যত কাণ্ড কাটমানিতে: বিজেপির রথের পালটা তৃণমূলী উলটোরথ, আরেক মেয়রের মোক্ষলাভ

মতবাদ যদি বরবাদ হয়ে থাকে, নীতি মানেই দুর্নীতি, তা হলে সেই মুক্তকচ্ছ মায়ফিলে স্বপ্ন তো দুঃস্বপ্নই হবে। এই ভঙ্গ বঙ্গদেশে এখন দুঃস্বপ্নের গোধূলিবেলা।

0
mamata addressing
২১ জুলাইয়ের সমাবেশে মমতা। ছবি রাজীব বসু।
debarun roy
দেবারুণ রায়

নিখাদ নীতির ব‍্যাপারটা একেবারেই আপেক্ষিক রাজনীতির অভিধানে। নীতি যেখানে বহুব্রীহি হয় রাজতকমা এঁটে, সেখানে মানুষ মানে আম জনতাও আপত্তি করে না অনৈতিক কাজ, এমনকি দুর্নীতি নিয়েও। প্রিয় নেতানেত্রীর সাতখুন মাফ। ভোট দিতে গিয়ে তারা বলে আসে, “ন‍্যায় অন‍্যায় জানিনে জানিনে জানিনে/শুধু তোমারে জানি”।

এ জন্যই রাজনীতিবিদরা মামলায় জড়ালে অনেক সময় বলেন, “জনতার আদালতে বিচার হবে।” হয়ও তাই। আমাদের রাজ‍্যে সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত জ্বলজ্বল করছে। সারদা থেকে নারদায়। অভিযুক্ত বা উল্লিখিত যে কোনো তিরন্দাজ সসম্মানে ভোটে জিতে দুর্নীতির দুয়োকেই বুড়ো আঙুল দেখাতে পারেন। কথায় বলে ভোট-বৈতরণী পেরোনো, সে কি মুখের কথা? তা ছাড়া বৈতরণী পার মানেই তো সংসারের বন্ধন থেকে মুক্তি। তখন আর তাঁকে পায় কে? স্বভাবতই তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যান। ২/৩ লাখ ভোটে জিতে আসার পর কাউকে কি শ্যাওলা পড়া হাওলার কথা জিজ্ঞেস করা যায়? শারদমেলায় মালা পরাতে গিয়ে কি চিফ গেস্টের কানে কানে সারদা মামলার নাড়িনক্ষত্র জানতে চাওয়া যায়? না, বারংবার নারদ নারদ বলে তাঁর মুখঝামটা শোনা যায়?

আরও পড়ুন বামশূন্য বাংলায় বেদখল কংগ্রেস, তৃণমূলী তাসের ঘর ভাঙছে

শোভনকে শোভনতার পাঠ মানে পড়া মুখস্থ করানোর হোমটাস্ক করাতে হয় আম জনতাকে। আর এটা কোনো নতুন কথা নয়। বেদবাক‍্য। নীতির কথা বলে অক্ষম মানুষ। ক্ষমতার অলিন্দে যার কোনো দাম নেই। নেতাদের জিতিয়ে রাজা-উজির করা বা হারিয়ে রাতারাতি হাড়হাভাতে ফকির বানিয়ে দেওয়ার মতো বিক্রম নেই। আর অন্য দিকে দায়মুক্ত দুর্নীতির অধিকার সক্ষমের। সক্ষম যে, তাকে ক্ষমা চাইতে হয় না। উদার হাতে জনগণ তাকে ক্ষমা করে দিতে লাইন লাগায়। মানে লাইন দিয়ে ভোট দেয়। ভোটের চেয়ে বড়ো সততার সার্টিফিকেট আর কী আছে? সুতরাং কচ্ছ থেকে কাকদ্বীপ কিংবা কাঁকিনাড়া, ভোটে জেতার কারখানা জিন্দাবাদ। নারদ ধুয়ে জল খাক বিরোধীরা। একুশের ভোটের পারদ চড়তে চড়তে প্রায় আরও দু’ বছর। তত দিনে কোথাকার জল কোথায় গড়াবে কে বলতে পারে…।

এমতাবস্থায় শোনা গেল, ভোট বিশেষজ্ঞ শুধু নন, ভোটে জেতার চাবিওলা চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর সততার ইউএসপিরই প্রাণপ্রতিষ্ঠা করতে। চুলোয় যাক মেজ, ছোটো দাদাদের চুলোচুলি। তৃণমূল বঙ্গে এসেছিল তথাকথিত ‘৩৪ বছরের শক্তিশেলের’ বিশল‍্যকরণী হয়ে। চিনতে অপারগ হয়ে পুরো গন্ধমাদন পর্বতটাই তুলে এনেছিল হনুমান, তাই কোনটা যে সঠিক ওষধি তা চিনে নিতে বিশেষজ্ঞ চাই। তখন ছিল রামধনু জোট। শুধু একটাই দল এক দিকে, আর বাদবাকি সব অন্য মেরুতে। এমনকি বামফ্রন্টের ভেতরেও ধোঁয়া ধোঁয়া। আর ধোঁয়া থাকলে উৎসে তো আঁচ থাকবেই। তাই বামফ্রন্টেও বড়ো শরিকের যাত্রাভঙ্গ করার কথা ভেবে নাক কাটানোর হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। সিঙুরের মঞ্চে কারা কারা ছিলেন সশরীরে অশরীরে, প্রকাশ‍্যে গোপনে, স্বজনে বিজনে ও নেপথ্যে, একবার ইতিহাসে উঁকি দিয়ে দেখা যেতে পারে।

বাংলার বামবিদায়ের পটকথায় এমন কিছু প্রশ্ন চিহ্ন ছিল, পরিবর্তনের পয়মন্তরা সে সব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় পাননি। যার মাশুল দেওয়ার পালা শুরু হয়েছে প্রথম পাঁচ বছরেই। যখন সঙ্গ ছাড়ল কংগ্রেস তখনও তাদের অঙ্গহানি হয়নি। পরে জোট ছাড়লেন কিন্তু দলে ভিড়লেন, বা শাসক শিবিরে ফিরলেন মানস ভুঁইয়ার মতো নেতারা। ধীরে ধীরে প্রকৃতির নিয়মেই ঘাসফুল আর পদ্মফুলে টক্কর চরমে উঠল। ভোটের মেরুকরণে সারা বাংলা ছেয়ে গেল ঘাসফুলে। কিন্তু এই নিরঙ্কুশ প্রক্রিয়ার সূত্রে শাসকদের দলছুট অসাম্প্রদায়িক শক্তি মুছে যাওয়ার জোগাড় হল প্রথমে ভোট ও পরে দল ভাঙার খেলায়। অবশেষে এই মুষলপর্ব রাজনীতির বিচিত্র বিক্রিয়ায় ব‍্যুমেরাং হতে শুরু করেছে। উনিশে বিজেপি ফিনিশ হয়নি। উলটে বঙ্গবিজয়ের ঝান্ডা তুলে গিনিস বুকে নাম তুলিয়েছে। বাংলায় বিজেপির সাংসদ সংখ্যা লোকসভায় ১৮, এটা বিজেপিরও বিশ্বাস হয়নি। তাই এ বার ঘুরে দাঁড়ানোর ডাক দেওয়ার পালা দিদির। বিশেষজ্ঞ কিশোর, প্রবীণ যিনিই হন, কাটমানি ফেরত দেওয়ার টিপসটি কিন্তু রীতিমতো কুশলী হুক। বোলিং পিচে দাঁড়িয়ে রক্ষণাত্মক না খেলে ছক্কা হাঁকানোর এলেম থাকা চাই। কিন্তু নেত্রী যে ঝুঁকি নিতে পারেন, আম নেতাদের পক্ষে তা অভাবনীয়। হারানোর অনেক কিছু আছে। তাই যতক্ষণ শ্বাস…।

অনৈতিক লোক শাসকদলে মাত্র ০.১%, যা হিসেবে দেখা গেল অধুনা বাংলায় সংখ্যায় মাত্র ২৩। সুতরাং ছুঁচো মেরে কেউ হাতগন্ধ করে? বোঝাই গেল না, তা হলে তৃণমূল সুপ্রিমো কেন কাটমানি ফেরত দিতে বললেন? তা হলে কি এতে বেশি রকম সম্মতিই হয়ে গেল, যা শাসনের পক্ষে অস্বস্তির? অনেকটা সদর দফতরে কামান দাগার মতো? কারণ, এতে তো গ্রামেগঞ্জে প‍্যান্ডোরার বাক্স খুলে গেল। ১০০ দিনের কাজের রেকর্ডও মলিন হয়ে গেল! ১০০ দিনে প্রায় দু’ লাখ অভিযোগ। জব কার্ড জমা আছে পার্টির মাতব্বর দাদার কাছে। কারণ, কাজ এলে, টাকা এলে মুখখু সুখখু মানুষ কী করে হিসেব বুঝে নেবে? যা করার করে দেবে দাদা। সুতরাং একটা সার্ভিস চার্জ তো প্রাপ্য হয়ই দাদাটির। খারাপ কথায় যা ‘কাটমানি’।

অবশেষে জালে পড়ল রাঘববোয়াল। ইলিশ ধরার জাল আলাদা। তাই পড়ার প্রশ্নও নেই। পাকা রুই-কাতলারও দেখা নেই। অবশ্য পার্থবাবু বলেই দিয়েছেন ০.১% দুষ্টু লোক আছে দলে। তার পর মমতাও সে কথারই পুনরাবৃত্তি করেছেন। এই প্রথম বার পার্থর কথায় পরমার্থ লাভ জনগণের। এবং সেই আপ্তবাক‍্যেরই দোহার ধরল দল। যে কোনো দলই ড‍্যামেজ কন্ট্রোল করতে চায়। এ ব‍্যাপারে মোদীর ইতিহাস অমিত। অসংখ্য ড্যামেজে তাপ্পি দিয়েছেন। শেষ পলেস্তারা পুলওয়ামায়। ৪২ জওয়ানের নিধন পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সত্যসন্ধানের পথ দেখাবে। অচ্ছে দিনের পাততাড়ি গুটিয়ে পাকিস্তানের জড়িবুটি সেবন করে দুই হুজুরের ভবিষ্যদ্বাণীকে বেদবাক‍্য করে দিল হিন্দুস্তান। মোদী ও শাহ বলেছিলেন, অব কি বার তিনশো পার। একেবারে সিদ্ধবাক।

আরও পড়ুন মমতা বলেছিলেন কাটমানির টাকা ফেরত দিতে, চাইতে তো বলেননি!

হ‍্যাঁ, অবশেষে বিধির বিধান বদলে দেওয়ার মতো শক্তিমান সব‍্যসাচীর পদত্যাগ কাটমানি উপকথার ক্লাইম্যাক্স। বিধাননগরের মেয়রপদ যে এত মহার্ঘ ভাবা যায় না। তবু কলকাতার মেয়র হলে না হয় একটা ইতিহাস ভুগোল এসে যায়। বাঙালির প্রধানমন্ত্রী তো একজনই। হারিয়ে তাড়িয়ে সুভাষচন্দ্র। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে নস্যাৎ করতে এবং তাঁর টানে টানে ভারতের জাতীয় জাগরণের ইতিহাস কেনাকচ করতে সেই ইতিহাসেরই এক ঊজ্জ্বল নক্ষত্র নেতাজিকে টোটকা করা হয়েছে। এবং সর্দার পটেলকেও। যেন ওঁরা গেরুয়া হিন্দুত্ববাদী ছিলেন। ভাবখানা এমনই। আরে নেহরুর সঙ্গে বিরোধ তো পরে। সুভাষের সঙ্গেই তো সর্দারের নীতি ও রণনীতিগত সংঘাত সর্বাগ্রে। সর্দার রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের বিরোধী ছিলেন। সম্পূর্ণ বেসরকারি পুঁজির আদ‍্যন্ত সমর্থক। তাঁর বিপরীত মেরুতে ছিলেন সুভাষ ও জবাহর। অথচ গোটা ইতিহাসটাকে স্বরচিত রামকাহিনি বানিয়ে ছেড়েছে সংবিধান ও নেহরুবাদের কট্টর বিরোধীরা। কারণ এখনও তাদের সব চেয়ে বড়ো প্রতিপক্ষ হল নেহরুর দল। ছদ্ম নেতাজিপ্রেমে সমস্যা নেই। জাতীয় ক্ষেত্রে নেতাজির দলের উপস্থিতি অকিঞ্চিৎকর। তাদের প্রতিবাদ কত দূর পৌঁছোবে? তাই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বাংলা ও ভারতের বজ্রকন্ঠ সুভাষচন্দ্রকে ভাঙানোর ছক। তা ছাড়া, গান্ধীহত‍্যার পর সর্দার পটেল কী করেছিলেন? হাজার অপচেষ্টাতেও সেই বীজ থেকে মহীরুহ হয়ে ওঠা সংবিধানের মুখবন্ধ বদলানো যাবে না। প্রসঙ্গত দু’টি দৃশ্য মনে পড়ছে। ১) প্রথম বার বনারসবাবু হয়ে লোকসভায় পদার্পণের আগে নরেন্দ্র মোদী সংসদের সিঁড়িতে মাথা রাখছেন। ২) এ বার আরও এক ধাপ। একেবারে সঠিক লক্ষ‍্যে। সেন্ট্রাল হলে রাখা সংবিধানের মূলগ্রন্থে মাথা রাখছেন। নিজে মেনে সঙ্গীসাথীদের মানাতে চাইছেন, এটাই রাষ্ট্রধর্ম। রাষ্ট্রের আর কোনো আরাধ‍্য নেই।

ভিন পথে ছুটেছিল ইতিহাসের সূত্রধর। মেয়রপদের মহিমার টানে টানে। ফের সটান সব‍্যসাচী। নামার্থক তিনি। দু’হাতে সমান গতি। অকূলে এবং মুকুলে। সব‍্যসাচীর কূল কি তবে এ নাটকের শেষ অংকে মুকুল? কত দিন হয়ে গেল লুচি আলুর দম খেতে মুকুলের ভাইয়ের বাড়িতে যাওয়ার। আলুর দম নিষিদ্ধ খাদ‍্য, তবু ভ্রাতৃপ্রেমে সবই সিদ্ধ। অবশ্য তৃণমূলে এখন তো অনেকটাই ব‍্যাক ক‍্যালকুলেশন বা রিভার্স মোডে কাজ হচ্ছে। বিজেপির রথযাত্রার পর তৃণমূলের উলটোরথ। কিন্তু এই দলে মেয়রেই মোক্ষ। ওটাই যেন দিগন্তরেখা। প্রথমে শোভন-সংবাদ। পরে সব‍্যসাচী-সমাচার। দু’জনই ‘মুকুলে মজিনু’। এবং নোঙর তুলে নিয়েও জাহাজ তো আঘাটায় আটকে। এ এক বিচিত্র বিরাগ। রাগ আর অনুরাগের মাঝখানে। তাই, সত্য সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ। সব‍্যসাচীর যে দিন মেয়রপদের মায়া কাটল, মোহমুদ্গর ছুড়ে মারলেন সল্টলেকের খ‍্যাতি-অখ‍্যাতি-বিখ‍্যাতির চেয়ারে, সে রাতেই তাঁর নামে একটা কালো মেল (ইংরেজি নয়) উড়ে এল কালপেঁচার মতো। ভিডিও ভাইরাল হল সোশ্যাল মিডিয়ায়। মিডিয়া যখন ফেস আর বুক মিলিয়ে তখন বুকের কথা মুখে তো আসবেই। পালটা ঢেকুর তুললেন কেউ কেউ। সেই মল খসালি/তবে কেন লোক হাসালি? এক কোটির কাটমানি লেনদেনের এই ফোনাফুনি আগে কেন ছাড়েননি হে তিরন্দাজ? মানে দলে থাকলে শুদ্ধ হয়ে যায়? দলছুটদের দল দল ফাঁসানোর ব্রহ্মাস্ত্র? কিন্তু দলের নিখুঁত নজরদারিকে বাহবা দিতেই হয়। বোঝা যায়, যে বাছাধন যা-ই করুন, সব তিনি দেখছেন। নজর না রাখলে নজরানা আসবে এমন কোন দল আছে ভূভারতে? দুষ্টু গোরু বোঝা যাবে কী করে? তাই নজর। সর্বদলীয় সহমত হল, দুষ্টু গোরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।

আরও পড়ুন সিপিএমের ভোট গেল, আর মুকুল-অর্জুন? পচা শামুকে পা কাটছে কার?

তবে কাটমানি-কেলো না হলেও সব‍্যসাচীর সাতকাহন যন্ত্রস্থই ছিল। এ ভাবেই তর্জন, গর্জন ও বর্জন-পর্ব প্রকট বাংলায় ভাটপাড়ার ভোট ও মোদীকে দেওয়া ভেট থেকে। গোটা সমাজই যখন অন্ধকারে, তখন রাজনীতি হবে শুধু গঙ্গাজলে ধোয়া? গঙ্গাজলেই তো দূষণ! তা ছাড়া চোরেদের আদর্শ একটাই। তারা হিমালয়ে গেলেও বলবে, স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়…। বাংলায় কালে কালে চোরের রং বদলায়। লালকুঠি আর নীলকুঠিতে ডিগ্রির তফাত। বামে বর্ণচোরা দেখে চিনে ফেলার পর ডানে তো ডাকাত! হারে রে রে রে রে শুনে কানখাড়া বঙ্গভূমির। বামে ও তীব্র ডানে মতাদর্শের পাটাতন। তা-ও দুর্নীতি আটকানোর জাল নেই। আর যাদের পায়ের নীচে মতাদর্শের মাটি নেই, মতবাদ পুরোপুরি বাদ, তাদের সঙ্গে বাদানুবাদ কেন? হাওয়ার কাছে কীসের এত চাওয়া? মতবাদ যদি বরবাদ হয়ে থাকে, নীতি মানেই দুর্নীতি, তা হলে সেই মুক্তকচ্ছ মায়ফিলে স্বপ্ন তো দুঃস্বপ্নই হবে। এই ভঙ্গ বঙ্গদেশে এখন দুঃস্বপ্নের গোধূলিবেলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here