Connect with us

প্রবন্ধ

সিপিএমের ভোট গেল, আর মুকুল-অর্জুন? পচা শামুকে পা কাটছে কার?

Published

on

nrs on 16th june
debarun roy
দেবারুণ রায়

পাওয়ারফুল হলেও চাওয়ার শেষ হয় না। যার যত ক্ষমতা, তার তত বেশি ক্ষমতা পাওয়ার চেষ্টা। যেমন পাঁচ বছরই ক্ষমতায় বসার স্বপ্ন সফল হওয়ার পর মানুষ ভাবে, আরও একটা মেয়াদ থাকলে হাতে নেওয়া কাজগুলো, ঘোষিত ও অঘোষিত অ্যাজেন্ডাগুলো শেষ ও কার্যকর করা যেত। সেটা করা হলে ভাবে, এ বার একটু মানুষের স্বার্থের কথা ভাবি। একটু দেশ ও দশের সেবা করি। কোনো দিন যা করা যায়নি বা হয়নি। কারণ ইতিহাসে দাগ রেখে যেতে হলে সত্যি সত্যিই আত্মত্যাগের মতো কিছু চাই। না হলে ভবিষ্যৎ ছেড়ে কথা বলবে না। বলবে, যা করেছি কুর্সির জন্যে। নেতা হওয়ার জন্যে। সুতরাং আরও অন্তত পাঁচটা বছর সরকারে থাকলে তবেই ইতিহাসে সুনাম লেখানো যায়। এ ভাবেই পাঁচ পাঁচ করে একক, দশক, এবং শেষ অব্দি আরও পাঁচ বছর করে বেড়েই চলে ক্ষমতায় থাকার উদগ্র আকাঙ্ক্ষা অথবা ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়ার ভয়। মেয়াদের পর মেয়াদ রাজত্ব করার পরেও মনে হয়, যা করার কথা ছিল তা অসমাপ্ত রয়ে গিয়েছে। কাজের কাজ কিছুই করা হয়নি। শুধু ক্ষমতার নেশাতেই এতটা সময় পার। 

আরও পড়ুন বিজেপির ছিপে ‘মাছ’ উঠছে, তবে জল বড্ড বেশি ঘুলিয়ে যাচ্ছে

Loading videos...

অবশেষে সময় শেষের শেষ ঘণ্টা বাজার আগে একটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া খেরোর খাতায়। এই দেখা এমনই, যে এতে ভুল বেরোয় না। অথবা নিজের চোখে ধরা পড়বে নিজের ভুল, সেই ভাবে দেখাটা তো কখনও শেখায়নি কেউ। মানে সত্যি কথা বলতে কি, এটা সিলেবাসেই ছিল না। ব‍্যাস। প্রশ্ন জাগে, রাজনীতি কি আদৌ বিবেকবান মানুষের জন্যে? কারণ, বিবেক থাকলে সেই সব ভুল বা তার চেয়েও বেশি অন্যায় যারা করেছে ও করে চলেছে, অন‍্যের ভুল ধরতে, অনেক কম অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে রব তুলতে তাদের চোখের পাতা পড়ে না! এই নৈতিকতার শোভনতার গভীর সমস্যা বোধহয় রাজনীতিতেই। শাস্ত্রবাক‍্যও অনৈতিক হতে শেখাচ্ছে। বহু প্রাচীন প্রবচন, যুদ্ধে আর প্রেমে কোনো কিছুই অন‍্যায় নয়। এই দুই চরম পরিস্থিতিতে যে যা-ই করুক কার্যসিদ্ধি করতে, তাতে কোনো দোষ নেই। সাতখুন মাফ।

এই নৈতিক মানকে মনে রেখেই চলেন রাজনীতির লোকেরা। তাই পথের কাঁটা যে, তাকে বিপদে পড়তে দেখলে প্রতিপক্ষ খুশি হয়। ভাবে না, ঠিক একই দিন বা আরও খারাপ দিন অপেক্ষা করছে তার জন্যও। চির দিন কাহারও সমান নাহি যায়…। ক্ষমতা এমনই সিমেন্ট যা তিলে তিলে হাতে আসার সময়, অর্থাৎ নির্মাণের দিনে লোকে তত্ত্বকথা বলেও না, শোনেও না। সিমেন্টের বেচাকেনা নিয়ে ভাবেও না। কিন্তু সেই ক্ষমতার ইমারত থেকে এক একটা ইট যখন খসে পড়ে তখন যত প্রশ্ন মনে পড়ে। আপনাআপনিই মাথায় আসে যুক্তি তক্কো আর গপ্পো। যে চেয়ার দখলের জন্যে দিন রাত ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে তাকে রুখতে না পেরে পূর্বসূরিকে দলে টানতে চায়। কিন্তু পোড় খাওয়া পৃর্বসূরি কেন তার দলে আসবেন? তাঁকে তো এক দিন আরও অপমানের সঙ্গে বিদায় দেওয়া হয়েছে। যারা আজ বিরোধী তারাও সে দিন ছিল ঢোল সহরতে। দিল্লির মসনদিবাবু থেকে জঙ্গলের জঙ্গি, সব হাত ধরাধরি করে রামধনু এঁকেছিল বাংলার ক‍্যানভাসে। সাত সমুদ্দুর পার থেকে বঙ্গোপসাগরে এসে আছড়ে পড়েছিল উল্লাসের ঢেউ। জনাদেশ নিয়ে শিল্পায়ন ছিল সরকারের অ্যাজেন্ডা। জমি নেওয়ায় মুষ্টিমেয়র আপত্তিকে মূলধন করে ঘরে-বাইরে যত বিরোধী এক হয়ে বলেছিল, তেরে মেরে ডান্ডা করে দেব ঠান্ডা। করেও দেখিয়েছিল বন্ধু ও শত্রুদের প্রকাশ‍্য ও গোপন মহাজোট। ছিল সবুজ, তেরঙা, গেরুয়া এবং অবুঝ, ফিকে লাল। এমন জোট যখন জাতীয় সড়কে, তখনও দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার সরকার গণতান্ত্রিক দুর্বলতায় অবরোধ সরানোর চাপ অগ্রাহ্য করেছে। ট্রাকে চেপে হার্মাদের হানাদারি হয়নি।

প্রসঙ্গত প্রশ্ন জাগে, এনআরএসের ‘বহিরাগত’দের মাথা ভেঙে দিতে দু’ ট্রাক ভর্তি কারা এসেছিল? ওরাই কি খোলসছাড়া হার্মাদ, না জেলখাটা জল্লাদ? দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করলে মাথা ভেঙে দেব, বলেছিলেন ২০০৭-এর মুখ‍্যমন্ত্রী। মহিষাসুরের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। সবাই পবিত্র জিহ্বা চেঁচে, গঙ্গাজলে কান শুদ্ধ করে বলেছিল, কী হিংসা, কী হিংসা! কী হিংস্র, উদ্ধত মুখ‍্যমন্ত্রী! ব‍্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে পড়া ডানদের কথায় ভানপন্থীরাও ঘাড় নেড়েছিল, ছি ছি, এ কী অপশব্দ! এখন কালে কালে জব্দ জনতা ফের সরব মাথা ভাঙা নিয়ে। তবে এ মাথা নিরীহ, নীরবে সেবাব্রতী তরুণ উজ্জ্বল ডাক্তারের। মোটেও দাঙ্গাবাজের নয়। এবং সেটা ছিল দুষ্কৃতীকে শাসকের কড়া হুঁশিয়ারি। আজ এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মুখ‍্যমন্ত্রী বলুন তো, দাঙ্গাবাজদের রুখতে ওই মৌখিক কড়া হুঁশিয়ারি কি আদৌ অপশব্দ ছিল? বিশেষ করে দাঙ্গার মতো অপকর্মের প্রতিরোধে হাতে না মেরে মুখে ভয় দেখানো শাসকের পক্ষে কী ভাবে অন‍্যায়?

বুদ্ধদেবের জমানায় শিল্পায়নের পক্ষে জনাদেশের প্রসঙ্গে উনি বলেছিলেন ২৩৫/৩৫ আসনের কথা। বলতে চেয়েছিলেন, এ ক্ষেত্রে সরকার কোন মতামত অনুযায়ী চলবে? জনাদেশ তো স্পষ্ট। এবং গণতন্ত্র তো গরিষ্ঠেরই শাসন। সেখানে এতটা বিশাল ফারাক পক্ষে-বিপক্ষে। ব‍্যাস, অমনি মহাভারত অশুদ্ধ হওয়ার মতো রব উঠল। সেই আমরাওরা প্রচার আজও চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ডাক্তারদের বিরোধের মধ্যেও বলা হচ্ছে, মুখ‍্যমন্ত্রীও আমরা-ওরা করছেন। কিন্তু ২০০৭-এর ওই শব্দবন্ধ যেমন ভুল ছিল না, তেমনি আজও ভুল নয়। 

আরও পড়ুন সিঙুরের ভুল, অকূল ও মুকুল,মোদীর মুলুকে ভুলের ফুল

শুধু রাজ‍্যের দিদিভক্ত জনগণের প্রশ্ন, পরিবর্তনের নেত্রীর এই পরিবর্তন কেন? মানুষের নাড়ি দেখতে তাঁর কি কোনো উপদেষ্টা লাগে? নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলা দেখেছে, কোথাও কিছু অঘটন ঘটলেই প্রথম হাজির দিদি। তার পর অন্যরা। সেই তিনি সর্বত্র গেলেও এনআরএসের গুরুতর আহত ডাক্তার পরিবহকে দেখতে যেতে এত দেরি হল? যখন প্রাণসংকট তখন গেলেন না, তার পরও নয়। ডাক্তারদের ধর্মঘট ওঠার পর তিনি গেলেন। ছেলেটির করোটি কোটরে ঢুকেছে হাড়ের ভাঙা টুকরো। দু’দিন যমে মানুষে টানাটানির পর কোমা কেটে গিয়ে প্রাণ ফিরলেও ভবিষ্যতে পুরো স্বাভাবিক হয়তো হবে না কোনো দিনই। অনেক কিছু কার্যকলাপ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ফিরে আসবে কিনা ডাক্তাররা বলতে পারছেন না। মানে হয়তো বা বলতে চাইছেন না অপ্রিয় কথাগুলো। এবং সবটা জেনেও বহু অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলা করায় এখনও রাজ‍্যের এক নম্বর জনপ্রিয় জননেত্রী অকুস্থলে যাওয়া তো দূর, কেন প্রথম ক’ দিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতেও আগ্রহ দেখালেন না। পরে অভিযোগ করলেন, ডাক্তাররা তাঁর ফোন ধরেননি। ডাক্তাররা তা অস্বীকার করলেন। জেদে তাঁরাও কম যাননি। বিশেষ করে ৩০/৩৫ বছর আগের যাঁরা এখন অধ‍্যাপক সেই তাঁদের তারুণ্যের পুরাকালে পাশে ছিলেন তো দিদিই। তখন জুনিয়রদের নেতা ছিলেন নির্মল, আজ মন্ত্রী হয়ে সমাজসংসার বদলানোর বদলে নিজেই বদলে গেছেন। তার পর দুটো প্রজন্ম দিদির ছত্রছায়ায়।

জুনিয়র ডাক্তাররা নানা আন্দোলনে সরকারের ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছেন, দিদির আশীর্বাদ তো তখন ছিল। তখন জ‍্যোতি বসু বলতেন, দাবিদাওয়া ঠিক আছে। কিন্তু হাসপাতাল কারখানা নয়, এটা মনে রাখতে হবে। আজকের মুখ‍্যমন্ত্রী কি অন্য কিছু বলছেন? নিশ্চয়ই না। বলবেন কেন, অথবা কী করে? রাজ‍্যে অভাবী মানুষের প্রাণ বাঁচাবে সরকারি হাসপাতাল ছাড়া কে? যাদের কিছুটা সঙ্গতি আছে তারাও তো মাল্টিস্পেশ‍্যালিটির বিল থেকে বাঁচতে কলকাতার, বাংলার ভালো ডাক্তার, ভালো ছাত্রদের চিকিৎসা আর সেবা পেতে চান। জানেন, ব‍্যবসা নয়, রুগীর রোগ সারানোই ওদের ব্রত। সেই সঙ্গে আছে মেধাবী জুনিয়র ও দিকপাল সিনিয়রদের মেলবন্ধনের প্রক্রিয়ায় সঠিক রোগ নির্ণয়ের সুযোগ।

মাঠে নেই, কিন্তু র‍্যামপার্টে দাঁড়িয়ে রাম রাম করছে বিজেপি। আপাতত আঠারো মানে সাবালক হয়ে বাংলার বিবেক। মুকুল কূল পাচ্ছেন না, অমিত-আশা পূরণ করতে। ধীরে ধীরে লুচি আলুরদম লাইনে বঙ্গ মুকুলিত হচ্ছে। ডায়াবেটিস সত্ত্বেও আলু খেয়ে যাচ্ছেন সব‍্যসাচীর মতো রুই-কাতলাকে রাতারাতি কাত করতে। ওয়েটিংয়ে আছেন ই কানন। চাতকের মতো চেয়ে মেদিনীপুরের দিকে। যে দিন ও দিকে বৃষ্টি হবে, সে দিন কলকাতার আকাশে ঘনঘটা অনিবার্য। কাজলকালো ঘিরলো গো, সব নাও তিরে এসে ভিড়লো গো…। এমন দিনে তারে ছাড়া যায়? মানে ডাক্তারবাবুদের? এই শিক্ষিত কৌম ক্ষণিকের অতিথি। দু’ ট্রাক জল্লাদের দাপট মুহূর্তে মগের মুলুক বানিয়ে ছেড়েছে হাসপাতাল চত্বর। আর মৃতদেহ যখন মুসলমানের অতএব ব‍্যাপারটা বিজেপি চুম্বকের মতো চুম্বন করেছে। এই তো তাদের অভাবনীয় প্রাণপদ্ম। কী অপূর্ব মেরুকরণ চার দিন ধরে। তাণ্ডব নৃত্য সোশ্যাল মিডিয়ায়। রাজ‍্যের শাসকদলেরই বা ক্ষতি হবে কেন? সেই মোদীর গুরু আডবাণীর একটা কথা মনে পড়ছে। কংগ্রেস সরকারকে সতর্ক করে বলছেন, “ইসসে হমারি তো ফায়দা হোগি, মগর দেশ কা ভারি নুকসান হোগা।” সেটা দু’ তরফেই ঘটছে, কিন্তু এ কথা স্বীকার করার মতো কেউ নেই। আমাদের মুখ‍্যমন্ত্রীর মতো তুখোড় রাজনীতিবিদ অবশ্যই আগাগোড়া সবটা বোঝেন। তাই শেষ পর্যন্ত কিছুটা নমনীয় হয়েছেন। ডাক্তারদের নমনীয় হওয়ার অপেক্ষায় না থাকলে আরও কিছু মানুষ প্রাণে বাঁচত। তা ছাড়া রাজনীতির নানা চোরাস্রোতের মধ্যে নিস্প্রভাব দাঁড়িয়ে থাকার মতো পরিণতমনস্ক হওয়া জুনিয়র ডাক্তারদের পক্ষে অসম্ভব।

আরও পড়ুন বাংলা যদি গুজরাত হয়ে যায়, সব থেকে ক্ষতি কার?

কিন্তু যে নেত্রী সাড়ে তিন দশকের বিরোধী শাসন সত্ত্বেও হাতে গোনা ক’জন সহকর্মীর সঙ্গে প্রায় লাগাতার জিতেছেন, বিরোধী দলে থাকতে চিরকাল সংসদেই দাঁড়িয়েছেন, বিধানসভায় নয়, এবং ২২ বছর অবিভক্ত কংগ্রেসের ও ১২ বছর বিভক্ত অংশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, রাজ‍্যের ক্ষমতা থেকে দূরে থাকলেও কেন্দ্রে ‘৯১ থেকে বারবার মন্ত্রিত্ব করেছেন দুই মেরুর সরকারে, কংগ্রেস, এনডিএ ও ইউপিএ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দফতর সামলেছেন, অন্যতম নীতি নির্ধারক থেকেছেন কোয়ালিশন পরিচালনায়, তাঁর মতো এই বিপুল প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁর দলে দ্বিতীয় কারও নেই। সুতরাং এক দিকে অ্যাজিটেটর (আন্দোলনকারী) আর অন‍্য দিকে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (প্রশাসক) হিসেবে অভিজ্ঞ তাঁকে কে শেখাবে কখন নমনীয় হতে হয় আর না হয়। তা ছাড়া এ রাজ্যে যে শ্রেণির জনগণ ও রাজনৈতিক নেতানেত্রীর কাছে বিজেপি এখনও অজানা রহস্য মুখ‍্যমন্ত্রী তাঁদের গোত্রের নন। আরএসএসের অলিগলির প্রায় সব নুক্করই ওঁর কাছে আলোকিত। তবু কেন, কোন ঔদাসীন‍্যে গেরুয়া গড়ের জমি ছাড়ছেন? সিপিএম-ভোট বিজেপিতে যাচ্ছে, বিনা প্রশ্নে এই বাস্তবতাও না হয় মেনে নেওয়া গেল। কিন্তু মুকুল থেকে অর্জুন কোন দলের? তাঁদের তাবৎ শাখাপ্রশাখা? তাঁরা কারা? 

এর পরও মুকুলিত বিজেপির অনর্গল উদগার অবাধে শোনা যাচ্ছে। পাইপলাইনে অসংখ্য নাম। এবং কার্যকারণে ছদ্মবেশ খুলে যাচ্ছে। পদ্মে এত মধু? আর পদ্মপুকুরে পচা শামুকে পা কাটছে কার, পুলিশমন্ত্রীকে অবশ্যই বলে দিতে হবে না।

প্রবন্ধ

লালের হাল! দলীয় লাইন থেকে শুধুই কি কান্তি-তন্ময়রা পিছলে যাচ্ছেন?

কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় অথবা তন্ময় ভট্টাচার্যের মতো পোড়খাওয়া নেতারাও ব্যাক্তিগত মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে দলীয় লাইন থেকে পিছলে যাচ্ছেন।

Published

on

ভোটপ্রচারে বামেদের স্লোগান ছিল, ফেরাতে হাল, ফিরুক লাল। তবে ভোট বাক্সে মহাবিপর্যয়ের পর ধারণা করা যেতেই পারে, আপাতত লালের হাল ফেরানোয় মন দিতে হবে বামফ্রন্ট নেতৃত্বকে। তবে সে সব শুধুই দলের ভিতরে সংস্কারবাদী ঝোঁক এবং বামপন্থী হঠকারিতা লাইনের আলোচনাতেই মিলবে বলে মনে হয় না। লিখলেন জয়ন্ত মণ্ডল

কী ভাবে ক্ষমতায় ফিরবে? ভোটের আগে এমনটাই ক্রিয়াকৌশল নিয়ে এগোচ্ছিল বামফ্রন্ট। যদিও সব থেকে জরুরি চিন্তার বিষয় হতে পারত কী ভাবে ঘুরে দাঁড়াবে? ‘৭ পার্সেন্ট’ কটাক্ষের জবাব দিতে যেখানে লড়াইটা শতাংশেই আটকে রাখা যেত, সেখানে বড়াই করে একে-ওকে-তাকে নিয়ে আসন সংখ্যার ছক কষে ফেললেন বামফ্রন্টের ম্যানেজাররা। ফলাফল ঘোষণার পর নির্মম পরিণতির সম্মুখীন হয়ে অপ্রিয় হলেও বাস্তব কিছু গোপনীয়তা ফাঁস করে দিচ্ছেন কেউ কেউ। ২০১১ সালের বিধানসভায় ৩০.১ শতাংশ ভোট পেয়েও সাধারণ মানুষের রায়কে বেশ নমনীয় ভাবে স্বাগত জানিয়েছিল বামফ্রন্ট। কিন্তু এ বার প্রাপ্ত ভোটের হার ৫.৪৭ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ার পর কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় অথবা তন্ময় ভট্টাচার্যের মতো পোড়খাওয়া নেতারাও ব্যাক্তিগত মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে দলীয় লাইন থেকে পিছলে যাচ্ছেন।

Loading videos...

শাসক দল তৃণমূলের মূল প্রতিপক্ষ এখন বিজেপি। শুধু ভোটের ফলাফলে নয়, ভোটের আগে থেকেই ২৯৪ বিধানসভার প্রায় প্রত্যেকটা জায়গাতেই তৃণমূলপ্রার্থী নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিজেপিকেই বেছে নিয়েছিলেন। বামেরা সে সব শুনেছে, আর মুচকি হাসি হেসেছে। কারণ তারা কতকটা নিশ্চিত হয়েই বসেছিল অধীর-আব্বাসের ‘দোয়া’য় হাল ফিরবে লালের। সরতে সরতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বামেদের দূরত্ব কতটা চওড়া হয়েছে, সেটা ঢাকতে ব্রিগেডের জনস্রোত, রাত ১১টার সময় তরুণ নেতাদের সভায় উপচে পড়া ভিড়- এমন কিছু আপেক্ষিক ঘটনাকে আতসকাচের তলায় ফেলে বড়ো করে তুলে ধরেছে। শুধু কি তাই, গতানুগতিক মিডিয়া সে সব নিয়ে ফলাও করে খবর না করলে সোশ্যাল মিডিয়া বাম-সমর্থকরা গালমন্দ করতেও ছাড়েননি। এক সময় ‘সর্বশক্তিমান’ বামেদের সাধারণ মানুষ ভুলতে শুরু করলেও নেতা-কর্মীরা সেই সুদিনের কথা এখনও বিস্মৃত হতে পারেননি। ঘটি না ডুবলেও মুখেই তালপুকুর হয়ে থাকার অবেচতন আকাঙ্ক্ষার বহির্প্রকাশ ঘটে চলেছে।

এক দিকে তৃণমূল সরকারের ১০ বছরে ব্যর্থতা, দুর্নীতি ইত্যাদি অন্যদিকে বিজেপির মেরুকরণ, কেন্দ্রীয় অপশাসন, এমন অনেক কিছু কারণেই মনে হচ্ছিল বামফ্রন্ট আবার ফিরবে। ফেরাতে লাল, হাত ধরতে হল কংগ্রেস এবং কোনো এক আব্বাস সিদ্দিকির সদ্য গজানো দলের সঙ্গে। আসলে এই মনে হওয়াটাই অবচেতন মনের নির্দেশ। অবচেতন মনে সর্বক্ষণ দাপাদাপি করতে থাকা আদেশ পালন করতে গিয়েই সচেতনতাকে জলাঞ্জলি দেওয়া। বামেরা এক সময় বলত, শত্রুর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ভিতর দিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে নিজেদের দাবি আদায় করে নিতে হবে। তারাই যখন ওজন না বুঝে ভোজনের মতো ক্ষমতা দখলের তীব্র লড়াইয়ে নেমে পড়ে তখন পথে-ঘাটে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের নিয়ে টিকাটিপ্পনী তো চলবেই। অন্তত এ বারের ভোটপর্ব দেখে মনে হল, কংগ্রেস আর আব্বাসের হাত ধরা মানেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। বড়ো অংশের বাম-সমর্থকরাও যে এই ইস্যুতে দলের সঙ্গে তলে তলে দূরত্ব বাড়িয়ে নিচ্ছেন, সেটা বুঝতেই পারলেন না বাম নেতৃত্ব। এখানেও সেই অবচেতন বনাম সচেতন মনের খেলা!

এ বারের ভোটেও কোথাও কোথাও রক্তপাত, হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এমনিতে প্রতিরোধমূলক লড়াইয়ে বামেরা, বিশেষত সিপিএম বরাবরই আক্রমণাত্মক। এ বারের ভোটের সময়েও বেশ কিছু জায়গায় দেখা গেল বুথে বসা বাম এজেন্টদের উপর হামলা চলেছে। অথচ, ভোটের ফলাফলে ওই বুথে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি। এখানেও হয়তো কাজ করেছে বামেদের প্রতিরোধ মূলক লড়াইয়ের প্রবৃত্তি। এই ব্যাপারটাকেও প্রচারে তুলে নিয়ে এসেছিল বামেরা। যদিও প্রতিরোধমূলক লড়াই ও ব্যক্তিগত-সন্ত্রাসবাদের তারতম্য ব্যাখ্যার দৌড়ে সিপিএমের জুড়ি মেলা ভার। বুথস্তরের নেতা-কর্মীর উপর হামলার ঘটনা প্রচারে তুলে ধরতে জেলা নেতাদের দিয়ে পথসভা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কোনো ভূমিকাই নেই। এ ভাবেই কি জনগণকে নিয়ে সংগ্রামের পথ থেকে দূরে সরে গিয়েছে বামেরা? অথচ সেই কবে থেকে তারা জানে, প্রতিরোধকারীদের লড়াই হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে নয়, জনগণের লড়াইয়ে নিয়ে যেতে হয়।

এটাও যেমন একটা দিক, তেমনই ২৯৪ আসনে ঠিক কী কী ফ্যাক্টর কাজ করেছে, সে সবের তালিকা অনেক লম্বা। তবে একটা সাধারণ বিষয় ছিল, বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটাধিকার প্রয়োগ। রাজ্যের শাসক দলের দুর্নীতির মতো বিষয়গুলিকে বামেরা ব্যাপক ভাবে প্রচারে তুলে ধরলেও তা উপেক্ষা করেছেন সাধারণ মানুষ। মমতাকে যত বেশি গালমন্দ করা যাবে, ততই মাইলেজ পাওয়া যাবে, ইউটিউবে, ফেসবুকে লক্ষ-মিলিয়ন ভিউ হবে আর উল্টো দিকে যে ভোট খাটো হবে, সেটা ঘূণাক্ষরেও টের পাননি বাম নেতৃত্ব। বিশ্লেষকরা বলছেন, বামেদের কাছ থেকে কমপক্ষে ৫ শতাংশ ভোট এ বার ঢুকে পড়েছে তৃণমূলের ঝুলিতে। ২০১৬ সালের বিধানসভায় ২৫.৬৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বামফ্রন্ট। ২০১৯ সালে সেখানে ভাগ বসায় বিজেপি, আর এ বার তৃণমূল। এ ধরনের ভোটের ফলাফল স্বাভাবিক ভাবেই কর্মীদের হতাশ করছে। কোথায় কি ভুলভ্রান্তি হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করবেন দলীয় নেতৃত্ব। পাশাপাশি সেখান থেকে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ গ্রহণের রূপরেখাও তৈরি হবে। তবে সে সব শুধুই দলের ভিতরে সংস্কারবাদী ঝোঁক এবং বামপন্থী হঠকারিতা লাইনের আলোচনাতেই মিলবে বলে মনে হয় না। রাহুমুক্তি ঘটাতে আত্মসমালোচনা তো আছেই, সেটাও হতে হবে সময়োপযোগী। কোনো কোনো বাম নেতা আবার সময়ের থেকে এগিয়ে থাকাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চান। কিন্তু ১০ বছর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে দূরে থাকা, নেতৃত্বের সংকট, বিজেপির চরম উত্থান ইত্যাদি মিলেয়ে পুরনো সমর্থন ফিরিয়ে আনার কাজ বামেদের পক্ষে এখন আর জলভাত নয়। আদতে তাদের সামনে এখন যে সংকট, তার শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছে গিয়েছে। শেষ ১০ বছরে ধারাবাহিক ভাবে বামেদের ভোটের হারে হ্রাস গভীরে পৌঁছে যাওয়া সেই সংকটের সূচক হিসেবেও ধরে নেওয়া যেতে পারে। ফলে তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়গুলোও আলোচনার তালিকায় গুরুত্ব পেতেই পারে।

এখান থেকেই হয়তো কান্তি-তন্ময়দের ‘বিদ্রোহ’। সিপিএমের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা, গোল গোল কথা না বলার আহ্বান জানিয়ে বস্তুনিষ্ঠ আত্মসমালোচনার ডাক। ‘বেসুরো’ বলে এড়িয়ে কিন্তু তথাকথিত কু-সংস্কারহীন বাম নেতৃত্বেরও “ভোট বাক্সে ফেরাতে লাল, বাঁধতে হবে গাছের ছাল” গোছের জ্যোতিষীর শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না।

আরও পড়তে পারেন: নরেন্দ্র মোদী আবার কবে বাংলায় আসবেন?

Continue Reading

প্রবন্ধ

এমনই বৈশাখের একটি দিনে মুখোমুখি হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও শ্রীরামকৃষ্ণ

আজ ৯ মে বিশ্বকবির ১৬১তম জন্মদিনে দুই মহামানবের মহামিলনের সেই বিরল মুহূর্তটি স্মরণ করি।

Published

on

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়

সে দিনটাও ছিল তাপদগ্ধ বৈশাখের একটি দিন – ২০ বৈশাখ, ১২৯০ বঙ্গাব্দ। চাক্ষুষ সাক্ষাৎ হল বাংলা তথা ভারতবর্ষের দুই মহাপথিকের, দুই মহামানবের।

Loading videos...

এক জন বাঙালির প্রাণের ঠাকুর, ভারতের শেষ অবতার, কল্প ভারতাত্মা। নির্লোভ, নিরহংকার, নিরাভরণ, আক্ষরিক অর্থে নিরক্ষর অথবা স্বল্পাক্ষর। কিন্তু তাঁর কথামৃত – সে যে এক অপার বিস্ময়। শ্রদ্ধা ও সম্ভ্রমে বাকরুদ্ধ হয়ে যান পৃথিবীর জ্ঞানীগুণীজন। তাঁর জীবনধারা সে তো যুক্তিবাদী বিজ্ঞানের অতীত, যেন অলৌকিক মহিমা বিস্তার করে হয়ে উঠেছেন ভক্তের ভগবান। হয়তো তাই-ই হয়। যুগে যুগে ঈশ্বর-মানবেরা যথা যিশু, মহম্মদ, বুদ্ধ, শ্রীচৈতন্য, কনফুসিয়াস, মহাবীর, নানক, কবীর, জরথ্রুস্ট তাই তো চিরকাল মানবসভ্যতার বিস্ময়। সাধারণ, নিঃসম্বল গ্রামবাংলার গরিবঘরের এক জনের কাছে ছুটে এসেছেন বিশ্বের জ্ঞানীগুণীজন। তাঁর কথা শুনে তাঁরা বাকরুদ্ধ – এ যেন লালন ফকির, সিরাজ সাঁই, রামপ্রসাদের ব্যাখ্যাতীত দর্শনের অনুভূতিকেও সহজ কথার সরলতায় ছাপিয়ে যায়। তিনি শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস।

অন্য জন তাঁর চেয়ে প্রায় ২৫ বছরের ছোটো, ভবিষ্যতের মহামানব, বিশ্বমানব। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর সৃষ্টিতে শ্রীরামকৃষ্ণের কথামৃতের আর্তি যেন মূর্ত হয়ে ওঠে – “জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণাধারায় এসো”।

এক দিকে রবীন্দ্রনাথ, যিনি নিরাকার ব্রহ্মের উপাসক, ব্রহ্মবাদী আর অপর দিকে শ্রীরামকৃষ্ণ, যিনি সর্ব ধর্মে অবগাহন করে হয়েছেন সর্ব ধর্মের ঋদ্ধ একক বিনম্রতার প্রতীক। এ হেন দু’ জনের মুখোমুখি সাক্ষাৎ ঐতিহাসিক ভাবে ঘটেছিল উত্তর কলকাতার কাশীশ্বর মিত্রের বাড়িতে।

“ঁকাশীশ্বর মিত্রের বাড়ি নন্দনবাগানে। তিনি পূর্বে সদরওয়ালা ছিলেন। আদি ব্রাহ্মসমাজভুক্ত ব্রহ্মজ্ঞানী। তিনি নিজের বাড়িতেই দ্বিতলায় বৃহৎ প্রকোষ্ঠমধ্যে ঈশ্বরের উপাসনা করিতেন, আর ভক্তদের নিমন্ত্রণ করিয়া মাঝে মাঝে উৎসব করিতেন। তাঁহার স্বর্গারোহণের পর শ্রীনাথ, যজ্ঞনাথ প্রভৃতি তাঁহার পুত্রগণ কিছুদিন ওইরূপ উৎসব করিয়াছিলেন। তাঁহারাই ঠাকুরকে অতি যত্ন করিয়া নিমন্ত্রণ করিয়া আনিয়াছেন।

“ঠাকুর প্রথমে আসিয়া নিচে একটি বৈঠকখানাঘরে আসন গ্রহণ করিয়াছিলেন। সে ঘরে ব্রাহ্মভক্তগণ ক্রমে ক্রমে আসিয়া একত্রিত হইয়াছিলেন। শ্রীযুক্ত রবীন্দ্র (ঠাকুর) প্রভৃতি ঠাকুরবংশের ভক্তগণ এই উৎসবক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন।” (শ্রীম কথিত শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত)  

সে দিন ছিল চৈত্র মাসের কৃষ্ণা দশমী তিথি, ১৮৮৩ সালের ২ মে। কাশীশ্বর মিত্রের বাড়িতে নন্দনবাগান ব্রাহ্মসমাজের বিংশ সাংবাৎসরিক উৎসব অনুষ্ঠান। অনেক সম্মাননীয় জ্ঞানীগুণী সেখানে আমন্ত্রিত। আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন রবীন্দ্রনাথও, এবং সকলের ঐকান্তিক ভাবে প্রার্থিত পুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস। রবীন্দ্রনাথ তখন বাইশ। বাড়ির সব থেকে বড়ো ঘরে সভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রার্থনাসভার শুরুতে রবীন্দ্রনাথ পিয়ানো বাজিয়ে গান শুনিয়েছিলেন। “সংগীত শুনিয়া ঠাকুরের আনন্দের সীমা রহিল না” (শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত)।  নিবিষ্ট মনে গান শুনতে শুনতে ঠাকুরের ভাব আসে। সবাই পরম বিস্ময়ে এক অতীন্দ্রিয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকলেন। তার পর ধীরে ধীরে ওই অবস্থা কাটিয়ে উঠে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ সে দিন সকলের সঙ্গে এক পংক্তিতে লুচি, ডাল, তরকারি, মিষ্টি খেয়ে উপস্থিত সকলকে বিদায় জানিয়ে দক্ষিণেশ্বরে ফিরে যান।

সে দিনের সেই অনুষ্ঠানের বিবরণ পরের দিন অর্থাৎ ৩ মে, ১৮৮৩-এর ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি সুগভীর শ্রদ্ধা ও অনুরাগ থেকে পরবর্তী কালে ১৩৪২ বঙ্গাব্দে ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে বসে ‘পরমহংস রামকৃষ্ণদেব’ কবিতাটি রচনা করেন –

“বহু সাধকের বহু সাধনার ধারা/ধেয়ানে তোমার মিলিত হয়েছে তারা/তোমার জীবনে অসীমের লীলাপথে/নতুন তীর্থ রূপ নিল এ জগতে;/দেশবিদেশের প্রণাম আনিল টানি/সেথায় আমার প্রণতি দিলাম আনি।”

আজ ৯ মে বিশ্বকবির ১৬১তম জন্মদিনে দুই মহামানবের মহামিলনের সেই বিরল মুহূর্তটি স্মরণ করি। সেই ঐতিহাসিক ঘটনারও ১৩৮তম বর্ষ উদযাপিত হল।  শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – এই দুই মহামানবের পদপ্রান্তে আমাদের শত কোটি প্রণাম।

Continue Reading

প্রবন্ধ

নরেন্দ্র মোদী আবার কবে বাংলায় আসবেন?

বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও ‘হিংসা’ থামাতে রাজ্যে আসছেন। মোদী কবে আসবেন?

Published

on

আরাত্রিকা রায়: শেষ এসেছিলেন এপ্রিল মাসের ১৭ তারিখে। তার পর প্রায় তিন সপ্তাহ হতে চললেও তাঁর দেখা নেই। মাঝেমধ্যে টিভির পরদায় রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু বাংলার বুকে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই ‘অস্বস্তিকর’ ডাক, “দিদি, অ দিদিইইইইই” আর শোনা যাচ্ছে না। ফের কবে আসবেন তিনি?

ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই মোদীর ধারাবাহিক বাংলা সফরের সূচনা। লক্ষ্য বাংলা দখল করে নবান্নের চাবি বিজেপির হাতে তুলে দেওয়া। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ১২টি সফরে নির্বাচনী সভা করেছিলেন ১৮টি। এক নজরে দেখে নেওয়া যেতে পারে সেগুলির দিন এবং স্থান।

Loading videos...

৭ ফেব্রুয়ারি: হলদিয়া/২২ ফেব্রুয়ারি: সাহাগঞ্জ/৭ মার্চ: ব্রিগেড/১৮ মার্চ: পুরুলিয়া/২০ মার্চ: খড়্গপুর/২১ মার্চ: বাঁকুড়া/২৪ মার্চ: কাঁথি/১ এপ্রিল: মথুরাপুর এবং উলুবেড়িয়া/৬ এপ্রিল: কোচবিহার এবং ডুমুরজোলা/১০ এপ্রিল: শিলিগুড়ি এবং কৃষ্ণনগর/১২ এপ্রিল: বর্ধমান, কল্যাণী এবং বারাসত/১৭ এপ্রিল: আসানসোল এবং গঙ্গারামপুর।

তবে এর পরেও মোদীর পুরোনো সূচি অনুযায়ী মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও কলকাতায় সফর ছিল। কিন্তু শেষমেশ ভার্চুয়াল মাধ্যমে দিল্লি থেকে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, ২৩ এপ্রিল দেশের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থাকায় বাংলা সফর বাতিল করতে বাধ্য হন তিনি।

প্রায় সব সভাতেই তিনি হরেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন, “বাংলার বিজেপি সরকার ‘আসওল পরিবর্তন’ নিয়ে আসবে”। যে জন্য তিনি নির্দিষ্ট জায়গায় (ঠিক কোথায়, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে) ছাপ মেরে তৃণমূলকে সাফ করার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

সমালোচকরা বলছেন, বাংলা দখলে তিনি যেমন ব্যর্থ, তেমনই করোনা মহামারি মোকাবিলাতেও তাঁর ব্যর্থতার ছবি স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ছে নিত্যদিন আক্রান্তের সংখ্যা অথবা স্বাস্থ্য পরিষেবার বিপর্যয় দেখে। করোনার প্রথম ঢেউয়ে ঘনঘন জাতির উদ্দেশে ভাষণ, প্রদীপ জ্বালানো, থালাবাসন বাজানোর মতো নিত্যনতুন টোটকায় মাতিয়েও রেখেছিলেন। ধীরে ধীরে নীচের দিকে নেমে আসা করোনা-গ্রাফ ফের সমস্ত শিখর ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর তিনি বাংলা জয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে শুধুই উড়ে বেড়িয়েছেন। বিহারের ভোটেও দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন, কোনো রকমে গড় রক্ষা হতেই ফলাফল ঘোষণার পরই বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে ভার্চুয়াল ভাষণও দিয়েছিলেন। তবে বাংলায় সে সবের সুযোগ মিলল না। অন্য দিকে হাতের বাইরে চলে গেল করোনা।

থাকার মধ্যে রয়েছে বাংলায় ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা আসছেন, বিশেষ প্রতিনিধি দলও আসছে। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় উড়ে আসছে কঠিন কিছু প্রশ্ন। “২ তারিখের পর মেরে ঠান্ডা করে দেব”,
“পুলিশকে দিয়ে জুতো চাটাবো”, “২রা মে ঘর থেকে টেনে টেনে বের করে মারব”, “বেগম হারবে, ফুফা হারবে, পাকিস্তান পাঠিয়ে দেব”, “বদল হবে, বদলাও হবে”, “২ মে থেকে যোগী আদিত্যনাথের মতো সোজা করব”, “আরও অনেক শীতলকুচি হবে”, “আমরা মারব, তোরা লাশ গুনবি” এমন সব হুঙ্কার কারা ছেড়েছিল? তবে বাংলার পরিস্থিতি তেমনটা হতে দেননি বাংলার মানুষ। সোনার বাংলা যদি ‘সুনার বঙ্গাল’ হত তা হলে কী হত, তা অবশ্য জানা নেই।

তবে এখন জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রের বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও ‘হিংসা’ থামাতে রাজ্যে আসছেন। করোনার জন্যে ভারত থেকে বিমান চলাচলে স্থগিতাদেশ জারি করেছে বিশ্বের অনেক দেশ। বিদেশ প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে বাংলায়। ওই মন্ত্রীর নাম বাংলার কত জন শুনেছেন, অথবা তিনি নিজে বাংলার মানুষ তো দূরের কথা ক’টা অলিগলি চেনেন, সেটাও একটা বড়োসড়ো প্রশ্ন।

একই প্রশ্ন মোদীর ১২ সফরে ১৮ সভা নিয়েও। বাংলার মানুষ, বাংলার সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে উপর উপর জেনেই তিনিও বাংলা জয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। হলদিয়ার প্রথম সভাতেই (৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেছিলেন, “মমতার আমলে ১০ বছর ধরে নির্মমতা পেয়েছেন বাংলার মানুষ”।

কঠিন হলেও সত্যি, বাংলার মানুষ ফের সেই মমতাকেই চেয়েছেন। নিজে না বুঝে অন্যকে বোঝাতে গেলে হয়তো এমনই হয়। তবে ইস্যুর কিন্তু শেষ নেই। রাজ্য বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের জারির দাবিতে সরব। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই দাবিতে গলা মেলালে মন্দ হবে না। খুব তাড়াতাড়ি রাষ্ট্রপতির কানে পৌঁছে যেতে পারে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফোনে কথা বলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে। মানে বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসুক না আসুক, তিনি পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় এটাই কাম্য। তা হলে ফের কবে আসবেন প্রধানমন্ত্রী? অনুব্রত মণ্ডল কিন্তু আগেই ডাক দিয়ে রেখেছেন, “নরেন ও…ওউ নরেন”।

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
Madhyamik examination west bengal
শিক্ষা ও কেরিয়ার49 mins ago

Madhyamik 2021: আপাতত হচ্ছে না মাধ্যমিক পরীক্ষা, সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পর্ষদ

দেশ1 hour ago

Telangana Lockdown: ১২ মে থেকে ১০ দিনের শর্তসাপেক্ষ লকডাউন জারি হচ্ছে তেলঙ্গানায়

প্রযুক্তি2 hours ago

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোভিড অ্যাপ, সহজে জানা যাবে যাবতীয় তথ্য

রাজ্য2 hours ago

দিব্যেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ জেলা তৃণমূলের

বিজ্ঞান3 hours ago

রক্তের গ্রুপের উপর কি কোভিড আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, গবেষণায় জানাল সিএসআইআর

বিদেশ4 hours ago

স্বাস্থ্যকর্মীর ভুলে ইতালির এক মহিলাকে কোভিড টিকার ৬টি ডোজ, তার পর কী হল

রাজ্য5 hours ago

বিধায়ক পদ ছাড়ছেন রাজ্যের দুই বিজেপি নেতা

দেশ6 hours ago

আক্রান্ত কর্মীদের দেখতে গিয়ে হামলার শিকার ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, অভিযুক্ত বিজেপি

দেশ3 days ago

Covid Crisis: জলে গুলে খেতে হবে, করোনারোধী ওষুধে ছাড়পত্র দিল ডিজিসিআই

বিজ্ঞান2 days ago

কোভিডের ভাইরাস বায়ুবাহিত, ৬ ফুট পর্যন্ত ছড়াতে পারে, দাবি শীর্ষ মার্কিন সংস্থার

রাজ্য2 days ago

Bengal Corona Update: নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় একই, রাজ্যে বাড়ল সুস্থতা

রাজ্য3 days ago

Bengal Corona Update: সংক্রমণের হার ফের ৩০ শতাংশ পার, বাড়ল মৃতের সংখ্যাও, তবে কলকাতা-সহ ৯ জেলায় কমল সক্রিয় রোগী

দেশ2 days ago

ভ্যাকসিন এবং কোভিডের চিকিৎসা সরঞ্জামে ট্যাক্স কেন? মমতার চিঠির পর ১৬টা টুইট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর

রাজ্য2 days ago

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় মন্ত্রীসভায় একাধিক নতুন মুখ

দেশ3 days ago

Vaccination Drive: শীঘ্রই চতুর্থ কোভিড-টিকা পেয়ে যেতে পারে ভারত

বিজ্ঞান2 days ago

পৃথিবীতে ফিরে এল চিনা রকেটের অবশিষ্টাংশ, পড়ল ভারত মহাসাগরে

ভিডিও

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 months ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা4 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা4 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা4 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা4 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা4 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে