Connect with us

প্রবন্ধ

বামেদের সঙ্গে জোটের কারিগর প্রণব ‘চাণক্য’ মুখোপাধ্যায়

যখন ইউপিএ গঠিত হল, এবং দৃশ্যপট থেকে সরে গেলেন সুরজিৎ, তখন ইউপিএ-বাম সমন্বয়ের মূল কাজটি প্রণববাবু করতেন সীতারাম ইয়েচুরিকে ডেকে নিয়ে।

Published

on

এক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মনমোহন সিং ও সীতারাম ইয়েচুরি।

দেবারুণ রায়

সারা দেশে বামেদের সঙ্গে জোট গড়ার ভাবনা মূর্ত হয়েছিল প্রণব ‘চাণক্য’ মুখোপাধ্যায়ের (Pranab Mukhopadhyay) মুনশিয়ানায়। প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি থাকলে নিশ্চয়ই সে দিনের এক জ্বলন্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য পাওয়া যেত। সূচনা পর্বের আগাগোড়া, জোটের নীল নকশার সূত্রধর ছিলেন সিপিএমের সেই সময়ের সাধারণ সম্পাদক হরকিষেন সিং সুরজিৎ (Harkishen Singh Surjit)। আর নেপথ্যের মহানায়কের নাম বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং (Vishwanath Pratap Singh)। ১৯৯৬-এর ঐতিহাসিক ভুল ভারতীয় রাজনীতির সমকালীন অনুঘটক বামেদের রণনীতি বদলাতে বাধ্য করেছিল। গঠনতন্ত্রের গোঁড়ামি বহাল রাখলেও কংগ্রেসের (Congress) ব্যাপারে ছুৎমার্গ অনেকটাই কাটিয়ে উঠছিল সিপিএম (CPM)। এবং কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া করে সাম্প্রদায়িকতাকে রোখার লাইনটিকে মাইলফলক বানিয়ে পাদপ্রদীপের আলো থেকে সরে গিয়েছিলেন সিপিএমের নবরত্নসভার শেষ দুই কমরেড। অনেকটাই অবসৃত জ্যোতি বসুকে (Jyoti Basu) সঙ্গে নিয়ে দলে সংখ্যালঘু  সাধারণ সম্পাদক সুরজিৎ নেমেছিলেন পার্টির লাইন বদলের দিশায় ইনার পার্টি স্ট্রাগলে। বাইরের জমি তৈরি করতে সুরজিৎকে সহারা দিয়েছিলেন ভিপি। আর রাজীবের বন্ধু থেকে শত্রু হওয়া ভিপির অক্লান্ত চেষ্টা আর শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যস্থতায় কংগ্রেসের সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) ভুল ভেঙেছিল ভিপির বিষয়ে।

Loading videos...

ছিয়ানব্বইয়ে সিপিএমের সরকারে না যাওয়ার জেদ দেখে অকংগ্রেসি ধর্মনিরপেক্ষ শিবিরের মুকুটহীন রাজা বিশ্বনাথপ্রতাপ সবাইকে বলেছিলেন, কংগ্রেসকেই জোটের নেতৃত্বে আনা ছাড়া সরকার গড়া বা তা স্থিতিশীল করা যাবে না। বাংলায়, কেরলে সংগঠন বাঁচাতে ভাবের ঘরে চুরি করার রণনীতি বহাল রেখেই সেকুলার জোট গড়তে হবে। এবং কংগ্রেসের নেতা কে হবেন তা নিয়ে কংগ্রেসই মাথা ঘামাবে। বিশ্বনাথের সঙ্গে সম্পর্ক মধুর ছিল না প্রণবের। তাই প্রণবকে সঙ্গে নিয়ে জমি তৈরির কাজে নামলেন সুরজিৎ। বিশ্বনাথ ব্যক্তিগত ভাবে ভোট-রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিয়েও সনিয়ার সঙ্গে লাগাতার কথা বলতে শুরু করলেন। কার্যক্ষেত্রে তার ফলোআপ করতেন সুরজিৎ ও তাঁর সঙ্গী সিপিআইয়ের শীর্ষনেতা এবং লালু, মুলায়মের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কমরেড অর্ধেন্দুভূষণ বর্ধন, যিনি এবি বর্ধন নামেই পরিচিত। নাগপুরের বাঙালি বর্ধনদার সঙ্গে খাতিরের সম্পর্ক শরদ পওয়ারের। সনিয়া ও পওয়ারের তিক্ততা মিটিয়ে বোঝাপড়ার কথা হল কংগ্রেস ও এনসিপির। এই আগাগোড়া একের সঙ্গে আরেককে জোড়ার কঠিনতম কাজটি পড়ল প্রণববাবুর ও সুরজিতের ওপর। পরিস্থিতি অনেকটা পরিপক্ব হওয়ার পর আসরে এলেন জ্যোতি বসু।

এ দিকে সীতারাম ইয়েচুরি ও প্রকাশ কারাটের সঙ্গে নিত্যই দিল্লিতে পার্টি সেন্টারে হাজির পিবি সদস্যদের বৈঠকে কথা বলতেন সুরজিৎ। জ্যোতি বসুর মতামত তো নিতেনই। এই সময়ে তালকাটৌরা রোডের ১৩ নম্বর বাড়িতে সন্ধ্যার পর আসতেন সুরজিৎ। ওঁর সঙ্গে অতীতে রাজ্যসভা থেকেই ঘনিষ্ঠতা ছিল প্রণববাবুর। দিনের পর দিন প্রণববাবুর কাছে গিয়ে দেখা হয়েছে কমরেড সুরজিৎয়ের সঙ্গে। দীর্ঘ পরিচয়ের সূত্রে ওঁর কাছেও সস্নেহ প্রশ্রয়ের অভাব ছিল না। সুরজিৎয়ের মজা ছিল, কী কথা হল, কার সঙ্গে হল, এ সব বলতেন না। বলতেন, সময় হলে সব জানতে পারবে। শুধু জেনে রাখো সব কিছু সঠিক ভাবে এগোচ্ছে।

সুরজিৎয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর একদিন প্রণববাবুর কাছে গিয়ে জানতে চাইছি। ‘দাদা’ রাজনীতিবিদ হিসেবে উৎকর্ষের শিখরে থেকে স্বভাবতই ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতায় আস্থা রাখতেন। স্নেহের সম্পর্ক এক দিনে গড়ে  উঠত না বা ভেঙেও যেত না। ইতিহাস বা রাজনীতির অজ্ঞতা যদি কারও প্রশ্নে ধরা পড়ত তা হলে তার ধমক খাওয়া অনিবার্য ছিল।  সুরজিৎয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর সে দিন ‘দাদা’র মেজাজ বেশ ফুরফুরে। বললেন, সুরজিৎ একদম ভাইস চ্যান্সেলর। দারুণ রাজনীতির লোক। ওর দলের ছেলেগুলো ওর কাছ থেকে কিছু শিখল না। সিরিয়স কথা, কিন্তু বললেন হাসির ছলে। প্রকাশ কারাটের সঙ্গেও কথা বলতেন ‘দাদা’। কিন্তু সুরজিৎয়ের সঙ্গে বৈঠকের সুবাদে সীতারাম অনেক বেশি যেতেন। এবং সীতারামকে একটু বেশিই স্নেহ করতেন অর্থনীতির ভালো ছাত্র বলে। পরে যখন ইউপিএ গঠিত হল, এবং দৃশ্যপট থেকে সরে গেলেন সুরজিৎ, তখন ইউপিএ-বাম সমন্বয়ের মূল কাজটি প্রণববাবু করতেন সীতারাম ইয়েচুরিকে ডেকে নিয়ে। বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে শুধু সীতারামকেই বলতে বলতেন। নিজে  বলতেন দু’টো-একটা কথা।

এই ভাবেই ২০০৪-এর সরকারের মুশকিল আসান প্রণববাবু চার বছর নিরুপদ্রবেই চালিয়ে নিয়েছিলেন। মাঝেমধ্যে জ্যোতিবাবুর সঙ্গে দেখা করতে যেতেন কলকাতায় গেলে। দু’ জনের কথাবার্তার পর প্রেস মিডিয়া ছেঁকে ধরেছে দু’ জনকেই। প্রণববাবুর সৌজন্য এত প্রখর ছিল, যা শেখার মতো। হাসিমুখে ক্যামেরাকে বলেছেন জ্যোতিবাবুকে দেখিয়ে, ওঁর কাছে আগে যান। এবং জ্যোতিবাবুর মস্তিষ্ক  মিডিয়ার সামনে শেষ দিনেও ছিল প্রখর। প্রণবকে দেখিয়ে বলেছেন, “জিজ্ঞাসার কিছু নেই। ও আছে তো। সব ঠিকমতোই করছে। ও আমাদের পার্টিকে জানে। আমরা কী চাই সেটা খুব ভালো করে জানে। তাই কোনো সমস্যা নেই।” সে দিন অভিভূত হাসিমুখ ছাড়া প্রণববাবু মিডিয়াকে আর কিছুই দেননি।

সেই সরকার থেকে বামদের সমর্থন তুলে নেওয়ার ঘটনাটি রোখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন ‘দাদা’। পরমাণু চুক্তির কিছু প্রস্তাবিত ধারার বয়ান বদলানোর চেষ্টা তিনি কী ভাবে করেছিলেন তা জানতেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, প্রকাশ কারাট ও সীতারাম ইয়েচুরি। সনিয়াকেও রাজি করিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু আমেরিকার তৎকালীন বুশ প্রশাসন ছিল অনমনীয়। তখন একমাত্র প্রধানমন্ত্রী মনমোহনই পারতেন ‘হয়’ কে ‘নয়’ করতে। কিন্তু যাঁরা তাকে দুর্বল প্রধানমন্ত্রী বলে প্রচারে নেমেছিলেন তাঁদের নেতা আডবাণীও বিলক্ষণ জানতেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী কখনও দুর্বল হন না। এই সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ঈশ্বরের মতোই সর্বশক্তিমান। তা ছাড়া কংগ্রেস সভানেত্রী বহু জনমুখী কর্মসূচিতে বামেদের কথামতো চাপ দিলেও চাননি প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্ব কোনো ভাবে খর্ব হোক আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে।

যাঁরা প্রণববাবুর সম্পর্কে কিছুই না জেনে অনর্গল প্রচারে বলেন, উনি সাধারণ মানুষের জন্যে, রাজ্যের জন্যে কিছু করেননি, তাঁদের জেনে রাখা ভালো, একশো দিনের কাজ থেকে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা-সহ বাজেটে এমন বহু জনমুখী কর্মসূচি নিতে প্রধানমন্ত্রীকে চাপ দিয়েছেন যেগুলো কোনো দিন আলোর মুখ দেখত না। চিদম্বরম অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন সব জনমুখী প্রকল্প রুখতেন টাকা নেই বলে। এবং মনমোহন তাতে সায় দিতেন। প্রণববাবু নীরবে এই ‘না’গুলোকে ‘হ্যাঁ’ করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে। সনিয়াকেও সঙ্গে পেয়েছেন।

কিন্তু শেষ যে দিন মনমোহন দেখলেন প্রণববাবুর সমঝোতার সূত্রে বামেরা রাজি এবং চুক্তির মূল বয়ানের কিছুটা বদলাতে হবে, সে দিন তিনি তাঁর শান্ত এবং বরফশীতল কণ্ঠ শোনালেন দলনেত্রীকে। ৭, রেসকোর্স রোডে সনিয়াজি যখন এলেন মনমোহন তাঁকে ঠান্ডা গলায় জানিয়ে দিলেন, “পরমাণু চুক্তির বয়ান বদল করতে হলে আমি এখনই পদত্যাগ করব। এটাই আমার অপরিবর্তনীয়  স্থির সিদ্ধান্ত”। এর পরই রীতিমতো হতবাক সনিয়া প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলেন, তাঁর কর্তৃত্ব কখনোই খর্ব হবে না। তিনি যা বলবেন সেটা অবশ্যই শেষ কথা।  রাতেই চূড়ান্ত হল চুক্তির বয়ান। বামেদের বিসর্জন দিয়েও স্পিকারকে পাশে নিয়ে মনমোহন যে চুক্তি করলেন তা দিল্লির মসনদকে ধাক্কা দিয়ে গেল। প্রণবকে সব বিষয়ে শেষ কথা বলার অধিকার দিলেও এই পরমাণু চুক্তির বিষয়ে তিনি পুরোপুরি অনমনীয়  থাকলেন। শেষে বার্তা চলে গেছে যখন বুশের দফতরে তখনও প্রণববাবুর কাছে কোনো বিস্তারিত বয়ান নেই। কিন্তু মনমোহনের সঙ্গে সম্পর্কের রসায়ন চমৎকার থাকায় প্রণববাবু নিষ্ঠ সহযোগীর দায়িত্বও চালিয়ে গেলেন। বামেদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার ক্ষোভ চেপে সরকার বাঁচাতে নতুন বন্ধু খুঁজতে নামলেন। বাম বিকল্প বাংলাতেই বেড়ে উঠছিল। সনিয়ার নয়া অবস্থান তীব্র বাম বিরোধিতা মমতাকে যে জলপাই পাতা দেখাল তার আসমানি আয়োজন আর জেমিনি জোটের ছবি আঁকা ছিল প্রণববাবুরই ক্যানভাসে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

কংগ্রেসের সব প্রধানমন্ত্রীই সংঘের সঙ্গ করেছেন, হঠাৎ প্রণবকে নিয়ে দু’ বছর আগে কেন প্রশ্ন উঠেছিল

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

প্রবন্ধ

লালের হাল! দলীয় লাইন থেকে শুধুই কি কান্তি-তন্ময়রা পিছলে যাচ্ছেন?

কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় অথবা তন্ময় ভট্টাচার্যের মতো পোড়খাওয়া নেতারাও ব্যাক্তিগত মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে দলীয় লাইন থেকে পিছলে যাচ্ছেন।

Published

on

ভোটপ্রচারে বামেদের স্লোগান ছিল, ফেরাতে হাল, ফিরুক লাল। তবে ভোট বাক্সে মহাবিপর্যয়ের পর ধারণা করা যেতেই পারে, আপাতত লালের হাল ফেরানোয় মন দিতে হবে বামফ্রন্ট নেতৃত্বকে। তবে সে সব শুধুই দলের ভিতরে সংস্কারবাদী ঝোঁক এবং বামপন্থী হঠকারিতা লাইনের আলোচনাতেই মিলবে বলে মনে হয় না। লিখলেন জয়ন্ত মণ্ডল

কী ভাবে ক্ষমতায় ফিরবে? ভোটের আগে এমনটাই ক্রিয়াকৌশল নিয়ে এগোচ্ছিল বামফ্রন্ট। যদিও সব থেকে জরুরি চিন্তার বিষয় হতে পারত কী ভাবে ঘুরে দাঁড়াবে? ‘৭ পার্সেন্ট’ কটাক্ষের জবাব দিতে যেখানে লড়াইটা শতাংশেই আটকে রাখা যেত, সেখানে বড়াই করে একে-ওকে-তাকে নিয়ে আসন সংখ্যার ছক কষে ফেললেন বামফ্রন্টের ম্যানেজাররা। ফলাফল ঘোষণার পর নির্মম পরিণতির সম্মুখীন হয়ে অপ্রিয় হলেও বাস্তব কিছু গোপনীয়তা ফাঁস করে দিচ্ছেন কেউ কেউ। ২০১১ সালের বিধানসভায় ৩০.১ শতাংশ ভোট পেয়েও সাধারণ মানুষের রায়কে বেশ নমনীয় ভাবে স্বাগত জানিয়েছিল বামফ্রন্ট। কিন্তু এ বার প্রাপ্ত ভোটের হার ৫.৪৭ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ার পর কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় অথবা তন্ময় ভট্টাচার্যের মতো পোড়খাওয়া নেতারাও ব্যাক্তিগত মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে দলীয় লাইন থেকে পিছলে যাচ্ছেন।

Loading videos...

