Connect with us

সিনেমা

সঞ্জু: বায়োপিক তো নয়ই, অনেক জায়গায় তথ্যচিত্রের হুবহু টুকলি

anirban chaudhury

অনির্বাণ চৌধুরী

‘সঞ্জু’ ছবিটা যাঁরা দেখতে যাবেন বলে ঠিক করেছেন, তাঁদের একটা কথা সবার আগে জানিয়ে রাখা ভালো! এই ছবিতে টিনা মুনিমের চরিত্রে সোনম কে আহুজা, কুমার গৌরবের চরিত্রে ভিকি কৌশল, সলমন খানের চরিত্রে জিম সর্ভ, মাধুরী দীক্ষিতের চরিত্রে করিশ্মা তন্না নেই! মানে, তাঁরা ছবিতে আছেন ঠিকই, কিন্তু এই চরিত্রগুলোয় নয়!

sanju

তা হলে ছবির প্রচারের সময়ে নির্মাতারা এঁদের এই চরিত্রগুলোয় অভিনয়ের কথা বলেছেন কেন?

sanju

ছবিতে রাজকুমার হিরানি সাংবাদিকদের এক হাত নিয়েছেন! বেশ স্পষ্ট করে বলতে দ্বিধা করেননি, যখনই সঞ্জয় দত্তকে নিয়ে বিস্ফোরক সব খবর তৈরি হয়েছে, তখনই সাংবাদিকরা ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যে লিখে ভরাট করেছেন খবরের কাগজের পাতা! আর পাছে কেউ কিছু বলতে না পারেন, সেই জন্য খবরের শিরোনামে এবং বক্তব্যে তাঁরা ব্যবহার করেছেন একাধিক প্রশ্নচিহ্ন! তা হলেই আর সেটাকে বয়ান বলা যাবে না!

sanju

কিছু মনে করবেন না রাজকুমার হিরানি, আপনার সাম্প্রতিক এই কাজটি নিয়ে লিখতে বসে আমিও কিছু প্রশ্নচিহ্ন লেখায় রাখতে বাধ্য হলাম!

 

আসলে ছবিটা দেখতে বসে অনেকগুলো প্রশ্ন পর পর জন্ম নিতে থাকে মাথার ভিতরে! যে ভাবে চিত্রনাট্যে উপস্থিত করা হল দত্তকে, বাস্তব জীবনে তিনি কি এতটাই অপরিণত একজন মানুষ? বা, প্রায় মানসিক ভাবে কিছুটা পিছিয়ে থাকা একজন?

 

এটা ঠিক যে, জেল খেটে বেরিয়ে আসার পরে সঞ্জয় দত্ত যে সাক্ষাৎকারগুলো দিয়েছেন, যে সাংবাদিক বৈঠকগুলো করেছেন, সেখানে তিনি বার বার বলেছেন কেবল একটাই কথা- “আমি আসলে মাথা দিয়ে ভাবি না! মন দিয়ে ভাবি- ম্যায় দিলওয়ালা আদমি হুঁ!”

 

কিন্তু মন দিয়ে ভাবা একজন মানুষ আর চূড়ান্ত অপরিণত মানুষ- এই দুইয়ের মধ্যে কি কোনো পার্থক্যই নেই?

 

ছবি দেখলে মনে হবে নেই! এই জায়গাটা সবার প্রথমে ছবি দেখতে গিয়ে বিরক্তি তৈরি করবে। যে সঞ্জয় দত্ত জেলে যাওয়ার পরে প্যারোলে বেরিয়ে এসে নিজের প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়া নেতিবাচক ভাবমূর্তি নিয়ে ‘খলনায়ক’-এর মতো ছবি বলিউডকে উপহার দেন, তিনি কি অপরিণত হতে পারেন?

 

না কি যাঁকে বলিউড তো বটেই, পাশাপাশি সারা মুম্বই বাবা বলে মাথায় করে রাখে আন্তরিকতা এবং পরোপকারের জন্যে, তাঁকে অপরিণত তকমা দেওয়া যায়?

 

আক্ষেপের বিষয়, রাজকুমার হিরানি ছবিটা তৈরি করতে গিয়ে সে সব মাথাতেই রাখেননি! বলতে দ্বিধা নেই, তিনি কেবল ব্যবহার করে গিয়েছেন সঞ্জয় দত্তকে ঘিরে তৈরি হওয়া একাধিক বিতর্ককে। খুব সম্ভবত সে কারণেই যে দিন দত্ত জেল খেটে বেরোলেন, প্রণাম করলেন মাটি আর জাতীয় পতাকাকে, আর তার কিছু পরেই মুখোমুখি হলেন উত্তেজিত সাংবাদিকদের, সেই দিনেই তিনি শুটিং শুরু করেছিলেন ছবির!

সত্যি বলতে কী, হাতে একটু সময় নিয়ে ঠিক উপরের এই ভিডিওটা দেখুন! এটা এই জেল থেকে বেরিয়ে আসার পরে দত্তের সাংবাদিক বৈঠকের ফুটেজ! এখানে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন নায়কের দিকে- বায়োপিক তো তৈরি হচ্ছে, এর পরে কি বায়োগ্রাফির পালা? দত্ত সবিনয়ে জানাচ্ছেন, না এ রকম কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই!

sanjay dutt

শুধু তাই নয়, চলতি বছরেই ইয়াসির উসমান নামে একজন একটি বায়োগ্রাফি লিখেছিলেন নায়কের। বইটির নাম দেওয়া হয়েছিল- সঞ্জয় দত্ত: দ্য ক্রেজি আনটোল্ড স্টোরি অব বলিউড’স ব্যাড বয়! যে নায়ক নিজের বায়োগ্রাফি প্রকাশের কোনো ইচ্ছাই রাখেন না, তিনি একটি মামলাও ঠুকবেন বলে মনস্থ করেছিলেন উসমানের বিরুদ্ধে। কারণ হিসাবে ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছিল- বইটি নায়কের সঙ্গে কথা বলে এবং তাঁর অনুমতি নিয়ে লেখা হয়নি!

 

অথচ, হিরানির ছবির কেন্দ্রীয় বিষয় একটাই! শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বায়োগ্রাফি লেখানোর জন্য সঞ্জুর হ্যাংলামি! ছবি শুরুও হয় সে ভাবেই! বাথরুমে নিজের একটি বায়োগ্রাফির প্রথম কয়েক লাইন পড়ে মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে নায়কের! লেখা অযৌক্তিক বলে! যখন এ নিয়ে নায়ক রাগ করছেন, বই পুড়িয়ে দিচ্ছেন, তখন স্ত্রীকে বলতে শোনা যাচ্ছে- “এঁদের মতো লেখকদের কাছে যাচ্ছ কেন? ভালো কাউকে খোঁজো!” অত‌ঃ পর, সঞ্জু গেলেন ভিনদেশি লেখিকা উইনি ডিয়াজের কাছে! এবং প্রথমে টেররিস্ট ভেবে নিয়ে তাঁর বায়োগ্রাফি লিখতে অস্বীকার করলেও পরে রাজি হলেন উইনি! গল্প এগোতে থাকল, শেষে উইনির লেখা বায়োগ্রাফি হাতে নিয়ে জেল থেকে বেরনোর পর সঞ্জু যেন চাঁদ পেলেন!

 

এটার কি সত্যি খুব দরকার ছিল?

sanju

পাশাপাশি, আরেকটা প্রশ্নও না তুললেই নয়! এ কার বায়োপিক- সঞ্জয় দত্তের না সুনীল দত্তের?

 

সঞ্জয়ের জীবনে যে ভাবে শেষ দিন পর্যন্ত জড়িয়ে ছিলেন সুনীল দত্ত, তা উপেক্ষা করতে পারবেন না কেউই! কিন্তু একটা সময়ের পরে এ ছবি সুনীল দত্তেরই হয়ে গিয়েছে, সঞ্জয় দত্তের আর থাকেনি!

 

কারণটা একেবারেই খুব খারাপ লেখা একটা চিত্রনাট্য! হিরানি ঠিক করে উঠতে পারেননি সম্ভবত- তিনি ফোকাসে কী রাখবেন, কাকে রাখবেন আর কতটুকু রাখবেন! ফলে সঞ্জু দেখতে গিয়ে প্রথমে অস্বস্তি হবে, তার পর বিরক্ত লাগবে!

বিরক্তি বাড়বে, যখন মিলিয়ে নিয়ে দেখবেন, বিবিসি-র সঞ্জয় দত্তকে নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র, ‘টু হেল অ্যান্ড ব্যাক- ১৯৯৬’ থেকে বেশ কিছু দৃশ্য মোটা ভাবে টুকে দিয়েছেন পরিচালক! উপরের ভিডিওটা ওই তথ্যচিত্রেরই! পারলে সময় করে দেখবেন! হিরানির কাজের চেয়ে ঢের ভালো! আর পরে যদি ‘সঞ্জু’ দেখেন, দেখবেন, এই তথ্যচিত্রে যে ভাবে নায়কের বাসস্থান তুলে ধরা হয়েছে একেবারে শুরুতে, ঠিক সে ভাবেই ছবি শুরু করছেন হিরানিও! এমনকি, তথ্যচিত্রে যে ভাবে নায়ককে জিমে শরীরচর্চা করতে দেখা যাচ্ছে, হিরানিও ছবিতে ঠিক সেটাই অনুসরণ করেছেন!

কেন বলুন তো?

 

পাশাপাশি, যাঁরা নায়কের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেই দুই বোনকেও স্রেফ পুতুল সাজিয়ে রেখে দিয়েছেন হিরানি। থাকতে হয়, তাই আছে! একজনের কোনো সংলাপই নেই, অন্যজনের স্রেফ একটিই সংলাপ! কেন এই ব্যাপারগুলো নিয়ে একটু ভাবলেন না আপনি হিরানি?

sanju

তার পর যেমন ধরুন, ‘রকি’-র শট দেওয়ার দৃশ্যটা! ওখানে এক জায়গায় দেখা যাচ্ছে, সঞ্জু ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ভালোবাসার অভিনয় করতে পারছে না, তখন এক স্পটবয় একটা ফিল্ম ম্যাগাজিনের পাতা খুলে ধরল! সেখানে দেখা গেল হেমা মালিনীকে। তার পর একবার হাত ফসকে যাওয়ায় সে খেয়ালও করল না, যে ছবিটা ধরে রয়েছে, সেটা ‘শোলে’-র গব্বর সিংয়ের! কিন্তু, রকি যে সময়ে তৈরি হচ্ছে, তখনও কি ফিল্ম ম্যাগাজিনের পাতা জুড়ে এঁরা রয়েছেন? থাকলে সেটা কি ম্যাগাজিনের ‘শোলে’ স্পেশ্যাল সংখ্যা? তাই যদি হবে, তা হলে হেমা মালিনীর ছবিটা ‘ড্রিমগার্ল’-এর কেন?

 

তবে সব কিছুরই তো ভালো-খারাপ দুই দিকই থাকে! ‘সঞ্জু’-র ভালো বলতে যদি কিছু থেকে থাকে, তা হলে কেবল তা অভিনেতারা! অসম্ভব শক্তিশালী কিছু অভিনেতাদের ছবিতে এক জায়গায় রেখেছেন পরিচালক, শুধু সেটুকুর জোরেই ছবি দেখে নেওয়া যায়! এ ব্যাপারে রণবীর কাপুরের কথা খুব একটা কিছু বলার নেই! মানে, তা বলে বোঝানো যাবে না! গোটা ছবিটা প্রায় উনিই ঘাড়ে করে টেনে নিয়ে গিয়েছেন! দেখতে দেখতে বিভ্রমও হবে- সত্যিই সঞ্জয় দত্তকে দেখছি না তো?

 

আর পরেশ রাওয়ালের কথাও স্বীকার না করলে অন্যায় হবে! সুনীল দত্তের সঙ্গে ওঁর কোনো কিছুই মেলে না, তাও স্রেফ অভিনয়ের জোরে তিনি নিজেকে মন দিয়ে দেখতে বাধ্য করবেন দর্শকদের। এই দুই অভিনেতাই ছবির একমাত্র শক্তিশালী এবং সদর্থক জায়গা!

sanju

যদিও মণীষা কৈরালাকে নিয়ে কিছু বলার আছে! নার্গিসের চরিত্রে তিনি তুলনারহিত, রণবীরকে যেমন দত্তের মতোই দেখতে লেগেছে, মণীষাকেও তেমনই নার্গিসের মতোই! কিন্তু কোন নার্গিস? যাঁকে ছবিতে দেখলাম, তিনি আগাগোড়া ‘শ্রী ৪২০’ ছবির কপালে টিপ, কাঁধের এক পাশে পড়ে থাকা লম্বা বিনুনির নায়িকা! নার্গিসের বাস্তব জীবনে যে ছবিগুলো দেখা যায়, তার কোনোটাতেই তিনি ওই ভাবমূর্তিতে থাকতেন না! ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শুরু করার অনেক আগে থেকেই চুলও কেটে ফেলেছিলেন ছোটো করে! তা হলে?

sanju

এই প্রশ্নগুলো শেষ হবে না! কিন্তু কমলেশ নামে সঞ্জুর বেস্ট ফ্রেন্ড ভিকি কৌশলকে নিয়ে কোনো প্রশ্নই তোলা যাবে না! বলতে দ্বিধা নেই, তিনি এই সময়ের প্রতিভাবান অভিনেতাদের মধ্যে একজন! ভিকিও সেই একজন, যাঁকে দেখার জন্যই ছবিটা দেখতে ইচ্ছা করবে!

 

 

সোনম, অনুষ্কা- গতানুগতিক! নেহাতই অতিথি-শিল্পী, ফলে ‘সাঁওয়ারিয়া’ বা ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’-এ রণবীরের সঙ্গে তাঁদের যে রসায়ন তৈরি হয়েছিল, তা মিলিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই, খোঁজাটাও অর্থহীন!

 

পাশাপাশি, দিয়া মির্জার কথা উল্লেখ না করলে অন্যায় হবে! ছোটো উপস্থিতি, কিন্তু দত্তের স্ত্রী মান্যতার চরিত্রে তিনি খুব ঠিকঠাক বাছাই! যদিও তাঁকে দেখানো হল নায়কের জীবনের অন্যতম অবলম্বন হিসাবে, তবুও তাঁর সঙ্গে বিয়ের ব্যাপারটাই ছবিতে এল না!

তা, না-ই বা এল! হিরানির ছবিতে যা আসা উচিত ছিল, তাও তো আর আসেনি! কাজেই এ নিয়ে আর আক্ষেপ বাড়িয়ে কী হবে!

 

আরেকটা প্রশ্নচিহ্নও উঠবে! সঞ্জয় দত্তকে নিয়মানুবর্তিতা শিখিয়েছেন তিনিই, ছবিতে হিরানির এই বক্তব্য সুনীল দত্তের বয়ানে না রাখলেই কি চলছিল না?

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব

এক ঝাঁক বার্তোলুচ্চি, সমকালীন জার্মান ছবি, দুনিয়ার সেরা নির্মাতাদের সিনেমার পসরা ২৫তম কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে

প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

গত বছরই মারা গেছেন ইতালির কিংবদন্তি ও বিতর্কিত পরিচালক বার্নার্দো বার্তোলুচ্চি। তাঁর ছটি ছবি থাকছে সিকি শতাব্দীতে পৌঁছনো কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। কনফর্মিস্ট, ১৯০০, দ্য লাস্ট এমপেরর তো থাকছেই, সঙ্গে থাকছে বিতর্কিত দ্য লাস্ট ট্যাঙ্গো ইন প্যারিস। ওই সিনেমার অভিনেত্রী অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তাঁকে না জানিয়েই ধর্ষণ দৃশ্যের একটি বিশেষ অংশ শুট করা হয়েছিল। অভিযোগ মেনে নিয়েছিলেন বার্তোলুচ্চি ও অভিনেতা মার্লন ব্র্যান্ডো।

গ্রেট মাস্টার্স বিভাগটি বার্তোলুচ্চির জন্য বরাদ্দ হলেও সেন্টেনারি ট্রিবিউট, হোমেজ ও অন্যান্য বিভাগে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে বাংলা, ভারত ও দুনিয়ার বহু শিল্পীকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সদ্যপ্রয়াত মৃণাল সেন, দেখানো হবে ভুবন সোম ছবিটি। রয়েছেন আরেক সদ্যপ্রয়াত গিরিশ কারনাড। দেখানো হবে তাঁর সংস্কারা। থাকছে চিন্ময় রায়ের চারমূর্তি। এছাড়া শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে রুমা গুহ ঠাকুরতা, মান্না দে, বিদ্যা সিনহা, স্বরূপ দত্ত, খইয়ামকে। ইন্ডিয়ান মাস্টার্স বিভাগে দেখানো হবে বাসু চ্যাটার্জির চারটি ছবি। সেন্টেনারি ট্রিবিউট বিভাগে সম্মান জানানো হবে জহর রায়, অরবিন্দ মুখার্জি, করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়, নৌশাদ, মজরুহ সুলতানপুরি ও ইতালির পরিচালক জিলো মন্টেকর্ভোকে। দেখানো হবে মন্টেকর্ভোর বিখ্যাত ছবি বার্ন। এছাড়া থাকছে বাংলার চিরস্মরণীয় পাঁচ অভিনেতার সিনেমা। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, অনুপ কুমার, তুলসী চক্রবর্তী ও মলিনা দেবী।

আরেন্ট ইউ হ্যাপি?

বেঙ্গলি প্যানোরামা বিভাগে দেখানো হবে ছটি নতুন বাংলা ছবি। এর মধ্যে রয়েছে অনিক দত্তর সিনেমা বরুণবাবুর বন্ধু।

মায়েস্ত্রো বিভাগটি বরাবরই চলচ্চিত্রমোদীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে। দুনিয়ার সেরা পরিচালকদের হালফিলের কাজ দেখার সুযোগ মেলে এই বিভাগে। এই বিভাগে এবার দেখানো হবে উনিশটি সিনেমা। রয়েছে ফিলিপিনসের খ্যাতনামা পরিচালক লাভ দিয়াজের সারে চার ঘণ্টার ছবি দ্য হল্ট। পেদ্রো আলমাদোভারের পেইন অ্যান্ড গ্লোরি, পেদ্রো কোস্তার ভিতালিনা ভ্যালেরি, কোস্তা গাভরাসের অ্যাডাল্টস ইন দ্য রুম, ২০১৮ সালে পাম ডিওর পাওয়া জাপানি পরিচালক কোরে ইদার নতুন ছবি দ্য ট্রুথ, দারদিনে ভাইদের ছবি ইয়ং আহমেদ, কেন লোচের সরি উই মিসড ইউ। এছাড়া থাকছে বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর উড়োজাহাজ ও গৌতম ঘোষের রাহগির।

দ্য ইন্সটিংক্ট

রয়েছে সিনেমা ইন্টারন্যাশনাল। এ বছর মুক্তি পাওয়া অজস্র ছবি রয়েছে এই বিভাগে। দেখানো হবে গোল্ডেন বিয়ার পাওয়া সিনোনিমস, ব্রাজিলের ছবি বাকুরাও, ফ্রান্সের লা মিজারেবল, দ্য লিবার্টি, ডাচ ছবি ইন্সটিংক্ট, পেরুর লিনা ফ্রম লিমা প্রভৃতি। এছড়া এই বিভাগেই দেখানো হবে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি অভিনীত তন্নিষ্ঠা চ্যাটার্জির ছবি রোম রোম মে ও বাংলাদেশের ছবি আলফা।

এবারের উৎসবে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে জার্মানি। উৎসবের ফোকাস বিখ্যাত জার্মান পরিচালক আলেকজান্ডার ক্লুগে। দেখানো হবে তাঁর আটটি ছবি। তার মধ্যে রয়েছে ইয়েস্টার ডে গার্ল, দ্য অ্যাসাল্ট অফ দ্য প্রেজেন্ট অন দ্য রেস্ট অফ দ্য টাইম ইত্যাদি। দেখানো হবে অন্যান্য কয়েকটি বিখ্যাত জার্মান ছবিও।

দ্য লিবার্টি

তার উপর রয়েছে কয়েকটি চমকপ্রদ সমকালীন জার্মান ছবি। সেল্ফ ক্রিটিক অফ এ বুর্জোয়া ডগ, আরেন্ট ইউ হ্যাপি, মিউজিক অ্যান্ড অ্যাপোক্যালিপ্স ইত্যাদি প্রতিটি ছবিই দেখার মতো।

এছড়া অন্যান্য প্রতিযোগিতা, ছোটোদের ছবি, অ্যানিমেশন, শর্ট ও ডকুমেন্টারি ফিল্মের বিভাগগুলি তো রয়েছেই। উৎসব চলবে ৮ থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত।   

Continue Reading

সিনেমা

কুড়ি কুড়ি বছরের পর যখন ফিরে আসে চলে যাওয়া জীবন

প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

সে এক সময় ছিল। যখন চৌ-রাস্তায় দাঁড়িয়ে চার যুবক ‘এ ওর বুকের মধ্যে উঁকি মেরে’ দেখতো ‘কোথায় দুঃখ পাপ লুকোনো টাকার মতো রয়ে গেছে, কোথায় ঈশ্বর টুপি খুলে, হাঁটু মুড়ে বসে আছেন’। ভাস্কর চক্রবর্তীর সেই সৃজনের পর অর্ধশতাব্দী কেটে গেছে প্রায়। আজ যখন চার নারী তাঁদের দুই দশক পেরনো স্মৃতির উদ্‌যাপন করতে মিলিত হন, তখন ঈশ্বরকে নতজানু করার দায় তাঁদের থাকে না। ওদের একান্তে ছেড়ে দিয়েই বরং দায় এড়াতে চান তিনি।

আর যে দরজা দিয়ে তিনি বেরোন, স্কুলের সেই দরজা দিয়েই ‘অনেক দিনের পরে’ ছবিতে ঢুকে পড়ে স্বাগতা, দেবলীনা, সায়ন্তনী ও কুহুর কুড়ি বছরের জীবন। যে জীবন স্কুল পেরনোর পরই শুরু হয়েছিল। স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ, ভালোবাসা, কেরিয়ার, লুকনো পাপ- সব মিলিয়ে যাপনের বহুমাত্রিকতা নিয়ে চাপা এক টেনশন দু’ঘণ্টার ছবি জুড়ে চলতে থাকে। কখনও ঢিমে তালে, কখনও টানটান থ্রিলারের ছন্দে। স্কুলজীবনের স্মৃতির উদ্‌যাপন ছবি জুড়ে ছড়িয়ে থাকে গ্রন্থির মতন।

সফল কেরিয়ার ছেড়ে সফল গৃহবধূ হওয়া স্বাগতা, যন্ত্রণা লুকিয়ে কর্পোরেট জীবনে সাবলীল দেবলীনা, কেরিয়ার থমকে যাওয়া মডেল ও অভিনেত্রী সায়ন্তনী এবং রহস্যময়ী কুহু। কে কার সঙ্গে কীভাবে জড়িয়ে থাকে এবং সেই জড়িয়ে থাকার ফাঁস কাটিয়ে কীভাবে ছিটকে বেরিয়ে আসতে চায়, তাই নিয়েই পরিচালক দেবারতি গুপ্তর পঞ্চম ছবি ‘অনেক দিনের পরে’। ছবিটি দেখা যাচ্ছে জি ফাইভে।

স্বাগতা ও কুহুর সম্পর্কের টানাপড়েনের পর্বটি চমৎকার হলেও, দেবলীনা ও সায়ন্তনীর অংশটি কিছুটা অস্বস্তি জাগায়। দুই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মানবী কি পরস্পরের উপস্থিতিতে অন্যদের সামনে প্রিটেন্ড করবেন?  আর অন্যজন কী ফাঁস করে দেবেন তাঁর গোপন যন্ত্রণা? প্রশ্ন জাগে। আবার মনে হয়, কী হলে কী হতে পারে- সেটাও তো সিনেমা তৈরি্র উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে অনেক সময়ই। নতুন সময়ে নতুন মূল্যবোধের ভিতে দাঁড়ানো এক উন্নত বন্ধুত্বের গল্প বলতে চেয়েছেন দেবারতি। ক্রোধ, অশ্রু আর আগুনে পুড়ে শুদ্ধ হওয়ার অনুভূতিতে জারিয়ে তার অনেকটাই পেরেছেনও।

স্বস্তিকা, রূপাঞ্জনা যথাযথ অভিনয় করেছেন। অবাক করে দিয়েছেন প্রায় অচেনা পালোমি ঘোষ। কর্পোরেট জীবনে অভ্যস্ত চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে কিছুটা যেন হাতাশ করেছেন সুঅভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত সুদীপ্তা চক্রবর্তী।

Continue Reading

সিনেমা

মৃত মানুষের চিৎকারের শব্দ প্রস্থেটিক মেকআপে ঢেকে নিশ্চিন্ত হলেন সৃজিত

প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

সেই কবে আবু সয়ীদ আইয়ুব বামপন্থী নন্দনতত্ত্বের বিরোধিতা করে ‘ডেকাডেন্ট’ সাহিত্যের জয়গান করেছিলেন এ বাংলায়। তারপর কত জল কত নদী দিয়ে বয়ে গেল, কিন্তু শিল্পের দায়বদ্ধতা নিয়ে আতঙ্ক কমল না একটুও। তাই সিনেমার শেষে মরে যাওয়া আদি বোস যখন শুয়ে থাকেন, তাঁকে দেখে দর্শকদের মনে প্রশ্ন জাগে না, “সরোজিনী চলে গেলো অতদূর?/ সিঁড়ি ছাড়া – পাখিদের মত পাখা বিনা?” সে প্রশ্ন যাতে না ওঠে সেভাবেই কাহিনি সাজিয়েছেন বাংলা সিনেমার ফার্স্ট বয়।

জীবনকে অনুকরণ করতে গেলে থ্রিলার টানটান হয় না। তার জন্য একটা সাইকো লাগে। সৃজিত মুখার্জি সেই চেনা ফর্মুলাতেই নিজের দক্ষতার পুনরাবৃত্তি করতে চেয়েছেন। শেষটা যথেষ্ট প্রেডিক্টেবল হলেও পেরেছেন। পারতে তাঁকে ১০০ শতাংশ সহযোগিতা করেছেন টলিউডের নায়কদের মধ্যে একমাত্র যিনি অভিনয়টা করতে পারেন, সেই ঋত্বিক। ফলে ‘ভিঞ্চি দা’ টিকিট কেটে হলে গিয়ে দেখার মতো ছবি হয়ে উঠেছে। যদিও চিত্রনাট্যের যাবতীয় সাহায্য পেয়েও অতি অভিনয়ের ভয়াবহ দুর্বলতা একটুও অতিক্রম করতে পারেননি রুদ্রনীল। বরং বেশ বাস্তব লাগে তোতলা সোহিনীকে।

কিন্তু সে সব কথা গৌণ। মূল ব্যাপারটা হল, রাষ্ট্র ও তার আইন ও পুলিসি ব্যবস্থাকে বেপর্দা করে নিজস্ব ভঙ্গিতে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য নানা চমকপ্রদ ঘটনা ঘটিয়ে চলল যে চরিত্রটি, সেই চরিত্রটি সযত্নে নির্মাণ করার পরিশ্রম করলেন না পরিচালক। ডিস্টার্বড শৈশব থেকে এমন মানুষ হয়ে ওঠাটা নেহাতই কষ্টকল্পনা। উলটে গল্পটি এমন বানালেন পরিচালক, যাতে রাষ্ট্রের বদলে শিল্পীর প্রতিশোধের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল এক সাইকো রাষ্ট্রদ্রোহী। যে কিনা শহরের এক কোণে বসে মৃত মানুষের চিৎকার শোনে। অথচ প্রচলিত সিস্টেম সজ্জাশিল্পী ভিঞ্চি দাকে কাজ-সম্মান কিছুই দেয়নি। সেই ক্ষোভের কাহিনি নিয়েও থ্রিলার বানানোর কথা ভাবতে পারতেন পরিচালক। কিন্তু নিজের ক্ষেত্রে শিল্পীর প্রায়োরিটি ঠিক করার স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পী চরিত্রটির শিল্পের মধ্যে বাঁচার স্বাধীনতাকে হাওয়ায় উড়িয়ে দিলেন সৃজিত(স্রেফ কয়েকটি দীর্ঘ একঘেয়ে সংলাপময় দৃশ্য ছাড়া)। মনে হয় বুঝি ,’কোল্যাটারাল ড্যামেজ’-এর থেকে বড়ো সমস্যা এ দুনিয়ায় নেই।

যাই হোক, মঞ্চের ডাকসাঁইটে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য পর্দায় আবারও ঝুলিয়েছেন। তাঁর অভিনয়ের ফ্যানরা অনেক আশা নিয়ে তাঁকে দেখতে হলে যান, কিন্তু কখনও তাঁকে বলে বলে দশ গোল দেন শাশ্বত, কখনও বা ঋত্বিক। তাঁর চোখের ভাষার দুর্বলতা বারবার নজরে আসে। শিক্ষিত স্বরক্ষেপও সবসময় কাজে আসে না। তাছাড়া এই ছবিতে তাঁর চরিত্রটির তেমন গুরুত্বও নেই। ভাবতে ভয় লাগে, আদি বোস আর বিজয় পোদ্দার বার কয়েক মুখোমুখি হলে অনির্বাণের কী অবস্থা হত।

তা হয়নি, বরং ছবির শেষে মুখ ও মুখোশদের শান্ত হতে বলেছেন অনুপম রায়। প্রেমের গানটি ছাড়া বাকি দুটো গান কে জানে কেন, গুনগুন করতে ইচ্ছে করে। আর তার মাঝে আদি বোসের প্রস্থেটিক মুখোশ লাগিয়ে সরোজিনী চলে যায় ‘কোন দূর মেঘে’। নিৎসেও তাঁর হদিশ পান না।    

Continue Reading
Advertisement
LPG
দেশ10 mins ago

উজ্বলা যোজনায় বিনামূল্যের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়ার মেয়াদ বাড়ল আরও তিন মাস

রাজ্য28 mins ago

রেকর্ড বৃদ্ধি, রাজ্যে একদিনে আক্রান্ত প্রায় ১০০০

কলকাতা39 mins ago

অনলাইনে নয়, পড়ুয়াদের জন্য এই বিকল্প পথই বেছে নিয়েছে গড়িয়া স্টেশনের একটি স্কুল

ক্রিকেট1 hour ago

১১৬ দিন পর শুরু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, হাঁটু গেড়ে বসে জর্জ ফ্লয়েডকে স্মরণ ক্রিকেটারদের

কলকাতা2 hours ago

কলকাতায় লকডাউনের আওতায় পড়া এলাকাগুলির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশিত

provident fund
শিল্প-বাণিজ্য2 hours ago

কেন্দ্রীয় সরকার আগস্ট মাস পর্যন্ত কর্মীদের ইপিএফ বকেয়া জমা করবে, অনুমোদন মন্ত্রিসভায়

CBSE
দেশ3 hours ago

সিবিএসইর সিলেবাস থেকে বাদ ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’, ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’, তীব্র বিতর্ক

রাজ্য3 hours ago

আগামী পাঁচ দিন উত্তরবঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির আশঙ্কা

দেশ11 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ২২৭৫২, সুস্থ ১৬৮৮৩

currency
শিল্প-বাণিজ্য2 days ago

পিপিএফের ৯টি নিয়ম, যা জেনে রাখা ভালো

কলকাতা2 days ago

কলকাতায় এখন ১৮টি কনটেনমেন্ট জোন, ১৮৭২টি আইসোলেশন ইউনিট, ফারাকটা কোথায়?

রাজ্য2 days ago

করোনা রুখতে পশ্চিমবঙ্গের ‘সেফ হোম’-এর ভূয়সী প্রশংসা কেন্দ্রের

রাজ্য1 day ago

পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জায়গায় ফের কড়া লকডাউনের জল্পনা

দেশ2 days ago

গালোয়ান উপত্যকা থেকে চিন সেনার পিছু হঠার পেছনেও অজিত ডোভালের ভূমিকা

ক্রিকেট2 days ago

ওপেনার সচিন তেন্ডুলকরের গোপন রহস্য ফাঁস করলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

বিদেশ1 day ago

অনলাইনে ক্লাস করা ভিনদেশি পড়ুয়াদের আমেরিকা ছাড়তে হবে, নির্দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের

কেনাকাটা

কেনাকাটা1 day ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিউ নর্মালে মাস্ক পরাটাই দস্তুর। তা সে ছোটো হোক বা বড়ো। বিরক্ত লাগলেও বড়োরা নিজেরাই নিজেদেরকে বোঝায়।...

কেনাকাটা2 days ago

রান্নাঘরের টুকিটাকি প্রয়োজনে এই ১০টি সামগ্রী খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক : লকডাউনের মধ্যে আনলক হলেও খুব দরকার ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভালো। আর বাইরে বেরোলেও নিউ নর্মালের সব...

কেনাকাটা3 days ago

হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

অনলাইনে খুচরো বিক্রেতা অ্যামাজন ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজিয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সম্ভার।

DIY DIY
কেনাকাটা1 week ago

সময় কাটছে না? ঘরে বসে এই সমস্ত সামগ্রী দিয়ে করুন ডিআইওয়াই আইটেম

খবর অনলাইন ডেস্ক :  এক ঘেয়ে সময় কাটছে না? ঘরে বসে করতে পারেন ডিআইওয়াই অর্থাৎ ডু ইট ইওরসেলফ। বাড়িতে পড়ে...

নজরে