শেষ দফার ভোটের আগে আচমকা কেন গুহাবাসী হলেন ‘ক্লান্ত’ মোদী?

0
Narendra-Modi
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে ধরা পড়া বিভিন্ন মুহূর্ত। ছবি: পিটিআই

জয়ন্ত মণ্ডল: মুখোশে ছিলেন, পতাকায় ছিলেন, ছিলেন স্লোগানে-গানে, ১৪৪টা সভা আর রোড শোয়ে ‘ক্লান্ত’ মোদী শেষ দফার ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগেই ‘নীরব’ মোদী হলেন। তিনি বসলেন ধ্যানে। ঠিক কী কারণে?

এর আগেও একাধিক বার কেদার-বদ্রী দর্শনে গিয়েছেন মোদী। কিন্তু আচমকা ভোটের মরশুমে ক্যামেরাম্যান সঙ্গে নিয়ে তিনি বসে পড়লেন ধ্যানে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অবশ্য, মোদীর এই তীর্থস্থানযাত্রা নিয়ে বহুবিধ যুক্তি-অভিযোগের অবতারণা করছে। কিন্তু তাঁর এই দু’দিনের সফরের প্রাক-অনুমতি নেওয়া রয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে। স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, গত ১০ মার্চ থেকে লাগু হওয়া নির্বাচনী আচরণবিধির কথা যেন মাথায় রাখা হয়।

কিন্তু মাথায় এখন শুধুই ২৩ মে। যার ঠেলায় দীর্ঘ পাঁচ বছরে প্রথমবারের জন্য সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন মোদী। যদিও শুক্রবারের ওই বৈঠক নিয়েও রয়েছে অসংখ্য কটাক্ষ। আগে থেকে ঠিক করা স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী বক্তব্য পেশ এবং সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নেরই উত্তর না-দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিকেলে তিনি অনেকটাই নিশ্চিন্ত। তিনি ধ্যানে বসেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে গুহায় প্রবেশ করার পরই তাঁদের বিদায় জানানো হয়েছে। ফলে কোনো হ্যাপা নেই। যেটা করার ছিল, সেটা হয়ে গিয়েছে। তাঁর একাধিক পোশাকে কয়েক ডজন ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আগামী রবিবার ভোট দিতে যাওয়ার আগেই সংবাদপত্রেও জ্বলজ্বল করবে সেই ছবি।

মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে দেশপ্রেমিক বলায় প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরকে খুব বকেছেন মোদী। তাঁর সেই বকুনিতে যেমন জাতীয়তাবাদী ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে, তেমনই কট্টর গেরুয়া শিবির ব্যাপারটাকে সোজা চোখে নেয়নি। তবে শনিবার তিনি নির্জন গুহার ভিতর গেরুয়া বসনে ধ্যানমগ্ন হতে সেই সব বাঁকা চোখও চকচক করছে!

আগামী রবিবারই ভোটগ্রহণ মোদীর নিজের কেন্দ্র বারাণসীতে। শেষ দফার সব মিলিয়ে ৯১৮ জন প্রার্থীর সঙ্গেই নির্ধারণ হবে মোদী ভা্গ্য। গত ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে ৫৬ শতাংশের উপর ভোট পেয়ে জিতেছিলেন ওই কেন্দ্রে। এ বার কী হতে চলেছে, তা জানা যাবে আগামী ২৩ মে। কিন্তু ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরুর আগে থেকেই যে ধরনের খবর উড়ে আসছে, তাতে খুব একটা খুশি খুশি ভাব নেই মোদীর মনে। সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে গত শুক্রবার তাঁর সাংবাদিক বৈঠকেও। বিভিন্ন কোণ থেকে ধরা তাঁর হতাশা-মাখা অভিব্যক্তির ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক থেকে সংবাদ মাধ্যমে।

কেদারনাথের গুহায় ধ্যানমগ্ন নরেন্দ্র মোদী

সরকারি ভাবে অবশ্য মোদীর এই তীর্থস্থান সফরের একটি কারণ হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে মন্দির পুনর্নির্মাণের কাজকর্ম খতিয়ে দেখা। বিরোধীরা অবশ্য এখানেও তাঁর পিছু ছাড়ছে না। তারা বলছে, দিল্লির মসনদে তাঁর পুন‌ঃপ্রতিষ্ঠা নিয়ে সংশয় কাটেনি সেনাপতি অমিত শাহের। শুক্রবারের সাংবাদিক বৈঠকে যতই তিনি ‘অব কি বার তিনশো পার’ বলুন না কেন, সে সবই না কি আশঙ্কারই বহি‌ঃপ্রকাশ!

পুনশ্চ: ২৩ মে ফলাফল জানার অপেক্ষার সঙ্গেই আগ্রহ বজায় থাকুক আগামী রবিবার মোদী ঠিক কী ধরনের পোশাক পরে বদ্রীনাথ যাচ্ছেন, সে বিষয়ে।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here