শাসক দল তৃণমূলের মূল প্রতিপক্ষ এখন বিজেপি। শুধু ভোটের ফলাফলে নয়, ভোটের আগে থেকেই ২৯৪ বিধানসভার প্রায় প্রত্যেকটা জায়গাতেই তৃণমূলপ্রার্থী নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিজেপিকেই বেছে নিয়েছিলেন। বামেরা সে সব শুনেছে, আর মুচকি হাসি হেসেছে। কারণ তারা কতকটা নিশ্চিত হয়েই বসেছিল অধীর-আব্বাসের ‘দোয়া’য় হাল ফিরবে লালের। সরতে সরতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বামেদের দূরত্ব কতটা চওড়া হয়েছে, সেটা ঢাকতে ব্রিগেডের জনস্রোত, রাত ১১টার সময় তরুণ নেতাদের সভায় উপচে পড়া ভিড়- এমন কিছু আপেক্ষিক ঘটনাকে আতসকাচের তলায় ফেলে বড়ো করে তুলে ধরেছে। শুধু কি তাই, গতানুগতিক মিডিয়া সে সব নিয়ে ফলাও করে খবর না করলে সোশ্যাল মিডিয়া বাম-সমর্থকরা গালমন্দ করতেও ছাড়েননি। এক সময় ‘সর্বশক্তিমান’ বামেদের সাধারণ মানুষ ভুলতে শুরু করলেও নেতা-কর্মীরা সেই সুদিনের কথা এখনও বিস্মৃত হতে পারেননি। ঘটি না ডুবলেও মুখেই তালপুকুর হয়ে থাকার অবেচতন আকাঙ্ক্ষার বহির্প্রকাশ ঘটে চলেছে।

এক দিকে তৃণমূল সরকারের ১০ বছরে ব্যর্থতা, দুর্নীতি ইত্যাদি অন্যদিকে বিজেপির মেরুকরণ, কেন্দ্রীয় অপশাসন, এমন অনেক কিছু কারণেই মনে হচ্ছিল বামফ্রন্ট আবার ফিরবে। ফেরাতে লাল, হাত ধরতে হল কংগ্রেস এবং কোনো এক আব্বাস সিদ্দিকির সদ্য গজানো দলের সঙ্গে। আসলে এই মনে হওয়াটাই অবচেতন মনের নির্দেশ। অবচেতন মনে সর্বক্ষণ দাপাদাপি করতে থাকা আদেশ পালন করতে গিয়েই সচেতনতাকে জলাঞ্জলি দেওয়া। বামেরা এক সময় বলত, শত্রুর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ভিতর দিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে নিজেদের দাবি আদায় করে নিতে হবে। তারাই যখন ওজন না বুঝে ভোজনের মতো ক্ষমতা দখলের তীব্র লড়াইয়ে নেমে পড়ে তখন পথে-ঘাটে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের নিয়ে টিকাটিপ্পনী তো চলবেই। অন্তত এ বারের ভোটপর্ব দেখে মনে হল, কংগ্রেস আর আব্বাসের হাত ধরা মানেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। বড়ো অংশের বাম-সমর্থকরাও যে এই ইস্যুতে দলের সঙ্গে তলে তলে দূরত্ব বাড়িয়ে নিচ্ছেন, সেটা বুঝতেই পারলেন না বাম নেতৃত্ব। এখানেও সেই অবচেতন বনাম সচেতন মনের খেলা!

এ বারের ভোটেও কোথাও কোথাও রক্তপাত, হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এমনিতে প্রতিরোধমূলক লড়াইয়ে বামেরা, বিশেষত সিপিএম বরাবরই আক্রমণাত্মক। এ বারের ভোটের সময়েও বেশ কিছু জায়গায় দেখা গেল বুথে বসা বাম এজেন্টদের উপর হামলা চলেছে। অথচ, ভোটের ফলাফলে ওই বুথে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি। এখানেও হয়তো কাজ করেছে বামেদের প্রতিরোধ মূলক লড়াইয়ের প্রবৃত্তি। এই ব্যাপারটাকেও প্রচারে তুলে নিয়ে এসেছিল বামেরা। যদিও প্রতিরোধমূলক লড়াই ও ব্যক্তিগত-সন্ত্রাসবাদের তারতম্য ব্যাখ্যার দৌড়ে সিপিএমের জুড়ি মেলা ভার। বুথস্তরের নেতা-কর্মীর উপর হামলার ঘটনা প্রচারে তুলে ধরতে জেলা নেতাদের দিয়ে পথসভা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কোনো ভূমিকাই নেই। এ ভাবেই কি জনগণকে নিয়ে সংগ্রামের পথ থেকে দূরে সরে গিয়েছে বামেরা? অথচ সেই কবে থেকে তারা জানে, প্রতিরোধকারীদের লড়াই হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে নয়, জনগণের লড়াইয়ে নিয়ে যেতে হয়।

এটাও যেমন একটা দিক, তেমনই ২৯৪ আসনে ঠিক কী কী ফ্যাক্টর কাজ করেছে, সে সবের তালিকা অনেক লম্বা। তবে একটা সাধারণ বিষয় ছিল, বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটাধিকার প্রয়োগ। রাজ্যের শাসক দলের দুর্নীতির মতো বিষয়গুলিকে বামেরা ব্যাপক ভাবে প্রচারে তুলে ধরলেও তা উপেক্ষা করেছেন সাধারণ মানুষ। মমতাকে যত বেশি গালমন্দ করা যাবে, ততই মাইলেজ পাওয়া যাবে, ইউটিউবে, ফেসবুকে লক্ষ-মিলিয়ন ভিউ হবে আর উল্টো দিকে যে ভোট খাটো হবে, সেটা ঘূণাক্ষরেও টের পাননি বাম নেতৃত্ব। বিশ্লেষকরা বলছেন, বামেদের কাছ থেকে কমপক্ষে ৫ শতাংশ ভোট এ বার ঢুকে পড়েছে তৃণমূলের ঝুলিতে। ২০১৬ সালের বিধানসভায় ২৫.৬৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বামফ্রন্ট। ২০১৯ সালে সেখানে ভাগ বসায় বিজেপি, আর এ বার তৃণমূল। এ ধরনের ভোটের ফলাফল স্বাভাবিক ভাবেই কর্মীদের হতাশ করছে। কোথায় কি ভুলভ্রান্তি হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করবেন দলীয় নেতৃত্ব। পাশাপাশি সেখান থেকে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ গ্রহণের রূপরেখাও তৈরি হবে। তবে সে সব শুধুই দলের ভিতরে সংস্কারবাদী ঝোঁক এবং বামপন্থী হঠকারিতা লাইনের আলোচনাতেই মিলবে বলে মনে হয় না। রাহুমুক্তি ঘটাতে আত্মসমালোচনা তো আছেই, সেটাও হতে হবে সময়োপযোগী। কোনো কোনো বাম নেতা আবার সময়ের থেকে এগিয়ে থাকাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চান। কিন্তু ১০ বছর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে দূরে থাকা, নেতৃত্বের সংকট, বিজেপির চরম উত্থান ইত্যাদি মিলেয়ে পুরনো সমর্থন ফিরিয়ে আনার কাজ বামেদের পক্ষে এখন আর জলভাত নয়। আদতে তাদের সামনে এখন যে সংকট, তার শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছে গিয়েছে। শেষ ১০ বছরে ধারাবাহিক ভাবে বামেদের ভোটের হারে হ্রাস গভীরে পৌঁছে যাওয়া সেই সংকটের সূচক হিসেবেও ধরে নেওয়া যেতে পারে। ফলে তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়গুলোও আলোচনার তালিকায় গুরুত্ব পেতেই পারে।

এখান থেকেই হয়তো কান্তি-তন্ময়দের ‘বিদ্রোহ’। সিপিএমের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা, গোল গোল কথা না বলার আহ্বান জানিয়ে বস্তুনিষ্ঠ আত্মসমালোচনার ডাক। ‘বেসুরো’ বলে এড়িয়ে কিন্তু তথাকথিত কু-সংস্কারহীন বাম নেতৃত্বেরও “ভোট বাক্সে ফেরাতে লাল, বাঁধতে হবে গাছের ছাল” গোছের জ্যোতিষীর শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না।

আরও পড়তে পারেন: নরেন্দ্র মোদী আবার কবে বাংলায় আসবেন?

Continue Reading

প্রবন্ধ

এমনই বৈশাখের একটি দিনে মুখোমুখি হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও শ্রীরামকৃষ্ণ

আজ ৯ মে বিশ্বকবির ১৬১তম জন্মদিনে দুই মহামানবের মহামিলনের সেই বিরল মুহূর্তটি স্মরণ করি।

Published

on

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়

সে দিনটাও ছিল তাপদগ্ধ বৈশাখের একটি দিন – ২০ বৈশাখ, ১২৯০ বঙ্গাব্দ। চাক্ষুষ সাক্ষাৎ হল বাংলা তথা ভারতবর্ষের দুই মহাপথিকের, দুই মহামানবের।

Loading videos...

এক জন বাঙালির প্রাণের ঠাকুর, ভারতের শেষ অবতার, কল্প ভারতাত্মা। নির্লোভ, নিরহংকার, নিরাভরণ, আক্ষরিক অর্থে নিরক্ষর অথবা স্বল্পাক্ষর। কিন্তু তাঁর কথামৃত – সে যে এক অপার বিস্ময়। শ্রদ্ধা ও সম্ভ্রমে বাকরুদ্ধ হয়ে যান পৃথিবীর জ্ঞানীগুণীজন। তাঁর জীবনধারা সে তো যুক্তিবাদী বিজ্ঞানের অতীত, যেন অলৌকিক মহিমা বিস্তার করে হয়ে উঠেছেন ভক্তের ভগবান। হয়তো তাই-ই হয়। যুগে যুগে ঈশ্বর-মানবেরা যথা যিশু, মহম্মদ, বুদ্ধ, শ্রীচৈতন্য, কনফুসিয়াস, মহাবীর, নানক, কবীর, জরথ্রুস্ট তাই তো চিরকাল মানবসভ্যতার বিস্ময়। সাধারণ, নিঃসম্বল গ্রামবাংলার গরিবঘরের এক জনের কাছে ছুটে এসেছেন বিশ্বের জ্ঞানীগুণীজন। তাঁর কথা শুনে তাঁরা বাকরুদ্ধ – এ যেন লালন ফকির, সিরাজ সাঁই, রামপ্রসাদের ব্যাখ্যাতীত দর্শনের অনুভূতিকেও সহজ কথার সরলতায় ছাপিয়ে যায়। তিনি শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস।

অন্য জন তাঁর চেয়ে প্রায় ২৫ বছরের ছোটো, ভবিষ্যতের মহামানব, বিশ্বমানব। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর সৃষ্টিতে শ্রীরামকৃষ্ণের কথামৃতের আর্তি যেন মূর্ত হয়ে ওঠে – “জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণাধারায় এসো”।

এক দিকে রবীন্দ্রনাথ, যিনি নিরাকার ব্রহ্মের উপাসক, ব্রহ্মবাদী আর অপর দিকে শ্রীরামকৃষ্ণ, যিনি সর্ব ধর্মে অবগাহন করে হয়েছেন সর্ব ধর্মের ঋদ্ধ একক বিনম্রতার প্রতীক। এ হেন দু’ জনের মুখোমুখি সাক্ষাৎ ঐতিহাসিক ভাবে ঘটেছিল উত্তর কলকাতার কাশীশ্বর মিত্রের বাড়িতে।

“ঁকাশীশ্বর মিত্রের বাড়ি নন্দনবাগানে। তিনি পূর্বে সদরওয়ালা ছিলেন। আদি ব্রাহ্মসমাজভুক্ত ব্রহ্মজ্ঞানী। তিনি নিজের বাড়িতেই দ্বিতলায় বৃহৎ প্রকোষ্ঠমধ্যে ঈশ্বরের উপাসনা করিতেন, আর ভক্তদের নিমন্ত্রণ করিয়া মাঝে মাঝে উৎসব করিতেন। তাঁহার স্বর্গারোহণের পর শ্রীনাথ, যজ্ঞনাথ প্রভৃতি তাঁহার পুত্রগণ কিছুদিন ওইরূপ উৎসব করিয়াছিলেন। তাঁহারাই ঠাকুরকে অতি যত্ন করিয়া নিমন্ত্রণ করিয়া আনিয়াছেন।

“ঠাকুর প্রথমে আসিয়া নিচে একটি বৈঠকখানাঘরে আসন গ্রহণ করিয়াছিলেন। সে ঘরে ব্রাহ্মভক্তগণ ক্রমে ক্রমে আসিয়া একত্রিত হইয়াছিলেন। শ্রীযুক্ত রবীন্দ্র (ঠাকুর) প্রভৃতি ঠাকুরবংশের ভক্তগণ এই উৎসবক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন।” (শ্রীম কথিত শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত)  

সে দিন ছিল চৈত্র মাসের কৃষ্ণা দশমী তিথি, ১৮৮৩ সালের ২ মে। কাশীশ্বর মিত্রের বাড়িতে নন্দনবাগান ব্রাহ্মসমাজের বিংশ সাংবাৎসরিক উৎসব অনুষ্ঠান। অনেক সম্মাননীয় জ্ঞানীগুণী সেখানে আমন্ত্রিত। আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন রবীন্দ্রনাথও, এবং সকলের ঐকান্তিক ভাবে প্রার্থিত পুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস। রবীন্দ্রনাথ তখন বাইশ। বাড়ির সব থেকে বড়ো ঘরে সভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রার্থনাসভার শুরুতে রবীন্দ্রনাথ পিয়ানো বাজিয়ে গান শুনিয়েছিলেন। “সংগীত শুনিয়া ঠাকুরের আনন্দের সীমা রহিল না” (শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত)।  নিবিষ্ট মনে গান শুনতে শুনতে ঠাকুরের ভাব আসে। সবাই পরম বিস্ময়ে এক অতীন্দ্রিয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকলেন। তার পর ধীরে ধীরে ওই অবস্থা কাটিয়ে উঠে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ সে দিন সকলের সঙ্গে এক পংক্তিতে লুচি, ডাল, তরকারি, মিষ্টি খেয়ে উপস্থিত সকলকে বিদায় জানিয়ে দক্ষিণেশ্বরে ফিরে যান।

সে দিনের সেই অনুষ্ঠানের বিবরণ পরের দিন অর্থাৎ ৩ মে, ১৮৮৩-এর ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি সুগভীর শ্রদ্ধা ও অনুরাগ থেকে পরবর্তী কালে ১৩৪২ বঙ্গাব্দে ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে বসে ‘পরমহংস রামকৃষ্ণদেব’ কবিতাটি রচনা করেন –

“বহু সাধকের বহু সাধনার ধারা/ধেয়ানে তোমার মিলিত হয়েছে তারা/তোমার জীবনে অসীমের লীলাপথে/নতুন তীর্থ রূপ নিল এ জগতে;/দেশবিদেশের প্রণাম আনিল টানি/সেথায় আমার প্রণতি দিলাম আনি।”

আজ ৯ মে বিশ্বকবির ১৬১তম জন্মদিনে দুই মহামানবের মহামিলনের সেই বিরল মুহূর্তটি স্মরণ করি। সেই ঐতিহাসিক ঘটনারও ১৩৮তম বর্ষ উদযাপিত হল।  শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – এই দুই মহামানবের পদপ্রান্তে আমাদের শত কোটি প্রণাম।

Continue Reading

প্রবন্ধ

নরেন্দ্র মোদী আবার কবে বাংলায় আসবেন?

বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও ‘হিংসা’ থামাতে রাজ্যে আসছেন। মোদী কবে আসবেন?

Published

on

আরাত্রিকা রায়: শেষ এসেছিলেন এপ্রিল মাসের ১৭ তারিখে। তার পর প্রায় তিন সপ্তাহ হতে চললেও তাঁর দেখা নেই। মাঝেমধ্যে টিভির পরদায় রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু বাংলার বুকে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই ‘অস্বস্তিকর’ ডাক, “দিদি, অ দিদিইইইইই” আর শোনা যাচ্ছে না। ফের কবে আসবেন তিনি?

ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই মোদীর ধারাবাহিক বাংলা সফরের সূচনা। লক্ষ্য বাংলা দখল করে নবান্নের চাবি বিজেপির হাতে তুলে দেওয়া। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ১২টি সফরে নির্বাচনী সভা করেছিলেন ১৮টি। এক নজরে দেখে নেওয়া যেতে পারে সেগুলির দিন এবং স্থান।

Loading videos...

৭ ফেব্রুয়ারি: হলদিয়া/২২ ফেব্রুয়ারি: সাহাগঞ্জ/৭ মার্চ: ব্রিগেড/১৮ মার্চ: পুরুলিয়া/২০ মার্চ: খড়্গপুর/২১ মার্চ: বাঁকুড়া/২৪ মার্চ: কাঁথি/১ এপ্রিল: মথুরাপুর এবং উলুবেড়িয়া/৬ এপ্রিল: কোচবিহার এবং ডুমুরজোলা/১০ এপ্রিল: শিলিগুড়ি এবং কৃষ্ণনগর/১২ এপ্রিল: বর্ধমান, কল্যাণী এবং বারাসত/১৭ এপ্রিল: আসানসোল এবং গঙ্গারামপুর।

তবে এর পরেও মোদীর পুরোনো সূচি অনুযায়ী মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও কলকাতায় সফর ছিল। কিন্তু শেষমেশ ভার্চুয়াল মাধ্যমে দিল্লি থেকে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, ২৩ এপ্রিল দেশের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থাকায় বাংলা সফর বাতিল করতে বাধ্য হন তিনি।

প্রায় সব সভাতেই তিনি হরেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন, “বাংলার বিজেপি সরকার ‘আসওল পরিবর্তন’ নিয়ে আসবে”। যে জন্য তিনি নির্দিষ্ট জায়গায় (ঠিক কোথায়, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে) ছাপ মেরে তৃণমূলকে সাফ করার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

সমালোচকরা বলছেন, বাংলা দখলে তিনি যেমন ব্যর্থ, তেমনই করোনা মহামারি মোকাবিলাতেও তাঁর ব্যর্থতার ছবি স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ছে নিত্যদিন আক্রান্তের সংখ্যা অথবা স্বাস্থ্য পরিষেবার বিপর্যয় দেখে। করোনার প্রথম ঢেউয়ে ঘনঘন জাতির উদ্দেশে ভাষণ, প্রদীপ জ্বালানো, থালাবাসন বাজানোর মতো নিত্যনতুন টোটকায় মাতিয়েও রেখেছিলেন। ধীরে ধীরে নীচের দিকে নেমে আসা করোনা-গ্রাফ ফের সমস্ত শিখর ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর তিনি বাংলা জয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে শুধুই উড়ে বেড়িয়েছেন। বিহারের ভোটেও দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন, কোনো রকমে গড় রক্ষা হতেই ফলাফল ঘোষণার পরই বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে ভার্চুয়াল ভাষণও দিয়েছিলেন। তবে বাংলায় সে সবের সুযোগ মিলল না। অন্য দিকে হাতের বাইরে চলে গেল করোনা।

থাকার মধ্যে রয়েছে বাংলায় ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা আসছেন, বিশেষ প্রতিনিধি দলও আসছে। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় উড়ে আসছে কঠিন কিছু প্রশ্ন। “২ তারিখের পর মেরে ঠান্ডা করে দেব”,
“পুলিশকে দিয়ে জুতো চাটাবো”, “২রা মে ঘর থেকে টেনে টেনে বের করে মারব”, “বেগম হারবে, ফুফা হারবে, পাকিস্তান পাঠিয়ে দেব”, “বদল হবে, বদলাও হবে”, “২ মে থেকে যোগী আদিত্যনাথের মতো সোজা করব”, “আরও অনেক শীতলকুচি হবে”, “আমরা মারব, তোরা লাশ গুনবি” এমন সব হুঙ্কার কারা ছেড়েছিল? তবে বাংলার পরিস্থিতি তেমনটা হতে দেননি বাংলার মানুষ। সোনার বাংলা যদি ‘সুনার বঙ্গাল’ হত তা হলে কী হত, তা অবশ্য জানা নেই।

