শুরু হয়ে গেল ২২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। ছবি: রাজীব বসু

mousumiমৌসুমী বিলকিস

উদ্বোধন হয়ে গেল ২২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। সেই উপলক্ষ্যে কিছু স্মৃতিচারণ মন চাইছে। করেই ফেলি, কি বলুন। দেখে নিন, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে মেলে কি না।

shankar-mudi

প্রত্যেক বারই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে নির্দিষ্ট কয়েকটি ফিল্ম দেখার জন্য চলে সাংঘাতিক হুড়োহুড়ি। সকালের স্ক্রিনিং-এ হল ফাঁকা থাকে ঠিকই কিন্তু লাঞ্চ ব্রেকের পরই শুরু হয় দীর্ঘ লাইনে প্রতীক্ষার পালা। হল ভর্তি হয়ে গেলে স্বভাবতই কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে লাইন আটকে দেন। তখন ভেতরে দাঁড়াবারও জায়গা থাকে না যে আর। মনে আছে বিগত উৎসবগুলিতে কত ফিল্ম আমরা হলের মেঝেতে বসে দেখেছি। এমনকি অনেকে পিছন দিকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েও পুরো ফিল্ম দেখেছেন। মজা হত তখন, যখন কেউ বাইরে বেরোতে চাইতো, হয় ফিল্মটি আর দেখবে না বলে বা বাথরুম যাওয়ার প্রয়োজনে। কিন্তু আর উপায় থাকতো না বেরোনোর। তখন সেলুলয়েডে প্রোজেকশন হত আর মাঝে মাঝেই দেখা দিত নানান বিপত্তি। হয় রিল শেষ, প্রোজেকশনিস্ট নেই ঘরে যে পরের রিল চালাবে, অথবা সাব টাইটেল হয়ে গেছে আউট অফ ফোকাস। হল ভর্তি লোক চেঁচাচ্ছে। প্রজেকশনিস্ট প্রায় দৌড়ে এসে ঠিক করে দিতেন প্রোজেকশন। এখন ডিজিটাল প্রোজেকশনে সে সব ঝামেলা নেই ঠিকই। কিন্তু দর্শকদের আদি ও অকৃত্রিম কিছু ঝামেলা রয়েই গেছে। যে ফিল্মগুলো দেখার ইচ্ছা সেগুলো হয়তো একই সময়ে স্ক্রিনিং। ফলত যে কোনো একটা বেছে নিতেই হয়। আগে যেরকম এক ফিল্ম বেশ কয়েক বার রিপিট হত। এখন রিপিটের সংখ্যা একেবারেই কম। অথবা এমন একটা হলে রিপিট হল যে বাকি ফিল্মগুলো দেখার আশা ত্যাগ করে সেখানেই দৌড়তে হয়। ফিল্মমোদিরা মূলত নন্দন চত্বরে ফিল্ম দেখতে ভালোবাসেন। কারণ বোধহয় অনেকগুলো হল এক জায়গায় এবং সম্ভবত গ্ল্যামার কেন্দ্রিক কারণটাও টানে অনেককে। এমনও হয় যে অসম্ভব লম্বা লাইন দেখে আকাঙ্খিত ফিল্ম দেখতে না ঢুকে অন্য একটি ফিল্ম দেখতে ঢুকে পড়া গেল। অথবা গত বছর ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেখা হয়েছিল আর এই ফেস্টে দেখা হছে এমন বন্ধু পেয়ে এক কাপ হরির চায়ে চুমুক আর ফিল্ম নিয়ে চলে আলোচনা। আলোচনার মাঝে নিজেদের খবর জেনে নেওয়া। আবার দেখা হবে পরের বছর ফেস্টিভ্যালে। হলে ফিল্ম চলছে সে সময় বেশ জোরে বেজে উঠলো কারো দূরভাষ। একবার সহ্য করবে লোকে। দ্বিতীয় বা তৃতীয় বার আর নয়। চারপাশ থেকে সমবেত চীৎকার: ও দাদা, টিউনটা আমাদের আর শোনাতে হবে না, মুখস্থ হয়ে গেল। বা কেউ ফিল্ম দেখতে দেখতেই সঙ্গীর সঙ্গে নানারকম গুরুগম্ভীর আলোচনা জুড়ে দিয়েছেন। বিরক্ত হয়ে কেউ কেউ স্ট্রেট ধমকে দেন। তাই নিয়ে শুরু হয় বাদানুবাদ। কখনো কখনো হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়। পুলিশ এসে বের করে নিয়ে যায় বাদানুবাদরত লোকদের। কয়েক বার এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে।

below-her-mouth

কিছু দর্শক আছেন কিছুতেই বেরোবেন না, হলে বসেই চিৎকার করে অন্যদের ফিল্ম দেখা অসহ্য করে তুলবেন। আর কিছু দর্শক পর্দায় যা দেখা যাবে তার বিবরণ দিতে থাকবেন। মেয়েটা দৌড়চ্ছে, ওই তো তলোয়ার বের করলো, জারের মধ্যে মুসুর ডাল ঢালা হচ্ছে। আশেপাশের লোকজন বলবো না বলবো না করে শেষমেশ বলেই ফেলবেন: আমরাও দেখতে পাচ্ছি। এবারে চুপ করুন দয়া করে। তার মধ্যে ডেলিগেট কার্ডধারীদের খাঁচায় মুরগি পোরার মতো করে সব কটাকে ওপরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দাঁড়ানোরও জায়গা নেই আর। নীচে দেখা যাচ্ছে অজস্র চেয়ার খালি। কেউ কেউ রেগে আগুন। খুবই স্বাভাবিক। এইসব অভিজ্ঞতা কমবেশি আমাদের প্রত্যেকের। আর এটাই বোধহয় উৎসবের সত্তা, আমাদেরও।

take-me-for-a-ride

কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবকে কী হলের বাইরে টেনে আনা যায় না? সন্ধ্যের পর স্ক্রিনিং শুরু হবে। চলবে সারারাত। বেশ কিছু বড় ফাঁকা মাঠ বেছে নিয়ে স্ক্রিনিং হলে মন্দ হয় না কিন্তু। মানছি, খুবই আধুনিক ও ব্যায় সাপেক্ষ টেকনোলজি প্রয়োজন। জায়ান্ট স্ক্রিন, সাউন্ড, প্রোজেক্টর ইত্যাদি হতে হবে যথাযথ, যেমনটি দেখেছিলাম ভিয়েনা মিউজিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে, রথ্‌হৌসপ্লাজের সামনে খোলা আকাশের নীচে। এই অভিজ্ঞতা আমার শহরে হলে দারুণ ব্যাপার হবে আর সম্ভবত এই ব্যবস্থায় অখুশি হবেন না কেউ।

edited-1

১২ নভেম্বর দেখা যেতে পারে টু কিল এ মকিং বার্ড, জুলজি, বিলো হার মাউথ, দ্য ডার্ক উইন্ড, সামার টাইম, ড্রিমিং বাটারফ্লাইজ, দ্য বিউটিফুল ট্রাবল মেকার, আইল্যান্ড, ওসাকা এলেজি, থ্রি হান্ড্রেডস নাইটস, পিন্নেয়াম, শঙ্কর মুদি, ইউআইও: টেক মি ফর এ রাইড, নাইট টেলস একজনের পক্ষে একদিনে এত ফিল্ম দেখা তো সম্ভব নয়। তাছাড়া কোন হলে ঢুকতে পারবো সেটাও ধর্তব্য।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন