করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঘরে বাইরে এই সতর্কতাগুলি অবশ্যই মেনে চলুন

0
coronavirus
প্রতীকী ছবি

খবর অনলাইন ডেস্ক: শুরু হয়েছে চতুর্থ দফার লকডাউন (lockdown 4.0)। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে ছাড়ও। প্রধানমন্ত্রী যেমন বলেছেন, সুরক্ষা বজায় রেখেই জীবনে এগিয়েও যেতে হবে। অর্থাৎ শুরু করতে হবে কাজকর্মও। ঘরের বাইরে পা দিলেই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ প্রতি দিনই হবে। এই পরিস্থিতিতে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন কী ভাবে?

শারীরিক দূরত্ব রাখা (social distancing), মাস্ক ব্যবহার, সাবানজলে হাত ধোয়া ও অ্যালকোহল-যুক্ত স্যানিটাইজার ব্যবহার করা – এই বিধিগুলি মেনে চলতেই হবে। তার সঙ্গে মেনে চলতে হবে আরও বেশ কয়েকটি নিয়ম।

Loading videos...

১। মোবাইল

এখন থেকে মোবাইল যতটা সম্ভব দূরে রাখুন। প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল নিয়ে বেরোবেন না। বেরোতে হলেও খুব দরকার ছাড়া মোবাইল ব্যাগ থেকে বার করবেন না। বাড়ি ফিরে মোবাইলটি ভালো করে স্যানিটাইজ করুন। কভারটা ভালো করে সাবান, গরম জলে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এক টুকরো তুলোয় স্যানিটাইজার বা অ্যান্টিসেপটিক লোশন দিয়ে মোবাইল ভালো করে পরিষ্কার নিন।

২। ব্যাগ

গরম জলে সাবান গুলে বাজারের ব্যাগ ধুয়ে শুকিয়ে নিন। অফিস বা স্কুল-কলেজের ব্যাগের ক্ষেত্রে সাবান জলে তুলো অথবা কাপড়ের টুকরো ভিজিয়ে ভালো করে মুছে নিতে হবে। স্যানিটাইজার অথবা পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট কিংবা কোনো জীবাণুনাশক তরল দিয়ে ভালো করে মুছে পরিষ্কার করতে হবে প্রতি বার ব্যবহারের পরই।

৩। মেকআপ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন কিছু মাস লিপস্টিক, কাজল, নেলপলিশ ব্যবহার করবেন না। মেকআপ বন্ধ রাখুন। কারণ করোনার জীবাণু চেপে বসতে পারে মেকআপের সঙ্গে। নখের খাঁজে জীবাণু থাকতে পারে। নেলপলিশ লাগালে নখের কোণ ভালো করে পরিষ্কার করা যায় না। তাই নেলপলিশ বাদ। বাইরে বেরোলে হালকা সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করতে পারেন। তবে ফিরে এসে খুব ভালো করে পরিষ্কার নেবেন।
তবে অনেকেরই একটা সমস্যা হচ্ছে। বার বার হাত ধোয়ার ফলে ত্বক খসখসে হয়ে চামড়া উঠছে। সে ক্ষেত্রে প্রতি বার সাবান দেওয়ার পর হাতে-পায়ে-মুখে হালকা ধরনের ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।

পড়ুন – করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় নতুন রেকর্ড, বাড়ছে সুস্থতাও

৪। মাস্ক

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক লেয়ারের মাস্ক নয়, একাধিক লেয়ার বা স্তরের মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। এক লেয়ারের মাস্ক হলে ওপরে আরও একটা পরা যেতে পারে। অথবা মাস্কের ওপরে রুমাল।
গরমকালে মুখের ঘামে মাস্ক ভিজে যেতে পারে। ব্যাগে দ্বিতীয় সেট মাস্ক রাখুন। ফাঁকা জায়গায় গিয়ে হাত স্যানিটাইজ করে মাস্ক বদল করে নিন।
ইউজ অ্যান্ড থ্রো মাস্ক গরমজলে সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে, রোদে শুকিয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বার ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু দেখতে হবে ধোয়ার পর মাস্ক ব্যবহারযোগ্য থাকছে কিনা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতানুযায়ী, দামী মাস্কও দীর্ঘমেয়াদী নয়। সামান্য কিছু দিন বাদে তা-ও বাতিলযোগ্য। সে ক্ষেত্রে দামী মাস্কের ওপর ইউজ অ্যান্ড থ্রো মাস্ক ব্যবহার করা মনে হয় বুদ্ধিমানের। আর প্রতি বার এই দামী মাস্ক ব্যবহারের পর কম করে এক ঘণ্টা রোদে দেওয়া ভালো। পারলে স্যানিটাইজ করে নিন।

৬। মাথা

শরীরের যে কোনো জায়গা ছুঁয়ে সেই হাত, নাক-মুখ-চোখে দিলে থাকে সংক্রমণের ভয়। তাই সুরক্ষিত রাখতে হবে মাথার চুলও। হেড মাস্ক বা ওড়না, টুপি, স্কার্ফজাতীয় কিছু দিয়ে মাথা পুরো ঢেকে বেরোন। আর এ সব ব্যবহার না করলে বাড়ি ফিরে গরম জলে ভালো করে শ্যাম্পু করে নিন। ঠান্ডা লাগা এড়াতে বেরোনোর আগে স্নান না করে ফিরে এসে একবারই স্নান করুন।

৭। মুখমণ্ডল

গরমের দিনে ঘাম হবে। ঘাম আরও বাড়বে মাস্ক, হেড মাস্ক ব্যবহার করলে। মুখমণ্ডলের কোনো অংশে যদি সংক্রমিত মানুষের ড্রপলেট পড়ে তা হলে তা ঘামের মাধ্যমে নাকে-মুখে ঢোকা অস্বাভাবিক নয়। তাই অবশ্যই রুমাল বা টিস্যুপেপার ব্যবহার করুন। টিস্যুপেপার হলে, ব্যবহার করে তা ঢাকনাওয়ালা আবর্জনাপাত্রে ফেলে দিন। আর যদি ফেস শিল্ড ব্যবহার করেন তা হলে তো কথাই নেই।

৮। গ্লাভস

বাইরে বেরোলে অবশ্যই গ্লাভস পরুন। গ্লাভস নখের ফাঁকে জীবাণু ঢোকা থেকে রক্ষা করবে। তা ছাড়া মুখে নাকে হাত দেওয়ার প্রবণতাও আটকানো যাবে।

৯। মোজা

গরমকালে মোজা পরা ঝকমারি। কিন্তু পরলে ভালো। অসাবধানতার কারণে যাতে পা দূষিত না হয় তার জন্যই পরতে হবে মোজা। বাড়ি এসে মোজাটা গরমজলে কাপড়কাচা গুঁড়ো সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।

১০। জুতো

পারলে পা ঢাকা জুতো পরুন। বাড়ি ফিরে স্যানিটাইজার স্প্রে করে জুতো স্যানিটাইজ করুন। কিংবা অন্তত এক ঘণ্টা রোদে রেখে দিন। প্ল্যাস্টিক বা রবারের জুতো পরলে সাবানজলে ভালো করে ধুয়ে নিন।

আরও – কোভিড ১৯ আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৬,৭৬৭, সুস্থ ২,৬৫৭

১১। গয়না

এখন কিছু দিন হাতে, কানে বা গলায় কোনো গয়না না পরাই ভালো। কারণ ধাতব জিনিসে জীবাণু অনেক বেশি সময় পর্যন্ত জীবিত থাকে। তা ছাড়া গয়নার গলি-ঘুপচি পরিষ্কার করাও দুষ্কর।

১২। গরমজল

বেশি সময়ের জন্য বাইরে থাকতে হলে অবশ্যই ফ্লাস্কে গরমজল নিয়ে বেরোন। গরমজল একটু করে বার বার খেলে তা গলা ও মুখের মধ্যেকার জীবাণু নাশ করে।

১৩। ব্যাগের সামগ্রী

এই পরিস্থিতিতে যতটুকু বা যেগুলো না নিলেই নয় শুধু সেগুলোই ব্যাগে রাখুন। যেগুলো ধোয়া যায় বাড়ি ফিরে সেগুলো গরমজলে কাপড়কাচা গুঁড়ো সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। আর কাপড় বা তুলোয় স্যানিটাইজার নিয়ে ভালো করে অন্যগুলো মুছে নিন।

১৪। বাইরে থেকে আনা সামগ্রী

বাইরে থেকে আনা সামগ্রীর যেগুলো ধোয়ার যোগ্য, সেগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন। আর না হলে ভালো করে স্যানিটাইজার দিয়ে মুছে নিন। সম্ভব হলে সেই সামগ্রী কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা না ধরে রেখে দিন। সুবিধা থাকলে কম করে এক ঘণ্টা রোদে রেখে দিলে ভালো।

১৫। গাড়ি

দু’ চাকা হোক বা চার চাকা, যাতায়াত শুরু হলে গাড়িকে প্রতি বার কীটনাশক স্প্রে/স্যানিটাইজার স্প্রে দিয়ে স্যানিটাইজ করবেন। অথবা গরম জলে সাবান গুলে ধোয়া যেতে পারে।

১৬। লিফট

লিফট ব্যবহার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। সম্ভব না হলে হাতের যে অংশ খুব একটা ব্যবহার হয় না, তা দিয়ে বোতাম চাপুন। এ ক্ষেত্রে কনুই, হাতের কবজি বা আঙুলের পেছন ব্যবহার করতে পারেন। কিংবা ছোটো কাঠি, টুথপিক, টিসুপেপার বা কাগজের টুকরোও ব্যবহার করা যায়। এগুলো অবশ্যই ঢাকনাওয়ালা আবর্জনাপাত্রে ফেলে দিতে হবে। তবে হাতের যে অংশই ব্যবহার করুন, তা ভালো করে ধুয়ে নেবেন।

১৭। জামাকাপড়

গরমে যত কষ্টই হোক, আপাতত গা-ঢাকা জামাকাপড় পরুন। ফুলহাতা, পিঠবন্ধ, পা-ঢাকা জামাকাপড় পরলে শরীরের বেশির ভাগ অংশই ঢাকা থাকে। ফলে শরীরের কোনো অংশে সরাসরি ড্রপলেটের মারফত জীবাণুর সংযোগ ঘটবে না। তবে যা-ই পরুন, বাড়ি ফিরে পোশাকআশাক ভালো করে গরমজলে ধুয়ে নিন।

১৮। বাইরের খাবার

এখন আপাতত বাইরের খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। ভালো করে রান্না করা খাবারে জীবাণু থাকে না ঠিক কথা। কিন্তু ওই খাবার কী ভাবে কে প্যাক করছে, তাতে কোনো ভাবে কোনো ব্যক্তির ড্রপলেট মিশেছে কিনা, যাতে প্যাক করে খাবার আনা হচ্ছে সেগুলি যথাযথ স্যানিটাইজড কিনা তা জানা নেই। তাই আপাতত আগামী বেশ কিছু দিন বাইরের খাবার এড়িয়ে চলাই স্বাস্থ্যসম্মত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেখুন – কেন্দ্রের ঘরোয়া উড়ান চালু করার পরিকল্পনায় একাধিক রাজ্যের ‘না’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.