Connect with us

প্রবন্ধ

একুশের পাশাপাশি আমাদের একটা উনিশেও আছে

Published

on

শম্ভু সেন

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম, রফিক, সফিক, জব্বার, বরকতরা। তাঁদের সেই আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। সেই আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে বাংলা ভাষার মর্যাদা তো আদায় করে নিয়েই ছিল, উপরন্তু সেই আন্দোলন আরও এক বৃহত্তর আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল। যার পরিণতিতে ১৯৭১-এ জন্ম হল বাংলাদেশের। কালক্রমে ২১ ফেব্রুয়ারি পেল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সম্মান।

কিন্তু ১৯ মে দিনটাকে আমরা ভুলতে বসেছি। এই দিনের ইতিহাস আমাদের এমনিতেই স্মরণে থাকে না, তার ওপর আবার এখন চলছে বিশ্বব্যাপী করোনা-ত্রাস। যা-ই হোক, করোনা রুখতে ঘরবন্দি আমরা আপাতত ফিরে যাই সে দিনটায়।  

সে-ও ছিল এক রক্তঝরা দিন। ঠিক ৫৯ বছর আগে ১৯৬১ সালের এই দিনেই বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন এগারো জন ভাষা সৈনিক – দশ জন তরুণ, এক জন তরুণী।

ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা আর বরাক উপত্যকা নিয়ে আজকের অসম। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা অসমিয়া হলেও করিমগঞ্জ, কাছাড়, শিলচর, হাইলাকান্দি নিয়ে গড়া বরাক উপত্যকা হল বাঙালিদের এলাকা। দেশবিভাগের এক বছর পর রেফারেন্ডামের মাধ্যমে সুরমা ভ্যালি (বর্তমান বাংলাদেশের সিলেট বিভাগ) পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু বৃহত্তর সিলেটের তিন-চতুর্থাংশ নিয়ে গঠিত বরাক ভ্যালি থেকে যায় অসমে। ১৯৬০ সালের ২১ ও ২২ এপ্রিল অসম প্রদেশ কংগ্রেস অসমিয়াকে রাজ্য ভাষা করা নিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করে। মাস দুয়েক পরে মুখ্যমন্ত্রী বিমলাপ্রসাদ চালিহা বিধানসভায় ঘোষণা করেন অসমিয়াকে রাজ্যভাষা করা নিয়ে সরকার শীঘ্রই একটি বিল আনছেন।

২ জুলাই শিলচরে ‘নিখিল আসাম বাংলা ও অন্যান্য অনসমিয়া ভাষা সম্মেলন’ ডাকা হয়। ভাষার প্রশ্নে হস্তক্ষেপ করার জন্য কেন্দ্রকে অনুরোধ করা হল। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় শুরু হল ‘বঙ্গাল খেদাও’। বাংলাভাষীরা দলে দলে অসম ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসতে শুরু করলেন। ১৯৬০ সালের ১৫ আগস্ট। কলকাতা পালন করল শোক দিবস। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা উত্তেজনায় ফেটে পড়ল। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু গোবিন্দবল্লভ পন্থকে শান্তিদূত করে পাঠালেন অসমে। পন্থজি ফর্মুলা দিলেন। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা তা সরাসরি নাকচ করে দিল। কাছাড়বাসীরা ছুটলেন দিল্লি। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার নির্বিকার। ১৯৬০ সালের ২৪ অক্টোবর রাজ্যভাষা বিল পাশ হয়ে গেল অসম বিধানসভায়। নতুন আইনে সমগ্র অসমে সরকারি ভাষা হল অসমিয়া। শুধুমাত্র কাছাড়ে জেলাস্তরে রইল বাংলা ভাষা।

বরাক উপত্যকা প্রতিবাদে সরব উঠল। ভাষার প্রশ্নে এক মন এক প্রাণ হয়ে শপথ নিল ‘জান দেব, তবু জবান দেব না’। মাতৃভাষার মর্যাদা যে কোনো মূল্যে রক্ষা করার শপথ নিলেন বরাকের বাঙালিরা। ১৯৬১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি করিমগঞ্জ রমণীমোহন ইনস্টিটিউটে কাছাড় জেলা সম্মেলন আহ্বান করা হল। সম্মেলন থেকে জন্ম হল কাছাড় গণ সংগ্রাম পরিষদের। সম্মেলনে দাবি তোলা হল, ‘বাংলাকে অসমের অন্যতম রাজ্য ভাষা হিসাবে মানতে হবে’। অসম সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে জবাব চাওয়া হল।

অসম সরকার নিরুত্তর। সরাসরি লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য তৈরি হল বরাক। ১৪ এপ্রিল শিলচর, হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জের মানুষজন সংকল্প দিবস পালন করলেন। ২৪ এপ্রিল থেকে বরাক উপত্যকায় শুরু হল পদযাত্রা। পদযাত্রীরা ২ মে পর্যন্ত ২০০ মাইল পরিক্রমা করে বরাকের গ্রামে গ্রামে বাংলা ভাষার দাবির সমর্থনে প্রচার চালিয়ে গেলেন। ছাত্রসমাজের ডাকে ১৮ মে করিমগঞ্জ শহরে যে শোভাযাত্রা বেরোল, তা যেন এক গণ-অভ্যুত্থানের রূপ নিল। মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার দাবিতে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা যোগ দিল শোভাযাত্রায়। আর সেই শোভাযাত্রার মোকাবিলা করতে সারা জেলা ছেয়ে গেল পুলিশ আর মিলিটারিতে। জারি হল ১৪৪ ধারা। করিমগঞ্জ সংগ্রাম পরিষদের নেতা রথীন্দ্রনাথ সেন, নলিনীকান্ত দাস ও বিধুভূষণ চৌধুরী এবং ছাত্রনেতা নিশীথরঞ্জন দাসকে গ্রেফতার করা হল।

ভাষা শহিদ কমলা ভট্টাচার্য

১৯ মে। ভোর চারটে থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত বরাক উপত্যকায় হরতালের ডাক দিল কাছাড় গণ সংগ্রাম পরিষদ। ডাক উঠল, ট্রেনের চাকা ঘুরবে না, বিমানের পাখা ঘুরবে না, অফিসের তালা খুলবে না। ভোর হতেই সত্যাগ্রহীরা রেললাইন অবরোধ করলেন, রানওয়ের ওপর শুয়ে পড়লেন, দল বেঁধে দাঁড়ালেন বিভিন্ন অফিসের সামনে। সত্যাগ্রহে উত্তাল হয়ে উঠল শিলচর, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি, পাথারকান্দি, বদরপুর সহ গোটা বরাক উপত্যকা।

বেলা দু’টো, দুপুর গড়িয়ে চলেছে। ‘মাতৃভাষা জিন্দাবাদ’ ধ্বনিতে শিলচর রেলস্টেশন মুখর। হঠাৎ গুলির আওয়াজ। ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি ছুটে এল ‘শান্তিরক্ষক’দের রাইফেল থেকে। রক্তে ভেসে গেল শিলচর স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম। ‘মাতৃভাষা জিন্দাবাদ’ ধ্বনি দিতে দিতে গুলিতে লুটিয়ে পড়ল ১১টি তাজা প্রাণ। ১৯৬১-এর ১৯ মে জন্ম দিল আরও ১১ জন ভাষা-শহিদের – কমলা ভট্টাচার্য, শচীন্দ্রচন্দ্র পাল, কানাইলাল নিয়োগী, হিতেশ বিশ্বাস, সুকোমল পুরকায়স্থ, তরণী দেবনাথ, চণ্ডীচরণ সূত্রধর, সুনীল সরকার, কুমুদরঞ্জন দাস, সত্যেন্দ্র দেব এবং বীরেন্দ্র সূত্রধর।

১৬ বছরের কমলা দু’ দেশের বাংলা ভাষা আন্দোলনে একমাত্র নারী শহিদ। কমলাদের আত্মবলিদান বৃথা যায়নি। ১৯৬০ সালের অসম ভাষা আইন সংশোধন করা হয়। শহিদের রক্তভেজা বরাক উপত্যকায় বাংলা ভাষা সরকারি ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি পেল।

’৫২-এর পরে ’৬১। একই ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে ন’ বছরের ব্যবধানে দু’টি আন্দোলন দু’টি ভিন্ন দেশে। বিশ্বের ইতিহাসে এ এক বিরল ঘটনা। আমরা, বাঙালিরা যেন মনে রাখি, একুশের পাশাপাশি আমাদের একটা উনিশেও আছে। ১৯ মে – কমলাদের আত্মত্যাগের দিন।

প্রবন্ধ

স্বামীজির সেই ঐতিহাসিক শিকাগো বক্তৃতা আজ যেন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায় শিকাগোর আর্ট ইনস্টিটিউটে বসেছে ‘দ্য পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়নস’। ভারত থেকে এক তরুণ সন্ন্যাসী এসেছেন, হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি হয়ে। তাঁর বক্তৃতা করার পালা এল প্রায় বিকেলের দিকে। কিছুটা যেন নার্ভাস। জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীকে প্রণাম করে শরীরে-মনে যেন একটা নতুন উদ্যম পেলেন। মনে হল তাঁর শরীরে কে যেন ভর করেছেন। বক্তৃতা শুরু করলেন […]

Published

on

vivekananda

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়

শিকাগোর আর্ট ইনস্টিটিউটে বসেছে ‘দ্য পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়নস’। ভারত থেকে এক তরুণ সন্ন্যাসী এসেছেন, হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি হয়ে। তাঁর বক্তৃতা করার পালা এল প্রায় বিকেলের দিকে। কিছুটা যেন নার্ভাস। জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীকে প্রণাম করে শরীরে-মনে যেন একটা নতুন উদ্যম পেলেন। মনে হল তাঁর শরীরে কে যেন ভর করেছেন। বক্তৃতা শুরু করলেন ‘সিস্টারস অ্যান্ড ব্রাদার্স অব আমেরিকা’ সম্বোধন করে। সাত হাজার দর্শক-শ্রোতা দাঁড়িয়ে উঠে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানালেন সেই তরুণ সন্ন্যাসীকে। দু’ মিনিট ধরে চলল হাততালি। ফলে সেই সন্ন্যাসীর জন্য বরাদ্দ সময় বাড়াতে বাধ্য হলেন উদ্যোক্তারা। আমেরিকা-সহ বিদেশ জয় শুরু হল স্বামী বিবেকানন্দের।

স্বামীজির বিশ্বজয়ের সেই সূত্রপাতের ১২৮ বছর আজ, এই ১১ সেপ্টেম্বর।

১৮৯৩-এর ১১ সেপ্টেম্বর। শিকাগোর আর্ট ইনস্টিটিউটে বসেছিল ‘দ্য পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়নস’। সে দিন আমেরিকাবাসীর মন কেড়ে নেওয়ার ফলস্বরূপ ১১ সেপ্টেম্বরের পরে আরও পাঁচ দিন বক্তৃতা করতে হয়েছিল স্বামীজিকে। ১৫, ১৯, ২০, ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর। ধর্ম, সংস্কৃতি, সভ্যতা নিয়ে অনেক কিছু বলেছিলেন তিনি। কিন্তু সব চেয়ে বড়ো কথা হল, সে দিন তিনি এমন কিছু বলেছিলেন, যা আজ একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকের শেষে এই পৃথিবীতে সমান প্রাসঙ্গিক।

কী বলেছিলেন তিনি, এক বার খুব সংক্ষেপে মনে করা যেতে পারে।

“… আমরা শুধু সব ধর্মের প্রতি সহনশীল – তা-ই নয়। আমাদের কাছে সমস্ত ধর্মই সমান সত্যি। পৃথিবীর সমস্ত ধর্মের, সমস্ত জাতির তাড়া খাওয়া মানুষ, শরণাগত মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে যে জাতি, আমি সেই জাতির এক জন বলে গৌরববোধ করি। রোমানরা যে বছর ভয়ংকর অত্যাচারে ইজরায়েলের মানুষদের পবিত্র মন্দির ধ্বংস করেন, সে বছরই সে দেশের বহু মানুষ দক্ষিণ ভারতে এসে আশ্রয় নেন। এ কথা আমার বলতে গর্ববোধ হয় যে, সেই সব খাঁটি ইজরায়েলবাসীর বংশধরদের আমরা বুকে করে রেখে দিয়েছি। লক্ষ লক্ষ মানুষ যে স্তোত্র আজও পাঠ করেন, আমিও যা ছোটোবেলা থেকে উচ্চারণ করে আসছি, তার কয়েকটা লাইন বলছি : ‘নানা নদীর উৎস নানা জায়গায়, কিন্তু যেমন তারা সবাই একই সমুদ্রে তাদের জল ফেলে মিশে যায়, তেমনই, হে ঈশ্বর, মানুষ আলাদা আলাদা সংস্কারের বশে, জটিল বা সরল যে পথেই থাক না কেন, সকলের গন্তব্য এক তুমিই।

“… গীতাতেও আছে সেই আশ্চর্য তত্ত্ব — ‘ যে যে-ভাব নিয়েই আমার কাছে আসুক না কেন, আমার কাছে পৌঁছোয়। মানুষ নানান পথের পথিক হতে পারে, কিন্তু সব পথই শেষে আমাতে এসে মেশে। সাম্প্রদায়িকতা, গোঁড়ামি আর তার ভয়ংকর পরিণাম ধর্মোন্মত্ততা, এই সুন্দর পৃথিবীকে ছেয়ে ফেলেছে। পৃথিবীকে হিংসায় পূর্ণ করেছে, মানুষের রক্তে ভিজিয়ে দিয়েছে, সভ্যতাকে ধ্বংস করে সমস্ত বিশ্বকে হতাশায় ডুবিয়ে দিয়েছে। এই ভয়ংকর দানবগুলো না থাকলে মানুষের সমাজ এখন যতটা না এগিয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে যেত।

“… সংকীর্ণ ভাবনাই আমাদের মধ্যে এত ঝগড়াঝাঁটির কারণ। আমি একজন হিন্দু – আমি আমার ছোট্টো কুয়োর মধ্যে বসে আছি আর সেটাকেই গোটা পৃথিবী ভাবছি। খ্রিস্টান ধর্মে যিনি বিশ্বাসী, তিনি তাঁর নিজের ছোট্টো কুয়োয় আর সেটাকেই গোটা দুনিয়া মনে করছেন। মুসলমানও নিজের ছোট্টো কুয়োয় বসে আছেন আর সেটাকেই গোটা জগৎ মনে করছেন।

“… যতই মিলমিশের কথা বলো, তার মধ্যে কিছু লোক এমন কথা বলবেই যাতে সেই মিলনের সুরটা কেটে যাবে। আমি সেই কথাগুলোকেও বিশেষ ধন্যবাদ দিই, কারণ তারা জোরালো বিরোধ দেখিয়েছে বলেই তো আমাদের এই সামগ্রিক মিলন গানের সুর আরও বলিষ্ঠ ও দৃঢ় হয়ে উঠছে।

“…বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সাধারণ ঐক্যের ভিত্তি ঠিক কোন্‌ জায়গাটায়, তা নিয়ে অনেক বলা-কওয়া হয়ে গেছে। এই কথাটা বলা জরুরি মনে করি; কেউ যদি মনে করে একটা নির্দিষ্ট ধর্ম জিতে যাবে, আর বাকি সব ধর্ম খতম হয়ে যাবে, আর সেই ভাবে ঐক্য আসবে, তবে তাকে একটাই কথা বলার – এই আশা বাস্তবে মোটেও ফলবে না। প্রত্যেককে অন্যের ধর্মের সারটুকু নিতে হবে, অন্য ধর্মের প্রতি মর্যাদা দিতে হবে। আবার নিজের ধর্মের নিজস্বতাকেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। পবিত্রতা, ঔদার্য — এগুলো কোনো বিশেষ ধর্মসম্প্রদায়ের সম্পত্তি নয়। সব ধর্মসম্প্রদায়ই যুগেযুগে খুব উঁচু চরিত্রের মানুষের জন্ম দিয়েছে।

“…চোখের সামনে এত সব তথ্যপ্রমাণ সত্ত্বেও, কেউ যদি স্বপ্ন দেখে, তার নিজের ধর্মটি, একলা বিরাট হয়ে বেঁচে থাকবে, আর অন্যগুলি নিপাত যাবে, সেটা ভুল। তাকে জানতে হবে, যতই বাধা আসুক না কেন, সব ধর্মের পতাকায় খুব শীঘ্রই লেখা থাকবে, ‘বিবাদ নয়, সহায়তা। বিনাশ নয়, আত্মস্থ করা। মতবিরোধ নয়, সমন্বয় ও শান্তি”।

শিকাগো ধর্মসভা সম্মেলনে স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক বক্তৃতার নির্বাচিত অংশকে আজ ফিরে দেখা খুবই জরুরি – আমাদের দেশ, আমাদের মহাদেশ এবং আমাদের বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিতে। পবিত্র সেই সেপ্টেম্বরে বিনম্র নিবেদন –

কেন আজ আমার এ দেশে / আমার এই পৃথিবীতে / নিয়ত ষড়যন্ত্র করে / অমানবিক হিংস্রতা? / কেন আমার দেশের / আর আমার পৃথিবীর / আজকের নাম হল / মৃত্যুর উপত্যকা? / যদিও, ‘শৃন্বন্ত বিশ্বে’ / সবাই ‘অমৃতস্য পুত্রার’ – / তবুও কেন খুন হয় মানুষ / অন্য এক মানুষের হাতে? / যদিও পৃথ্বীর নীল আকাশে / ধ্বনিত ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ – / তবুও মানুষ নিপীড়িত হয় / এক অন্য মানুষের ছলনায়। / ওগো পৃথিবীর অধিদেবতা, / আমার স্বদেশের গণদেবতা – / বাঁচাও আমার দেশ-পৃথিবীকে / ফিরিয়ে দাও তার শাশ্বত পরিচয় – / সেই অনির্বাপিত শান্তির যজ্ঞে / দধীচির অস্থির মতো / দিতে পারি আমার সব কিছু — / যদি প্রয়োজন হয়।

Continue Reading

প্রবন্ধ

বামেদের সঙ্গে জোটের কারিগর প্রণব ‘চাণক্য’ মুখোপাধ্যায়

যখন ইউপিএ গঠিত হল, এবং দৃশ্যপট থেকে সরে গেলেন সুরজিৎ, তখন ইউপিএ-বাম সমন্বয়ের মূল কাজটি প্রণববাবু করতেন সীতারাম ইয়েচুরিকে ডেকে নিয়ে।

Published

on

এক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মনমোহন সিং ও সীতারাম ইয়েচুরি।

দেবারুণ রায়

সারা দেশে বামেদের সঙ্গে জোট গড়ার ভাবনা মূর্ত হয়েছিল প্রণব ‘চাণক্য’ মুখোপাধ্যায়ের (Pranab Mukhopadhyay) মুনশিয়ানায়। প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি থাকলে নিশ্চয়ই সে দিনের এক জ্বলন্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য পাওয়া যেত। সূচনা পর্বের আগাগোড়া, জোটের নীল নকশার সূত্রধর ছিলেন সিপিএমের সেই সময়ের সাধারণ সম্পাদক হরকিষেন সিং সুরজিৎ (Harkishen Singh Surjit)। আর নেপথ্যের মহানায়কের নাম বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং (Vishwanath Pratap Singh)। ১৯৯৬-এর ঐতিহাসিক ভুল ভারতীয় রাজনীতির সমকালীন অনুঘটক বামেদের রণনীতি বদলাতে বাধ্য করেছিল। গঠনতন্ত্রের গোঁড়ামি বহাল রাখলেও কংগ্রেসের (Congress) ব্যাপারে ছুৎমার্গ অনেকটাই কাটিয়ে উঠছিল সিপিএম (CPM)। এবং কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া করে সাম্প্রদায়িকতাকে রোখার লাইনটিকে মাইলফলক বানিয়ে পাদপ্রদীপের আলো থেকে সরে গিয়েছিলেন সিপিএমের নবরত্নসভার শেষ দুই কমরেড। অনেকটাই অবসৃত জ্যোতি বসুকে (Jyoti Basu) সঙ্গে নিয়ে দলে সংখ্যালঘু  সাধারণ সম্পাদক সুরজিৎ নেমেছিলেন পার্টির লাইন বদলের দিশায় ইনার পার্টি স্ট্রাগলে। বাইরের জমি তৈরি করতে সুরজিৎকে সহারা দিয়েছিলেন ভিপি। আর রাজীবের বন্ধু থেকে শত্রু হওয়া ভিপির অক্লান্ত চেষ্টা আর শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যস্থতায় কংগ্রেসের সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) ভুল ভেঙেছিল ভিপির বিষয়ে।

ছিয়ানব্বইয়ে সিপিএমের সরকারে না যাওয়ার জেদ দেখে অকংগ্রেসি ধর্মনিরপেক্ষ শিবিরের মুকুটহীন রাজা বিশ্বনাথপ্রতাপ সবাইকে বলেছিলেন, কংগ্রেসকেই জোটের নেতৃত্বে আনা ছাড়া সরকার গড়া বা তা স্থিতিশীল করা যাবে না। বাংলায়, কেরলে সংগঠন বাঁচাতে ভাবের ঘরে চুরি করার রণনীতি বহাল রেখেই সেকুলার জোট গড়তে হবে। এবং কংগ্রেসের নেতা কে হবেন তা নিয়ে কংগ্রেসই মাথা ঘামাবে। বিশ্বনাথের সঙ্গে সম্পর্ক মধুর ছিল না প্রণবের। তাই প্রণবকে সঙ্গে নিয়ে জমি তৈরির কাজে নামলেন সুরজিৎ। বিশ্বনাথ ব্যক্তিগত ভাবে ভোট-রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিয়েও সনিয়ার সঙ্গে লাগাতার কথা বলতে শুরু করলেন। কার্যক্ষেত্রে তার ফলোআপ করতেন সুরজিৎ ও তাঁর সঙ্গী সিপিআইয়ের শীর্ষনেতা এবং লালু, মুলায়মের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কমরেড অর্ধেন্দুভূষণ বর্ধন, যিনি এবি বর্ধন নামেই পরিচিত। নাগপুরের বাঙালি বর্ধনদার সঙ্গে খাতিরের সম্পর্ক শরদ পওয়ারের। সনিয়া ও পওয়ারের তিক্ততা মিটিয়ে বোঝাপড়ার কথা হল কংগ্রেস ও এনসিপির। এই আগাগোড়া একের সঙ্গে আরেককে জোড়ার কঠিনতম কাজটি পড়ল প্রণববাবুর ও সুরজিতের ওপর। পরিস্থিতি অনেকটা পরিপক্ব হওয়ার পর আসরে এলেন জ্যোতি বসু।

এ দিকে সীতারাম ইয়েচুরি ও প্রকাশ কারাটের সঙ্গে নিত্যই দিল্লিতে পার্টি সেন্টারে হাজির পিবি সদস্যদের বৈঠকে কথা বলতেন সুরজিৎ। জ্যোতি বসুর মতামত তো নিতেনই। এই সময়ে তালকাটৌরা রোডের ১৩ নম্বর বাড়িতে সন্ধ্যার পর আসতেন সুরজিৎ। ওঁর সঙ্গে অতীতে রাজ্যসভা থেকেই ঘনিষ্ঠতা ছিল প্রণববাবুর। দিনের পর দিন প্রণববাবুর কাছে গিয়ে দেখা হয়েছে কমরেড সুরজিৎয়ের সঙ্গে। দীর্ঘ পরিচয়ের সূত্রে ওঁর কাছেও সস্নেহ প্রশ্রয়ের অভাব ছিল না। সুরজিৎয়ের মজা ছিল, কী কথা হল, কার সঙ্গে হল, এ সব বলতেন না। বলতেন, সময় হলে সব জানতে পারবে। শুধু জেনে রাখো সব কিছু সঠিক ভাবে এগোচ্ছে।

সুরজিৎয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর একদিন প্রণববাবুর কাছে গিয়ে জানতে চাইছি। ‘দাদা’ রাজনীতিবিদ হিসেবে উৎকর্ষের শিখরে থেকে স্বভাবতই ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতায় আস্থা রাখতেন। স্নেহের সম্পর্ক এক দিনে গড়ে  উঠত না বা ভেঙেও যেত না। ইতিহাস বা রাজনীতির অজ্ঞতা যদি কারও প্রশ্নে ধরা পড়ত তা হলে তার ধমক খাওয়া অনিবার্য ছিল।  সুরজিৎয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর সে দিন ‘দাদা’র মেজাজ বেশ ফুরফুরে। বললেন, সুরজিৎ একদম ভাইস চ্যান্সেলর। দারুণ রাজনীতির লোক। ওর দলের ছেলেগুলো ওর কাছ থেকে কিছু শিখল না। সিরিয়স কথা, কিন্তু বললেন হাসির ছলে। প্রকাশ কারাটের সঙ্গেও কথা বলতেন ‘দাদা’। কিন্তু সুরজিৎয়ের সঙ্গে বৈঠকের সুবাদে সীতারাম অনেক বেশি যেতেন। এবং সীতারামকে একটু বেশিই স্নেহ করতেন অর্থনীতির ভালো ছাত্র বলে। পরে যখন ইউপিএ গঠিত হল, এবং দৃশ্যপট থেকে সরে গেলেন সুরজিৎ, তখন ইউপিএ-বাম সমন্বয়ের মূল কাজটি প্রণববাবু করতেন সীতারাম ইয়েচুরিকে ডেকে নিয়ে। বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে শুধু সীতারামকেই বলতে বলতেন। নিজে  বলতেন দু’টো-একটা কথা।

এই ভাবেই ২০০৪-এর সরকারের মুশকিল আসান প্রণববাবু চার বছর নিরুপদ্রবেই চালিয়ে নিয়েছিলেন। মাঝেমধ্যে জ্যোতিবাবুর সঙ্গে দেখা করতে যেতেন কলকাতায় গেলে। দু’ জনের কথাবার্তার পর প্রেস মিডিয়া ছেঁকে ধরেছে দু’ জনকেই। প্রণববাবুর সৌজন্য এত প্রখর ছিল, যা শেখার মতো। হাসিমুখে ক্যামেরাকে বলেছেন জ্যোতিবাবুকে দেখিয়ে, ওঁর কাছে আগে যান। এবং জ্যোতিবাবুর মস্তিষ্ক  মিডিয়ার সামনে শেষ দিনেও ছিল প্রখর। প্রণবকে দেখিয়ে বলেছেন, “জিজ্ঞাসার কিছু নেই। ও আছে তো। সব ঠিকমতোই করছে। ও আমাদের পার্টিকে জানে। আমরা কী চাই সেটা খুব ভালো করে জানে। তাই কোনো সমস্যা নেই।” সে দিন অভিভূত হাসিমুখ ছাড়া প্রণববাবু মিডিয়াকে আর কিছুই দেননি।

সেই সরকার থেকে বামদের সমর্থন তুলে নেওয়ার ঘটনাটি রোখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন ‘দাদা’। পরমাণু চুক্তির কিছু প্রস্তাবিত ধারার বয়ান বদলানোর চেষ্টা তিনি কী ভাবে করেছিলেন তা জানতেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, প্রকাশ কারাট ও সীতারাম ইয়েচুরি। সনিয়াকেও রাজি করিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু আমেরিকার তৎকালীন বুশ প্রশাসন ছিল অনমনীয়। তখন একমাত্র প্রধানমন্ত্রী মনমোহনই পারতেন ‘হয়’ কে ‘নয়’ করতে। কিন্তু যাঁরা তাকে দুর্বল প্রধানমন্ত্রী বলে প্রচারে নেমেছিলেন তাঁদের নেতা আডবাণীও বিলক্ষণ জানতেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী কখনও দুর্বল হন না। এই সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ঈশ্বরের মতোই সর্বশক্তিমান। তা ছাড়া কংগ্রেস সভানেত্রী বহু জনমুখী কর্মসূচিতে বামেদের কথামতো চাপ দিলেও চাননি প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্ব কোনো ভাবে খর্ব হোক আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে।

যাঁরা প্রণববাবুর সম্পর্কে কিছুই না জেনে অনর্গল প্রচারে বলেন, উনি সাধারণ মানুষের জন্যে, রাজ্যের জন্যে কিছু করেননি, তাঁদের জেনে রাখা ভালো, একশো দিনের কাজ থেকে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা-সহ বাজেটে এমন বহু জনমুখী কর্মসূচি নিতে প্রধানমন্ত্রীকে চাপ দিয়েছেন যেগুলো কোনো দিন আলোর মুখ দেখত না। চিদম্বরম অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন সব জনমুখী প্রকল্প রুখতেন টাকা নেই বলে। এবং মনমোহন তাতে সায় দিতেন। প্রণববাবু নীরবে এই ‘না’গুলোকে ‘হ্যাঁ’ করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে। সনিয়াকেও সঙ্গে পেয়েছেন।

কিন্তু শেষ যে দিন মনমোহন দেখলেন প্রণববাবুর সমঝোতার সূত্রে বামেরা রাজি এবং চুক্তির মূল বয়ানের কিছুটা বদলাতে হবে, সে দিন তিনি তাঁর শান্ত এবং বরফশীতল কণ্ঠ শোনালেন দলনেত্রীকে। ৭, রেসকোর্স রোডে সনিয়াজি যখন এলেন মনমোহন তাঁকে ঠান্ডা গলায় জানিয়ে দিলেন, “পরমাণু চুক্তির বয়ান বদল করতে হলে আমি এখনই পদত্যাগ করব। এটাই আমার অপরিবর্তনীয়  স্থির সিদ্ধান্ত”। এর পরই রীতিমতো হতবাক সনিয়া প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলেন, তাঁর কর্তৃত্ব কখনোই খর্ব হবে না। তিনি যা বলবেন সেটা অবশ্যই শেষ কথা।  রাতেই চূড়ান্ত হল চুক্তির বয়ান। বামেদের বিসর্জন দিয়েও স্পিকারকে পাশে নিয়ে মনমোহন যে চুক্তি করলেন তা দিল্লির মসনদকে ধাক্কা দিয়ে গেল। প্রণবকে সব বিষয়ে শেষ কথা বলার অধিকার দিলেও এই পরমাণু চুক্তির বিষয়ে তিনি পুরোপুরি অনমনীয়  থাকলেন। শেষে বার্তা চলে গেছে যখন বুশের দফতরে তখনও প্রণববাবুর কাছে কোনো বিস্তারিত বয়ান নেই। কিন্তু মনমোহনের সঙ্গে সম্পর্কের রসায়ন চমৎকার থাকায় প্রণববাবু নিষ্ঠ সহযোগীর দায়িত্বও চালিয়ে গেলেন। বামেদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার ক্ষোভ চেপে সরকার বাঁচাতে নতুন বন্ধু খুঁজতে নামলেন। বাম বিকল্প বাংলাতেই বেড়ে উঠছিল। সনিয়ার নয়া অবস্থান তীব্র বাম বিরোধিতা মমতাকে যে জলপাই পাতা দেখাল তার আসমানি আয়োজন আর জেমিনি জোটের ছবি আঁকা ছিল প্রণববাবুরই ক্যানভাসে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

কংগ্রেসের সব প্রধানমন্ত্রীই সংঘের সঙ্গ করেছেন, হঠাৎ প্রণবকে নিয়ে দু’ বছর আগে কেন প্রশ্ন উঠেছিল

Continue Reading

প্রবন্ধ

কংগ্রেসের সব প্রধানমন্ত্রীই সংঘের সঙ্গ করেছেন, হঠাৎ প্রণবকে নিয়ে দু’ বছর আগে কেন প্রশ্ন উঠেছিল

দু’ বছর আগে যাঁরা প্রণববাবুর ভুল ধরেছিলেন তাঁরা কিন্তু আরও অতীতে আরএসএসকে নিয়ে ছুঁৎমার্গের প্রসঙ্গ তোলেননি।

Published

on

Pranabbabu in RSS HQ
আরএসএস-এর অনুষ্ঠানে 'ব্যতিক্রমী' প্রণব মুখোপাধ্যায়।
দেবারুণ রায়

বছরদুয়েক আগে নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (Rastriya Swayamsevak Sangha, RSS) সদর দফতরে উপস্থিত হয়ে ওই সংগঠনের প্রশিক্ষণ শিবিরের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের (Pranab Mukhopadhyay) বক্তৃতা করার ঘটনা সারা দেশে আলোড়ন তুলেছিল। বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশে এই ধরনের আলোড়ন ও বিতর্ক অবশ্যই স্বাস্থ্যকর। ঢেউ ছাড়া সমুদ্র, স্রোত ছাড়া নদীর কথা কল্পনা করা যায় না। যে সমাজ-অর্থনীতি-রাজনীতিতে বিতর্ক নেই তা অবশ্যই প্রাণহীন। দিল্লির যমুনা বা কলকাতার আদিগঙ্গা যেমন বর্জ্য বহন করে করে মজে গিয়েছে, তেমন স্বৈরশাসক নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রে ও সমাজে জো-হুজুর সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত তো আছেই কিছু দেশে। কিন্তু ‘মন্বন্তরে মরিনি আমরা মারি নিয়ে ঘর করি’…। তাই গোটা দেশ যখন প্রণববাবুর ছবিতে টুপি পরিয়ে ওঁর ছবিকে ‘নমস্তে সদাবৎসলে…’ মুদ্রায় সাজিয়ে ফেসবুকবাজিতে ব্যস্ত ছিল তখন কিন্তু বাংলায় অল্পবিস্তর চর্চা চলছিল মতাদর্শ নিয়ে।

প্রথম দফায় বামপন্থীরা কিন্তু ততটা খড়গহস্ত ছিলেন না। তাঁরা শুধু বলেছিলেন, “নাগপুরের মঞ্চে প্রণববাবুর উপস্থিতিতে আরএসএসের উপকার হয়েছে।” অনেকটাই সংযত মন্তব্য। কিন্তু যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চোরাস্রোতে বারবার কংগ্রেসের নৌকাডুবি হয়েছে, সেই উপসর্গই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির অবস্থানের অপব্যাখ্যায় উৎসাহী হয়ে উঠেছিল। বাংলার ডুবন্ত নৌকা এই দুর্বিপাকের আবহে আরও টালমাটাল হয়েছিল। কারণ সারা দেশেই তীব্র মেরুকরণের প্রক্রিয়া। মেরুকরণ যত না ধর্মীয়, তার চেয়ে বেশি সাম্প্রদায়িক ও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক। এই মেরুকরণের মুখে কংগ্রেসের মতো মধ্যপন্থী দলের পক্ষে টিকে থাকার লড়াই ভয়ংকর কঠিন। একেবারেই অসম প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বাইরের প্রতিপক্ষকে তো চেনা যায়। কিন্তু ঘরশত্রু? বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে যারা তাদের অনুকরণ করতে চেয়েছে এবং ভূতের মুখে রামনাম শুনে মানুষ তাদের বর্জন করেছে সেই তারাই তখন উচ্চকিত প্রণববাবুর বিরুদ্ধে। যাঁর রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজনীতি নেহরুবাদী ধারায় সময়োচিত রূপ এবং জনসমর্থনের কষ্টিপাথরে যাচাই করার পাশাপাশি কংগ্রেসের মতাদর্শের মন্থন।

প্রথমত, প্রণববাবুর মেয়ে শর্মিষ্ঠাকে দিয়েই শুরু হয়েছিল বিতর্কের স্বস্তিবাচন। অবশ্য তাঁর মেয়ে হিসেবে এবং অন্যদের তুলনায় দলের প্রকৃত কনিষ্ঠ এক জন কর্মী হিসেবে শর্মিষ্ঠা যে আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছিলেন, তা তাঁর নিজস্ব অবস্থান হিসেবে মানতে সমস্যা নেই এবং কংগ্রেসি রাজনীতিতে প্রণববাবুর মতো ষাটটি প্রখর গ্রীষ্ম, বর্ষা বা বসন্ত উত্তীর্ণ প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রনায়কদের সিদ্ধান্তের ওপর তার ছায়া পড়েনি। পরে যখন তাঁর বাবার মাথায় কালো টুপি দিয়ে ডান হাত স্বয়ংসেবকের মতো ভাঁজ করে নবকলেবর তৈরি হল ফেসবুকে, তখন শর্মিষ্ঠা বললেন, তিনি এই ডার্টি ট্রিক্সের কথাই আগাম বলেছিলেন। তৎসত্ত্বেও ফেসবুকের ‘বেসলেস’ কথাকে প্রণব যদি গুরুত্বের অযোগ্য বলে মনে করে থাকেন, তা হলে তাঁকে দায়ী করা যায় না। আগে চিদম্বরম ও আহমেদ পটেল এবং পরে মণীশ তেওয়ারির মতো কেউ কেউ নাগপুরের ব্যাপারে অনেকটাই ছুঁৎমার্গ মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি কোনো জবাব দেননি। যা মনস্থ করেছিলেন সেটাই করে দেখিয়েছিলেন।

আরও দু’ জন প্রবীণ কংগ্রেসি একই বিষয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হন – সুশীল কুমার শিন্ডে এবং বীরভদ্র সিং। এঁরা আগাগোড়াই ভরসা রেখেছিলেন প্রণবের সিদ্ধান্ত এবং বক্তব্যের ওপর। কিছু দিন বিদেশ মন্ত্রকে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে সলমন খুরশিদও পরিমিত কথায় আস্থা জানিয়েছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির কাজের ওপর। সনিয়া বা রাহুল গান্ধী কিন্তু কিছু বলেননি। বলার কথাও নয়। তবু খবর লেখা হয়েছিল, প্রণবের ভুমিকায় সনিয়া ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে রাহুল যখন আরএসএসের বিরুদ্ধে অল আউট যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তখন কেন প্রণব নাগপুরে গেলেন। এমনকি কল্পনার ঘোড়সওয়ার হয়ে কেউ কেউ লাগাম ছেড়ে দিয়েছিলেন লেখনীর। লেখা হল, ‘অদূর ভবিষ্যতে বিজেপি সংসদে গরিষ্ঠতা না পেলে প্রণবের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করতে পারে। তারই জমি নাকি তৈরি হচ্ছে’। তার এক বছর পরেই লোকসভা নির্বাচন হল। ফল কী হল তা তো সকলেরই জানা।

তখন প্রণব মুখোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি, লালকৃষ্ণ আডবাণীর সঙ্গে।

অবশেষে আসরে এলেন আডবাণী (Lalkrishna Advani), যিনি জিন্না নিয়ে জট পাকিয়ে ফেলে মার্গদর্শক হওয়ার পর বিরল বিষয়ে মুখ খুলে প্রণবের তারিফ করলেন। রাজনীতির ক্ষুরধার যুক্তিবুদ্ধি ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা আডবাণী জীবনে একটিও উদ্দেশ্যবিহীন কথা বলেননি। এমন কিছু বলেননি বা করেননি যা নিয়ে পরে ‘বলিনি’ বা ‘করিনি’ বলে রিজয়েন্ডার (প্রতিবাদ) দিতে হয়েছে। এমন এক জন মানুষ, যিনি নব্বই বছর বয়সেও প্রখর মস্তিষ্ক নিয়ে রাজনীতির অনুধ্যান করেন। সু-সংলগ্ন থাকেন আজীবন-লালিত মতাদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থানে। জাতীয় জীবনের বহু বিতর্কে ইদানীং মৌন থাকলেও নাগপুরের গুরুগৃহে প্রণবের উপস্থিতি নিয়ে একটি দ্ব্যর্থহীন বিবৃতি দিয়েছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরেই দলের রাজনীতিতে আডবাণীর মতামতের কোনো মূল্য নেই। নীতিনির্ধারক কোনো কমিটির তিনি সদস্যও নন। কিন্তু প্রণব মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে তাঁর বিবৃতিটি দলের মিডিয়া সেলই প্রচার করেছিল। বিবৃতিতে প্রণববাবুকে রাষ্ট্রনায়ক বলার পাশাপাশি তাঁকে ও মোহন ভাগবতকে দুই ‘জাতীয় নেতা’ উল্লেখ করে নাগপুরের প্রশিক্ষণ শিবিরে তাঁদের ভাষণকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন আডবাণী। বোঝা যায়, সরসংঘচালক ভাগবত যেখানে থেমেছেন সেই বিন্দু থেকেই শুরু করেছিলেন সংঘ পরিবারের সব চেয়ে সফল সংগঠক এই নবতিপর নেতা। অতীতে বারবারই তিনি বিরোধী বেঞ্চ থেকে ট্রেজারি বেঞ্চের প্রথম সারিতে বসা প্রণববাবুর সদর্থক মূল্যায়ন করেছেন। কখনও শাসকদল কংগ্রেসকে তীক্ষ্ণ তিরে বিদ্ধ করে বলেছেন, “ওঁদের মধ্যে শুধু প্রণব জানেন।” আক্রমণ সুগারকোটেড বুঝেও প্রণববাবু কুশলী ঔদার্যের আবরণে নির্বিকার থেকেছেন। আডবাণীর তির তাঁর বর্ম ভেদ করতে পারেনি।

ইউপিএ সরকারের বরিষ্ঠ মন্ত্রী, মনমোহন মন্ত্রিসভার নম্বর টু ও লোকসভার নেতা হিসেবে প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রতিরক্ষা, বিদেশ ও অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্বে থেকেছেন একের পর এক। সাউথ ব্লকের দু’টি মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানোর পর রাজপথ পেরিয়ে পৌঁছেছেন মুখোমুখি নর্থ ব্লকে। এবং সাউথ ব্লকের বিজয় চক ঘেঁষা কোণের ঘরে (প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দফতর) বেশ কিছু দিন কাটালেও রাষ্ট্রপতি ভবন ঘেঁষা কোণের ঘরের মূল কক্ষে (প্রধানমন্ত্রীর চেম্বার) তাঁর বসা হয়নি হাইকমান্ড অর্থাৎ গান্ধী পরিবারের বিশেষ সিদ্ধান্তে। কিন্তু কংগ্রেসের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গুরুত্বের আসনেই থেকেছেন। কেন্দ্রের মন্ত্রী থাকাকালীনই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছেন। লোকসভার নেতাই প্রধানমন্ত্রী হয়ে থাকেন। কিন্তু মনমোহন রাজ্যসভা থেকে এসেছিলেন বলে তাঁকে লোকসভার নেতা করা যায়নি। এ ক্ষেত্রে মনমোহনকে লোকসভায় জিতিয়ে আনার তাড়নাও অনুভব করেননি সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। কারণ তিনি জানতেন লোকসভার নেতার পদে আছেন দলের সব চেয়ে যোগ্য নেতা ও দক্ষ প্রশাসক, যিনি তাঁর শাশুড়ি ইন্দিরার মন্ত্রিসভারও নম্বর টু ছিলেন এবং ইউপিএ সরকারে ওই জমানার একমাত্র মন্ত্রী।

কেন্দ্রের অর্থসচিব ও রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর-সহ বিভিন্ন দায়িত্বে থাকাকালীন ড. মনমোহন সিং (Dr. Manmohan Singh) ইন্দিরা সরকারের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ‘স্যর’-ই সম্বোধন করতেন। এই পুরোনো অভ্যাসটি মনমোহন বরাবর বজায় রেখে গিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও। প্রণব আগাগোড়াই তাঁকে ‘ডক্টর-সাব’ বলে এসেছেন। ইউপিএ জমানাতেও তা-ই বলেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার নাম্বার টু-কে ‘স্যর’ বলে সম্বোধন করছেন, এটা শেষ পর্যন্ত মানতে নারাজ ছিলেন প্রণব। এক দিন সংসদের দফতরে বলেই বসলেন, ডক্টর সাব, আপনি এখন প্রধানমন্ত্রী। পদমর্যাদার খাতিরে অন্তত এই সম্বোধনটা বদলান। বাধ্য অগ্রজ অনেকটাই অপ্রস্তুত। তার পর থেকে সনিয়া গান্ধীর মতো তাঁকে ‘প্রণবজি’ ডাকা শুরু করেন।

প্রণব মুখোপাধ্যায় ও মনমোহন সিং।

ইউপিএ-র দু’টি পর্বেই মনমোহন যথেষ্ট সফল ভাবেই সরকারের এবং দেশের নেতা হয়েছিলেন। কখনও রাজনৈতিক নেতা বা দলনেতা না হয়েও সেটা সম্ভব হয়েছিল এক দিকে দলনেত্রীর সমর্থন ও অন্য দিকে প্রণববাবুর মতো নির্ভরযোগ্য নাম্বার টু-র একনিষ্ঠ সহযোগিতার ফলেই। না হলে পরমাণু চুক্তি নিয়ে বামেদের তোলা বিতর্কের চৌকাঠেই মুখ থুবড়ে পড়ত সরকার। লাগাতার দশ বছরের সরকারে প্রথমে বাম ও পরে তৃণমূলের মতো দু’টি বিপরীতমুখী প্রবাহের সঙ্গে পা মিলিয়ে চলার সুকঠিন কাজটি অনায়াসে করেছেন প্রণববাবু।

প্রথম এনডিএ জমানায় গঙ্গা-যমুনার পাড়ে তো বটেই, এমনকি এক দিকে বিপাশা থেকে ঝিলম আর অন্য দিকে নর্মদা-কৃষ্ণা-কাবেরী-গোদাবরীর তীর পর্যন্ত ছড়িয়েছিল প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর (Atal Behari Vajpayee) জনপ্রিয়তা। তাঁর গ্রহণযোগ্যতা সংঘ পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে স্পর্শ করেছিল করুণানিধি, জয়ললিতা, চন্দ্রবাবু, এমনকি ফারুক আবদুল্লাকেও। বাজপেয়ী-লাইনে এসেই বিজেপি তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে কোয়ালিশনের রাস্তা ধরেছিল। সেই রাস্তায় হেঁটেই ছ’ বছর সাউথ ব্লকে ছিলেন অটলবিহারী। বিগত শতকের শেষ দু’ বছর থেকে নতুন সহস্রাব্দের প্রথম চার বছর কংগ্রেস মগ্ন ছিল মন্থনে। সদ্য নেতৃত্বে এসেই সনিয়া পুরোনো ভাবনাচিন্তা সরিয়ে রেখে ধাপে ধাপে আত্মসমীক্ষা করা শুরু করেন। দলের প্রাচীন প্রহরীদের সবাইকেই সঙ্গে নিয়ে চলার প্রক্রিয়ায় প্রণবের পরামর্শকে বিশেষ স্থান দেন। রাজনৈতিক সচিব হিসেবে আহমেদ পটেল আসার পর প্রণববাবুর সঙ্গে সমন্বয় আরও পোক্ত হয়।

কংগ্রেসের ভেতরে বাইরে দু’টি সমান্তরাল স্রোতের উৎস থেকে উৎসারিত অ্যাজেন্ডাকে অবলম্বন করে এগোতে থাকে ইউপিএ। কংগ্রেসের ভেতরের উৎসে ছিলেন অবশ্যই প্রণব। বাজপেয়ীর কোয়ালিশনের তত্ত্ব, বিশেষ করে বড়ো দলের হাতে নেতৃত্ব ধরে রাখার বিষয় ও রাজনীতির রসায়নে সরকারের স্থিতিশীলতা সুনিশ্চিত করার কৌশল পছন্দ ছিল প্রণববাবুর মতো বেশ কিছু কংগ্রেসি নেতার। সেই সঙ্গে প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর কেন্দ্রে একদলীয় সরকার চালানোর পর কংগ্রেস সমান্তরাল ধারার প্রভাবে জারিত হয়ে কোয়ালিশন ধর্ম গ্রহণ করল। নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এ ভাবে নানা মোড় থেকেই নিত্যনতুন আহরণে সমৃদ্ধ হয়েছিল প্রণববাবুর। উপকৃত হয়েছিল তাঁর দল ও দলের রাজনীতি। পেছনে পড়ে থেকেছে আশির দশকের শেষ ভাগের রাজনৈতিক হারাকিরি।

দু’ বছর আগে যাঁরা প্রণববাবুর ভুল ধরেছিলেন তাঁরা কিন্তু আরও অতীতে আরএসএসকে নিয়ে ছুঁৎমার্গের প্রসঙ্গ তোলেননি। ইন্দিরা জমানার কথা ছেড়ে দিলেও তার পরবর্তী সময়েও সংঘের সঙ্গে যোগাযোগ যথেষ্টই ছিল সরকারের উচ্চতম স্তরের। ভাওরাও দেওরসের সঙ্গে খোদ প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীই যোগাযোগ রেখে চলতেন। ইন্দিরার মৃত্যুর পর ৪১০টি আসন নিয়ে রাজীব যখন কেন্দ্রে সরকার গড়লেন তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ স্মরণ করলেই বোঝা যাবে কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী ও সভাপতির সর্বময় কর্তৃত্বের আসনে বসে তিনি কী কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই নয়া জমানায় প্রণব মুখোপাধ্যায় বা গনিখান চৌধুরীদের মতো ইন্দিরা-অনুগতরা ছিলেন কোণঠাসা। শেষ পর্যন্ত প্রণববাবুকে বহিষ্কৃতও হতে হয়েছিল দল থেকে। যদিও রাজীব জমানাতেই প্রণববাবুর কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই অযোধ্যার বিতর্কিত ইমারতের তালা খোলা ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উদ্যোগে রামমন্দিরের শিলান্যাসে সরকারের অনুমোদনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। শিলান্যাসস্থলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুটা সিংকে হাজির রাখা হয়েছিল কংগ্রেস ও তার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারকে ‘রামভক্ত’ প্রমাণ করতে। হিন্দি বলয়ের নবদিগন্তে সেই প্রথম সংঘের নেতৃত্বে বিজেপির সংগঠনের বিস্তার শুরু। আডবাণীর সিউডো-সেকুলারিজম বা ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষতার তত্ত্ব কংগ্রেসকে বেকায়দায় ফেলছে। সে সময়েই শিলান্যাস নিয়ে দলের ভেতরে আলোড়ন সৃষ্টি হল। বফর্স আর ফেয়ারফ্যাক্স নিয়ে তার আগে থেকেই কালো মেঘের ঘনঘটা ছিল কংগ্রেসের আকাশে। ৪১০-এর সরকার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ’৮৯-এর নির্বাচনে। কংগ্রেসের বিদ্রোহী বিশ্বনাথপ্রতাপ প্রধানমন্ত্রী হলেন বিচিত্র সমীকরণে। সরকারের দু’টি স্তম্ভের একটি ছিল বিজেপি ও অন্যটি বামেরা। রামরথযাত্রা কার্যকর করে বিজেপি প্রত্যাহার করল সরকারকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত। এবং সেই সরকার ফেলতে রাজীব কিন্তু বিজেপিকে অচ্ছুৎ মনে করেননি।

Continue Reading
Advertisement
bangladesh foreign minister
বাংলাদেশ1 hour ago

সৌদিতে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিতে বাংলাদেশকে চাপ

ক্রিকেট1 hour ago

বুমরাহ-বোল্টের দাপটে বিধ্বস্ত কেকেআর, লজ্জার হার দিয়ে আইপিএল যাত্রা শুরু

দেশ3 hours ago

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক মজবুত গাঁথুনির উপরে দাঁড়িয়ে, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান

রাজ্য5 hours ago

দৈনিক সংক্রমণ, মৃতের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত, সার্বিক ভাবে আশাপ্রদ রাজ্যের করোনা-পরিস্থিতি

কলকাতা5 hours ago

কলকাতার সিংহভাগ অভিভাবক চাইছেন না এখনই স্কুল খুলুক: অনলাইন সমীক্ষা

Currency
রাজ্য6 hours ago

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে ফের সময়সীমা বেঁধে দিল স্যাট

LPG
দেশ7 hours ago

বিনামূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার খুঁজছেন? মাত্র এক সপ্তাহ বাকি! প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় কী ভাবে পাবেন, জেনে নিন

দঃ ২৪ পরগনা7 hours ago

সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ রোপণে এ বার পরিবেশ-বান্ধব ‘জিও-জুট’ পদ্ধতি

কেনাকাটা

কেনাকাটা1 day ago

মহিলাদের পোশাকের পুজোর ১০টি কালেকশন, দাম ৮০০ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পুজো তো এসে গেল। অন্যান্য বছরের মতো না হলেও পুজো তো পুজোই। তাই কিছু হলেও তো নতুন...

কেনাকাটা4 days ago

সংসারের খুঁটিনাটি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এই জিনিসগুলির তুলনা নেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিজের ও ঘরের প্রয়োজনে এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি না থাকলে প্রতি দিনের জীবনে বেশ কিছু সমস্যার...

কেনাকাটা1 week ago

ঘরের জায়গা বাঁচাতে চান? এই জিনিসগুলি খুবই কাজে লাগবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ঘরের মধ্যে অল্প জায়গায় সব জিনিস অগোছালো হয়ে থাকে। এই নিয়ে বারে বারেই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া লেগে...

কেনাকাটা2 weeks ago

রান্নাঘরের জনপ্রিয় কয়েকটি জরুরি সামগ্রী, আপনার কাছেও আছে তো?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরের এমন কিছু সামগ্রী আছে যেগুলি থাকলে কাজ করাও যেমন সহজ হয়ে যায়, তেমন সময়ও অনেক কম খরচ...

কেনাকাটা2 weeks ago

ওজন কমাতে ও রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়াতে গ্রিন টি

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ওজন কমাতে, ত্বকের জেল্লা বাড়াতে ও করোনা আবহে যেটি সব থেকে বেশি দরকার সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা...

কেনাকাটা2 weeks ago

ইউটিউব চ্যানেল করবেন? এই ৮টি সামগ্রী খুবই কাজের

বহু মানুষকে স্বাবলম্বী করতে ইউটিউব খুব বড়ো একটি প্ল্যাটফর্ম।

কেনাকাটা4 weeks ago

ঘর সাজানোর ও ব্যবহারের জন্য সেরামিকের ১৯টি দারুণ আইটেম, দাম সাধ্যের মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘর সাজাতে কার না ভালো লাগে। কিন্তু তার জন্য বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এ দোকান সে দোকান ঘুরে উপযুক্ত...

কেনাকাটা1 month ago

শোওয়ার ঘরকে আরও আরামদায়ক করবে এই ৮টি সামগ্রী

খবর অনলাইন ডেস্ক : সারা দিনের কাজের পরে ঘুমের জায়গাটা পরিপাটি হলে সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। সুন্দর মনোরম পরিবেশে...

kitchen kitchen
কেনাকাটা1 month ago

রান্নাঘরের এই ৮টি জিনিস কাজ অনেক সহজ করে দেবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজকাল রান্নাঘরের প্রত্যেকটি কাজ সহজ করার জন্য অনেক উন্নত ব্যবস্থা এসে গিয়েছে। তা হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কষ্ট...

care care
কেনাকাটা1 month ago

চুল ও ত্বকের বিশেষ যত্নের জন্য ১০০০ টাকার মধ্যে এই জিনিসগুলি ঘরে রাখা খুবই ভালো

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পার্লার গিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার সময় অনেকেরই নেই। সেই ক্ষেত্রে বাড়িতে ঘরোয়া পদ্ধতি অনেকেই অবলম্বন করেন। বাড়িতে...

নজরে