ভয় নয়, জয় করুন করোনাকে: কী বলছেন বিশ্ব থেকে স্মলপক্স দূর করার অগ্রদূত ডা. ল্যারি ব্রিলিয়্যান্ট

0
example of social distancing
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। বুধবার যাদবপুরে ছবিটি তুলেছেন রাজীব বসু।

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়

“আমাদের সময়কালে এবং সভ্যতায় সব চেয়ে মারাত্মক মহামারি তথা অতিমারির নাম করোনা” এক সাক্ষাৎকারে এই ভাবে বক্তব্য উপস্থাপিত করলেন ল্যারি ব্রিলিয়্যান্ট (Larry Brilliant), বিশ্বখ্যাত এপিডেমিওলজিস্ট, ‘বোর্ড অফ এন্ডিং প্যান্ডেমিক্স’-এর (Board of Ending Pandemics) চেয়ারম্যান, বিশ্ব থেকে ‘জাত বসন্ত’ (small pox) দূর করার ক্ষেত্রে যাঁর সব চেয়ে বড়ো ভূমিকা ছিল।

ডা. ব্রিলিয়্যান্ট বলেন, “নভেল করোনাভাইরাসের (novel coronavirus) চরিত্র ও মেজাজ সবই মানুষের অজানা। সারা বিশ্বে সমস্ত মানুষেরই রোগ বা সংক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বা ইমিউন ক্যাপাসিটি রয়েছে। কিন্তু অবাক করার বিষয় এই যে, এই করোনাভাইরাসের (COVID 19/corona viral infectious disease) আক্রমণের বিরুদ্ধে মানুষের শরীরে কোনো প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও তৈরি নেই। ফলে সারা বিশ্বের ৭৮০ কোটি মানুষেরই এই রোগে আক্রান্ত বা সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।”

ডা. ব্রিলিয়্যান্ট আরও বলেন, “এই মুহূর্তে বিশ্ব জুড়ে দেখা যাচ্ছে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি (quarantine), সামাজিক দূরত্ব (social distancing), সব কিছু বন্ধ (lockdown), সংক্রামিতদের সুসম্পূর্ণ চিকিৎসা, বিচ্ছিন্নতা (isolation) ইত্যাদি সব কিছুই চলছে অত্যন্ত যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।”

তাঁর কথায়, “এই সমস্ত যুদ্ধকালীন প্রক্রিয়া আমাদের অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে। আর এর কোনো সময়সীমাও এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট থাকবে না। কারণ, এগুলি চালিয়ে যেতে পারলে করোনাভাইরাসের গুণিতক হারে বৃদ্ধি (geometric progression) বিলম্বিত হবে। তার কারণ, পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, একজন সংক্রামিত মানুষ সাত দিনে এক লক্ষ মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। আর প্রথম ১ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হতে সময় লেগেছে ৬৭ দিন, সংখ্যাটি ২ লক্ষে পৌঁছোয় মাত্র ১১ দিনে, আর ৩ লক্ষে পৌঁছোয় মাত্র ৪ দিনে। অতএব এর সংক্রমণের গতি এ থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে। (তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা)।”

তবে আশার কথাও শুনিয়েছেন ডা. ব্রিলিয়্যান্ট। বলেছেন, “পাশাপাশি সারা বিশ্ব জুড়ে অবিরাম গবেষণা চলছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা (anti-viral vaccine) আবিষ্কারের। যে কোনো সময়েই এই টিকা পেয়ে যাবে পৃথিবী।”

আরও পড়ুন: করোনাভাইরাস নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর, আশায় বুক বাঁধছেন বিশ্ববাসী

ডা. ল্যারি ব্রিলিয়ান্ট আরও বলেন, “করোনাভাইরাসের সাইজ অনুসারে এন৯৫ (N95) উপযুক্ত মাস্ক। মুখে পরা দরকার এই মাস্ক। তবে মাস্ক পরা যাঁদের বেশি দরকার অর্থাৎ ডাক্তার আর স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে আগে মাস্ক পৌঁছে দেওয়া উচিত।”

ডা. ব্রিলিয়ান্ট জানান, প্রত্যেককে সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুতেই হবে। ২-৩ ঘণ্টা অন্তর হাত ধুতে হবে প্রতি বার ২০ সেকেন্ড করে। সতর্ক থাকতে হবেই সকলকেই। শিশুদের এবং ৬০-এর ওপর বয়সিদের দিকে নজর দিতে হবে। ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিক্যাল স্টাফ, শিক্ষক, পুলিশ, দোকানদার-সহ সমস্ত পেশার মানুষকে, সকল কাজে যুক্ত মানুষকে এই ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ স্তর থেকে একেবারে মাঠে-ঘাঠে কাজ করা সব মানুষের জন্যই আন্তরিক এবং আবশ্যিক এই নির্দেশিকা।

প্রাসঙ্গিক ভাবে উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম শুরু হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চিনের উহান (Wuhan) শহরে। প্রথন চার দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর চিন সরকার উওহান শহরে লকডাউন বিধি প্রয়োগ করে। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথমেই উহান শহরের ১ কোটি ১০ লক্ষ মানুষকে ঘরবন্দি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি চলেছে আক্রান্তদের চিহ্নিতকরণ করে তাদের সঠিক চিকিৎসা। তিন মাস পরে সুফল মিলতে শুরু করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) অন্যতম বিশেষজ্ঞ ডা. ব্রুস এলওয়ার্ড, চিন এই লকডাউন ও ঘরবন্দি থাকার পদ্ধতিতে এই সংক্রমণকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুফল পেয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরস আধানম্ ঘেব্রেইয়েসুস (Tedros adhanom ghebreyesus) বলেন, চিনের এই লকডাউন প্রক্রিয়া সারা বিশ্বের কাছে আশার আলো।

আসুন, আমরা সবাই সজাগ-সতর্ক থেকে চিকিৎসক ও প্রশাসকদের নির্দেশ যথাযথ ভাবে অক্ষরে অক্ষরে পালন করে এই বিধ্বংসী সংক্রমণকে রুখে দিই। সবাই ভালো থাকুন। সতর্ক থাকুন।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.