Connect with us

সিনেমা

কিরীটি ও কালো ভ্রমর: বাংলা রহস্য সিনেমার অন্ধকার যাত্রা

chiranjib-paulচিরঞ্জীব পাল

কিরীটি অমনিবাসের প্রথম খণ্ডের মুখবন্ধে কিরীটির পরিচয় দিতে গিয়ে প্রমথনাথ বিশী লিখছেন, “কিরীটি রায় রোমাঞ্চ-অন্বেষী কিশোর মনের চিরন্তন নায়ক”। কিরীটির গল্পে রহস্যের চেয়ে রোমাঞ্চই বেশি। নিজের সৃষ্ট গোয়েন্দাচরিত্রকে সে ভাবেই আলাদা করতে চেয়েছেন নীহাররঞ্জন গুপ্ত।

বই পড়ে সিনেমা দেখতে যাওয়ার কোনও মানে নেই। সাহিত্য আর সিনেমা দুটো আলাদা মাধ্যম। দুটো আলাদা ভাবে পাঠ করতে হয়। তবে, সাহিত্যের কোনও চরিত্রকে নিয়ে ছবি তৈরি হলে দর্শক তা মিলিয়ে দেখবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তবু ‘কিরীটি ও কালো ভ্রমর’ দেখতে ঢোকার আগে মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিলাম, তুলনার মধ্যে যাব না। সিনেমার মতোই পাঠ করব।

বেরিয়ে এলাম প্রচণ্ড হতাশা আর মনে অজস্র প্রশ্ন নিয়ে। ‘কিরীটি ও কালো ভ্রমর’ ছবিতে না আছে রহস্য, না রোমাঞ্চ। তীব্র মিউজিকের ঝঙ্কারে রোমাঞ্চ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। মিউজিক বন্ধ হলেই সব রোমাঞ্চ মুহূর্তে উবে গেছে। দুর্বল চিত্রনাট্যের কারণে মনে হয়েছে অনর্গল কিছু কথা বলে যাওয়া হচ্ছে। অথচ চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘বদলাপুর’, ‘এজেন্ট বিনোদ’ ছবির চিত্রনাট্যকার অরিজিৎ বিশ্বাস।

টলিউডে এখন রহস্যগল্প থেকে ছবি তৈরির ঢল নেমেছে। সত্যজিত রায়ের তৈরি ফেলুদা বা ব্যোমকেশের কথা না হয় বাদ দিলাম, চলতি গোয়েন্দা সিরিজের ছবিগুলোর কয়েকটি তো বেশ ভালো হয়েছে। এত দিন অধরা ছিল নীহাররঞ্জন গুপ্তের কিরীটি। তাই খুব স্বাভাবিক ভাবে প্রত্যাশার পারদ একটু উঁচুতেই থাকবে। কিন্তু পরিচালক অনিন্দ্যবিকাশ দত্ত সেই প্রত্যাশায় জল ঢেলে দিলেন।  

পাঠক হয়তো কিরীটি সিরিজ পড়ে থাকবেন। তিনটে গল্পকে মিশিয়ে তৈরি হয়েছে এ ছবির চিত্রনাট্য। গল্পে কালো ভ্রমর একজন গ্যাংস্টার, ওষুধ মাফিয়া, সিরিয়াল কিলার। তাকে ধরার দায়িত্ব পায় কিরীটি। আসলে কালো ভ্রমর পেশায় একজন চিকিৎসক। রহস্য ভেদ করে তা ধরে ফেলে কিরীটি। কালো ভ্রমরের সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠার পেছনে একটা ইতিহাস আছে। ডাঃ সান্যাল ওরফে কালো ভ্রমরের বাবার সঙ্গে প্রতারণা করে তাঁর তিন বন্ধু। দেনার দায়ে জর্জরিত তার বাবা আত্মহত্যা করে। সেই থেকে ছেলের মনে প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি হয়। বড়ো হয়ে সে নামী চিকিৎসক হয়। প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা থেকেই সে হয়ে ওঠে কালো ভ্রমর। কালো ভ্রমরকে ধরে ফেলে কিরীটি। তার সঙ্গে এনকাউন্টার হয়। আহত অবস্থায় কালো ভ্রমর ঝাঁপ দেয় নদীতে।

সত্তর দশকে লেখা গল্পকে সমসাময়িক করতে চেয়েছেন পরিচালক। সেখানেও ঘেঁটে ফেলেছেন। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ধরে কালো ভ্রমরকে ট্র্যাক করা বা গুগুল নামক ‘সিধু জ্যাঠা’-র সাহায্যে তথ্য বার করা, সব কিছুই রয়েছে। কিন্তু কালো ভ্রমর যদি বর্তমান সময়ের গ্যাংস্টার হয় তবে তার ধরনধারণ তো একেবারে অন্য রকম হবে। তার বিন্দুমাত্র নমুনাও মেলেনি ছবিতে। যখন পুলিশ রেড করছে কালো ভ্রমরের বিভিন্ন গুদামে, তখন দেখা যাচ্ছে একটি ‘ছিঁচকে’ চোর মার্কা লোককে ধাক্কা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবিতে কৃষ্ণার সঙ্গে কিরীটির প্রেমও জোর করে চাপিয়ে দেওয়া মনে হয়েছে।

ছবির শেষে দেখা যাচ্ছে কালো ভ্রমর ভালো হয়ে গিয়েছে। সে বিহারের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে চার্চের ফাদার। কাগজে দুটি জঙ্গি খুনের খবর এবং খুনের  পদ্ধতি জেনে কিরীটি বুঝতে পারে কালো ভ্রমর বেঁচে আছে। খুঁজে বার করে তাকে। কিরীটির ফের মোলাকাত হয় কালো ভ্রমরের সঙ্গে। কালো ভ্রমর জানায় জঙ্গিদের হাত থেকে চার্চের শিশুদের বাঁচাতে সে ফের অস্ত্র ধরেছে। জঙ্গিরা নাকি শিশুদের ধরে নিয়ে গিয়ে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিতে চেয়েছিল। এই জঙ্গি কারা? মাওবাদীরা। না, পরিচালক বলেনি। কিন্তু যে ভাবে মুখে গামছা বাঁধা প্রতীকী জঙ্গি দেখিয়েছেন তাতে কারও বুঝতে অসুবিধা হয় না ওরা কারা। কালো ভ্রমরের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে কিরীটি। জঙ্গিদের গুলিতে মারা যায় কালো ভ্রমর। এক নয় একাধিক গুলি। গুলির পর গুলি। কালো ভ্রমর মহান হয় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কালো ভ্রমরকে মহান করার এর চেয়ে প্রাসঙ্গিক পদ্ধতি আর কী বা হতে পারে? আর যুদ্ধ? পাড়ার যাত্রাপালার যুদ্ধকে হার মানাবে।

ইন্দ্রনীল দাশগুপ্ত, কৌশিক সেন তাঁদের দক্ষতা মতোই অভিনয় করেছেন। কিন্তু শেষবেলায় সিনেমা তো ‘ডিরেক্টরস মিডিয়া’। তাই সব মিলিয়ে বড্ড কাঁচা কাজ হয়েছে ‘কিরীটি ও কালো ভ্রমর’। ছবিতে ব্যবহৃত গানগুলোও বড্ড বেমানান। এই ছবিকে বাংলা রহস্য সিনেমার ইতিহাসে তালিবানি হামলাও বলতে পারেন।

কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব

এক ঝাঁক বার্তোলুচ্চি, সমকালীন জার্মান ছবি, দুনিয়ার সেরা নির্মাতাদের সিনেমার পসরা ২৫তম কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে

প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

গত বছরই মারা গেছেন ইতালির কিংবদন্তি ও বিতর্কিত পরিচালক বার্নার্দো বার্তোলুচ্চি। তাঁর ছটি ছবি থাকছে সিকি শতাব্দীতে পৌঁছনো কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। কনফর্মিস্ট, ১৯০০, দ্য লাস্ট এমপেরর তো থাকছেই, সঙ্গে থাকছে বিতর্কিত দ্য লাস্ট ট্যাঙ্গো ইন প্যারিস। ওই সিনেমার অভিনেত্রী অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তাঁকে না জানিয়েই ধর্ষণ দৃশ্যের একটি বিশেষ অংশ শুট করা হয়েছিল। অভিযোগ মেনে নিয়েছিলেন বার্তোলুচ্চি ও অভিনেতা মার্লন ব্র্যান্ডো।

গ্রেট মাস্টার্স বিভাগটি বার্তোলুচ্চির জন্য বরাদ্দ হলেও সেন্টেনারি ট্রিবিউট, হোমেজ ও অন্যান্য বিভাগে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে বাংলা, ভারত ও দুনিয়ার বহু শিল্পীকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সদ্যপ্রয়াত মৃণাল সেন, দেখানো হবে ভুবন সোম ছবিটি। রয়েছেন আরেক সদ্যপ্রয়াত গিরিশ কারনাড। দেখানো হবে তাঁর সংস্কারা। থাকছে চিন্ময় রায়ের চারমূর্তি। এছাড়া শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে রুমা গুহ ঠাকুরতা, মান্না দে, বিদ্যা সিনহা, স্বরূপ দত্ত, খইয়ামকে। ইন্ডিয়ান মাস্টার্স বিভাগে দেখানো হবে বাসু চ্যাটার্জির চারটি ছবি। সেন্টেনারি ট্রিবিউট বিভাগে সম্মান জানানো হবে জহর রায়, অরবিন্দ মুখার্জি, করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়, নৌশাদ, মজরুহ সুলতানপুরি ও ইতালির পরিচালক জিলো মন্টেকর্ভোকে। দেখানো হবে মন্টেকর্ভোর বিখ্যাত ছবি বার্ন। এছাড়া থাকছে বাংলার চিরস্মরণীয় পাঁচ অভিনেতার সিনেমা। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, অনুপ কুমার, তুলসী চক্রবর্তী ও মলিনা দেবী।

আরেন্ট ইউ হ্যাপি?

বেঙ্গলি প্যানোরামা বিভাগে দেখানো হবে ছটি নতুন বাংলা ছবি। এর মধ্যে রয়েছে অনিক দত্তর সিনেমা বরুণবাবুর বন্ধু।

মায়েস্ত্রো বিভাগটি বরাবরই চলচ্চিত্রমোদীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে। দুনিয়ার সেরা পরিচালকদের হালফিলের কাজ দেখার সুযোগ মেলে এই বিভাগে। এই বিভাগে এবার দেখানো হবে উনিশটি সিনেমা। রয়েছে ফিলিপিনসের খ্যাতনামা পরিচালক লাভ দিয়াজের সারে চার ঘণ্টার ছবি দ্য হল্ট। পেদ্রো আলমাদোভারের পেইন অ্যান্ড গ্লোরি, পেদ্রো কোস্তার ভিতালিনা ভ্যালেরি, কোস্তা গাভরাসের অ্যাডাল্টস ইন দ্য রুম, ২০১৮ সালে পাম ডিওর পাওয়া জাপানি পরিচালক কোরে ইদার নতুন ছবি দ্য ট্রুথ, দারদিনে ভাইদের ছবি ইয়ং আহমেদ, কেন লোচের সরি উই মিসড ইউ। এছাড়া থাকছে বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর উড়োজাহাজ ও গৌতম ঘোষের রাহগির।

দ্য ইন্সটিংক্ট

রয়েছে সিনেমা ইন্টারন্যাশনাল। এ বছর মুক্তি পাওয়া অজস্র ছবি রয়েছে এই বিভাগে। দেখানো হবে গোল্ডেন বিয়ার পাওয়া সিনোনিমস, ব্রাজিলের ছবি বাকুরাও, ফ্রান্সের লা মিজারেবল, দ্য লিবার্টি, ডাচ ছবি ইন্সটিংক্ট, পেরুর লিনা ফ্রম লিমা প্রভৃতি। এছড়া এই বিভাগেই দেখানো হবে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি অভিনীত তন্নিষ্ঠা চ্যাটার্জির ছবি রোম রোম মে ও বাংলাদেশের ছবি আলফা।

এবারের উৎসবে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে জার্মানি। উৎসবের ফোকাস বিখ্যাত জার্মান পরিচালক আলেকজান্ডার ক্লুগে। দেখানো হবে তাঁর আটটি ছবি। তার মধ্যে রয়েছে ইয়েস্টার ডে গার্ল, দ্য অ্যাসাল্ট অফ দ্য প্রেজেন্ট অন দ্য রেস্ট অফ দ্য টাইম ইত্যাদি। দেখানো হবে অন্যান্য কয়েকটি বিখ্যাত জার্মান ছবিও।

দ্য লিবার্টি

তার উপর রয়েছে কয়েকটি চমকপ্রদ সমকালীন জার্মান ছবি। সেল্ফ ক্রিটিক অফ এ বুর্জোয়া ডগ, আরেন্ট ইউ হ্যাপি, মিউজিক অ্যান্ড অ্যাপোক্যালিপ্স ইত্যাদি প্রতিটি ছবিই দেখার মতো।

এছড়া অন্যান্য প্রতিযোগিতা, ছোটোদের ছবি, অ্যানিমেশন, শর্ট ও ডকুমেন্টারি ফিল্মের বিভাগগুলি তো রয়েছেই। উৎসব চলবে ৮ থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত।   

Continue Reading

সিনেমা

কুড়ি কুড়ি বছরের পর যখন ফিরে আসে চলে যাওয়া জীবন

প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

সে এক সময় ছিল। যখন চৌ-রাস্তায় দাঁড়িয়ে চার যুবক ‘এ ওর বুকের মধ্যে উঁকি মেরে’ দেখতো ‘কোথায় দুঃখ পাপ লুকোনো টাকার মতো রয়ে গেছে, কোথায় ঈশ্বর টুপি খুলে, হাঁটু মুড়ে বসে আছেন’। ভাস্কর চক্রবর্তীর সেই সৃজনের পর অর্ধশতাব্দী কেটে গেছে প্রায়। আজ যখন চার নারী তাঁদের দুই দশক পেরনো স্মৃতির উদ্‌যাপন করতে মিলিত হন, তখন ঈশ্বরকে নতজানু করার দায় তাঁদের থাকে না। ওদের একান্তে ছেড়ে দিয়েই বরং দায় এড়াতে চান তিনি।

আর যে দরজা দিয়ে তিনি বেরোন, স্কুলের সেই দরজা দিয়েই ‘অনেক দিনের পরে’ ছবিতে ঢুকে পড়ে স্বাগতা, দেবলীনা, সায়ন্তনী ও কুহুর কুড়ি বছরের জীবন। যে জীবন স্কুল পেরনোর পরই শুরু হয়েছিল। স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ, ভালোবাসা, কেরিয়ার, লুকনো পাপ- সব মিলিয়ে যাপনের বহুমাত্রিকতা নিয়ে চাপা এক টেনশন দু’ঘণ্টার ছবি জুড়ে চলতে থাকে। কখনও ঢিমে তালে, কখনও টানটান থ্রিলারের ছন্দে। স্কুলজীবনের স্মৃতির উদ্‌যাপন ছবি জুড়ে ছড়িয়ে থাকে গ্রন্থির মতন।

সফল কেরিয়ার ছেড়ে সফল গৃহবধূ হওয়া স্বাগতা, যন্ত্রণা লুকিয়ে কর্পোরেট জীবনে সাবলীল দেবলীনা, কেরিয়ার থমকে যাওয়া মডেল ও অভিনেত্রী সায়ন্তনী এবং রহস্যময়ী কুহু। কে কার সঙ্গে কীভাবে জড়িয়ে থাকে এবং সেই জড়িয়ে থাকার ফাঁস কাটিয়ে কীভাবে ছিটকে বেরিয়ে আসতে চায়, তাই নিয়েই পরিচালক দেবারতি গুপ্তর পঞ্চম ছবি ‘অনেক দিনের পরে’। ছবিটি দেখা যাচ্ছে জি ফাইভে।

স্বাগতা ও কুহুর সম্পর্কের টানাপড়েনের পর্বটি চমৎকার হলেও, দেবলীনা ও সায়ন্তনীর অংশটি কিছুটা অস্বস্তি জাগায়। দুই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মানবী কি পরস্পরের উপস্থিতিতে অন্যদের সামনে প্রিটেন্ড করবেন?  আর অন্যজন কী ফাঁস করে দেবেন তাঁর গোপন যন্ত্রণা? প্রশ্ন জাগে। আবার মনে হয়, কী হলে কী হতে পারে- সেটাও তো সিনেমা তৈরি্র উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে অনেক সময়ই। নতুন সময়ে নতুন মূল্যবোধের ভিতে দাঁড়ানো এক উন্নত বন্ধুত্বের গল্প বলতে চেয়েছেন দেবারতি। ক্রোধ, অশ্রু আর আগুনে পুড়ে শুদ্ধ হওয়ার অনুভূতিতে জারিয়ে তার অনেকটাই পেরেছেনও।

স্বস্তিকা, রূপাঞ্জনা যথাযথ অভিনয় করেছেন। অবাক করে দিয়েছেন প্রায় অচেনা পালোমি ঘোষ। কর্পোরেট জীবনে অভ্যস্ত চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে কিছুটা যেন হাতাশ করেছেন সুঅভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত সুদীপ্তা চক্রবর্তী।

Continue Reading

সিনেমা

মৃত মানুষের চিৎকারের শব্দ প্রস্থেটিক মেকআপে ঢেকে নিশ্চিন্ত হলেন সৃজিত

প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

সেই কবে আবু সয়ীদ আইয়ুব বামপন্থী নন্দনতত্ত্বের বিরোধিতা করে ‘ডেকাডেন্ট’ সাহিত্যের জয়গান করেছিলেন এ বাংলায়। তারপর কত জল কত নদী দিয়ে বয়ে গেল, কিন্তু শিল্পের দায়বদ্ধতা নিয়ে আতঙ্ক কমল না একটুও। তাই সিনেমার শেষে মরে যাওয়া আদি বোস যখন শুয়ে থাকেন, তাঁকে দেখে দর্শকদের মনে প্রশ্ন জাগে না, “সরোজিনী চলে গেলো অতদূর?/ সিঁড়ি ছাড়া – পাখিদের মত পাখা বিনা?” সে প্রশ্ন যাতে না ওঠে সেভাবেই কাহিনি সাজিয়েছেন বাংলা সিনেমার ফার্স্ট বয়।

জীবনকে অনুকরণ করতে গেলে থ্রিলার টানটান হয় না। তার জন্য একটা সাইকো লাগে। সৃজিত মুখার্জি সেই চেনা ফর্মুলাতেই নিজের দক্ষতার পুনরাবৃত্তি করতে চেয়েছেন। শেষটা যথেষ্ট প্রেডিক্টেবল হলেও পেরেছেন। পারতে তাঁকে ১০০ শতাংশ সহযোগিতা করেছেন টলিউডের নায়কদের মধ্যে একমাত্র যিনি অভিনয়টা করতে পারেন, সেই ঋত্বিক। ফলে ‘ভিঞ্চি দা’ টিকিট কেটে হলে গিয়ে দেখার মতো ছবি হয়ে উঠেছে। যদিও চিত্রনাট্যের যাবতীয় সাহায্য পেয়েও অতি অভিনয়ের ভয়াবহ দুর্বলতা একটুও অতিক্রম করতে পারেননি রুদ্রনীল। বরং বেশ বাস্তব লাগে তোতলা সোহিনীকে।

কিন্তু সে সব কথা গৌণ। মূল ব্যাপারটা হল, রাষ্ট্র ও তার আইন ও পুলিসি ব্যবস্থাকে বেপর্দা করে নিজস্ব ভঙ্গিতে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য নানা চমকপ্রদ ঘটনা ঘটিয়ে চলল যে চরিত্রটি, সেই চরিত্রটি সযত্নে নির্মাণ করার পরিশ্রম করলেন না পরিচালক। ডিস্টার্বড শৈশব থেকে এমন মানুষ হয়ে ওঠাটা নেহাতই কষ্টকল্পনা। উলটে গল্পটি এমন বানালেন পরিচালক, যাতে রাষ্ট্রের বদলে শিল্পীর প্রতিশোধের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল এক সাইকো রাষ্ট্রদ্রোহী। যে কিনা শহরের এক কোণে বসে মৃত মানুষের চিৎকার শোনে। অথচ প্রচলিত সিস্টেম সজ্জাশিল্পী ভিঞ্চি দাকে কাজ-সম্মান কিছুই দেয়নি। সেই ক্ষোভের কাহিনি নিয়েও থ্রিলার বানানোর কথা ভাবতে পারতেন পরিচালক। কিন্তু নিজের ক্ষেত্রে শিল্পীর প্রায়োরিটি ঠিক করার স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পী চরিত্রটির শিল্পের মধ্যে বাঁচার স্বাধীনতাকে হাওয়ায় উড়িয়ে দিলেন সৃজিত(স্রেফ কয়েকটি দীর্ঘ একঘেয়ে সংলাপময় দৃশ্য ছাড়া)। মনে হয় বুঝি ,’কোল্যাটারাল ড্যামেজ’-এর থেকে বড়ো সমস্যা এ দুনিয়ায় নেই।

যাই হোক, মঞ্চের ডাকসাঁইটে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য পর্দায় আবারও ঝুলিয়েছেন। তাঁর অভিনয়ের ফ্যানরা অনেক আশা নিয়ে তাঁকে দেখতে হলে যান, কিন্তু কখনও তাঁকে বলে বলে দশ গোল দেন শাশ্বত, কখনও বা ঋত্বিক। তাঁর চোখের ভাষার দুর্বলতা বারবার নজরে আসে। শিক্ষিত স্বরক্ষেপও সবসময় কাজে আসে না। তাছাড়া এই ছবিতে তাঁর চরিত্রটির তেমন গুরুত্বও নেই। ভাবতে ভয় লাগে, আদি বোস আর বিজয় পোদ্দার বার কয়েক মুখোমুখি হলে অনির্বাণের কী অবস্থা হত।

তা হয়নি, বরং ছবির শেষে মুখ ও মুখোশদের শান্ত হতে বলেছেন অনুপম রায়। প্রেমের গানটি ছাড়া বাকি দুটো গান কে জানে কেন, গুনগুন করতে ইচ্ছে করে। আর তার মাঝে আদি বোসের প্রস্থেটিক মুখোশ লাগিয়ে সরোজিনী চলে যায় ‘কোন দূর মেঘে’। নিৎসেও তাঁর হদিশ পান না।    

Continue Reading
Advertisement
বিনোদন8 hours ago

‘সড়ক ২’ পোস্টার: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে মহেশ ভাট, আলিয়া ভাটের বিরুদ্ধে মামলা

রাজ্য9 hours ago

রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষার দিন আক্রান্তের সংখ্যাতেও নতুন রেকর্ড, রাজ্যে বাড়ল সুস্থতার হারও

দেশ9 hours ago

নতুন নিয়মে খুলছে তাজমহল!

wfh
ঘরদোর9 hours ago

ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন? কাজের গুণমান বাড়াতে এই পরামর্শ মেনে চলুন

দেশ10 hours ago

আতঙ্ক বাড়িয়ে ফের কাঁপল দিল্লি

শিল্প-বাণিজ্য10 hours ago

কোভিড-১৯ মহামারি ভারতীয়দের সঞ্চয়ের অভ্যেস বদলে দিয়েছে: সমীক্ষা

fat
শরীরস্বাস্থ্য10 hours ago

কোমরের পেছনের মেদ কমান এই ব্যায়ামগুলির সাহায্যে

বিদেশ10 hours ago

নরেন্দ্র মোদীর ‘বিস্তারবাদী’ মন্তব্যের পর চিনের কড়া প্রতিক্রিয়া

নজরে