Connect with us

সিনেমা

সম্পর্কের প্রজাপতি বিস্কুটগুলো যখন হারানো স্বাদ ফিরে পেতে চায়

মধুমন্তী চট্টোপাধ্যায়

‘আমি পাইনা ছুঁতে তোমায়, আমার একলা লাগে ভারী’, এভাবেই কত কত দূরত্ব বাড়ে রোজ, যোগাযোগও নিভে যায়, সম্পর্ক হয়তো থাকে অথবা থাকে না। কিন্তু সম্পর্কের প্রজাপতি বিস্কুটগুলো স্বাদ হারিয়ে ফেলে বেশির ভাগ মধ্যবিত্ত বেঁচে থাকায়। অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় ছবি প্রজাপতি বিস্কুট এই মধ্যবিত্ত যাপনেরই কথা বলে। একটু পুরনো হলেই ধুলো পড়ে যাওয়া ছাপোষা দাম্পত্যগুলোর কথা বলে।
অন্তর আর শাওনের আটপৌরে জীবনে নতুন-নতুন গন্ধ ফুরিয়েছে বিয়ের বছর দুয়েকের মধ্যেই। এখন শুধু মেনে নেওয়া আর মানিয়ে নেওয়ার খেলা। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে শাওন বাড়ির বউ হয়ে থাকতে থাকতে, অন্যের সাজিয়ে দেওয়া একটা জীবন বাঁচতে গিয়ে ভুলতে বসেছে বাবা-মায়ের দেওয়া নামটাও (শ্রাবণী)। অন্তরের জাঁদরেল মায়ের কঠোর অনুশাসনে দমবন্ধ দুই জীবন-শাওন আর অন্তর। শখ নেই, আহ্লাদ নেই, পছন্দ মতো পেশা বাছাই-এর অধিকার নেই। ‘সংস্কৃতিবান’ এবং বনেদি পরিবারে বিয়ে হওয়ার বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে এসবের পাশাপাশি আরও অনেক ‘নেই’ এসে ভিড় করে একসময়কার খামখেয়ালি, আদুরে মেয়েটার জীবনে। আর অন্তর? আজন্ম সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা অন্তর কোনোদিন জানতেই পারেনি সে কি চায়! বই কেনার সময় ‘বাংলার ব্রতকথা’ অথবা লেনিনের আত্মজীবনী, দুটোর যেকোনো একটা হলেই তার চলে যায়। অফিস ফেরতা চাওমিন না চিড়ের পোলাও, সেটুকুও একবারে ভেবে বলতে পারে না সে। আসলে অন্তর তো কোনোদিন পছন্দ করেনি, বাছাই করে এসেছে শুধু।
ছবির চলন খুব সরল এবং সাবলীল। ক্যামেরাও বেশ পরিণত। আর গান যে এ ছবির সম্পদ হতে চলেছে, টের পাওয়া গিয়েছিল ছবি মুক্তির ঢের আগেই। ‘তোমাকে বুঝিনা প্রিয়’-র বিষণ্ণতা জড়িয়ে থেকেছে সারা ছবিটাকেই। মন খারাপ করা গান ‘আহারে মন’ অনুপম গেয়েছেন চমৎকার। ‘প্রজাপতি বিস্কুট’-এর চিত্রনাট্য বড়ো সাধারণ। এটাই বোধ হয় ছবির ইউএসপি। চোখা চোখা সংলাপ নেই, চরিত্রদের মুখ দিয়ে অহেতুক কবিতা আওড়ানো নেই। ভীষণ কোনো লড়াইয়ের গল্প নেই, ক্রাইসিস নেই। ছোট ছোট চাওয়া-পাওয়া আর না-পাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া একটা অভিমানী গল্প। অন্তরের মতো করে বললে, যে অভিমান ভাঙালেও হয় আবার না ভাঙালেও। তবে না ভাঙালে, ওই যে,সম্পর্কের প্রজাপতি বিস্কুটগুলো একেবারে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায়।

তবু বলি, বাস্তবে এমন হয় কি? যথেষ্ট আর্থিক সচ্ছলতা না থাকলে শুধু আলগা হয়ে আসা ভালোবাসা ফিরে পেতে মাসের পর মাস ‘আলাদা’ থাকাটুকু অ্যাফর্ড করতে পারে বাংলার ঘরে ঘরে গুমরে মরা শাওনেরা? আর ‘অবসর’-এ সিরিয়ালের সংলাপ লিখে ততটা সচ্ছল কি হওয়া যায়? পরিচালক নিজেও বোধ হয় উত্তরটা জানেন। ওটুকু স্বপ্ন-বিলাস তুলে রেখেছেন রুপোলী পর্দার জন্যই।

অনিন্দ্যর পরিচালনার হাত বেশ পোক্ত। ‘ওপেন টি বায়স্কোপ’-এর পর এখানেও তাঁর নিজস্বতা নজর কেড়েছে। ‘প্রজাপতি বিস্কুট’-এর সারা গায়েই যেন লেগে আছে চন্দ্রবিন্দুর মন কেমন করা সেই গানগুলোর সুর। বিকেল বেলা যেসব মনে পড়লে কোনো এক অজানা কারণে কষ্ট কষ্ট হয়।
অভিনয় নিয়ে আলাদা করে বলবার কিচ্ছুটি নেই। অপরাজিতা আঢ্য, শান্তিলাল, রজতাভ যে যার চরিত্রে সাবলীল। গোবেচারা হাবে ভাবে, জীবনভর ডিলেমায় থাকা অন্তরের চরিত্রে আদিত্য বেশ মানানসই। আর ইশা? শাওন চরিত্রটার জন্য ঠিক এরকমই একটা নতুন মুখের দরকার ছিল। শুধু মা-এর কথা বলার এক বিশেষ টান শাওন একটুও পেল না কেন বোঝা গেল না। নাকি সেন বাড়ির ‘কালচার’-এর ঠেলায় তা মুছে গেছে? মাত্র দু-আড়াই বছরে কি তা সম্ভব? শাওনের বন্ধু পারিজাতের চরিত্রে খেয়া চট্টোপাধ্যায় অনবদ্য। প্রজাপতি বিস্কুটের প্রোমো দেখে একটা ব্যাপার বেমানান লেগেছিল বেশ। বড়ো বেশি সাজানো সেট। পরে অবশ্য ছবিটা দেখতে গিয়ে বোঝা যায় পরিচালক ইচ্ছে করেই দেখিয়েছেন এমনটা। ঝকঝকে পরিপাটি ঘর, যত্ন করে সাজানো ‘দামি’ সংসার। পুতুল-পুতুল ওই সংসারে হাঁপিয়ে ওঠা দুটো মন।
ছবির প্রথমার্ধ একটু বেশি টানা হয়েছে বলে মনে হতে পারে দর্শকের। দ্বিতীয়ার্ধের গতি অনেক মসৃণ। শাওন সেখানে বেশ পরিণত। সে বোঝে, তাঁদের মাঝে এক আলোকলতা এলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পালটে যাবে না তাঁর দমচাপা জীবন। বরং একটু যত্ন, আর আদর-আশা-ভালোবাসা দিয়ে তাঁর আর অন্তরের মাঝে তৈরি হোক স্বপ্নের এক আলোকলতা।

Advertisement
Click to comment

0 Comments

  1. Kamaleswar Mukherjee

    September 26, 2017 at 11:52 am

    এইরকম একটা বি-গ্রেড মুভিকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ভালো বলার চেষ্টা করেছেন। বিস্কুট কোম্পানি পয়সা দিয়েছে বুঝি?

    • খবর অনলাইন

      September 26, 2017 at 3:10 pm

      ধরে নিচ্ছি,আপনি চিত্র পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। আর সেটা ধরে নিলে, জেনে ফেলা যায়, একই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা পরিচালকের ছবিকে সরাসরি ‘বিগ্রেড’ বলে দেওয়ার সৎ সাহস আপনার আছে। এই আকালে এমন হিম্মৎ আশা জোগায় বইকি!!
      আর রইল বাকি খবর অনলাইনের কথা। খুবই ছোটো প্রতিষ্ঠান আমাদের। খব কম দিনেরও। মানব এবং/অথবা আর্থিক সম্পদের অভাবে সব ছবির রিভিউ করা সম্ভব হয় না। সম্পাদকীয় বাছাই কিছু করতেই হয়। সেই বাছাইয়ের কোনো কোনো ছবি সমালোচকের ভালো লাগে। তার মধ্যে বাংলা ছবিও আছে/থাকে। সিনেমা রিভিউর পাতাতে ঢুকলে সেগুলি সবই পরপর দেখতে পাবেন। হয়তো দেখেওছেন। তো, যেসব সিনেমাগুলো ভালো সমালোচনা পেয়েছে, সেগুলোর কোনটির জন্য কোন সংস্থা পয়সা দিয়েছে, সেগুলি যদি চিহ্নিত করে দেন, তাহলে পাঠকদের সুবিধা হবে। রিভিউ ভালো পাওয়ার নানা টিটবিটস সম্পর্কে যেহেতু আপনি অবহিত, তাই একটা অথেনটিক মতামতই পাবেন পাঠকরা। আর আমাদের সুবিধা হবে, পরবর্তী কালে আমরা সেই সব সংস্থার থেকে পয়সা চাইতে পারব বা পয়সা চাওয়ার গাইড লাইন পেয়ে যাব। কে বলতে পারে, হয়তো তার মধ্যে কোনো বিমান পরিষেবা সংস্থাও থাকবে।

  2. Chhoton Dutta Gupta

    September 27, 2017 at 7:23 pm

    কমলেশ্বর বাবু আপনি দুটো তকমা একসাথে নিতে চাইছেন। শি…… আর বাজারি ছবির পরিচালক হিসাবে। হয় না। ‘ককপিট’ বানান না… । অন্য ছবি বি-গ্রেড বলছেন / বলতে পারেন। কিন্তু আপনার ছবি কোন গ্রেড! সেটা দিয়ে বলুন। আপনিও তো একই রাস্তায় আছেন……………………

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব

এক ঝাঁক বার্তোলুচ্চি, সমকালীন জার্মান ছবি, দুনিয়ার সেরা নির্মাতাদের সিনেমার পসরা ২৫তম কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে

প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

গত বছরই মারা গেছেন ইতালির কিংবদন্তি ও বিতর্কিত পরিচালক বার্নার্দো বার্তোলুচ্চি। তাঁর ছটি ছবি থাকছে সিকি শতাব্দীতে পৌঁছনো কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। কনফর্মিস্ট, ১৯০০, দ্য লাস্ট এমপেরর তো থাকছেই, সঙ্গে থাকছে বিতর্কিত দ্য লাস্ট ট্যাঙ্গো ইন প্যারিস। ওই সিনেমার অভিনেত্রী অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তাঁকে না জানিয়েই ধর্ষণ দৃশ্যের একটি বিশেষ অংশ শুট করা হয়েছিল। অভিযোগ মেনে নিয়েছিলেন বার্তোলুচ্চি ও অভিনেতা মার্লন ব্র্যান্ডো।

গ্রেট মাস্টার্স বিভাগটি বার্তোলুচ্চির জন্য বরাদ্দ হলেও সেন্টেনারি ট্রিবিউট, হোমেজ ও অন্যান্য বিভাগে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে বাংলা, ভারত ও দুনিয়ার বহু শিল্পীকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সদ্যপ্রয়াত মৃণাল সেন, দেখানো হবে ভুবন সোম ছবিটি। রয়েছেন আরেক সদ্যপ্রয়াত গিরিশ কারনাড। দেখানো হবে তাঁর সংস্কারা। থাকছে চিন্ময় রায়ের চারমূর্তি। এছাড়া শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে রুমা গুহ ঠাকুরতা, মান্না দে, বিদ্যা সিনহা, স্বরূপ দত্ত, খইয়ামকে। ইন্ডিয়ান মাস্টার্স বিভাগে দেখানো হবে বাসু চ্যাটার্জির চারটি ছবি। সেন্টেনারি ট্রিবিউট বিভাগে সম্মান জানানো হবে জহর রায়, অরবিন্দ মুখার্জি, করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়, নৌশাদ, মজরুহ সুলতানপুরি ও ইতালির পরিচালক জিলো মন্টেকর্ভোকে। দেখানো হবে মন্টেকর্ভোর বিখ্যাত ছবি বার্ন। এছাড়া থাকছে বাংলার চিরস্মরণীয় পাঁচ অভিনেতার সিনেমা। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, অনুপ কুমার, তুলসী চক্রবর্তী ও মলিনা দেবী।

আরেন্ট ইউ হ্যাপি?

বেঙ্গলি প্যানোরামা বিভাগে দেখানো হবে ছটি নতুন বাংলা ছবি। এর মধ্যে রয়েছে অনিক দত্তর সিনেমা বরুণবাবুর বন্ধু।

মায়েস্ত্রো বিভাগটি বরাবরই চলচ্চিত্রমোদীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে। দুনিয়ার সেরা পরিচালকদের হালফিলের কাজ দেখার সুযোগ মেলে এই বিভাগে। এই বিভাগে এবার দেখানো হবে উনিশটি সিনেমা। রয়েছে ফিলিপিনসের খ্যাতনামা পরিচালক লাভ দিয়াজের সারে চার ঘণ্টার ছবি দ্য হল্ট। পেদ্রো আলমাদোভারের পেইন অ্যান্ড গ্লোরি, পেদ্রো কোস্তার ভিতালিনা ভ্যালেরি, কোস্তা গাভরাসের অ্যাডাল্টস ইন দ্য রুম, ২০১৮ সালে পাম ডিওর পাওয়া জাপানি পরিচালক কোরে ইদার নতুন ছবি দ্য ট্রুথ, দারদিনে ভাইদের ছবি ইয়ং আহমেদ, কেন লোচের সরি উই মিসড ইউ। এছাড়া থাকছে বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর উড়োজাহাজ ও গৌতম ঘোষের রাহগির।

দ্য ইন্সটিংক্ট

রয়েছে সিনেমা ইন্টারন্যাশনাল। এ বছর মুক্তি পাওয়া অজস্র ছবি রয়েছে এই বিভাগে। দেখানো হবে গোল্ডেন বিয়ার পাওয়া সিনোনিমস, ব্রাজিলের ছবি বাকুরাও, ফ্রান্সের লা মিজারেবল, দ্য লিবার্টি, ডাচ ছবি ইন্সটিংক্ট, পেরুর লিনা ফ্রম লিমা প্রভৃতি। এছড়া এই বিভাগেই দেখানো হবে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি অভিনীত তন্নিষ্ঠা চ্যাটার্জির ছবি রোম রোম মে ও বাংলাদেশের ছবি আলফা।

এবারের উৎসবে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে জার্মানি। উৎসবের ফোকাস বিখ্যাত জার্মান পরিচালক আলেকজান্ডার ক্লুগে। দেখানো হবে তাঁর আটটি ছবি। তার মধ্যে রয়েছে ইয়েস্টার ডে গার্ল, দ্য অ্যাসাল্ট অফ দ্য প্রেজেন্ট অন দ্য রেস্ট অফ দ্য টাইম ইত্যাদি। দেখানো হবে অন্যান্য কয়েকটি বিখ্যাত জার্মান ছবিও।

দ্য লিবার্টি

তার উপর রয়েছে কয়েকটি চমকপ্রদ সমকালীন জার্মান ছবি। সেল্ফ ক্রিটিক অফ এ বুর্জোয়া ডগ, আরেন্ট ইউ হ্যাপি, মিউজিক অ্যান্ড অ্যাপোক্যালিপ্স ইত্যাদি প্রতিটি ছবিই দেখার মতো।

এছড়া অন্যান্য প্রতিযোগিতা, ছোটোদের ছবি, অ্যানিমেশন, শর্ট ও ডকুমেন্টারি ফিল্মের বিভাগগুলি তো রয়েছেই। উৎসব চলবে ৮ থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত।   

Continue Reading

সিনেমা

কুড়ি কুড়ি বছরের পর যখন ফিরে আসে চলে যাওয়া জীবন

প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

সে এক সময় ছিল। যখন চৌ-রাস্তায় দাঁড়িয়ে চার যুবক ‘এ ওর বুকের মধ্যে উঁকি মেরে’ দেখতো ‘কোথায় দুঃখ পাপ লুকোনো টাকার মতো রয়ে গেছে, কোথায় ঈশ্বর টুপি খুলে, হাঁটু মুড়ে বসে আছেন’। ভাস্কর চক্রবর্তীর সেই সৃজনের পর অর্ধশতাব্দী কেটে গেছে প্রায়। আজ যখন চার নারী তাঁদের দুই দশক পেরনো স্মৃতির উদ্‌যাপন করতে মিলিত হন, তখন ঈশ্বরকে নতজানু করার দায় তাঁদের থাকে না। ওদের একান্তে ছেড়ে দিয়েই বরং দায় এড়াতে চান তিনি।

আর যে দরজা দিয়ে তিনি বেরোন, স্কুলের সেই দরজা দিয়েই ‘অনেক দিনের পরে’ ছবিতে ঢুকে পড়ে স্বাগতা, দেবলীনা, সায়ন্তনী ও কুহুর কুড়ি বছরের জীবন। যে জীবন স্কুল পেরনোর পরই শুরু হয়েছিল। স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ, ভালোবাসা, কেরিয়ার, লুকনো পাপ- সব মিলিয়ে যাপনের বহুমাত্রিকতা নিয়ে চাপা এক টেনশন দু’ঘণ্টার ছবি জুড়ে চলতে থাকে। কখনও ঢিমে তালে, কখনও টানটান থ্রিলারের ছন্দে। স্কুলজীবনের স্মৃতির উদ্‌যাপন ছবি জুড়ে ছড়িয়ে থাকে গ্রন্থির মতন।

সফল কেরিয়ার ছেড়ে সফল গৃহবধূ হওয়া স্বাগতা, যন্ত্রণা লুকিয়ে কর্পোরেট জীবনে সাবলীল দেবলীনা, কেরিয়ার থমকে যাওয়া মডেল ও অভিনেত্রী সায়ন্তনী এবং রহস্যময়ী কুহু। কে কার সঙ্গে কীভাবে জড়িয়ে থাকে এবং সেই জড়িয়ে থাকার ফাঁস কাটিয়ে কীভাবে ছিটকে বেরিয়ে আসতে চায়, তাই নিয়েই পরিচালক দেবারতি গুপ্তর পঞ্চম ছবি ‘অনেক দিনের পরে’। ছবিটি দেখা যাচ্ছে জি ফাইভে।

স্বাগতা ও কুহুর সম্পর্কের টানাপড়েনের পর্বটি চমৎকার হলেও, দেবলীনা ও সায়ন্তনীর অংশটি কিছুটা অস্বস্তি জাগায়। দুই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মানবী কি পরস্পরের উপস্থিতিতে অন্যদের সামনে প্রিটেন্ড করবেন?  আর অন্যজন কী ফাঁস করে দেবেন তাঁর গোপন যন্ত্রণা? প্রশ্ন জাগে। আবার মনে হয়, কী হলে কী হতে পারে- সেটাও তো সিনেমা তৈরি্র উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে অনেক সময়ই। নতুন সময়ে নতুন মূল্যবোধের ভিতে দাঁড়ানো এক উন্নত বন্ধুত্বের গল্প বলতে চেয়েছেন দেবারতি। ক্রোধ, অশ্রু আর আগুনে পুড়ে শুদ্ধ হওয়ার অনুভূতিতে জারিয়ে তার অনেকটাই পেরেছেনও।

স্বস্তিকা, রূপাঞ্জনা যথাযথ অভিনয় করেছেন। অবাক করে দিয়েছেন প্রায় অচেনা পালোমি ঘোষ। কর্পোরেট জীবনে অভ্যস্ত চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে কিছুটা যেন হাতাশ করেছেন সুঅভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত সুদীপ্তা চক্রবর্তী।

Continue Reading

সিনেমা

মৃত মানুষের চিৎকারের শব্দ প্রস্থেটিক মেকআপে ঢেকে নিশ্চিন্ত হলেন সৃজিত

প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

সেই কবে আবু সয়ীদ আইয়ুব বামপন্থী নন্দনতত্ত্বের বিরোধিতা করে ‘ডেকাডেন্ট’ সাহিত্যের জয়গান করেছিলেন এ বাংলায়। তারপর কত জল কত নদী দিয়ে বয়ে গেল, কিন্তু শিল্পের দায়বদ্ধতা নিয়ে আতঙ্ক কমল না একটুও। তাই সিনেমার শেষে মরে যাওয়া আদি বোস যখন শুয়ে থাকেন, তাঁকে দেখে দর্শকদের মনে প্রশ্ন জাগে না, “সরোজিনী চলে গেলো অতদূর?/ সিঁড়ি ছাড়া – পাখিদের মত পাখা বিনা?” সে প্রশ্ন যাতে না ওঠে সেভাবেই কাহিনি সাজিয়েছেন বাংলা সিনেমার ফার্স্ট বয়।

জীবনকে অনুকরণ করতে গেলে থ্রিলার টানটান হয় না। তার জন্য একটা সাইকো লাগে। সৃজিত মুখার্জি সেই চেনা ফর্মুলাতেই নিজের দক্ষতার পুনরাবৃত্তি করতে চেয়েছেন। শেষটা যথেষ্ট প্রেডিক্টেবল হলেও পেরেছেন। পারতে তাঁকে ১০০ শতাংশ সহযোগিতা করেছেন টলিউডের নায়কদের মধ্যে একমাত্র যিনি অভিনয়টা করতে পারেন, সেই ঋত্বিক। ফলে ‘ভিঞ্চি দা’ টিকিট কেটে হলে গিয়ে দেখার মতো ছবি হয়ে উঠেছে। যদিও চিত্রনাট্যের যাবতীয় সাহায্য পেয়েও অতি অভিনয়ের ভয়াবহ দুর্বলতা একটুও অতিক্রম করতে পারেননি রুদ্রনীল। বরং বেশ বাস্তব লাগে তোতলা সোহিনীকে।

কিন্তু সে সব কথা গৌণ। মূল ব্যাপারটা হল, রাষ্ট্র ও তার আইন ও পুলিসি ব্যবস্থাকে বেপর্দা করে নিজস্ব ভঙ্গিতে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য নানা চমকপ্রদ ঘটনা ঘটিয়ে চলল যে চরিত্রটি, সেই চরিত্রটি সযত্নে নির্মাণ করার পরিশ্রম করলেন না পরিচালক। ডিস্টার্বড শৈশব থেকে এমন মানুষ হয়ে ওঠাটা নেহাতই কষ্টকল্পনা। উলটে গল্পটি এমন বানালেন পরিচালক, যাতে রাষ্ট্রের বদলে শিল্পীর প্রতিশোধের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল এক সাইকো রাষ্ট্রদ্রোহী। যে কিনা শহরের এক কোণে বসে মৃত মানুষের চিৎকার শোনে। অথচ প্রচলিত সিস্টেম সজ্জাশিল্পী ভিঞ্চি দাকে কাজ-সম্মান কিছুই দেয়নি। সেই ক্ষোভের কাহিনি নিয়েও থ্রিলার বানানোর কথা ভাবতে পারতেন পরিচালক। কিন্তু নিজের ক্ষেত্রে শিল্পীর প্রায়োরিটি ঠিক করার স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পী চরিত্রটির শিল্পের মধ্যে বাঁচার স্বাধীনতাকে হাওয়ায় উড়িয়ে দিলেন সৃজিত(স্রেফ কয়েকটি দীর্ঘ একঘেয়ে সংলাপময় দৃশ্য ছাড়া)। মনে হয় বুঝি ,’কোল্যাটারাল ড্যামেজ’-এর থেকে বড়ো সমস্যা এ দুনিয়ায় নেই।

যাই হোক, মঞ্চের ডাকসাঁইটে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য পর্দায় আবারও ঝুলিয়েছেন। তাঁর অভিনয়ের ফ্যানরা অনেক আশা নিয়ে তাঁকে দেখতে হলে যান, কিন্তু কখনও তাঁকে বলে বলে দশ গোল দেন শাশ্বত, কখনও বা ঋত্বিক। তাঁর চোখের ভাষার দুর্বলতা বারবার নজরে আসে। শিক্ষিত স্বরক্ষেপও সবসময় কাজে আসে না। তাছাড়া এই ছবিতে তাঁর চরিত্রটির তেমন গুরুত্বও নেই। ভাবতে ভয় লাগে, আদি বোস আর বিজয় পোদ্দার বার কয়েক মুখোমুখি হলে অনির্বাণের কী অবস্থা হত।

তা হয়নি, বরং ছবির শেষে মুখ ও মুখোশদের শান্ত হতে বলেছেন অনুপম রায়। প্রেমের গানটি ছাড়া বাকি দুটো গান কে জানে কেন, গুনগুন করতে ইচ্ছে করে। আর তার মাঝে আদি বোসের প্রস্থেটিক মুখোশ লাগিয়ে সরোজিনী চলে যায় ‘কোন দূর মেঘে’। নিৎসেও তাঁর হদিশ পান না।    

Continue Reading
Advertisement
দেশ6 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ২৬৫০৬, সুস্থ ১৯১৩৪

কলকাতা2 days ago

কলকাতায় লকডাউনের আওতায় পড়া এলাকাগুলির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশিত

দেশ3 days ago

দ্রুত গতিতে বাড়ছে সুস্থতা, ভারতে এক সপ্তাহেই করোনামুক্ত লক্ষাধিক

বিদেশ3 days ago

অনলাইনে ক্লাস করা ভিনদেশি পড়ুয়াদের আমেরিকা ছাড়তে হবে, নির্দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের

ক্রিকেট2 days ago

১১৬ দিন পর শুরু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, হাঁটু গেড়ে বসে জর্জ ফ্লয়েডকে স্মরণ ক্রিকেটারদের

কেনাকাটা3 days ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

রাজ্য3 days ago

বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা থেকে রাজ্যের কনটেনমেন্ট জোনগুলিতে কড়া লকডাউন

দেশ23 hours ago

সক্রিয় করোনা রোগীর ৯০ শতাংশই আটটি রাজ্যে!

কেনাকাটা

কেনাকাটা17 hours ago

ঘরের একঘেয়েমি আর ভালো লাগছে না? ঘরে বসেই ঘরের দেওয়ালকে বানান অন্য রকম

খবরঅনলাইন ডেস্ক : একে লকডাউন তার ওপর ঘরে থাকার একঘেয়েমি। মনটাকে বিষাদে ভরিয়ে দিচ্ছে। ঘরের রদবদল করুন। জিনিসপত্র এ-দিক থেকে...

কেনাকাটা3 days ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিউ নর্মালে মাস্ক পরাটাই দস্তুর। তা সে ছোটো হোক বা বড়ো। বিরক্ত লাগলেও বড়োরা নিজেরাই নিজেদেরকে বোঝায়।...

কেনাকাটা4 days ago

রান্নাঘরের টুকিটাকি প্রয়োজনে এই ১০টি সামগ্রী খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক : লকডাউনের মধ্যে আনলক হলেও খুব দরকার ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভালো। আর বাইরে বেরোলেও নিউ নর্মালের সব...

কেনাকাটা5 days ago

হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

অনলাইনে খুচরো বিক্রেতা অ্যামাজন ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজিয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সম্ভার।

নজরে