Connect with us

কথাশিল্প

ভারতে বিমুদ্রাকরণের পিছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা / ২

(প্রথম পর্বের পর) দ্য বেটার দ্যান ক্যাশ অ্যালায়েন্স Loading videos… বিশ্ব জুড়ে নগদের বাজারকে সঙ্কুচিত করার লক্ষ্যে ২০১২-তে এই সংস্থা তৈরি হয়, যার অন্যতম সদস্য ইউএসএআইডি। নিউইয়র্কে ইউনাইটেড নেশনস ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে এর সচিবালয়। এই কারণেই বোধহয় পূর্ববর্তী দু’টি বছরের একটিতে গেটস্‌-ফাউন্ডেশন এবং আরেকটিতে মাস্টার কার্ড- ফাউন্ডেশন রাষ্ট্রপুঞ্জের এই ছোট্টো দরিদ্র সংগঠনটিকে উদার ভাবে সাহায্য […]

Published

on

(প্রথম পর্বের পর)

দ্য বেটার দ্যান ক্যাশ অ্যালায়েন্স

Loading videos...

বিশ্ব জুড়ে নগদের বাজারকে সঙ্কুচিত করার লক্ষ্যে ২০১২-তে এই সংস্থা তৈরি হয়, যার অন্যতম সদস্য ইউএসএআইডি। নিউইয়র্কে ইউনাইটেড নেশনস ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে এর সচিবালয়। এই কারণেই বোধহয় পূর্ববর্তী দু’টি বছরের একটিতে গেটস্‌-ফাউন্ডেশন এবং আরেকটিতে মাস্টার কার্ড- ফাউন্ডেশন রাষ্ট্রপুঞ্জের এই ছোট্টো দরিদ্র সংগঠনটিকে উদার ভাবে সাহায্য করেছিল।

নগদকে সঙ্কুচিত করলে যাদের লাভ সব চেয়ে বেশি সেই সব বৃহৎ মার্কিন-প্রতিষ্ঠান এই অ্যালায়েন্সের সদস্য। এই প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে রয়েছে মাস্টার কার্ড ও ভিসা-র মতো ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি এবং সেই সব মার্কিন প্রতিষ্ঠান যাদের নাম মার্কিন গোয়েন্দা সার্ভিসেসের ইতিহাস বইগুলোতে অনেক বারই উঠে এসেছে যেমন ফোর্ড ফাউন্ডেশন, ইউএসএআইডি ইত্যাদি। গেটস্‌-ফাউন্ডেশনও একটি উল্লেখযোগ্য সদস্য। ই বে-র ওমিডিয়ার নেটওয়ার্ক-এর প্রতিষ্ঠাতা পিয়ের ওমিডিয়ার এবং ‘সিটি’ এই অ্যালায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ অর্থ-জোগানদার। অ্যালায়েন্স সদস্যদের বেশির ভাগই নগদের উপর নির্ভরতা নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তৈরি ইউএসএআইডি-ভারত উদ্যোগের অন্যতম অংশীদার। এই উদ্যোগ এবং ক্যাটালিস্ট-কর্মসূচি ‘দ্য বেটার দ্যান ক্যাশ অ্যালায়েন্স’-এর আর একটু বিস্তৃত সংস্করণ, যেখানে যোগ দিয়েছে ভারত ও এশিয়ার অন্যান্য দেশের বেশ কিছু সংস্থা যাদের নগদ অর্থনীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভালো রকম ব্যবসায়িক স্বার্থ নিহিত আছে।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার আইএমএফ-শিকাগো সন্তান

ভারতে নগদ বাজার সঙ্কোচনের জন্য এই সমঝোতার পরিকল্পনা কিন্তু রাতারাতি হয়নি। রঘুরাম রাজন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর থাকার সময়কাল (২০১৩, সেপ্টেম্বর– ২০১৬, সেপ্টেম্বর) জুড়েই এই পরিকল্পনা চলছিল। রাজন ছিলেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পদ ছেড়ে আবার ফিরে গিয়েছেন সেখানে। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল অবধি রাজন ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের মুখ্য অর্থনীতিক ছিলেন। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ‘গ্রুপ অফ থার্টি’-রও সদস্য রাজন। এটি একটি সন্দেহজনক সংগঠন। এরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে গোপনে নানা রকম চিন্তাভাবনা, আর পরিকল্পনা বিনিময় করে এবং সেই সব আলোচনার কোনো সূচি রাখা হয় না। নগদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষেত্রে এই গোষ্ঠী যে অন্যতম সমন্বয়-কেন্দ্র হিসাবে কাজ করেছে, সেই বিষয়টি ক্রমশ সামনে আসতে শুরু করেছে। কেন রগফ, ল্যারি সামার্স-এর মতো নগদ-বিরোধী যুদ্ধের সৈনিকরাও এই গোষ্ঠীর সদস্য।  

আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থার আরও উঁচু ধাপে ওঠার ইচ্ছা থাকার যথেষ্ট কারণ রাজনের আছে। তাই ওয়াশিংটনের খেলার অন্যতম খেলোয়াড় হওয়াও তাঁর পক্ষে স্বাভাবিক। এর আগে আমেরিকান ফিনান্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন রাজন এবং অর্থনৈতিক গবেষণায় প্রথম ফিশার-ব্ল্যাক পুরস্কার পান তিনি। এ ছাড়াও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে অর্থনৈতিক গবেষণার জন্য ইনফোসিস পুরস্কার, আর্থিক অর্থনীতির জন্য ডয়েশ ব্যাঙ্ক পুরস্কার এবং ইকনমিকসের সব চেয়ে ভালো বই লেখার জন্য ফিনান্সিয়াল টাইমস/গোল্ডম্যান স্যাকস পুরস্কার। ন্যাসকমের ‘বর্ষসেরা ভারতীয়’-র সম্মান এবং ‘ইউরোমানি’ ও ‘দ্য ব্যাঙ্কার’-এর ‘বর্ষসেরা সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কার’ সম্মানও জুটেছে তাঁর। আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে ক্রিস্টিন ল্যাগার্ডের সম্ভাব্য উত্তরসূরির তালিকায়ও জ্বলজ্বল করছে তাঁর নাম। তবে আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থার আরও অনেক উচ্চ পদেও যেতে পারেন তিনি।

দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্কের গভর্নর হিসেবে আর্থিক ক্ষেত্রের শীর্ষ স্থানীয়দের কাছে রাজন খুবই সম্মাননীয় ও পছন্দের মানুষ ছিলেন, কিন্তু বিনিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে যতই তাঁর আগ্রহ থাকুক উৎপাদন ক্ষেত্রের মানুষজনদের কাছে তিনি ছিলেন রীতিমতো অপছন্দের।  তার কারণ অবশ্য তাঁর ‘সীমাবদ্ধ’ অর্থনৈতিক নীতি। এই নীতির তিনিই প্রবক্তা এবং জোরদার সমর্থক। শাসক দলের বিভিন্ন স্তর থেকে প্রচণ্ড সমালোচিত হওয়ার পর জুন মাসেই তিনি ঘোষণা করেন সেপ্টেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় তিনি আর দায়িত্ব নেবেন না। পরে তিনি ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে বলেছিলেন, তিনি থাকতে চেয়েছিলেন, তবে পুরো মেয়াদের জন্য নয় এবং এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আপত্তি ছিল।   এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন বাণিজ্য ও আইনমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বলেছিলেন, রঘুরাম রাজনের গভর্নরশিপ শেষ হওয়ায় খবরে দেশের শিল্পপতিরা খুশি- “আমি তো এটা চেয়েইছিলাম। প্রধানমন্ত্রীকে পরিষ্কার করে বলেও ছিলাম। ওঁর (রাজনের) যাঁরা লক্ষ্য তাঁরা মূলত পশ্চিমী…। আমার কাছে দলে দলে লোক আসত, বলত কিছু একটা করুন…।”   

দুর্ঘটনা, যা ঘটারই ছিল

ভারতের অধিকাংশ ব্যাঙ্কনোট অবৈধ ঘোষণা করার এই যে যুদ্ধ, তার প্রস্তুতিতে যদি রাজন জড়িয়ে থাকেন এবং এ বিষয়ে যে কোনো সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই তা রাজনের ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক যোগ ও নগদ ব্যবস্থাপনায় ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে বলাই যায়, তাহলে এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে এই গোটা ঘটনার পিছনে তাঁর থাকাই স্বাভাবিক। যাদের উপকারের নামে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির দোহাই দেওয়া হয় সেই বেশির ভাগ গ্রামীণ ও দরিদ্র ভারতবাসীই যে নোট বাতিলের উদ্যোগে সব চেয়ে বেশি দুর্দশায় পড়বেন, এই ব্যাপারটায় এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিস্মিত করে না। ইউএসএআইডি এবং তার অংশীদাররা গোটা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে। ‘বিয়ন্ড ক্যাশ’ রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ভারতে এখনও ৯৭ শতাংশ লেনদেন নগদেই হয়, এবং মাত্র ৫৫ শতাংশ মানুষ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। এই ৫৫ শতাংশের মধ্যে “মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ গত তিন মাস ধরে ব্যবহার করছেন।”

এটা সবটাই ভালো ভাবে জানা ছিল এবং একেবারে স্থিরনিশ্চিত ছিল যে, বাজারের বেশির নগদ রাতারাতি বিলোপ করলে দেশের বহু ছোটো ব্যবসায়ী এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের (যেখানে আশেপাশে কোনো ব্যাঙ্ক নেই)  উৎপাদক ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হবে, এমনকি অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে। যখন নোট বাতিল হল তখন পরিষ্কার হয়ে গেল, নগদকে পিছনে ঠেলে ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আশ্বাস কতটা মিথ্যে। বাজার অর্থনীতিতে প্রত্যেকের যোগদান কাম্য হলে লেনদেনের ক্ষেত্রে ভারতের মতো দেশে নগদের কোনো বিকল্প হয় না।

নগদের ওপর এই আঘাত ভিসা, মাস্টারকার্ড ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী অন্যান্য সংস্থা, যাদের দুর্দশাগ্রস্ত জনগণের মতো অস্তিত্বের কোনো সংকটে পড়তেই হল না, তাদের কাছে বড়োই লাভজনক হল। ‘পরীক্ষামূলক অঞ্চলেও’ ডিজিটাল পেমেন্ট ‘বেড়ে গেল’।  চূড়ান্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হলেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের মধ্যে যাঁরা সেই ক্ষতি বহন করতে সক্ষম, তাঁরাই পরবর্তীতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিলেন। ব্যাঙ্ক এবং এটিএম থেকে টাকা তোলার ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করায় উপভোক্তারাও এখন কার্ড ব্যবহার করার সুযোগ খুঁজবেন, যাতে উপকার হবে মাস্টারকার্ড, ভিসা-সহ ‘বেটার দ্যান ক্যাশ’ জোটের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সদস্যদের।

বিশ্ব জুড়ে নগদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের কেন এই যুদ্ধ

বিশ্ব জুড়ে নগদের ব্যবহার সংকুচিত করার জন্য মার্কিন সরকারের প্রবল আগ্রহের অন্যতম কারণ হল বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি ও পেমেন্ট ব্যবসার নিয়ন্ত্রক মার্কিন কোম্পানিগুলির স্বার্থ রক্ষা। কিন্তু সেটাই একমাত্র কারণ নয়। সম্ভবত সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণও নয়। আরেকটি কারণ হল, ডিজিটাল পেমেন্টের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি করার ক্ষমতা। ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সমস্ত আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং এ সংক্রান্ত অধিকাংশ ডিজিটাল ডেটা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলির নখদর্পণে রাখাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। আর্থিক তথ্যই হল সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান তথ্য।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, মুদ্রার গুরুত্বের বিচারে ডলারের স্থান ও মর্যাদা এবং আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থায় মার্কিন কোম্পানিগুলির প্রতিপত্তি, নগদহীন অর্থনীতির বিশ্ববাজারে মার্কিন সরকারকে ক্রমশ সর্বক্ষমতাশালী করে তুলেছে। অন্য সব দেশকেই স্থানীয় কিংবা আন্তর্জাতিক আইনের পরিবর্তে মাথা নোয়াতে হচ্ছে মার্কিন আইনের কাছে। কী ভাবে তা ঘটছে তা পরিষ্কার হয়ে যায় সম্প্রতি ‘ফ্রাঙ্কফুর্টার আলগেমাইনে ৎসাইটুং’ নামে এক জার্মান সংবাদপত্রে প্রকাশিত হাড় হিম করা এক প্রতিবেদন থেকে। জানা যায়, ইরানের সঙ্গে আইনসঙ্গত ভাবে ব্যবসা করা সত্ত্বেও এক জার্মান সংস্থার কর্মচারীদের মার্কিন প্রশাসনের তৈরি জঙ্গি-তালিকায় রাখা হয়েছে। এর অর্থ হল, বেশির ভাগ আর্থিক ব্যবস্থা থেকে তাদের দূরে রাখা হয়েছে, এমনকি কিছু রসদ বহনকারী কোম্পানিও তাদের তৈরি আসবাব পরিবহন করছে না। আরও দৃষ্টান্ত আছে। মার্কিন অনুরোধে জার্মানির এক বড়ো ব্যাঙ্ক থেকে বহিষ্কার করতে হয়েছে বেশ কিছু কর্মচারীকে, যাঁরা কোনো রকম অবৈধ বা অন্যায় কাজকর্মে জড়িত নন।

এ রকম অসংখ্য উদাহরণ আছে। প্রতিটি আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ককে মার্কিন সরকারের আদেশানুসারে চলতে বাধ্য করতে পারে আমেরিকা। আদেশ না মানলে রয়েছে আমেরিকায় বা ডলারে বাণিজ্য করার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি। এটা হওয়া আর ব্যাঙ্ক বন্ধ করে দেওয়া, দু’টোর মধ্যে খুব একটা তফাত নেই। ডয়েশ ব্যাঙ্কের কথাই ভাবুন। ১৪০০ কোটি ডলার জরিমানা দিয়ে তারা ব্যবসা থেকে পাততাড়ি গোটাবে, নাকি ৭০০ কোটি ডলারে রাজি করিয়ে বাঁচার চেষ্টা করবে, এই নিয়েই মার্কিন ট্রেজারির সঙ্গে কয়েক মাস ধরে আলাপআলোচনা চালাতে হল তাদের। শেষ পর্যন্ত ৭০০ কোটি দিয়ে বাঁচল। একটা দেশের হাতে যখন অন্য দেশের ব্যাঙ্ককে দেউলিয়া করার ক্ষমতা থাকে এবং সেই দেশটা বেশ বড়ো দেশ, তখন সেই দেশের সরকারকেও নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার থাকবে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং সেই সংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমে আধিপত্য করার ক্ষমতা ইতিমধ্যেই রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। বিশ্ব জুড়ে নগদের ব্যবহার যত কমবে, আমেরিকার হাতে এই ক্ষমতা ততই পুঞ্জিভূত হবে। কারণ নগদের ব্যবহার এই ক্ষমতাকে অনেকটাই নড়বড়ে করে দিতে পারে। (শেষ)

সৌজন্যে : গ্লোবাল রিসার্চ

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

প্রবন্ধ

লালের হাল! দলীয় লাইন থেকে শুধুই কি কান্তি-তন্ময়রা পিছলে যাচ্ছেন?

কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় অথবা তন্ময় ভট্টাচার্যের মতো পোড়খাওয়া নেতারাও ব্যাক্তিগত মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে দলীয় লাইন থেকে পিছলে যাচ্ছেন।

Published

on

ভোটপ্রচারে বামেদের স্লোগান ছিল, ফেরাতে হাল, ফিরুক লাল। তবে ভোট বাক্সে মহাবিপর্যয়ের পর ধারণা করা যেতেই পারে, আপাতত লালের হাল ফেরানোয় মন দিতে হবে বামফ্রন্ট নেতৃত্বকে। তবে সে সব শুধুই দলের ভিতরে সংস্কারবাদী ঝোঁক এবং বামপন্থী হঠকারিতা লাইনের আলোচনাতেই মিলবে বলে মনে হয় না। লিখলেন জয়ন্ত মণ্ডল

কী ভাবে ক্ষমতায় ফিরবে? ভোটের আগে এমনটাই ক্রিয়াকৌশল নিয়ে এগোচ্ছিল বামফ্রন্ট। যদিও সব থেকে জরুরি চিন্তার বিষয় হতে পারত কী ভাবে ঘুরে দাঁড়াবে? ‘৭ পার্সেন্ট’ কটাক্ষের জবাব দিতে যেখানে লড়াইটা শতাংশেই আটকে রাখা যেত, সেখানে বড়াই করে একে-ওকে-তাকে নিয়ে আসন সংখ্যার ছক কষে ফেললেন বামফ্রন্টের ম্যানেজাররা। ফলাফল ঘোষণার পর নির্মম পরিণতির সম্মুখীন হয়ে অপ্রিয় হলেও বাস্তব কিছু গোপনীয়তা ফাঁস করে দিচ্ছেন কেউ কেউ। ২০১১ সালের বিধানসভায় ৩০.১ শতাংশ ভোট পেয়েও সাধারণ মানুষের রায়কে বেশ নমনীয় ভাবে স্বাগত জানিয়েছিল বামফ্রন্ট। কিন্তু এ বার প্রাপ্ত ভোটের হার ৫.৪৭ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ার পর কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় অথবা তন্ময় ভট্টাচার্যের মতো পোড়খাওয়া নেতারাও ব্যাক্তিগত মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে দলীয় লাইন থেকে পিছলে যাচ্ছেন।

Loading videos...

শাসক দল তৃণমূলের মূল প্রতিপক্ষ এখন বিজেপি। শুধু ভোটের ফলাফলে নয়, ভোটের আগে থেকেই ২৯৪ বিধানসভার প্রায় প্রত্যেকটা জায়গাতেই তৃণমূলপ্রার্থী নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিজেপিকেই বেছে নিয়েছিলেন। বামেরা সে সব শুনেছে, আর মুচকি হাসি হেসেছে। কারণ তারা কতকটা নিশ্চিত হয়েই বসেছিল অধীর-আব্বাসের ‘দোয়া’য় হাল ফিরবে লালের। সরতে সরতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বামেদের দূরত্ব কতটা চওড়া হয়েছে, সেটা ঢাকতে ব্রিগেডের জনস্রোত, রাত ১১টার সময় তরুণ নেতাদের সভায় উপচে পড়া ভিড়- এমন কিছু আপেক্ষিক ঘটনাকে আতসকাচের তলায় ফেলে বড়ো করে তুলে ধরেছে। শুধু কি তাই, গতানুগতিক মিডিয়া সে সব নিয়ে ফলাও করে খবর না করলে সোশ্যাল মিডিয়া বাম-সমর্থকরা গালমন্দ করতেও ছাড়েননি। এক সময় ‘সর্বশক্তিমান’ বামেদের সাধারণ মানুষ ভুলতে শুরু করলেও নেতা-কর্মীরা সেই সুদিনের কথা এখনও বিস্মৃত হতে পারেননি। ঘটি না ডুবলেও মুখেই তালপুকুর হয়ে থাকার অবেচতন আকাঙ্ক্ষার বহির্প্রকাশ ঘটে চলেছে।

এক দিকে তৃণমূল সরকারের ১০ বছরে ব্যর্থতা, দুর্নীতি ইত্যাদি অন্যদিকে বিজেপির মেরুকরণ, কেন্দ্রীয় অপশাসন, এমন অনেক কিছু কারণেই মনে হচ্ছিল বামফ্রন্ট আবার ফিরবে। ফেরাতে লাল, হাত ধরতে হল কংগ্রেস এবং কোনো এক আব্বাস সিদ্দিকির সদ্য গজানো দলের সঙ্গে। আসলে এই মনে হওয়াটাই অবচেতন মনের নির্দেশ। অবচেতন মনে সর্বক্ষণ দাপাদাপি করতে থাকা আদেশ পালন করতে গিয়েই সচেতনতাকে জলাঞ্জলি দেওয়া। বামেরা এক সময় বলত, শত্রুর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ভিতর দিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে নিজেদের দাবি আদায় করে নিতে হবে। তারাই যখন ওজন না বুঝে ভোজনের মতো ক্ষমতা দখলের তীব্র লড়াইয়ে নেমে পড়ে তখন পথে-ঘাটে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের নিয়ে টিকাটিপ্পনী তো চলবেই। অন্তত এ বারের ভোটপর্ব দেখে মনে হল, কংগ্রেস আর আব্বাসের হাত ধরা মানেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। বড়ো অংশের বাম-সমর্থকরাও যে এই ইস্যুতে দলের সঙ্গে তলে তলে দূরত্ব বাড়িয়ে নিচ্ছেন, সেটা বুঝতেই পারলেন না বাম নেতৃত্ব। এখানেও সেই অবচেতন বনাম সচেতন মনের খেলা!

এ বারের ভোটেও কোথাও কোথাও রক্তপাত, হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এমনিতে প্রতিরোধমূলক লড়াইয়ে বামেরা, বিশেষত সিপিএম বরাবরই আক্রমণাত্মক। এ বারের ভোটের সময়েও বেশ কিছু জায়গায় দেখা গেল বুথে বসা বাম এজেন্টদের উপর হামলা চলেছে। অথচ, ভোটের ফলাফলে ওই বুথে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি। এখানেও হয়তো কাজ করেছে বামেদের প্রতিরোধ মূলক লড়াইয়ের প্রবৃত্তি। এই ব্যাপারটাকেও প্রচারে তুলে নিয়ে এসেছিল বামেরা। যদিও প্রতিরোধমূলক লড়াই ও ব্যক্তিগত-সন্ত্রাসবাদের তারতম্য ব্যাখ্যার দৌড়ে সিপিএমের জুড়ি মেলা ভার। বুথস্তরের নেতা-কর্মীর উপর হামলার ঘটনা প্রচারে তুলে ধরতে জেলা নেতাদের দিয়ে পথসভা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কোনো ভূমিকাই নেই। এ ভাবেই কি জনগণকে নিয়ে সংগ্রামের পথ থেকে দূরে সরে গিয়েছে বামেরা? অথচ সেই কবে থেকে তারা জানে, প্রতিরোধকারীদের লড়াই হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে নয়, জনগণের লড়াইয়ে নিয়ে যেতে হয়।

এটাও যেমন একটা দিক, তেমনই ২৯৪ আসনে ঠিক কী কী ফ্যাক্টর কাজ করেছে, সে সবের তালিকা অনেক লম্বা। তবে একটা সাধারণ বিষয় ছিল, বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটাধিকার প্রয়োগ। রাজ্যের শাসক দলের দুর্নীতির মতো বিষয়গুলিকে বামেরা ব্যাপক ভাবে প্রচারে তুলে ধরলেও তা উপেক্ষা করেছেন সাধারণ মানুষ। মমতাকে যত বেশি গালমন্দ করা যাবে, ততই মাইলেজ পাওয়া যাবে, ইউটিউবে, ফেসবুকে লক্ষ-মিলিয়ন ভিউ হবে আর উল্টো দিকে যে ভোট খাটো হবে, সেটা ঘূণাক্ষরেও টের পাননি বাম নেতৃত্ব। বিশ্লেষকরা বলছেন, বামেদের কাছ থেকে কমপক্ষে ৫ শতাংশ ভোট এ বার ঢুকে পড়েছে তৃণমূলের ঝুলিতে। ২০১৬ সালের বিধানসভায় ২৫.৬৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বামফ্রন্ট। ২০১৯ সালে সেখানে ভাগ বসায় বিজেপি, আর এ বার তৃণমূল। এ ধরনের ভোটের ফলাফল স্বাভাবিক ভাবেই কর্মীদের হতাশ করছে। কোথায় কি ভুলভ্রান্তি হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করবেন দলীয় নেতৃত্ব। পাশাপাশি সেখান থেকে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ গ্রহণের রূপরেখাও তৈরি হবে। তবে সে সব শুধুই দলের ভিতরে সংস্কারবাদী ঝোঁক এবং বামপন্থী হঠকারিতা লাইনের আলোচনাতেই মিলবে বলে মনে হয় না। রাহুমুক্তি ঘটাতে আত্মসমালোচনা তো আছেই, সেটাও হতে হবে সময়োপযোগী। কোনো কোনো বাম নেতা আবার সময়ের থেকে এগিয়ে থাকাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চান। কিন্তু ১০ বছর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে দূরে থাকা, নেতৃত্বের সংকট, বিজেপির চরম উত্থান ইত্যাদি মিলেয়ে পুরনো সমর্থন ফিরিয়ে আনার কাজ বামেদের পক্ষে এখন আর জলভাত নয়। আদতে তাদের সামনে এখন যে সংকট, তার শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছে গিয়েছে। শেষ ১০ বছরে ধারাবাহিক ভাবে বামেদের ভোটের হারে হ্রাস গভীরে পৌঁছে যাওয়া সেই সংকটের সূচক হিসেবেও ধরে নেওয়া যেতে পারে। ফলে তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়গুলোও আলোচনার তালিকায় গুরুত্ব পেতেই পারে।

এখান থেকেই হয়তো কান্তি-তন্ময়দের ‘বিদ্রোহ’। সিপিএমের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা, গোল গোল কথা না বলার আহ্বান জানিয়ে বস্তুনিষ্ঠ আত্মসমালোচনার ডাক। ‘বেসুরো’ বলে এড়িয়ে কিন্তু তথাকথিত কু-সংস্কারহীন বাম নেতৃত্বেরও “ভোট বাক্সে ফেরাতে লাল, বাঁধতে হবে গাছের ছাল” গোছের জ্যোতিষীর শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না।

আরও পড়তে পারেন: নরেন্দ্র মোদী আবার কবে বাংলায় আসবেন?

Continue Reading

প্রবন্ধ

এমনই বৈশাখের একটি দিনে মুখোমুখি হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও শ্রীরামকৃষ্ণ

আজ ৯ মে বিশ্বকবির ১৬১তম জন্মদিনে দুই মহামানবের মহামিলনের সেই বিরল মুহূর্তটি স্মরণ করি।

Published

on

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়

সে দিনটাও ছিল তাপদগ্ধ বৈশাখের একটি দিন – ২০ বৈশাখ, ১২৯০ বঙ্গাব্দ। চাক্ষুষ সাক্ষাৎ হল বাংলা তথা ভারতবর্ষের দুই মহাপথিকের, দুই মহামানবের।

Loading videos...

এক জন বাঙালির প্রাণের ঠাকুর, ভারতের শেষ অবতার, কল্প ভারতাত্মা। নির্লোভ, নিরহংকার, নিরাভরণ, আক্ষরিক অর্থে নিরক্ষর অথবা স্বল্পাক্ষর। কিন্তু তাঁর কথামৃত – সে যে এক অপার বিস্ময়। শ্রদ্ধা ও সম্ভ্রমে বাকরুদ্ধ হয়ে যান পৃথিবীর জ্ঞানীগুণীজন। তাঁর জীবনধারা সে তো যুক্তিবাদী বিজ্ঞানের অতীত, যেন অলৌকিক মহিমা বিস্তার করে হয়ে উঠেছেন ভক্তের ভগবান। হয়তো তাই-ই হয়। যুগে যুগে ঈশ্বর-মানবেরা যথা যিশু, মহম্মদ, বুদ্ধ, শ্রীচৈতন্য, কনফুসিয়াস, মহাবীর, নানক, কবীর, জরথ্রুস্ট তাই তো চিরকাল মানবসভ্যতার বিস্ময়। সাধারণ, নিঃসম্বল গ্রামবাংলার গরিবঘরের এক জনের কাছে ছুটে এসেছেন বিশ্বের জ্ঞানীগুণীজন। তাঁর কথা শুনে তাঁরা বাকরুদ্ধ – এ যেন লালন ফকির, সিরাজ সাঁই, রামপ্রসাদের ব্যাখ্যাতীত দর্শনের অনুভূতিকেও সহজ কথার সরলতায় ছাপিয়ে যায়। তিনি শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস।

অন্য জন তাঁর চেয়ে প্রায় ২৫ বছরের ছোটো, ভবিষ্যতের মহামানব, বিশ্বমানব। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর সৃষ্টিতে শ্রীরামকৃষ্ণের কথামৃতের আর্তি যেন মূর্ত হয়ে ওঠে – “জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণাধারায় এসো”।

এক দিকে রবীন্দ্রনাথ, যিনি নিরাকার ব্রহ্মের উপাসক, ব্রহ্মবাদী আর অপর দিকে শ্রীরামকৃষ্ণ, যিনি সর্ব ধর্মে অবগাহন করে হয়েছেন সর্ব ধর্মের ঋদ্ধ একক বিনম্রতার প্রতীক। এ হেন দু’ জনের মুখোমুখি সাক্ষাৎ ঐতিহাসিক ভাবে ঘটেছিল উত্তর কলকাতার কাশীশ্বর মিত্রের বাড়িতে।

“ঁকাশীশ্বর মিত্রের বাড়ি নন্দনবাগানে। তিনি পূর্বে সদরওয়ালা ছিলেন। আদি ব্রাহ্মসমাজভুক্ত ব্রহ্মজ্ঞানী। তিনি নিজের বাড়িতেই দ্বিতলায় বৃহৎ প্রকোষ্ঠমধ্যে ঈশ্বরের উপাসনা করিতেন, আর ভক্তদের নিমন্ত্রণ করিয়া মাঝে মাঝে উৎসব করিতেন। তাঁহার স্বর্গারোহণের পর শ্রীনাথ, যজ্ঞনাথ প্রভৃতি তাঁহার পুত্রগণ কিছুদিন ওইরূপ উৎসব করিয়াছিলেন। তাঁহারাই ঠাকুরকে অতি যত্ন করিয়া নিমন্ত্রণ করিয়া আনিয়াছেন।

“ঠাকুর প্রথমে আসিয়া নিচে একটি বৈঠকখানাঘরে আসন গ্রহণ করিয়াছিলেন। সে ঘরে ব্রাহ্মভক্তগণ ক্রমে ক্রমে আসিয়া একত্রিত হইয়াছিলেন। শ্রীযুক্ত রবীন্দ্র (ঠাকুর) প্রভৃতি ঠাকুরবংশের ভক্তগণ এই উৎসবক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন।” (শ্রীম কথিত শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত)  

সে দিন ছিল চৈত্র মাসের কৃষ্ণা দশমী তিথি, ১৮৮৩ সালের ২ মে। কাশীশ্বর মিত্রের বাড়িতে নন্দনবাগান ব্রাহ্মসমাজের বিংশ সাংবাৎসরিক উৎসব অনুষ্ঠান। অনেক সম্মাননীয় জ্ঞানীগুণী সেখানে আমন্ত্রিত। আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন রবীন্দ্রনাথও, এবং সকলের ঐকান্তিক ভাবে প্রার্থিত পুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস। রবীন্দ্রনাথ তখন বাইশ। বাড়ির সব থেকে বড়ো ঘরে সভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রার্থনাসভার শুরুতে রবীন্দ্রনাথ পিয়ানো বাজিয়ে গান শুনিয়েছিলেন। “সংগীত শুনিয়া ঠাকুরের আনন্দের সীমা রহিল না” (শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত)।  নিবিষ্ট মনে গান শুনতে শুনতে ঠাকুরের ভাব আসে। সবাই পরম বিস্ময়ে এক অতীন্দ্রিয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকলেন। তার পর ধীরে ধীরে ওই অবস্থা কাটিয়ে উঠে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ সে দিন সকলের সঙ্গে এক পংক্তিতে লুচি, ডাল, তরকারি, মিষ্টি খেয়ে উপস্থিত সকলকে বিদায় জানিয়ে দক্ষিণেশ্বরে ফিরে যান।

সে দিনের সেই অনুষ্ঠানের বিবরণ পরের দিন অর্থাৎ ৩ মে, ১৮৮৩-এর ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি সুগভীর শ্রদ্ধা ও অনুরাগ থেকে পরবর্তী কালে ১৩৪২ বঙ্গাব্দে ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে বসে ‘পরমহংস রামকৃষ্ণদেব’ কবিতাটি রচনা করেন –

“বহু সাধকের বহু সাধনার ধারা/ধেয়ানে তোমার মিলিত হয়েছে তারা/তোমার জীবনে অসীমের লীলাপথে/নতুন তীর্থ রূপ নিল এ জগতে;/দেশবিদেশের প্রণাম আনিল টানি/সেথায় আমার প্রণতি দিলাম আনি।”

আজ ৯ মে বিশ্বকবির ১৬১তম জন্মদিনে দুই মহামানবের মহামিলনের সেই বিরল মুহূর্তটি স্মরণ করি। সেই ঐতিহাসিক ঘটনারও ১৩৮তম বর্ষ উদযাপিত হল।  শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – এই দুই মহামানবের পদপ্রান্তে আমাদের শত কোটি প্রণাম।

Continue Reading

প্রবন্ধ

নরেন্দ্র মোদী আবার কবে বাংলায় আসবেন?

বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও ‘হিংসা’ থামাতে রাজ্যে আসছেন। মোদী কবে আসবেন?

Published

on

আরাত্রিকা রায়: শেষ এসেছিলেন এপ্রিল মাসের ১৭ তারিখে। তার পর প্রায় তিন সপ্তাহ হতে চললেও তাঁর দেখা নেই। মাঝেমধ্যে টিভির পরদায় রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু বাংলার বুকে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই ‘অস্বস্তিকর’ ডাক, “দিদি, অ দিদিইইইইই” আর শোনা যাচ্ছে না। ফের কবে আসবেন তিনি?

ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই মোদীর ধারাবাহিক বাংলা সফরের সূচনা। লক্ষ্য বাংলা দখল করে নবান্নের চাবি বিজেপির হাতে তুলে দেওয়া। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ১২টি সফরে নির্বাচনী সভা করেছিলেন ১৮টি। এক নজরে দেখে নেওয়া যেতে পারে সেগুলির দিন এবং স্থান।

Loading videos...

৭ ফেব্রুয়ারি: হলদিয়া/২২ ফেব্রুয়ারি: সাহাগঞ্জ/৭ মার্চ: ব্রিগেড/১৮ মার্চ: পুরুলিয়া/২০ মার্চ: খড়্গপুর/২১ মার্চ: বাঁকুড়া/২৪ মার্চ: কাঁথি/১ এপ্রিল: মথুরাপুর এবং উলুবেড়িয়া/৬ এপ্রিল: কোচবিহার এবং ডুমুরজোলা/১০ এপ্রিল: শিলিগুড়ি এবং কৃষ্ণনগর/১২ এপ্রিল: বর্ধমান, কল্যাণী এবং বারাসত/১৭ এপ্রিল: আসানসোল এবং গঙ্গারামপুর।

তবে এর পরেও মোদীর পুরোনো সূচি অনুযায়ী মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও কলকাতায় সফর ছিল। কিন্তু শেষমেশ ভার্চুয়াল মাধ্যমে দিল্লি থেকে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, ২৩ এপ্রিল দেশের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থাকায় বাংলা সফর বাতিল করতে বাধ্য হন তিনি।

প্রায় সব সভাতেই তিনি হরেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন, “বাংলার বিজেপি সরকার ‘আসওল পরিবর্তন’ নিয়ে আসবে”। যে জন্য তিনি নির্দিষ্ট জায়গায় (ঠিক কোথায়, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে) ছাপ মেরে তৃণমূলকে সাফ করার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

সমালোচকরা বলছেন, বাংলা দখলে তিনি যেমন ব্যর্থ, তেমনই করোনা মহামারি মোকাবিলাতেও তাঁর ব্যর্থতার ছবি স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ছে নিত্যদিন আক্রান্তের সংখ্যা অথবা স্বাস্থ্য পরিষেবার বিপর্যয় দেখে। করোনার প্রথম ঢেউয়ে ঘনঘন জাতির উদ্দেশে ভাষণ, প্রদীপ জ্বালানো, থালাবাসন বাজানোর মতো নিত্যনতুন টোটকায় মাতিয়েও রেখেছিলেন। ধীরে ধীরে নীচের দিকে নেমে আসা করোনা-গ্রাফ ফের সমস্ত শিখর ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর তিনি বাংলা জয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে শুধুই উড়ে বেড়িয়েছেন। বিহারের ভোটেও দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন, কোনো রকমে গড় রক্ষা হতেই ফলাফল ঘোষণার পরই বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে ভার্চুয়াল ভাষণও দিয়েছিলেন। তবে বাংলায় সে সবের সুযোগ মিলল না। অন্য দিকে হাতের বাইরে চলে গেল করোনা।

থাকার মধ্যে রয়েছে বাংলায় ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা আসছেন, বিশেষ প্রতিনিধি দলও আসছে। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় উড়ে আসছে কঠিন কিছু প্রশ্ন। “২ তারিখের পর মেরে ঠান্ডা করে দেব”,
“পুলিশকে দিয়ে জুতো চাটাবো”, “২রা মে ঘর থেকে টেনে টেনে বের করে মারব”, “বেগম হারবে, ফুফা হারবে, পাকিস্তান পাঠিয়ে দেব”, “বদল হবে, বদলাও হবে”, “২ মে থেকে যোগী আদিত্যনাথের মতো সোজা করব”, “আরও অনেক শীতলকুচি হবে”, “আমরা মারব, তোরা লাশ গুনবি” এমন সব হুঙ্কার কারা ছেড়েছিল? তবে বাংলার পরিস্থিতি তেমনটা হতে দেননি বাংলার মানুষ। সোনার বাংলা যদি ‘সুনার বঙ্গাল’ হত তা হলে কী হত, তা অবশ্য জানা নেই।

তবে এখন জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রের বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও ‘হিংসা’ থামাতে রাজ্যে আসছেন। করোনার জন্যে ভারত থেকে বিমান চলাচলে স্থগিতাদেশ জারি করেছে বিশ্বের অনেক দেশ। বিদেশ প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে বাংলায়। ওই মন্ত্রীর নাম বাংলার কত জন শুনেছেন, অথবা তিনি নিজে বাংলার মানুষ তো দূরের কথা ক’টা অলিগলি চেনেন, সেটাও একটা বড়োসড়ো প্রশ্ন।

একই প্রশ্ন মোদীর ১২ সফরে ১৮ সভা নিয়েও। বাংলার মানুষ, বাংলার সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে উপর উপর জেনেই তিনিও বাংলা জয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। হলদিয়ার প্রথম সভাতেই (৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেছিলেন, “মমতার আমলে ১০ বছর ধরে নির্মমতা পেয়েছেন বাংলার মানুষ”।

কঠিন হলেও সত্যি, বাংলার মানুষ ফের সেই মমতাকেই চেয়েছেন। নিজে না বুঝে অন্যকে বোঝাতে গেলে হয়তো এমনই হয়। তবে ইস্যুর কিন্তু শেষ নেই। রাজ্য বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের জারির দাবিতে সরব। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই দাবিতে গলা মেলালে মন্দ হবে না। খুব তাড়াতাড়ি রাষ্ট্রপতির কানে পৌঁছে যেতে পারে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফোনে কথা বলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে। মানে বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসুক না আসুক, তিনি পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় এটাই কাম্য। তা হলে ফের কবে আসবেন প্রধানমন্ত্রী? অনুব্রত মণ্ডল কিন্তু আগেই ডাক দিয়ে রেখেছেন, “নরেন ও…ওউ নরেন”।

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
বাংলাদেশ41 mins ago

Bangladesh Covid Vacination: টিকা ট্রায়ালে চিন অর্থ চাওয়ায় রাজি হয়নি বাংলাদেশ

বাংলাদেশ60 mins ago

Bangladesh-China Relation: চিনের এমন আচরণ আশা করেনি বাংলাদেশ

দেশ3 hours ago

G-7 Summit: পর্তুগালের পর ইংল্যান্ড যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

বিজ্ঞান4 hours ago

জানেন কি, কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর অ্যান্টিবডিগুলি কত দিন পর্যন্ত রক্তে থেকে যায়

রাজ্য5 hours ago

Bengal Corona Update: কুড়ি হাজারের গণ্ডি পেরোল দৈনিক সংক্রমণ, প্রচুর টেস্টর ফলে সংক্রমণের হার ৩০ শতাংশের নীচে

coronavirus test
দেশ6 hours ago

আক্রান্তদের ফের আরটি-পিসিআর নয়, কোভিড টেস্টে নয়া নির্দেশ কেন্দ্রের

বিনোদন6 hours ago

‘রাধে’র বক্স অফিস কালেশন হতো ‘জিরো’, হল মালিকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী সলমন খান

দেশ7 hours ago

Vaccination Drive: জোগান নেই, মহারাষ্ট্রে বন্ধ হয়ে গেল কমবয়সিদের টিকাকরণ

বিজ্ঞান2 days ago

কোভিডের ভাইরাস বায়ুবাহিত, ৬ ফুট পর্যন্ত ছড়াতে পারে, দাবি শীর্ষ মার্কিন সংস্থার

রাজ্য2 days ago

Bengal Corona Update: নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় একই, রাজ্যে বাড়ল সুস্থতা

ক্রিকেট2 days ago

বিরাট-রোহিত ছাড়াই এক নতুন ভারতীয় দলকে জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে দেখা যাবে!

প্রবন্ধ3 days ago

এমনই বৈশাখের একটি দিনে মুখোমুখি হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও শ্রীরামকৃষ্ণ

দেশ16 hours ago

Covid Crisis: অক্সিজেনের অভাবে ১১ কোভিডরোগীর মৃত্যু অন্ধ্রপ্রদেশের হাসপাতালে

দেশ2 days ago

ভ্যাকসিন এবং কোভিডের চিকিৎসা সরঞ্জামে ট্যাক্স কেন? মমতার চিঠির পর ১৬টা টুইট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর

Madhyamik examination west bengal
শিক্ষা ও কেরিয়ার8 hours ago

Madhyamik 2021: আপাতত সম্ভব নয় মাধ্যমিক পরীক্ষা, সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পর্ষদ

রাজ্য2 days ago

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় মন্ত্রীসভায় একাধিক নতুন মুখ

ভিডিও

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 months ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা4 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা4 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা4 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা4 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা4 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে