কাকা সঞ্জয় গান্ধীর দেখানো পথেই হাঁটছেন রাহুল!

0
Sanjay Gandhi and Rahul Gandhi
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি

জয়ন্ত মণ্ডল: দেশের বিভিন্ন আদালতে মানহানির মামলার শুনানিতে নিয়ম করে নিজেই হাজিরা দিচ্ছেন রাহুল গান্ধী। জামিনের জন্য তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, সেথানে শুধুমাত্র দলের নেতাদের সঙ্গে পৃথক ভাবে বৈঠকই করছেন না, দলের কর্মী-সমর্থকদের সামনেও আসছেন। সংবাদ মাধ্যমের সামনে এমন কিছু মন্তব্য করছেন, যা নিয়ে চলছে জোর চর্চা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রের জরুরি অবস্থার অবসানের পর সঞ্জয় গান্ধীও ঠিক একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করেন। প্রসঙ্গত, জরুরি অবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনার পরেও শীঘ্রই ক্ষমতায় ফিরে আসে কংগ্রেস।

লোকসভা ভোটের বিপর্যয়ের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন রাহুল। যা নিয়ে বেশ বিপাকে দেশের প্রাচীন দলটি। এরই সঙ্গে লোকসভা ভোটের প্রচারের সময় রাহুলের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বিজেপি এবং আরএসএসের দায়ের করা প্রায় ২০টি মানহানির মামলার মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাঁকে।

আইনজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মামলায় নিজে না-গিয়েও জামিনের আবেদন করতে পারেন অভিযুক্ত। সে ক্ষেত্রে তাঁর আইনজীবীই যথেষ্ট। কিন্তু রাহুল সে পথ মাড়াচ্ছেন না। তিনি নিজেই পৌঁছে যাচ্ছেন আদালতে। গত ৪ জুলাই মহারাষ্ট্র, ৬ জুলাই বিহার এবং গত ১২ জুলাই গুজরাতে আরএসএস-বিজেপির তিনটি মানহানির মামলায় জামিনের আবেদন জানাতে গিয়েছিলেন তিনি স্বয়ং।

মানহানির মামলার মুখোমুখি হলে দু’টি পথই খোলা থাকে। প্রথমত, নিজের বক্তব্যের সমর্থনে সঠিক এবং যথোপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ আদালতের কাছে পেশ করা। দ্বিতীয়ত, তা না সম্ভব হলে হারস্বীকার করে নিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। রাহুলের বিরুদ্ধে বিজেপি-আরএসএসের এই ২০টি মামলা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে সারা দেশ জুড়েই। যেগুলির শুনানিতে তিনি সশরীরে হাজিরা দিচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এক দিকে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংযোগ, অন্য দিকে জনসাধারণের সহানুভূতি আদায়ের কাজটিও তিনি সেরে ফেলছেন এই অবসরে।

ঠিক একই কৌশল নিয়েছিলেন সঞ্জয়। জরুরি অবস্থার সময় তাঁর বিরুদ্ধে মামলার পাহাড় জমেছিল। সেই মামলাগুলির শুনানিতে তিনিও সশরীরে হাজিরা দিতেন। মাত্র ২৮ মাসের মধ্যে কংগ্রেসকে ফের কেন্দ্রের ক্ষমতায় নিয়ে আসার অনুঘটকগুলির অন্যতম ছিল এই কারণটিও। আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় মূলত সড়কপথে যেতেন সঞ্জয়। রাস্তার পাশে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষের রোষকে তিনি গলানোর কাজ করতেন এ ভাবেই।

জরুরি অবস্থার সময় সারা দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি একজোট হয়েছিল। কিন্তু সেই জোটের পরাজয় সঞ্জয় নিশ্চিত করেছিলেন, সরাসরি জনগণের সঙ্গে সংযোগ করে। আদালতে যেতেন দলবল নিয়ে সড়ক পথে। আদালত থেকে বেরিয়ে সামনাসামনি হতেন সাধারণ মানুষের। তাঁদের মনে তাঁর জমে থাকা ক্ষোভ-বিক্ষোভ-রোষের মুখোমুখি হতে চাইতেন তিনি। তাতে রোষের বদলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সহানুভূতির উদ্রেক হতো জনমানসে। যার ফল হাতেনাতে মিলেছিল মাত্র ২৮ মাসের মধ্যেই।

রাহুলের সামনে আপাতত কেন্দ্রের ক্ষমতা দখলের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই, কিন্তু ভোটের ফলাফলে বিধ্বস্ত দলীয় সংগঠনকে চাঙ্গা করার কাজটিও যে অনেকটাই সহজ করে দিচ্ছে তাঁর এই সক্রিয় পদক্ষেপ, সেটাও অনস্বীকার্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here