Connect with us

প্রবন্ধ

‘ইনার পার্টি স্ট্রাগল’ কাকে বলে দেখালেন ইয়েচুরি, বসু লাইনই জয়ী

সিপিএমের ইতিহাসে এই প্রথম সংখ্যালঘু লাইনের প্রবক্তা নিজের অবস্থান অটুট রেখে দলের সাধারণ সম্পাদকপদে নির্বাচিত হলেন। এবং কার্যত পায়ের তলার মাটি হারাতে হল সংখ্যাগরিষ্ঠ কট্টরপন্থীদের নেতা প্রকাশ কারাটকে। যে রাজনৈতিক লাইন প্রতিষ্ঠা পেল হায়দরাবাদের ২২তম পার্টি কংগ্রেসে, তার সঙ্গে কিন্তু সিপিএমের আজন্ম অনুসৃত রণকৌশলের কোনো সংঘাত নেই। বরং বলা চলে, প্রথাগত লাইনই স্বীকৃতি পেল নতুন […]

Published

on

দেবারুণ রায়

সিপিএমের ইতিহাসে এই প্রথম সংখ্যালঘু লাইনের প্রবক্তা নিজের অবস্থান অটুট রেখে দলের সাধারণ সম্পাদকপদে নির্বাচিত হলেন। এবং কার্যত পায়ের তলার মাটি হারাতে হল সংখ্যাগরিষ্ঠ কট্টরপন্থীদের নেতা প্রকাশ কারাটকে। যে রাজনৈতিক লাইন প্রতিষ্ঠা পেল হায়দরাবাদের ২২তম পার্টি কংগ্রেসে, তার সঙ্গে কিন্তু সিপিএমের আজন্ম অনুসৃত রণকৌশলের কোনো সংঘাত নেই। বরং বলা চলে, প্রথাগত লাইনই স্বীকৃতি পেল নতুন করে।

Loading videos...

ষাট, সত্তর বা আশির দশকের কট্টর কংগ্রেসবিরোধী সিপিএম নেতারাও সর্বভারতীয় রাজনীতির দিশা নিরূপণের ক্ষেত্রে অন্ধ কংগ্রেস বিরোধিতা আঁকড়ে থাকেননি। পি সুন্দরাইয়ার জমানায় ’৬৭-তে কংগ্রেসের ভেতর ‘প্রগতিশীল’ হিসাবে চিহ্নিত ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন সরকার টিকিয়ে রাখতে লোকসভায় অনুকূল রণনীতি নিয়েছিল সিপিএম সংসদীয় দল। ’৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইন্দিরার ভূমিকার সমর্থনেও অগ্রণী ছিল সিপিএম। কমিউনিস্ট পার্টি ভাগ হওয়ার ক্ষত তখনও যথেষ্টই দগদগে। সে সময় এস এ ডাঙ্গের লাইনে ইন্দিরাকে সমর্থনে মুক্তকচ্ছ তো ছিলই সিপিআই। কিন্তু জ্ঞাতিশত্রুতার প্রভাব সিপিএমের কর্মসূচিতে আগাগোড়া জ্বলজ্বল করলেও মূল প্রশ্নে তাদের বিরোধ ছিল না সিপিআইয়ের সঙ্গে। বিরোধ প্রকট হল আরও এক বছর পরে। তবে দুই কমিউনিস্ট পার্টিরই রাজ্য ও সর্বভারতীয় রণনীতিতে কিছুটা তফাত ছিল ’৬৭ থেকে ’৭১ পর্যন্ত। কারণ বাংলায় দীর্ঘ ২০ বছরের কংগ্রেস জমানার অবসান ঘটিয়ে যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে ’৬৭-তেই। এ বার সেই সরকার ফেলার খেলায় ইন্দিরার পরের পর ‘৩৫৬’ রাজ্যে সিপিএমকে পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে সাহায্য করে। যুক্তফ্রন্টের নানা পরীক্ষানিরীক্ষায় অপেক্ষাকৃত ছোটো শরিক হিসাবে শামিল ছিল সিপিআই। এবং ফ্রন্টের নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন কংগ্রেস ভেঙে বেরিয়ে আসা বাংলা কংগ্রেসের নেতা অজয় মুখোপাধ্যায়। তাঁর ভাই বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায় ছিলেন সিপিআইয়ের শীর্ষ নেতাদের অন্যতম ও যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রী। সেই সময়েই রাজনীতিতে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের উত্থান, বাংলা কংগ্রেসেই। ওই প্রথম বাম জমানার রাজ্যসভা সদস্য হিসেবে তাঁর দিল্লিতে পদার্পণ।

public meeting on the occasion of 22nd party congress of cpm

পার্টি কংগ্রেস উপলক্ষে প্রকাশ্য জনসভা।

বাহাত্তরে অতীত মুছে ফেলে গরিষ্ঠ ডাঙ্গেপন্থীরাই সিদ্ধার্থশংকরের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে যেতে বাধ্য করে রাজ্য সিপিআইকে। ওই ভোটই বাংলায় প্রথম রিগিংয়ে কলঙ্কিত হয়। বরানগরে কংগ্রেস সমর্থিত সিপিআই প্রার্থী শিবদাস ভট্টাচার্যের কাছে বিপুল ভোটে হেরে যান জ্যোতি বসু। যদিও ভোটের দিন ছাপ্পা ভোটের বোলবোলা দেখে বেলা বারোটাতেই সাংবাদিক বৈঠক ডেকে জ্যোতিবাবু ঘোষণা করেছিলেন সারা রাজ্যেই কারচুপির ভোট হচ্ছে – “ইলেকশন ইজ রিগড্‌”। সুতরাং পরিণাম কী হবে জানাই ছিল। এর পর সিপিএম পুরো পাঁচ বছরই বিধানসভা বয়কট করে। বামেদের মধ্যে শুধু আরএসপি যোগ দেয় বিধানসভায়। আর সিপিআই কংগ্রেসের সঙ্গেই থাকে।

আরও পড়ুন: কোথায় বাংলার মা-মাটি-মানুষ?

তার পর জয়প্রকাশের জনজাগরণের ডাক ও জরুরি অবস্থা। এই সময় সিপিএমের কংগ্রেস বিরোধিতার লাইন তীব্র হয়। জয়প্রকাশের হাত ধরেই জ্যোতি বসু সিপিএমকে কার্যত বন্ধ্যাদশা থেকে মুক্ত করেন। কেন্দ্রে প্রথম অকংগ্রেসি সরকারের নান্দীমুখের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে বামফ্রন্টের উত্থান ’৭৭-এ। যদিও ’৭৯-তে সিপিএম সমর্থিত সেই মোরারজি সরকারের পতনের সময় বাংলায় জ্যোতি বসু, প্রমোদ দাশগুপ্ত পলিটব্যুরোয় সংখ্যালঘু হয়ে পড়েন। মোরারজি সরকারকে সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নে তাঁরা দু’ জন ভোট দিলেও ইএমএস নাম্বুদিরিপাদ-সহ তাবৎ শীর্ষ নেতারা, এমনকি বাংলার সমর মুখোপাধ্যায়ও, সরকার ফেলার পক্ষে ভোট দেন। সিপিএমের গরিষ্ঠ অংশের সিদ্ধান্তের সুবাদেই কেন্দ্রে ফিরে আসেন ইন্দিরা। যদিও ’৮০-এর দশকে বিরল যে ক’টি রাজ্যে হার মেনেছিল কংগ্রেস, তার অন্যতম ছিল বাংলা।

basu, yechury and surjit’৮০-তেই বিজেপির জন্ম। এবং বিজেপির সেই অঙ্কুর দশাতেই মূল শত্রুর ব্র্যাকেটে রাখতে দলে সরব হন ইএমএস। সারা দেশের মধ্যে প্রথম কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী। তাঁরই মন্ত্রশিষ্য প্রকাশ কারাট দীর্ঘদিন দলের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে। কিন্তু ’৮৯-এর রাষ্ট্রীয় মোর্চা সরকারের বিদায়ের (’৯০-এ) পর থেকেই অযোধ্যার রামমন্দিরকে সামনে রেখে সিপিএম রণনীতি বদলায়। বাংলা, কেরল, ত্রিপুরায় কংগ্রেস বিরোধিতা তীব্র রেখেই সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিজেপিকে রুখতে কংগ্রেসের সঙ্গে অদৃশ্য সমঝোতা করে। ’৯১-তে রাও জমানায় কেন্দ্রের সংখ্যালঘু কংগ্রেস সরকারকে বাঁচিয়ে দেয় সিপিএম। ’৯৬-তে কংগ্রেসের সমর্থনে যুক্তফ্রন্ট সরকার গড়ার সময় সিপিএমের জ্যোতি বসু ও হরকিষেন সিং সুরজিৎ ছিলেন মূল কারিগর। রাওকে যেমন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনুরোধ নিয়ে ’৯১-তে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন কট্টর কংগ্রেস-বিরোধী নেতা ইএমএস নাম্বুদিরিপাদ, তেমনই প্রথমে রাও ও পরে সীতারাম কেশরীকে দিয়ে যুক্তফ্রন্টকে সমর্থন করানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেন সুরজিৎ ও জ্যোতিবাবু। যুক্তফ্রন্টের বিদায়ের পর কেন্দ্রে বিজেপি নেতা অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শামিল হলে সিপিএম-কংগ্রেস ঘনিষ্ঠতার পথ আরও প্রশস্ত হয়।

২০০৪ পর্যন্ত অটল-জমানায় এই রাজনীতি আরও ভিত্তি পায় সিপিএমে। এবং ২০০৪-এ ৬০ জন বাম এমপির সমর্থনে কেন্দ্রে কংগ্রেসের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এই সময়ে ইউপিএ-র নামকরণ থেকে গঠন ও আঞ্চলিক দলগুলিকে শামিল করার প্রক্রিয়ার নেতা ছিলেন বসু ও সুরজিৎ। এই জমানারই যুক্তিযুক্ত পরিণতি ছিল স্পিকারের পদে প্রথম কমিউনিস্ট সাংসদের নির্বাচন। সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে স্পিকার করার সময়েও চুলচেরা বিশ্লেষণের কামাই ছিল না সিপিএমে। এবং অনিল-বিমানকে, এমনকি সীতারাম ইয়েচুরিকে সঙ্গে নিয়ে যে প্রকাশ কারাট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দোরগোড়ায় আটকে ছিলেন জ্যোতি বসুকে, তাঁকেই সোমনাথের স্পিকার হওয়ার প্রস্তাব গিলতে হয় বাধ্য হয়ে। বসু ও সুরজিৎ আগাগোড়া দলের সংখ্যালঘু লাইনের নেতা তখন। এবং তখনও প্রকাশ কারাট সংখ্যাগরিষ্ঠ কট্টরপন্থীদের শীর্ষে।

’৯৬-এর পর ২০০৪-এর মধ্যেই অবশ্য দলের শীর্ষে কেউ কেউ অবস্থান বদলেছেন, যাঁদের মধ্যে অবশ্যই উল্লেখ্য ইয়েচুরি। ২০০৮-এ পরমাণু চুক্তির অনড় ইস্যুতে মনমোহনের মরিয়া অবস্থানকে সামনে রেখে ফের কংগ্রেস-বিরোধিতা মাথা তুলল সিপিএমে। কারাটই তখন সাধারণ সম্পাদক। এবং সেই থেকেই তৃণমূলকে জমি ছেড়ে দেওয়া শুরু সিপিএমের। কেন্দ্রের শাসক ছেড়ে বেরোল তারা। শূন্যস্থান পূরণ করলেন বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে আসা মমতা। ২০০৯-এ বাংলায় সিপিএমের পাশা পালটে দিয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস, মমতার সমর্থনে। বাংলার সংখ্যালঘু সমর্থনে ধসের ষোলোকলা পূর্ণ হল। এগারোয় মমতার পূর্ণিমা এল বুদ্ধদেবের ঘোর অমাবস্যা সুনিশ্চিত করে। দলকে অর্থহীন করে তোলার নেশায় চুর কট্টরপন্থীরা ত্রিপুরার মানিককেও হারিয়ে দিল। শেষ পর্যন্ত কেরল দিয়ে ভাঙন আটকাতে ব্যর্থ কারাটকে ২২তম কংগ্রেসে পিছু হটতেই হল। বসুর পথে দলের অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে জয়ী হলেন ইয়েচুরি।

প্রবন্ধ

লালের হাল! দলীয় লাইন থেকে শুধুই কি কান্তি-তন্ময়রা পিছলে যাচ্ছেন?

কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় অথবা তন্ময় ভট্টাচার্যের মতো পোড়খাওয়া নেতারাও ব্যাক্তিগত মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে দলীয় লাইন থেকে পিছলে যাচ্ছেন।

Published

on

ভোটপ্রচারে বামেদের স্লোগান ছিল, ফেরাতে হাল, ফিরুক লাল। তবে ভোট বাক্সে মহাবিপর্যয়ের পর ধারণা করা যেতেই পারে, আপাতত লালের হাল ফেরানোয় মন দিতে হবে বামফ্রন্ট নেতৃত্বকে। তবে সে সব শুধুই দলের ভিতরে সংস্কারবাদী ঝোঁক এবং বামপন্থী হঠকারিতা লাইনের আলোচনাতেই মিলবে বলে মনে হয় না। লিখলেন জয়ন্ত মণ্ডল

কী ভাবে ক্ষমতায় ফিরবে? ভোটের আগে এমনটাই ক্রিয়াকৌশল নিয়ে এগোচ্ছিল বামফ্রন্ট। যদিও সব থেকে জরুরি চিন্তার বিষয় হতে পারত কী ভাবে ঘুরে দাঁড়াবে? ‘৭ পার্সেন্ট’ কটাক্ষের জবাব দিতে যেখানে লড়াইটা শতাংশেই আটকে রাখা যেত, সেখানে বড়াই করে একে-ওকে-তাকে নিয়ে আসন সংখ্যার ছক কষে ফেললেন বামফ্রন্টের ম্যানেজাররা। ফলাফল ঘোষণার পর নির্মম পরিণতির সম্মুখীন হয়ে অপ্রিয় হলেও বাস্তব কিছু গোপনীয়তা ফাঁস করে দিচ্ছেন কেউ কেউ। ২০১১ সালের বিধানসভায় ৩০.১ শতাংশ ভোট পেয়েও সাধারণ মানুষের রায়কে বেশ নমনীয় ভাবে স্বাগত জানিয়েছিল বামফ্রন্ট। কিন্তু এ বার প্রাপ্ত ভোটের হার ৫.৪৭ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ার পর কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় অথবা তন্ময় ভট্টাচার্যের মতো পোড়খাওয়া নেতারাও ব্যাক্তিগত মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে দলীয় লাইন থেকে পিছলে যাচ্ছেন।

Loading videos...

শাসক দল তৃণমূলের মূল প্রতিপক্ষ এখন বিজেপি। শুধু ভোটের ফলাফলে নয়, ভোটের আগে থেকেই ২৯৪ বিধানসভার প্রায় প্রত্যেকটা জায়গাতেই তৃণমূলপ্রার্থী নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিজেপিকেই বেছে নিয়েছিলেন। বামেরা সে সব শুনেছে, আর মুচকি হাসি হেসেছে। কারণ তারা কতকটা নিশ্চিত হয়েই বসেছিল অধীর-আব্বাসের ‘দোয়া’য় হাল ফিরবে লালের। সরতে সরতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বামেদের দূরত্ব কতটা চওড়া হয়েছে, সেটা ঢাকতে ব্রিগেডের জনস্রোত, রাত ১১টার সময় তরুণ নেতাদের সভায় উপচে পড়া ভিড়- এমন কিছু আপেক্ষিক ঘটনাকে আতসকাচের তলায় ফেলে বড়ো করে তুলে ধরেছে। শুধু কি তাই, গতানুগতিক মিডিয়া সে সব নিয়ে ফলাও করে খবর না করলে সোশ্যাল মিডিয়া বাম-সমর্থকরা গালমন্দ করতেও ছাড়েননি। এক সময় ‘সর্বশক্তিমান’ বামেদের সাধারণ মানুষ ভুলতে শুরু করলেও নেতা-কর্মীরা সেই সুদিনের কথা এখনও বিস্মৃত হতে পারেননি। ঘটি না ডুবলেও মুখেই তালপুকুর হয়ে থাকার অবেচতন আকাঙ্ক্ষার বহির্প্রকাশ ঘটে চলেছে।

এক দিকে তৃণমূল সরকারের ১০ বছরে ব্যর্থতা, দুর্নীতি ইত্যাদি অন্যদিকে বিজেপির মেরুকরণ, কেন্দ্রীয় অপশাসন, এমন অনেক কিছু কারণেই মনে হচ্ছিল বামফ্রন্ট আবার ফিরবে। ফেরাতে লাল, হাত ধরতে হল কংগ্রেস এবং কোনো এক আব্বাস সিদ্দিকির সদ্য গজানো দলের সঙ্গে। আসলে এই মনে হওয়াটাই অবচেতন মনের নির্দেশ। অবচেতন মনে সর্বক্ষণ দাপাদাপি করতে থাকা আদেশ পালন করতে গিয়েই সচেতনতাকে জলাঞ্জলি দেওয়া। বামেরা এক সময় বলত, শত্রুর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ভিতর দিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে নিজেদের দাবি আদায় করে নিতে হবে। তারাই যখন ওজন না বুঝে ভোজনের মতো ক্ষমতা দখলের তীব্র লড়াইয়ে নেমে পড়ে তখন পথে-ঘাটে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের নিয়ে টিকাটিপ্পনী তো চলবেই। অন্তত এ বারের ভোটপর্ব দেখে মনে হল, কংগ্রেস আর আব্বাসের হাত ধরা মানেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। বড়ো অংশের বাম-সমর্থকরাও যে এই ইস্যুতে দলের সঙ্গে তলে তলে দূরত্ব বাড়িয়ে নিচ্ছেন, সেটা বুঝতেই পারলেন না বাম নেতৃত্ব। এখানেও সেই অবচেতন বনাম সচেতন মনের খেলা!

এ বারের ভোটেও কোথাও কোথাও রক্তপাত, হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এমনিতে প্রতিরোধমূলক লড়াইয়ে বামেরা, বিশেষত সিপিএম বরাবরই আক্রমণাত্মক। এ বারের ভোটের সময়েও বেশ কিছু জায়গায় দেখা গেল বুথে বসা বাম এজেন্টদের উপর হামলা চলেছে। অথচ, ভোটের ফলাফলে ওই বুথে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি। এখানেও হয়তো কাজ করেছে বামেদের প্রতিরোধ মূলক লড়াইয়ের প্রবৃত্তি। এই ব্যাপারটাকেও প্রচারে তুলে নিয়ে এসেছিল বামেরা। যদিও প্রতিরোধমূলক লড়াই ও ব্যক্তিগত-সন্ত্রাসবাদের তারতম্য ব্যাখ্যার দৌড়ে সিপিএমের জুড়ি মেলা ভার। বুথস্তরের নেতা-কর্মীর উপর হামলার ঘটনা প্রচারে তুলে ধরতে জেলা নেতাদের দিয়ে পথসভা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কোনো ভূমিকাই নেই। এ ভাবেই কি জনগণকে নিয়ে সংগ্রামের পথ থেকে দূরে সরে গিয়েছে বামেরা? অথচ সেই কবে থেকে তারা জানে, প্রতিরোধকারীদের লড়াই হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে নয়, জনগণের লড়াইয়ে নিয়ে যেতে হয়।

