modi washing feet of dalit woman
দলিত মহিলার পা ধুইয়ে দিচ্ছেন মোদী।
দেবারুণ রায়

ভারতীয়ত্বে কিছুতেই স্বচ্ছন্দ হতে চায় না সংঘ পরিবার। পদ্মফুলে মধু থাকলে কি অন‍্য ফুলে থাকতে নেই? এটা কম্পোজিট কালচারের দেশ। খুড়োর কল আর চাচার কবজায় কোনো ঝগড়া নেই। দুয়ে মিলে পোক্ত কলকবজা। কিন্তু তাতে ঘোর আপত্তি। ধর্মে, মর্মে, কর্মে চাই মেরুকরণ। মসনদি মোড় চাই প্রতি চৌরাস্তায়। হিন্দু আর হিন্দি আগে, পরে হিন্দুস্তান।

বরাতজোরে বাঙালির মুখের ভাষা আর মনের আখর আলাদা নয়। ভাষা তার মায়ের মুখের প্রথম ধ্বনি, প্রিয়ার প্রথম প্রেমের চিঠি, শিশুর প্রথম বর্ণমালা। চেতনার ভাষা রবীন্দ্রনাথ, বিবেকের ভাষা বিবেকানন্দ। আরও আগে ঈশ্বরের হাতে হাতেখড়ি। বাঙালির ঈশ্বর, গর্বের অক্ষর বিদ‍্যাসাগর। বন্দেমাতরমে কিংবা জনগণমনে বাংলা ছাড়া আছে কে? এতে কোনো প্রাদেশিক কলুষতা নেই, আছে অবজ্ঞাত জাতির আর্তনাদ। বেদাহ মেতং পুরুষং মহান্তং/ আদিত‍্য বর্ণং তমসোপরাস্তাৎ। সুতরাং পথ দেখিয়ে এসেছে যে সেকাল থেকে একাল পর্যন্ত, নবজাগরণে যার সিদ্ধি, তাকে বেনোজল পান করাবে সাধ‍্যকার? অমৃতের সন্ধানী আরও কত অগ্রদূত বন্দিত সারা বিশ্বে। বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েও অরবিন্দ কি বঙ্গোপসাগরের লাইটহাউস নন? সর্বোপরি বাংলা রামে নেই। রামমোহনে, রামকৃষ্ণে আছে তো দু’ শতক। থাকবে আরও অনন্তকাল। জ্ঞান বা চৈতন্য কি বিজ্ঞান ছাড়া হয়? সেখানেও বাংলার আচার্য জগদীশচন্দ্র, সত‍্যেন্দ্রনাথ, মেঘনাদ। বাংলার বিভা ছড়িয়ে রয়েছে আরও কত আলোকস্তম্ভে, আলোকমালায়। ওই নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়…! তাই জয়ধ্বনি করার আগে একটু ভাবতে হবে বই-কি?

আরও পড়ুন রবিবারের পড়া: ‘বাপুরে বাপুর দোহাই’, মার্কেটিংয়ে মোদী, রাগাচ্ছেন রাগা

ভাবনা যখন ভোটম তখন গণতন্ত্রের পরমোৎসবে পা মেলাবে, অবচেতনে, অবদমনে ও চেতনার রঙ মিলিয়ে নেবে মনের মানুষের সঙ্গে। কত রঙ্গে ভরা বঙ্গদেশ কিন্তু রণে ভঙ্গ দিতে রাজি নয়। মিরজাফর- উমিচাঁদ-জগৎশেঠরা আছে। কিন্তু পলাশির প্রান্তরে সর্বস্বান্ত নবাবই বাংলার ট্র‍্যাজিক নায়ক। তাই বুলবুলিতে বারবার ধান খেলেও বাংলা দিনরাত জেগে থাকে পাহারায়, আর বর্গি বিদায়ের বিদ‍্যে শিখে নেয়। ভয়কে জয় করতে করতেই বাঙালির জয়যাত্রা। পরাধীনতার বহ্ন‍্যুৎসবে নানা স্রোতে নানা মতে বাংলা। ক্ষুদিরাম, সূর্য সেন, বি-বা-দী, সুভাষ। একই বৃন্তে দু’টি কুসুম ঝরে যায়নি শত দুরন্ত ঝড়ে। নোয়াখালি থেকে কলকাতা। ভাঙা দেশ, ভাঙা মন, ভাঙা ভবিষ্যৎ। তবু ভাষা আর আশা ভঙ্গ নয়। ভোটে সর্বহারা নয়, সর্বজয়া বঙ্গজননী। বাংলার বাণী শত ফুলে-পল্লবে সুশোভিত সহস্রধারায়। গান্ধী-সুভাষ থেকে আপস-বিপ্লব কিংবা অহিংসা-সহিংসার পথে। বিতর্ক সংঘাত সংগ্রাম চলেছে লাগাতার। তীব্র মেরুকরণ, কিন্তু এক মেরুতেই হিন্দু, মুসলমান। বাংলা দিয়েছে মহাত্মা নাম এবং মহাত্মার সঙ্গে মতভেদেও অগ্রণী বঙ্গভূমি। কিন্ত বাংলার গর্ব, এই সুজলা সুফলা শস্যশ‍্যামলা বিপ্লবী মাটি জন্ম দেয়নি গডসের।

গান্ধী খুনের বছর উনিশশো আটচল্লিশেই নিষিদ্ধ হয়েছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি। মতাদর্শের তীব্র বিরোধ গান্ধীজি ও তাঁর পার্টির সঙ্গে। কিন্তু ভিন্ন পথের পথিক হলেই তাকে সরিয়ে দিতে হবে পৃথিবী থেকে! সদ‍্যোজাত একটা দেশের বয়স পাঁচ মাস হতে না হতেই তার অন‍্যতম স্রষ্টার বুকে গুলি? কারও সঙ্গে মতাদর্শের অমিল থাকলে এবং তিনি রাষ্ট্রপিতা হলেও তাঁর মৃত্যুদণ্ড হবে? এই রাজনীতি ও জল্লাদ সংস্কৃতির প্রমাণিত পূজারি নাথুরাম যে হিন্দুত্ববাদী ছিল তা ঐতিহাসিক সত্য।

আরও পড়ুন রবিবারের পড়া: আয়ারামের প্রবেশ, গয়ারামের প্রস্থান, ব্যাটেবলে বিজেপির সঙ্গে

ফিরে আসি ভারতীয় না হিন্দু, ভারতীয়ত্ব না হিন্দুত্ব সেই নেতির ইতিহাসে। বড়ো বিস্ময় জাগে। কোন গুণে হেডগেওয়ার, গোলওয়ালকাররা রবীন্দ্রনাথ বিবেকানন্দ বা অরবিন্দের ওপরে? সাভারকার আর জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্বের পালকি চড়ে জার্মান জাতির শ্রেষ্ঠত্বের স্টাইলে ‘বাঞ্চ অফ থটস’ লেখেননি বলে? যার মোদ্দা মতবাদ অ-হিন্দুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করা থেকে শুরু করে হিটলারি মুলুকের ইহুদি বানানো। হিন্দু ধর্মের সহিষ্ণুতাকে গুলিয়ে দিতে কাঁঠালের আমসত্ত্ব করে হিন্দুর সঙ্গে একটা ‘ত্ব’ লাগিয়ে দেওয়া। আর তার সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পোদ‍্যোগের কবর খুঁড়তে বেসরকারি মালিকের মনসবদারি। একাত্ম মানবতার নামে। একটা বিকল্প চিন্তার অর্থনৈতিকতা বলে না হয় ধরা গেল। এবং উদার মনমোহনের নেতৃত্বে কংগ্রেস কেন কেঁচে গণ্ডুষ করল? নেহরুকে ছেড়ে পটেল-পুজোয় বেসরকারি জায়গিরের মোচ্ছবে? অযোধ্যায় ঐতিহাসিক মসজিদে বসানো ‘আস্থা’র রামলালার দরজা খুলে পুজোআচ্চার দেখনাই করলেন যিনি, তিনি নেহরুর নাতি হয়ে পন্থের পোতা বনলেন কার বুদ্ধিতে? পন্থের হাতে রাজনীতির রাম আর বিতর্কিত ইমারত নিয়ে জলঘোলা শুরু অযোধ্যায়। ক্ষিপ্ত নেহরু মন্ত্রিসভা ডেকে আপত্তি করেছিলেন এবং লিখেছিলেন কড়া চিঠি। কিন্তু ধর্মের টোটকায় তুষ্ট হন ভোটের ভগবান। তাই আধুনিক কল‍্যাণরাষ্ট্রের নেহরুবাদী তত্ত্ব কোণঠাসা হয় পন্থের পন্থায়। তিন যুগ পরে নেহরুর নাতি রামনাম নিয়ে ভূত তাড়াতে গিয়ে বোতলবন্দি দৈত্যের ছিপি খুলে শিলান‍্যাসে সায় দিয়ে বিজেপির কল‍্যাণ করেন। কল‍্যাণ হন মুখ‍্যমন্ত্রী। তার পর লম্বা রেসের ঘোড়া রাজীব আততায়ীর শিকার হন। তাঁর আত্মোৎসর্গের দরুণই পাঁচ বছরের জন্য বিজেপির বাড়া ভাতে ছাই পড়ে। যদিও তাঁর সময়ের ভুল রাজনীতি আর ’৯১-তে ভুল অর্থনীতি উত্তর ভারতে কংগ্রেসের পাততাড়ি গুটিয়ে দেয়। এই দ্বিমুখী পদক্ষেপ বিজেপিকে মসনদে রেখে দেয় ছ’ বছর। কেন্দ্রে কংগ্রেসের বিকল্প বনে যায় বিজেপি। এর পর সনিয়ার নেতৃত্বে ক্ষমতা ফিরে পায় কংগ্রেস বাম হাত ধরে। এক দিকে নীতি ও কর্মসূচিতে বাঁয়ে মোড় ও অন্য দিকে সংস্কারের মানবিক মুখ‍, ইন্দিরা জমানার যোগসূত্র প্রণববাবুর অভিভাবকত্বে। শক্তিশালী রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির দিশারী প্রণবকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়নি। পরিবারতন্ত্রের জমি সুরক্ষিত রাখতে অরাজনৈতিক মনমোহনে আস্থাই ছিল কারণ। দলনেত্রী ও মতাদর্শের প্রতি আনুগত্য সর্বোচ্চ হলেও ধারে ও ভারে প্রণব ছিলেন দূরের নক্ষত্র। তাঁর অসি ও মসিচালনা সরকারের প্রতিরোধক্ষমতা এমন জায়গায় নিয়ে যায় যে বাম হাত সরে গেলেও শূন্য হাতে ফেরে রাম ২০০৯-এর সন্ধিকালে। গরিষ্ঠতা হারানোর কংগ্রেসি আতঙ্ক ঘাড়ে চাপে বামদের। আর রামকে আরও পাঁচ বছর থাকতে হয় মাঠের বাইরে। অন‍্য দিকে বাংলার মাঠঘাট ছেয়ে যায় ঘাসফুলে। ’১১ থেকে ’১৯-এ পৌঁছে দেখা যায় কাস্তে হাতে। কাস্তেতে দাও শানরে, বললেই বা দিচ্ছে কে?

premchandran and debarajan
কেরলে কংগ্রেসের সঙ্গে আরএসপির প্রেমচন্দ্রন এবং ফবর দেবরাজন।

তবে মসনদি মোদীর মাহাত্ম্য এমনই যে কট্টর কারাটের মুখেও সমদূরত্বের বাঁশি নেই। মুখে হুইসল নিয়ে দৌড়োচ্ছেন রেফারি। কিন্তু বাঁশি বাজছে না। আরএসপি আর ফব সাইডলাইনে বসে খেলা দেখছিল আর বাহবা দিচ্ছিল লেফটআউট কারাটকে। কিন্তু তিনি স্ট্রাইকার ইয়েচুরির পায়ে বল দিচ্ছেন না কিছুতেই। আর কারাট দেখেন, আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লক সাইডলাইনে সরতে সরতে একেবারে এলডিএফের গোলমুখে। সিপিএম সিপিআই গোল খেলে আরএসপির প্রেমচন্দ্রনের পাশে ফবর দেবরাজনও এন্ট্রি পাবেন ইউডিএফে, মানে কংগ্রেসের মোর্চায়। আরএসপি থেকেই ফব-তে আসেন বাংলার জামাই দেবরাজ। তাই প্রেমচন্দ্রের সূত্র মেনে কংগ্রেসের সঙ্গে প্রেমে দোষ কী? আরএসপিতে ননী-মাখনের নির্ভেজাল দিনকাল আর ঢাকুদার (ত্রিদিব চৌধুরী) ন্যায়দণ্ড মূর্শিদাবাদের শান-মান মানদণ্ড‌ অতীতের স্মৃতি। ফবর অশোকস্তম্ভ বিগত, বিত্তহীন চিত্তহীন। অবশেষে শরশয‍্যায় দেবব্রত। বাম শুধু বঙ্গরঙ্গে লুপ্তপ্রায় প্রজাতির মতো টিকে আছে। বহরমপুরে পদ্মাসনে, কোল্লমে হাতেনাতে। সমদূরত্বের অমোঘ প্রমাণ। সিঙুরের রামধনু জোটে নন্দীগ্রামে বিপ্লবের ক্ষিতি-স্মৃতি আরএসপির সততই সুখের। অন‍্যায় যে করে আর অন‍্যায় যে সহে /তব ঘৃণা তারে যেন ‘তৃণ’ সমদহে। বঙ্গে গঙ্গে বহু জল গড়িয়ে গেছে। ডায়মন্ড হারবারের মোহানা জানে, এখন সারা দিন সারা রাত জোয়ার চলে। ভাটির টান আর কই। ডাইমিন হাবরায় গঙ্গার যেন কুল নাই সীমা নাই অথৈ দইরার পানি।/ দিবসে নিশীথে ডাকে দিয়া হাতছানি রে/অকূল দরিয়ার বুঝি কূল নাইরে/ আমায় ডুবাইলি রে…।

modi in waist deep water
এক কোমর জলে মোদী। ছবি সৌজন্যে নিউজ১৮ডটকম।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী বারাণসী আর প্রয়াগে নমামি গঙ্গে করেছেন। প্রকল্প নয়, প্রণতি। রাজকোটের আশ্রয় ছেড়ে যখন কাশী এলেন উত্তর প্রদেশের ভূমিপুত্র নয়, দত্তকপুত্র হয়ে, তখন থেকে তিনি ভার্চুয়াল গঙ্গাপুত্র। সুতরাং স্যুটবুট-সহ নদীতে প্রায় বুক জলে। একেবারেই গলা জলে নয়। তার পর অন্য বেশে প্রয়াগ মানে ইলাহাবাদে। তার পর দলিত রমণীর পা ধোয়ানো। মধ্যে একটা কর্মসংস্থানের ঘোষণার পর নীরবে কয়েক ঘণ্টা। এর পর যে খবর এল তাতে প্রশ্ন জাগল, তা হলে ও সবের দরকার ছিল কি আদৌ? খবরটা ছিল বালাকোটে বায়ুসেনার স্ট্রাইক। জঙ্গিনিধনের বিতর্ক যা-ই হোক, ইস‍্যুটা তো ঘুরে গেল। প্রধানমন্ত্রী এ দেশে সর্বশক্তিমান। ঈশ্বরেরও আগে না হন, কাছাকাছি। সুতরাং তিনি আমার, আপনার, রাহুল গান্ধীর অ্যাজেন্ডায় খামোখা ভোট চাইতে যাবেন কেন? তিনি ভোটে যাবেন ও সবাইকে নিয়ে যাবেন নিজের ইস‍্যুতে। প্রথম পর্বে জিত। কিন্তু ক’ দিন যেতে না যেতেই ফের বিশ বাঁও জলে। তখনই মহাকাশে এ-স‍্যাট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া।

মোদীর জায়গায় এক বার নিজেকে বসিয়ে ভাবুন। তিনি ভারতেশ্বর। ১৩০ কোটির দেশের ফার্স্ট পারসন। উত্তমপুরুষ। সজ্ঞানে বলছি। রাষ্ট্রপতি প্রথম নাগরিক‌। ফার্স্ট সিটিজেন‌। এখন এই খোদার চেয়ে উনিশ-বিশ আসনে যিনি পাঁচ বছর আছেন, তিনি কি হিরো থেকে জিরো হতে চাইবেন? সামান্য একটা পাড়ার পুজো কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি হওয়ার জন্য যে দেশে লোকে বছর বছর কামড়াকামড়ি করে সেখানে প্রধানমন্ত্রিত্ব! তাই দেশপ্রেমের গঙ্গায় তুফান উঠেছে। কিন্তু মসনদি নদি যে গঙ্গামাইয়া নন। যমনাজি। তাই সারে জঁহা সে অচ্ছা, হিন্দোস্তাঁ হমারা /হম বুলবুলেঁ হ‍্যাঁয় ইসকি/ ইয়ে গুলিস্তাঁ হমারা, এবং ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি’র মধ্যে কথায় সুরে বিভাজন নেই। সুর-অসুরেই বা কোথায় মে্রুকরণ? এখানেই তো সংবিধান। স্বাধীনতা আন্দোলনের নানা রঙের শাখাপ্রশাখার মন্থন থেকে উঠে আসা হিন্দুস্তানি তহজিব। সংস্কার। যার মিলনোৎসব প্রয়াগে। ইলাহাবাদ না বললেও প্রয়াগ তো সঙ্গমতীর্থই। যাকে বলে গঙ্গাযমনি তহজিব। পূণ্যতোয়া সরস্বতীতেও সমস‍্যা নেই। কিন্তু সে ধারা তো শুকিয়ে গেছে। এই নিয়ে কেন শোরগোল, জলঘোলা? যা ছিল তা গেল বয়ে যা নেই তার খোঁজে…? সুতরাং ইকবাল নয়, রবিঠাকুর, রবিঠাকুর নয়, বঙ্কিম, সারে জঁহাসে নয় জনগণমন, এবং জনগণমন নয় বন্দেমাতরম। শুধু তা-ও নয়। একদমে ত্বংহি দুর্গা…পর্যন্ত চাই।

গর্বসে কহো হম হিন্দু হ‍্যায়। বাদ বাকি স্বামীজিকে মুছে দাও গঙ্গাজল দিয়ে। সিলেকটিভ নরেন্দ্রভক্ত। কিন্তু উনি নরেন্দ্রনাথ দত্ত। সিমলেপাড়ার বিলে থেকে বিশ্বপরিব্রাজক সন্ন্যাসী। যাঁর ৩৯ বছরের জীবনের নির্যাস বিবেকানন্দ। ভারতাত্মা হিমালয়। যার আদি আছে অন্ত নেই। গোমাতার চেয়ে, জন্মদাত্রী ও দেশমাতৃকার স্থান তাঁর কাছে অনেক উঁচু। গগনচুম্বী। অন্ধের হস্তী দর্শনের মতো বিবেকানন্দের বিচার করলে মেরু আর গোরুতেই গুলিয়ে যাবে বিবেক আর বৈরাগ‍্যের রঙ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here