Connect with us

প্রবন্ধ

হিউস্টন হোক বা মুম্বই, বিপর্যয়ের মূলে ‘বেহিসাবি উন্নয়ন’

হিউস্টন ডুবু ডুবু, মুম্বই ভেসে যায়, বাংলা-বিহার-অসম জলের তলায়। এমন ভুবনভরা জলোচ্ছ্বাস আমরা অনেক দিন দেখিনি। এর মধ্যে একটা ইংরেজি টিভি চ্যানেলে দেখলাম, ‘টক শো’-র সঞ্চালিকা বলছেন, “কাল আমরা ‘গডম্যান’দের দোষ দিচ্ছিলাম (হরিয়ানায় হাঙ্গামার জন্য)। আজ কি এই বিপর্যয়ের জন্য ‘গড’কেই দোষ দেব?” অথচ ব্যাপারটা এ রকম নয় যে, গড বা প্রকৃতি যা-ই বলুন, আগে […]

Published

on

নীলাঞ্জন দত্ত

হিউস্টন ডুবু ডুবু, মুম্বই ভেসে যায়, বাংলা-বিহার-অসম জলের তলায়। এমন ভুবনভরা জলোচ্ছ্বাস আমরা অনেক দিন দেখিনি। এর মধ্যে একটা ইংরেজি টিভি চ্যানেলে দেখলাম, ‘টক শো’-র সঞ্চালিকা বলছেন, “কাল আমরা ‘গডম্যান’দের দোষ দিচ্ছিলাম (হরিয়ানায় হাঙ্গামার জন্য)। আজ কি এই বিপর্যয়ের জন্য ‘গড’কেই দোষ দেব?”

Loading videos...

অথচ ব্যাপারটা এ রকম নয় যে, গড বা প্রকৃতি যা-ই বলুন, আগে থেকে সাবধান করেনি। কিছু বিজ্ঞানী সেই সাবধানবাণী পড়তেও পেরেছিলেন। তাঁরা আমাদের জানিয়েও দিয়েছিলেন যে আগামী দিনে যে বন্যাগুলো আসতে চলেছে, তাদের রূপ অনেক বেশি ভয়াবহ হবে। সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ যদিও বলে কয়ে আসে না, আমেরিকাতেই হোক বা ভারতে, এই প্লাবন কিন্তু প্রত্যাশিতই ছিল।

তবুও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। কারণ, ব্যবস্থা নিতে গেলে আমাদের ‘আধুনিক সভ্যতার’ মূলমন্ত্র নিয়েই প্রশ্ন তুলতে হত, যা হল, ‘উন্নয়ন’।

বিষয়টা পশ্চিমবঙ্গের নেতা-নেত্রীদের ‘ম্যান-মেড’ বন্যার তত্ত্বের মতো সরল নয়। বাঁধ থেকে না জানিয়ে জল ছাড়া হয়ে থাকলে তা অবশ্যই দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। কিন্তু জানিয়ে জল ছাড়লেও হয়তো বিপদের এলাকা থেকে লোকজন সরানো যেত (তবে এত লোককে সরানো কি চাট্টিখানি কথা!), বন্যা আটকানো যেত না।

জলবায়ুর পরিবর্তন যে হারে ঘটে চলেছে তাতে ২০৮০ সালের মধ্যে এই ধরনের ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দ্বিগুণ বাড়তে পারে এবং নগরায়ন যে ভাবে বাড়ছে তাতে ভবিষ্যতের এক একটি বন্যায় এর তিন গুণ ক্ষতি হতে পারে।

২০০৫-এ মুম্বইয়ে অভূতপূর্ব বন্যায় ৫০০ জীবনহানি ঘটেছিল এবং প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল। এর পর ১৩ জন ভারতীয় ও বিদেশি বিজ্ঞানীর একটি দল গবেষণা করে আন্তর্জাতিক ‘ক্লাইম্যাটিক চেঞ্জ’ পত্রিকার জানুয়ারি ২০১১ সংখ্যায় একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। তাতে তাঁরা জানান, জলবায়ুর পরিবর্তন যে হারে ঘটে চলেছে তাতে ২০৮০ সালের মধ্যে এই ধরনের ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দ্বিগুণ বাড়তে পারে এবং নগরায়ন যে ভাবে বাড়ছে তাতে ভবিষ্যতের এক একটি বন্যায় এর তিন গুণ ক্ষতি হতে পারে।

জলবায়ুর পরিবর্তনের ওপর নজর রাখার জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসেই যে রিপোর্ট দিয়েছিল, তাতে অতিবৃষ্টি, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়া এবং সমুদ্র উঠে আসার ঝুঁকি অনুসারে পৃথিবীর ৫০টি শহরের একটা তালিকা ছিল। মুম্বই তাতে ছিল দু’নম্বরে। এই রিপোর্টে বলা হয়, যদিও মুম্বইতে নতুন নিকাশি ব্যবস্থার কাজ চলছে, সেই কাজ হচ্ছে ভীষণ ঢিমেতালে। আরও বলা হয় যে লাগামছাড়া ‘উন্নয়ন’ এবং নির্বিচারে উপকূলের গাছপালা কেটে ফেলার ফলে এই শহরের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। এখানে বলে নেওয়া যাক, এই ঝুঁকিপূর্ণ শহরের তালিকায় কলকাতা আর ঢাকাও আছে।

যাই হোক, এ সব কথায় কেউ কান দেয়নি। এখন আবার মুম্বই ডোবার পর তরজা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে, অর্থহীন বিতর্ক চলছে শিবসেনা না বিজেপি না এনসিপি, কে বেশি দায়ী, তা নিয়ে।

একই রকম সতর্কবার্তা ছিল আমেরিকার হিউস্টন, টেক্সাস-এর ক্ষেত্রেও। এবং সেখানেও রাজনৈতিক তরজায় তা তলিয়ে যাচ্ছে। ‘হিউস্টন ক্রনিকল’ পত্রিকার কার্যনির্বাহী সম্পাদক ভার্নন লোয়েব ২৯ অগাস্টের ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ পত্রিকায় লিখেছেন, তিনি গত সাড়ে তিন বছরে হিউস্টনে দু’টি বিধ্বংসী বন্যা দেখেছেন এবং এ বারের ‘হারিকেন হার্ভে’ আছড়ে পড়ার পর জলোচ্ছ্বাসও দেখলেন। দেখতে দেখতে ক্রমেই তাঁর মনে হচ্ছে, এ সবের মূলে এমন কিছু আছে, যা টেক্সাস-এর রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট আর হিউস্টন-এর ডেমোক্র্যাট মেয়র সিলভেস্টার টার্নারের দায়ভাগ নিয়ে তরজার থেকে আরও অনেক বড়ো বিষয়। প্রশ্নটা হল, বিশাল একটা উপকূলবর্তী সমভূমি সাফ করে দিয়ে ‘আধুনিক’ নগরের নামে কংক্রিটের জঙ্গল গড়ে তোলাটা আদৌ বিচক্ষণতার কাজ হয়েছে কিনা।

১৬ জুন ‘দা গার্ডিয়ান’ পত্রিকা লিখেছিল, কী ভাবে হিউস্টনের উপকূলে গত এক দশকে নতুন নতুন এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে একের পর এক শপিং মল, অফিস ব্লক ও আবাসন কমপ্লেক্স। অনেকে আবার অতি চালাকের মতো নিজের বাড়ি এমন ভাবে ‘ডিজাইন’ করেছে, যাতে আপৎকালে বন্যার জল বার করার জন্য নিকাশি ব্যবস্থা থাকে। অথচ কেউ ভাবেনি, গোটা শহরটাই ডুবে গেলে এই ‘নিকাশি ব্যবস্থা’ কী করে কাজ করবে। এ ভাবে কি নিজেও বাঁচা যায়?

“হারিকেন একটা ঝড় মাত্র, তা কোনো বিপর্যয় নয়। বিপর্যয় হল এটাই, যে হিউস্টনের জনসংখ্যা ১৯৯০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বিপর্যয় হল এটাই, যে বহু লোকই ছিল অত্যন্ত গরিব, যাদের কোনো বিমাও ছিল না, যাওয়ার মতো কোনো জায়গাও ছিল না। জলবায়ুর পরিবর্তন মানুষকে একটা ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলে এসে বসত করতে বাধ্য করেনি। বিপর্যয়টা আমরাই বেছে নিয়েছি, তার সঙ্গে জলবায়ুর পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক নেই।”

২৯ আগস্ট বিবিসির পরিবেশ-প্রতিবেদক ম্যাট ম্যাকগ্রাথ মনে করিয়ে দিয়েছেন, হারিকেন কখন আসবে তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও অতিবৃষ্টি আর সমুদ্র উঠে আসার কারণগুলো যথেষ্ট জোর দিয়েই বলার মতো বৈজ্ঞানিক তথ্য কিন্তু এখন আমাদের হাতে রয়েছে। বায়ুমণ্ডল যত গরম হবে, ততই তা বেশি করে জলীয় বাষ্প ধরে রাখবে। ‘ক্লাউসিউস-ক্ল্যাপেরঁ ইকুয়েশন’ অনুসারে,  তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে তার জল ধারণক্ষমতা সাত শতাংশ বাড়বে। এর পর যে এই জলীয় বাষ্প ঝমঝম করে বৃষ্টি হয়ে ঝরবে তা আর আশ্চর্য কী।

ঠিক তেমনই, বাতাস গরম হলে সমুদ্রের জলের ওপরের দিকটাও গরম হবে, ফুলতে থাকবে আর উঠে আসবে। ও দিকে আবার গরমের চোটে গ্লেসিয়ার বা হিমবাহগুলো গলছে আর জল আরও বাড়ছে। জলোচ্ছ্বাস আটকাবার মতো গাছপালা তো উপকূল থেকে আগেই কেটে সাফ করে ফেলা হয়েছে। তার বদলে শহরকে টেনে আনা হয়েছে একেবারে সাগরকিনারে, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নতির হাতছানিতে জনসংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিপদ ডেকে আনা আর কাকে বলে!

লন্ডনের বিপর্যয় বিশেষজ্ঞ ইলান কেলম্যান বিবিসিকে বলেছেন, “হারিকেন একটা ঝড় মাত্র, তা কোনো বিপর্যয় নয়। বিপর্যয় হল এটাই, যে হিউস্টনের জনসংখ্যা ১৯৯০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বিপর্যয় হল এটাই, যে বহু লোকই ছিল অত্যন্ত গরিব, যাদের কোনো বিমাও ছিল না, যাওয়ার মতো কোনো জায়গাও ছিল না। জলবায়ুর পরিবর্তন মানুষকে একটা ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলে এসে বসত করতে বাধ্য করেনি। বিপর্যয়টা আমরাই বেছে নিয়েছি, তার সঙ্গে জলবায়ুর পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক নেই।”

এই জন্য লন্ডনের ‘ক্লায়েন্ট আর্থ’ আর ওয়াশিংটনের ‘আর্থ অ্যান্ড ওয়াটার ল’-এর মতো পরিবেশ-আইনজীবীদের কিছু সংগঠন প্রশ্ন তুলছে, এই সব তথাকথিত প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে আদৌ ‘অ্যাক্টস অভ গড’ বা ‘ভগবানের মার’ বলে সরকার ও শিল্পপতিরা দায় এড়িয়ে যেতে পারে কিনা। কারণ, তারাই তো উন্নয়নের নামে যেখানে সেখানে যা খুশি তা-ই বানাচ্ছে আর বেশি বেশি করে ‘ফসিল ফুয়েল’ বা তেল আর গ্যাস পুড়িয়ে বাতাসে ‘গ্রিনহাউস গ্যাস’ ছড়িয়ে বায়ুমণ্ডলকে গরম করে তুলছে। তাই এ বার থেকে এই রকম ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে’ জীবন বা সম্পত্তিহানির জন্য তাদের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করা যাবে না কেন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো ক্ষমতায় এসেই জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তি থেকে তাঁর দেশকে বার করে এনেছেন। তাঁর মতে, এ সব ভয়ের কোনো ভিত্তি নেই, এ নিয়ে গবেষণা মানে পয়সার অপচয়।

লোয়েব ডাক দিয়েছেন, প্রকৃতির এ বারের ধ্বংসলীলা থেকে শিক্ষা নিয়ে হিউস্টনই পথ দেখাক। তেল আর গ্যাসের চক্কর থেকে বেরিয়ে এসে এই শহর অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহারে বিশ্বের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠুক। এই বিপন্নতার মুহূর্তই হোক সেই নতুন পথে যাত্রা শুরুর শুভমুহূর্ত।

আমেরিকা বা ভারত, কোথাও কোনো সরকার এ সব কথার কোনো মূল্য দেয় কিনা, তা নিয়ে অবশ্য সন্দেহ আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো ক্ষমতায় এসেই জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তি থেকে তাঁর দেশকে বার করে এনেছেন। তাঁর মতে, এ সব ভয়ের কোনো ভিত্তি নেই, এ নিয়ে গবেষণা মানে পয়সার অপচয়।

আর আমাদের দেশে? ২০১৪-এ এ বারের এনডিএ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রাক্তন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী মানেকা গান্ধী ‘স্টেটসম্যান’ কাগজে তাঁর কলমে লিখেছিলেন, “আর একটা নির্বাচন চলে গেল, এবং আমরা, যারা পরিবেশ ও প্রাণীজগৎ সম্পর্কে নিজেদের সচেতন বলে মনে করি, আর একটা সুযোগ হারালাম।” তাঁর আক্ষেপ, “এ সব নিয়ে কথা বলতে গেলেই মিডিয়া আর অন্য রাজনৈতিক নেতারা প্রগতিবিরোধী বলে ব্যাঙ্গ করে। তাই, এমনকি আমার মতো লোকেরাও হতাশ হয়ে চুপ করে থাকি। একটা সময় আসবে যখন গোটা নির্বাচনটাই হবে জল, আবহাওয়া আর তার প্রভাবে খাদ্যাভাব নিয়ে। কিন্তু তখন বড় দেরি হয়ে যাবে।”

আমরা কি এ ভাবে ডুবতে ডুবতে, ভাসতে ভাসতে, চুপ করে সে দিনের জন্য অপেক্ষা করব?

 

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

প্রবন্ধ

লালের হাল! দলীয় লাইন থেকে শুধুই কি কান্তি-তন্ময়রা পিছলে যাচ্ছেন?

কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় অথবা তন্ময় ভট্টাচার্যের মতো পোড়খাওয়া নেতারাও ব্যাক্তিগত মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে দলীয় লাইন থেকে পিছলে যাচ্ছেন।

Published

on

ভোটপ্রচারে বামেদের স্লোগান ছিল, ফেরাতে হাল, ফিরুক লাল। তবে ভোট বাক্সে মহাবিপর্যয়ের পর ধারণা করা যেতেই পারে, আপাতত লালের হাল ফেরানোয় মন দিতে হবে বামফ্রন্ট নেতৃত্বকে। তবে সে সব শুধুই দলের ভিতরে সংস্কারবাদী ঝোঁক এবং বামপন্থী হঠকারিতা লাইনের আলোচনাতেই মিলবে বলে মনে হয় না। লিখলেন জয়ন্ত মণ্ডল

কী ভাবে ক্ষমতায় ফিরবে? ভোটের আগে এমনটাই ক্রিয়াকৌশল নিয়ে এগোচ্ছিল বামফ্রন্ট। যদিও সব থেকে জরুরি চিন্তার বিষয় হতে পারত কী ভাবে ঘুরে দাঁড়াবে? ‘৭ পার্সেন্ট’ কটাক্ষের জবাব দিতে যেখানে লড়াইটা শতাংশেই আটকে রাখা যেত, সেখানে বড়াই করে একে-ওকে-তাকে নিয়ে আসন সংখ্যার ছক কষে ফেললেন বামফ্রন্টের ম্যানেজাররা। ফলাফল ঘোষণার পর নির্মম পরিণতির সম্মুখীন হয়ে অপ্রিয় হলেও বাস্তব কিছু গোপনীয়তা ফাঁস করে দিচ্ছেন কেউ কেউ। ২০১১ সালের বিধানসভায় ৩০.১ শতাংশ ভোট পেয়েও সাধারণ মানুষের রায়কে বেশ নমনীয় ভাবে স্বাগত জানিয়েছিল বামফ্রন্ট। কিন্তু এ বার প্রাপ্ত ভোটের হার ৫.৪৭ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ার পর কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় অথবা তন্ময় ভট্টাচার্যের মতো পোড়খাওয়া নেতারাও ব্যাক্তিগত মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে দলীয় লাইন থেকে পিছলে যাচ্ছেন।

Loading videos...

শাসক দল তৃণমূলের মূল প্রতিপক্ষ এখন বিজেপি। শুধু ভোটের ফলাফলে নয়, ভোটের আগে থেকেই ২৯৪ বিধানসভার প্রায় প্রত্যেকটা জায়গাতেই তৃণমূলপ্রার্থী নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিজেপিকেই বেছে নিয়েছিলেন। বামেরা সে সব শুনেছে, আর মুচকি হাসি হেসেছে। কারণ তারা কতকটা নিশ্চিত হয়েই বসেছিল অধীর-আব্বাসের ‘দোয়া’য় হাল ফিরবে লালের। সরতে সরতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বামেদের দূরত্ব কতটা চওড়া হয়েছে, সেটা ঢাকতে ব্রিগেডের জনস্রোত, রাত ১১টার সময় তরুণ নেতাদের সভায় উপচে পড়া ভিড়- এমন কিছু আপেক্ষিক ঘটনাকে আতসকাচের তলায় ফেলে বড়ো করে তুলে ধরেছে। শুধু কি তাই, গতানুগতিক মিডিয়া সে সব নিয়ে ফলাও করে খবর না করলে সোশ্যাল মিডিয়া বাম-সমর্থকরা গালমন্দ করতেও ছাড়েননি। এক সময় ‘সর্বশক্তিমান’ বামেদের সাধারণ মানুষ ভুলতে শুরু করলেও নেতা-কর্মীরা সেই সুদিনের কথা এখনও বিস্মৃত হতে পারেননি। ঘটি না ডুবলেও মুখেই তালপুকুর হয়ে থাকার অবেচতন আকাঙ্ক্ষার বহির্প্রকাশ ঘটে চলেছে।

এক দিকে তৃণমূল সরকারের ১০ বছরে ব্যর্থতা, দুর্নীতি ইত্যাদি অন্যদিকে বিজেপির মেরুকরণ, কেন্দ্রীয় অপশাসন, এমন অনেক কিছু কারণেই মনে হচ্ছিল বামফ্রন্ট আবার ফিরবে। ফেরাতে লাল, হাত ধরতে হল কংগ্রেস এবং কোনো এক আব্বাস সিদ্দিকির সদ্য গজানো দলের সঙ্গে। আসলে এই মনে হওয়াটাই অবচেতন মনের নির্দেশ। অবচেতন মনে সর্বক্ষণ দাপাদাপি করতে থাকা আদেশ পালন করতে গিয়েই সচেতনতাকে জলাঞ্জলি দেওয়া। বামেরা এক সময় বলত, শত্রুর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ভিতর দিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে নিজেদের দাবি আদায় করে নিতে হবে। তারাই যখন ওজন না বুঝে ভোজনের মতো ক্ষমতা দখলের তীব্র লড়াইয়ে নেমে পড়ে তখন পথে-ঘাটে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের নিয়ে টিকাটিপ্পনী তো চলবেই। অন্তত এ বারের ভোটপর্ব দেখে মনে হল, কংগ্রেস আর আব্বাসের হাত ধরা মানেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। বড়ো অংশের বাম-সমর্থকরাও যে এই ইস্যুতে দলের সঙ্গে তলে তলে দূরত্ব বাড়িয়ে নিচ্ছেন, সেটা বুঝতেই পারলেন না বাম নেতৃত্ব। এখানেও সেই অবচেতন বনাম সচেতন মনের খেলা!

এ বারের ভোটেও কোথাও কোথাও রক্তপাত, হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এমনিতে প্রতিরোধমূলক লড়াইয়ে বামেরা, বিশেষত সিপিএম বরাবরই আক্রমণাত্মক। এ বারের ভোটের সময়েও বেশ কিছু জায়গায় দেখা গেল বুথে বসা বাম এজেন্টদের উপর হামলা চলেছে। অথচ, ভোটের ফলাফলে ওই বুথে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি। এখানেও হয়তো কাজ করেছে বামেদের প্রতিরোধ মূলক লড়াইয়ের প্রবৃত্তি। এই ব্যাপারটাকেও প্রচারে তুলে নিয়ে এসেছিল বামেরা। যদিও প্রতিরোধমূলক লড়াই ও ব্যক্তিগত-সন্ত্রাসবাদের তারতম্য ব্যাখ্যার দৌড়ে সিপিএমের জুড়ি মেলা ভার। বুথস্তরের নেতা-কর্মীর উপর হামলার ঘটনা প্রচারে তুলে ধরতে জেলা নেতাদের দিয়ে পথসভা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কোনো ভূমিকাই নেই। এ ভাবেই কি জনগণকে নিয়ে সংগ্রামের পথ থেকে দূরে সরে গিয়েছে বামেরা? অথচ সেই কবে থেকে তারা জানে, প্রতিরোধকারীদের লড়াই হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে নয়, জনগণের লড়াইয়ে নিয়ে যেতে হয়।

এটাও যেমন একটা দিক, তেমনই ২৯৪ আসনে ঠিক কী কী ফ্যাক্টর কাজ করেছে, সে সবের তালিকা অনেক লম্বা। তবে একটা সাধারণ বিষয় ছিল, বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটাধিকার প্রয়োগ। রাজ্যের শাসক দলের দুর্নীতির মতো বিষয়গুলিকে বামেরা ব্যাপক ভাবে প্রচারে তুলে ধরলেও তা উপেক্ষা করেছেন সাধারণ মানুষ। মমতাকে যত বেশি গালমন্দ করা যাবে, ততই মাইলেজ পাওয়া যাবে, ইউটিউবে, ফেসবুকে লক্ষ-মিলিয়ন ভিউ হবে আর উল্টো দিকে যে ভোট খাটো হবে, সেটা ঘূণাক্ষরেও টের পাননি বাম নেতৃত্ব। বিশ্লেষকরা বলছেন, বামেদের কাছ থেকে কমপক্ষে ৫ শতাংশ ভোট এ বার ঢুকে পড়েছে তৃণমূলের ঝুলিতে। ২০১৬ সালের বিধানসভায় ২৫.৬৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বামফ্রন্ট। ২০১৯ সালে সেখানে ভাগ বসায় বিজেপি, আর এ বার তৃণমূল। এ ধরনের ভোটের ফলাফল স্বাভাবিক ভাবেই কর্মীদের হতাশ করছে। কোথায় কি ভুলভ্রান্তি হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করবেন দলীয় নেতৃত্ব। পাশাপাশি সেখান থেকে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ গ্রহণের রূপরেখাও তৈরি হবে। তবে সে সব শুধুই দলের ভিতরে সংস্কারবাদী ঝোঁক এবং বামপন্থী হঠকারিতা লাইনের আলোচনাতেই মিলবে বলে মনে হয় না। রাহুমুক্তি ঘটাতে আত্মসমালোচনা তো আছেই, সেটাও হতে হবে সময়োপযোগী। কোনো কোনো বাম নেতা আবার সময়ের থেকে এগিয়ে থাকাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চান। কিন্তু ১০ বছর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে দূরে থাকা, নেতৃত্বের সংকট, বিজেপির চরম উত্থান ইত্যাদি মিলেয়ে পুরনো সমর্থন ফিরিয়ে আনার কাজ বামেদের পক্ষে এখন আর জলভাত নয়। আদতে তাদের সামনে এখন যে সংকট, তার শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছে গিয়েছে। শেষ ১০ বছরে ধারাবাহিক ভাবে বামেদের ভোটের হারে হ্রাস গভীরে পৌঁছে যাওয়া সেই সংকটের সূচক হিসেবেও ধরে নেওয়া যেতে পারে। ফলে তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়গুলোও আলোচনার তালিকায় গুরুত্ব পেতেই পারে।

এখান থেকেই হয়তো কান্তি-তন্ময়দের ‘বিদ্রোহ’। সিপিএমের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা, গোল গোল কথা না বলার আহ্বান জানিয়ে বস্তুনিষ্ঠ আত্মসমালোচনার ডাক। ‘বেসুরো’ বলে এড়িয়ে কিন্তু তথাকথিত কু-সংস্কারহীন বাম নেতৃত্বেরও “ভোট বাক্সে ফেরাতে লাল, বাঁধতে হবে গাছের ছাল” গোছের জ্যোতিষীর শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না।

আরও পড়তে পারেন: নরেন্দ্র মোদী আবার কবে বাংলায় আসবেন?

Continue Reading

প্রবন্ধ

এমনই বৈশাখের একটি দিনে মুখোমুখি হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও শ্রীরামকৃষ্ণ

আজ ৯ মে বিশ্বকবির ১৬১তম জন্মদিনে দুই মহামানবের মহামিলনের সেই বিরল মুহূর্তটি স্মরণ করি।

Published

on

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়

সে দিনটাও ছিল তাপদগ্ধ বৈশাখের একটি দিন – ২০ বৈশাখ, ১২৯০ বঙ্গাব্দ। চাক্ষুষ সাক্ষাৎ হল বাংলা তথা ভারতবর্ষের দুই মহাপথিকের, দুই মহামানবের।

Loading videos...

এক জন বাঙালির প্রাণের ঠাকুর, ভারতের শেষ অবতার, কল্প ভারতাত্মা। নির্লোভ, নিরহংকার, নিরাভরণ, আক্ষরিক অর্থে নিরক্ষর অথবা স্বল্পাক্ষর। কিন্তু তাঁর কথামৃত – সে যে এক অপার বিস্ময়। শ্রদ্ধা ও সম্ভ্রমে বাকরুদ্ধ হয়ে যান পৃথিবীর জ্ঞানীগুণীজন। তাঁর জীবনধারা সে তো যুক্তিবাদী বিজ্ঞানের অতীত, যেন অলৌকিক মহিমা বিস্তার করে হয়ে উঠেছেন ভক্তের ভগবান। হয়তো তাই-ই হয়। যুগে যুগে ঈশ্বর-মানবেরা যথা যিশু, মহম্মদ, বুদ্ধ, শ্রীচৈতন্য, কনফুসিয়াস, মহাবীর, নানক, কবীর, জরথ্রুস্ট তাই তো চিরকাল মানবসভ্যতার বিস্ময়। সাধারণ, নিঃসম্বল গ্রামবাংলার গরিবঘরের এক জনের কাছে ছুটে এসেছেন বিশ্বের জ্ঞানীগুণীজন। তাঁর কথা শুনে তাঁরা বাকরুদ্ধ – এ যেন লালন ফকির, সিরাজ সাঁই, রামপ্রসাদের ব্যাখ্যাতীত দর্শনের অনুভূতিকেও সহজ কথার সরলতায় ছাপিয়ে যায়। তিনি শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস।

অন্য জন তাঁর চেয়ে প্রায় ২৫ বছরের ছোটো, ভবিষ্যতের মহামানব, বিশ্বমানব। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর সৃষ্টিতে শ্রীরামকৃষ্ণের কথামৃতের আর্তি যেন মূর্ত হয়ে ওঠে – “জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণাধারায় এসো”।

এক দিকে রবীন্দ্রনাথ, যিনি নিরাকার ব্রহ্মের উপাসক, ব্রহ্মবাদী আর অপর দিকে শ্রীরামকৃষ্ণ, যিনি সর্ব ধর্মে অবগাহন করে হয়েছেন সর্ব ধর্মের ঋদ্ধ একক বিনম্রতার প্রতীক। এ হেন দু’ জনের মুখোমুখি সাক্ষাৎ ঐতিহাসিক ভাবে ঘটেছিল উত্তর কলকাতার কাশীশ্বর মিত্রের বাড়িতে।

“ঁকাশীশ্বর মিত্রের বাড়ি নন্দনবাগানে। তিনি পূর্বে সদরওয়ালা ছিলেন। আদি ব্রাহ্মসমাজভুক্ত ব্রহ্মজ্ঞানী। তিনি নিজের বাড়িতেই দ্বিতলায় বৃহৎ প্রকোষ্ঠমধ্যে ঈশ্বরের উপাসনা করিতেন, আর ভক্তদের নিমন্ত্রণ করিয়া মাঝে মাঝে উৎসব করিতেন। তাঁহার স্বর্গারোহণের পর শ্রীনাথ, যজ্ঞনাথ প্রভৃতি তাঁহার পুত্রগণ কিছুদিন ওইরূপ উৎসব করিয়াছিলেন। তাঁহারাই ঠাকুরকে অতি যত্ন করিয়া নিমন্ত্রণ করিয়া আনিয়াছেন।

“ঠাকুর প্রথমে আসিয়া নিচে একটি বৈঠকখানাঘরে আসন গ্রহণ করিয়াছিলেন। সে ঘরে ব্রাহ্মভক্তগণ ক্রমে ক্রমে আসিয়া একত্রিত হইয়াছিলেন। শ্রীযুক্ত রবীন্দ্র (ঠাকুর) প্রভৃতি ঠাকুরবংশের ভক্তগণ এই উৎসবক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন।” (শ্রীম কথিত শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত)  

সে দিন ছিল চৈত্র মাসের কৃষ্ণা দশমী তিথি, ১৮৮৩ সালের ২ মে। কাশীশ্বর মিত্রের বাড়িতে নন্দনবাগান ব্রাহ্মসমাজের বিংশ সাংবাৎসরিক উৎসব অনুষ্ঠান। অনেক সম্মাননীয় জ্ঞানীগুণী সেখানে আমন্ত্রিত। আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন রবীন্দ্রনাথও, এবং সকলের ঐকান্তিক ভাবে প্রার্থিত পুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস। রবীন্দ্রনাথ তখন বাইশ। বাড়ির সব থেকে বড়ো ঘরে সভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রার্থনাসভার শুরুতে রবীন্দ্রনাথ পিয়ানো বাজিয়ে গান শুনিয়েছিলেন। “সংগীত শুনিয়া ঠাকুরের আনন্দের সীমা রহিল না” (শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত)।  নিবিষ্ট মনে গান শুনতে শুনতে ঠাকুরের ভাব আসে। সবাই পরম বিস্ময়ে এক অতীন্দ্রিয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকলেন। তার পর ধীরে ধীরে ওই অবস্থা কাটিয়ে উঠে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ সে দিন সকলের সঙ্গে এক পংক্তিতে লুচি, ডাল, তরকারি, মিষ্টি খেয়ে উপস্থিত সকলকে বিদায় জানিয়ে দক্ষিণেশ্বরে ফিরে যান।

সে দিনের সেই অনুষ্ঠানের বিবরণ পরের দিন অর্থাৎ ৩ মে, ১৮৮৩-এর ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি সুগভীর শ্রদ্ধা ও অনুরাগ থেকে পরবর্তী কালে ১৩৪২ বঙ্গাব্দে ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে বসে ‘পরমহংস রামকৃষ্ণদেব’ কবিতাটি রচনা করেন –

“বহু সাধকের বহু সাধনার ধারা/ধেয়ানে তোমার মিলিত হয়েছে তারা/তোমার জীবনে অসীমের লীলাপথে/নতুন তীর্থ রূপ নিল এ জগতে;/দেশবিদেশের প্রণাম আনিল টানি/সেথায় আমার প্রণতি দিলাম আনি।”

আজ ৯ মে বিশ্বকবির ১৬১তম জন্মদিনে দুই মহামানবের মহামিলনের সেই বিরল মুহূর্তটি স্মরণ করি। সেই ঐতিহাসিক ঘটনারও ১৩৮তম বর্ষ উদযাপিত হল।  শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – এই দুই মহামানবের পদপ্রান্তে আমাদের শত কোটি প্রণাম।

Continue Reading

প্রবন্ধ

নরেন্দ্র মোদী আবার কবে বাংলায় আসবেন?

বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও ‘হিংসা’ থামাতে রাজ্যে আসছেন। মোদী কবে আসবেন?

Published

on

আরাত্রিকা রায়: শেষ এসেছিলেন এপ্রিল মাসের ১৭ তারিখে। তার পর প্রায় তিন সপ্তাহ হতে চললেও তাঁর দেখা নেই। মাঝেমধ্যে টিভির পরদায় রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু বাংলার বুকে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই ‘অস্বস্তিকর’ ডাক, “দিদি, অ দিদিইইইইই” আর শোনা যাচ্ছে না। ফের কবে আসবেন তিনি?

ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই মোদীর ধারাবাহিক বাংলা সফরের সূচনা। লক্ষ্য বাংলা দখল করে নবান্নের চাবি বিজেপির হাতে তুলে দেওয়া। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ১২টি সফরে নির্বাচনী সভা করেছিলেন ১৮টি। এক নজরে দেখে নেওয়া যেতে পারে সেগুলির দিন এবং স্থান।

Loading videos...

৭ ফেব্রুয়ারি: হলদিয়া/২২ ফেব্রুয়ারি: সাহাগঞ্জ/৭ মার্চ: ব্রিগেড/১৮ মার্চ: পুরুলিয়া/২০ মার্চ: খড়্গপুর/২১ মার্চ: বাঁকুড়া/২৪ মার্চ: কাঁথি/১ এপ্রিল: মথুরাপুর এবং উলুবেড়িয়া/৬ এপ্রিল: কোচবিহার এবং ডুমুরজোলা/১০ এপ্রিল: শিলিগুড়ি এবং কৃষ্ণনগর/১২ এপ্রিল: বর্ধমান, কল্যাণী এবং বারাসত/১৭ এপ্রিল: আসানসোল এবং গঙ্গারামপুর।

তবে এর পরেও মোদীর পুরোনো সূচি অনুযায়ী মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও কলকাতায় সফর ছিল। কিন্তু শেষমেশ ভার্চুয়াল মাধ্যমে দিল্লি থেকে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, ২৩ এপ্রিল দেশের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থাকায় বাংলা সফর বাতিল করতে বাধ্য হন তিনি।

প্রায় সব সভাতেই তিনি হরেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন, “বাংলার বিজেপি সরকার ‘আসওল পরিবর্তন’ নিয়ে আসবে”। যে জন্য তিনি নির্দিষ্ট জায়গায় (ঠিক কোথায়, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে) ছাপ মেরে তৃণমূলকে সাফ করার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

সমালোচকরা বলছেন, বাংলা দখলে তিনি যেমন ব্যর্থ, তেমনই করোনা মহামারি মোকাবিলাতেও তাঁর ব্যর্থতার ছবি স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ছে নিত্যদিন আক্রান্তের সংখ্যা অথবা স্বাস্থ্য পরিষেবার বিপর্যয় দেখে। করোনার প্রথম ঢেউয়ে ঘনঘন জাতির উদ্দেশে ভাষণ, প্রদীপ জ্বালানো, থালাবাসন বাজানোর মতো নিত্যনতুন টোটকায় মাতিয়েও রেখেছিলেন। ধীরে ধীরে নীচের দিকে নেমে আসা করোনা-গ্রাফ ফের সমস্ত শিখর ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর তিনি বাংলা জয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে শুধুই উড়ে বেড়িয়েছেন। বিহারের ভোটেও দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন, কোনো রকমে গড় রক্ষা হতেই ফলাফল ঘোষণার পরই বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে ভার্চুয়াল ভাষণও দিয়েছিলেন। তবে বাংলায় সে সবের সুযোগ মিলল না। অন্য দিকে হাতের বাইরে চলে গেল করোনা।

থাকার মধ্যে রয়েছে বাংলায় ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা আসছেন, বিশেষ প্রতিনিধি দলও আসছে। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় উড়ে আসছে কঠিন কিছু প্রশ্ন। “২ তারিখের পর মেরে ঠান্ডা করে দেব”,
“পুলিশকে দিয়ে জুতো চাটাবো”, “২রা মে ঘর থেকে টেনে টেনে বের করে মারব”, “বেগম হারবে, ফুফা হারবে, পাকিস্তান পাঠিয়ে দেব”, “বদল হবে, বদলাও হবে”, “২ মে থেকে যোগী আদিত্যনাথের মতো সোজা করব”, “আরও অনেক শীতলকুচি হবে”, “আমরা মারব, তোরা লাশ গুনবি” এমন সব হুঙ্কার কারা ছেড়েছিল? তবে বাংলার পরিস্থিতি তেমনটা হতে দেননি বাংলার মানুষ। সোনার বাংলা যদি ‘সুনার বঙ্গাল’ হত তা হলে কী হত, তা অবশ্য জানা নেই।

তবে এখন জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রের বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও ‘হিংসা’ থামাতে রাজ্যে আসছেন। করোনার জন্যে ভারত থেকে বিমান চলাচলে স্থগিতাদেশ জারি করেছে বিশ্বের অনেক দেশ। বিদেশ প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে বাংলায়। ওই মন্ত্রীর নাম বাংলার কত জন শুনেছেন, অথবা তিনি নিজে বাংলার মানুষ তো দূরের কথা ক’টা অলিগলি চেনেন, সেটাও একটা বড়োসড়ো প্রশ্ন।

একই প্রশ্ন মোদীর ১২ সফরে ১৮ সভা নিয়েও। বাংলার মানুষ, বাংলার সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে উপর উপর জেনেই তিনিও বাংলা জয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। হলদিয়ার প্রথম সভাতেই (৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেছিলেন, “মমতার আমলে ১০ বছর ধরে নির্মমতা পেয়েছেন বাংলার মানুষ”।

কঠিন হলেও সত্যি, বাংলার মানুষ ফের সেই মমতাকেই চেয়েছেন। নিজে না বুঝে অন্যকে বোঝাতে গেলে হয়তো এমনই হয়। তবে ইস্যুর কিন্তু শেষ নেই। রাজ্য বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের জারির দাবিতে সরব। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই দাবিতে গলা মেলালে মন্দ হবে না। খুব তাড়াতাড়ি রাষ্ট্রপতির কানে পৌঁছে যেতে পারে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফোনে কথা বলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে। মানে বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসুক না আসুক, তিনি পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় এটাই কাম্য। তা হলে ফের কবে আসবেন প্রধানমন্ত্রী? অনুব্রত মণ্ডল কিন্তু আগেই ডাক দিয়ে রেখেছেন, “নরেন ও…ওউ নরেন”।

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
বাংলাদেশ3 hours ago

Bangladesh Covid Situation: স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বেপরোয়া চলাচল সুইসাইডের শামিল, মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ3 hours ago

Bangladesh-China relation: বিরোধী জোটে যুক্ত হলে সম্পর্কের অবনতি হবে, বাংলাদেশকে হুঁশিয়ারি চিনের

Coronavirus west bengal
রাজ্য7 hours ago

Bengal Corona Update: রাজ্যের সংক্রমণচিত্রে স্থিতাবস্থা অব্যাহত, সুস্থতার হারে বৃদ্ধি, ৮ জেলায় কমল সক্রিয় রোগী

দেশ8 hours ago

Coronavirus Second Wave: টিকা নেওয়ার পরেও কি কোভিড হতে পারে? ব্যাখ্যা দিল সরকার

রাজ্য9 hours ago

Coronavirus Second Wave: সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিলেন অধীররঞ্জন চৌধুরী

দেশ9 hours ago

CWC Meet: “দলকে নতুন শৃঙ্খলায় সঙ্ঘবদ্ধ করতে হবে”, ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বললেন সনিয়া গান্ধী

প্রোনিং
শরীরস্বাস্থ্য9 hours ago

বাড়িতে কোভিড রোগীর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হলে কেন প্রোনিং করাবেন?

রাজ্য10 hours ago

‘গঠনমূলক কাজে সহযোগিতা করব সরকারকে’, বিরোধী দলনেতা হয়েই বললেন শুভেন্দু অধিকারী

ক্রিকেট3 days ago

IPL 2021: বাকি ম্যাচগুলি আয়োজন করতে চেয়ে বিসিসিআইকে আবেদন জানাল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড

রাজ্য3 days ago

Bengal Corona Update: রাজ্যের ১৫ জেলায় মৃত্যুহার ১ শতাংশের কম

দেশ3 days ago

Corona Update: দৈনিক সংক্রমণ কিছুটা কমলেও মৃতের সংখ্যায় রেকর্ড, তবুও মৃত্যুহার নিম্নমুখী

দেশ2 days ago

Covid Crisis: জলে গুলে খেতে হবে, করোনারোধী ওষুধে ছাড়পত্র দিল ডিজিসিআই

রাজ্য2 days ago

Bengal Corona Update: সংক্রমণের হার ফের ৩০ শতাংশ পার, বাড়ল মৃতের সংখ্যাও, তবে কলকাতা-সহ ৯ জেলায় কমল সক্রিয় রোগী

রাজ্য1 day ago

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় মন্ত্রীসভায় একাধিক নতুন মুখ

দেশ1 day ago

ভ্যাকসিন এবং কোভিডের চিকিৎসা সরঞ্জামে ট্যাক্স কেন? মমতার চিঠির পর ১৬টা টুইট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর

রাজ্য1 day ago

Bengal Corona Update: নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় একই, রাজ্যে বাড়ল সুস্থতা

ভিডিও

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 months ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা4 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা4 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা4 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা4 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা4 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে