন, ৪০ জনের বেশি সিআরপিএফ জওয়ানকে নিজস্ব রাজনৈতিক প্রচারের উদ্দেশে হত্যা করা হয়েছে। এটা জাতির কাছে সব চেয়ে বড় অসহায়তা। ”

অতি বড়ো বিজেপি বা মোদী-বিরোধীর কাছেও এক জন ভারতীয় পক্ষে এমন ধরনের অভিযোগ হজম করা খুব একটা সহজ কথা নয়। যে কারণে সেই অতর্কিত হামলার সঙ্গে বিজেপির এজেন্ডা মিশিয়ে দিয়ে আদতে দেশপ্রেমের কাছে আত্মসমর্পণ করার নামান্তর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু চলমান রাজনীতি বিস্মৃতির অতলে পাঠিয়ে দিতে পারে হাড়হিম করা আত্মত্যাগকেও। সেটাই ঘটে চলেছে পুলওয়ামা নিয়ে। সাড়ে চার বছর নিশ্চুপ থাকার পর আচমকা কেন ভোটের মুখে পুলওয়ামা? সে প্রশ্নের উত্তরও কি খুঁজবে না দেশপ্রেম?

অন্য দিকে কংগ্রেস আবার স্ট্রিং করে বের করেছে, পুলওয়ামায় হামলা চলার পরেও জিম করবেট জাতীয় উদ্যানে ডকুমেন্টারি ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ, এক দিকে সেনাকে লক্ষ করে জঙ্গিদের শুটিং, অন্য দিকে ভোটের প্রচারে মোদীর শুটিং। এমনকি হামলার খবর পাওয়ার পরেও শ্যুটিং বন্ধ হয়নি। আরও ঘণ্টাখানেক ধরে চলে সেই শুটিং। দুই শুটিংয়ের উত্তাপ ক্রমশ বাড়তে থাকলে বিজেপি তো আর চুপ করে বসে থাকবে না।

জবাব দিয়েছে বিজেপি। দাবি করা হয়েছে, ঘটনার কথা জানার পর এক মুহূর্তের জন্যও প্রধানমন্ত্রীকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসে থাকতে দেখা যায়নি। তিনি কোনো খাবারও মুখে তোলেননি।

এর পর আর কী বলার থাকতে পারে? কংগ্রেস বলেছিল, ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ৩:১০টায় পুলওয়ামায় হামলার ঘটনা ঘটলেও, সন্ধ্যা ৬:৪০টা পর্যন্ত শুটিং করেছেন মোদী। তার পর ৭:০৭ মিনিটে একটি সরকারি অতিথিনিবাসে চা-জলখাবার খেয়েছিলেন তিনি। বিজেপি বলছে, খাবারই খাননি মোদী। তবে ‘চায়ে পে চর্চা’র মোদী চা যদি পান করেই থাকেন, তাতে অপরাধটা কোথায়?

সেন্টু কোন উচ্চতায় পৌঁছোতে পারে, আন্দাজ করার অবকাশ রাখছে না আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ফিচ সলিউশনস ম্যাক্রো রিসার্চ। পুলওয়ামা হামলার পর তাদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে, সাম্প্রতিক পুলওয়ামা হামলার পর জাতীয়তাবাদী চিন্তাভাবনার বিস্ফোরণ বিজেপির পালে হাওয়া জোগাচ্ছে। পুলওয়ামা হামলার পর যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধজিগির জোরালো হচ্ছে, সেটা মোদীর হাত শক্ত করতে যথেষ্ট সহায়ক।

আচমকা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশাত্মবোধক গান, ভিডিও, ছবি, বাণী ইত্যাদির আদানপ্রদান ব্যাপক হারে বেড়ে গিয়েছে। এ সব কিছুর নেপথ্যেই পুলওয়ামা হামলার সেই ৪০ জওয়ানের আত্মত্যাগ। এ সবের কাছে শান্তির বাণী নিয়ে যাঁরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাঁদেরও আক্রান্ত হতে হচ্ছে। খোদ কলকাতাতেও এর নমুনা মিলেছে। আর সেখান থেকে কয়েক হাজার কিমি দূরে সিওল শান্তি পুরস্কার নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গণতন্ত্রের ভিত আরও গভীর করা এবং বিশ্ব শান্তিতে অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে এই পুরস্কার দেওয়া হল বলেই জানা গিয়েছে। মোদীর পরিপাটি করে ছাঁটা দাড়ির উপর থেকে উঁকি মারা চকচকে গালে ক্যামেরার ঝলসানি ঠিকরে পড়ছে।

পুরস্কার হাতে নিয়ে তিনি বলছেন, “এই পুরস্কার গোটা দেশের, শুধু আমার নয়। গোটা দেশের হয়ে আজ আমি এই পুরস্কার গ্রহণ করছি।” গোটা দেশ যে পুলওয়ামায় বিধ্বস্ত। এই পুরস্কারটা পাওয়া খুবই জরুরি ছিল তাঁর জন্য। শোকস্তব্ধ দেশবাসীর জন্য, আগামী লোকসভা ভোটের জন্যও!

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

প্রবন্ধ

পয়লা বৈশাখ এমন এক আনন্দ-উৎসব যার কোনো সংজ্ঞা নেই

এক প্রাণের উৎসব এই পয়লা বৈশাখ যেখানে চৈত্র সেল আছে, মায়ের ঘর ঝাড়ার স্মৃতি আছে, সোনার দোকানের সামনে হালখাতার লম্বা লাইন আছে, নন্দনে রবীন্দ্রসংগীত আছে আবার সেই দূর আদিবাসী গ্রামে কিছু মানুষের উৎসব আছে।

Published

on

বৃহস্পতিবার নববর্ষের সকালে কলকাতার রাজপথে মঙ্গল শোভাযাত্রা। নিজস্ব চিত্র।

শক্তি চৌধুরী

এক জন লেখক যখন কোনো একটি বিশেষ দিন বা উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু লিখবে স্থির করে তখন তার প্রথম লক্ষ্য থাকে ওই বিশেষ দিন বা উৎসবের আঙ্গিকটা আগে বর্ণনা করা। আর ঠিক এই জায়গায় আমি মহা ফ্যাসাদে পড়েছি। ইন্টারনেট ও বেশ কিছু বই নিয়ে ইতিহাস খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়ে দেখি, কী সর্বনাশ! ওই পৈতেধারী হিন্দু ব্রাহ্মণদের দোকানে দোকানে দাপাদাপির মূলে তো এক মুসলিম সম্রাট।

Loading videos...

আমি জানি আপনি মনে মনে কী বলছেন — “আঃ, এর মধ্যে আবার ধর্ম নিয়ে টানাটানি কেন, মশাই?” ঠিক তা-ই, আমিও এটাই বলতে চাইছি। ইতিহাস বলছে, এই দিনটির সঙ্গে ধর্মের কোনো রকম যোগাযোগ নেই। ধর্ম নাক গলিয়েছে তার নিজের স্বার্থে। যাক হেঁয়ালি রেখে বরং ইতিহাসটাই একটু ছোটো করে বলে নিই। ব্যাপারটা একটু পরিষ্কার হোক আগে।

মূল হিন্দু সংস্কৃতির যে দিনপঞ্জি নির্ধারিত হত সূর্যের অবস্থানের উপর নির্ভর করে, সে হিসাবে বহু শতক আগেই ১২ মাস আলাদা আলাদা করে নিয়ে বছর ভাগ করা হত। হিন্দু সৌরবছরের প্রথম দিন অসম, বঙ্গ, কেরল, মণিপুর, নেপাল, ওড়িশা, পঞ্জাব, তামিলনাডু এবং ত্রিপুরার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অনেক আগে থেকেই পালিত হত। পহেলা বৈশাখ আর্তব উৎসব তথা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে পালিত হত। তখন এর মূল তাৎপর্য ছিল কৃষিকাজ। আর ঠিক এইখানেই তৈরি হল সমস্যা। সমস্যা অর্থাৎ প্রশাসনিক সমস্যা।

ভারতে তখন মোগল শাসনব্যবস্থা চালু। আর মুসলিম দিনপঞ্জি ঠিক হত হিজরি পদ্ধতি মেনে। এই পদ্ধতি মূলত চাঁদের অবস্থানভিত্তিক, যার সঙ্গে আমাদের গ্রেগরি বা হিন্দু পদ্ধতির অনেকটাই ফারাক। দেখা গেল কৃষকদের খাজনা দেওয়ার সময় তাদের ঘরে ফসল নেই। তখন প্রত্যেককে চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সব খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে হত। তাই সম্রাট আকবর সিদ্ধান্ত নেন, একটা সম্পূর্ণ নতুন দিনপঞ্জি তৈরি করার যা প্রজাদের এই নিত্য সমস্যা থেকে কিছুটা রেহাই দেবে। সম্রাটের আদেশমতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতুল্লাহ শিরাজি সৌর-সন এবং আরবি-হিজরি সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করেন। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ মার্চ বা ১১ মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়।

অতএব আধুনিক ১ বৈশাখ পুরোপুরি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যা সত্যি সত্যি জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যেই গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু এই দিনটি পালনের ইতিহাসের দিকে নজর দিলে দেখা যায় খাজনা জমা করার পরের দিন ভূস্বামীরা স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করতেন। ক্রমে ক্রমে এটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। পরে ব্যবসায়ীরাও এই বিশেষ দিনটিতে তাদের ধারের খাতা বন্ধ করে নতুন করে খাতা শুরু করেন এবং সব পুরোনো দেনা-পাওনা মিটিয়ে নেন। তাই এটি প্রায় বাংলা আর্থিক বছরের সমাপ্তি সূচিত করে। তবে এখন অবধি যা যা নিয়ে আলোচনা করলাম সবই মূলত সমাজে আর্থিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত মানুষদের কথা।

১ বৈশাখ উদযাপনের ইতিহাস কিন্তু শুধুই শহুরে শিক্ষিত বা আর্থিক ভাবে শক্তিশালী মানুষের মধ্যেই সীমিত নয়। ঐতিহাসিক ভাবে এটি সর্বজনীন। বাংলা নববর্ষ ও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে পুব বাংলার (অধুনা বাংলাদেশ) তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙামাটি, বান্দরবন ও খাগড়াছড়ি) উপজাতীয়দের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয়-সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’ আনন্দমুখর পরিবেশে পালিত হয়। বৈসাবি হল পাহাড়িদের সব চেয়ে বড়ো উৎসব। এ উৎসবকে চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই এবং ত্রিপুরারা বৈসুক বলে আখ্যা দিলেও গোটা পার্বত্য এলাকায় তা ‘বৈসাবি’ নামেই পরিচিত। বৈসুক, সাংগ্রাই ও বিজু এই নামগুলির আদ্যক্ষর নিয়ে বৈসাবি শব্দের উৎপত্তি। বছরের শেষ দু’ দিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন, এই তিন দিন মিলেই মূলত বর্ষবরণ উৎসব ‘বিজু’ পালিত হয়। পুরোনো বছরের বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ করা উপলক্ষ্যে পাহাড়িরা তিন দিনব্যাপী এই বর্ষবরণ উৎসব সেই আদিকাল থেকে পালন করে আসছেন। এ উৎসব উপলক্ষ্যে পাহাড়িদের বিভিন্ন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আদিবাসী মেলার আয়োজন করা হয়।

পাঠক এ বার বুঝুন কেন আমি এই লেখার একেবারে প্রথমেই বলেছিলাম এই উৎসবকে কোনো একটা নির্দিষ্ট প্রেক্ষিতে বিবেচনা করতে যাওয়া খুব বিভ্রান্তিকর। বাংলার এক প্রাণের উৎসব এই পয়লা বৈশাখ যেখানে চৈত্র সেল আছে, মায়ের ঘর ঝাড়ার স্মৃতি আছে, সোনার দোকানের সামনে হালখাতার লম্বা লাইন আছে, নন্দনে রবীন্দ্রসংগীত আছে আবার সেই দূর আদিবাসী গ্রামে কিছু মানুষের উৎসব আছে। তাই এ আমাদের এক আনন্দ উৎসব। যার কোনো নির্দিষ্ট বিভাগ নেই, সংজ্ঞাও নেই।

আরও পড়ুন: স্বাগত ১৪২৮, জীর্ণ, পুরাতন সব ভেসে যাক, শুভ হোক নববর্ষ

Continue Reading

প্রবন্ধ

First Man In Space: ইউরি গাগারিনের মহাকাশ বিজয়ের ৬০ বছর আজ, জেনে নিন কিছু আকর্ষণীয় তথ্য

আজ থেকে ঠিক ৬০ বছর আগে ১৯৬১-এর ১২ এপ্রিল মহাকাশে হিয়েছিলেন গাগারিন।

Published

on

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ‘মানুষ চূর্ণিল আজ নিজ মর্ত্যসীমা’ – ১৩ এপ্রিল, ১৯৬১। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় আট কলম জুড়ে ব্যানার হেডিং। মানুষ বিস্মিত, হতচকিত – মহাকাশে পৌঁছে গিয়েছে মানুষ?

তখনকার দিনে ঘরে ঘরে সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার সব চেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল সংবাদপত্র। রেডিও ছিল, তবে তা ঘরে ঘরে ছিল না। আর টিভি তো ক’টা দেশে ছিল, তা হাতে গোনা যায়। তাই সংবাদপত্রই মূলত পৌঁছে দিল সেই খবর।

Loading videos...

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষার প্রত্যেকটি কাগজে সে দিন প্রথম পাতার খবর – মানুষের মহাকাশ জয়। মানব-ইতিহাসে সব চেয়ে স্মরণীয় ঘটনা।

দিনটা ছিল ১২ এপ্রিল, ১৯৬১। সোভিয়েত নভশ্চর ইউরি গাগারিন মহাকাশযান ভস্তক ১-এ চেপে মর্ত্যের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে পৌঁছে গেলেন মহাকাশে। মহাকাশজয়ী প্রথম মানব হিসাবে স্মরণীয় হয়ে থাকলেন গাগারিন।

যুদ্ধবিমানের বিমানের পাইলট গাগারিন মহাকাশে ছিলেন ১ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট। তাঁর মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল অধুনা কাজাখস্তানের বৈকনুর কসমোড্রোম থেকে। পশ্চিম রাশিয়ার সিটি অফ এঞ্জেলস-এর কাছে গাগারিনের মহাকাশযান পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করে। মহাকাশযান থেকে প্যারাশ্যুটে লাফিয়ে পড়েন গাগারিন, নিরাপদে পৌঁছে যান ভূপৃষ্ঠে।

৬০ বছর আগে গাগারিনের সেই মহাকাশ-অভিযান মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে মানুষের গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিল। এর পর থেকে মানুষ মহাকাশ নিয়ে কী করল, সে সব আজ আর কোনো অজানা তথ্য নয়।

ভস্তক ১ মিশন নিয়ে কিছু আকর্ষণীয় তথ্য

(১) বৈকানুর কসমোড্রোম থেকে যে মুহূর্তে ভস্তক ১ যাত্রা শুরু করেছিল, সেই মুহূর্তে গাগারিনের মুখ থেকে একটা শব্দ বেরিয়ে এসেছিল – “পোয়েখালি!” (যাওয়া যাক)।

(২) যে ভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, ঠিক সেই ভাবে চালিত হয়নি মিশন। যে উচ্চতায় কক্ষপথে ভস্তক ১-এর প্রবেশ করার কথা ছিল, তার চেয়ে বেশি উচ্চতায় প্রবেশ করেছিল। এর অর্থ মহাকাশযানটির ব্রেক ফেল করতে পারত। তা হলে আরও বেশি ক্ষণ গাগারিনকে মহাকাশে থাকতে হত। তবে তা হয়নি। ব্রেক ভালো ভাবেই কাজ করেছে এবং ফেরার সময় গাগারিন পরিকল্পনামাফিকই পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করেছেন।

(৩) জানা যায়, ভূপৃষ্ঠ ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাগারিনকে প্রথম দেখেছিলেন এক কৃষক ও তাঁর কন্যা। সেই সময়টা ছিল ঠান্ডা যুদ্ধের। গাগারিনকে তাঁরা মার্কিন গুপ্তচর মনে করেছিলেন। তাঁদের বোঝাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল গাগারিনকে।

(৪) গোটা মিশনটা নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন চরম গোপনীয়তা অবলম্বন করেছিল। গাগারিন পৃথিবীতে নিরাপদে পৌঁছে যাওয়ার পরে ইউরি গাগারিনের এই অবিস্মরণীয় কৃতিত্বের খবর প্রকাশ করা হয়। সারা বিশ্ব যেন একটা ধাক্কা খায়, বিশ্বাস করে উঠতে পারে না ঘটনাটা – মনে মনে ভাবে, এমনও হয়!

(৫) গাগারিনের মহাকাশ-বিজয় উপলক্ষ্যে উৎসব-সমারোহের আয়োজন করা হয় সেন্ট পিটার্সবার্গে। হাজার হাজার লোক তাতে যোগ দেন। অসংখ্য মডেল রকেট আকাশে ছোড়া হয়। সেই সঙ্গে চলে আতসবাজির নানা খেলা।

Continue Reading

প্রবন্ধ

Bengal Polls 2021: কোচবিহার জেলার ন’টি বিধানসভা কেন্দ্রে লড়াইয়ে কে কোথায়

২০২১-এ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গোটা রাজ্যে মাথাচাড়া দিয়েছে বিজেপি। তার নিরিখে বুঝতে হবে কোচবিহারের ফলাফল।

Published

on

তপন মল্লিক চৌধুরী

উত্তর বাংলার কোচবিহার জেলায় ন’টি বিধানসভা কেন্দ্র। ২০১৬-তে ন’টির মধ্যে ৮টি জিতেছিল তৃণমূল, একটিতে বামেরা। ২০১৯-এর লোকসভায় পাশা উলটে যায়। তৃণমূলকে টেক্কা দিয়ে বিজেপি লিড নিয়েছিল মাথাভাঙা, কোচবিহার উত্তর ও দক্ষিণ, দিনহাটা ও নাটাবাড়িতে। ২০২১-এ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গোটা রাজ্যে মাথাচাড়া দিয়েছে বিজেপি। তার নিরিখে বুঝতে হবে কোচবিহারের ফলাফল।

Loading videos...

এ বার কোচবিহারে দিনহাটা ও নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র দু’টি আলোচনায় সব থেকে এগিয়ে। এখানে আগে যাঁরা ছিলেন তৃণমূলে, একুশে তাঁরাই বিজেপির হয়ে ভোটে লড়ছেন। তাঁদের মধ্যে একজন নিশীথ প্রামাণিক, অন্য জন মিহির গোস্বামী। নিশীথ দিনহাটায় তৃণমূলের উদয়ন গুহের বিরুদ্ধে ভোটে লড়ছেন আর মিহির নাটাবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বিরুদ্ধে। তার মানে এখানে জেলা তৃণমূলের দুই প্রাক্তন সভাপতির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে রবিবাবু ১৬ হাজারের বেশি ভোটে জয় পেলেও গত লোকসভায় সাড়ে ১৮ হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল। তার পর থেকে বিজেপি এখানে সাংগঠনিক শক্তি যথেষ্ট মজবুত করেছে। করোনা পরিস্থিতিতে রবিবাবু দিনরাত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা মিহির গোস্বামীও কম যাচ্ছেন না।

দিনহাটার প্রার্থী উদয়ন বাবা কমল গুহের হাত ধরে রাজনীতি শুরু করে রাজ্যে পালাবদলের পর ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। এই কেন্দ্রের বিধায়কও হন। বাম ও ডান, দু’ দলের বিধায়ক হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর। উদয়নকে কোণঠাসা করতেই যে সাংসদ নিশীথকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা সেটা সকলেই বুঝছেন। দিনহাটায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মারাত্মক। দলের বিধায়ক-প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে পথে নেমে আন্দোলন করেছে কর্মী-সমর্থকরা। অন্য দিকে সাংসদপদ ছেড়ে বিধায়কপদের জন্য প্রার্থী হওয়া নিশীথকেও খুব সহজে মেনে নিতে পারছে না দিনহাটাবাসী। সুতরাং এ ক্ষেত্রে সংযুক্ত মোর্চার আব্দুর রাউফের (ফরওয়ার্ড ব্লক) সম্ভাবনা রয়েছে।

কোচবিহার দক্ষিণের লড়াইটা তৃণমূলের নবীন প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক বনাম বিজেপির অভিজ্ঞ প্রার্থী নিখিল রঞ্জন দের। কারণ তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী এ বার দল বদলে নাটাবাড়িতে বিজেপি প্রার্থী। তাঁর জায়গায় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অভিজিত দে ভৌমিককে (হিপ্পি) লড়তে হচ্ছে বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি নিখিলরঞ্জন দের বিরুদ্ধে। অন্য দিকে বামপন্থী প্রার্থী অক্ষর ঠাকুর এক সময় এই এলাকার বিধায়ক ছিলেন। সব মিলিয়ে এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা।

প্রসঙ্গত, উত্তর কোচবিহার কেন্দ্রে ২০১৬-তে তৃণমূলের পরিমল বর্মনকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের নগেন্দ্রনাথ রায়। এ বারও তিনি বামেদের প্রার্থী। ২০১৯-এ এই কেন্দ্র থেকে ২৭ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছিলেন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া নিশীথ প্রামাণিক। এ বার এখানে বিজেপি প্রার্থী দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সুকুমার রায়। উলটো দিকে তৃণমূল মাথাভাঙার বিধায়ক তথা অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মনকে প্রার্থী করেছে। সব মিলিয়ে জোরদার লড়াই।

মাথাভাঙা বিধানসভা কেন্দ্রেটি তফশিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত। ২০১৬ সালে তৃণমূল প্রার্থী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন ৩২ হাজারের বেশি ভোটে জয় পেলেও গত লোকসভা নির্বাচনে এখানে ২১ হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে পড়েছিল তৃণমূল। এ বার বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের পরিবর্তে হাইস্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক গিরীন্দ্রনাথ বর্মন হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী। বিজেপি প্রার্থী করেছে পেশায় কৃষক সুশীল বর্মনকে। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী অশোক বর্মন (সিপিএম)। এখানে ভোটের হাওয়া ততটা গরম নয়।  

লোকসভায় কোচবিহারে ভরাডুবি হলেও সিতাইয়ে তৃণমূল বিজেপির থেকে প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল। কিন্তু জেতার পর এক মাসের বেশি বাড়িছাড়া ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক জগদীশ বর্মাবসুনিয়া। এ বারও জগদীশবাবু দলের প্রার্থী। বিজেপি এখানে প্রার্থী করেছে দীপক রায়কে। তাঁকে ঘিরে বিজেপির মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। সংযুক্ত মোর্চর প্রার্থী কেশব রায় (কংগ্রেস)। এখানে প্রচারে হাওয়া গরম হচ্ছে কান্তেশ্বর সেতু কার আমলে তৈরি তা-ই নিয়ে। তৃণমূল বিধায়ক জগদীশবাবুর দাবি সেতুর শিলান্যাস হয় তাঁর হাত দিয়ে। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী কেশববাবু বলছেন, তৃণমূল মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে।

তুফানগঞ্জে বিজেপি যথেষ্ট শক্তিশালী। এ বার এখানে প্রার্থী জেলা সভাপতি মালতী রাভা। মালতী দেবী ২০০১ ও ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন। তিনি সম্প্রতি কোচবিহারে থাকলেও তাঁর আসল বাড়ি তুফানগঞ্জে। অন্য দিকে তৃণমূল এখানে প্রার্থী করেছে প্রণবকুমার দেকে। কিন্তু তিনি আলিপুরদুয়ারের লোক হওয়ায় দলের অন্দরে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী কংগ্রেসের রবিন রায়কেও মানতে নারাজ কংগ্রেস, নিজেদের মধ্যেই চলছে লাগাতার অসন্তোষ।

মেখলিগঞ্জে এ বার ফরওয়ার্ড ব্লকের দুই প্রাক্তন পরেশ অধিকারী বনাম দধিরাম রায়ের লড়াই। মেয়ের চাকরি নিয়ে বড়োসড়ো বিতর্কে জড়ানো পরেশ অধিকারীকে লোকসভায় প্রার্থী করার খেসারত দিয়েছে তৃণমূল। তার পরেও তিনি বিধানসভায় প্রার্থী। উলটো দিকে বিজেপি প্রার্থী দলের মণ্ডল সভাপতি দধিরাম রায়। ২০১৬-র বিধানসভায় তৃণমূল ৬০০০ ভোটে জিতলেও লোকসভা ভোটে পিছিয়ে ছিল। এখানে প্রচারে সেতু কারা তৈরি করল তা নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে দ্বন্দ্ব বেঁধেছে। দু’ জনেই দাবি করেন এই সেতু তাঁদের তৈরি। যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী গোবিন্দ রায় অন্য জেলার বাসিন্দা হওয়ার দরুন প্রথম থেকে কিছুটা ব্যাকফুটে।

শীতলকুচি কেন্দ্রে মূল লড়াই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের। তৃণমূল প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায় মানুষকে উন্নয়নের বার্তা দিতে চাইছেন। অন্য দিকে সংযুক্ত মোর্চার সিপিএম প্রার্থী সুধাংশু প্রামাণিক তাঁর বাবা প্রয়াত সুধীর প্রামাণিক ৩০ বছর বিধায়ক থেকে এলাকার উন্নয়নে কত কাজ করেছিলেন সেটাই প্রচারে সামনে রাখছেন। বিজেপি প্রার্থী বরেনচন্দ্র বর্মনও হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। এই আসনটিতে বিজেপি খুব একটা এগিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করছে না রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন: Bengal Polls 2021: উত্তরবঙ্গের চা বাগানে অ্যাডভান্টেজ মমতা

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
বাংলাদেশ9 mins ago

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তির বিদায়, বনানী কবরস্থানে সমাহিত কবরী

রাজ্য18 mins ago

‘ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে, সিআইডি তদন্তের নির্দেশ’ দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Randeep Guleria
দেশ1 hour ago

কেন লাগামহীন করোনা? মূলত ২টি কারণকেই দায়ী করলেন এইমস ডিরেক্টর

election commission of india
রাজ্য2 hours ago

Bengal Polls 2021: প্রার্থীর মৃত্যুতে জঙ্গিপুর আসনে ভোট স্থগিত রাখল নির্বাচন কমিশন

ধর্মকর্ম2 hours ago

অন্নপূর্ণাপুজো: ব্যারাকপুর অন্নপূর্ণা মন্দিরে এ বার শারীরিক দূরত্ববিধি মেনেই পুজো

Lalu Prasad Yadav
দেশ2 hours ago

পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় জামিন পেলেন লালুপ্রসাদ যাদব

Sonu Sood
বিনোদন3 hours ago

ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়ার পর কোভিড আক্রান্ত অভিনেতা সোনু সুদ

রাজ্য3 hours ago

Bengal Polls 2021: শীতলকুচির পর এ বার দেগঙ্গা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ

রাজ্য5 hours ago

Bengal Polls Live: ৪টে পর্যন্ত ভোট পড়ল প্রায় ৭০ শতাংশ

রাজ্য2 days ago

স্বাগত ১৪২৮, জীর্ণ, পুরাতন সব ভেসে যাক, শুভ হোক নববর্ষ

পয়লা বৈশাখ
কলকাতা2 days ago

মাস্ক থাকলেও কালীঘাট-দক্ষিণেশ্বরে শারীরিক দুরত্ব চুলোয়, গা ঘেষাঘেঁষি করে হল ভক্ত সমাগম

ক্রিকেট3 days ago

IPL 2021: আরসিবির হয়ে জ্বলে উঠলেন বাংলার শাহবাজ, তীরে এসে তরী ডোবাল হায়দরাবাদ

কোচবিহার2 days ago

Bengal Polls 2021: শীতলকুচির গুলিচালনার ভিডিও প্রকাশ্যে, সত্য সামনে এল, দাবি তৃণমূলের

গাড়ি ও বাইক2 days ago

Bajaj Chetak electric scooter: শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পরেই বুকিং বন্ধ! কেন?

দেশ3 days ago

ফের লকডাউনের আশঙ্কায় ভীত-সন্ত্রস্ত অভিবাসী শ্রমিকরা, কন্ট্রোল রুমে ফোনের পর ফোন ঝাড়খণ্ডে

রাজ্য2 days ago

Bengal Polls 2021: ভয়াবহ কোভিড সংক্রমণের মধ্যে কী ভাবে ভোট, শুক্রবার জরুরি সর্বদল বৈঠক ডাকল কমিশন

ভোটকাহন

কেনাকাটা

কেনাকাটা4 weeks ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা2 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা2 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা3 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা3 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা3 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা3 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা3 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা3 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা3 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে