pritha-editedপৃথা তা

খোঁজ। এক দানবিক শহর জোড়া মানুষ তো বটেই, এমনকি পশুপাখি কীটপতঙ্গ সবাই এক অনন্ত খোঁজের টানে দৌড়াচ্ছে । আর এই খোঁজের টানেই রোজ আলাপ হচ্ছে একজনের সঙ্গে অন্যের, তৈরি হচ্ছে নানা রঙের গল্প। এক গল্পগুলিকেই বোধহয় একত্র করতে চেয়েছিলেন বড়ো পর্দার নতুন পরিচালক সৌরভ পালোধি। সেই নানারঙের সুতো কেমন বুনলেন তিনি এখন দেখা যাক।
প্রথমে টুকরো করে কিছু দৃশ্য দিয়ে চরিত্রগুলিকে নির্দিষ্ট করে তোলার চেষ্টা হয়েছে। তারপর একের সঙ্গে অন্যের সংযোগ করা হয়েছে। ঘটনা হল, কোন একভাবে কলম্বাস(মির) এসে পৌঁছেছেন কলকাতায় । তিনি তাঁর চোখে এই সমস্যাগুলি দেখেন, এবং নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এগুলি মেটানোর চেষ্টা করেন। কলকাতায় তাঁর সঙ্গে ঘটনাচক্রে আলাপ হয় দুই বন্ধুর (গৌরব , অনির্বাণ)। তাদের জীবনের নানা ঘটনার সাথে জড়িয়ে পরেন তিনি। ছোট ছোট চাহিদাগুলি আমাদের কত মরিয়া করে তোলে তা দেখানো হয়েছে বার বার।
সৌরভের স্বভাবসুলভ ভাবে ছবির মাঝে মাঝে নানা প্রসঙ্গে ওয়ান লাইনার বেশ মজার লেগেছে, মনে পড়িয়ে দিয়েছে পুরোনো সৌরভকে। এখানেও নানা সমস্যা বোঝাতে গল্পের বাইরের নানা রকমের টুকরো চরিত্রকে হাজির করা হয়েছে। তবে নানান ঘটনায় বার বার করে স্টেজের সৌরভকে মনে করিয়ে দিয়েছে। সেলুনের দৃশ্য তো বটেই তা ছাড়াও অনেক সময় পর্দার ছবিতে ভীষণভাবে থিয়েটারের ছায়া প্রতিফলিত হয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফি ঠিকঠাক।
অভিনয় প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে কমবেশি সব অভিনেতাই বেশ ভালো অভিনয় করেছেন। আলাদা করে বলতে হয় গৌরব, অনির্বাণ, তনুশ্রী এবং অবশ্যই মিরের কথা। এখানেও মজার ছলে বেশ সিরিয়াস প্রসঙ্গে কথা বলার প্রবণতা দেখা গেছে সারা স্ক্রিপ্ট জুড়ে। চুটকির ছলে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা ছড়িয়ে ছিল যত্রতত্র। ঘুরে ফিরে বারবার উঁকি দিয়ে গেছে রাজনীতি । এগুলি হলের সব বয়সি দর্শক বেশ উপভোগও করেছেন।।
ছবির গানগুলি মন ছুঁয়ে যায়। নীল দত্তের কাজ এখানে খুব মানানসই লেগেছে।
তবে যেহেতু ছবিটি মজার ছলে তৈরি তাই বিশেষত দ্বিতীয়ার্ধের পর চিত্রনাট্যটি বড্ড দীর্ঘ আর আলগা বুননের লেগেছে অনেক দর্শকের। অনেক জায়গায় কথার ও ঘটনার পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা গেছে। আর কলম্বাসের জাহাজ আর পোশাক আর একটু অন্যরকম করা যেত কি ? নাকি লক্ষ্মীর প্রবঞ্চনায় আর তা সম্ভব হয়নি? জানার ইচ্ছে রইল। সুন্দর লেগেছে ওপর থেকে শহর কলকাতা দেখানোর দৃশ্যগুলি।
আর হঠাৎ করে কেন কলম্বাস নিরুদ্দেশ হয়ে গেল তা বোধগম্য হল না। দিয়াজের পোশাকও বেশ হাস্যকর লেগেছে ।
অনির্বাণের ‘তুমি যে শিশিরও বিন্দু” গেয়ে ওঠার সিনটা ভীষণ ভাবে মনে পড়িয়ে দিয়েছে ‘বসন্ত বিলাপের’ কথা। দৃশ্যায়নটি বেশ মজার লেগেছে।
নতুন পরিচালক হিসেবে প্রথম ছবিতে সৌরভ বুঝিয়েছেন যে লম্বা রেস খেলতে মাঠে নেমেছেন তিনি। তবে শেষে মোটরসাইকেল খুঁজতে চে কি এন্ট্রি নিলেন পরের ছবিতে গল্প বলবেন বলে ? তা হলে সে ছবি যত দ্রুত হয় ততই মঙ্গল, কারণ এটা বিপ্লবের ভরসাপূর্তি চলছে, বিপ্লবের মাসও । আশা করা যায় সে ছবিতে আরও অনেক বেশি জমাট গল্প আর পরিণত সৌরভকে পাবো পরিচালক হিসেবে।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন