খোয়াবগাঁ, গ্রাম নয়, ক্যানভাস

0
khowabga
খোয়াবগাঁ

চান্দ্রেয়ী দে

খোয়াবগাঁ। খোয়াবের আঁচড় তার গায়ে – মাটিতে, উঠানে, দেওয়ালে; গাছে ও দরজা-জানলায়। শালের জঙ্গল ভেঙে সরু পথ এখানে এসেছে। কিছুক্ষণ পরে পরেই পাতা ঝরে পড়ার সরসর শব্দ। আর আছে নদী-নালা-খেত ও জীবন। তার গায়েই খোয়াবের রং-তুলি বুলিয়ে দিচ্ছেন শিল্পীরা।

চালচিত্র একাডেমির হোর্ডিং

‘চালচিত্র অ্যাকাডেমি’-র বন্ধুরা এসেছিলেন খোলা ক্যানভাসের খোঁজে। খুঁজে পেলেন ঝাড়গ্রাম সংলগ্ন শালবীথির আড়ালে লোধাদের ছোট্ট এই গ্রাম। স্থানীয় নাম লালবাজার। আর রং-তুলির খোয়াবে সেজে ওঠার এই নতুন রূপটির নাম দিয়েছেন অধ্যাপক শিক্ষাবিদ শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায় – খোয়াবগাঁ। লাল মাটির পথের দু’ পাশে টিনের চাল দেওয়া মাটির ঘর। হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার। খেতের কাজ, পশুপালন আর শিকার; মূলত এই তাঁদের রুটিরুজি। উঠোনে তোলা-উনুন, দেবতার থান, ছোটো বড়ো গাছগাছালি আর পোষা গোরু-ছাগল-হাঁস। তারই মধ্যে রঙে, ছবিতে আলপনায় ভরে উঠছে গ্রামের চারপাশ।

হাতের কাজে ব্যস্ত খোয়াবগাঁয়ের মহিলারা
আনন্দে মেতে কচিকাঁচারা

‘চালচিত্র’-র মৃণালদা ওরফে গ্রামের কচিকাঁচাদের ‘মাস্টার’ এলেই খুশিতে উচ্ছ্বল ছেলে, বুড়ো সকলেই। গ্রামের মানুষ ষষ্ঠীদা গুছিয়ে বলেন, কী ভাবে পার্টির ছেলেদের দেওয়াল লিখতে নিষেধ করে দিয়েছেন ওঁরা, ওখানে যে ‘মাস্টার’-এর বন্ধুরা আর গ্রামের ছোটোরা মিলে ছবি আঁকবে! আর সেই মতোই ‘চালচিত্রে’র শিল্পীবন্ধুরা যখনই আসেন, সকাল থেকেই লেগে পড়েন তুলি বোলানোর কাজে। বাচ্চারা মহানন্দে যোগ দেয় কচি হাতে লাল নীল সবুজ মেখে নিয়ে। এ ছাড়াও যজ্ঞেশ্বর আর রামেশ্বর, ঝাড়গ্রামেরই এক সাঁওতাল গ্রামের দুই শিল্পী এই শিশুদের শেখান হাতের কাজ, তুলির টান আর কাটুম-কুটুম।

গ্রাম সাজাতে হাত লাগিয়েছে ছোটোরাও
এইভাবেই সেজে উঠেছে গাঁইয়ের প্রতিটি কাঁচা পাকাবাড়ি
শিল্পির ছোঁয়ায় পুরোনো ঘরের নতুন রূপ

গত বছর থেকে বেশ কয়েক বার ‘চালচিত্র অ্যাকাডেমি’ পৌঁছে গিয়েছে শাল আর লালমাটি মোড়া এই স্বপ্নের গ্রামে। হয়েছে নানা ওয়ার্কশপ। ভোটের মরশুমে যখন আশেপাশের এলাকায় দেওয়াল জুড়ে রাজনৈতিক দলের চিহ্ন ও প্রতিনিধিদের নাম, তখন খোয়াবগাঁ-র দেওয়ালে দেওয়ালে রঙিন ছবি। যে ছবির কোনো দল নেই, কোনো ভাগাভাগি নেই। ঠিক গাঁয়ের মানুষগুলোর মতোই সে সব ছবি জলে ভিজে রোদে পুড়ে এই সাদাসিধা লোধা যাপনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। প্রকৃতিঘেরা এই উদোম ক্যানভাস ক্রমশ হয়ে উঠবে এই মানুষগুলোর নিজস্ব স্টুডিও, তাঁদেরই আঁচড়ে তাঁদের মনের মাধুরীর স্বতঃস্ফুর্ত প্রকাশ – এমনটাই আশা ‘চালচিত্রে’র বন্ধুদের।  

আরও খবর পড়তে ক্লিক করুন

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here