এটাও যেমন একটা দিক, তেমনই ২৯৪ আসনে ঠিক কী কী ফ্যাক্টর কাজ করেছে, সে সবের তালিকা অনেক লম্বা। তবে একটা সাধারণ বিষয় ছিল, বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটাধিকার প্রয়োগ। রাজ্যের শাসক দলের দুর্নীতির মতো বিষয়গুলিকে বামেরা ব্যাপক ভাবে প্রচারে তুলে ধরলেও তা উপেক্ষা করেছেন সাধারণ মানুষ। মমতাকে যত বেশি গালমন্দ করা যাবে, ততই মাইলেজ পাওয়া যাবে, ইউটিউবে, ফেসবুকে লক্ষ-মিলিয়ন ভিউ হবে আর উল্টো দিকে যে ভোট খাটো হবে, সেটা ঘূণাক্ষরেও টের পাননি বাম নেতৃত্ব। বিশ্লেষকরা বলছেন, বামেদের কাছ থেকে কমপক্ষে ৫ শতাংশ ভোট এ বার ঢুকে পড়েছে তৃণমূলের ঝুলিতে। ২০১৬ সালের বিধানসভায় ২৫.৬৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বামফ্রন্ট। ২০১৯ সালে সেখানে ভাগ বসায় বিজেপি, আর এ বার তৃণমূল। এ ধরনের ভোটের ফলাফল স্বাভাবিক ভাবেই কর্মীদের হতাশ করছে। কোথায় কি ভুলভ্রান্তি হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করবেন দলীয় নেতৃত্ব। পাশাপাশি সেখান থেকে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ গ্রহণের রূপরেখাও তৈরি হবে। তবে সে সব শুধুই দলের ভিতরে সংস্কারবাদী ঝোঁক এবং বামপন্থী হঠকারিতা লাইনের আলোচনাতেই মিলবে বলে মনে হয় না। রাহুমুক্তি ঘটাতে আত্মসমালোচনা তো আছেই, সেটাও হতে হবে সময়োপযোগী। কোনো কোনো বাম নেতা আবার সময়ের থেকে এগিয়ে থাকাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চান। কিন্তু ১০ বছর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে দূরে থাকা, নেতৃত্বের সংকট, বিজেপির চরম উত্থান ইত্যাদি মিলেয়ে পুরনো সমর্থন ফিরিয়ে আনার কাজ বামেদের পক্ষে এখন আর জলভাত নয়। আদতে তাদের সামনে এখন যে সংকট, তার শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছে গিয়েছে। শেষ ১০ বছরে ধারাবাহিক ভাবে বামেদের ভোটের হারে হ্রাস গভীরে পৌঁছে যাওয়া সেই সংকটের সূচক হিসেবেও ধরে নেওয়া যেতে পারে। ফলে তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়গুলোও আলোচনার তালিকায় গুরুত্ব পেতেই পারে।

এখান থেকেই হয়তো কান্তি-তন্ময়দের ‘বিদ্রোহ’। সিপিএমের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা, গোল গোল কথা না বলার আহ্বান জানিয়ে বস্তুনিষ্ঠ আত্মসমালোচনার ডাক। ‘বেসুরো’ বলে এড়িয়ে কিন্তু তথাকথিত কু-সংস্কারহীন বাম নেতৃত্বেরও “ভোট বাক্সে ফেরাতে লাল, বাঁধতে হবে গাছের ছাল” গোছের জ্যোতিষীর শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না।

আরও পড়তে পারেন: নরেন্দ্র মোদী আবার কবে বাংলায় আসবেন?

Continue Reading

প্রবন্ধ

এমনই বৈশাখের একটি দিনে মুখোমুখি হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও শ্রীরামকৃষ্ণ

আজ ৯ মে বিশ্বকবির ১৬১তম জন্মদিনে দুই মহামানবের মহামিলনের সেই বিরল মুহূর্তটি স্মরণ করি।

Published

on

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়

সে দিনটাও ছিল তাপদগ্ধ বৈশাখের একটি দিন – ২০ বৈশাখ, ১২৯০ বঙ্গাব্দ। চাক্ষুষ সাক্ষাৎ হল বাংলা তথা ভারতবর্ষের দুই মহাপথিকের, দুই মহামানবের।

Loading videos...

এক জন বাঙালির প্রাণের ঠাকুর, ভারতের শেষ অবতার, কল্প ভারতাত্মা। নির্লোভ, নিরহংকার, নিরাভরণ, আক্ষরিক অর্থে নিরক্ষর অথবা স্বল্পাক্ষর। কিন্তু তাঁর কথামৃত – সে যে এক অপার বিস্ময়। শ্রদ্ধা ও সম্ভ্রমে বাকরুদ্ধ হয়ে যান পৃথিবীর জ্ঞানীগুণীজন। তাঁর জীবনধারা সে তো যুক্তিবাদী বিজ্ঞানের অতীত, যেন অলৌকিক মহিমা বিস্তার করে হয়ে উঠেছেন ভক্তের ভগবান। হয়তো তাই-ই হয়। যুগে যুগে ঈশ্বর-মানবেরা যথা যিশু, মহম্মদ, বুদ্ধ, শ্রীচৈতন্য, কনফুসিয়াস, মহাবীর, নানক, কবীর, জরথ্রুস্ট তাই তো চিরকাল মানবসভ্যতার বিস্ময়। সাধারণ, নিঃসম্বল গ্রামবাংলার গরিবঘরের এক জনের কাছে ছুটে এসেছেন বিশ্বের জ্ঞানীগুণীজন। তাঁর কথা শুনে তাঁরা বাকরুদ্ধ – এ যেন লালন ফকির, সিরাজ সাঁই, রামপ্রসাদের ব্যাখ্যাতীত দর্শনের অনুভূতিকেও সহজ কথার সরলতায় ছাপিয়ে যায়। তিনি শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস।

অন্য জন তাঁর চেয়ে প্রায় ২৫ বছরের ছোটো, ভবিষ্যতের মহামানব, বিশ্বমানব। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর সৃষ্টিতে শ্রীরামকৃষ্ণের কথামৃতের আর্তি যেন মূর্ত হয়ে ওঠে – “জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণাধারায় এসো”।

এক দিকে রবীন্দ্রনাথ, যিনি নিরাকার ব্রহ্মের উপাসক, ব্রহ্মবাদী আর অপর দিকে শ্রীরামকৃষ্ণ, যিনি সর্ব ধর্মে অবগাহন করে হয়েছেন সর্ব ধর্মের ঋদ্ধ একক বিনম্রতার প্রতীক। এ হেন দু’ জনের মুখোমুখি সাক্ষাৎ ঐতিহাসিক ভাবে ঘটেছিল উত্তর কলকাতার কাশীশ্বর মিত্রের বাড়িতে।

“ঁকাশীশ্বর মিত্রের বাড়ি নন্দনবাগানে। তিনি পূর্বে সদরওয়ালা ছিলেন। আদি ব্রাহ্মসমাজভুক্ত ব্রহ্মজ্ঞানী। তিনি নিজের বাড়িতেই দ্বিতলায় বৃহৎ প্রকোষ্ঠমধ্যে ঈশ্বরের উপাসনা করিতেন, আর ভক্তদের নিমন্ত্রণ করিয়া মাঝে মাঝে উৎসব করিতেন। তাঁহার স্বর্গারোহণের পর শ্রীনাথ, যজ্ঞনাথ প্রভৃতি তাঁহার পুত্রগণ কিছুদিন ওইরূপ উৎসব করিয়াছিলেন। তাঁহারাই ঠাকুরকে অতি যত্ন করিয়া নিমন্ত্রণ করিয়া আনিয়াছেন।

“ঠাকুর প্রথমে আসিয়া নিচে একটি বৈঠকখানাঘরে আসন গ্রহণ করিয়াছিলেন। সে ঘরে ব্রাহ্মভক্তগণ ক্রমে ক্রমে আসিয়া একত্রিত হইয়াছিলেন। শ্রীযুক্ত রবীন্দ্র (ঠাকুর) প্রভৃতি ঠাকুরবংশের ভক্তগণ এই উৎসবক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন।” (শ্রীম কথিত শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত)  

সে দিন ছিল চৈত্র মাসের কৃষ্ণা দশমী তিথি, ১৮৮৩ সালের ২ মে। কাশীশ্বর মিত্রের বাড়িতে নন্দনবাগান ব্রাহ্মসমাজের বিংশ সাংবাৎসরিক উৎসব অনুষ্ঠান। অনেক সম্মাননীয় জ্ঞানীগুণী সেখানে আমন্ত্রিত। আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন রবীন্দ্রনাথও, এবং সকলের ঐকান্তিক ভাবে প্রার্থিত পুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস। রবীন্দ্রনাথ তখন বাইশ। বাড়ির সব থেকে বড়ো ঘরে সভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রার্থনাসভার শুরুতে রবীন্দ্রনাথ পিয়ানো বাজিয়ে গান শুনিয়েছিলেন। “সংগীত শুনিয়া ঠাকুরের আনন্দের সীমা রহিল না” (শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত)।  নিবিষ্ট মনে গান শুনতে শুনতে ঠাকুরের ভাব আসে। সবাই পরম বিস্ময়ে এক অতীন্দ্রিয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকলেন। তার পর ধীরে ধীরে ওই অবস্থা কাটিয়ে উঠে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ সে দিন সকলের সঙ্গে এক পংক্তিতে লুচি, ডাল, তরকারি, মিষ্টি খেয়ে উপস্থিত সকলকে বিদায় জানিয়ে দক্ষিণেশ্বরে ফিরে যান।

সে দিনের সেই অনুষ্ঠানের বিবরণ পরের দিন অর্থাৎ ৩ মে, ১৮৮৩-এর ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি সুগভীর শ্রদ্ধা ও অনুরাগ থেকে পরবর্তী কালে ১৩৪২ বঙ্গাব্দে ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে বসে ‘পরমহংস রামকৃষ্ণদেব’ কবিতাটি রচনা করেন –

“বহু সাধকের বহু সাধনার ধারা/ধেয়ানে তোমার মিলিত হয়েছে তারা/তোমার জীবনে অসীমের লীলাপথে/নতুন তীর্থ রূপ নিল এ জগতে;/দেশবিদেশের প্রণাম আনিল টানি/সেথায় আমার প্রণতি দিলাম আনি।”

আজ ৯ মে বিশ্বকবির ১৬১তম জন্মদিনে দুই মহামানবের মহামিলনের সেই বিরল মুহূর্তটি স্মরণ করি। সেই ঐতিহাসিক ঘটনারও ১৩৮তম বর্ষ উদযাপিত হল।  শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – এই দুই মহামানবের পদপ্রান্তে আমাদের শত কোটি প্রণাম।

Continue Reading

প্রবন্ধ

নরেন্দ্র মোদী আবার কবে বাংলায় আসবেন?

বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও ‘হিংসা’ থামাতে রাজ্যে আসছেন। মোদী কবে আসবেন?

Published

on

আরাত্রিকা রায়: শেষ এসেছিলেন এপ্রিল মাসের ১৭ তারিখে। তার পর প্রায় তিন সপ্তাহ হতে চললেও তাঁর দেখা নেই। মাঝেমধ্যে টিভির পরদায় রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু বাংলার বুকে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই ‘অস্বস্তিকর’ ডাক, “দিদি, অ দিদিইইইইই” আর শোনা যাচ্ছে না। ফের কবে আসবেন তিনি?

ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই মোদীর ধারাবাহিক বাংলা সফরের সূচনা। লক্ষ্য বাংলা দখল করে নবান্নের চাবি বিজেপির হাতে তুলে দেওয়া। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ১২টি সফরে নির্বাচনী সভা করেছিলেন ১৮টি। এক নজরে দেখে নেওয়া যেতে পারে সেগুলির দিন এবং স্থান।

Loading videos...

৭ ফেব্রুয়ারি: হলদিয়া/২২ ফেব্রুয়ারি: সাহাগঞ্জ/৭ মার্চ: ব্রিগেড/১৮ মার্চ: পুরুলিয়া/২০ মার্চ: খড়্গপুর/২১ মার্চ: বাঁকুড়া/২৪ মার্চ: কাঁথি/১ এপ্রিল: মথুরাপুর এবং উলুবেড়িয়া/৬ এপ্রিল: কোচবিহার এবং ডুমুরজোলা/১০ এপ্রিল: শিলিগুড়ি এবং কৃষ্ণনগর/১২ এপ্রিল: বর্ধমান, কল্যাণী এবং বারাসত/১৭ এপ্রিল: আসানসোল এবং গঙ্গারামপুর।

তবে এর পরেও মোদীর পুরোনো সূচি অনুযায়ী মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও কলকাতায় সফর ছিল। কিন্তু শেষমেশ ভার্চুয়াল মাধ্যমে দিল্লি থেকে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, ২৩ এপ্রিল দেশের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থাকায় বাংলা সফর বাতিল করতে বাধ্য হন তিনি।

প্রায় সব সভাতেই তিনি হরেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন, “বাংলার বিজেপি সরকার ‘আসওল পরিবর্তন’ নিয়ে আসবে”। যে জন্য তিনি নির্দিষ্ট জায়গায় (ঠিক কোথায়, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে) ছাপ মেরে তৃণমূলকে সাফ করার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

সমালোচকরা বলছেন, বাংলা দখলে তিনি যেমন ব্যর্থ, তেমনই করোনা মহামারি মোকাবিলাতেও তাঁর ব্যর্থতার ছবি স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ছে নিত্যদিন আক্রান্তের সংখ্যা অথবা স্বাস্থ্য পরিষেবার বিপর্যয় দেখে। করোনার প্রথম ঢেউয়ে ঘনঘন জাতির উদ্দেশে ভাষণ, প্রদীপ জ্বালানো, থালাবাসন বাজানোর মতো নিত্যনতুন টোটকায় মাতিয়েও রেখেছিলেন। ধীরে ধীরে নীচের দিকে নেমে আসা করোনা-গ্রাফ ফের সমস্ত শিখর ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর তিনি বাংলা জয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে শুধুই উড়ে বেড়িয়েছেন। বিহারের ভোটেও দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন, কোনো রকমে গড় রক্ষা হতেই ফলাফল ঘোষণার পরই বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে ভার্চুয়াল ভাষণও দিয়েছিলেন। তবে বাংলায় সে সবের সুযোগ মিলল না। অন্য দিকে হাতের বাইরে চলে গেল করোনা।

থাকার মধ্যে রয়েছে বাংলায় ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা আসছেন, বিশেষ প্রতিনিধি দলও আসছে। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় উড়ে আসছে কঠিন কিছু প্রশ্ন। “২ তারিখের পর মেরে ঠান্ডা করে দেব”,
“পুলিশকে দিয়ে জুতো চাটাবো”, “২রা মে ঘর থেকে টেনে টেনে বের করে মারব”, “বেগম হারবে, ফুফা হারবে, পাকিস্তান পাঠিয়ে দেব”, “বদল হবে, বদলাও হবে”, “২ মে থেকে যোগী আদিত্যনাথের মতো সোজা করব”, “আরও অনেক শীতলকুচি হবে”, “আমরা মারব, তোরা লাশ গুনবি” এমন সব হুঙ্কার কারা ছেড়েছিল? তবে বাংলার পরিস্থিতি তেমনটা হতে দেননি বাংলার মানুষ। সোনার বাংলা যদি ‘সুনার বঙ্গাল’ হত তা হলে কী হত, তা অবশ্য জানা নেই।

তবে এখন জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রের বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও ‘হিংসা’ থামাতে রাজ্যে আসছেন। করোনার জন্যে ভারত থেকে বিমান চলাচলে স্থগিতাদেশ জারি করেছে বিশ্বের অনেক দেশ। বিদেশ প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে বাংলায়। ওই মন্ত্রীর নাম বাংলার কত জন শুনেছেন, অথবা তিনি নিজে বাংলার মানুষ তো দূরের কথা ক’টা অলিগলি চেনেন, সেটাও একটা বড়োসড়ো প্রশ্ন।

একই প্রশ্ন মোদীর ১২ সফরে ১৮ সভা নিয়েও। বাংলার মানুষ, বাংলার সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে উপর উপর জেনেই তিনিও বাংলা জয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। হলদিয়ার প্রথম সভাতেই (৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেছিলেন, “মমতার আমলে ১০ বছর ধরে নির্মমতা পেয়েছেন বাংলার মানুষ”।

কঠিন হলেও সত্যি, বাংলার মানুষ ফের সেই মমতাকেই চেয়েছেন। নিজে না বুঝে অন্যকে বোঝাতে গেলে হয়তো এমনই হয়। তবে ইস্যুর কিন্তু শেষ নেই। রাজ্য বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের জারির দাবিতে সরব। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই দাবিতে গলা মেলালে মন্দ হবে না। খুব তাড়াতাড়ি রাষ্ট্রপতির কানে পৌঁছে যেতে পারে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফোনে কথা বলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে। মানে বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসুক না আসুক, তিনি পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় এটাই কাম্য। তা হলে ফের কবে আসবেন প্রধানমন্ত্রী? অনুব্রত মণ্ডল কিন্তু আগেই ডাক দিয়ে রেখেছেন, “নরেন ও…ওউ নরেন”।

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
বাংলাদেশ5 hours ago

Bangladesh Covid Situation: স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বেপরোয়া চলাচল সুইসাইডের শামিল, মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ5 hours ago

Bangladesh-China relation: বিরোধী জোটে যুক্ত হলে সম্পর্কের অবনতি হবে, বাংলাদেশকে হুঁশিয়ারি চিনের

Coronavirus west bengal
রাজ্য9 hours ago

Bengal Corona Update: রাজ্যের সংক্রমণচিত্রে স্থিতাবস্থা অব্যাহত, সুস্থতার হারে বৃদ্ধি, ৮ জেলায় কমল সক্রিয় রোগী

দেশ10 hours ago

Coronavirus Second Wave: টিকা নেওয়ার পরেও কি কোভিড হতে পারে? ব্যাখ্যা দিল সরকার

রাজ্য11 hours ago

Coronavirus Second Wave: সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিলেন অধীররঞ্জন চৌধুরী

দেশ11 hours ago

CWC Meet: “দলকে নতুন শৃঙ্খলায় সঙ্ঘবদ্ধ করতে হবে”, ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বললেন সনিয়া গান্ধী

প্রোনিং
শরীরস্বাস্থ্য11 hours ago

বাড়িতে কোভিড রোগীর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হলে কেন প্রোনিং করাবেন?

রাজ্য12 hours ago

‘গঠনমূলক কাজে সহযোগিতা করব সরকারকে’, বিরোধী দলনেতা হয়েই বললেন শুভেন্দু অধিকারী

ক্রিকেট3 days ago

IPL 2021: বাকি ম্যাচগুলি আয়োজন করতে চেয়ে বিসিসিআইকে আবেদন জানাল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড

রাজ্য3 days ago

Bengal Corona Update: রাজ্যের ১৫ জেলায় মৃত্যুহার ১ শতাংশের কম

দেশ3 days ago

Corona Update: দৈনিক সংক্রমণ কিছুটা কমলেও মৃতের সংখ্যায় রেকর্ড, তবুও মৃত্যুহার নিম্নমুখী

দেশ2 days ago

Covid Crisis: জলে গুলে খেতে হবে, করোনারোধী ওষুধে ছাড়পত্র দিল ডিজিসিআই

রাজ্য2 days ago

Bengal Corona Update: সংক্রমণের হার ফের ৩০ শতাংশ পার, বাড়ল মৃতের সংখ্যাও, তবে কলকাতা-সহ ৯ জেলায় কমল সক্রিয় রোগী

রাজ্য1 day ago

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় মন্ত্রীসভায় একাধিক নতুন মুখ

রাজ্য1 day ago

Bengal Corona Update: নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় একই, রাজ্যে বাড়ল সুস্থতা

বিজ্ঞান2 days ago

কোভিডের ভাইরাস বায়ুবাহিত, ৬ ফুট পর্যন্ত ছড়াতে পারে, দাবি শীর্ষ মার্কিন সংস্থার

ভিডিও

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 months ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা4 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা4 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা4 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা4 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা4 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে