ছোটন দত্ত গুপ্ত

কলকাতা থেকে মফস্‌সলে গিয়ে ছবি দেখতে হল, অভ্যাসের উল্টো পথে। ছবির কথা দিয়ে শুরু হবে নাকি ছবি বন্ধ হওয়া নিয়ে, লিখতে বসে সময় গেল সেই নিয়ে। একসময় রাজনৈতিক দলের ‘পথ’ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণের পথেই পঞ্চভূতে বিলীন হত আম বাঙালি থেকে শিল্পীরা। রাজনৈতিক কারণে জেলেও গেছেন উৎপল দত্তের মত মানুষ। নেতারা ভূমিহীন কৃষকের জন্য শহিদ হয়েছেন। সাংবাদিক সত্য খবর প্রকাশের জন্য জেলে গেছেন। কোনো কবি তাঁর কবিতার লাইনে অমুক ‘পেটিবুর্জোয় শব্দ’ প্রয়োগ করেছেন বলে তাকে কফি টেবিল-সভাসমিতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এখন কবি প্রকাশ্যে রাজার চরণামৃতের জন্য বসে থাকে। শিল্পী রাজার তুলিটানের ব্যাখ্যায় উৎফুল্ল। আর নেতারা প্রকাশ্যে ঘুষ খাবার ছবি প্রকাশ হবার পরও সততার কথা বলে।

এসব মূল্যবোধের বিভিন্ন চরিত্র ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবিতে ভূত হয়েছে এই লুম্পেন রাজনীতির জন্য। বন্ধ্যা সময়। কিছুতেই এই  লুম্পেনদের সঙ্গে সাধারণ মানুষ পেরে উঠছে না।

এসব অনীক দত্তের মাথায় গজগজ করে নিশ্চই। ছবির মধ্যে এসব তুলে ধরতে চান। বলতে চান।

এই তাঁবেদারির যুগেও বলিষ্ঠভাবে বলেছেন। কিন্তু শিল্পী তো লুম্পেনদের হাতে সাধারণ মানুষের হার  মেনে নিতে পারেন না; তাই তাকে ম্যাজিক রিয়ালিজমের আশ্রয় নিতে হয়। মানুষ হারবে না। মানুষই শেষ কথা বলবে।

একটা ছবির  মধ্যে এতো বিষয় বলতে অসম্ভব মেধা-দক্ষতা ও সাহসের প্রয়োজন। সাহসের বিষয়টা এখানে জরুরি। কেননা সিনেমার সঙ্গে বিপুল অর্থ ও প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক। সরাসরি কথা বললে একঘরে হয়ে যেতে হবে। প্রযোজকও হল পাবে না। পরের ছবির ভাবনা হিমঘরে চলে যাবে। নিজের কাজ ভবিষ্যতের ভূত হবার আশঙ্কা ত্যাগ করেই ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবিটি বানিয়েছেন অনীক।

বাস্তবের স্বার্থে অনীক ফর্ম-এর মধ্যে কন্টেন্ট গুঁজতে বাধ্য হয়েছেন, না হলে ছবিটার বিষয় বেশি মানুষের কাছে পৌঁছবে না। সেটা করতে গিয়ে ছবিটা কিছু জায়গায় ভারাক্রান্ত হয়েছে। অনেকে বলছেন,আগের ছবিটা(ভূতের ভবিষ্যত)অনেক ভাল। আবার কেউ বলছেন, এটা সিকুয়েল। সিকুয়েল না বলার কারণ খুঁজে পেলাম না। সিকুয়েল মনে হলে ক্ষতি কী! অভিনয় সকলেরই ভাল, তবে চান্দ্রেয়ি, কৌশিক, অমিত চোখে পরার মতো। ক্যামেরা(অভীক মুখোপাধ্যায়),সম্পাদনা(অর্ঘ্যকমল মিত্র) তাল মিলিয়েই হয়েছে, যারা ছবির কাজে যুক্ত তারা এ ছবি দেখে বুঝবেন, দুটো কাজই কঠিন ছিল, শুধু টেকনিক্যাল দক্ষতায় এ কাজ করা যেত না। এতে একটা মনন আছে। এটা একটা উন্নত মানের মানসিক টিম ওয়ার্ক।

অনীক দত্তের প্রত্যেক ছবিতেই ভোগবাদ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য থাকে। ভালো। ধরে যদি নিই উনি কোন একটা আদর্শের প্রতি দুর্বল, তবে পানিং-এর সময় সেটা মাথায় রাখা দরকার।

এ ছবি বন্ধ করার কোন মানেই হয় না। ছবিতে যতটুকু দেখিয়েছে তা সমস্ত ধরনের মিডিয়া কয়েক শো মিনিট ধরে ঘরেঘরে পৌঁছে দিয়েছে। তাতে তো কোন ক্ষতি হয়নি সরকারের। তবে এই ছবি দেখলে ভোটে কোনো প্রভাব পড়ত না। তাও বন্ধ। আসলে ভয়টা যে কিসের তা চেয়ারই জানে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here