Connect with us

কথাশিল্প

ভারতে বিমুদ্রাকরণের পিছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা / ২

(প্রথম পর্বের পর) দ্য বেটার দ্যান ক্যাশ অ্যালায়েন্স বিশ্ব জুড়ে নগদের বাজারকে সঙ্কুচিত করার লক্ষ্যে ২০১২-তে এই সংস্থা তৈরি হয়, যার অন্যতম সদস্য ইউএসএআইডি। নিউইয়র্কে ইউনাইটেড নেশনস ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে এর সচিবালয়। এই কারণেই বোধহয় পূর্ববর্তী দু’টি বছরের একটিতে গেটস্‌-ফাউন্ডেশন এবং আরেকটিতে মাস্টার কার্ড- ফাউন্ডেশন রাষ্ট্রপুঞ্জের এই ছোট্টো দরিদ্র সংগঠনটিকে উদার ভাবে সাহায্য করেছিল। Loading […]

Published

on

(প্রথম পর্বের পর)

দ্য বেটার দ্যান ক্যাশ অ্যালায়েন্স

বিশ্ব জুড়ে নগদের বাজারকে সঙ্কুচিত করার লক্ষ্যে ২০১২-তে এই সংস্থা তৈরি হয়, যার অন্যতম সদস্য ইউএসএআইডি। নিউইয়র্কে ইউনাইটেড নেশনস ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে এর সচিবালয়। এই কারণেই বোধহয় পূর্ববর্তী দু’টি বছরের একটিতে গেটস্‌-ফাউন্ডেশন এবং আরেকটিতে মাস্টার কার্ড- ফাউন্ডেশন রাষ্ট্রপুঞ্জের এই ছোট্টো দরিদ্র সংগঠনটিকে উদার ভাবে সাহায্য করেছিল।

Loading videos...

নগদকে সঙ্কুচিত করলে যাদের লাভ সব চেয়ে বেশি সেই সব বৃহৎ মার্কিন-প্রতিষ্ঠান এই অ্যালায়েন্সের সদস্য। এই প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে রয়েছে মাস্টার কার্ড ও ভিসা-র মতো ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি এবং সেই সব মার্কিন প্রতিষ্ঠান যাদের নাম মার্কিন গোয়েন্দা সার্ভিসেসের ইতিহাস বইগুলোতে অনেক বারই উঠে এসেছে যেমন ফোর্ড ফাউন্ডেশন, ইউএসএআইডি ইত্যাদি। গেটস্‌-ফাউন্ডেশনও একটি উল্লেখযোগ্য সদস্য। ই বে-র ওমিডিয়ার নেটওয়ার্ক-এর প্রতিষ্ঠাতা পিয়ের ওমিডিয়ার এবং ‘সিটি’ এই অ্যালায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ অর্থ-জোগানদার। অ্যালায়েন্স সদস্যদের বেশির ভাগই নগদের উপর নির্ভরতা নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তৈরি ইউএসএআইডি-ভারত উদ্যোগের অন্যতম অংশীদার। এই উদ্যোগ এবং ক্যাটালিস্ট-কর্মসূচি ‘দ্য বেটার দ্যান ক্যাশ অ্যালায়েন্স’-এর আর একটু বিস্তৃত সংস্করণ, যেখানে যোগ দিয়েছে ভারত ও এশিয়ার অন্যান্য দেশের বেশ কিছু সংস্থা যাদের নগদ অর্থনীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভালো রকম ব্যবসায়িক স্বার্থ নিহিত আছে।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার আইএমএফ-শিকাগো সন্তান

ভারতে নগদ বাজার সঙ্কোচনের জন্য এই সমঝোতার পরিকল্পনা কিন্তু রাতারাতি হয়নি। রঘুরাম রাজন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর থাকার সময়কাল (২০১৩, সেপ্টেম্বর– ২০১৬, সেপ্টেম্বর) জুড়েই এই পরিকল্পনা চলছিল। রাজন ছিলেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পদ ছেড়ে আবার ফিরে গিয়েছেন সেখানে। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল অবধি রাজন ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের মুখ্য অর্থনীতিক ছিলেন। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ‘গ্রুপ অফ থার্টি’-রও সদস্য রাজন। এটি একটি সন্দেহজনক সংগঠন। এরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে গোপনে নানা রকম চিন্তাভাবনা, আর পরিকল্পনা বিনিময় করে এবং সেই সব আলোচনার কোনো সূচি রাখা হয় না। নগদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষেত্রে এই গোষ্ঠী যে অন্যতম সমন্বয়-কেন্দ্র হিসাবে কাজ করেছে, সেই বিষয়টি ক্রমশ সামনে আসতে শুরু করেছে। কেন রগফ, ল্যারি সামার্স-এর মতো নগদ-বিরোধী যুদ্ধের সৈনিকরাও এই গোষ্ঠীর সদস্য।  

আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থার আরও উঁচু ধাপে ওঠার ইচ্ছা থাকার যথেষ্ট কারণ রাজনের আছে। তাই ওয়াশিংটনের খেলার অন্যতম খেলোয়াড় হওয়াও তাঁর পক্ষে স্বাভাবিক। এর আগে আমেরিকান ফিনান্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন রাজন এবং অর্থনৈতিক গবেষণায় প্রথম ফিশার-ব্ল্যাক পুরস্কার পান তিনি। এ ছাড়াও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে অর্থনৈতিক গবেষণার জন্য ইনফোসিস পুরস্কার, আর্থিক অর্থনীতির জন্য ডয়েশ ব্যাঙ্ক পুরস্কার এবং ইকনমিকসের সব চেয়ে ভালো বই লেখার জন্য ফিনান্সিয়াল টাইমস/গোল্ডম্যান স্যাকস পুরস্কার। ন্যাসকমের ‘বর্ষসেরা ভারতীয়’-র সম্মান এবং ‘ইউরোমানি’ ও ‘দ্য ব্যাঙ্কার’-এর ‘বর্ষসেরা সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কার’ সম্মানও জুটেছে তাঁর। আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে ক্রিস্টিন ল্যাগার্ডের সম্ভাব্য উত্তরসূরির তালিকায়ও জ্বলজ্বল করছে তাঁর নাম। তবে আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থার আরও অনেক উচ্চ পদেও যেতে পারেন তিনি।

দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্কের গভর্নর হিসেবে আর্থিক ক্ষেত্রের শীর্ষ স্থানীয়দের কাছে রাজন খুবই সম্মাননীয় ও পছন্দের মানুষ ছিলেন, কিন্তু বিনিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে যতই তাঁর আগ্রহ থাকুক উৎপাদন ক্ষেত্রের মানুষজনদের কাছে তিনি ছিলেন রীতিমতো অপছন্দের।  তার কারণ অবশ্য তাঁর ‘সীমাবদ্ধ’ অর্থনৈতিক নীতি। এই নীতির তিনিই প্রবক্তা এবং জোরদার সমর্থক। শাসক দলের বিভিন্ন স্তর থেকে প্রচণ্ড সমালোচিত হওয়ার পর জুন মাসেই তিনি ঘোষণা করেন সেপ্টেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় তিনি আর দায়িত্ব নেবেন না। পরে তিনি ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে বলেছিলেন, তিনি থাকতে চেয়েছিলেন, তবে পুরো মেয়াদের জন্য নয় এবং এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আপত্তি ছিল।   এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন বাণিজ্য ও আইনমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বলেছিলেন, রঘুরাম রাজনের গভর্নরশিপ শেষ হওয়ায় খবরে দেশের শিল্পপতিরা খুশি- “আমি তো এটা চেয়েইছিলাম। প্রধানমন্ত্রীকে পরিষ্কার করে বলেও ছিলাম। ওঁর (রাজনের) যাঁরা লক্ষ্য তাঁরা মূলত পশ্চিমী…। আমার কাছে দলে দলে লোক আসত, বলত কিছু একটা করুন…।”   

দুর্ঘটনা, যা ঘটারই ছিল

ভারতের অধিকাংশ ব্যাঙ্কনোট অবৈধ ঘোষণা করার এই যে যুদ্ধ, তার প্রস্তুতিতে যদি রাজন জড়িয়ে থাকেন এবং এ বিষয়ে যে কোনো সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই তা রাজনের ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক যোগ ও নগদ ব্যবস্থাপনায় ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে বলাই যায়, তাহলে এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে এই গোটা ঘটনার পিছনে তাঁর থাকাই স্বাভাবিক। যাদের উপকারের নামে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির দোহাই দেওয়া হয় সেই বেশির ভাগ গ্রামীণ ও দরিদ্র ভারতবাসীই যে নোট বাতিলের উদ্যোগে সব চেয়ে বেশি দুর্দশায় পড়বেন, এই ব্যাপারটায় এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিস্মিত করে না। ইউএসএআইডি এবং তার অংশীদাররা গোটা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে। ‘বিয়ন্ড ক্যাশ’ রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ভারতে এখনও ৯৭ শতাংশ লেনদেন নগদেই হয়, এবং মাত্র ৫৫ শতাংশ মানুষ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। এই ৫৫ শতাংশের মধ্যে “মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ গত তিন মাস ধরে ব্যবহার করছেন।”

এটা সবটাই ভালো ভাবে জানা ছিল এবং একেবারে স্থিরনিশ্চিত ছিল যে, বাজারের বেশির নগদ রাতারাতি বিলোপ করলে দেশের বহু ছোটো ব্যবসায়ী এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের (যেখানে আশেপাশে কোনো ব্যাঙ্ক নেই)  উৎপাদক ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হবে, এমনকি অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে। যখন নোট বাতিল হল তখন পরিষ্কার হয়ে গেল, নগদকে পিছনে ঠেলে ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আশ্বাস কতটা মিথ্যে। বাজার অর্থনীতিতে প্রত্যেকের যোগদান কাম্য হলে লেনদেনের ক্ষেত্রে ভারতের মতো দেশে নগদের কোনো বিকল্প হয় না।

নগদের ওপর এই আঘাত ভিসা, মাস্টারকার্ড ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী অন্যান্য সংস্থা, যাদের দুর্দশাগ্রস্ত জনগণের মতো অস্তিত্বের কোনো সংকটে পড়তেই হল না, তাদের কাছে বড়োই লাভজনক হল। ‘পরীক্ষামূলক অঞ্চলেও’ ডিজিটাল পেমেন্ট ‘বেড়ে গেল’।  চূড়ান্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হলেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের মধ্যে যাঁরা সেই ক্ষতি বহন করতে সক্ষম, তাঁরাই পরবর্তীতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিলেন। ব্যাঙ্ক এবং এটিএম থেকে টাকা তোলার ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করায় উপভোক্তারাও এখন কার্ড ব্যবহার করার সুযোগ খুঁজবেন, যাতে উপকার হবে মাস্টারকার্ড, ভিসা-সহ ‘বেটার দ্যান ক্যাশ’ জোটের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সদস্যদের।

বিশ্ব জুড়ে নগদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের কেন এই যুদ্ধ

বিশ্ব জুড়ে নগদের ব্যবহার সংকুচিত করার জন্য মার্কিন সরকারের প্রবল আগ্রহের অন্যতম কারণ হল বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি ও পেমেন্ট ব্যবসার নিয়ন্ত্রক মার্কিন কোম্পানিগুলির স্বার্থ রক্ষা। কিন্তু সেটাই একমাত্র কারণ নয়। সম্ভবত সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণও নয়। আরেকটি কারণ হল, ডিজিটাল পেমেন্টের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি করার ক্ষমতা। ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সমস্ত আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং এ সংক্রান্ত অধিকাংশ ডিজিটাল ডেটা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলির নখদর্পণে রাখাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। আর্থিক তথ্যই হল সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান তথ্য।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, মুদ্রার গুরুত্বের বিচারে ডলারের স্থান ও মর্যাদা এবং আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থায় মার্কিন কোম্পানিগুলির প্রতিপত্তি, নগদহীন অর্থনীতির বিশ্ববাজারে মার্কিন সরকারকে ক্রমশ সর্বক্ষমতাশালী করে তুলেছে। অন্য সব দেশকেই স্থানীয় কিংবা আন্তর্জাতিক আইনের পরিবর্তে মাথা নোয়াতে হচ্ছে মার্কিন আইনের কাছে। কী ভাবে তা ঘটছে তা পরিষ্কার হয়ে যায় সম্প্রতি ‘ফ্রাঙ্কফুর্টার আলগেমাইনে ৎসাইটুং’ নামে এক জার্মান সংবাদপত্রে প্রকাশিত হাড় হিম করা এক প্রতিবেদন থেকে। জানা যায়, ইরানের সঙ্গে আইনসঙ্গত ভাবে ব্যবসা করা সত্ত্বেও এক জার্মান সংস্থার কর্মচারীদের মার্কিন প্রশাসনের তৈরি জঙ্গি-তালিকায় রাখা হয়েছে। এর অর্থ হল, বেশির ভাগ আর্থিক ব্যবস্থা থেকে তাদের দূরে রাখা হয়েছে, এমনকি কিছু রসদ বহনকারী কোম্পানিও তাদের তৈরি আসবাব পরিবহন করছে না। আরও দৃষ্টান্ত আছে। মার্কিন অনুরোধে জার্মানির এক বড়ো ব্যাঙ্ক থেকে বহিষ্কার করতে হয়েছে বেশ কিছু কর্মচারীকে, যাঁরা কোনো রকম অবৈধ বা অন্যায় কাজকর্মে জড়িত নন।

এ রকম অসংখ্য উদাহরণ আছে। প্রতিটি আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ককে মার্কিন সরকারের আদেশানুসারে চলতে বাধ্য করতে পারে আমেরিকা। আদেশ না মানলে রয়েছে আমেরিকায় বা ডলারে বাণিজ্য করার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি। এটা হওয়া আর ব্যাঙ্ক বন্ধ করে দেওয়া, দু’টোর মধ্যে খুব একটা তফাত নেই। ডয়েশ ব্যাঙ্কের কথাই ভাবুন। ১৪০০ কোটি ডলার জরিমানা দিয়ে তারা ব্যবসা থেকে পাততাড়ি গোটাবে, নাকি ৭০০ কোটি ডলারে রাজি করিয়ে বাঁচার চেষ্টা করবে, এই নিয়েই মার্কিন ট্রেজারির সঙ্গে কয়েক মাস ধরে আলাপআলোচনা চালাতে হল তাদের। শেষ পর্যন্ত ৭০০ কোটি দিয়ে বাঁচল। একটা দেশের হাতে যখন অন্য দেশের ব্যাঙ্ককে দেউলিয়া করার ক্ষমতা থাকে এবং সেই দেশটা বেশ বড়ো দেশ, তখন সেই দেশের সরকারকেও নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার থাকবে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং সেই সংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমে আধিপত্য করার ক্ষমতা ইতিমধ্যেই রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। বিশ্ব জুড়ে নগদের ব্যবহার যত কমবে, আমেরিকার হাতে এই ক্ষমতা ততই পুঞ্জিভূত হবে। কারণ নগদের ব্যবহার এই ক্ষমতাকে অনেকটাই নড়বড়ে করে দিতে পারে। (শেষ)

সৌজন্যে : গ্লোবাল রিসার্চ

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

প্রবন্ধ

সামনে ভোট, বরাদ্দ-ব্যবসা তো জমবেই!

কেন্দ্রীয় বরাদ্দের তালিকায় এক নম্বরে পশ্চিমবঙ্গ! তা না হলে ভোটপ্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী রাজ্য সরকারের কাছে ‘হিসেব’ চাইবেন কী ভাবে?

Published

on

নরেন্দ্র মোদী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
Jayanta Mondal
জয়ন্ত মণ্ডল

গরিবের হয়ে গলা ফাটাচ্ছে সরকার! গরিবের ঘরে ঢুকে হাঁড়ির খবর নিচ্ছে সরকার! একের পর এক প্রকল্প-তহবিলের খবর দিচ্ছে সরকার! তা হলে কি ভোট এসে গেল?

করোনা-কোভিড করে চিৎকার চলুক, তারই মাঝে কড়া নেড়ে দিয়েছে ২০২১-এর বিধানসভা ভোট। সংবাদ মাধ্যমের ভাষায় ‘একুশের মহারণ’। মহারথীরা ময়দানে নেমে পড়েছেন। রঙ-বেরঙের পতাকা, সারি সারি মাথা আর সময়-সুযোগ পেলেই গরিবের জন্য দু’-চার কথা। এখন অবশ্য শুধু কথায় চিঁড়ে ভেজে না। ‘মাল’ খসাতে হয়। সেটা মোক্ষম বোঝেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বিজেপি-বিরোধী রাজ্য সরকার সাড়ে চার বছর কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে আসবে, আর তার পর ভোটের মুখে কেন্দ্রের হাত উপুড়। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক একটি পরিসংখ্যান তো তেমনটাই বলছে।

১-এ পশ্চিমবঙ্গ!

করোনাভাইরাস মহামারি রুখতে ২০২০-র মার্চে দেশব্যাপী লকডাউন জারি করেছিল কেন্দ্র। ওই লকডাউন কার্যকর হওয়ার পর থেকে গ্রামোন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। গ্রামীণ পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে এই মেয়াদে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে যে তহবিল বরাদ্দ করেছে, তা থেকে সব থেকে বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের জন্য। ভালো কথা! কিন্তু করোনা প্রভাবিত রাজ্যগুলির মধ্যে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলির তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ তো প্রথম স্থানে নেই! তা হলে বরাদ্দের তালিকায় কেন পশ্চিমবঙ্গ?

Loading videos...

আবার এমনও নয়, দেশের অন্য রাজ্যগুলির তুলনায় সব থেকে পিছিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। তা হলে কেন?

প্রথমত, বছর ঘুরলেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট। এবং দ্বিতীয় ও শেষ কারণ, সারা দেশ জুড়ে অশ্বমেধের ঘোড়া ছোটালেও এখনও রাজ্যটিতে ক্ষমতা কায়েম করতে পারেনি কেন্দ্রের শাসক দল। হিসেবটা কী করে এতটা সহজ হল?

কারণ, এই মেয়াদে রাজ্যগুলির জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিহার। যেখানে অক্টোবর-নভেম্বর (২০২০)-এর বিধানসভা ভোট হয়ে গেল। ১০ নভেম্বর এগিয়ে যাওয়া আর পিছিয়ে থাকার টানটান উত্তেজনা শেষে কুর্সি দখলে রেখেছে বিজেপি এবং মিত্রশক্তি।

কে কত পেল?

গ্রামোন্নয়নমন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছে, মার্চ-নভেম্বর (২০২০) মেয়াদে সব মিলিয়ে ছ’টি প্রকল্পে ৪৯ হাজার ২৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্যে জুটেছে ৫ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা। বিহারের জন্য বরাদ্দ ৫ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা। এর পরে যথাক্রমে রয়েছে মধ্যপ্রদেশ (৪ হাজার ৯৭৪ কোটি), উত্তরপ্রদেশ (৪ হাজার ৬৩৬ কোটি) এবং ওড়িশা (৪ হাজার ৫৩৫ কোটি)।

বিহার ভোটের পাট চুকেছে। মধ্যপ্রদেশেও বিজেপি সরকারের ভাগ্য নির্ধারণে ২৫টি আসনে উপ-নির্বাচনে বিজেপি সরকারের স্থায়িত্ব মজবুত হয়েছে। অন্য রাজ্যগুলির বরাদ্দ-বণ্টনে ভৌগোলিক এবং রাজনৈতিক কারণও হেলাফেলার নয়। তবে এই বরাদ্দের তালিকায় একেবারে শেষ জায়গায় রয়েছে গোয়া। তাদের জন্য এই মেয়াদে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ২.১ কোটি টাকা। এখানেও যেমন কাজ করেছে জনসংখ্যার অঙ্ক।

খাতের পরিচয়

মূলত ছ’টি খাতেই এই তহবিল বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যেগুলির মধ্যে রয়েছে মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাসিস্ট্যান্টস (এমএনআরইজিএ), প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (পিএমজিএসওয়াই), শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি রুর্বন মিশন, ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম, ন্যাশনাল রুরাল লাইভলিহুড মিশন (এনআরএলএম) এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (পিএমএওয়াই)।

পশ্চিমবঙ্গের মতোই বছর ঘুরলেই ভোট অসমেও। পিএমজিএসওয়াই প্রকল্পে সেখানে বরাদ্দের পরিমাণ সব থেকে বেশি (১ হাজার ২৮৫ কোটি)। আবার পিএমএওয়াই প্রকল্পে সব থেকে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (৩ হাজার ৭৫১ কোটি)। ছিটেফোঁটা ব্যতিক্রম যে নেই, তাও নয়। ২০২১-এ বিধানসভা ভোট তামিলনাড়ুতেও। কিন্তু পিএমএওয়াই প্রকল্পে কোনো বরাদ্দ মেলেনি এই মেয়াদে। আবার গোয়া, গুজরাত, হরিয়ানা অথবা তেলঙ্গনাও এই প্রকল্পে কোনো তহবিল পায়নি।

অন্য দিকে ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম-এর অধীনে সব থেকে বেশি বরাদ্দ জুটেছে বিহারের ভাগ্যে। উত্তরপ্রদেশ পেয়েছে ১ হাজার ২১৮ কোটি, কিন্তু জনসংখ্যা অনেক কম হলেও বিহার পেয়েছে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। উত্তরপ্রদেশের পরে তৃতীয় স্থানেই পশ্চিমবঙ্গ (৬৫৩ কোটি)।

আরও যে ভাবে

ঘূর্ণিঝড়, বন্য, ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ছয় রাজ্যের জন্য জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল থেকে মোট ৪ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় উম্পুনের ক্ষতিপূরণবাবদ পশ্চিমবঙ্গকে আরও ২ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ওই খাতে। ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে এসে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফলে সব মিলিয়ে হল ৩ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। কিন্তু এটা কি যথেষ্ট?

রাজ্যের শাসক দল বলছে, মোটেই নয়। গত ১৩ নভেম্বর কেন্দ্রের তরফে এই ঘোষণার পর তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় স্পষ্টতই জানিয়ে দেন, উম্পুন বিধ্বস্ত অঞ্চল পরিদর্শনে এসে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার ধারেকাছে পৌঁছোয়নি এই বরাদ্দ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, উম্পুনের তাণ্ডবে রাজ্যে ১ লক্ষ ২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

বকেয়া এবং বঞ্চনা

লকডাউনের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের ৫৩ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।

তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও ব্রায়েন জানান, গত এক বছরে কেন্দ্রের সাহায্যে চলা প্রকল্পগুলিতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া। রাজ্যের রাজস্ব আদায় বাবদ প্রাপ্য, খাদ্য ভরতুকি এবং জিএসটি বাবদ বকেয়ার তালিকাও দীর্ঘ। যা নিয়েই বঞ্চনার অভিযোগ তুলছে রাজ্য সরকার।

এ দিকে ভোট এসে গেল!

বিহারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে যে ভাবে বিহারের মানুষ করোনাকে এড়িয়ে ভোট দিয়েছেন (বিজেপিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছেন), তাতে তাঁদের ধন্যবাদই প্রাপ্য। পশ্চিমবঙ্গেও ভোট আসছে। মনে হয় না করোনা এখনই ‘টাটা বাইবাই’ করবে। তারই মধ্যে ভোটপ্রচারে নেমে পড়েছে শাসক-বিরোধী সকলেই। বরাদ্দ-ব্যবসাও সমানে চলবে। তা না হলে বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী রাজ্য সরকারের কাছে ‘হিসেব’ চাইবেন কী ভাবে?

আরও পড়তে পারেন: শহর ছেড়ে তুমি কি চলে যেতে পারো তিন ভুবনের পারে

Continue Reading

প্রবন্ধ

সৌমিত্র, কবে যে চলে এলে গৃহস্থের রান্নাঘর থেকে বৈঠকখানা হয়ে শীতের ছাদে আলোচনায়

সবাই চাইছিল, তুমি এক টানে সব খুলে বেরিয়ে আসবে, যেমন করে টান দিয়েছিলে হীরকরাজার মূর্তিতে। কিন্তু না, সব মায়া কাটিয়ে চলে গেলে তুমি।

Published

on

পাপিয়া মিত্র

ক্লাসের প্রথম হওয়া ছাত্রীটিকে ঘিরে সহপাঠীদের জটলা। কী হল… তার পরে… বল বল। মানে ওই যে দেবদাস যখন গাছের তলায় শুয়ে রয়েছে আর ওই যে পাতাগুলো, মানে গায়ে কাঁটা দিচ্ছে… পাশ থেকে একজন বলল, ঝুরঝুর করে। হ‍্যাঁরে, গাছতলায় শুয়ে রয়েছে পারুর দেবদা। উফ্ জাস্ট ভাবতে পারছি না। হয়তো অষ্টম শ্রেণি। ও দেখে ফেলেছে আর…।

অনেকেই শুরু করে দিয়েছে শরৎচন্দ্র পড়তে। যাদের উপায় আছে তারা লুকিয়ে পড়ছে আর যাদের সেটুকু নেই তাদের থেকে জেনে নেওয়ার জন্য স্কুল কামাই নেই।

Loading videos...
‘দেবদাস’।

সাধারণ প্রেক্ষাগৃহে রমরমিয়ে চলছে দেবদাস। সৌমিত্র-উত্তম অভিনীত। সুপ্রিয়া-সুমিত্রা অভিনীত। কেমন হল রে? কেউ বলছে, আহা উত্তমের কী গাওয়া – শাওন রাতে যদি…। তখন পাড়ার জলসা থেকে মঞ্চের অনুষ্ঠানেও। আর প্রেমে ব‍্যর্থ হওয়া ছেলের দল তো চিহ্নিত হয়ে গিয়েছিল, মদ খাই সব ভুলতে। কী নিরহঙ্কার সরল প্রেমে আপ্লুত দুই যুবক-যুবতী, যেন আমার আপনার ঘরের দেওর ননদটি। সেই কিশোরীবেলার প্রেমিকটিকে অজান্তেই নিজের করে নেওয়া। নানা হলের সিনেমার বিজ্ঞাপন দেখা খবরের কাগজে, সেটাও খানিক লুকিয়েচুরিয়ে।

একটা বুদ্ধিদীপ্ত, ছিপছিপে, লম্বা, মাথাভর্তি চুল আর সব আভিজাত‍্য এসে শেষ হয়েছে খোদাই করা নাসিকায়। এমন এক নায়কের কী কী সিনেমা চলছে, কোন কোন হলে, কান খাড়া থাকত বাড়ির বড়োদের কথায়। সেটা তো মোবাইলের যুগ নয় যে গুগল আন্টিকে জিজ্ঞেস করে নেওয়া যাবে। জানার ইচ্ছে, দেখার তাগিদ, শোনার আগ্রহ, খবর পেলেই হল, বই খাতা নোটস আনার অছিলায় গল্প গিলে আসা।

‘তিন ভুবনের পারে’।

আসলে সব সংসার তখন খুব একটা স্বাধীনচেতা ছিল না। সৌমিত্র চট্টোপধ‍্যায়ের বই দেখার থেকে গৃহস্থ বেশি পছন্দ করত উত্তমকুমারের সিনেমা দেখতে। কিন্তু এ-ও ঠিক কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রী আর এক শ্রেণির মানুষের কাছে সৌমিত্র হয়ে উঠেছিলেন এক আদর্শ নাগরিক।

কিন্তু রোগের কাছে কেন হারিয়ে গেল খিদদার ‘ফাইট কোনি, ফাইট’ চিৎকার? কেন বসন্তবিলাপের শ‍্যামের আগুন লাগার উত্তপ্ত গান নিভে গেল? ওই তো যেন শোনা যাচ্ছে চারুবৌঠানকে নিয়ে গাইছে ‘আমি চিনিগো চিনি তোমারে’। ওই তো দেখছি, উদ্ধত সন্দীপ দাঁড়িয়ে আছে বিমলার কাছে। ময়ূরবাহন আর সাড়া দেবে না। তোমার ঘোড়া যে ছটফট করছিল ঝিন্দের পাহাড়িপথে তোমাকে নিয়ে ঘুরবে বলে। তোমার কাজল, তোমার মুকুল, তোমার ক‍্যাপটেন স্পার্ক, তোমার পোস্ত, তোমার তোপসে আর তোমার ফেলুদার কাহিনি লেখার অপেক্ষায় ছিলেন লালমোহনবাবু কিন্তু তুমি চলে গেলে। তোমার মাথার কাছে শ্বাস ফেলছিল হীরকরাজা। তুমি তো তাকে ছেড়ে দাওনি।

‘চারুলতা’।

‘তিন ভুবনের পারে’, ‘জীবন সৈকতে’, ‘স্ত্রী’, ‘প্রথম কদম ফুল’, ‘পরিণীতা’, ‘বাঘিনী’, ‘বাক্স বদল’, ‘মাল‍্যদান’, ‘মণিহার’-সহ অনেক ছবি একে একে গৃহস্থের রান্নাঘর থেকে বৈঠকখানা হয়ে শীতের ছাদে আলোচনায় চলে এল। কোথাও মনকাড়া গান, কোথাও টানটান গল্প। কোথাও তুমি অধ‍্যাপক, কোথাও তুমি গাড়ির ড্রাইভার। কোথাও তুমি বেকার ইঞ্জিনিয়ার, কোথাও তুমি ডাক্তার। গৃহস্থের কাছে তুমি বোকা বোকা হাসির নায়ক হলেও তোমাকে কেউ কোনো দিন গাছের ডালপালা ধরে নাচতে দেখেনি। এখানেই তোমার চরিত্রের বিশেষত্ব। তোমার বুদ্ধিদীপ্ত মুখের অভিব‍্যক্তি সামনে এনে দিল অন্য ধরনের চলচ্চিত্র। ভেঙে মুচকে দিল ‘অশনি সংকেত’, ‘গণদেবতা’, ‘গণশত্রু’, ‘অরণ‍্যের দিনরাত্রি’, ‘শাখাপ্রশাখা’, ‘হুইল চেয়ার’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘একটি জীবন’, ‘আবার অরণ্যে’, ‘পাতালঘর’, ‘সংসার সীমান্তে’র মতো কিছু উদাহরণ। গৃহস্থের অন্য নায়কের সঙ্গে তুলনা টানায় ছেদ পড়ল। তুলনাহীন ফেলুদাকে চিনতে শুরু করে দিল ‘সোনার কেল্লা’ আর ‘জয়বাবা ফেলুনাথ’ দিয়ে। প্রদোষ মিত্র, তুমি অবশেষে চির ঘুমের দেশে চলে গেলে।

তোমাকে দেখে শিখতে হয়েছে নিজের জন্য জায়গা রাখা। তুমি বুঝতে শিখিয়েছ পূর্ণ সংসার করেও একা থাকার দরকার, অন্তত নিজেকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য। শব্দহীন চোরা স্রোতে ভেসে ওঠে ফেলে আসা প্রেমবেলা। ‘বেলাশেষে’ দেখে অনেকেই ভেবেছে এ-ও হয়। হয়তো হতে পারে ভেবে অনেকের কপালে ভাঁজ পড়েছে। কেননা সেখানে জীবনের প্রান্তে এসে স্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার বাসনা। এক ছেলে চার কন‍্যা নাতি-নাতনির ভরা সংসারে অনাবিল আনন্দের পাশাপাশি পেয়েছি ‘পোস্ত’কে। যেখানে একা দাদুঠাকুমা থাকতে চাইছে পোস্তকে নিয়ে।

তুমি যত এগিয়ে এসেছ, তুমি ততটাই গৃহস্থের ঘরের বাবা, জেঠু, শ্বশুর, দাদু, ঠাকুরদা হয়ে উঠেছ। এই করোনা-আবহে এখনকার প্রযুক্তির দৌলতে তোমার কত সিনেমা দেখেছি জান? তোমার ফিরে আসার পথের বাঁকে নন্দিনীরা অপেক্ষা করছিল। তুমি ফিরলে না।

‘জয় বাবা ফেলুনাথ’।

তোমার প্রতিদিন পড়ার অভ্যাস যে গীতবিতান, তার পাতা উড়ছে হেমন্তের মৃদু হাওয়ায়। তোমার সঞ্চয়িতা অপেক্ষা করছিল কোন কবিতা আবার রেলগাড়ির কামরায় আবৃত্তি করতে করতে যাবে। সকলের আকুল প্রার্থনা ছিল, উঠে পড় উদয়ন পণ্ডিত। তুমি যে মুক্তির স্বাদ দিয়েছিলে পাঠশালার ছেলেদের। ওরা তোমার জন্য বই খুলে বসেছিল। সবাই চাইছিল, তুমি এক টানে সব খুলে বেরিয়ে আসবে, যেমন করে টান দিয়েছিলে হীরকরাজার মূর্তিতে। কিন্তু না, সব মায়া কাটিয়ে চলে গেলে তুমি।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

প্রয়াত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, থামল ৪০ দিনের ‘ফাইট’!

Continue Reading

প্রবন্ধ

পরমাণু চুক্তি, মনমোহন সরকারের উপর থেকে বামেদের সমর্থন প্রত্যাহার এবং জো বাইডেন

২০০৮ সালে মার্কিন সেনেটের মার্কিন-ভারত অসামরিক পরমাণু চুক্তির অনুমোদনের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন জো বাইডেন!

Published

on

২০১৩-য় ভারত সফরে বাইডেন। ফাইল ছবি
Jayanta Mondal
জয়ন্ত মণ্ডল

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হোক বা বিহারের বিধানসভা ভোট, অন্তর্জালের বিশ্বে সব কিছু নিয়েই আগ্রহ তুঙ্গে! তবে আমেরিকার সদ্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত জো বাইডেনকে (Joe Biden) নিয়ে বাঙালির মাত্রাহীন উৎসাহে (অথবা আদিখ্যেতায়) আবার চোখ টাটাচ্ছে একাংশের। ব্যঙ্গ করে কেউ তাঁকে বলছেন ‘যতীন বৈদ্য’, কেউ আবার নাম দিয়েছেন ‘জয় ব্যানার্জি’। কিন্তু ভারতের সঙ্গে মার্কিন রাজনীতির তুখোড় ব্যক্তিত্ব বাইডেনের সম্পর্কও খুব একটা খাটো নয়।

১৯৭৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত সেনেটর ছিলেন বাইডেন। তার পর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন দেশের ৪৭তম ভাইস-প্রেসিডেন্টের। অর্থাৎ, ভুঁইফোঁড় রাজনীতিক তিনি নন। তার উপর সেনেটর থাকাকালীন তিনি ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির চেয়ারম্যান। এই সময়ে মার্কিন-ভারত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং সিদ্ধান্তের অংশীদার বাইডেন। বিশেষত, ২০০৮ সালে মার্কিন-ভারত অসামারিক পরমাণু চুক্তির প্রসঙ্গ না টানলেই নয়!

সেনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে বাইডেন ২০০৮ সালে মার্কিন সেনেটে মার্কিন-ভারত অসামরিক পরমাণু চুক্তি (US-India Civil Nuclear Agreement) অনুমোদনের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বেশ কয়েকটি আইন প্রণয়নের ব্যাপারেও তিনি ছিলেন প্রথম সারির প্রবক্তা।

Loading videos...

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন এই পরমাণু চুক্তি সম্পাদনের জন্য তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ (George W. Bush) এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের (Manmohan Singh) অধীনে আলোচনা শুরু করেছিল, তখন সেনেটে বাইডেন ছিলেন ভারতের পক্ষে সমালোচক।

২০০৮-এর প্রথম দিকে মার্কিন কংগ্রেস ভারতের সঙ্গে এই চুক্তি অনুমোদনের আগে বাইডেন আরও দুই সেনেটর চক হেগেল এবং জন কেরির সঙ্গে ভারত সফরে এসেছিলেন। বাইডেন ছিলেন এই চুক্তির ধারাবাহিক প্রবক্তা এবং অবশ্যই এটির সাফল্যের নেপথ্যেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

একই সঙ্গে তৎকালীন ভারতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো ঝড় তুলেছিল এই ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছোয় যেন, কেন্দ্রের সরকার হুড়মুড়িয়ে পড়ে যায়। ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটে ক্ষমতায় আসে ইউপিএ। ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বামপন্থীদের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী হন ডা. মনমোহন সিং। কিন্তু বছর চারেক নরমে-গরমে কাটলেও আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু চুক্তিকে কেন্দ্র করে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করে বামপন্থী দলগুলি। চুক্তি থেকে পিছু না হঠলে তাঁরা সরকার থেকে সমর্থন তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

রাজ্য, শহর-গ্রামে বামপন্থীরা ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তির কুফল তুলে ধরে ব্যাপক প্রচারে নামেন। কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার নিজের অবস্থানে অনড়। এর পর ২০০৮ সালের ৯ জুলাই, চার বাম নেতা প্রকাশ কারাত, এবি বর্ধন, দেবব্রত বিশ্বাস এবং চন্দ্রচূড়নের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিবৃতিতে ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তি সম্পাদনের প্রতিবাদে ইউপিএ সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করা হয়।

তা হলে কি সরকার পড়ে গেল? না! সে যাত্রায় সরকার শুধু টিকে গেল তেমনটা নয়, ২০০৯ সালে ফের লোকসভা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হলেন মনমোহন। আর পশ্চিমবঙ্গের মতো আঁতুড়ঘরে ক্ষয় শুরু হল বামপন্থীদের। ২০০৯-এর সেমিফাইনালে গুটিয়ে অর্ধেক হয়ে যাওয়া বামফ্রন্ট ২০১১-র বিধানসভায় রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই ‘ভ্যানিশ’!

হয়তো একেই বলে, ধান ভানতে শিবের গীত! তবে ভারত-আমেরিকা কূটনৈতিক সম্পর্কে বাইডেনের ভূমিকা মোটেই ফেলনার নয়। আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের আকাঙ্ক্ষার ঘোর সমর্থক বাইডেন। এশিয়ার সমস্ত বড়ো অর্থনীতির দেশগুলিকে নিয়ে নতুন একটি কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান আগেই জানিয়েছিলেন বাইডেন। যেখানে ভারতের জন্যও নির্দিষ্ট আসনের দাবি ছিল তাঁর।

ভাইস-প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০১৩ সালের ২২ জুলাই আবার এক বার ভারত সফরে আসেন স্ত্রী জিল বাইডেনকে নিয়ে। চার দিনের ওই সফরে একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দেন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দিল্লিতে গান্ধী স্মৃতি মিউজিয়াম ঘুরে দেখেন। শুধু তা-ই নয়, মুম্বইয়ে দেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতিদের সঙ্গে একটি গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেন। উল্লেখযোগ্য ভাবে, বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের একটি অনুষ্ঠানে সে বার তিনি ভাষণও দেন।

আমেরিকার ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান – উভয়ের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখার নজির রয়েছে ভারতীয় রাষ্ট্রনেতাদের। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) গভীর বন্ধুত্ব প্রায়শই আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে। তবে বাইডেনের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক মোটের উপর মন্দ নয়।

২০১৪ সালে আমেরিকা সফরে গেলে মোদীর জন্য মধাহ্নভোজনের আয়োজন করেন বাইডেন। বছর দুয়েক বাদে ফের সফরে মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন মোদী, নেতৃত্ব দেন বাইডেন। আসলে ওবামা-বাইডেন প্রশাসনের হাত ধরে ভারতের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক মসৃণ পথে এগিয়ে যাওয়ার যে অভীপ্সা, সেটাই ট্রাম্পের লম্বা ছায়ার নীচেই লালিত-পালিত হচ্ছে বাইডেনকে আঁকড়ে ধরে।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল, বাইডেন হোয়াইট হাউসের দখল নেওয়ার পর এইচ-১বি সহ সমস্ত উচ্চ দক্ষতাযুক্ত ভিসায় রাষ্ট্র অনুমোদনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিতে চলেছেন। আবার এমনটাও শোনা গিয়েছে, অন্তত পাঁচ লক্ষ প্রবাসী ভারতীয়কে স্থায়ী ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দিতে পারেন নতুন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। ভারতের জন্য সুখকর হতে পারে এমনই কিছু খবর উড়ে বেড়াচ্ছে। তবে বাপু, না আঁচালে বিশ্বাস নেই!

আরও পড়তে পারেন: ‘এক সঙ্গে কাজের অপেক্ষায়’, জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়ে বললেন নরেন্দ্র মোদী

Continue Reading
Advertisement
Jallikattu
বিনোদন52 mins ago

ভারত থেকে অস্কারের দৌড়ে মালায়ালি ছবি ‘জাল্লিকাট্টু’

দঃ ২৪ পরগনা2 hours ago

ফের বাঘের পায়ের ছাপ কুলতলিতে, তৎপর বন দফতর

রাজ্য2 hours ago

দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটে শামিল হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন

রাজ্য3 hours ago

শুভেন্দু-জট কাটাতে ফের বৈঠকের আগেই ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বার্তা মমতার

ফুটবল3 hours ago

শতবর্ষে কলকাতা ডার্বি: জেনে নিন ডার্বি সম্পর্কিত দশটা চমকপ্রদ তথ্য

শিল্প-বাণিজ্য3 hours ago

এসবিআই গ্রাহকদের জন্য উপহার! এসবিআই কার্ড অ্যাপে চালু নতুন পরিষেবা

ক্রিকেট4 hours ago

ঠাট্টা-তামাসা চলুক কিন্তু স্লেজিং নয়, সাফ কথা জাস্টিন ল্যাঙ্গারের

দেশ4 hours ago

সংক্রমণে লাগাম টানতে ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন বিধিনিষেধ, নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের

দেশ12 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৪৪৩৭৬, সুস্থ ৩৭৮১৬

বিনোদন2 days ago

মাদক মামলায় জামিন পেলেন ভারতী সিংহ ও হর্ষ লিম্বাচিয়া

ফুটবল2 days ago

সুসাইরাজকে বাদ দিয়েই ডার্বি জয়ের ছক আবাসের

ফুটবল2 days ago

পেনাল্টি কাজে লাগিয়ে প্রথম ম্যাচে ৩ পয়েন্ট ঘরে তুলল হায়দরাবাদ

ফুটবল1 day ago

পিকে-চুণী স্মরণে ডার্বি শুরুর আগে নীরবতা পালন হোক, আইএসএল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাল ইস্টবেঙ্গল

Allahabad High Court
দেশ1 day ago

‘প্রিয়ঙ্কা-সালামাতকে আমরা হিন্দু-মুসলিম হিসেবে দেখি না,” ঐতিহাসিক রায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের

দেশ1 day ago

দুর্ভাগ্য! ভ্যাকসিন নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে, বৈঠকে বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

দেশ2 days ago

অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ প্রয়াত

কেনাকাটা

কেনাকাটা20 hours ago

ঘর সাজানোর জন্য সস্তার নজরকাড়া আইটেম

খবর অনলাইন ডেস্ক: ঘরকে একঘেয়ে দেখতে অনেকেরই ভালো লাগে না। তাই আসবারপত্র ঘুরিয়ে ফিরে রেখে ঘরের ভোলবদলের চেষ্টা অনেকেই করেন।...

কেনাকাটা4 days ago

লিভিংরুমকে নতুন করে দেবে এই দ্রব্যগুলি

খবর অনলাইন ডেস্ক: ঘরের একঘেয়েমি কাটাতে ও সৌন্দর্য বাড়াতে ডিজাইনার আলোর জুড়ি মেলা ভার। অ্যামাজন থেকে তেমনই কয়েকটি হাল ফ্যাশনের...

কেনাকাটা1 week ago

কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস, দাম একদম নাগালের মধ্যে

খবর অনলাইন ডেস্ক: কাজের সময় হাতের কাছে এই জিনিসগুলি থাকলে অনেক খাটুনি কমে যায়। কাজও অনেক কম সময়ের মধ্যে করে...

কেনাকাটা3 weeks ago

দীপাবলি-ভাইফোঁটাতে উপহার কী দেবেন? দেখতে পারেন এই নতুন আইটেমগুলি

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই কালীপুজো, ভাইফোঁটা। প্রিয় জন বা ভাইবোনকে উপহার দিতে হবে। কিন্তু কী দেবেন তা ভেবে পাচ্ছেন...

কেনাকাটা4 weeks ago

দীপাবলিতে ঘর সাজাতে লাইট কিনবেন? রইল ১০টি নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আসছে আলোর উৎসব। কালীপুজো। প্রত্যেকেই নিজের বাড়িকে সুন্দর করে সাজায় নানান রকমের আলো দিয়ে। চাহিদার কথা মাথায় রেখে...

কেনাকাটা2 months ago

মেয়েদের কুর্তার নতুন কালেকশন, দাম ২৯৯ থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজো উপলক্ষ্যে নতুন নতুন কুর্তির কালেকশন রয়েছে অ্যামাজনে। দাম মোটামুটি নাগালের মধ্যে। তেমনই কয়েকটি রইল এখানে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা2 months ago

‘এরশা’-র আরও ১০টি শাড়ি, পুজো কালেকশন

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই পুজো আর পুজোর জন্য নতুন নতুন শাড়ির সম্ভার নিয়ে হাজর রয়েছে এরশা। এরসার শাড়ি পাওয়া...

কেনাকাটা2 months ago

‘এরশা’-র পুজো কালেকশনের ১০টি সেরা শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো কালেকশনে হ্যান্ডলুম শাড়ির সম্ভার রয়েছে ‘এরশা’-র। রইল তাদের বেশ কয়েকটি শাড়ির কালেকশন অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা2 months ago

পুজো কালেকশনের ৮টি ব্যাগ, দাম ২১৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : এই বছরের পুজো মানে শুধুই পুজো নয়। এ হল নিউ নর্মাল পুজো। অর্থাৎ খালি আনন্দ করলে...

কেনাকাটা2 months ago

পছন্দসই নতুন ধরনের গয়নার কালেকশন, দাম ১৪৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজোর সময় পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না পরতে কার না মন চায়। তার জন্য নতুন গয়না কেনার...

নজরে