তবে এখন জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রের বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও ‘হিংসা’ থামাতে রাজ্যে আসছেন। করোনার জন্যে ভারত থেকে বিমান চলাচলে স্থগিতাদেশ জারি করেছে বিশ্বের অনেক দেশ। বিদেশ প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে বাংলায়। ওই মন্ত্রীর নাম বাংলার কত জন শুনেছেন, অথবা তিনি নিজে বাংলার মানুষ তো দূরের কথা ক’টা অলিগলি চেনেন, সেটাও একটা বড়োসড়ো প্রশ্ন।

একই প্রশ্ন মোদীর ১২ সফরে ১৮ সভা নিয়েও। বাংলার মানুষ, বাংলার সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে উপর উপর জেনেই তিনিও বাংলা জয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। হলদিয়ার প্রথম সভাতেই (৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেছিলেন, “মমতার আমলে ১০ বছর ধরে নির্মমতা পেয়েছেন বাংলার মানুষ”।

কঠিন হলেও সত্যি, বাংলার মানুষ ফের সেই মমতাকেই চেয়েছেন। নিজে না বুঝে অন্যকে বোঝাতে গেলে হয়তো এমনই হয়। তবে ইস্যুর কিন্তু শেষ নেই। রাজ্য বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের জারির দাবিতে সরব। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই দাবিতে গলা মেলালে মন্দ হবে না। খুব তাড়াতাড়ি রাষ্ট্রপতির কানে পৌঁছে যেতে পারে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফোনে কথা বলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে। মানে বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসুক না আসুক, তিনি পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় এটাই কাম্য। তা হলে ফের কবে আসবেন প্রধানমন্ত্রী? অনুব্রত মণ্ডল কিন্তু আগেই ডাক দিয়ে রেখেছেন, “নরেন ও…ওউ নরেন”।

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
বাংলাদেশ2 hours ago

Bangladesh Covid Vacination: টিকা ট্রায়ালে চিন অর্থ চাওয়ায় রাজি হয়নি বাংলাদেশ

বাংলাদেশ2 hours ago

Bangladesh-China Relation: চিনের এমন আচরণ আশা করেনি বাংলাদেশ

দেশ5 hours ago

G-7 Summit: পর্তুগালের পর ইংল্যান্ড যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

বিজ্ঞান5 hours ago

জানেন কি, কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর অ্যান্টিবডিগুলি কত দিন পর্যন্ত রক্তে থেকে যায়

রাজ্য6 hours ago

Bengal Corona Update: কুড়ি হাজারের গণ্ডি পেরোল দৈনিক সংক্রমণ, প্রচুর টেস্টর ফলে সংক্রমণের হার ৩০ শতাংশের নীচে

coronavirus test
দেশ7 hours ago

আক্রান্তদের ফের আরটি-পিসিআর নয়, কোভিড টেস্টে নয়া নির্দেশ কেন্দ্রের

বিনোদন7 hours ago

‘রাধে’র বক্স অফিস কালেশন হতো ‘জিরো’, হল মালিকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী সলমন খান

দেশ8 hours ago

Vaccination Drive: জোগান নেই, মহারাষ্ট্রে বন্ধ হয়ে গেল কমবয়সিদের টিকাকরণ

বিজ্ঞান2 days ago

কোভিডের ভাইরাস বায়ুবাহিত, ৬ ফুট পর্যন্ত ছড়াতে পারে, দাবি শীর্ষ মার্কিন সংস্থার

রাজ্য2 days ago

Bengal Corona Update: নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় একই, রাজ্যে বাড়ল সুস্থতা

ক্রিকেট2 days ago

বিরাট-রোহিত ছাড়াই এক নতুন ভারতীয় দলকে জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে দেখা যাবে!

প্রবন্ধ3 days ago

এমনই বৈশাখের একটি দিনে মুখোমুখি হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও শ্রীরামকৃষ্ণ

দেশ18 hours ago

Covid Crisis: অক্সিজেনের অভাবে ১১ কোভিডরোগীর মৃত্যু অন্ধ্রপ্রদেশের হাসপাতালে

Madhyamik examination west bengal
শিক্ষা ও কেরিয়ার10 hours ago

Madhyamik 2021: আপাতত সম্ভব নয় মাধ্যমিক পরীক্ষা, সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পর্ষদ

রাজ্য2 days ago

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় মন্ত্রীসভায় একাধিক নতুন মুখ

দেশ2 days ago

ভ্যাকসিন এবং কোভিডের চিকিৎসা সরঞ্জামে ট্যাক্স কেন? মমতার চিঠির পর ১৬টা টুইট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর

ভিডিও

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 months ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা4 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা4 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা4 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা4 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা4 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে