Independence Day
স্বাধীনতা দিবসে মানতে হবে কোভিডবিধি। প্রতীকী ছবি

পর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

স্বাধীনতা আমার কাছে কোনো উদযাপন নয়, আমার কাছে স্বাধীনতা একটা ভাবনা।

আমি দেশ স্বাধীন হতে দেখিনি। কিন্তু ইতিহাস পড়েছি। আমার ছাত্রছাত্রীদের স্বাধীনতার ইতিহাস পড়ানোর সৌভাগ্যও হয়েছে বহু বার। সেই মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা থেকে সংবিধান রচনার প্রাক্কাল। বিশ্বাস করুন ছাত্রদের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠত। চোখে জল আসত আজাদ হিন্দ বাহিনীর আত্মত্যাগের ইতিহাস পড়তে। ‘আমি সুভাষ বলছি’র পাতাগুলো অজান্তেই ভিজে যেত চোখের জলে। বুকের ভিতর অসহ্য যন্ত্রণা হত দেশভাগের অতীত বিশ্লেষণ করতে। আবার কখনও রক্ত আগুন হয়ে উঠত ‘সারফারোশি কি তমান্না’ গাইতে গিয়ে। তার পরই মনে হত এরা কি মানুষ? একটা দেশের মানুষের মননে কি এই ভাবে কেউ ছুরিকাঘাত করতে পারে? নাকি এই ভাবে কেউ দেশটাকে কেটে টুকরো করে ফেলে?  নাকি ক্ষমতালোভী লোলুপ শিকারীরা এই ভাবে চিল-শকুনের মতন কুর্সি নিয়ে টানাটানি করতে পারে। তার পর বুঝেছি এরাই তো মহাপুরুষ। ইতিহাস কখনও সাধারণকে মনে রাখে না, ইতিহাস মনে রাখে গান্ধী-সুভাষকে, নয়তো আলাউদ্দিন খিলজিকে। মধ্যম মাপের কোনো কিছুই ঠিক ঐতিহাসিক হতে পারে না। 

ইতিহাস বলছে দু’ লক্ষ মানুষের মৃত্যু আর দশ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়েছিলেন এই দেশভাগের ইতিহাসে। তা হলে ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি কি শুধুই শব্দ হয়ে দাঁড়াল? নাকি বেদনার ইতিহাস?

ফিরে আসি আজকের কথায়। গত বছর কলকাতার একটি রাস্তায় গাড়ি ধরতে দাঁড়িয়েছিলাম। রাস্তায় একদল ছেলে আলটপকা মন্তব্য ছুড়তে লাগল। একটু কাছে আসতে দেখলাম, এদের বয়সের ছাত্রদের আমি পড়াই। সে দিন ছেলেটিকে ডেকে বলেছিলাম, মেয়ে মানেই যে ভোগ্যবস্তু এ ধারণা কোথা থেকে হল তার? কেই বা শিখিয়েছে তাকে এমন ব্যবহার করতে? মেয়ে মানেই কি শরীর, শুধু শরীর। সে দিদি নয়, মা নয়, বন্ধু নয়।

এ না হয় গেল চলতি রাস্তার কথা। এ বার আসি কর্পোরেটে। বহু মানুষকে আমি লোলুপ দৃষ্টিতে ইন্টারভিউ ডেস্কে তাকিয়ে থাকতে দেখেছি। মনে মনে কী বা ভেবেছে আর কত ভাবে যে নোংরা করেছে কে জানে? কী মনে হয়, এই লোকগুলো স্বাধীন? এই নোংরা ভাবনার আড়ালে এরা কি এখনও পরাধীনতার শৃঙ্খল বহন করে চলছে না?

বিদগ্ধ জনৈক রাজনীতিক কি শৃঙ্খলাবদ্ধ হননি লোভের কাছে? বান্ধবীর ঘেরাটোপে সম্মান বাঁচানো দায় হয়ে উঠেছে তাঁর। এক জন ধরা পড়লেন সে নিয়ে কত জল্পনা। আরও কত এ ধরনের মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে, তার কি কোনও হিসেব আছে? নেই। 

প্রতি দিন লড়াই করে যে লোকটি রাস্তার জোগাড় খাটে কিন্তু মাইনের বেলায় মালিক মিনিমাম ওয়েজ টয়েজ বোঝে না, কিংবা আমাদের পাড়ার ফল বিক্রি করা স্বপন…সেই যে সে আগের বছর লোন শোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করল! আবার উল্টো পাড়ার বাসন্তীদি বরের ক্যান্সারের চিকিৎসার খরচ জোগাতে সারা দিন রাস্তার ধারের হোটেলে খেটে ঘরে লোক ঢুকিয়েও টাকা তুলতে পারল না? বর মরে গেল চোখের সামনে। ছ’টা কেমো দিতে পারল না। ডাক্তার বলল, ‘ক্যান্সারে পয়সা ভূতে খায়’! এদের কাছে স্বাধীনতা?

তার চেয়ে বরং আসুন আমরা আবার একটা লড়াই শুরু করি। এ বার লড়াই কুসংস্কারের বিরুদ্ধে, লালসা মাখানো লোলুপ মানসিকতার বিরুদ্ধে, সমস্ত রকম লোভের বিরুদ্ধে, বেকারত্বের বিরুদ্ধে, দুর্বল অর্থনীতির বিরুদ্ধে, পিছিয়ে পড়ার বিরুদ্ধে…।

এখনও মনে বলে স্বাধীনতা আসবেই। সে দিন শুধু উদযাপন ফেসবুক আর ইনস্টার ডিপি কিংবা কভারফটোতে আটকে থাকবে না। স্বাধীনতা উদযাপিত হবে মনে।

আরও পড়তে পারেন

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ LIVE: ২৫ বছরের মধ্যে উন্নত দেশ হবে ভারত, বললেন মোদী

আমিরশাহিতে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন, রইল দুবাইয়ের একটি মলে ফ্ল্যাশ ডান্সের ভিডিও

লতা মঙ্গেশকর: ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসবে’ আরও এক বার ফিরে দেখা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন