Connect with us

সিনেমা

মমতা ব্যানার্জির ট্রেনে চেপে টানটান জেহাদ-রাজনীতি দেব ও অনিকেতের

প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

কবির হয়ে গেল, এবার হইচই তারপর পদ্মশ্রী সুভাষিণী মিস্ত্রি। দেখা যাচ্ছে প্রথম ছবির পারফরম্যান্স দেখার আগেই পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায়কে চোখে হারাচ্ছেন প্রযোজক দেব। তবে তিনি প্রযোজক পরে, আগে তো নায়ক। সে জন্যই কিনা কে জানে, কবির ছবিতে সৃজিত ও কমলেশ্বরের মতো বাংলার দুই বাঘা পরিচালককে ছোটো ছোটো দৃশ্যে অভিনয় করিয়ে নিয়েছেন দেব। আর নিজেকে দিয়ে বলিয়ে নিয়েছেন, ‘বাংলাটা ভালো বলতে পারি না’।

থাক সেসব কথা। কিন্তু যে কথা না বলে থাকা যাবে না, তা হল- প্রযোজক দেব বিষয় ভাবনার ব্যাপারে সাহসের পরিচয় দিচ্ছেন বারবার, মূল ধারায় থেকেও। চ্যাম্পে বহু ভালো এলিমেন্ট থাকলেও দেবকে লার্জার দ্যান লাইফ বানানোর অভ্যাস না ত্যাগ করার গুনাগার দিতে হয়েছিল রাজ চক্রবর্তীকে। ককপিটে প্রেক্ষাপটে নতুনত্ব থাকলেও (বাংলা ছবির নিরিখে) ফোকাস ছিল অস্পষ্ট। দেবের ভক্তরাও নায়কের শত্রুকে ঠিক রিলেট করতে পারেননি। তৃতীয় ছবিটি কিন্তু মোটের ওপর টানটান। সৌজন্যে নিশ্চয় চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায়।

অন্য ভাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কথা ছবিতে আনলেও, ভারতে রাজনৈতিক ইসলামের কর্মকাণ্ডকে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখিয়েছেন অনিকেত। সেটা যথার্থ হলেও রাজনৈতিক ইসলামের আন্তর্জাতিক চরিত্রের কথা না বললে সত্যটা খণ্ডিত থেকে যায়। কিন্তু সেটা মাপ করে দিতে হবে। কারণ, সে ক্ষেত্রে এই টানটান চিত্রনাট্যটা তৈরি করা অনেক জটিল হয়ে যেত। এমনকি, কে বলতে পারে, ছবির দুই প্রধান চরিত্রকে ‘মমতা ব্যানার্জির ট্রেন, দুরন্ত’-য় চাপিয়ে মুম্বই থেকে হাওড়া নিয়ে আসার কথাও হয়তো ভাবা যেত না। বলাবাহুল্য, ‘যে ট্রেন কোথাও থামে না’।

ছবির আরও একটা ভালো দিক, অনিকেত রাজনৈতিক ইসলামের সঙ্গে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের যোগাযোগের ইঙ্গিত দিলেও, কোনো নেতা বা প্রশাসনের কেষ্টবিষ্টুকে কাহিনিতে ঢোকাননি। সেটা তাঁর লক্ষ্যও ছিল না। তাঁর লক্ষ্য ছিল, জেহাদের মতাদর্শকে আক্রমণ করা এবং সেই বহুচর্চিত কথাটি নতুন ভাবে উচ্চারণের। ‘দাঙ্গা করে দাঙ্গাবাজরা’। সুখবর, দক্ষিণ কলকাতায় ভরদুপুরে প্রায় ফাঁকা প্রেক্ষাগৃহেও ওই সংলাপটি উচ্চারিত হতেই হাততালি পড়ল।

এ ছবির রিভিউতে কাহিনির আঁচ দেওয়াটা অপরাধ। তাই নীরব থাকতে হচ্ছে। তবে বলা যায়, চিত্রনাট্য যে ভাবে এগিয়েছে তাতে এমনিতেই দেবের চরিত্র নিয়ে দর্শকদের মনে আগ্রহ তৈরি হওয়ার কথা। খামোকা প্ল্যাটফর্মে কাগজের হাতবদল বা আপার বার্থে জনৈকের জেগে নাক ডাকার দৃশ্য তৈরির প্রয়োজন ছিল না।

এই ধরনের ছবিতে সম্পাদনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। সেটা ভালোই হয়েছে।

অভিনয় নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই। দেব তাঁর সাধ্যমতো করেছেন। আর রুক্মিনীর চরিত্রটা তো যতদূর সম্ভব টেইলর মেড হতেই হবে। নইলে আর বয়ফ্রেন্ড প্রযোজক হয়ে লাভ কী হল! এ ভাবেই একদিন বাংলা ছবির দর্শকরা দেব-রুক্মিনী জুটিকে সিরিয়াসলি নিতে শুরু করে দেবেন। হয়তো।

কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব

এক ঝাঁক বার্তোলুচ্চি, সমকালীন জার্মান ছবি, দুনিয়ার সেরা নির্মাতাদের সিনেমার পসরা ২৫তম কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে

প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

গত বছরই মারা গেছেন ইতালির কিংবদন্তি ও বিতর্কিত পরিচালক বার্নার্দো বার্তোলুচ্চি। তাঁর ছটি ছবি থাকছে সিকি শতাব্দীতে পৌঁছনো কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। কনফর্মিস্ট, ১৯০০, দ্য লাস্ট এমপেরর তো থাকছেই, সঙ্গে থাকছে বিতর্কিত দ্য লাস্ট ট্যাঙ্গো ইন প্যারিস। ওই সিনেমার অভিনেত্রী অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তাঁকে না জানিয়েই ধর্ষণ দৃশ্যের একটি বিশেষ অংশ শুট করা হয়েছিল। অভিযোগ মেনে নিয়েছিলেন বার্তোলুচ্চি ও অভিনেতা মার্লন ব্র্যান্ডো।

গ্রেট মাস্টার্স বিভাগটি বার্তোলুচ্চির জন্য বরাদ্দ হলেও সেন্টেনারি ট্রিবিউট, হোমেজ ও অন্যান্য বিভাগে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে বাংলা, ভারত ও দুনিয়ার বহু শিল্পীকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সদ্যপ্রয়াত মৃণাল সেন, দেখানো হবে ভুবন সোম ছবিটি। রয়েছেন আরেক সদ্যপ্রয়াত গিরিশ কারনাড। দেখানো হবে তাঁর সংস্কারা। থাকছে চিন্ময় রায়ের চারমূর্তি। এছাড়া শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে রুমা গুহ ঠাকুরতা, মান্না দে, বিদ্যা সিনহা, স্বরূপ দত্ত, খইয়ামকে। ইন্ডিয়ান মাস্টার্স বিভাগে দেখানো হবে বাসু চ্যাটার্জির চারটি ছবি। সেন্টেনারি ট্রিবিউট বিভাগে সম্মান জানানো হবে জহর রায়, অরবিন্দ মুখার্জি, করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়, নৌশাদ, মজরুহ সুলতানপুরি ও ইতালির পরিচালক জিলো মন্টেকর্ভোকে। দেখানো হবে মন্টেকর্ভোর বিখ্যাত ছবি বার্ন। এছাড়া থাকছে বাংলার চিরস্মরণীয় পাঁচ অভিনেতার সিনেমা। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, অনুপ কুমার, তুলসী চক্রবর্তী ও মলিনা দেবী।

আরেন্ট ইউ হ্যাপি?

বেঙ্গলি প্যানোরামা বিভাগে দেখানো হবে ছটি নতুন বাংলা ছবি। এর মধ্যে রয়েছে অনিক দত্তর সিনেমা বরুণবাবুর বন্ধু।

মায়েস্ত্রো বিভাগটি বরাবরই চলচ্চিত্রমোদীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে। দুনিয়ার সেরা পরিচালকদের হালফিলের কাজ দেখার সুযোগ মেলে এই বিভাগে। এই বিভাগে এবার দেখানো হবে উনিশটি সিনেমা। রয়েছে ফিলিপিনসের খ্যাতনামা পরিচালক লাভ দিয়াজের সারে চার ঘণ্টার ছবি দ্য হল্ট। পেদ্রো আলমাদোভারের পেইন অ্যান্ড গ্লোরি, পেদ্রো কোস্তার ভিতালিনা ভ্যালেরি, কোস্তা গাভরাসের অ্যাডাল্টস ইন দ্য রুম, ২০১৮ সালে পাম ডিওর পাওয়া জাপানি পরিচালক কোরে ইদার নতুন ছবি দ্য ট্রুথ, দারদিনে ভাইদের ছবি ইয়ং আহমেদ, কেন লোচের সরি উই মিসড ইউ। এছাড়া থাকছে বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর উড়োজাহাজ ও গৌতম ঘোষের রাহগির।

দ্য ইন্সটিংক্ট

রয়েছে সিনেমা ইন্টারন্যাশনাল। এ বছর মুক্তি পাওয়া অজস্র ছবি রয়েছে এই বিভাগে। দেখানো হবে গোল্ডেন বিয়ার পাওয়া সিনোনিমস, ব্রাজিলের ছবি বাকুরাও, ফ্রান্সের লা মিজারেবল, দ্য লিবার্টি, ডাচ ছবি ইন্সটিংক্ট, পেরুর লিনা ফ্রম লিমা প্রভৃতি। এছড়া এই বিভাগেই দেখানো হবে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি অভিনীত তন্নিষ্ঠা চ্যাটার্জির ছবি রোম রোম মে ও বাংলাদেশের ছবি আলফা।

এবারের উৎসবে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে জার্মানি। উৎসবের ফোকাস বিখ্যাত জার্মান পরিচালক আলেকজান্ডার ক্লুগে। দেখানো হবে তাঁর আটটি ছবি। তার মধ্যে রয়েছে ইয়েস্টার ডে গার্ল, দ্য অ্যাসাল্ট অফ দ্য প্রেজেন্ট অন দ্য রেস্ট অফ দ্য টাইম ইত্যাদি। দেখানো হবে অন্যান্য কয়েকটি বিখ্যাত জার্মান ছবিও।

দ্য লিবার্টি

তার উপর রয়েছে কয়েকটি চমকপ্রদ সমকালীন জার্মান ছবি। সেল্ফ ক্রিটিক অফ এ বুর্জোয়া ডগ, আরেন্ট ইউ হ্যাপি, মিউজিক অ্যান্ড অ্যাপোক্যালিপ্স ইত্যাদি প্রতিটি ছবিই দেখার মতো।

এছড়া অন্যান্য প্রতিযোগিতা, ছোটোদের ছবি, অ্যানিমেশন, শর্ট ও ডকুমেন্টারি ফিল্মের বিভাগগুলি তো রয়েছেই। উৎসব চলবে ৮ থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত।   

Continue Reading

সিনেমা

কুড়ি কুড়ি বছরের পর যখন ফিরে আসে চলে যাওয়া জীবন

প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

সে এক সময় ছিল। যখন চৌ-রাস্তায় দাঁড়িয়ে চার যুবক ‘এ ওর বুকের মধ্যে উঁকি মেরে’ দেখতো ‘কোথায় দুঃখ পাপ লুকোনো টাকার মতো রয়ে গেছে, কোথায় ঈশ্বর টুপি খুলে, হাঁটু মুড়ে বসে আছেন’। ভাস্কর চক্রবর্তীর সেই সৃজনের পর অর্ধশতাব্দী কেটে গেছে প্রায়। আজ যখন চার নারী তাঁদের দুই দশক পেরনো স্মৃতির উদ্‌যাপন করতে মিলিত হন, তখন ঈশ্বরকে নতজানু করার দায় তাঁদের থাকে না। ওদের একান্তে ছেড়ে দিয়েই বরং দায় এড়াতে চান তিনি।

আর যে দরজা দিয়ে তিনি বেরোন, স্কুলের সেই দরজা দিয়েই ‘অনেক দিনের পরে’ ছবিতে ঢুকে পড়ে স্বাগতা, দেবলীনা, সায়ন্তনী ও কুহুর কুড়ি বছরের জীবন। যে জীবন স্কুল পেরনোর পরই শুরু হয়েছিল। স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ, ভালোবাসা, কেরিয়ার, লুকনো পাপ- সব মিলিয়ে যাপনের বহুমাত্রিকতা নিয়ে চাপা এক টেনশন দু’ঘণ্টার ছবি জুড়ে চলতে থাকে। কখনও ঢিমে তালে, কখনও টানটান থ্রিলারের ছন্দে। স্কুলজীবনের স্মৃতির উদ্‌যাপন ছবি জুড়ে ছড়িয়ে থাকে গ্রন্থির মতন।

সফল কেরিয়ার ছেড়ে সফল গৃহবধূ হওয়া স্বাগতা, যন্ত্রণা লুকিয়ে কর্পোরেট জীবনে সাবলীল দেবলীনা, কেরিয়ার থমকে যাওয়া মডেল ও অভিনেত্রী সায়ন্তনী এবং রহস্যময়ী কুহু। কে কার সঙ্গে কীভাবে জড়িয়ে থাকে এবং সেই জড়িয়ে থাকার ফাঁস কাটিয়ে কীভাবে ছিটকে বেরিয়ে আসতে চায়, তাই নিয়েই পরিচালক দেবারতি গুপ্তর পঞ্চম ছবি ‘অনেক দিনের পরে’। ছবিটি দেখা যাচ্ছে জি ফাইভে।

স্বাগতা ও কুহুর সম্পর্কের টানাপড়েনের পর্বটি চমৎকার হলেও, দেবলীনা ও সায়ন্তনীর অংশটি কিছুটা অস্বস্তি জাগায়। দুই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মানবী কি পরস্পরের উপস্থিতিতে অন্যদের সামনে প্রিটেন্ড করবেন?  আর অন্যজন কী ফাঁস করে দেবেন তাঁর গোপন যন্ত্রণা? প্রশ্ন জাগে। আবার মনে হয়, কী হলে কী হতে পারে- সেটাও তো সিনেমা তৈরি্র উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে অনেক সময়ই। নতুন সময়ে নতুন মূল্যবোধের ভিতে দাঁড়ানো এক উন্নত বন্ধুত্বের গল্প বলতে চেয়েছেন দেবারতি। ক্রোধ, অশ্রু আর আগুনে পুড়ে শুদ্ধ হওয়ার অনুভূতিতে জারিয়ে তার অনেকটাই পেরেছেনও।

স্বস্তিকা, রূপাঞ্জনা যথাযথ অভিনয় করেছেন। অবাক করে দিয়েছেন প্রায় অচেনা পালোমি ঘোষ। কর্পোরেট জীবনে অভ্যস্ত চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে কিছুটা যেন হাতাশ করেছেন সুঅভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত সুদীপ্তা চক্রবর্তী।

Continue Reading

সিনেমা

মৃত মানুষের চিৎকারের শব্দ প্রস্থেটিক মেকআপে ঢেকে নিশ্চিন্ত হলেন সৃজিত

প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

সেই কবে আবু সয়ীদ আইয়ুব বামপন্থী নন্দনতত্ত্বের বিরোধিতা করে ‘ডেকাডেন্ট’ সাহিত্যের জয়গান করেছিলেন এ বাংলায়। তারপর কত জল কত নদী দিয়ে বয়ে গেল, কিন্তু শিল্পের দায়বদ্ধতা নিয়ে আতঙ্ক কমল না একটুও। তাই সিনেমার শেষে মরে যাওয়া আদি বোস যখন শুয়ে থাকেন, তাঁকে দেখে দর্শকদের মনে প্রশ্ন জাগে না, “সরোজিনী চলে গেলো অতদূর?/ সিঁড়ি ছাড়া – পাখিদের মত পাখা বিনা?” সে প্রশ্ন যাতে না ওঠে সেভাবেই কাহিনি সাজিয়েছেন বাংলা সিনেমার ফার্স্ট বয়।

জীবনকে অনুকরণ করতে গেলে থ্রিলার টানটান হয় না। তার জন্য একটা সাইকো লাগে। সৃজিত মুখার্জি সেই চেনা ফর্মুলাতেই নিজের দক্ষতার পুনরাবৃত্তি করতে চেয়েছেন। শেষটা যথেষ্ট প্রেডিক্টেবল হলেও পেরেছেন। পারতে তাঁকে ১০০ শতাংশ সহযোগিতা করেছেন টলিউডের নায়কদের মধ্যে একমাত্র যিনি অভিনয়টা করতে পারেন, সেই ঋত্বিক। ফলে ‘ভিঞ্চি দা’ টিকিট কেটে হলে গিয়ে দেখার মতো ছবি হয়ে উঠেছে। যদিও চিত্রনাট্যের যাবতীয় সাহায্য পেয়েও অতি অভিনয়ের ভয়াবহ দুর্বলতা একটুও অতিক্রম করতে পারেননি রুদ্রনীল। বরং বেশ বাস্তব লাগে তোতলা সোহিনীকে।

কিন্তু সে সব কথা গৌণ। মূল ব্যাপারটা হল, রাষ্ট্র ও তার আইন ও পুলিসি ব্যবস্থাকে বেপর্দা করে নিজস্ব ভঙ্গিতে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য নানা চমকপ্রদ ঘটনা ঘটিয়ে চলল যে চরিত্রটি, সেই চরিত্রটি সযত্নে নির্মাণ করার পরিশ্রম করলেন না পরিচালক। ডিস্টার্বড শৈশব থেকে এমন মানুষ হয়ে ওঠাটা নেহাতই কষ্টকল্পনা। উলটে গল্পটি এমন বানালেন পরিচালক, যাতে রাষ্ট্রের বদলে শিল্পীর প্রতিশোধের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল এক সাইকো রাষ্ট্রদ্রোহী। যে কিনা শহরের এক কোণে বসে মৃত মানুষের চিৎকার শোনে। অথচ প্রচলিত সিস্টেম সজ্জাশিল্পী ভিঞ্চি দাকে কাজ-সম্মান কিছুই দেয়নি। সেই ক্ষোভের কাহিনি নিয়েও থ্রিলার বানানোর কথা ভাবতে পারতেন পরিচালক। কিন্তু নিজের ক্ষেত্রে শিল্পীর প্রায়োরিটি ঠিক করার স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পী চরিত্রটির শিল্পের মধ্যে বাঁচার স্বাধীনতাকে হাওয়ায় উড়িয়ে দিলেন সৃজিত(স্রেফ কয়েকটি দীর্ঘ একঘেয়ে সংলাপময় দৃশ্য ছাড়া)। মনে হয় বুঝি ,’কোল্যাটারাল ড্যামেজ’-এর থেকে বড়ো সমস্যা এ দুনিয়ায় নেই।

যাই হোক, মঞ্চের ডাকসাঁইটে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য পর্দায় আবারও ঝুলিয়েছেন। তাঁর অভিনয়ের ফ্যানরা অনেক আশা নিয়ে তাঁকে দেখতে হলে যান, কিন্তু কখনও তাঁকে বলে বলে দশ গোল দেন শাশ্বত, কখনও বা ঋত্বিক। তাঁর চোখের ভাষার দুর্বলতা বারবার নজরে আসে। শিক্ষিত স্বরক্ষেপও সবসময় কাজে আসে না। তাছাড়া এই ছবিতে তাঁর চরিত্রটির তেমন গুরুত্বও নেই। ভাবতে ভয় লাগে, আদি বোস আর বিজয় পোদ্দার বার কয়েক মুখোমুখি হলে অনির্বাণের কী অবস্থা হত।

তা হয়নি, বরং ছবির শেষে মুখ ও মুখোশদের শান্ত হতে বলেছেন অনুপম রায়। প্রেমের গানটি ছাড়া বাকি দুটো গান কে জানে কেন, গুনগুন করতে ইচ্ছে করে। আর তার মাঝে আদি বোসের প্রস্থেটিক মুখোশ লাগিয়ে সরোজিনী চলে যায় ‘কোন দূর মেঘে’। নিৎসেও তাঁর হদিশ পান না।    

Continue Reading
Advertisement
ক্রিকেট22 mins ago

১১৬ দিন পর শুরু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, হাঁটু গেড়ে বসে জর্জ ফ্লয়েডকে স্মরণ ক্রিকেটারদের

কলকাতা51 mins ago

কলকাতায় লকডাউনের আওতায় পড়া এলাকাগুলির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশিত

provident fund
শিল্প-বাণিজ্য1 hour ago

কেন্দ্রীয় সরকার আগস্ট মাস পর্যন্ত কর্মীদের ইপিএফ বকেয়া জমা করবে, অনুমোদন মন্ত্রিসভায়

CBSE
দেশ2 hours ago

সিবিএসইর সিলেবাস থেকে বাদ ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’, ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’, তীব্র বিতর্ক

রাজ্য2 hours ago

আগামী পাঁচ দিন উত্তরবঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির আশঙ্কা

BMS
দেশ3 hours ago

বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে সপ্তাহব্যাপী প্রতিবাদে নামছে আরএসএসের শ্রমিক সংগঠন

Currency
রাজ্য3 hours ago

ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারের আর্জি খারিজ স্যাটে

Hemant Soren
দেশ4 hours ago

মন্ত্রী করোনা আক্রান্ত! কোয়রান্টিনে গেলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন

কেনাকাটা

কেনাকাটা1 day ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিউ নর্মালে মাস্ক পরাটাই দস্তুর। তা সে ছোটো হোক বা বড়ো। বিরক্ত লাগলেও বড়োরা নিজেরাই নিজেদেরকে বোঝায়।...

কেনাকাটা2 days ago

রান্নাঘরের টুকিটাকি প্রয়োজনে এই ১০টি সামগ্রী খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক : লকডাউনের মধ্যে আনলক হলেও খুব দরকার ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভালো। আর বাইরে বেরোলেও নিউ নর্মালের সব...

কেনাকাটা3 days ago

হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

অনলাইনে খুচরো বিক্রেতা অ্যামাজন ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজিয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সম্ভার।

DIY DIY
কেনাকাটা1 week ago

সময় কাটছে না? ঘরে বসে এই সমস্ত সামগ্রী দিয়ে করুন ডিআইওয়াই আইটেম

খবর অনলাইন ডেস্ক :  এক ঘেয়ে সময় কাটছে না? ঘরে বসে করতে পারেন ডিআইওয়াই অর্থাৎ ডু ইট ইওরসেলফ। বাড়িতে পড়ে...

নজরে