Connect with us

প্রবন্ধ

ঐতিহ্যবাহী বঙ্গের প্রাচীন জগন্নাথ মন্দির, স্নান পূর্ণিমাতিথি

Published

on

শুভদীপ রায় চৌধুরী

বঙ্গদেশের আভিজাত্য ও ঐতিহ্য আজও যে অটুট, উৎসব-মুখরতাই তার প্রমাণ। কলকাতা-সহ বঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে আজও বিভিন্ন পুজোপার্বণকে কেন্দ্র করে মেতে ওঠেন আপামর বাঙালিসমাজ। দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে জগদ্ধাত্রী, কালীপুজো থেকে শুরু করে রাসযাত্রা – আজও সমান অব্যাহত এই বঙ্গে। আজ স্নানযাত্রার পুণ্যতিথি, এই তিথিতেই কলকাতার কালীঘাটে মায়ের সতী-অংশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এক টুকরো পট্টবস্ত্রের ওপর। আবার আজকের দিনেই রানি রাসমণি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী কালীমন্দির।

স্নানযাত্রা তিথিতে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ধুমধাম করে উৎসব পালিত হয়। এই উৎসবে বঙ্গদেশও পিছিয়ে নেই। এখানকার বিভিন্ন প্রাচীন জগন্নাথমন্দিরে নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয় স্নানযাত্রা, ভক্তদের ভিড় হয় দেখার মতন। বঙ্গের প্রাচীন কিছু জগন্নাথমন্দিরের ইতিহাস ও রীতিনীতিই তুলে ধরা হচ্ছে এই লেখায়।

Loading videos...

শ্রীরামপুরের মাহেশের জগন্নাথ মন্দির

প্রাচীনত্বের দিক থেকে পুরীর জগন্নাথধামের পরেই মাহেশের স্থান। বঙ্গের সব থেকে প্রাচীনতম রথযাত্রা এই মাহেশর রথ। বহু ভক্তের কাছে এ এক পুণ্যভূমি। মাহেশের রথযাত্রা এ বছর ৬২৫ বছরে পদার্পণ করল। ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম শুরু হয় মাহেশের রথযাত্রা উৎসব। চতুর্দশ শতাব্দীতে ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী পুরীধামে তীর্থ করতে গিয়ে জগন্নাথকে নিজের হাতে রেঁধে ভোগ খাওয়ানোর কথা ভাবেন। সেই সময় পুরীর জগন্নাথধামের পুরোহিতরা সেই উদ্দেশ্যে বাধা দিলে তিনি মনঃকষ্টে অনশনে বসেন। তখন জগন্নাথের স্বপ্নাদেশ পেয়ে মাহেশে আসেন।

একদিন প্রবল ঝড়ঝঞ্ঝার সময় গঙ্গায় নিমকাঠ ভেসে আসায় তিনি সেই কাঠ তুলে নিয়ে এসে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাদেবীর মূর্তি তৈরি করেন ও শুরু হয় রথযাত্রা। সেই মূর্তিতে আজও রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়। স্নানযাত্রার দিন ২৮ ঘড়া জল ও দেড় মণ দুধ দিয়ে দেবতারা স্নান করেন। সেই স্নানে দেবতারা জ্বরে পড়েন, তখন আরামবাগ, গোঘাট থেকে কবিরাজ ডাকা হলে তাঁদের তৈরি পাচন খাইয়ে ভগবান সুস্থ হন। সেই সময় সাধারণ মানুষের প্রবেশ থাকে না মন্দিরে।

বড়িশার রথযাত্রা উৎসব

এই রথযাত্রা উৎসবও বহু প্রাচীন, প্রায় ৩০০ বছরের। কলকাতার প্রাচীনতম রথযাত্রা উৎসব হিসাবে পরিচিত এই বড়িশার রথ। এই অঞ্চলে রথযাত্রা উৎসব শুরু হয় ১৭১৯ খ্রিস্টাব্দে, শুরু করেছিলেন সাবর্ণগোত্রীয় রায় কৃষ্ণদেব মজুমদার চৌধুরী। মহাপ্রভু জগন্নাথদেবের মন্দির সখের বাজারে অবস্থিত। বর্তমান মন্দিরটি শ্রী তারাকুমারের জ্যেষ্ঠ পুত্র শ্রী লালকুমার রায়চৌধুরী ১৯১১ সালে নির্মাণ করেন। পরবর্তী কালে ভক্তবৃন্দ দ্বারা মন্দিরের সংস্কার সাধিত হয়। এই মন্দিরকে কেন্দ্র করেই রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রতি বছর রথযাত্রার দিন বিকেলবেলা মন্দির থেকে মহাপ্রভু জগন্নাথদেব, দেবী সুভদ্রা, বলভদ্রদেবের দারুবিগ্রহ এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে বড়োবাড়িতে নিয়ে আসা হয় রথোপরি স্থাপনের উদ্দেশ্যে। তার পর প্রথা অনুযায়ী, যিনি উদ্বোধন করতে আসেন, তিনি প্রথমে নারকেল ভেঙে রথের দড়িতে টান দেন। পরে ভক্তবৃন্দ ও জনসাধারণ রথরজ্জু আকর্ষণ করেন। বড়োবাড়ি থেকে ডায়মন্ড  হারবার রোডের পূর্ব সরণি দিয়ে উত্তরে বেহালা সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির ও দক্ষিণে শীলপাড়া ভজন আশ্রম পর্যন্ত (বর্তমানে এটাই যাত্রাপথ) প্রায় চার কিলোমিটার পথ এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা-সহ বিগ্রহ-অধিষ্ঠিত রথের পরিক্রমা হয়।

পরে বোসপাড়ায় এসে রথযাত্রা সমাপ্ত হয়। প্রথা অনুযায়ী এর পর বিগ্রহগুলি স্বর্গীয় শ্রী হীরালাল বসুর বাড়িতে অবস্থান করে। নয় দিনের মাথায় পুনর্যাত্রা বা উল্টোরথ অনুষ্টিত হয়। এ দিন রথযাত্রা শুরু হয় বোসপাড়া থেকে। আর অনেকটা একই ভাবে পরিক্রমা করে সখেরবাজার স্থিত মন্দিরে এসে শেষ হয়।

এককথায় শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা বহন করে চলেছে দ্বিশতাব্দী প্রাচীন এই উৎসব। ‘বড়িশা রথযাত্রা উৎসব’, কলকাতা শহরের অন্যতম এক রথযাত্রা উৎসব। বড়িশা রথযাত্রা বাৎসরিক উৎসব আয়োজিত হয় ভক্তবৃন্দের সাহায্যে ও সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণে।

নৈহাটির কাঁঠালপাড়া গ্রামের রথযাত্রা

এই রথযাত্রা নৈহাটি অঞ্চলের চট্টোপাধ্যায় পরিবারের রথযাত্রা হিসাবে পরিচিত। বহু প্রাচীন এই রথযাত্রা উৎসব। কাঁঠালপাড়ার এই বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন সাহিত্যসম্রাট শ্রী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ১৮৬২ সালে বঙ্কিমচন্দ্রের বড়োভাই শ্রী শ্যামচরণ চট্টোপাধ্যায় মা দুর্গাসুন্দরীর নামে রথযাত্রা উৎসব শুরু করেন, যা এত বছর বাদেও আভিজাত্যে উজ্জ্বল। রাধাবল্লভকে রথে বসিয়ে শুরু হয় সেই রথযাত্রা, ভক্তদের টানে রথে চলেন রাধাবল্লভ আর জয় জয় রব ওঠে রাধাবল্লভের নামে। শ্যামচরণ চট্টোপাধ্যায় তমলুকের কারিগর দিয়ে কাঠের ওপর পিতলের পাত দিয়ে রথ তৈরি করেন। যাঁকে কেন্দ্র করে এই রথযাত্রা তিনি শ্রীশ্রীরাধাবল্লভ জীউ, চট্টোপাধ্যায় পরিবারের কুলদেবতা হিসাবে বিরাজ করছেন।

বঙ্কিমচন্দ্র এই রাধাবল্লভকে খুব মানতেন। তাঁর বহু চিঠিপত্রে তাঁর কথা ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করতেন চট্টোপাধ্যায় পরিবারের বিপদেআপদে রাধাবল্লভই রক্ষা করেন। ১৮৭৬ সালে তিনি একটি প্রেস কিনে সেখানে ‘বঙ্গদর্শন’ ছাপা শুরু করেন এবং প্রেসটিকে রাধাবল্লভের নামেই উৎসর্গ করেন। প্রায় ৪০০ বছরের আগের এই বিগ্রহ শ্রীশ্রীরাধাবল্লভ জীউ, আজও রথের দিন রথে বসে ভক্তদের টানে এগিয়ে যান।

রাসমণিদেবীর রথযাত্রা

তিলোত্তমার ইতিহাসে রানি রাসমনির নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিত। তাঁর বাড়িতে তিনিই শুরু করেছিলেন এই রথযাত্রা উৎসব। মূলত রাসমণি দেবী শাক্ত আরাধনা করলেও, তিনি পিতৃসূত্রে বৈষ্ণবভাবাপন্ন ছিলেন এবং শ্বশুরালয়েও ‘রঘুনাথজীউ’ পরবর্তীকালে গৃহদেবতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হন। স্বামী রাজচন্দ্র দাসের জীবদ্দশায় বাড়িতে দোল উৎসব, দুর্গাপুজো প্রভৃতি অনুষ্ঠান মহাসমারোহে হলেও রথযাত্রা হত না। স্বামীর মৃত্যুর পর রাসমণি দেবী রথযাত্রা উৎসব করতে এবং সেই রথে গৃহদেবতা শ্রীশ্রীরঘুনাথজীউকে বসাতে মনস্থ করেন। ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে রাসমণিদেবী প্রথম রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রথ নির্মাণ করেন সওয়া লক্ষ টাকা ব্যয় করে এবং ধুমধাম করে রথযাত্রা উৎসব পালন করেন।

বাংলার নানান স্থানে নানা প্রকার রথ হত, কিন্তু রাসমণি দেবীর ইচ্ছানুযায়ী, সেই বাড়িতে কাঠের পরিবর্তে রুপোর রথ তৈরি হল। কলকাতার অভিজাত পরিবারের কাছে বিলাতি জহুরি হিসাবে হ্যামিলটন কোম্পানির তখন খুবই খ্যাতি। রাসমণির জামাতা মথুরমোহন বিশ্বাসের ইচ্ছা ছিল সেই বিদেশি কোম্পানিকে দিয়েই তৈরি করাবেন, দামি রুপোর রথ। কিন্তু তাঁর জ্যেষ্ঠ জামাতা রামচন্দ্র দাসের পরামর্শ অনুযায়ী রাসমণি দেবী দেশি কারিগর দিয়েই রথ তৈরি করালেন। সিঁথি, ভবানীপুর প্রভৃতি স্থান থেকে যোগ্য কারিগর নিয়ে এসে বাড়িতেই তৈরি হল রূপোর রথ।

রাসমণিদেবী প্রতি বছরই ধুমধাম করে রথযাত্রা উৎসব পালন করতেন। রথযাত্রার সময় ঢাক, ঢোল, সানাই, বাঁশি, জগঝম্প প্রভৃতি নানান বাজনা আনতেন। বাজনা ও কীর্তনের দল রথের পেছনে পেছনে যেত। লোকে দলে দলে আসতেন ‘রানির রথ’ দেখতে। রানি রাসমণি দেবীর রথযাত্রা উপলক্ষ্যে প্রায় ৮/১০ হাজার টাকা খরচ হত। একবার তিনি এই উৎসব দেখার জন্য সাহেবদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বর্তমানে দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী কালীমন্দিরে ধুমধাম করে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়।

গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রা

বাংলার প্রাচীন রথযাত্রা উৎসবের মধ্যে গুপ্তিপাড়ার রথ বিখ্যাত। আনুমানিক ১৭৪০ সালে এই রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়, যা আজ প্রায় ২৮০ বছর অতিক্রান্ত। স্বামী মধুসুদনানন্দ শুরু করেছিলেন এই রথযাত্রা উৎসব। এই রথের উচ্চতা প্রায় ৩৬ ফুট, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ৩৪ ফুট করে। রথে থাকে চারটি দড়ি, প্রতিটি দড়িই ৩০০ ফুট দীর্ঘ। প্রফুল্ল কুমার পান লিখেছেন,

‘গুপ্তিপাড়া-রথ-কাছি ক্রমে ছোটো নয়।/রথের টান-কালে তা ছিঁড়ে ছিঁড়ে নেয়।।/ ছেঁড়া-কাছি ঘরে রাখে শান্তির কারণে।/কত শত মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় মনে।।’

অন্য স্থানের মতন এই দিন জগন্নাথদেব তাঁর মাসির বাড়িতে সকল মানুষের অন্তরালে বন্ধ থাকেন। এই দিন হয় চিরায়ত প্রথা ‘ভাণ্ডারা লুঠ’, অর্থাৎ সেই প্রাচীন রীতি মেনে প্রতি বছর উল্টোরথের আগের দিন মাসির বাড়ির মন্দিরের তিনটি দরজা এক সঙ্গে খোলা হয়। ঘরের ভিতরে থাকে রকমারি খাবারের পদ মালসায় করে। দরজা খোলার পর এই প্রসাদ নেওয়ার জন্য ভক্তের ভিড় দেখার মতন হয়। কত দূরদূরান্ত থেকে ভক্তবৃন্দ আসেন এই দিন প্রসাদ পাওয়ার জন্য। ভাণ্ডারা লুঠের জন্য থাকে খিচুড়ি, বেগুনভাজা-সহ নানান রকমের ভাজা, ছানার তরকারি, পায়েস, ক্ষীর, ফ্রায়েড রাইস, মালপোয়া, সন্দেশ, রাবড়ি-সহ মোট ৫২ রকমের পদ প্রায় ৫৫০টির বেশি মালসা থাকে। এই সমস্ত প্রাচীন প্রথা মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে মহাসমারাহে পালিত হয় গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রা।

খিদিরপুরের শ্রীশ্রীজগন্নাথ মন্দির

রথযাত্রা উৎসব বঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু প্রাচীন যুগ ধরে চলে আসছে, খিদিরপুর অঞ্চলও বাদ নেই সেই তালিকা থেকে। মূলত স্বাধীনতার আগে খিদিরপুরে বৃহৎ বন্দর গড়ে তোলেন ইংরেজরাই। সেই স্থানেই চাকরি করতে এসেছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষজন। সেই সময় ওড়িশার বহু বাসিন্দা বন্দরে এবং বন্দর সংলগ্ন অঞ্চলে বসবাস করতে শুরু করেন। স্বভূমি ছেড়ে আসা ওড়িশার জগন্নাথভক্তরা বন্দরের বিপরীত দিকে গড়ে তুলতেন শ্রীজগন্নাথ মন্দির, ১৯৪৬ সালে। ভারতের স্বাধীনতার আগে গড়ে ওঠা শ্রীজগন্নাথ মন্দির আজ বিশাল আকারে পরিণত হয়েছে।

দীর্ঘ চল্লিশ বছর অতিক্রম করার পর ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে আবার মন্দিরের সংস্কার করা হয়। পুরীর সদাশিব রথশর্মা পৌরোহিত্য করে নতুন মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান শতাব্দীর শুরুতেই শ্রীজগন্নাথ মন্দির সেবা সমিতি সিদ্ধান্ত নেন যে ভক্তদের ইচ্ছা এবং রীতিনীতি মেনেই উৎসব পালনের সুবন্দোবস্ত করা হবে। সেই সময় নতুন করে আবার দোতলা মন্দির নির্মাণ করা হয়। ২০০৩ সালে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান সেবক পুরীর রাজা গজপতি মহারাজের অনুমতি ও পরামর্শে বর্তমান শ্রীমন্দির গড়ে ওঠে। ৭ জুন ২০০৩ সালে পুরী থেকে আনা নতুন বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

স্নানযাত্রার দিন সকালে ভোগের পর ভক্তদের কাঁধে চেপে পহাণ্ডি বিজয় করে শ্রীজগন্নাথ আসেন স্নানের বেদিতে। রীতি অনুযায়ী একশো আট কলস স্নান। তার পর পনেরো দিন প্রভু অন্তরালে থাকেন। রথযাত্রার আগের দিন আবার ভক্তরা প্রভুর দর্শন পান। রথযাত্রার দিন মন্দিরেই সকালে মঙ্গল-আরতির ও পূজা করে নিবেদন করা হয় খিচুড়িভোগ। খিদিরপুরের এই শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের উৎসবকে সফল করতে এগিয়ে আসে ওড়িশা রাজ্য সরকারও। পুরীর মন্দিরের নিয়ম অনুযায়ী এখানে ভোগ রান্না করা হয়। অষ্টম দিনের পর পুর্ণযাত্রা শেষে প্রভু ফিরে যান মন্দিরে। একাদশীতে হয় সোনাবেশ। ত্রয়োদশীর দিন রসগোল্লা ভোগ নিবেদনের পর নীলাদ্রি বিজয়ের শেষে প্রভু মন্দিরে ওঠেন, অবস্থান করেন রত্নবেদীতে।

শান্তিপুরের রথযাত্রা

শান্তিপুর বিখ্যাত রাসযাত্রা উৎসব এবং কালীপুজোর জন্য। কিন্তু বহু প্রাচীন উৎসবও পালিত হয় এই শান্তিপুরে। শাক্ত-বৈষ্ণব এবং শৈব ধারার মেলবন্ধন দেখা যায় এই শান্তিপুরে। এই অঞ্চলে রঘুনাথকে কেন্দ্র করে হয় রথযাত্রা উৎসব, সঙ্গে থাকে জগন্নাথও। এই শান্তিপুরের গোস্বামীবাড়ির রথযাত্রা উৎসব খুবই প্রাচীন। প্রতিটি গোস্বামী বাড়িতেই রথের দিনে রামচন্দ্রের দারুমূর্তি রথে বসেন, বলা যেতে পারে তিনিই রথযাত্রার মূল আকর্ষণ। তবে তিনি অধিক পরিচিত রঘুনাথ হিসাবে, এই বিগ্রহের গঠনও একটু আলাদা। এই রঘুনাথ মূর্তিটি বাবু হয়ে পদ্মাসনে বসে আছেন, পরনে ধুতি আর চাদর আর গায়ের রঙ সবুজ। তবে রথে জগন্নাথদেবও থাকেন রঘুনাথের সঙ্গে। বড়ো গোস্বামীবাড়ির রথযাত্রা আবার আড়াইশো বছরেরও প্রাচীন, তৎকালীন সময়ে রথের আকার ছিল অনেক বড়ো তাই ছোটো জগন্নাথ বিগ্রহ মানানসই না হওয়ায় রঘুনাথকে রথে তোলার প্রচলন শুরু হয়। সেই থেকে রঘুনাথই এখানকার রথের কেন্দ্রবিন্দু। বড়ো গোস্বামীবাড়ি ছাড়াও গোকুলচাঁদ গোস্বামীবাড়ি, গোপালপুর সাহাবাড়ির রথ উল্লেখযোগ্য। রথযাত্রার দিন রঘুনাথকে বিশেষ পুজো করা হয়, তার পর ভক্তের ইচ্ছায় তিনি রথে বসেন আর শুরু হয় প্রাচীন সেই রথযাত্রা উৎসব, যা আজ বঙ্গের ইতিহাসে অনন্য স্থান দখল করে আছে।

(লেখক ইতিহাস-গবেষক)

প্রবন্ধ

‘কয়েকটা টাকার বিনিময়ে নেতাজির স্মৃতি ধুলোয় মিশিয়ে দেব?’, বলেছিলেন পদমবাহাদুর

মুখে বড়ো বড়ো কথা বললেও, নেতাজির আদর্শে চলার ব্যাপারে আমরা লবডঙ্কা। কবে আমরা ওঁর আদর্শে চলব, ঠিক পদমবাহাদুরের মতো?

Published

on

কার্শিয়াঙের নেতাজি মিউজিয়ামে নেতাজির আবক্ষ মূর্তি।

শ্রয়ণ সেন

আবার সেই পথে। এই তো ঠিক এক বছর আগে ২০২০-এর জানুয়ারিতে ঘুরে গিয়েছিলাম এখান থেকে। এই জানুয়ারিতে দার্জিলিঙের পথে গিদ্দা পাহাড়ের পাশ দিয়ে যেতে যেতে স্মৃতিতে ডুব দিলাম। মনের মধ্যে ভেসে উঠল পদমবাহাদুর ছেত্রীর মুখটা আর ওঁর কথাগুলো।

“তখন ওরা কত করে আমায় বলল বাড়ির ইটগুলো বিক্রি করে দিতে, এতে আমার টাকা হবে। কিন্তু আমি ওদের কথা শুনিনি। আমার তখন একটাই লক্ষ্য, যে করেই হোক, ওদের হাত থেকে বাড়িটা বাঁচাতেই হবে।”

Loading videos...

বেশ গর্ব করেই কথাগুলো বলেছিলেন পদমবাহাদুর। নেতাজি ইনস্টিটিউট ফর এশিয়ান স্টাডিজ তথা নেতাজি মিউজিয়ামের দেখভালের পুরো দায়িত্ব তাঁর ওপরে। তিন বছরের দুরন্ত নাতিকে সঙ্গে নিয়ে পুরো বাড়িটা আমাদের ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই বাড়িটার অবদান হয়তো আমরা অনেকেই জানি না। কারণ এই বাড়িতে খুব বেশি কারও পা-ও পড়ে না।

নেতাজি ইনস্টিটিউট ফর এশিয়ান স্টাডিজ

“খুলা হ্যায়, খুলা হ্যায়।”

মূল ফটক দিয়ে বাড়ির দিকে এগোতেই আমাদের উদ্দেশ করে বলেছিল মিষ্টি অথচ দুরন্ত সেই শিশুটি। শীতের দিনের মিঠে রোদে পিঠ দিয়ে দাদুর কোলে বসেছিল নাতি। আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছিল, মিউজিয়াম খোলা আছে, ভেতরে যেতে পারি।

বাইরে জুতো খুলে প্রবেশ করলাম। এটা তো ঠিকই, যে কোনো পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে গেলে জুতো খুলতেই হবে। নেতাজিকে ভালবাসেন, এমন যে কোনো মানুষের কাছে এই বাড়ি একটা সাধনাস্থল।

নেতাজির বহু বিরল ছবি, তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাবপত্র আর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে লেখা চিঠি এখানে সযত্নে রাখা আছে।

১৯২২ সালে রলি ওয়ার্ড নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে কার্শিয়াংয়ের গিদ্দাপাহাড়ে অবস্থিত এই বাড়িটি কিনে নেন নেতাজির দাদা, তথা স্বাধীনতাসংগ্রামী শরৎচন্দ্র বসু।

১৯৩৩ থেকে ১৯৩৫, এই বাড়িতেই ব্রিটিশ সরকারের হাতে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল শরৎ বসুকে। এর পরের বছরেই নেতাজির পালা। এই বাড়িতে তাঁকে সাত মাসের জন্য বন্দি করে রাখা হয়।

দ্বিতীয় বার যখন এই বাড়িতে নেতাজি আসেন, তখন তিনি বন্দি নন। সেটা ১৯৩৭ সালের অক্টোবর। হরিপুরা কংগ্রেসের ভাষণ এই বাড়িতে বসেই লিখেছিলেন নেতাজি। এখান থেকে গান্ধীজি ও জওহরলাল নেহরুকে চিঠিও লিখেছিলেন।

নেতাজি মিউজিয়ামে প্রবেশদ্বার।

এই বাড়িতে থাকাকালীনই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি চিঠি পেয়েছিলেন নেতাজি। তাতে ‘বন্দেমাতরম’ গানের প্রসঙ্গও ছিল।

চিঠির একটি অংশে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, “…যে রাষ্ট্রসভা ভারতবর্ষের সকল ধর্ম-সম্প্রদায়ের মিলনক্ষেত্র, সেখানে এই গান সর্বজনীন ভাবে সঙ্গত হতেই পারে না।”

এই বাড়িতে বহু দুর্লভ ছবির পাশাপাশি নেতাজি-কেন্দ্রিক প্রচুর চিঠিরও সংগ্রহ রয়েছে। সব চিঠি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ার মতো সময় ছিল না। ‘বন্দেমাতরম’ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের চিঠির ব্যাপারটি একটি সংবাদমাধ্যম থেকে জেনেছিলাম। ওই চিঠির উত্তরও রবীন্দ্রনাথকে দিয়েছিলেন নেতাজি। কিন্তু তাঁর সেই জবাবের হাতের লেখা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

কার্শিয়াংয়ের বাসিন্দাদের সঙ্গে নেতাজি কত যে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন, তার প্রমাণও রয়েছে এখানে রক্ষিত বহু চিঠিতে।

নেতাজিকে নিয়ে এমন দুর্লভ ছবির সম্ভার ভারতে আর কোথাও আছে বলে মনে করতে পারি না।

নেতাজি এখানে থাকাকালীন প্রাতর্ভ্রমণে বেরোতেন। পাগলাঝোরায় প্রাতর্ভ্রমণরত নেতাজি, এমনই একটি ছবি রয়েছে। বসু পরিবারের সঙ্গে নেতাজির ছবি যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে জওহরলাল নেহরু, সর্দার বল্লভভাই পটেলের সঙ্গে তোলা ছবিও।

এ ছাড়া নেতাজির ব্যবহার করা খাট, চেয়ার-টেবিল সবই সযত্নে রাখা হয়েছে। কার্শিয়াংয়ের ‘পয়েন্টস’ ভ্রমণের মধ্যেই নেতাজির এই বাড়ি পড়ে। কিন্তু এখানে আসতে হবে আলাদা ভাবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময়ে দিয়ে ভালো করে দেখতে হবে। তবেই মনের শান্তি পাওয়া যাবে।

১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাড়িটি বসু পরিবারের অধীনে ছিল। এর পর বাড়িটি পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার অধিগ্রহণ করে। সংস্কার করে তা কলকাতার ‘নেতাজি ইনস্টিটিউট ফর এশিয়ান স্টাডিজ’-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

নেতাজির দুর্লভ ছবি, চিঠিপত্র আর ব্যবহৃত আসবাবপত্র নিয়ে এই সংগ্রহশালাটি উদ্বোধন হয় ২০০৫ সালে। ২০১৮ সালে সেই সংগ্রহশালার সংস্কারের কাজও হয়েছে।

নেতাজির এই বাড়িটার সঙ্গেই নিজেকে একাত্ম করে দিয়েছেন পদমবাহাদুর। তাঁর কথাবার্তা, আচার আচরণে বোঝা যায়, আশির কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া এই বৃদ্ধ নেতাজিকে কখনও না দেখলেও তাঁকে রোজ অনুভব করেন।

শত চেষ্টা করেও পদমবাহাদুরকে ক্যামেরার সামনে আনা গেল না।

শরৎ বসুর রোপণ করা ক্যামেলিয়া গাছ।

১৯৭৩ থেকে এই বাড়িটার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন পদমবাহাদুর। তখন দিনপ্রতি দু’ টাকা হাজিরায় বসুদের কাছ থেকে এই বাড়িটির দেখভালের দায়িত্ব পান।

-“তব মহিনে মে ষাট (৬০) রুপ্যায় মিলতা থা।” গলায় গর্ব ঝরে পড়েছিল। 

এর পর বাড়িটা কত ঝড়ঝাপটার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তবুও তিনি ছিলেন তাঁর লক্ষ্যে অবিচল।

কথা প্রসঙ্গেই উঠে এসেছিল ১৯৮৬ সালের গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের কথা। সুবাস ঘিসিংয়ের নেতৃত্বে সেই আন্দোলন মারাত্মক ধ্বংসাত্মক চেহারা নেয়। গত ১৫ বছরে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে যে আন্দোলন হয়েছে, সুবাস ঘিসিংয়ের জঙ্গি আন্দোলনের কাছে সে সব নেহাতই শিশু।

তখনই পদমবাহাদুরের কাছে আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব আসে এই বাড়ির এক একটা ইট বিক্রি করে দিয়ে বিনিময় টাকা নেওয়ার। আর প্রকারান্তরে সে টাকার কিছুটা অংশ আন্দোলনকারীদের দিয়ে দেওয়া।

পদম কিন্তু ছিলেন তাঁর লক্ষ্যে অবিচল। আন্দোলনকারীদের কথা কানেই তোলেননি তিনি। সোজা জানিয়ে দেন, নেতাজির স্মৃতিকে এ ভাবে ধুলোয় মিশে যেতে তিনি দেবেন না।

তাঁর কথায়, “মাত্র কয়েকটা টাকার জন্য নেতাজিতে বিকিয়ে দেব! আমি গরিব হতে পারি, লোভী নই।”

আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আপশোশ, কার্শিয়াংয়ের এক নেপালি বৃদ্ধ নেতাজির আদর্শে চলতে পারেন, কিন্তু আমরা পারি না। আজ ১২৫ বছরে পড়লেন নেতাজি। মুখে বড়ো বড়ো কথা বললেও, নেতাজির আদর্শে চলার ব্যাপারে আমরা লবডঙ্কা। কবে আমরা ওঁর আদর্শে চলব, ঠিক পদমবাহাদুরের মতো?

ছবি: লেখক

আরও পড়ুন: সুভাষের খোঁজে সুভাষগ্রাম ও অন্যত্র

Continue Reading

প্রবন্ধ

শিল্পী – স্বপ্ন – শঙ্কা: সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে যেমন দেখেছি, ৮৭তম জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য

স্বপ্ন বদলে যায়, হারিয়েও যায় – শঙ্কা কিন্তু থেকেই যায়। আজ ওঁর জন্মদিন। আমরা প্রস্তুত তো? শিল্পীর স্বপ্ন সফল করতে?

Published

on

ডা. পাঞ্চজন্য ঘটক

আমি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত ভাবে চিনতাম না। আর পাঁচজন বাঙালির মতো ওঁর গুণমুগ্ধ ছিলাম। আজ ঠিক দু’ মাস চার দিন হল উনি চলে গেছেন। ওঁর মৃত্যু-পরবর্তী দিনগুলোয় অজস্র লেখা ও মূল্যায়ন দেখেছি। বিশেষ একটা ঘটনার কথা ভেবেছিলাম কেউ লিখবেন। এখনও পর্যন্ত চোখে পড়েনি। তাই এই লেখা।

পর্দা আর মঞ্চ ছাড়া সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে আমি দু’ বার দেখেছি কাছ থেকে। ২০১০ সালে লন্ডনে এবিপির উদ্যোগে ‘আনন্দ-উৎসব’ হয়। আমাদের উত্তর ইংল্যান্ডের ‘পারাবার কালচারাল গ্রুপ’ একটি ছোটো নাটকের কিছু অংশ মঞ্চে পরিবেশন করার আমন্ত্রণ পায়। তারকাখচিত সমাবেশ – সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শর্মিলা ঠাকুর, সোহা আলি খান, কুমার শানু, অঞ্জন দত্ত. আইয়ুব বাচ্চু, অলকা ইয়াগনিক। এঁদের মতো তাবড় শিল্পীরা তিন দিন ধরে মঞ্চ আলো করে থাকবেন। দফায় দফায়। আর তার ভেতরে ফিলারের মতো থাকবে বিলেতের স্থানীয় সংগঠনের ছোটো ছোটো প্রোগ্রাম। আমাদের বলা হয়েছিল মিনিট পনেরোর ভেতর একটা নাটক করতে। বিলেতে এ রকম অনুষ্ঠান এর আগে কখনও হয়নি, পরেও নয়।

Loading videos...

আমরা খুবই উত্তেজিত। আমাদের গ্রুপের তিন জনে মিলে একটা মজার নাটক করতাম – ‘রাজযোটক’। মিনিট চল্লিশের। সময় কম ছিল। তাই ওই নাটকের কিছু দৃশ্য কাটছাঁট করে মিনিট পনেরোর মতো একটা স্ক্রিপ্ট খাড়া করা হল। মার্চ মাসের মাঝামাঝি ‘পারাবার’ গোষ্ঠীর সবাই মিলে চললাম আনন্দোৎসবে। তিন জন নাটক করব। বাকিরা উৎসাহ দেবেন আর জমাটি একটি অনুষ্ঠান দেখবেন।

অনুষ্ঠানের দিন পৌঁছে গেলাম উত্তর লন্ডনের সুবিশাল আলেকজান্ড্রা প্যালেসে। আমাদের আর্টিস্ট এন্ট্রি কার্ড থাকায় মঞ্চের পেছন দিকে যাওয়ার সুযোগ পেলাম। গ্রিনরুম দেখে আসার জন্য। মঞ্চের পেছনে অনেকটা এলাকা। কয়েকটা ঘর তারকাদের জন্য। আর বাকিদের ড্রেসআপ খোলা জায়গাতেই করতে হবে বুঝলাম। কয়েক জন উদ্যোক্তা গোছের লোক বড়ো বড়ো ব্যাজ পরে ব্যস্তভাব দেখিয়ে ঘোরাঘুরি করছেন। আমি বরাবর একটু উৎসুক গোছের। তারকাদের ঘরে কেউ আছে কিনা দেখতে গিয়ে দেখলাম একটির ভেতরে বসে আছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। পর্দা খোলাই ছিল। একেবারে সামনাসামনি ওঁকে দেখে একটু হকচকিয়ে গেছিলাম। একটু সামলে উঠে বললাম, “ভেতরে আসব?” উনি বললেন, “এসো, এসো”।

সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। প্রণাম করলাম পায়ে হাত দিয়ে। ধুতি-পাঞ্জাবি পরেছিলেন। গরম চাদর গায়ে। চামড়ার বাঁধা স্যান্ডেল আর মোজা পায়ে। মাথায় হাত দিয়ে বললেন, “ভালো থেকো”। পরিচয় জানতে চাইলেন। বললাম, “ডাক্তারি করি আর শখের অভিনয় মাঝেসাঝে। এই মঞ্চে পরের দিন একটা ছোট্ট নাটক করব। তেমন কিছু নয়। ফিলার প্রোগ্রাম। আমাদের নাটক আর কে দেখতে আসছে এখানে”।

একটু ক্লান্ত লাগছিল ওঁকে। ধীরে ধীরে বললেন, “কোনো নাটক ছোটো নয়। নাটকের কোনো রোল ছোটো নয়। একটা লোকও যদি না থাকে হলে, তুমি তোমার শ্রেষ্ঠ অভিনয় করবে। স্টেজটাকে সম্মান জানিয়ে”।

আরেক বার প্রণাম করলাম ওঁকে। বললাম, “এই কথাগুলো চিরকাল মনে রাখবো”। মনে হচ্ছিল উনি একটু বিশ্রাম করতে চাইছেন। ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। কথাগুলো মনে রেখেছি। নাটক, শ্রুতি-নাটক, সিনেমা – যেটুকু সুযোগ পাই, নিজের পুরোটা দেওয়ার চেষ্টা করি।

একবার পেছনে তাকালাম। সোফায় মাথা এলিয়ে বিশ্রামের চেষ্টা করছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। স্কাইলাইট দিয়ে তেরছা সূর্যের আলো পড়েছে চোখের উপর। একবার ভাবলাম পর্দা টেনে দিই। মনে হল, না থাক। সূর্যের এই স্পটলাইট আরো অনেক দিন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মুখের ওপর থাকুক। সরাসরি।

এর আগে এক বার                                     

৬ ডিসেম্বর ১৯৯২। রবিবার। সন্ধ্যাবেলা খবর পাওয়া গেল বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় দাঙ্গা শুরু হয়ে গেছে। কলকাতায় দমচাপা পরিস্থিতি। সেই রাতে বিরাট দাঙ্গা কিছু হয়নি। মনে হয় দাঙ্গা শুরু হয় দিন কয়েক পর। পার্কসার্কাস অঞ্চলে ছিল আমাদের হোস্টেল। অশান্ত হয়ে ওঠে ওই অঞ্চল। কারফিউ, প্যারামিলিটারি, র‍্যাফ, মিলিটারি, আগুন, বেশ কিছু মানুষের মৃত্যু – দিন কয়েকের ভেতর বদলে যায় আমাদের চেনা কলকাতা। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রশাসনের তৎপরতায় দিন সাতেকের ভেতর দাঙ্গা আয়ত্তে আসে।

ঠিক মনে নেই তারিখটা – মনে হয় ১৩ বা ২০ ডিসেম্বর। রবিবার। বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে একটি শান্তিমিছিল আহ্বান করা হয়। একটু অন্য রকম এই মিছিল। বলা হয় কোনো দলীয় পতাকা, ফেস্টুন থাকবে না এই মিছিলে। থাকবে না কোনো দলীয় স্লোগান। এই শান্তিমিছিলের একমাত্র উদ্দেশ্য হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনা। মিছিলের রুট ঠিক মনে নেই, তবে শুনলাম দুপুর তিনটে নাগাদ আমাদের হোস্টেলের কাছ দিয়ে মিছিল যাবে। মল্লিকবাজার অঞ্চল দিয়ে সার্কুলার রোড ধরে দক্ষিণের দিকে। আমরা কয়েক জন ঠিক করলাম ওখানে মিছিলে যোগ দেব। একটু আগেভাগে নোনাপুকুর ট্রামডিপোর কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। খানিক পর দেখলাম শীতের দুপুরের রোদ মেখে এগিয়ে আসছে এক মহামিছিল। কারো হাতে কোনো পতাকা নেই।

শুধু কয়েকটা স্লোগান শোনা যাচ্ছে –

‘হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই, / দাঙ্গা নয় শান্তি চাই’।

‘দাঙ্গাবাজ লোক যত, / বাংলা থেকে দুর হটো’।

মিছিলের একদম সামনে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। নীল জিন্স পরা। গায়ে নীল জিন্সের পুরো হাতা জ্যাকেট। হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো। চোখে কোনো সানগ্লাস নেই। কাছাকাছি সানগ্লাস চোখে কোনো সেলিব্রিটি চোখে পড়ল না। আশেপাশে সাধারণ মানুষ। হিন্দু, মুসলিম পোশাকে খানিকটা আলাদা বোঝা গেলেও স্লোগান সবার গলায় এক। আর তার সঙ্গে গলা মেলাচ্ছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

আমরা মিছিলে প্রবেশ করলাম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ঠিক পেছনে। বারবার চোখ চলে যাচ্ছিল ওঁর দিকে। চোয়াল শক্ত – কখনও মনে হচ্ছিল ‘হীরক রাজার দেশ’-এর উদয়ন পণ্ডিত, কখনও বা ফুটে উঠছিল ‘অভিযান’-এর নরসিং ড্রাইভারের চাপা অসন্তোষ। আর মাঝে মাঝে একটা ফরসা মুঠো করা হাত উঠে যাচ্ছিল শীতের নীল আকাশের দিকে – ‘দাঙ্গা নয়, শান্তি চাই’। সে দিনও কি পশ্চিম দিক থেকে সূর্যের তেরছা আলো পড়ছিল শিল্পীর মুখে? এত দিন পর ঠিক মনে করতে পারছি না।

আমি ব্যক্তিগত ভাবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে না চিনলেও ওঁর সঙ্গে মিছিলে হেঁটেছি। ওঁর গলায় গলা মিলিয়ে স্লোগান দিয়েছি। এটা আমার একটা বিরাট গর্ব। বাঙালি অকুণ্ঠ সম্মান জানিয়েছেন তাঁদের প্রিয় শিল্পীকে। মৃত্যুর পর অমর করে দিয়েছেন। এখন ওঁর স্লোগানকে সত্যি করার দায়িত্ব বাঙালির ওপর।

স্বপ্ন বদলে যায়, হারিয়েও যায় – শঙ্কা কিন্তু থেকেই যায়। আজ ওঁর জন্মদিন। আমরা প্রস্তুত তো? শিল্পীর স্বপ্ন সফল করতে?

(ছবিটি এঁকেছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ সোমজিত ঘোষ)

আরও পড়ুন: রবিবারের পড়া: শহর ছেড়ে তুমি কি চলে যেতে পারো তিন ভুবনের পারে

Continue Reading

প্রবন্ধ

একুশের মহারণ কি শুধুই তৃণমূল বনাম বিজেপি?

নির্বাচনী লড়াইটা শুধু মাত্র তৃণমূল-বিজেপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, তেমন উপসংহারে এখনই পৌঁছানো সম্ভব নয়!

Published

on

BJP TMC Congress CPIM
অঙ্কের জটিল হিসেব অনেকাংশেই ভোটের বাক্সে সে ভাবে প্রভাব ফেলতে পারে না। প্রতীকী ছবি

খবর অনলাইন ডেস্ক: প্রচারের বহর দেখে মনে হতেই পারে, মাস কয়েক বাদের বিধানসভা ভোটে মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল এবং বিজেপি। এই দুই দলের গুঁতোগুঁতিতে ভুগতে পারে কংগ্রেস এবং বামফ্রন্টের শরিক দলগুলি। কিন্তু নির্বাচনী লড়াইটা শুধু মাত্র তৃণমূল-বিজেপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, তেমন উপসংহারে এখনই পৌঁছোনো সম্ভব নয় বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

বাম ও কংগ্রেস যে নির্বাচনী জোট গড়ছে, সেটাও এক প্রকার নিশ্চিত। কিন্তু আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলে দুই শক্তি যদি একত্রিত হয়, তা হলে একাধিক আসনে তৃণমূল-বিজেপির জয়ের পথে কাঁটা হতে পারে এই বিরোধী জোট। এ কথা ঠিক, অঙ্কের জটিল হিসেব অনেকাংশেই ভোটের বাক্সে সে ভাবে প্রভাব ফেলতে পারে না। তবুও শেষ বছরে রাজ্যের সব থেকে বড়ো কয়েকটি নির্বাচনের সংক্ষিপ্ত ফলাফলে নজর বুলিয়ে নেওয়া যেতেই পারে।

বিধানসভা নির্বাচন ২০১১

তৃণমূল-৩৮.৯৩ শতাংশ, আসন-১৮৪

Loading videos...

সিপিএম-৩০.০৮ শতাংশ, আসন-৪০

বিজেপি-৪ শতাংশ, আসন-০

কংগ্রেস-৯.০৯, আসন-৪২

লোকসভা নির্বাচন ২০১৪

তৃণমূল-৩৯.০৫ শতাংশ, আসন-৩৪

সিপিএম-২৯.৭১ শতাংশ, আসন-২

বিজেপি-১৭.০২ শতাংশ, আসন-২

কংগ্রেস-৯.৫৮, আসন-৪

বিধানসভা নির্বাচন ২০১৬

তৃণমূল-৪৪.৯১ শতাংশ, আসন-২১১

সিপিএম-১৯.৭৫ শতাংশ, আসন-২৬

কংগ্রেস-১২.২৫, আসন-৪৪

বিজেপি-১০.১৬ শতাংশ, আসন-৩

লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

তৃণমূল-৪৩.৬৯ শতাংশ, আসন-২২

বিজেপি-৪০.৬৪ শতাংশ, আসন-১৮

বামফ্রন্ট-৬.৩৪ শতাংশ, আসন-০

কংগ্রেস-৫.৬৭, আসন-২

লোকসভা ভোটের সাফল্য ধরে রেখে প্রথম বারের জন্যে রাজ্যের ক্ষমতা দখলে নেমেছে বিজেপি। পরিস্থিতি এমনই যে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা বঙ্গ-সফরকে কার্যত রুটিনে পরিণত করে নিয়েছেন। শাসকদলের একাধিক হেভিওয়েট গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। মিটিংয়ে-মিছিলে গেরুয়া পতাকার ভিড় উপচে পড়ছে।

তবে ২০২১ বিধানসভায় যে শেষ লোকসভার থেকে বিজেপির ভোটের হার কমতে পারে, সে বিষয়েও একাধিক যুক্তি রয়েছে পরিসংখ্যানপ্রেমীদের ঝুলিতে। সঙ্গে রয়েছে ভিন রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটগুলির পরিসংখ্যানও। আসলে দেশে এমন কোনো রাজ্য নেই, যেখানে বিধানসভায় বিজেপির ভোট লোকসভার থেকে বেড়েছে। অর্থাৎ, ঘুরিয়ে বললে সর্বত্রই লোকসভার থেকে ভোট কমেছে বিধানসভায়।

কয়েকটি রাজ্যে শেষ লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট

বিহার: লোকসভা (২০১৯)-৫৩.২৫ শতাংশ, বিধানসভা (২০২১)-৩৭ শতাংশ (এনডিএ-গত ভাবে)

দিল্লি: লোকসভা (২০১৯)- ৫৬.৮৬ শতাংশ, বিধানসভা (২০১৯)-৩৮.৫১ শতাংশ

ঝাড়খণ্ড: লোকসভা (২০১৯)- ৫৫ শতাংশ, বিধানসভা (২০১৯)-৩৩ শতাংশ

হরিয়ানা: লোকসভা (২০১৯)- ৫৮ শতাংশ, বিধানসভা (২০১৯)-৩৬ শতাংশ

মহারাষ্ট্র: লোকসভা (২০১৯)- ৫১ শতাংশ, বিধানসভা (২০১৯)-৪২ শতাংশ

উপরের পরিসংখ্যান তুলে ধরার কারণ দ্বিমুখী। একটি দিক হল, বিজেপি যদি পশ্চিমবঙ্গের ২০১৯ সালের লোকসভা সাফল্য ধরে রাখে অথবা আরও এগোয়, তা হলে তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের পথ অবরুদ্ধ হতেই পারে। কিন্তু উলটো দিকে অন্যান্য রাজ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০২১-এ বিজেপির প্রাপ্ত ভোট যদি কমে যায়, তা কোথায় যাবে?

শেষ বছরে তৃণমূলের ভোটের হার কিন্তু ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। বিজেপির ঝুলি পূর্ণ করতে বাম-কংগ্রেসই নি:স্ব হয়েছিল। যে কারণে তৃণমূল অভিযোগ করছে, বাম-কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নকে খাটো করতে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। আবার উলটো কথা শোনা যাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বের মুখেও। তাঁরাও বলছেন, বাম-কংগ্রেসকে অক্সিজেন জোগাচ্ছেন মমতা। অর্থাৎ, সে দিকে সরাসরি দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের অবকাশ থাকছে না। অঙ্কের হিসেব যা-ই বলুক, তৃতীয় বিকল্প হিসেবে কিন্তু ভেসে থাকছে বাম-কংগ্রেসই।

আরও পড়তে পারেন: রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোটে সিলমোহর সনিয়া গান্ধীর

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
রাজ্য42 mins ago

রাজ্যে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ফের চারশোর নীচে, তবে হেরফের সংক্রমণের হারে

রাজ্য1 hour ago

আদি-নব্য দ্বন্দ্ব কাটাতে দিলীপ ঘোষের স্পষ্ট বার্তা

Rape
দেশ2 hours ago

‘ত্বক থেকে ত্বকে সংযোগ’ ছাড়া ‘নিছক অনুভূতি’কে যৌন নিপীড়ন বলা যায় না: হাইকোর্ট

কলকাতা3 hours ago

কালীঘাটে বস্তা ভরতি পোড়া টাকা উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য

দেশ4 hours ago

১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা চালু করবে রেল? সত্য জানুন এখানে

দেশ6 hours ago

নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর ভোলবদল বিজেপি সাংসদের

রাজ্য6 hours ago

উন্নয়ন দেখাতে ‘ছানিশ্রী’ প্রকল্প করবে সরকার, বিজেপিকে কটাক্ষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

রাজ্য7 hours ago

বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে রাজ্যের সমবায়মন্ত্রী অরূপ রায়

কলকাতা2 days ago

ভয়াবহ বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ, সতীর্থের মৃত্যু

হাওড়া2 days ago

বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়াকে দল থেকে বহিষ্কার করল তৃণমূল

শরীরস্বাস্থ্য3 days ago

কেন খাবেন মটরশুঁটি, জেনে নিন এর উপকারিতা

ফুটবল3 days ago

আক্রমণ বিভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটাতে পারছেন না আন্তোনিও লোপেজ আবাস

জীবন যেমন3 days ago

কম বয়সে মুখে বলিরেখা? রান্না ঘরেই আছে এর সমাধান, একমাসে

আব্বাস সিদ্দিকি
কলকাতা3 days ago

দল ঘোষণা করলেন আব্বাস সিদ্দিকি, নাম ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট ’,ভোট কাটার সম্ভবনা উড়িয়ে দিল তৃণমূল

rajib banerjee
রাজ্য2 days ago

মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজভবনে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়

ফুটবল3 days ago

মুম্বইকে আটকাতে বদ্ধপরিকর বদলে যাওয়া ইস্টবেঙ্গল

কেনাকাটা

কেনাকাটা21 hours ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা1 day ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা2 days ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা3 days ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা3 days ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা4 days ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা6 days ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

কেনাকাটা2 weeks ago

৯৯ টাকার মধ্যে ব্র্যান্ডেড মেকআপের সামগ্রী

খবর অনলাইন ডেস্ক : ব্র্যান্ডেড সামগ্রী যদি নাগালের মধ্যে এসে যায় তা হলে তো কোনো কথাই নেই। তেমনই বেশ কিছু...

কেনাকাটা2 weeks ago

কয়েকটি ফোল্ডিং আইটেম খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক: এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি সঙ্গে থাকলে অনেক সুবিধে হত বলে মনে হয়, কিন্তু সব সময় তা পাওয়া...

কেনাকাটা2 weeks ago

রান্নাঘরের কাজ এগুলি সহজ করে দেবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরের কাজ অনেক বেশি সহজ করে দিতে পারে যে সমস্ত জিনিস, তারই কয়েকটির খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন...

নজরে