পুস্তক পর্যালোচনা: ‘জটায়ুকে যেমন দেখেছি’ বইয়ে পাঠক আরও কাছ থেকে চিনবেন তাঁদের প্রিয় ‘জটায়ু’কে

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ফেলুদা মানা করে দিয়েছেন, কোনো প্রশ্ন করা চলবে না। তাই রাজস্থানের পথে উট দেখে মনে প্রশ্ন ঘাই মারছে, অথচ করতে পারছেন না। তাই স্বগতোক্তি করছেন, ‘কোনো প্রশ্ন নয়’, ‘কোনো প্রশ্ন নয়’। শেষ পর্যন্ত থাকতে না পেরে ফেলুদার কাছে অনুমতি চাইলেন এবং অনুমতি পেয়েই সেই বিখ্যাত প্রশ্ন, “উট কি কাঁটা বাছিয়া খায়?” লালমোহন গাঙ্গুলি তথা জটায়ু আমাদের আরও কাছে এলেন।

এর আগে ট্রেনেই লালমোহন গাঙ্গুলির আলাপপর্বটা সারা হয়ে গিয়েছে ফেলুদা-তপসের সঙ্গে। ফেলুদাদের অবাঙালি ভেবে বাঙালির হিন্দিতে অনর্গল বলে চলেছেন জটায়ু। ফেলুদা উপভোগ করছেন, তোপসেও। একটা সময় ফেলুদা পরিষ্কার বাংলায় যখন বললেন হিন্দিটা চালিয়ে যেতে, তখন তাঁর সেই অনাবিল হাসি আর ‘দূর মশাই’ বলা কি বাঙালি ভুলতে পারে? বাঙালির মনে চিরস্থায়ী জায়গা হয়ে গেল লালমোহন গাঙ্গুলি তথা জটায়ুর। বাঙালি ভুলেই গেল এই ভদ্রলোকের নাম সন্তোষ দত্ত, এক জন মস্ত বড়ো উকিল।

Loading videos...

তবে সন্তোষ দত্তের অভিনয় শুরু তার অনেক আগেই, ১৯৫৮-য় সত্যজিৎ রায়ের ‘পরশপাথর’ ছবিতে। সে দিন কি কেউ বুঝতে পেরেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতে এক অসামান্য কমেডিয়ানের উদয় হল? অবশ্য সন্তোষবাবুকে শুধু কমেডিয়ান আখ্যা দিলে তাঁকে ছোটো করা হয়। আসলে তাঁকে আমরা, বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকরা, মূলত ‘জটায়ু’ হিসাবেই চিনি।

সেই ‘জটায়ু’কে খুব কাছ থেকে দেখেছেন আইনজীবী অশোক বক্সী। কারণ অশোকবাবুর আইনশিক্ষায় হাতেখড়ি সন্তোষ দত্তের কাছেই। তিনি সন্তোষ দত্তের প্রথম ও একমাত্র জুনিয়র।    

বাংলা ছবির দর্শক জটায়ুকে পেল কী ভাবে? অশোক বক্সীর স্মৃতিচারণা –

আর একটু হলেই ‘সোনার কেল্লা’ থেকে ছিটকে যাচ্ছিলেন জটায়ু সন্তোষ দত্ত! সন্তোষ দত্তের জুনিয়র হিসেবে কোর্টে যেতে শুরু করেছেন এবং তত দিনে অশোকবাবুর ‘সন্তোষদা’ হয়ে গিয়েছেন। একটা হত্যাকাণ্ডের মামলা নিয়ে সন্তোষ দত্তের তখন দিন রাত এক হয়ে গেছে। তার মাঝেই একদিন ফোন এল বিশপ লেফ্রয় রোডের বাড়ি থেকে। ফোন রেখে গম্ভীর মুখে সন্তোষদা বললেন, “এ তো মহা মুশকিলে পড়লাম দেখছি। মানিকদা ফোন করেছিলেন। আমাকে জটায়ু করার জন্য বললেন। রাজস্থানে এক মাসের শ্যুটিং। যেদিন যাবার কথা সেদিনই মামলার শুনানি। কী করি বলো তো?” তখনকার সময়ে আদালতে দিন পড়লে মুলতুবি নেওয়া অত সহজ ছিল না। সন্তোষদা সোজাসুজি ফোন করলেন মামলায় বিরোধী পক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটরকে। সব খুলে বললেন। চেয়ারের উল্টো দিকে বসে অশোকবাবু শুনতে পাচ্ছেন, ওপার থেকে উত্তর ভেসে আসছে, “অত ঘাবড়াবার কী আছে? শুনানি যাতে না হয় তার সব বন্দোবস্ত আমি করব। তুমি শুধু একটা পিটিশান করে নিয়ে এসো।” জজ সাহেব ছিলেন শচীন সান্যাল। পিটিশান নিয়ে ওঁর ঘরে অশোকবাবুরা তিনজনে হাজির। জজকে সত্যি কথাটাই বললেন সেই পাবলিক প্রসিকিউটর। সঙ্গে এও বললেন, “মামলাটা যদি এক মাস পিছিয়ে যায়, আমার কোনও আপত্তি নেই।” শচীন সান্যাল সব শুনে বললেন, “ঠিক আছে, আপনি ওঁর বিরোধী হয়েও যখন এ কথা বলছেন, আমি অ্যালাও করে দিচ্ছি।” এ ভাবেই ‘জটায়ু’র ছাড়পত্র পেয়েছিলেন সন্তোষদা।

‘জটায়ু’কে নিয়ে অশোক বক্সীর ভাঁড়ারে রয়েছে এ রকম অজস্র চমকপ্রদ কাহিনি। তেমনই কিছু কাহিনি তিনি পাঠকের কাছে পরিবেশন করেছেন ‘জটায়ুকে যেমন দেখেছি’ বইয়ে, তাঁর সহজ, সরল, সাবলীল গদ্যে। পাঠককুল আরও কাছ থেকে চিনতে পারবেন তাঁদের প্রিয় ‘জটায়ু’কে।   

বই: জটায়ুকে যেমন দেখেছি

লেখক: অশোক বক্সী

প্রকাশক: রুপালি

দাম: ৮০টাকা

বইটি অনলাইনে কিনতে হলে এখানে ক্লিক করুন

আরও পড়ুন : পুস্তক পর্যালোচনা: ঘনাদা আর টেনিদাকে নিয়ে সৃষ্টি ‘বাংলা সাহিত্যে দুই দাদা’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.